দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
০৩
–” খান বাড়ির সাথে সম্পর্ক?
ছেলেটির এমন কথায় মূহুর্তে মায়া সরল মনে সোজাসাপ্টা উত্তরে গরগর করে বলে উঠে…
–” এই বাড়ির আর্দশ গুরুজন আমার দাদাশশুর। আর তাঁর ছেলে আমার শশুর! শশুরের একমাত্র গুনধর ছেলের একমাত্র গুণবর্তী বউ হলাম আমি এই বাড়ির।
মায়ার এমন কথা মূহুর্তেই পা দুটো থেমে যায় অচেনা ছেলেটির। চমকে উঠে পাশ ফিরে মায়ার দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাস কন্ঠে বলে উঠে…
–” আমার বউ?
ছেলেটি কথা ও দৃষ্টি অপেক্ষা করেই মায়া দৌড়ে গেইট ধরে ভিতরে প্রবেশ করতেই গেইটে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন দারোয়ান এর মধ্যে বয়স্ক দারোয়ানটি মায়াকে দেখে এগিয়ে এসে দ্রুত বলে উঠে…
–” ছোট আপামনি আফনে আজ একা একা স্কুল থেক্কে বাসায় আইসেন কেমনে? ডর করে নাই আফনার। ড্রাইবার তো যাইতো হে আফনারে এহন স্কুল থেক্কা আনার লাইগাই। তাইল আফনে এ….
বাকি কথা গুলো শেষ করার আগেই চোখ যায় গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির দিকে। বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। ছেলেটিকে দেখে বয়স্ক দারোয়ানটি সাথে সাথে জড়োসড়ো হয়ে দাড়িয়ে লম্বা সালামের সহিত বলে উঠে…
–” আসসালামু আলাইকুম ছোট স্যার।
ছেলেটি চোখ তুলে তাকাই বয়স্ক দারোয়ান দিকে। কপাল কুঁচকে আবারও চোখ ঘুরায় মেয়েটির দিকে। সদ্য নিজের বউয়ের পরিচয় দেওয়া মেয়েটি যে খান বাড়ির প্রতিটা সদস্য সাথে বেশ সক্ষতা ভাব জমে আছে। তাহ বুঝতে বেগ হয়নি ছেলেটির। কিন্তু মেয়েটি তাঁর বউ এই বিষয়টিই যেন আরও কৌতহলে কারণ হচ্ছে তার। মেয়েটি কি তাহলে তাঁকে মিথ্যা বলছে? পিচ্চি মেয়েটি বা বউয়ের পরিচয় দিবে কেন? তাঁর কি কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে মেয়েটিকে চিন্তে? তবে সে এতটা নিশ্চিত হয় বয়স্ক দারোয়ানে কথায় যে অপরিচিত মেয়েটি এই খান বাড়িতেই থাকে। সবটা বুঝার জন্য শান্ত বংগিতে আগের নেয় নিজের দু’হাত পকেটে ভরে সামনে আগায়।
মায়া দারোয়ানে কথার উত্তরে হাসিবাসি হয়ে জানায় আজ স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হওয়ায় সে একাই ফিরেছে বাড়িতে। বয়স্ক দারোয়ানটি সামনের ছেলেটিকে দেখে আমতাআমতা করে নিজের মাথা নাড়িয়ে সায় জানায় মায়াকে। মায়া তৎক্ষনাৎ হাত নাড়িয়ে বয়স্ক দারোয়ান থেকে বিদায় নিয়ে দৌড়ে বাগানের রাস্তা ধরে এগিয়ে যায় বাড়ির ভিতরের উদ্দেশ্য। কিছুটা পথ দৌড়ে যেতেই সামনে দেখে পায় হেনা খানের। তিনি এই দিকটায় এগিয়ে আসছিলেন। হুট করে এই অসময়ে মায়ার কন্ঠস্বর শুনেই মায়াকে নিতে আসছিলেন এইদিকে। কিন্তু পথিমধ্যেই দেখায় হয় মায়ার সাথে, হেনা খান হুইল চেয়ারে বসে আছেন আর সেটা চালিয়ে নিয়ে আসছে মালা। মায়া দৌড়ে গিয়ে হেনা খানের সামনে দাঁড়াতেই তিনি দু’হাতে ঝাপটে ধরে মায়াকে উত্তেজনার সহিত বলে উঠে…
–” সেকি! সোনামা তুই একা একা বাসায় কিভাবে এসেছিস? সমস্যা হয়নি তো তোর? তুই কি সম্পূর্ণ ক্লাস না করেই চলে এসেছিস আজ?
হেনা খানের পরপর উত্তেজিত কথায় মূহুর্তে মায়া বিরক্তি নিয়ে উত্তর দেয়…
–” নাহ সমস্যা হয়নি। স্কুল ছুটি হয়ে গেছে তাই চলে এসেছি। স্কুলে একা বসে থেকে কি করবো শুধু শুধু। কাজ আছে কোনো? তাই বাড়ির রাস্তা মাপতে মাপতে একা চলে এসেছি এখান অবধি।
মায়ার কথায় হেনা খান বুঝতে পারে কেন মায়া আজ তাড়াতাড়ি বাসায় চলে এসেছে। কিন্তু আপত্তি হচ্ছে মায়া একা একা চলে আসাটা মোটেও পছন্দ হয়নি উনার। বরং ভয়ে ছিল যদি মায়া একা রাস্তায় হারিয়ে যেত তোহ কি হত? সেটা ভেবেই গা চমচম করে উঠছে উনার ভয়ে। নিজের ভয়টা খানিকটা দমালো নিজের মধ্যে তিনি। তাই মায়াকে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে এক এক করে সবকিছু খোলে নিতে থাকেন তিনি। মায়ার স্কুল ব্যাগ, মাথার ক্যাপ, মুখের মাক্স, গলার আইডি কার্ড খোলে তুলে দেয় পাশে দাঁড়িয়ে থাকার মালার হাতে। হাত বাড়িয়ে নিজের শাড়ির আঁচল দিয়ে মায়ার ঘামন্ত মুখ ভালো করে মুছতে মুছতে খানিকটা রাগী কন্ঠে বলেন..
–” একা একা বাসায় আসতে গেলি কেন তুই। ডাইভার কি যেত না তোকে আনতে হ্যাঁ? আজকে যদি ঠিকঠাক বাসা চিনতে না পেরে হারিয়ে যেতিস তাহলে তোর দাদাভাই আর আমি কতটা টেনশনে থাকতাম তোকে নিয়ে সেই ধারণা আছে তোর? সবকিছুতে পাগলামো না করলে হয়না তোর?
হেনা খানের পরপর কথায় মূহুর্তে আহত হয় মায়ার ছোট মন। সেতো ঠিকঠাক বসায় চলেই এসেছে তাহলে এতটা কথা শুনানোর কোনো মানে হয়? না হয় না! মোটেও হয়না! মায়া সেই ক্ষুন্ন মনের রেশ ধরেই যুক্তিকতা দেখিয়ে বলে উঠে হেনা খানকে..
–” দাদী তুমি চাও আমি এখন আড়াই ঘন্টা স্কুল গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দারোয়ানের পদবিটা টানতে? তোমার এই মনোরম ধারণা যদি আমাদের স্কুল গেইটের দারোয়ান দাদু শুনে! তাহলে নিশ্চিত! হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গড়াগড়ি করে কান্না বিলাপ করবে মাঠে উপর। এই ভেবে যে তুমি উনার ভাত মারার চেষ্টা চালাচ্ছ আমাকে দিয়ে। আহা! বেচারা স্কুলদাদু বুঝি শেষ বয়সে এসে তোমার দ্বারা এতবড় সর্বনাশ হলো তাঁর। তুমি তো এখন সর্বনাশিদাদী হয়ে গেলা দাদীমা। দাদাজান জানে সেটা?
মায়ার পরপর যুক্তি কথায় মূহুর্তে হতভম্ব হয়ে যায় হেনা খান ও মালা। মায়া সিরিয়ালস পরিস্থিতিতেও যে যুক্তি খুঁজে খুঁজে অযুক্তিক ব্যাখা দিবে সেটা বুঝতে পারিনি তাঁরা। তাই তিনি হতবাক হয়ে বলে উঠেন…
–” তোরে আমি কইসি যুক্তি দিতে। আমার সামান্য কথাকে টেনে ইতিহাস রচনা করলি। আর শেষ পযন্ত তোর সেই ইতিহাসে তুই আমাকে সর্বনাশিদাদীর চরিত্রে বসায় দিলি মায়া?
–“হুম।
মায়ার সোজাসাপটা উত্তরে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় হেনা খান। তিনি বুঝতে পারছেন মায়ার সাথে রেগে কথা বললে মায়ার আবারও অযুক্তিক ব্যাখা দিবে উনাকে। তাই তিনি নিজেকে শান্ত করে মায়ার গাল ছুয়ে আদর করে মিহি সুরে বলেন….
–” আচ্ছা মানলাম তোর কথা। কিন্তু তুই বলতো দেখি, আমার সোনামাটা যদি আজ একা বাসায় না আসতে পেরে কোথাও হারিয়ে যেতে! তাহলে কি আমরা তাঁর কষ্টে কান্না বিলাপ করতাম না বুঝি? এটা কি ঠিক হয়েছে সোনামা? কাউকে কিছু না বলে একা একা বাসায় চলে আসাটা হুমম?
হেনা খানের কথায় মূহুর্তে অপরাধ বোধ কাজ করে মায়ার নিজের মাঝে। একা চলে আসাটা বোধহয় ঠিক হয়নি ভেবেই অপরাধী কন্ঠে বলে উঠে…
–” সরি দাদী। আমার মনে ছিল না তোমাদের কথা। এরপর থেকে এমনটা আর করবো না আমি। দারোয়ান দাদুর সাথেই বসে থাকবো আমি গেইটের সামনে। তবুও আর একা আসবো না বাসায়। কিন্তু তুমি জানো? আজকে বাসায় আসার সময় না আমি রাস্তায় হারিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু একটা ভালো ভাইয়া আমাকে বাড়ি অবধি পৌঁছে দিয়েছে। ঐ যে ঐ ভাইয়াটা (পিছনের ছেলেটিকে হাতের ইশারায় দেখালো মায়া) আমাকে নিয়ে এসেছে বাড়িতে।
মায়ার হাতের দৃষ্টি অনুসরণ করে হেনা খান কপাল কুঁচকে পিছন দিকে তাকাতেই চমকে উঠে সাথে সাথে বলে উঠে…
–” রিদ তুই?
হেনা খানের কথায় মূহুর্তে মায়া চমকে উঠে। মনে পড়ে হেনা খানের বলা প্রথম দিনের কথা। রিদের বউ সে। তাহলে এই কি সেই রিদ যে মায়ার স্বামী? কৌতূহল বশে চট জলদি প্রশ্ন করে ফেলে মায়া। বলে উঠে…
–” উনি কি আমার স্বামী দাদী?
নিজের উত্তেজনায় মায়ার কথা কানে না তুলেই অজানা ভয়ে সাথে সাথে মায়াকে টেনে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে নিজের মাঝে হেনা খান। মায়ার মাথা নিজের বুকে চেপে ধরে তাকায় রিদের দিকে ভয়ে। হেনা খানের হঠাৎ এমন কান্ড মায়া বুঝতে না পেরে বুক থেকে মাথা উঠাতে চাইলে সাথে সাথে বাঁধা দেয় হেনা খান। শক্ত করে চেপে ধরে নিজের মাঝে এমন একটা ভাব যেন মায়াকে ছেড়ে দিলেই রিদ কেঁড়ে নিয়ে যাবে মায়াকে উনার কাছ থেকে। অক্ষাত মায়া কিছু বুঝতে না পেরে হেনা খানের বুকে মাথা রাখা অবস্থা তাকায় সামনে ছেলেটির দিকে। সাথে সাথে চোখাচোখি হয় দুজনের। ছেলেটি বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। ছেলেটির মায়াবী চোখ জোড়া স্থির মায়ার ঘামন্ত মুখমন্ডলে। ছেলেটির অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার মধ্যে দিয়েই ধ্যান ভাঙ্গে হেনা খানের কথায়…
–” রিদ তুই কবে এসেছিস দেশে?
রিদের বিশেষ একটা ভাবান্তর হলো না। পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিজের অক্ষাত বউয়ের দিকে। রিদ চিন্তে পারে নিজের বাল্যকালে বউটিকে। হারিয়ে যাওয়া বউটি যে হুট করেই এই গৃষ্মকালের ভ্যাপসা কাটফাটা রোদে আবারও দেখা হয়ে যাবে ভাবতে পারেনি সে। রিদ চমকিত। অতিরিক্ত শকটে পাথর মূতি হয়ে গেছে। আপাতত রিয়েক্ট করতে ভুলে গেছে। জমে আছে জায়গায়। তাই শুধু বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। তাঁর হুট করে জানা পিচ্চি বউটি আজ বেশ বড় হয়ে গেছে। শরীরের বেশ পরিবর্তনও ঘটেছে। তবে চোখে মুখে বাচ্চা বাচ্চা ভাবটাও রয়েছে বেশ।
রিদ এতক্ষণ নিরব দশকের মতো নিজের দাদীর ও মায়া কথা গুলো শুনছিল। সে হতবাক হয়েছিল যখন নিজের দাদী মায়াকে এতটা আদুরে আঁকড়ে রাখছিল। বুঝতে চেষ্টা করেছিল অদৌ কি মায়া তাঁকে সত্যি কথা বলেছিল নিজের বউয়ের পরিচয় দিয়ে? কিন্তু নিজের দাদীর সক্ষতা, ভালোবাসা প্রমাণ করেছে মায়া সাথে এই খান বাড়ির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রিদ বুঝতে পারে তখন যখন মায়ার ঘামন্ত লাল চেহারাটি তাঁর চোখে সামনে দৃশ্যমান হয়। মূহুর্তেই স্তব্ধ নিবাক হয়ে শুধু তাকিয়ে ছিল মায়ার দিকে যার রেশ এখনো অবধি কাটাতে পারেনি সে।
হেনা খান রিদের দৃষ্টি অনুসরণ করে মায়ার দিকে তাকিয়ে আরও একধাপ ভয়ে আতংকে উঠে। এই বুঝি রিদ মায়ার সত্যিটা জানতে পেরে মায়াকে আঘাত করে বসবে। নয়তো কেঁড়ে নিবে মায়াকে হেনা খানের কাছ থেকে। তিনি নিজেকে স্থির করতে চাই। সবটা বুঝতে চাই। কারণ রিদ তো মায়া সম্পর্কে কিছুই জানা নেই। সেতো মাত্র ফিরেছে বাসায়। হেনা খান কথা গুলো ভেবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। নিজেকে সংযম করে চোখ তুলে আবারও তাকায় রিদের দিকে। কারণ হেনা খানের ধারণা রিদ মায়ার সত্যি সম্পর্কে অবগত নয়। কারণ রিদ আজ দুই বছর পর খান বাড়িতে ফিরেছেন দেশের বাহির থেকে তাও আবার মায়াকে সঙ্গে করে নিয়ে। রিদ আজ বাসায় ফিরবে সেই ধারণা উনার ছিল। কিছুক্ষণ আগে রিদের বাংলাদেশি ফোন নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল উনার কাছে। তাই বুঝতে পেরেছিল রিদ বাংলাদেশেই আছে। কিন্তু দুজন যে এক সঙ্গে বাসায় ফিরবে সেটি মোটেও আশা করেনি তিনি। তবে হেনা খানের জানা নেই রিদের ফোন থেকে কলটি রিদ নয় বরং মায়া করেছিল উনাকে। হেনা খান স্বস্তির হন। কোনো বিপদে আশঙ্কা না থাকায় মায়াকে দাঁড়া করায় নিজের বুক থেকে। এই মূহুর্তে তিনি রিদকে সময় দিতে চাই তাই মায়াকে রিদের সামনে রাখতে চাই না। রিদ দুর্দান্ত তীক্ষ্ণ মাইন্ডে। কারণ রিদের মুখ নয় দৃষ্টি চলে বরাবরই বেশি। তাই যদি রিদ মায়াকে লক্ষ করে বুঝতে পারে কোনো কারণে মায়ার তাঁর বাল্যকালে বউ তাহলে নিশ্চিত নিজের মা-বাবা মরার দ্বায়ে মায়াকেও মেরে ফেলবে নিমিষেই। হেনা খান বাড়াবাড়ি রকমের কিছুই চান না তাই তিনি নিরবে মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…
–” মালা সাথে রুমে যাহ তুই। গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে যাহ।
হেনা খানের কথা মায়ার কান অবধি পৌছালেও মস্তিষ্কের সেটা ধরে রাখতে পারেনি কারণ মায়ার মাথায় রিদ নামক শব্দটি ঘুরছে এই মূহুর্তে। হেনা খান বলেছি মায়া রিদের বউ। আর এই মূহুর্তে রিদ নামক মানুষটি মায়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে যাকে সে ভালো ভাইয়া বলে সম্মোধন করছে এতক্ষণ। তাহলে কি ভালো ভাইয়াই মায়া রিদ স্বামী? বিষয়টি মাথায় বারবার আওড়ায় মায়া। জানার জন্য নিজের কৌতুহলটা আরও গাঢ় হয়। তাই এবার নিজের একটা আঙ্গুল তাক করে রিদকে দেখিয়ে হেনা খানকে প্রশ্ন করে বলে উঠে…
–” দাদী বলোনা এই ভালো ভাইয়াই কি আমার স্বামী?
মায়ার কথার মানে বুঝতে পেরে হেনা খান ঝটপট চোখ ঘুরিয়ে তাকায় রিদের দিকে। রিদ তখনোও কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। তাই তিনি উত্তেজিত বংগিতে কথা ঘুরিয়ে বলে উঠেন।।
–” না! তুই রুমে যাহ মালার সাথে।
–” কিন্তু তুমি যে বললে রিদ নামক তোমার নাতি আমার স্বামী হয় সেটা?
–” তুই যাবি এখান থেকে। বললাম না কেউ হয়না। তোর কোনো স্বামী নেই।
হেনা খানের কথার ঠিকঠাক মানে ধরতে পারেনি মায়ার ছোট মাথাটি। মায়ার ভাষ্য মতে হেনা খান স্পষ্ট বলে ছিল মায়া রিদের বউ। কিন্তু এখন বলছে মায়ার কোনো স্বামীই নেই। যদি মায়ার কোনো স্বামী না থাকে তাহলে বউটা সে কোথায় থেকে হলো? অক্ষাত মায়া আবারও প্রশ্ন ছুড়ে মারে হেনা খানকে বলে উঠে…
–” তাহলে কি আমি সিঙ্গেল দাদী?
–” হ্যাঁ! তুই সিঙ্গেল যাহ এবার। মালা ওকে নিয়ে ডাইরেক্ট আমার রুমে যাবি। যতক্ষণ না পযন্ত আমি বললো ততক্ষণ পর্যন্ত যেন কাউকে বের হতে না দেখি আমি রুম থেকে।
কথা গুলো বলেই তিনি মায়াকে আর কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে এক প্রকার জোর করেই পাঠিয়ে দেয় মালা সাথে। কারণ মায়ার পরপর করা প্রশ্নে সাংঘাতিক বিপদে ফেলে দিয়েছে হেনা খানকে। তিনি খানিকটা হাসফাস করে রিদের সামনে। কিন্তু নিজের বিচক্ষণতায় বুদ্ধি দিয়ে মূহুর্তেই ঠোঁট প্রসারিত করে হাঁসেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য হাসি মুখে রিদকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…
–” আমার সোনাবাবা তোহ বললো না সে কবে ফিরেছে দেশে! সেকি এবার আমাদের সাথে কিছু দিন থাকবে নাকি আবারও পাড়ি জমাবে পরদেশে হুমম?
রিদের স্থির দুটো চোখ ছিল মায়ার যাওয়া দিকে। নিজের দাদীর কথা কানে আসতে চোখ ঘুরিয়ে তাকায় সেদিকে। দাদীর হাসি মুখে দেখে গম্ভীর কণ্ঠে বললো…
–” দেশে ফিরা হয়েছে আরও দুইদিন আগে দাদী। এবার যাওয়াটা নিশ্চিত বলতে না পারলেও কিছুদিন থাকাটা নিশ্চিত বলতে পারছি দাদী।
–” বাগানদাদু আমিও পানি দিব তোমার সাথে। আমাকে দাও তোমার হাতের পাইবটা।
মায়ার এমন কথায় বাগানের মালি পিছনে ঘুরে তাকায় মায়ার দিকে। ঘুম জড়ানো চোখে মুখে দাঁড়িয়ে আছে মায়া। সকালের ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি মায়ার। রোজকার মতো ঘুম থেকে উঠেই বাগানে চলে আসে মালি সাথে পানি দিতে মায়া। এখন ৫ঃ১৯ বাজের। পূর্ব আকাশে এখনো সূর্যটা উঠেনি তবে চারপাশটা অন্ধকার আধার কাটিয়ে আকাশটা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। খান বাড়িতে আসার পর থেকেই মায়ার অভ্যাস হয়ে উঠেছে বাগানে পানি দেওয়া। তাই আজও কিছু ব্যতিক্রম হয়নি। বাগানে মালিকে বাগানদাদু বলেই সম্মোধন করে মায়া। দুজনের মধ্যে বেশ ভাব জমে উঠেছে এই কয়েক দিনের। অর্ধ বয়স্ক লোকটি হাসি মুখে মায়ার দিকে পানির পাইপটি এগিয়ে দিতেই মায়া সেটি নিয়ে আপন মনে পানি দিতে দিতে বয়স্ক লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…
–” বাগানদাদু তুমি যে বলেছিলে একদিন তোমার মেয়ে বাচ্চা হবে। হয়েছে বাচ্চা তোমার মেয়ের?
–” না আপামনি এহনও ঐইছে না। সময় লাগবো আরও অনেক।
বাগানের মালি কথায় সন্তুষ্টি হয় মায়া। তাই গাছে পানি দিতে দিতে পুনরায় আবারও প্রশ্ন করে বলে উঠে…
–” বাগানদাদু তুমিও তোহ আমার মতো ব্রাক্ষণবাড়ির মানুষ তাই না? কিন্তু তোমার বউ হলো রাজশাহীর। তাহলে এতদূরে তোমাদের প্রেম, বিয়ে, আর বাচ্চা কাচ্চা কিভাবে হলো তোমার বলো তো আমায় শুনি?
মায়ার বিবৃতিকর প্রশ্নে মূহুর্তে হালকা ইতস্তত বোধ করে বয়স্ক মালিটি। তিনি বোকা হেঁসে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে বলে উঠলো কেউ…
–” আপনাকে কেন বলবে শুনি? অন্যের বাচ্চা কাচ্চা হওয়া নিয়ে আপনার এতো ইন্টারেস্ট কেন ম্যাডাম? কি করবেন শুনে অন্যে প্রেম বিয়ে সম্পর্কে হুমম?
মায়া চমকে উঠে পাশে তাকাতেই চোখে পড়ে রিদকে। স্টং হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। গায়ে হাফ হাতার কালো টিশার্ট! নিচে কালো টাউজার সাথে। হাত দুটো পকেটে পুড়া। রিদের ঘায়েল করা চোখ দুটো মায়ার দিকে স্থির করা। কাল দুপুরে রিদের মুখে মাক্স থাকায় মায়া রিদের পুরো ফেস দেখতে না পারলেও অসম্ভব মায়াবী চোখ দুটো দেখেছিল মায়া রিদের। এই মূহুর্তে রিদের সম্পূর্ণ ফেস দেখতে পারলো সে। রিদকে চিন্তে পেরে মায়া হা হয়ে তাকিয়ে থাকে রিদের মুখশ্রীতে, চলমান পানির পাইপটা হাতে চেপে রেখে। রিদ মায়ার দৃষ্টি বুঝতে পেরে বাঁকা হাসে মূহুর্তেই। চোখ ঘুরিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মালিকে ইশারায় বুঝায় এখান থেকে চলে যেতে। রিদের কথা অনুযায়ী মালি চলে যায় সেখান থেকে। রিদ আবারও স্থির দৃষ্টিতে চোখ বুলাই মায়ার দিকে। মায়ার পড়নে গাঢ় বেগুনী রঙ্গের লং ফ্রক পড়া। পায়ে সেইম কার্লারে পাথরের পায়েল পড়া। দুহাতে মুঠো ভরতি বেগুনি রেশমি চুড়ি। চোখে মুখে হালকা ঘুম জড়ানো ভাব। লম্বা চুল গুলো একটা বেনি করে একপাশের দেওয়া। ছোট হওয়ায় মায়ার গায়ে কোনো রুপ ওড়না নেই। আর এই ওড়না নেই বিষয়টি লক্ষ করতেই মূহুর্তে কপাল কুঁচকে আসে রিদের। মায়াকে রিদের কাছে খুব ছোট বলে মনে হচ্ছে না। যে ওড়না ছাড়া চলবে। সদ্য যৌবনে পা রেখে ভাব মনে হচ্ছে। শারীরিক পরিবর্তনাটাও খুব ভালো করেই বুঝা যাচ্ছে। তাহলে ওড়না ছাড়া এমন করে চলাফেরার মানেটা বুঝতে পারছে না রিদ। বাসায় গার্ড থেকে শুধু করে সার্ভেন্ড রয়েছে অর্ধ শতাধিকের উপরে। যারা প্রতিনিয়ত খান বাড়িতে আসা যাওয়া করে। তাঁরা সবাই তো ছেলে মানুষ। তাহলে তাদের সামনে মায়ার এমন বেখেয়ালি ভাবটা গ্রহণ যোগ্য মনে হচ্ছে না রিদের কাছে। তারপরও মায়ার দিকে তাকিয়ে আগের নেয় কপাল কুঁচকে বলে উঠে…
–” কি ম্যাডাম বললেন নাতো অন্যের প্রেম, বিয়ে বাচ্চা কাচ্চা হওয়া নিয়ে আপনার এতো ইন্টারেস্ট কেন? খুব তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার ইচ্ছা নাকি আরও কিছু আছে হুমম?
চলবে
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৮ প্রথমাংশ
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৩