Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩১


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা) সিজন_২

লিখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

৩১
রাত ১০ঃ৫৫। সবেমাত্র খান বাড়ির ড্রয়িংরুমে পা রাখলো হেনা খান, মেহেরবান, ফিহা, মায়া, ও আরাফ খান। দুহাত ভর্তি শপিং ব্যাগ নিয়ে পিছন পিছন ঢুকলো কয়েকজন বলিষ্ঠবান বডিগার্ড। আর্দেশ অনুযায়ী তারা সেই শপিং ব্যাগ গুলো জায়গায় রেখে তাৎক্ষণিক প্রস্হান করলো সেখান থেকে বিনা বাক্য বয়ে। প্রত্যকের চোখে মুখে ক্লান্তি চাপ। নিস্তিয়ে যাওয়া শরীরটা যেন রি রি করছে সারাদিনে ভাগ দৌড়ে। মালা একে একে সবাইকে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি হাতে তুলে দিচ্ছে। ফিহা নিল না অবশিষ্ট ঠান্ডা পানির গ্লাসটা। বরং ক্লান্তিতে চট করে সটান হয়ে শুয়ে পড়লো সাদা সোফায়। মায়াও তাই করলো। গায়ে এখনো সকালের পরিহিত কলেজ ড্রেসটি জড়ানো। হেনা খান অবশিষ্ট পানিটুকু শেষ করে গ্লাসটা মালার হাতে তুলে দিতে দিতে চোখ আওড়ায় মায়া ও ফিহার দিকে। দু’জনকে ক্লান্তিতে শুইয়ে পড়তে দেখে তাৎক্ষণিক তাড়া দিলো দু’জনকে ফ্রেশ হয়ে নিতে। মায়া ও ফিহা দুজনের কেউই নাহুচ করলো না হেনা খানের আর্দেশে। বরং কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুজনই ক্লান্তিময় শরীরটা টেনে কোনো রকম উঠে দাঁড়ালো ফ্রেশ হওয়ার জন্য। টু শব্দ না করে দুজনই হেলেদুলে কোনো রকম পাড় হলো যার যার রুম অবধি। মায়াকে চলে যেতে দেখে খানিকটা নড়েচড়ে বসেন আরাফ খান। দীর্ঘ সময় ধরে চেপে রাখা কথাগুলো প্রকাশের তাগিদে গলা ঝেড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নিজের স্ত্রী ও কন্যার। দৃষ্টি আকর্ষণে সফলও হন তাৎক্ষণিক তিনি। বনিতা করলো না কোনো কিছুতে। স্পষ্ট ভাষায় সোজা নিজের পয়েন্টে প্রশ্ন করলো। হেনা খান, মেহেরবানের
উদ্দেশ্যে বলে উঠলো…

—” বিয়ের শপিং নাহয় করে নিলে তোমরা! কিন্তু বাকিটা সামাল দিতে পারবে তো??

বাবার কথা খানিকটা বুঝলো না মেহেরবান। বাকিটা সামাল দিতে পারবে?? এই প্রশ্নটাতে প্রশ্ন সৃষ্টি হলো তাঁর মনে? কিসের বাকিটা সামাল দিতে হবে তাদের? এই বিষয়টি নিয়ে কৌতুহল জাগ্রত হলো খানিকটা। তাই ক্লান্তিময় দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হলো আরাফ খানের এমন প্রশ্নে। ভ্রুঁ কুচকে বললো….

—” কিসের বাকিটা সামাল দিতে হবে বাবা? বুঝিনি বিষয়টি! বুঝিয়ে বলবে?

প্রসঙ্গ এড়ালো না আরাফ খান। বরং গম্ভীর হলো। দৃঢ় কন্ঠে নিজের মতো করে বললো…

—” রিদ বাংলাদেশের আছে এখনো। তাই রিদের সামনে মায়ার দ্বিতীয় বিয়েটা কি ভালো দেখাবে???

কপালে সূক্ষ্ম ভাজ পড়লো মেহেরবানের। হেনা খানের বিষয়টি ঠিক তেমনই। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্বামীর মুখশ্রীতে। তাই তিনি কিছু বলবে তার আগেই অসন্তুষ্টির মুখ খুললো মেহেরবান। রুদ্ধ কন্ঠে বললো..

—” কেন ভালো দেখাবে না বাবা?? আয়নের সাথে মায়ার বিয়ে তোমরা ঠিক করেছো তাও এক বছর আগে। আমি কিছু বলিনি মার মুখের দিকে তাকিয়ে। সবকিছু মেনে নিয়ে ছিলাম কারণ আয়নের সম্মতি ছিল মায়াকে বিয়ে করা নিয়ে। আর এখন যাহ কিছু হচ্ছে সবকিছু তো রিদের সম্মতিতেই হচ্ছে তাই না। তাছাড়া আমরা তো রিদের বিয়ে করা বউকে দ্বিতীয় বার বিয়ে দিচ্ছি না তাই না বাবা? মায়া এখন রিদের বউ নয়। সেটা আমি তুমি আমরা সবাই জানি। রিদ দুই বছর আগে নিজের ইচ্ছাতে বিয়েটাকে সরকারি ভাবে বাতিল ঘোষণা করে গেছে মায়ার সাথে। তাহলে এখন রিদের ভালো লাগা, খারাপ লাগা, প্রসঙ্গটা আসছে কেন বাবা?? আমার জানা মতো! ইনফ্যাক্ট আমাদের সবার জানা মতো রিদ মায়াকে সয্য করতে পারে না অপছন্দ করে। বউ হিসাবে মায়ার মতো কাউকে নিজের পাশে চাই না। সেখানে মায়ার দ্বিতীয় বিয়েতে রিদের আপত্তি বা খারাপ লাগবে এটা চিন্তা করাটাও বোকামি ছাড়া অন্য কিছু নয় বাবা। আশা করি আমি তোমাকে আমার কথা গুলো বুঝাতে পেরেছি বাবা।

আরাফ খানের মন মস্তিষ্ক সইলো না নিজের মেয়ের যুক্তিতর্ক কথা গুলো। মেহেরবানের কথায় যথেষ্ট পরিমাণ লজিক থাকলেও উনার মস্তিষ্ক সেই যুক্তি গুলোর সাথে সহমত পোষণ করতে পারছে না বিন্দুমাত্রও। বরং ঘোর আপত্তি করছে ফিরতি। অমিল তর্ক হবে বাবা মেয়ের মাঝে বিষয়টি বুঝে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন আরাফ খান। গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠেন…

—” রিদের হুটহাট বাংলাদেশ চলে আসাটা কি তোমাদের কারও কাছে অদ্ভুত মনে হচ্ছে না? হেনা তোমার কাছে অদ্ভুত লাগছে না??

কপালের সূক্ষ্ম ভাজ গুলো আর গভীর হলো হেনা খানের। দৃঢ় গলায় আরাফ খানকে প্রশ্ন করে বললো…

—” মানে? অদ্ভুত মনে হবে কেন???

আগের ন্যায় বলে উঠেন আরাফ খান….

—” যে রিদ দুই বছরে একবার বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইতো না, সে রিদ গত ছয় মাসে তিনবার বাংলাদেশে চলে আসলো। ছয়মাস আগে একদিনের জন্য আসলো, একমাস আগে দুইদিন থাকলো। তারপর কাল হঠাৎ করে চলে আসলো বাংলাদেশে। তাও অন্য কোথাও না গিয়ে সোজা খান বাড়িতে চলে আসাটা অদ্ভুত লাগল না তোমাদের কারও কাছে হেনা? আমার তো লেগেছে! রিদের সামান্য সামান্য পরিবর্তনটাও তোমার চোখে পড়ছে না হেনা? এতোটা অবুঝ তো তুমি নয়? তাহলে আজ হঠাৎ করে অবুঝ হয়ে গেলে তুমি হেনা??

আরাফ খানের পরপর কথায় চমকালো, ভড়কালো, হতভম্ব হয়ে তাকালো হেনা খান। তিনি এতদিন এই বিষয়টি লক্ষ করিনি যে তা নয়। অবশ্য লক্ষ করেছে তবে এতটা ডীপলি চিন্তা করা হয়নি উনার আরাফ খানের মতো। উপর উপর দিয়ে ভেবেছিল হয়তো রিদ কোনো কাজের জন্য বাংলাদেশে বারবার যাতায়াত করছে। কিন্তু স্বামী চিন্তা ভাবনার মতো এতটা গভীরতা ভেবে দেখেন নি তিনি। তবে আরাফ খানের প্রতিটা কথায় যে সত্য এবং যুক্তিযুক্ত আছে তাও শত% নিশ্চিত। সত্যি কি রিদ পরিবর্তন হচ্ছে? নাকি বুঝার ভুল হচ্ছে তাদের কারও কোথাও? কোনটা সত্য? হেনা খানকে অন্যমনস্ক দেখে কপাল কুঁচকে আসে মেহেরবানের। তবে কিছু বললো না হেনা খানকে। নিজের দৃষ্টি আওড়িয়ে তাকায় আরাফ খানের দিকে। উত্তরে বলে উঠে…

—” রিদ আমাদের ছেলে বাবা। তাই সে আজকাল বাংলাদেশে থাকছে এতে আমাদের খুশিটাও দ্বিগুণ। লক্ষও করেছি এই বিষয়টা আমরা। আলোচনা হয়েছিল আমাদের মধ্যে। তবে রিদের বাংলাদেশে থাকা নিয়ে মায়ার বিয়ের সাথে কি সম্পর্ক হতে বাবা?? বুঝিয়ে বলবে???

থমথমে খেয়ে গেলো আরাফ খান মেহেরবান তীক্ষ্ণ কন্ঠে ধারালো প্রশ্নে। প্রশ্নের উত্তর জানা নেই উনার কাছে। শুধু এতটা জানে উনার মন সায় দিচ্ছে না কোনো কিছুতে। মন বলছে রিদের হুটহাট বাংলাদেশে চলে আসার কারণটাও নারীর টান হবে। কারণ পাথরের বুকে ফুল শুধু একটা নারীর ধারায় ফুটে। রিদ নামক পাথরের বুকে হয়তো মায়া নামক ফুল ফুটেছে। তিনি নিশ্চিত নয় কোনো কিছুতে। স্বচক্ষে দেখেনি কোনো কিছু। তবে আজ দুপুরে মায়ার হাতের চকলেটের ঝুড়িটা চোখে পড়েছিল উনার। যেটা রিদের কেবিনে সকালে আসিফকে রাখতে দেখেছিল তিনি। এতটা বুঝতে পেরেছিল যে রিদ আনিয়েছিল চকলেট ঝুড়িটা। মায়া সকালে চকলেট খেতে চেয়েছিল সেখানটায় রিদও উপস্থিত ছিল। তারমানে রিদ সেটা মনে রেখেই মায়াকে দিয়েছিল চকলেট গুলো। কিন্তু কেন?? রিদ সহজে কাউকে কিছু দেয়না। একরত্তি না। মায়াকে দেওয়া মানেই রিদের মনে মায়ার জন্য সামান্য হলেও সহানুভূতি আছে। শুধুই সহানুভূতি নাকি আরও কিছু আছে রিদের মনে? এই বিষয়ে পরিষ্কার নন তিনি। আর এজন্যই আরও কিছু সময় নিতে চাই আরাফ খান। কিন্তু তারমধ্যেই আয়নের আগাম বার্তায় জানালো সে এক সাপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরে মায়াকে বিয়ে করতে চাই। এখন প্রশ্ন থাকে অসংখ্য? তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি যে কথা গুলো ভাবাচ্ছেন উনাকে সেটা হলো, যদি রিদ কোনো কারণে মায়ার প্রতি নূন্যতমও দূর্বলতা থাকে? তাহলে কিছু না কিছু তো অবশ্যই করবে সে মায়ার বিয়ের সংবাদে! আয়ন যে চুপ থাকবে তাও নয়। সেও মায়াকে পছন্দ করে। ভালোবাসার মানুষকে কি এমনই ছেড়ে দিবে?? অবশ্যই না! অবশেষে দেখা যাবে যে, বিয়ে তো হবেই না উল্টো তান্ডব হবে দুই ভাইয়ের মধ্যে। আর এই একটি বিষয়ের জন্যই তিনি পিছু পা হতে চাচ্ছেন আপাতত, আয়ন আর মায়ার বিয়েতে। কিন্তু নিজের পরিবারকে বুঝাতে সক্ষম হচ্ছেনা মনের লুকায়িত কথা গুলো। বললেও বা কি হবে কেউ বুঝবে উনার মনের সুপ্ত লুকায়িত কথা গুলো?? কেউ বুঝবে না উল্টো উনাকেই দোষারোপ করবে, বলবে রিদের পক্ষ নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু তিনি সত্যিকার অর্থে কারও পক্ষ নিচ্ছেন না বরং সত্যিটা সত্যায়িত করার চেষ্টা করছে। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে চিন্তা করে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললেন আরাফ খান। এই মূহুর্তে তিনি পরিস্থিতির চাপে পড়ে আছেন। একদিকে রিদ তো অন্যদিকে আয়ন। দু’জনই উনার কলিজা টুকরো নাতি। প্রচন্ড ভালোবাসেন তাদের। তাই তিনি চান না কারও বিন্দুমাত্র ক্ষতি হোক। আর এই বিষয়টি কাউকে বুঝাবার নয়। চুপ থাকা ছাড়া কিছু করার নেই উনার। কিন্তু তারপরও নিজেকে সংযম করতে পারছে না চিন্তায় চিন্তায়। পাশ থেকে মেহেরবানের তীক্ষ্ণ গাঢ় দৃষ্টি পরখ করে নিল আরাফ খানকে। মেহেরবানের কথা শেষ হলো না। তবে বাবার চিন্তিত চেহারাটাও বুঝার চেষ্টা করলো খানিকটা। তাই নিজের তীক্ষ্ণ কন্ঠটা খাদে নামিয়ে নিল ধীর, বুঝদার গলায় বললো আরাফ খানকে উদ্দেশ্য করে মেহেরবান।

—” রিদ সহজে কারও জন্য পরিবর্তিত হবার নয় বাবা। আমরা সবাই জানি রিদ কতটা শক্ত মনের মানুষ। হ্যাঁ রিদের বাংলাদেশে যাতায়াত বেড়েছে সামান্য। তবে অনুসন্ধান করে দেখু বাবা, নিশ্চিত তার পিছনেও নিদিষ্ট কোনো কারণ আছে, রিদের বাংলাদেশে হঠাৎ হঠাৎ আসা যাওয়া নিয়ে। তুমি বেশি চিন্তা করছো বাবা! বিয়েটা এক সাপ্তাহ পর হবে ততদিনে রিদ পুনরায় বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবে দেখু তুমি। তাছাড়া আজ পযন্ত রিদকে দেখেছো যে দুইদিনের বেশি বাংলাদেশে থাকতে? তাহলে আজ থাকবে বলে তোমার মনে হয় বাবা? আমার কিন্তু তাই মনে হয়না। তুমি শুধু শুধু বেশি চিন্তা করছো বাবা! সব ঠিকঠাক ভাবেই হবে। আমরা আছি তো তাই না? (পাশে তাকিয়ে) মা তুমি কি শুনছ আমাদের কথা??

দীর্ঘ সময় নিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে স্বামী ও মেয়ের কথা গুলো শ্রবণ করলো হেনা খান। হঠাৎ মেহেরবানের প্রশ্নের চকিত তাকায় সেদিকে। মেহেরবানকে এই মূহুর্তে কি বলা উচিত হবে বুঝলো না সেটা। কারণ মায়ার সাথে আয়নের বিয়ে নিয়ে আপত্তি নেই হেনা খানের। তবে হুট করে এক সাপ্তাহের মধ্যে বিয়েটা হওয়া নিয়ে কিছুটা আপত্তি ছিল উনার। তিনি সময় চেয়েছিল আরও কিছুটা হুট করা বিয়ে নিয়ে। কিন্তু আয়ন শুনলো না। বরং নিজ তাগিদে বলেছিল বিয়েটা করা অন্তত জরুরী তার জন্য। তাই সে বাংলাদেশে এসেই জরুরি ভিত্তিতে এক সাপ্তাহের মধ্যে মায়াকে বিয়ে করতে চাই। সেই সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাও জানাতে চাই পরিবারের সবাইকে মায়াকে ঘিরে আয়নের। এবার সেটা কি তাও বলেনি আয়ন। শুধু বললো ফোনে এমন গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা বলা যাবে না। সরাসরি বলা জরুরি। সেই সাথে হাতজোর করে রিকুয়েষ্টও করলো যাতে মায়ার সাথে আয়নের বিয়েটা তিনি এক সাপ্তাহের মধ্যে দিতে রাজি হয়ে যান। আয়নের আকুল মিনতিতে বাধ্য হয়ে তিনিও মেনে নিলেন বিয়েটা। যার সূত্র ধরেই আজকে সপরিবার মায়াকে নিয়ে মার্কেট যাওয়া বিয়ের শপিং করতে। মূলত আজকের মার্কেটই ছিল মায়াকে ঘিরে। মায়ার বিয়ে সকল কেনাকাটা দাপ চুকানো। পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হতে যাচ্ছে দু’জনের। বাকি সব প্লেনিং আগের মতোই রয়েছে। মায়ার কলেজের গন্ডি পাস করার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠান করা হবে দু’জনের। শুধু বিয়েটা আগাম হবে। বাকি সবকিছুই ঠিকঠাক করা। কিন্তু তারপরও কেন জানি ভিতর থেকে সায় পাচ্ছে না হেনা খান কোনো কিছুতে। মন খচখচ করছে তীব্র। মনে হচ্ছে আরও কিছুটা সময় নেওয়া বোধহয় ভালো হবে মায়া আর আয়নের বিয়েতে। আর সেটা ভেবেই হেনা খান চিন্তত হন। মেহেরবানের কথায় উত্তর না করে পুনরায় অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন তিনি। হেনা খানকে অন্যমনস্ক দেখাতে কপাল কুঁচকে আসে মেহেরবানে। প্রথমে বাবা এখন মাকে অন্যমনস্ক দেখাচ্ছে। কিন্তু কেন তার সঠিক কারণটা ধরতে পারলো না মেহেরবান। তবে কন্ঠে তীক্ষ্ণ প্রহারে প্রশ্ন করে উঠলো হেনা খানকে মেহেরবান।

—” কিহলো মা? তুমিও কি কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তত?? তোমারও কি এই বিয়েটা নিয়ে আপত্তি আছে??

টনক নড়ে হেনা খানের। চকিতে তাকায় মেয়ের দিকে। তৎক্ষনাৎ বলে উঠে…

—” আপত্তি থাকবে কেন? আমি নিজেই তো চাই আয়ন মায়ার বিয়েটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক। কিন্তু আয়নের হুট করে বিয়ের ডিসিশন নেওয়াটা আমার মাথায় আসছে না মেহু। আয়ন যথেষ্ট বুঝদার শান্তশিষ্ট ছেলে। আমার বিশ্বাস আছে নিশ্চয়ই! আয়ন ভেবে চিন্তে বিয়ের ডিসিশনটা নিয়েছে। কিন্তু তারপরও যতক্ষণ না পযন্ত আয়নের মুখ থেকে শুনবো ওর হঠাৎ বিয়ে করতে চাওয়ার কারণটা? ততক্ষণ পর্যন্ত আমার মনে একটা খচখচ ভাব থেকেই যাচ্ছে মেহু। যে আয়ন হঠাৎ করে এই ডিসিশন কেন নিল?? আচ্ছা মেহু তুই কিছু জানিস এই বিষয়ে? আয়ন কিছু বলেছে তোকে???

সোজাসাপ্টা উত্তরে কাটকাট গলায় বললো মেহেরবান।

—” না মা আমি কিছু জানি না। আর না আয়ন আমাকে কিছু বলেছে। তোমার মতো আমাকেও মধ্যে রাতে ফোন করে বলেছে এক সাপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করতে চাই মায়াকে। আমি প্রথমে নিষিদ্ধ করলেও পড়ে আয়নের জোরাজোরিতে রাজি হয়। তাড়া দিয়ে একাউন্টে টাকাও পাঠালো মায়াকে বিয়ের শপিং করানোর জন্য। বাকিটা যা হচ্ছে সেটা তোমার সামনেই হচ্ছে মা, তুমি জানো সব।

গোপানের সন্ধিহার প্রকাশে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো হেনা খান। মনের খচখচ কমেনি বিন্দুমাত্র। বরং জোড়ালো হলো সেটা। যতক্ষণ না পযন্ত আয়নের মুখ থেকে সবকিছু শুনবে ততক্ষণ পর্যন্ত একটা কিন্তু কিন্তু ভাব থেকেই যাচ্ছে মনের মধ্যে।


ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে জানান দিয়েছে রাতের গভীরতা কতটা। ১২ঃ৪৫ বাজে। রাত বেশ গভীর না হলেও মায়া বেশ গভীর ভাবেই তন্দ্রায় আছে। গোসল করে টাওয়াল মাথায় জড়িয়েই ধপাস করে শুয়ে পড়লো বিছানায়। সোজাসুজি না শুয়ে আড়াআড়ি ভাবে শুলো খাটের মধ্যে। শীতের প্রভাবে বিছানার পাশে থাকা ব্ল্যাঙ্কেট গায়ে টেনে নিজের মাথা অবধি ঢেকে নিলো মায়া। মাথার ঝুলন্ত টাওয়াল খাট গড়িয়ে ফ্লোরে পড়া কিছুটা। কিন্তু মায়ার সেদিকে ভাবান্তর নেই। সে নিজের ক্লান্তিতা দূর করতে গভীর নিদ্রায় যেতে চাই এই মূহুর্তে। অনেকটা চলেও গিয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু তক্ষনি কানে আসলো কারও বিরস কন্ঠের ডাকা ডাকি…

—” মায়া উঠ! তুই কি ঘুমাচ্ছিস? এই মায়ু উঠ না।

ফিহার তীক্ষ্ণ কন্ঠের প্রহর করার ডাকে তন্দ্রা ছুটে যায় মায়া। বিছানা এই মাথা থেকে ঐ মাথা পযন্ত আড়াআড়ি ভাবে ক্লান্তিতে উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে ছিল সে। মিনিট বিশেক হয়েছিল মায়ার চোখের গভীর তন্দ্রা ভাবটা এঁটে এসেছিল। কিন্তু তার আগেই ব্যাঘাত ঘটায় ফিহা। তার অনবরত ডাকে ঘুম ঘুম চোখ দুটো টেনে উপরে দিকে তাকায় মায়া বিরক্তি সূচক দৃষ্টিতে। কপালের সূক্ষ্ম ভাঁজ মায়ার। চোখ দুটো লাল রঞ্জিত হয়ে আছে গভীর ঘুমে। তারপরও নিজের মাথাটা কোনো রকম উঁচিয়ে হালকা তাকায় ফিহার দিকে সে। নিজের বিরক্তি সূচক কন্ঠে বলে উঠে…

—” আপু ডেকো না আমায়। আমি ঘুমাচ্ছি তো।

—” উঠ তুই এখন। পরে ঘুমাস।

শুনলো না মায়া ফিহার তাগদা দেওয়া কথাটা। সে পুনরায় তুল তুলে নরম বালিশে নিজের মুখ গজাতে গজাতে বললো…

—” উফ! আপু যাও তো তুমি। আমি এখন ঘুমাব।

তৎক্ষনাৎ অধৈর্য ভঙ্গিতে মায়ের গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট টেনে ধরলো ফিহা। রুদ্ধ গলায় বললো…

—” বললাম না পড়ে ঘুমাবি তুই। ভাই ফোন করেছে তোর সাথে কথা বলতে চাই। নে ফোন ধর কথা বল।

ঘুমের রেষারেষিতে মায়া বুঝলো না ফিহার বলা ‘ভাই ‘ নামক মানুষটি আসলে কে হতে পারে। যে তাকে এই মধ্যে রাতে স্মরণ করলো। মায়া সজিত ঘুমের তন্ডিত নিস্তিয়ে যাওয়া শরীরে রুদ্ধ গলায় বললো…

—” আমার কারও সাথে ফোন আলাপ করা নিষেধ আছে ফিহা আপু। তোমার ভাইয়ের আমার ফোন ধরাটাও পছন্দ না। তাই আমি কারও সাথে ফোনে কথা বলবো না। তুমি ফোন নিয়ে চলে যাও আপু।

মায়ার খাপছাড়া কথায় প্রচন্ড বিরক্তি প্রকাশ করে ফিহা। ফিহার ধারণা মায়া ঘুমের ঘোরে আয়নের কথা বলছে এই মূহুর্তে। ফিহা আরও ধারণা করে, হয়তো আয়ন ভাইয়াই নিষেধ করেছে মায়াকে ফোন ধরতে। যার জন্য মায়া এই মূহুর্তে নাহুচ করছে ফোনে কথা বলতে। ফিহার টনক নড়লো। কারণ সে দেখেছে আয়নকে বেশ কয়েকবার মায়াকে ফোন ধরা থেকে বিরত রাখতে। এমন কি আয়ন লন্ডনে গেলেও মায়ার সাথে ফোনে কথা বলতে চাই না। তার ভাইয়ের ধারণা মায়া ছোট মানুষ। তাই যদি মায়া অযথা ফোনের চক্করে পড়ে যায় তাহলে বিগড়ে যেতে পারে। কিন্তু ফিহার এটা ভেবে টনক নড়লো যে, মায়া তার ভাইয়ের সামান্য কথা গুলো এতটা দৃঢ়তা সাথে পালন করে। ফিহা খানিকটা চমকালোও। বিষন্নে ভাবলো, মায়ার সহজ সরলতা পিছনেও আরও কিছু আছে। যেটা লুকায়িত। ফিহার সবসময়ই মনে হতো নিজের ভাইই বুঝি একা মায়াকে পছন্দ করে। মায়া হয়তো তার ভাইয়ের ফিলিং সম্পর্কে অবগত নয়। কিন্তু এখন তো দেখছে মায়া বড় হতে শিখে গেছে। তার ভাইয়ে সাথে সাথে সেও প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে হয়তো! আর নয়তো কোনো কিশোরী চঞ্চল মেয়ে নিজেকে এতটা দমিয়ে রাখবে না অন্য কারও সাথে সামান্য কথাটুকু বলার থেকে। কারণ এতটা বাধ্য তো হয়না কিশোরীদের মন। সে কিশোর বয়স পাড় করে এসেছে। সে জানে। একজন কিশোরী মেয়ে মন থাকে অবাধ্য চঞ্চল চড়ুই পাখির মতো। মিনিটেই ফুড়ুৎ কাটে শ-খানিক। প্রচন্ড অবাধ্য হতে চাই মনপাড়া। অবাধ্য জিনিসে প্রতি ঝুক থাকে একটু বেশিই। কিন্তু মায়ার এতটা বাধ্যকতায় প্রমাণ করছে সে কতটা দৃঢ় সংকল্প ন্যায় অটুট তার ভাইয়ে প্রতি। ফিহা মনস্তাত্ত্বিক ভাবে কথা গুলো আওড়াল নিজে নিজে। মূহুর্তেই আলতো হেসে সূক্ষ্ম দৃষ্টি স্থির করলো মুঠোফোনের দিকে। স্কিনে ঝলমল করলো আয়নের বিস্ময়কর চেহারা। এতক্ষণ যাবত সেও ভিডিও কলে বসে ছিল ফোনের ওপাশে। মায়ার কথা গুলো সবকিছু শুনেছে সে। অবাক ও হয়েছে প্রচন্ড। মায়ার সাথে আজ পযন্ত ঠিকঠাক ভাবে কথা বলতে পারিনি সে। অজানা ভয়ে সিঁটিয়ে যেত মেয়েটা অথচ আজ এই মেয়েটাই তার কথা গুলো এতটা দৃঢ়তা সাথে পালন করছে ভাবা যায় বিষয়টি। এক চিত্তে হাসির রেখা ফুটলো আয়নের ঠোঁটের কোণে। মনের সুপ্ত অনুভূতি গুলো মাথা নাড়িয়ে উঠলো মায়াকে ঘিরে৷ মায়া এখন তার বিয়ে কথা বউ তাই বউকে নিয়ে সকল চিন্তায় জায়েজ। আয়ন খানিকটা লাজুক হাঁসলো নিজের মধ্যে। কিন্তু গলায় গম্ভীর্য্য ভাব টেনে ফিহার উদ্দেশ্য বললো…

—” ফিহা ওর হাতে ফোনটা দিয়ে বিদায় হ তুই। যাহ!

কপাল কুঁচকে তাকায় আয়নের দিকে ফিহা। বিরক্তি সূচক কন্ঠে বলে উঠে…

—” উঠলে তো দিব ভাই। না উঠলে দিব কোথায় থেকে?

—” ডেকে তুল তাড়াতাড়ি। বল আমি কল করেছি!

ফিহা বিরক্তি নিয়ে বলে..
—” আচ্ছা।

পুনরায় মায়াকে অধৈর্য ভঙ্গিতে ডাকতে শুরু করলো ফিহা। মায়া বিরক্তিতে খানিকটা মাথা উঁচিয়ে তাকাতেই ফিহা মায়ার হাতের মুঠোয় নিজের ফোনটি ধরিয়ে দিতে দিতে বললো….

—” ‘আমার যে ভাই তোকে ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে? সেই ভাইই এখন তোকে তার সাথে ফোনে কথা বলতে আর্দেশ করেছে। নে ধর ফোন! কথা বল আমার ভাইয়ে সাথে।

বিরক্তি সূচক মায়ার হাতে নিজের ফোন ধরিয়ে চলে যায় ফিহা মায়ার রুমের বারান্দার দিকে। আপাতত সে তাদের প্রেম আলাপের মধ্যে থাকতে চাই না। এক সাপ্তাহ পর তাদের বিয়ে সেহেতু তাদের একান্ত কিছু সময় দেওয়া দরকার তাঁর।

ফিহার কথায় হতভম্ব হলো মায়া। চকিত দৃষ্টিতে চোখ মেলে তাকায় ফিহার চলে যাওয়ার দিকে সে। ধাতস্থ করার চেষ্টা করলো ফিহার বলে যাওয়া কথাটা কি ছিল? ‘আমার যে ভাই তোকে ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে? সেই ভাইই এখন তোকে তার সাথে কথা বলতে আর্দেশ করেছে।’ তারমানে তার রিদ ভাইয়া এতো রাতে তাঁকে ফোন করেছে কথা বলার জন্য? কিন্তু কেন? সেতো এখন বাংলাদেশেই আছে তাহলে সরাসরি কথা না বলে হঠাৎ ফোন করলো কেন?? তার রিদ ভাইয়া তো এমন নয়। সেতো কখনো মায়ার সাথে ফোনে কথা বলতে চাই না। তাহলে কি তার রিদ ভাইয়া আবারও চলে গেছে বাংলাদেশ ছেড়ে। মায়ার যেন খানিকটা নড়েচড়ে উঠলো রিদের হঠাৎ চলে যাওয়াটা মনে করে। কিন্তু চোখ মুখে বিন্দুমাত্রও প্রকাশ করলো না কোনো কিছু। শক্ত স্বাভাবিক থাকলো। তবে তৎক্ষনাৎ মনে পড়লো যে রিদ আজ দুপুরের মায়ার কাছে গিফট চেয়েছিল। হয়তো সেটার জন্যই তাকে কল করেছে এই মধ্যেরাতে ফিহা ফোনে। মায়া তটস্থ হয়ে ফোন নিজের চোখে সামনে ধরতেই থমথমে খেয়ে যায় আয়নের হাস্য উজ্জ্বল চেহারা দেখে। মায়া এই মূহুর্তে মোটেও আশা করেনি আয়নকে পাবে ফোনের ওপাশে। ভেবেছিল রিদ হবে। তাই থমথমে ভঙ্গিতে অপদস্তক হলো মায়া। দ্রুততা সঙ্গে পুনরায় নিজের গলা অবধি ব্ল্যাঙ্কেটি টেনে জড়াতে জড়াতে বললো…

—” আসসালামু আলাইকুম। ভাইয়া আপনি?

মায়ার কান্ডে মূহুর্তেই হেঁসে ফেললো আয়ন। সালামের উত্তর দিয়ে দুষ্টমী কন্ঠে বলে…

—” হ্যাঁ আমি! কেন অন্য কাউকে আশা করছিলে নাকি হুমম??

মায়া অপদস্তক গলায় বললো…

—” তেমন কিছু না।

আয়ন তৃপ্তিতে দারুণ হাসলো। তার এই হাসিটায় যেকারও নজর কাটতে সক্ষম। কিন্তু মায়ার নজরে ভিড়লো না আয়নের সেই হাসিটা। সে মন্ত নিজের হতাশায়। তার রিদ ভাইয়া তাকে ফোন করেনি সেটা নিয়ে। তবে মুখে প্রকাশ করলো না কিছু। তার মধ্যেই আয়ন বলে উঠে…

—” কেমন আছো তুমি?
—” জ্বিই ভালো!
—” আমাকে জিজ্ঞেসা করবে না যে আমি কেমন আছি হুমম??
মায়া পুনরায় অপদস্ত হয়ে মিনমিন গলায় বললো….
—” আপনিও ভালো আছেন।

—” বাহ আমাকে দেখেই বুঝে নিলে তুমি?? ভারি ইন্টেলিজেন্ট তুমি কন্যা।
মায়া হাসফাস করলো আয়ন পুনরায় বলে উঠে…
—” তুমি ঠিক ধরেছো! আমি আসলেই ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ! আর আমার ভালো থাকার পিছনের কারণটাও তুমি।

আয়নের কথা বুঝলো না মায়া। চকিতে বলে উঠলো..
–” হুমমম??

মায়ার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নিজের দৃষ্টি স্থির করলো আয়ন। পরক্ষণেই চোখ আওড়িয়ে তাকায় মায়ার ঘুম জড়ানো শুদ্ধ চেহারায়। হালকা তেল চিপ চিপে ভাব নাকের ডগায় মায়ার। আয়ন হাসি মুখে ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকালো মায়ার নাকে ডগায়। ইচ্ছা হলো অবাধ্য হয়ে ছুঁয়ে দিতে মায়ার নাকের ডগায়। কিন্তু নিজের দূরত্বটা চিন্তা করে দমে গেল সে। তবে দৃষ্টি সরালো না মায়া ঘুম জড়ানো মুখ থেকে। বরং নিজের দৃষ্টি দৃঢ় করে মিহি কন্ঠে বললো..

—” শপিংয়ে গিয়ে ছিলে আজ??
মায়া নিজের মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানিয়ে বললো..
—” হুমমম!

—” জানতে চাইলে না যে হঠাৎ এতটা শপিং কিসের জন্য ছিল আজ???

আয়নের এমন কথায় মূহুর্তেই কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়লো মায়ার। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আয়নের দিকে তাকাতেই পুনরায় আয়ন বলে উঠে…

—” আমাদের বিয়ের শপিং ছিল আজ। এক সাপ্তাহ পর আমাদের বিয়ে মায়ু।

মায়া যেন চমকালো। বিস্মিত হলো অধিক। হতভম্ব গলায় অস্পষ্ট স্বরে বললো…

—” বিয়ে??

আয়ন শুনলো মায়া অর্ধ কথাটা। তাই পুনরায় সম্মতি জানিয়ে বললো…

—” হ্যাঁ বিয়ে! ওয়াদা করে বলেছিলাম সেদিন তোমাদের, যে খুব দ্রুত আমি সবকিছু ঠিকঠাক করে নিব। তাই পুনরায় পরিবারের সম্মতিতে আবারও বিয়েটা করতে চাচ্ছি মায়ু। অবশ্য পরিবারের কাউকে আমাদের আগের বিয়েটা কথা এখনো জানানো হয়নি। তবে আমি বাংলাদেশে এসেই সর্বপ্রথম সবাইকে জানাবো এই বিষয়টি। তারপর বিয়ের পিরিতে বসবো।

মায়া চমকালো, হতভম্ব হলো, বিষন্নে তাকালো আয়নের ভরাট হাসি মুখের দিকে। মায়া বুঝতে পারলো এক সাপ্তাহ পর আয়ন বিয়ের পিরিতে বসতে চাইছে তাও সেদিন রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে হয়ে যাওয়াটা বিয়েটাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সবকিছু কি এতো সহজ? মায়ার বাবা কি কক্ষনো মেনে নিবে এই বিয়েটা? বরং ঘোর আপত্তি করবে। তাছাড়া জুঁই? সে কি? মায়া আর কি ভাবতে পারলো না। সে আতংকিত গলায় বললো…

—” আব্বু কি এই বিয়েটা মেনে নিবেন ভাইয়া??

খানিকটা অনুতপ্ত হলো আয়ন। হতাশায় বলে উঠলো…
—” তুমি চিন্তা করুনা মায়ু আমি আছি তো। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। আগে বিয়ে হয়ে যাক পড়ে নাহয় তোমার আব্বুকে বুঝানো যাবে। তাছাড়া তুমি তো আমার পাশে আছো তাই না??

মায়া মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায় অথাৎ সে আয়নকে সমর্থন করবে এই বিয়েটা নিয়ে। আর এই বিষয়টায় যেন তীব্র ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করে আয়ন ও মায়ার মধ্যে। আয়নের দীর্ঘ ফোন আলাপে মধ্যে একটা বারও পাত্রী নামটা উল্লেখ করলো না মায়াকে। আর না মায়া বুঝলো যে আয়ন আসলে কাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী ভেবে দ্বিতীয়বারের মতো বিয়েটা করতে চাচ্ছে। আর এই বিষয়টি নিয়েই একটা তাল গোল পাকিয়ে যায় মায়া আয়নের মধ্যকার সম্পর্কে। যার রেশ ধরেই মায়া তৎক্ষনাৎ উত্তেজনায় বলে উঠে আয়নকে…

—” তাহলে তো সর্বপ্রথম জুঁইকে লাগবে আমাদের ভাইয়া। কিন্তু আব্বু কি দিবে জু্ঁইকে এক সাপ্তাহে মধ্যে খান বাড়িতে আসতে? জুঁই ছাড়া তো বিয়েটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কি করা যায় বলুন তো??

মায়া মুখে জুঁইয়ের নামটা শুনতেই তটস্থ হলো যে সেদিনের বিয়েতে জুঁইও ছিল তাদের সাথে। কিন্তু কোনো এক মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে কারণে একেবারেই ছুটে গিয়েছিল জুঁই মেয়েটির নামটা। মায়ার বলাতে পুনরায় স্মরণে আসলো তার। আয়ন স্মিত হাসলো। ভাবলো! হয়তো মায়া নিজের বোনকে পাশে নিয়ে বিয়েটা করতে চাইছে আয়নকে। তাই এই বিষয়ে বেশ একটা ঘামালো না আয়ন। মায়াকে রয়েসয়ে বুঝিয়ে বললো…

—” তোমার বাবা তার মেয়েদের প্রচন্ড ভালোবাসে মায়ু। তাই আমার মনে হয় উনার মেয়ে যদি, উনার কাছে কোনো কিছু জন্য আবদার করে তাহলে সে নিশ্চয়ই তোমাকে ফেরাবে না। তুমি তোমার বাবার কাছে আবদার করে, বলো যে তোমার জুইকে লাগবে এক সাপ্তাহের মধ্যে খান বাড়িতে তাহলেই হয়। তিনিও তোমার কথা ফেলতে পারবে না আশা করি।

গল্পের নেক্সট পার্ট এই পেইজে পেয়ে যাবেন।
https://www.facebook.com/profile.php?id=100069402592136&mibextid=ZbWKwL

গল্প সম্পর্কিত আলোচনা সমালোচনার গ্রুপ https://www.facebook.com/groups/565066277893177/?ref=shaমায়ার~গল্পবিলাস

.

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply