দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩২
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
৩২
কলেজের ক্যান্টিনে নিরস ভঙ্গিতে বসে আছে মায়া। ভপস্যা গরমে অতিষ্ঠ মুখখানা স্থির টিনার ননস্টপ বকবকানিতে। দু’হাতে মুঠো ভরতি অর্ধ খাওয়া কোল্ড কফি মগটা। গোল টেবিলের উপর তিন মহিষী কন্যা রাজত্ব কায়েম। দুপুর বারোটা কি একটা! ব্রেক টাইম চলছে। বৃহৎ ক্যান্টিনে এক কোণ ধরে খোলাময় স্থানে বসে আছে তিনজন। কাঠফাটা তপ্ত রোদ খাঁ খাঁ করছে মাথার উপর। সেই রোদময়ে অতিষ্ঠ ছাত্র ছাত্রীরা দলবেঁধে ছায়াময় জায়গায় ধরে আড্ডা আসর জমানো। মায়া নিজের অর্ধ খাওয়া কোল্ড কফি চুমুক বসালো। ছায়াও একিই কাজ করলো। নিজে হাতের কোল্ড কফিটাতে চুমুক বসালো ধীরস্থে। নয়ন জোড়া স্থির টিনার ননস্টপে। ঠিক সেই সময়টাতে আগমন ঘটলো কলেজের হাই ভিপি চার সদস্যের সিনিয়র দলটির। রাফি, রাহাত, নাদিম, নুহাশের। গোল চেহারা, লম্বাটে দেহের অধিকারী রাহাত এগিয়ে আসলো তাদের দিকে। মায়ার সামনে ও ছায়া টিয়ার মধ্যস্হ চেয়ারটা টেনে বসতে বসতে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বললো….
—” ভাবি ভালো আছেন? আপনার কোনো অসুবিধা হচ্ছে নাতো এখানে?? সব ঠিকঠাক আছে? কেউ ডিস্টার্ব করছে তো আপনাকে??
রাহাতের আগবাড়িয়ে আদিখ্যেতা পিত্তে গা জ্বলে উঠে ছায়ার। খাওয়ার বাদ দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় রাহাতের কুঞ্চিত দৃষ্টি দিকে। এই লোকটি সকাল দুপুর বিকেল তিন বেলা নিয়ম করে, মায়ার আলগা খোজখরব নেওয়া বিষয়টি মোটেও ভালো লাগে না ছায়ার। অহেতুক মায়াকে ভাবি ‘ভাবি’ বলে বিভ্রান্ত করে জায়গায় জায়গায়। আর তাঁর এই ভাবি’ ডাকটা নিয়ে পুরো কলেজের মধ্যে সবাই মায়াকে ভাবি’ নামে চিনে। এমকি সিনিয়র থেকে শুরু করে তাদের ক্লাসমেটরা পযন্ত মায়াকে ভাবি বলে সম্মোধন করে বেড়ায়। এমন একটা ভাব যেন মায়া পুরো জাতীয় ভাবি’ হয়। ছায়ার বোধগম্য হয়না এই সিনিয়র নামক উটকো ভাইগুলো তাদের কোন ‘ভাইকে জড়িয়ে মায়াকে ভাবি’ বলে বেড়ায়!
উপরস্থ এমনটা নয় যে তারা প্রতিবাদ করেনি এই বিষয়টি নিয়ে। করেছে। কিন্তু ফলাফল হিসাবে সিনিয়রদের রেগিংয়ের স্বীকার হতে হয়েছিল তাদের বেশ কয়েকবার। তবে সেই রেগিং শুধু তার আর টিয়ার জন্য বরাদ্দ থাকতো মায়ার জন্য নয়। বরং মায়াকে অতি কৌশলে ক্লাসে পাঠিয়ে দিতে চাইতো যাতে তাদের দু’জনকে ভালো মতো রেগিং করতে পারে সিনিয়র দলটি। কিন্তু ভাগ্য সহায় থাকতো মায়ার জন্য! মায়ার কারণে সবসময় রাহাতের দলের রেগিং হতে বেঁচে যেত তাঁরা দুজন। কারণ সিনিয়র দলটি আর যাই করুক না কেন? মায়া সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতো না অজানা ভয়ের কারণে, চলে যেত প্রায় সাথে সাথেই মায়ার খোজ খবর নিয়ে। সেজন্য তাঁরা দুজনও বেঁচে যেত রেগিং হওয়া থেকে। কিন্তু আজকে সকালে তো আরও বড় চমক দিয়েছিল এই চার সদস্যের সিনিয়র ভাইরা যখন তারা মায়ার পাশাপাশি দেখলো টিয়াকে ও ভাবি’ ভাবি’ বলে সম্মোধন করছে। বিষন্নে বিস্ফোরিত চোখ দুটো দেখার মতো ছিল তাদের তিনজনের। টিয়া তো যথারীতি হা তাকিয়ে ছিল তাদের দিকে। ভাবখানা এমন ‘ভাই কেমনে কি? বিয়ে করলাম না একখানা, কিন্তু ভাবি হয়ে গেলাম চারখারা দামড়া ছেলের?
অতি ভদ্রতা বজায় রাখতে গিয়ে সকালে এই বিষয়টি চেপে গিয়ে ছিল ছায়া, মায়া,টিয়া তিনজন। কিন্তু এখন পুনরায় তাদের মুখে ভাবি’ ডাক নিয়ে আপত্তি করলো ছায়া। তবে ক্ষেপ্ত হলো না কোনো রকম। শান্ত থাকলো। বিনীত নরম সুরে রাহাতের কথার পিষ্টে বলে উঠলো….
—” জ্বিই ভাই আপনার ভাবি ভালো আছে। আর আপাতত তাকে আপনি ছাড়া কেউ ডিস্টার্ব করছে না ভাইয়া।
রাহাত কপাল কুঁচকে তাকায় ছায়ার দিকে। মেয়েটি ছোট হলেও মাত্রাতিক বুঝদার শান্তশিষ্ট কন্যা। ছটফটে নয় তবে ঘায়েল করা বলি আছে মুখে। ছায়া নামক শ্যামলতা কন্যাটি তার একেবারে অপছন্দ নয় তবে পছন্দও নয়। মোটামুটি। কিন্তু এই মূহুর্তে মেয়েটি যে তাকে কথার ধাঁচে খোঁচা মরলো সেটা বুঝতে বেগ হয়নি রাহাতের। তাই ধারালো তীক্ষ্ণ ভঙ্গিতে ঘুরে বসলো ছায়ার দিকে ঘুরে। নিজের কন্ঠ খাদে নামিয়ে রসিয়ে কটাক্ষ করে বললো ছায়াকে…
—” জ্বিই ভাবি জন্য ভাই আছে তাই ভাবি’ এমনিতেই ভালো থাকবে। ভাই ভালো রাখবে। সেই সাথে আজকাল তো হাওয়ায় উড়তে উড়তে টিয়া পাখিও ভালো থাকতে শুরু করলো। আমাদের টিয়া পাখিরে খাঁচায় বন্দী করতে নতুন ভাইয়ের উৎপত্তি ঘটলো। সেই সুবাদে আমাদের টিয়া পাখিও ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে ভাবি হয়ে গেল আমাদের। কিন্তু ম্যাঁডাম আপনি তো বাঁধ পড়ে গেলেন ভাবির কাতার থেকে। আপনার তো কোনো প্রভাবশালী উনি টনি নেই। আর না আছে আমাদের কোনো ভাই যার সূত্র ধরে আপনাকেও আমাদের বাঁধ্যতামূলক ভাবি থাকতে হবে। এখন যদি আপনি আমাদের হাতে বিপদে পড়েন? তাহলে আপনাকে বাঁচাবার মানুষ তো কেউ নাই। তাই একটু ভেবে চিন্তে নিজের শব্দ গুলো আমাদের পিছনে খরচ করবেন কেমন। নয়তো হিতের বিপরীত কিছু ঘটবে। কান ধরে সারা মাঠে দৌড় করাবো আপনাকে। মনে রাখিয়েন।
রাহাতের কটাক্ষ কথায় খানিকটা দমে যায় ছায়া। কিন্তু মায়ারী চোখজোড়ায় যেন তেজ করলো না বিন্দুমাত্র ছায়ার। রাহাত কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো ছায়ার মায়াবী চোখ জোড়ার দিকে। কিন্তু ব্যাঘাত ঘটলো তৎক্ষনাৎ। রাফি পাশ থেকে রাহাতের কাঁধে চাপড় মেরে, গা ঘেঁষে চেয়ার টেনে বসলো রাহাতের পাশে। হেয়ালি করে বললো…
—” হ্ ভাই! মায়া ভাবির বিষয়টা নাহয় বুঝলাম। প্রথম দিন থেকেই নিষেধাজ্ঞা জারী ছিল ছেলে জাতির উপর। তাই পুরো জাতী জানে ভাবি’ ভাইয়ে বউ। কিন্তু এই টিয়া পাখির বিষয়টা মাথায় আইলো না। কই ভাবলাম সুন্দরী জুনিয়রদের একটু রেগিং টেগিং করুম। ভাব বিনীময় করুম। তা না হেতিরো ভাবি বানায় দিল আচম্বিক ভাইয়ের আগমনে। ক্ ভাই! এইডা কি মাইন্না নেওয়া যায়? সুন্দরী জুনিয়রদের পাহারাদার হওয়ার জন্য কি আমরা এই কলেজে আইছিলাম। আমাগো কি কোনো অধিকার নাই সুন্দরী জুনিয়রদের উপর।
রাফির হেয়ালি কথায় থমথমে খেয়ে যায় মায়া, টিয়া, ছায়া। তাদের জন্যই বোধগম্য হলো না টিয়াকে কেন বারবার ভাবি বলে সম্মোধন করছে তারা। কিন্তু পাশ থেকে নাদিম রাফির হেয়ালিপর্ণাই সান্ত্বনা দিলো পুরো দমে কাঁধে হাত রেখে। হতাশ ভঙ্গিতে বললো…
—” হ রাহাত বিষয়টি আসলেই কিন্তু জটিল। রাফি ঠিক কইছে। দুইরাতের ব্যবধানে টিয়া পাখিও আমাদের ভাবি হইয়া গেলো। তাই ভালো মতো চেক কইরা দেখিস তো ছায়া-টায়ার কোনো উনি টনি আছে নাকি? না থাকলে আমি একটু ট্রাই করতাম আরকি ছায়া রানী উপর? ব্যাপারটা একটু তল্লাসী করে দেখিস তো তুই ভাই!
রাহাত কপাল কুঁচকে তাকায় নাদিমের চর্বিযুক্ত গোলগাল চেহারা দিকে। বিষন্নে ঘেরা তিন জোড়া চোখ স্থির হলো নাদিমের দিকে। টিয়া তপ্ত মেজাজে কটমট করে তাকায় নাদিমের মুখশ্রীতে। কালো ছেলেটির মুখের গঠন মোটামুটি। তবে দেখতে মাত্রতিক স্মার্ট। তারপরও পছন্দ হলো না টিয়ার ছায়ার জন্য। কিন্তু সিনিয়র বলে সেটা প্রকাশ করতে পারলো না। চেপে গেলো। রাহাত বিরক্ত প্রকাশ করলো নাদিমের খাপছাড়া কথায়। ঠেস মেরে বললো…
—” কইটা প্রেম করা লাগে তোর শুনি? তোর না এখন রানিং তিনটা প্রেম চলছে। তাহলে আর নজর বিলাস কেন অন্য দিকে হ্যাঁ?
রাহাতের বিরক্তিতে হাল্কা হতাশ হওয়ার ভাব করলো নাদিম। রয়ে সয়ে বললো….
—” দেখ! ভাই আমি হলাম বিশাল বড় মনের মানুষ। তাই একাধিক নারীকে জায়গায় দিতে পারি মনের মধ্যে আমার সমস্যা হয়না। বড় মন লইয়া ঘুরি আমি। তাই তোর ভাই কখনো কাউকে ফেরায় না মন দেওয়া নেওয়া নিইয়্যা। না ও করি না। শুধু জায়গায় দিতেই থাকি মনের মাঝে।
নাদিমের খাপছাড়া যুক্তিতে আংশিক তেতে উঠে রাহাত। বিরক্তি নিয়ে বলে…
—” শালা মানুষ হলি না।
উপস্থিত সবাই কথায় হতবাক হলো মায়া। কিন্তু তারপরও মুখে টু শব্দ করছে না। ছেলেদের সাথে আগবাড়িয়ে বেশি কথা বলা নিষিদ্ধ তার জন্য। সে মেনেও চলে। কিন্তু তারপরও মাঝেমধ্যে এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি স্বীকার হয়ে যায় মায়া। এই মূহুর্তে উপস্থিত সিনিয়রদের নিয়ে মায়া মাতামাতির নেই। সে আপাতত জুইকে নিয়ে চিন্তত। সকালে নিজের বাবার সাথে কথা হয়েছিল বেশ সময় নিয়ে। বায়না ও করেছিল জুইকে ঢাকা খান বাড়িতে পাঠাতে। কিন্তু শফিকুল ইসলাম প্রথমে রাজি হয়নি। বরং তিনি কাটকাট নিষিদ্ধ গলায় জানালো, জুইকে পাঠাবেন না তিনি খান বাড়িতে। তবে মায়াও দমে যায়নি বাবার জেদের সাথে। ঘোর আপত্তি করেছিল। রাগ করে বলছিল জুইকে কালকের ভিতর খান বাড়িতে না পাঠালে সে কখনোও পরিবারের কারও সাথে কথা বলবে না। যোগাযোগ করবে না। সবকিছু বন্ধ করে বসে থাকবে নিজের পরিবারের সাথে। উপরন্তু উপায় না পেয়ে শফিকুল ইসলাম মেনে নিয়ে ছিল মায়ার দাবি। বলেছিল জুইকে কাল দুপুরের মধ্যেই পাঠাবেন খান বাড়িতে মায়ার কাছে। মায়াও খুশি হয়েছিল বেশ কিন্তু চিন্তিত হলো জুঁইয়ের খান বাড়িতে আসার পর কি হবে? জুই কি সবটা মেনে নিতে পারবে নাকি বড় কোনো ঝামেলা পাকাবে আয়ন ভাইয়ার সাথে তার? আল্লাহ মালুম! মায়া চিন্তত মনোভাবের মধ্যে দিয়েই পাশ থেকে টিয়া বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানালো নাদিমের কথায়। তপ্ত মেজাজে বললো…
—” আপনারা সবসময় আমাদের সাথে এমন ঠেসে ঠেসে কথা বলেন কেন ভাইয়ারা? আর কেনই বা লাইন মারার চেষ্টায় থাকেন? আপনাদের বন্ধু নুহাশ ভাইকে দেখে ও তো কিছু শিখা যায় তাই না। উনি কতো ভদ্র নম্র স্বভাবের মানুষ। সারাক্ষণ একপাশে নিজের ফোন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কারও দিকে ফিরেও তাকায় না। আপনাদের বাজে কথার সাথে তাল ও মেলাই না। নুহাশ ভাই কতো ভালো মানুষ। আপনাদের নুহাশ ভাইয়া থেকে ভালো ব্যবহার শেখা উচিত।
টিয়ার কথা তৎক্ষনাৎ সম্মতি জানালো ছায়া। যার অর্থ আসলেই নুহাশ অতি ভদ্র নম্র ভালো ছেলে। তার মতো ছেলেই হয়না এই পুরো কলেজের মধ্যে। টিয়া ছায়ার কথায় বিস্মিত হতে দেখা গেলো রাহাত, নাদিম, রাফিকে। চোখ ছোট ছোট করে অবাক সুরে মুখ খুললো রাফি। বললো।
—” আমাদের নুহাশ নম্র ভদ্র ভালো ছেলে?? নুহাশ তোর তো উন্নতি হয়ছে রে। প্রমোশন পাইছিস তুই অভদ্র থেকে ভালো ভদ্রতা..
রাফির বাক্যে ইতি ঘটলো না। তার আগেই বজ্রপাতের মতো আগমন ঘটে নুহাশের। তাৎক্ষণিক এগিয়ে আসতে আসতে সালামের ভঙ্গিতে বলে উঠে টিয়া ছায়াকে উদ্দেশ্য করে নুহাশ…
–” ওহ! থ্যাংকইউ! থ্যাংকইউ রজনীরা। এই সর! সর! ভীড় কমা তোর ভাইরে সাইন্ড দে। তোদের ভাই এখন সেলিব্রিটি মানুষ! দুই রজনী আমার প্রশংসায় মোহরত। আর কি লাগে আমার?
কথা গুলো বলতে না বলতেই রাহাত এবং ছায়ার মধ্যস্হ চেয়ারটা টেনে বসে পড়লো নুহাশ। নুহাশের আচম্বিক ব্যবহারে যথারীতি অবাকে শীর্ষে আছে মায়া, ছায়া, টিয়া। কারণ আজ পযন্ত নুহাশকে চোখ তুলে তাকাতে দেখেনি একটা বার তাদের দিকে অথচ আজ একটু প্রশংসা পঞ্চমুখ সেই নুহাশের। রুপ পরিবর্তন করলো মূহুর্তেই। যেন সে এই কথা গুলো শুনার জন্যই ধীর অপেক্ষায় বসে ছিল এতো দিন। আর শুনা মাত্রই নিজের স্বরিতে ফিরে আসলো। কিছুক্ষণ আগের গম্ভীর্য্য নুহাশের সাথে ছিটাফুটাও মিল খুজে পেলো না এই ছটফটে নুহাশের। চঞ্চলতা উৎফুল্লর নুহাশ পুনরায় বলে উঠলো…
–” তা রজনী দুই জনই কি আমারে পছন্দ করেন? কিন্তু চিন্তার বিষয় হইলো আমি কাকে রাইখ্যা কার কাছে যায় এখন? তবে ব্যাপার না আমি কিন্তু এক সঙ্গে দুই রজনীর সাথে প্রেম নিবেদন করতে পারবো। কারণ বড় মনের মানুষ তো আমিও হই নাদিমের সাথে সাথে ভাই।
নুহাশের এমন খাপছাড়া কথায় মূহুর্তে উচ্চ স্বরে হেঁসে নাদিম, রাফি। পেটে হাত দিয়ে খিল ধরা হাসি। মায়া, টিয়া, ছায়া হতভম্ব নুহাশের আচরণে। কিন্তু নুহাশের পরিবর্তন বেগতিক। পাশে বসে থাকা রাহাত বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকানো। কিন্তু সে বিরক্ত কারণটাও অজানা। রাফি হাসতে হাসতে নুহাশের উদ্দেশ্য কৌতুক করে বলে…
—” দোস্ত তোর না স্মৃতি সাথে প্রেম চলে সেটার কিহলো?
নুহাশ ভারি কষ্ট ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বললো…
–” দোস্ত আর কইসনা! হেতিরে আমি আমার মনডা দিছিলাম। কিন্তু হেতি আমার মনডা আমারে ফিরত দিয়া গেছে!
সামনে থেকে নাদিম রসিকতা বলে উঠলো…
—” দোস্ত! তোর মন তুই ফিরত পাইলি, তো আর কি লাগে তোর?
—-” কি লাগে মানে। সবই তো লাগে দোস্ত। জীবনের প্রেম নাই যার পুরা কপাল তাঁর। আমি আজ পযন্ত জীবনে একটা ঠিকঠাক প্রেমই করতে পারলাম না। সিঙ্গেল রইয়া গেলাম সারাজীবন। কিযে বেদনার এই সিঙ্গেল বাক্য তোরা তো বুঝবি নারে! বুঝবি না। তোমরা তো সব কয়টা মিঙ্গেল আছো মামা তাই। আমার কষ্ট বুঝবা না।
নুহাশের কথায় তেতে উঠলো রাহাত….
—” শালা তোর জীবনে প্রম নাই বুঝি না? অগণিত প্রেম করছো তুই। একটা মূহুর্তের জন্য তোরে সিঙ্গেল দেখলাম না। আর তুই এখন গান গাস তুই সিঙ্গেল মানুষ।
—” দেখ ভাই! তোর বুঝার ভুল আছে। আমি সর্বদাই পূর্ণাঙ্গ সিঙ্গেল পুরুষ ছিলাম মনে মনে। কিন্তু সেটা প্রকাশ করতে পারিনি। কারণ প্রেম আমি করিনি প্রেম আমারে করতো। আমিতো শুধু সঙ্গ দিতাম আরকি।
—” তাই! তাহলে তোর প্রথম প্রেমটা কি ছিল হ্যাঁ? আশার পিছনে যে নাচানাচি করতি সারাদিন সেটা কি ছিল শুনি??
নির্ভিক ভঙ্গিতে বললো নুহাশ…
—” আরেহ! আমার প্রথম প্রেমটা তো রিহার্সাল ছিল। আর রিহার্সালে তো ভুল হতেই পারে তাই না?
নুহাশের খাপছাড়া কথায় মূহুর্তে কপাল কুঁচকে আসে রাহাতে। দৃঢ় কন্ঠে বললো…
—” তাহলে দ্বিতীয় প্রেমটা কেন করলি শুনি???
—” আজব! রিহার্সালের পর কতটা শুদ্ধ পাকাপোক্ত হলাম সেই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতেই তো দ্বিতীয় প্রেমটা করছিলাম।
পাশ থেকে নাদিম বলে উঠে..
—” মামা তুমি তো সেই একটা পিস। তাহ প্রথম প্রেমের রিহার্সালের পর শুদ্ধ পাকাপোক্ত হয়ে কি বুঝলা তুমি??
নুহাশ চোখ তুলে তাকাই নাদিমের দিকে। নিজের কন্ঠে খাদে নামিয়ে চেহারায় দারুণ কষ্টে সজ্জিত ভাব টেনে বলে…
—” বুঝলাম! জীবনটা বড়ই বেদনার ভাই!
পিত্তে হেঁসে উঠে নাদিম, রাফি। নাদিমকে বলতে না দিয়ে বলে উঠে রাফি…
—” মামা তাহলে তুমি তৃতীয় নাম্বার প্রেমটা কেন করছিলা শুনি..?
স্বগতোক্তিতে পুনরায় বললো নুহাশ…
—” সেই এক বেদনার কাহিনি দোস্ত! দ্বিতীয় প্রেমের ব্রেকআপে শোক কাটাতে তৃতীয় প্রেমটা করছিলাম আমি।
—” হ মামা তুমি আর বেদনা দুটো বড়ই নিষ্ঠুর। আচ্ছা মানলাম তোমার বেদনাখানা! এবার বলো চতুর্থটা প্রেমটা কেন করছিলা?
দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললো নুহাশ…
—” তৃতীয় প্রমিকাকে জেলাস ফিল করানোর জন্য চতুর্থটা করছিলাম।
নুহাশের পরপর যুক্তিতে আগ্রহ বাড়ে রাফির। সে পুনরায় কিছু বলবে তার আগেই উত্তেজনায় মুখ খুললো নাদিম। রাফির কাঁধে দু’হাতে ভর দিয়ে ঝুঁকে পড়ে রাফির মাথার উপর। তৎক্ষনাৎ বলে উঠে নুহাশকে…
—” আর পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম নবম, দশম,,, বাকি গুলো কেন করছিলা তাহলে মামা??
বিরক্তি চোখ তুলে তাকায় নুহাশ নাদিমের দিকে। এই মূহুর্তে নাদিমের তুচ্ছ প্রশ্নটা পছন্দ হয়নি তার। যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি মূল কথা। তাই বিরক্তি কপাল কুঁচকে বললো…
—” বাহ রে! প্রেম করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে না। এখন কি প্রেম ছাড়া থাকতে পারুম। তাই যাহ পাই তাইই কন্টিনিউ করি।
নুহাশের পরপর যুক্তিতে থমথমে খেয়ে যায় মায়া, ছায়া টিয়া। এতক্ষণ যাবত নিরব দর্শকের মতো বসে তাদের কথা গুলো শুনলেও এখন যেন বিস্মিত হচ্ছে নুহাশে দীর্ঘ লম্বা প্রেমের লিস্ট দেখে। কারও যে এতবড় প্রেমের লিস্ট থাকতে পারে সেই ধারণা ছিল না তাদের তিনজনই। অবাকে হতবিহ্বল হয়ে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে আসে তিনজনের ই। রাহাত বিরুক্তির ঝাড়ি মেরে সবাইকে শান্ত করাই। চোখ ঘুরিয়ে তাকায় তিনজনে দিকে। বিশেষ করে ছায়ার মুখশ্রীতে। সে কিছু বলবে তার আগেই হতভম্ব হয়ে দৌড়ে আসে এক যুবক। নাদিমকে ঠেলিয়ে পাশে এসে দাঁড়ায় রাহাতের। অন্তত রাগী সেই চেহারার। তপ্ত রোদের ঘাম দরদর করে পড়ছে যুবকটির মুখশ্রী থেকে। বাহাতে উল্টো পিঠে কপালে ঘাম মুছতে মুছতে তিরতির মেজেজা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো সে…
—” শালার পোলারা মানুষ হইলি না আজও। আর জায়গায় পেলিনা বসে আড্ডা মরার। খুঁজে খুঁজে ভাবির কাছেই তোদের আড্ডা আসর জমাতে হয় তাই না? তাড়াতাড়ি চল! ভাই আইছে কলেজে ভাবি সাথে দেখা করতে। ভাই যদি দেখে বা শুনে তোরা ভাবিরে আটকায় রাইখা আড্ডা দিতাছোস তাহলে একটাও গর্দান থাকবো না। চল তাড়াতাড়ি এখান থেকে..
ফাহিমের হঠাৎ আগমনে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কেন্দ্র বিন্দু হয় সে। কিন্তু তার মুখে ‘ভাই’ শব্দটা শুনে মূহুর্তে তরতর করে সোজা হয়ে দাড়িয়ে যায় সকলে। দুষ্টমী চেহারা গুলো মূহুর্তেই ভয়ে ছাপ দেখা যায়। জড়সড় হয়ে সকলে মায়ার সামনে থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। রাহাত সবাইকে উঠতে দেখে সেইও উঠে দাঁড়ায় চেয়ার ছেড়ে ধীরস্থে। আসি ভাবি’ বলে মায়ার থেকে বিদায় নিতে নিতে চোখ ঘুরায় ছায়ার শ্যাম মুখশ্রীতে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ছায়াকে পরখ করতে করতে সকলের সাথে প্রস্হার করে ক্যান্টিন ছেড়ে। হতবিহ্বল তিনটি মুখ চেয়ে রইলো সিনিয়রদের যাওয়ার দিকে। গোটা দুই মিনিট যেতে না যেতে হাজির হলো আসিফ তাদের টেবিলের সামনে। তবে মায়া থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকিয়ে ডাকলো মায়াকে ‘ভাবি’ বলে। মায়া চমকে উঠে সেদিকে তাকাতেই চোখে পড়লো আসিফের হাসফাস চেহারায়। মায়ার সাথে সাথে আরও দুই জোড়া চোখের দৃষ্টি স্থির হলো আসিফের হালকা ঘামন্ত মুখশ্রীতে। মায়া কিছু বলবে তার আগেই হতভম্ব মুখ খুললো টিয়া। তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে উঠলো তৎক্ষনাৎ….
—” বুইড়া চোর আপনি এখনে??
টিয়ার এমন কথা বিরক্তি প্রকাশ করলো আসিফ তবে মায়ার সামনে তা প্রকাশ করলো না। দেখা যাবে বান্ধবীকে কিছু বলার দায়ে আবার তার উপর হামলা করে বসলো সে। তখন বিষয়টি আরও বাজে হয়ে যাবে জনসম্মুখে তার ইজ্জতে ফালুদা হয়ে যাবে। তাছাড়া আজকে একটা বিশেষ দিন ভাই-ভাবির জন্য সেটা অন্তত মাথায় রেখে তাকে ভেবে চিন্তে কথা বলতে হবে। আসিফ নিজেকে শান্ত রাখলো। টিয়ার কোনো রকম কথা কানে তুললো না। টিয়ার থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে তাকায় মায়ার দিকে। নিজের কন্ঠ অন্তত খাদে নামিয়ে নরম সুরে বললো…
—” ভাবি ভাই আসছে আপনার সাথে দেখা করতে। চলুন আমার সাথে।
দুপুর ১২ঃ৪৫। কাটফাটা তপ্ত রোদ মাথার উপর। কাঁধে ব্যাগ চাপিয়ে মায়া ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে আসে রিদের উদ্দেশ্য। আসিফ মায়ার সাথে আসেনি সে ক্যান্টিনেই আছে কোনো এক কারণে। মায়া বামহাতের উল্টো পিঠে নিজের কপালের অবশিষ্ট ঘামটুকু মুছে নেয়। নিজের এপ্রোন টেনে পরিপাটি হয়ে নেয় হালকা। আসিফের কথা অনুযায়ী রিদকে কলেজ গেটের সামনে পাওয়ার কথা মায়ার। কিন্তু চোখে পড়লো না রিদকে কোথায় মায়ার। একরাশ আগ্রহের দৃষ্টি মেলে এগিয়ে যায় মায়ার সামনে কলেজ গেটের রাস্তা ধরে। আরও খানিকটা এগোতেই মায়ার দৃষ্টিতে ভাজলো রিদকে। মায়ার ধীরস্থির চলা পা দুটো যেন মূহুর্তে থেমে যায় জায়গায় রিদকে দেখে। কি মারাত্মক অসাধারণ মায়ার রিদ ভাই। মায়া নিশ্চল ভঙ্গিতে থমকে থাকে জায়গায়। চোখ দুটো স্থির ন্যায় রিদের বেপরোয়া মুখশ্রীতে। মায়ার দেখা সেই প্রথম দিনের রিদকে মনে হচ্ছে আজ তার চোখের সামনে দাঁড়ানো। কি নিবাক, নির্ভীক ভঙ্গিতে দাঁড়ানো তার রিদ ভাই। নিজের কালো মারসিটিস গাড়িটির সাথে গা এলিয়ে দিয়ে মনোযোগ সহকারে নিজের ফোন টিপছে একহাত পকেটে গজিয়ে। গায়ে শুভ সাদা পাতলা শার্টের সাথে কালো প্যান্ট পরিহিত। গায়ের শার্টটি উপরের দুটো বোতাম খুলে টেনে প্যান্টের উপর ছড়ানো। ইন করা নেই। বামহাতে কালো ব্যান্ডের ঘড়ি তো মুখে সাদা মাক্স পড়া। শার্টের দুহাতে টেনে ভাজ করে কুইন অবধি ফোল্ড করা তো পায়ে সাদা ব্র্যান্ডের লোফার ক্যাটস পড়া। কালো চকচকে চুল গুলো স্পাইক করে, সেন্ট করে সাজানো। একদম নজর কারা পরিপাটি হয়ে এসেছে মায়ার রিদ ভাই।
মায়া থমকায় রিদের অতি ফর্মাল স্টাইলে। কোনো রুপ অফিসার গেটআপে নেই সে। একদম সচ্ছ আয়নার ন্যায় চকচক হয়ে দাড়িয়ে আছে। মায়া ঘোর বাড়ে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রিদের দিকে। মায়ার এই একটা আপত্তিকর জায়গায় যেখানে আটকে যায় সে। বাধ্য হয়ে যায় সবকিছুতে। মায়ার চলিত নিশ্বাসটা যেন হুট করেই আটকে যায় রিদের বেগতিক বেপরোয়া মনোমুগ্ধকর চেহারা দেখে। শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে উঠে গলা। নিজের এপ্রোনের দুপাশ শক্ত করে আঁকড়ে ধরে তৎক্ষনাৎ। ঠোঁট দুটো কিঞ্চিৎ ফাঁক করে থেমে থেমে শ্বাস টানে মায়া। দম ফিরে পেতে চাই নিজের মাঝে। কিশোরী বয়সে নিজেকে সংযম করাটা কতটা কষ্টসাধ্য কাজ সেটা কেউ মায়াকে জিজ্ঞেসা করুক! সে বলবে নিজের বহিঃত মনের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতাটা চিৎকার করে তাঁকে। কিন্তু হায়! মায়াকে এই একটা প্রশ্ন করার মতো কেউ নেই। আর না আছে জানার মতো কেউ! সে নিশ্চল, মন্তমনী কিশোরীনি! তাই মনের ভিতরের সুপ্ত অনুভূতি গুলো ঢুক গিলে নিজের ভিতর লুকিয়ে নেয় মায়া। তার রিদ ভাইকে দেখার অধিকার তার নেই। দেখার অধিকার হারিয়ে ছিল বহুদিন আগেই। কিন্তু তারপরও সে নিজেকে সংযম করতে পারে না এই লোকটিকে দেখার থেকে। আটকে যায় নিজের মাঝে। তার রিদ ভাই তার জন্য হালাল নয় বরং হারাম মানুষ। তারপরও বেহায়া চোখ দুটো বুঝাতে অক্ষম মায়া। সে তাঁর অবাধ্য হয়ে হারাম মানুষটিকেই দেখতে চাই। উপরস্থ মায়ার মাথায় হালাল হারামের প্রসঙ্গটা আসতেই চট করে নিজের দৃষ্টি নত করে ন্যায় মায়া। বুক ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে নিজেকে সংযম করে নীরব দৃষ্টিতে চারপাশটা পরখ করে নিতেই, মায়ার কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজের আবির্ভাব ঘটলো তৎক্ষনাৎ। মায়া কপাল কুঁচকে চারপাশে পরিবেশটা দেখে নিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। প্রায় অনেক গুলো মেয়েদের আনাগোনা ভিড় জমিয়ে গেটের আশেপাশে। প্রত্যেকের দৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু তার রিদ ভাই। অকারণে বারবার আসা যাওয়া করছে রিদের সামনে দিয়ে মেয়েরা। সিনিয়র থেকে জুনিয়র মেয়েরা কেউ বাদ পরেনি লাইন মারা থেকে। কিন্তু রিদ বিরক্তি কপাল কুঁচকে তপ্ত রোদের দহনে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দিব্যি নিজের ফোন স্ক্যান করতে করতে।
মায়ার রাগ মিশ্রিত বিরক্তি বাড়ে। তার রিদ ভাই ইচ্ছাকৃত ভাবে এতটা সাজুগুজু করে এসেছে যাতে মেয়েরা সবাই তার দিকে বেহায়ামি করে তাকিয়ে থাকে এর জন্য। যতোসব নষ্টমী। পুরুষ মানুষে সুন্দর হওয়াই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত ছিল। সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতগত ভাবে মেয়েদের জন্য বরাদ্দ রাখার হতো সেটায় ঢের হতো মায়ার জন্য। তাছাড়া এই লোকটা কি জানে না? ছেলেদের এতো সুন্দর হওয়াটা প্রকৃতি মেনে নিবে না।
কারণ প্রকৃত ভাবে সৌন্দর্য্যের অধিকারী শুধু মাত্র মেয়েদের জন্যই। মায়া অসয্যে গরম নিশ্বাস ফেলে রাগে তিরতির করে উঠে শরীরময় তবে সেটাও প্রকাশ ঘটালো না চেহারায়। একরাশ বিরক্তি নিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে যায় রিদের সামনে। নিজের দৃষ্টিতে ভিড়ালো না রিদকে। বরং মায়ার নত দৃষ্টি স্থির হলো রিদের পায়ের দিকে। প্রকাশে মায়া রিদকে শক্ত কন্ঠে বলতে চাইলো কিছু কথা ” আপনি জানেন না! ছেলেদের এতো সুন্দর হওয়া নিষিধ! এতে প্রকৃতি কিছুতেই মেনে নিবেন না। শুধু আপনার মতো ছেলে জন্য আমাদের সমাজ আজ রসাতলে! যার জন্য মেয়েরা আজকাল ঠিকঠাক ভাবে নিজেদের সৃষ্টি হেফাজত করতে পারছে না। মেয়েদের এই অবনতি জন্য শুধু আপনার মতো ছেলেরাই দায়ি! আপনাদের জন্য আমাদের সমাজের মেয়েরা আজ পথভ্রষ্ট হচ্ছে দিন বা দিন। সে বুঝেন আপনি? কেন সুন্দর পুরুষ হতে গেলেন শুনি?
কিন্তু মায়া মুখ ফুটে কিছু বলতে পারলো না রিদকে। অন্যথায় গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো রিদের সামনে নীরবে। নিজের সামনে কারও উপস্থিত বুঝে ফোন থেকে চোখ তুলে তাকায় রিদ। অকারণে মায়াকে নিজের সামনে গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মূহুর্তেই কপাল কুঁচকে আসে খানিকটা রিদের। নিজের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মাঝে মায়াকে পরখ করে নিলো তৎক্ষনাৎ রিদ। মায়ার হঠাৎ ছাপছাড়া আচরণের অর্থ বুঝতে না পেরে কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করে বললো রিদ…
—” হোয়াট?
মায়া নড়েচড়ে দাঁড়ায় তারপরও রিদের দিকে তাকায় না। দৃষ্টি স্থির রিদের পায়ের সাদা কালো লোফারের দিকে। রিদ মায়ার দৃষ্টি বুঝে নিজের পায়ের দিকে তাকায়। নিজের হাতের ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে গম্ভীর মুখ বলে উঠে….
—” আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই। এই জোতা তোমার পায়ে আসবে না। বড় হবে।
.
চলিত…..
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৫