Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২১


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

২১
ঢাকা থেকে কিছু দূরে অবস্থায়। পুরাতন গোডাউন। সেখান থেকে গলা ফাটা চিৎকারের প্রতিধ্বনি দেয়ালে ঘেঁষে ঝংকার তুলছে সেই শব্দ। নিঃসঙ্গ মানব। চেয়ারে হাত পা বাঁধা অবস্থা ঝুঁকে আছে। চারপাশ থেকে কালো পোশাকের দৈত্য মানব গুলো ঘিরে দাঁড়ানো টানটান হয়ে। নির্দয় হাতে বেদম পিটাচ্ছে নিঃসঙ্গ মানবটিকে। শরীরের জায়গায় জায়গায় করাঘাতের চিহ্ন। খানিকটা নিস্তিয়ে গেছে বয়স্ক লোকটির শরীর। একটা সময় চিৎকার থামে। সেই সাথে থামে দৈত্য মানবের করাঘাত। গমগম পায়ে আওয়াজ তুলে গোডাউনে প্রবেশ করলো কেউ। কালো পোশাকদারী মানবের মধ্যে থেকে কেউ একজন দ্রুত হাতে একটা চেয়ার এগিয়ে দেয়। সূক্ষ্ম চোখে আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তিটিকে দেখে টানটান হয়ে বসে পড়ে সেই চেয়ারে। নিজের সূচালো দৃষ্টি মেলে পযবেক্ষণ করে চারপাশ। ব্যক্তিটি ঘাড় বাঁকা করে খানিকটা পাশে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে উঠে পাশে জন্যকে…

—” আফজাল সাহেবের খাতিরযত্নের ত্রুটি রাখিস নি তো আসিফ?

পাশ থেকে দ্রুত গলায় জবাব দেয় আসিফ….

—” না ভাই। ঠিকঠাক খাতিরযত্নই করলাম এতক্ষণ। লাগলে আরও করুম। আপনি একটু দেখে নেন।

রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় বিধস্ত আফজাল দিকে। রক্তের ছোপ ছোপ হয়ে আছে শরীরময়। ছিন্ন বিছিন্ন নাজেহাল অবস্থা। মাথা, কপাল ফেটে অঝোর রক্তপাত। গায়ে অফিসের গেটাপ। বয়স্ক শরীরটা নিস্তিয়ে আছে চেয়ারের উপর। রিদের উপস্থিতিত শরীরের কাটা দিচ্ছে আফজালের। নিজের অবস্থান বুঝতে বেগতিত হচ্ছে না তাঁর। নিজের রক্তাক্ত জখম দৃষ্টি মেলে তাকানোর চেষ্টা করে রিদের দিকে। রিদ চোখ বুলিয়ে পরখ করে নিল আফজাল সাহেবকে। খানিকটা বিরক্তি প্রকাশ করলো নিজের কন্ঠে। দৃঢ় গলায় বিরক্তি নিয়ে বললো আসিফকে…

—” তুই কি আজকাল প্রেম-টেম করছিস নাকি আসিফ?

রিদের কথায় থমথমে খেয়ে যায় আসিফ। চুরি ধরা পড়ে যাওয়ার মতো চেহারা বানিয়ে তাকায় রিদের দিকে। কাচুমাচু করে বিনয় সুরে বললো….

—” আস্তাগফিরুল্লাহ ভাই! আমি এখনো সিঙ্গেল।

রিদ বিরক্তি চোখে তাকায় আসিফের হাসফাস করা চেহারায়। বনিতা না করে একরোখা গলায় বলে উঠলো….

—” তোর কাজ-কাম আজকাল আমার পছন্দ হচ্ছে না আসিফ। মনোযোগ নাই কোনো কিছুতে তোর। কই! আফজাল সাহেবকে ভালো করে খাতিরযত্ন করবি তা না করে আমার জন্য রেখে দিলি তুই।

হাসফাস চোখে তাকায় আফজাল সাহেবের দিকে আসিফ। বিধস্ত অবস্থা তার। আর কিছুটা আঘাত করলে মৃত্যুটা নিশ্চিত। তাকে যে ছেড়ে দেওয়া হবে এমনটা নয়। মেরে ফেলা হবে নিশ্চিত। কিন্তু আফজালের সাথে শেষ কথাবার্তা আছে রিদের তাই বাঁচিয়ে রাখা এতক্ষণ পযন্ত। কিন্তু আসিফের বোধগম্য হলো না আফজালকে একেবারে মেরে ফেলার বিষয়টি। তবে কি রিদ ভাইয়ের কোনো শেষ কথা-তটা ছিল না আফজালের সাথে। আসিফ কি ভুল শুনলো তবে তখন? অপরাধীর চোখ আওড়ায় রিদের মুখশ্রীতে মিনমিন গলায় বললো…

—” সরি ভাই! ভুল হয়ে গেছে।

রিদ বিরক্তি চোখ ঘুরায় আফজালের উপর। রিদের কথায় আতংকে উঠে তিনি। গলা ফাটা চিৎকার করে উঠে। ছটফট করে বাঁচার জন্য। রিদ বিরক্তিতে তিক্ততা ঝেড়ে ধমক দিয়ে বলে উঠলো আফজালকে….

—” এই চুপ। তোর মঞ্চ পেয়েছিস যে চিৎকার করে ভাষণ দিচ্ছিস? আমাকে কি তোর জনতা মনে হয় হ্যাঁ? চুপচাপ বস।

থেমে যা চিৎকার। বন্ধ হয় ছটফট। শির দারা বয়ে যায় ভয় নামক পদার্থ। গা কেঁপে উঠে আফজালের। নিভু নিভু ভয়াৎ চোখে তাকায় রিদের মুখশ্রীতে। অন্তত নির্দয় সে মুখখানা রিদের। তিনি কাঁপা কাঁপা স্বরে অস্পষ্ট বাণীতে আওড়ালো।

—” প্লিজ মিস্টার খান আমাকে ছেড়ে দিন।

রিদ শক্ত গলায় আওড়ায়।

—” বাহ! এইতো লাইনে আসছত। দেখ! তোরে দিয়ে আমার কোনো কাম নাই। কিন্তু তুই বিগত কয়েক মাস ধরে আমার কাজের ব্যাঘাতের ঘটাচ্ছিস। ওয়ার্নিং দিছিলাম শুনলি না। উল্টো আমার নাম ভাঙ্গিয়ে নেতাগিরি করস। জনসম্মুখে প্রকাশ করস তুই ভালো মানুষ। এটাও আমার সমস্যা না। তুই ভালো সাজ বা খারাপ সাজ সেটা তোর ব্যক্তিগত ইস্যু। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তুই আমার নামের ট্যাগ ব্যবহার করে আমার পিছনে কুকীর্তি করস। নেতা হয়ে নারী পাচারের ব্যবসা করস। আবার আমার নাম রাখস শীর্ষে। তুই নাকি আমার লোক? এখন বল এটা মেনে নেওয়া যায়?

রিদের ভয়ে আষ্ট হয়ে আসে আফজাল। শুকনো ঢুক গিলে বার কয়েক। রিদ খান অন্তত ভয়ানক গ্যাংস্টার মানুষ। নির্দয় প্রকৃতির মানুষ। পছন্দের বাহিরে কিছুই করে না সে। মিথ্যা, ছলনা কোনোটিই পছন্দ নয় এই মানুষটির। কিন্তু সে দুটোই করেছে রিদ খানের সাথে। তাছাড়া উপায়ও ছিল না তার হাতে। ক্ষমতাধর মানুষ রিদ খান। তার নামের দাপটে মানুষের কাঁপা কাঁপি ঘাম ধরধর করে। দেশের বড় থেকে বড় বড় ক্ষমতাধর মানুষও রিদের খানের নামে ভয় করে। আর সে রিদ খানের এই নামটিই ব্যবহার করেছিল এতদিন। নিজের অবস্থান শক্ত করতে জোর গলায় সবাইকে বলতো সে রিদ খানের লোক। এতে করে নারী পাচারের ব্যবসাটাও সফল হয়েছে বেশ। কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিগত তিন বছর ধরে করে আসছে এই ব্যবসা। এখন ছোট বড় সবাই ভয় করে আফজাল নামে তাঁকেও। আর এই ভয়টার জন্যই গ্যাংস্টার রিদ খানের নাম ভাঙ্গানো তার মূল উদ্দেশ্য ছিল। এতে করে রিদের লোকেরা বেশ কয়েক বার ওয়ার্নিং দিয়ে ছিল তাঁকে। সাবধান করেছিল! সে শুনেনি। কারণ তার ধারণা ছিল রিদ খান সবসময় বাংলাদেশে থাকে না। যদিও আসে তাহলে সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বয়ং রিদ খান তো আর তার সম্মোহে আসবে না। তাই রিদ খানের স্বচক্ষে দেখার বিষয়টিও আসে না। বাকিটা সে মনে করেছিল রিদ খানের লোকেদের সামলে নিবে নিজের মতো করে। কিন্তু হলো তার বিপরীত। স্বয়ং রিদ খানই চলে আসলো তার সম্মুখে। তাই রিদ খানের লোকেরা তাঁকে তাঁর অফিস হতেই তুলে এনেছে এই পুরাতন গোডাউনে মধ্যে। এখন সে নিরুপায়। নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আকুল আকুতি বিলাপ করছে। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তুলছে না। আফজাল সাহেব নিভু নিভু চোখে রিদকে দেখে কথা গুলো ধাতস্থ করলো। ভয়াৎ চোখ আওড়ালো রিদের বেপরোয়া মুখে। খানিকটা ছটফট করলো নিজে নিজে হাত ছাড়ানোর। ব্যর্থ হয়ে আকুতি জড়ানো গলায় বললো রিদকে….

—” খান সাহেব ক্ষমা করুন আমাকে। আমি বুঝতে পারিনি আপনি এতটা অসন্তুষ্টি হবে আমার কাজে। যদি বুঝতাম তাহলে কক্ষনোই এমনটা করতাম না। আপনার নামের পিছনে। সরি ভুল হয়ে গেছে আমার এবারের মতো ক্ষমা করে দিন আমাকে, প্লিজ মিস্টার খান। বিশ্বাস করুন আপনার নাম নেওয়া ছাড়া আমাদের হাতেও অন্য কোনো উপায় ছিল না। এই ব্যবসায় প্রভাবশালীদের ক্ষমতা প্রয়োজন হয় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য। আমিও তাই করতে চেয়েছিলাম। সাফল্য লাভ করেছি অনেকটা। আমার নিজের জায়গায়টা শক্ত করতে আপনার নামটা জড়িয়ে ছিলাম আমাদের নারী পাচারের ব্যবসাটায়। কিন্তু আ-আমি বুঝতে পারিনি এই বিষয়টি যে আপনার এতটা অপছন্দ হবে। তাই অনুরোধ করছি আপনাকে শুধু এবারের মতো ক্ষমা করে দেন আমাকে। ওয়াদা করছি নেক্সট টাইম আর কক্ষনো এমনটা হবে না মিস্টার খান। আর না আপনার নামটা জড়াবো কোনো কিছুতে। প্লিজ শুধু আমার প্রাণের ভিক্ষা চাইছি আপনার কাছে। প্লিজ দয়া করুন।

আফজাল সাহেবের কথা গুলো পছন্দ হলো না রিদের। তাতে চরম বিরক্ত সে। এই আফজাল নামক উটকো ঝামেলাটা তার নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা করছে সেটা রিদের প্রধান সমস্যা করণও নয়। তার সমস্যা হলো আফজালের নারী দেহ নিয়ে ব্যবসা করাটা। তাও আবার তার নামে। আর এই একটি বিষয় সে আজও মেনে নিতে পারে না। নারী জাতি মায়ের জাত। সে সম্মান করে। সেই নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক ব্যবসা করাটা তার পাল্লায় পড়ে না কখনো। কোনো নারী সেচ্ছা কারও বেড পার্টনার হলে ঠিক আছে। কিন্তু জোরাজুরি? মোটেও ঠি নেই। সে দুনিয়ায় কোনো খারাপ কাজেই প্রতিবাদী নয়। কিন্তু এই একটা বিষয়ে ঘোর আপত্তি তার। পছন্দ না অপছন্দের বিষয় এটি রিদের। নারী জাতির উপর অক্ষাত শ্রদ্ধা তাঁর। মা শিখিয়েছে কখনো কোনো পরিস্থিতিতে নারী জাতিকে অসম্মান করা যাবে না। যেটা আজও পালন করে আসছে রিদ। এতটা নির্দয় হয়েও আজ পযন্ত অদ্ভুতভাবেই নারীদের অসম্মান করতে পারেনি সে। তাই সর্বদা নারী জাতিকে সম্মানের চোখে দেখে এসেছে বরাবরই। কিন্তু আফজাল? সমাজের আদর্শ নেতা হয়ে সেই সমাজে কলঙ্কিত করছে প্রতিনিয়ত। ছোট ছোট কিশোরী মেয়েদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির গেইট থেকে তুলে এনে জোরপূর্বক নারী দেহের ব্যবসা করাচ্ছে তাদের দিয়ে। টাকা ইনকাম করছে অবুঝ নাবালিকা মেয়েদের দিয়ে। ভিন্ন দেশে পাঁচার করছে এই মেয়েদের। তাই সে এই বিষয়টি নিজে দেখবে।

—” দেখ! আমি গ্যাস্টার মানুষ। দুনিয়ায় শীর্ষ খারাপ কাজ গুলা করাই আমার নীতি। আমি করিও সেটা অনাহেষে। আমার বিবেক-বুদ্ধি কিচ্ছু বাধা দেয় না। আর না আবেগীয় হয়। ছোট থেকেই পাওয়ারের প্রতি প্রচন্ড লোভ ছিল আমার। চাইতাম গোটা দুনিয়া আমার হাতের মুঠোই থাকবে। সেই লোভে একটা পর একটা পদক্ষেপ নেওয়া আমার। খুন-খারাবি হাঙ্গামা শোরগোল, গুন্ডাবাজি সবই করেছি। ধীরে ধীরে নিজের নামের ভয়ে আধিপত্য বিস্তার করেছি মানুষের মনে। পাওয়ার আসতে শুরু করলো, ক্ষমতা বাড়লো। নিজেকে দুর্দান্ত মাফিয়াতে রুপান্তর করতে পাওয়ার নিয়ে লেখতে শুরু করলাম। একটা সময় থেকে শুরু হয় মানুষের মনের মধ্যে ভয় আমাকে ঘিরে। নিম্নবর্গের থেকে উচ্চবিলাসী মানুষজন যখন আমার সামনে দাঁড়িয়ে থরথর করে কাঁপে। তখন পৈচাশিক আনন্দ পায় নিজের মনে। কিন্তু এতো কিছুর পরও আমি কোনো একটা জায়গায় এসে আটকে যায়। যেটা হলো নারী। দেখ! নারী জাতিটা আমার কিন্তু বেশ পছন্দ না। অপছন্দেরই! প্যারাময় মনে হয় আরকি। কিন্তু তাই বলে আমি কখনো সেই নারী জাতির অসম্মান করিনি। সবসময় মন থেকে একটা সম্মান আসে নারী জাতির উপর। আর সেটার কারণ হলো আমার মা। তারপর দাদী। তাঁরা আমাকে ছোট থেকেই শিক্ষা দিয়ে এসেছে যে নারীরা হলো মায়ের জাত। আর মায়ের জাতিদের অসম্মান করতে নেই। বরং সম্মান দিতে হয়। এই একটা কথায় আমি কখনো অবজ্ঞা করতে পারিনি। না চাইতেও নারীদের উপর শ্রদ্ধাবোধ চলে আসে আমার। গভীর শ্রদ্ধা যাকে বলে!। দুনিয়ায় সবচাইতে নিশংস, নিকৃষ্ট কাজ গুলোও আমি করেছি। শুধু নারী বিষয়ক কাজ গুলো ছাড়া।

এতটুকু বলে থামে রিদ। ঝুঁকে বসে আফজালের দিকে। উরুতে নিজের দু’হাতে ভর রেখে হাল্কা ঝুঁকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় আফজালের ভয়াৎ মুখশ্রীতে। পুনরায় মাত্রাতিক শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো রিদ….

–” দেখ! কোনো নারী সেচ্ছায় তোর বেড পার্টনার হলে সমস্যা নাই। কিন্তু জোরাজোরিটা পছন্দ না আমার। তুই একটা বার চিন্তা করে দেখতো? কত হাজার হাজার কিশোরী মেয়ের সাজানো গোছানো স্বপ্ন নষ্ট করেছিস তুই? কত বাবা মার বুক খালি করে তাদের মেয়েদের পতিতালয়ে পাঠিয়েছিস তুই। উফ অসয্য! এই একটা বিষয়ই সয্য হয়না আমার। গাঁ শিউরাই উঠে রাগে। তাই তোকে আগেই ওয়ার্নিং করেছিলাম। এই রাস্তা থেকে সরে যেতে, গেলি না। বরং তুই আমার লোকেদের টাকা অফার করলি। আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাস। তাই আমিও ভেবে চিন্তে দেখলাম তোর অফার আসলেই একসেপ্ট করা যায়। যায় হোক অফার একসেপ্ট করলাম তোর। আজ থেকে তোর সাথে বন্ধুত্ব করলাম। আর সেই বন্ধুত্বের দাবিতে আজ থেকে তোর সকল বিজনেস, বাড়ি, গাড়ি, টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স সব আমার নামে। দেখ! তোর সামনে কিছু দলিল পত্রের পেপার রাখা আছে। এখন তুই সেখানটায় সহজ সরল হাতে সাইন করে দিবি। এবং বাধ্য ছেলের মতো মরে যাবি আমার ছেলেদের হাতে। নয়তো বেশি করলে টর্চারও বেশি হবে তোর সাথে। রেহাই পাবিনা। তোর আঙ্গুল কেটে টিপ সই নিবে আমার ছেলেরা। এখন তুই যেটা চাইবি সেটাই করবে আমার ছেলেরা তোর সাথে। ইচ্ছা তোর। কাজটা আমার ছেলেদের। এখন ঝটপট বলে ফেল কি চাস?

এতটুকু বলে থামে রিদ। পরক্ষণে ঘাড় ঘুরিয়ে তীক্ষ্ণ কন্ঠে আসিফের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করে বললো রিদ….

—” কিরে পারবি না নেতা সাহেবের মনের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে?

দ্রুত গলায় গমগমে উত্তর বসালো আসিফ…

—” জ্বিই ভাই পারবো।

রিদের বেপরোয়া কথাবার্তা ধাতুস্থ হতেই গলা ফাটা চিৎকার করে উঠে আফজাল। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ছটফট করে বাচার জন্য। ব্যর্থ হয়ে গলা ফাটিয়ে আতৎনাত করে রিদের কাছে। ক্ষমা চাই! আহাজারি করে…

—” আমার ভুল হয়ে গেছে খান সাহেব। প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন। জানে মারবেন না।আমি বুঝতে পারিনি বিষয়টি। আমি আর এমন করবো না। সব কাজকাম ছেড়ে দিব। তবুও জানে মারবেন না আমাকে। প্রাণ ভিক্ষা চাই আমার। প্লিজ! আমাকে ছেড়ে দিন। প্লিজ!

রাগে তিরতির মেজাজে মুখ খোললো রিদ…

—” তুই কি আমার বউ লাগোস। যে বারবার অপরাধ করার পরও ক্ষমা করে দিব হ্যাঁ?

আতৎনাত করে বললো আফজাল….

—” প্লিজ খান সাহেব। আমার বউ বাচ্চা আছে বাসায়। আমার টাকা পয়সা সম্পত্তি না থাকলে তাঁরা পথে নেমে আসবে খান সাহেব। আমার পরিবার ধংস হয়ে যাবে। প্লিজ এমনটা করবেন না। প্লিজ।

—” উফ! তুইতো সাংঘাতিক প্যারাময় মানুষ রে? তোর পরিবার! পরিবার। আর অন্যের পরিবার কিছু না। নিজের পরিবারের প্রতি এতো দরদ থাকলে, অন্যের পরিবারের নিয়ে খেলা উচিত না। এই আসিফ নেতার মুখে ট্যাপ লাগাতো। এই নেতা আমাকে প্যারা দিচ্ছে।

রিদের কথায় আসিফ দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে আফজালের মুখে ট্যাপ লাগায়। থেমে নেই। মুখ বন্ধ থাকলেও শরীর ঝাপটাচ্ছে জোরতালে সে। ছটফটে ভঙ্গিতে গুঙরানোর শব্দ তুলে রিদের সামনে। রিদ দেখলো না সেসব। আয়েশি ভঙ্গিতে নিজের চেয়ারে হেলিয়ে পড়ে রিদ। দুহাত ভাঁজ করে মাথার পিছনে ঠেকায়। উপরে ছাদের দিকে তাকিয়ে অন্তত হতাশ গলায় বললো আফজালের উদ্দেশ্য রিদ…

—” জানিস? একটা বউ আমারও আছে তোর মতো করে। বাচ্চা নেই। সংসার ও নেই আমার। কারণ বাতিল বউ হয় সে আমার। সাংঘাতিক বাড়াবাড়ি রকমের মেয়েটা। তোর মতোই কথা শুনে না সে আমার। কিন্তু তারপরও শাস্তি দিতে পারিনা তোর মতো করে। আটকে যায় মেয়েটার মিষ্টি চেহারার দিকে তাকালে। আমি হলাম গ্যাংস্টার মানুষ। প্রেম-ভালোবাসা, বিয়ে কোনোটায় যায় না গ্যাংস্টার জীবনের সাথে আমার। কিন্তু মেয়েটাকে বুঝিয়ে পারিনা। আমার সবটা জুড়ে বিচরণ তাঁর। অবাধ্য মনে কারণ সে। আজকাল মনের হচ্ছে আমার গ্যাংস্টার চরিত্রে কলঙ্ক দাগ পড়ে যাচ্ছে। আমাদের গ্যাংস্টার জীবনে দূর্বলতা রাখতে নেই। তাই মেয়েটাকে এরিয়ে চলতে হবে আমার।

কথা গুলো বলেই ঠিক হয়ে বসে রিদ। আফজালের ভয়াৎ দৃষ্টিতে নিজের দৃষ্টি স্থির করে। অন্তত চিন্তত গলায় আবারও পরপর প্রশ্ন করে বলে উঠে রিদ….

—” আচ্ছা আমার কি সাংঘাতিক মেয়েটাকে এরিয়ে চলতে হবে? ইনগোর করতে হবে তাঁকে দেখা থেকে? আমার কি আবারও ফিরে যাওয়া উচিত নিজ গন্তব্যে? এই মেয়ের মায়া থেকে বাঁচতে কি আবারও ছাড়তে হবে আমাকে বাংলাদেশ?


পাকিং লড থেকে নিজের চাবি আঙ্গুলের প্যাঁচে ঘুরাতে ঘুরাতে খান বাড়িতে ফিরল আয়ন। হাতের কিছু কাজ চাপিয়ে মাত্রই ফিরল সে। কাল বাদ পরশু ফিরবে লন্ডনে। তাই বিগত দুই দিন সে খান বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত ন্যায়। সকালে মায়ার মাথায় বেন্ডেজ ঢ্রেসিং করে ফ্রেশ হয়ে তারপর বের হয়েছিল নিজের কাজের উদ্দেশ্য। সকল কাজ শেষ করতে করতে বিকাল পাঁচটা বেজে যায়। এখন পড়ন্ত বিকাল। আয়ন পাকিং লডের রাস্তা ধরে এগোই বাসার ভিতরে যাওয়া জন্য। কিছুটা পথ এগোতেই চোখে পড়লো মায়াকে। বাগানের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে ঝুঁকে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। আয়ন মায়াকে দেখে মূহুর্তেই দারুণ হাসে নিজের মাঝে। বাসার ভিতর না গিয়ে সোজা রাস্তা ধরে মায়ার উদ্দেশ্য। কিছুটা পথ এগোতেই চোখে পড়লো মায়া কাঁচা হাতে প্রজাপতি ধরার চেষ্টা করছে বাগানের মধ্যে। আয়ন নিঃশব্দে হেঁসে উঠে মায়ার বাচ্চামো দেখে। কয়েক কদম এগিয়ে যেতে আবারও বুঝতে পারে মায়া অসময়ে গোসল করেছে। আয়ন চমকে উঠে দ্রুত নিজের হাতের ঘড়িটা দেখে ন্যায়। ৫ঃ১৭ বাজে। চট করে চোখ তুলে তাকাই মায়ার পিঠদ্বয়ের দিকে। ভিজা চুলের পানি ধারা মায়ার পিঠ ভিজে, গায়ের কাপড়াটা ল্যাপ্টে আছে মায়ার কমড়ে পিঠে। আয়ন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায় সেদিকে। মায়ার শরীর অসুস্থ। এই অসময়ে গোসল করাটা মায়ার মোটেও ঠিক হয়নি। বরং ক্ষতিকর। পুনরায় অসুস্থ হয়ে পরবে। তাছাড়া কাটা আঘাতে পানির স্পর্শে তাজা হবে সেটা। আয়ন চিন্তত বংগিতে তাকায় সেদিকে। মেয়েটা পাগলামি করতে করতে নিজের ক্ষতিই করে বসলো শেষে। টেনশনে সহিত আয়ন আর কিছুই লক্ষ করতে পারলো না মেয়েটির। টেনশনের উত্তেজনায় দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো সেদিকটায়। তপ্ত মেজাজে মেয়েটির হাতের কব্জি টেনে ধরে নিজের সাথে মেশায়৷ আকস্মিক ঘটনায় মেয়েটির হুমড়ি খেয়ে পড়লো আয়নের বুকে। চোখ তুলে তাকানোর আগেই আয়ন কমড় চেপে ধরে মেয়েটির। অপদস্তক হয়ে মেয়েটি ছটফট করতেই মুখ খুললো আয়ন। শাসিত কন্ঠে বললো….

—” সবকিছুতে এতটা পাগলামো কিসের তোমার? এই অসময়ে গোসল করলে কেন? মাথার আঘাতটা পুনরায় তাজা হলো তোমার বোকামির জন্য। আমার কথ….

আয়নের বাক্য গুলো ইতি ঘটানোর আগেই ছটফট বংগিতে মুখ খুললো মেয়েটি। রাগী সুরে বললো…

—” ছাড়ুন আমাকে অসভ্য লোক।

মেয়েটির কথায় মূহুর্তে চমকে উঠে আয়ন। অপদস্তক হয়ে হাতের বাঁধন ঢিলে করতেই ছিটকে বেরিয়ে আসে জুঁই। আয়নের দিকে রাগে কটমট করে তাকায়। ফুসফুস করে নিজের রাগটা দমানোর চেষ্টা। সে কিছু বলবে তার আগেই মুখ খুললো আয়ন। ইতস্তত গলায় বললো…

—” আপনি?

ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গে জুঁইয়ের। রাগে কটমট করে বলে উঠে…

—” আপনি অসভ্যদের মতো সবসময়ই জড়াজড়ি করেন কেন?

জুঁইয়ের কথায় মূহুর্তে বিরক্তি প্রকাশ করলো আয়ন। মেয়েটি আসার পর থেকে ভুলবাল অপ্রত্যাশিত কাহিনি ঘটে যাচ্ছে তাঁর সাথে। মায়াকে ঘিরে সকল অনূভুতি প্রকাশ পাচ্ছে এই মেয়েটির উপর। এতে সে প্রচন্ড বিরক্ত। যাকে নিজের মনের সুপ্ত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাচ্ছে তাঁকে করতে পারছে না। বরং তাঁর জায়গায় এই মেয়েটির সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে কাকতালীয় ভাবে। অবশ্য এতে আয়নের দোষ নেই। সে কি ইচ্ছ করে কিছু ঘটাচ্ছে নাকি? সেটা তো অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ঘটছে। কিন্তু এই কথাটা কিভাবে বুঝাবে এই মেয়েটিকে। সেতো ভুল বুঝছে তাঁকে। আর তাছাড়া এই ঘটনা গুলোর মধ্যে একপক্ষে দেখা গেলে দোষটা তাঁর নয় বরং এই মেয়েটির সবদোষ এসবের মধ্যে। এমনিতেই সবকিছুতে মায়া মায়া ভাব এই মেয়েটির মধ্যে। তার উপর আবার মায়ার জামা কাপড় পড়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এখন সে পিছনে থেকে কিভাবে বুঝবে এটা মায়া নয় অন্য কেউ? কে বলেছে এই মেয়েটিকে মায়া জামা কাপড় পড়ে থাকতে। নিজের জামা কাপড় কি নেই তার হ্যাঁ? আয়ন চাপা রাগে হিটমিট মেজাজে চট করে বলে বসলো…

—” নিজের জামা কাপড় নেই অন্যের জামা কাপড় কেন পড়েছেন?

আয়নের হঠাৎ কটাক্ষ করা কথায় অপদস্তক হয় জুঁই। মায়াকে হসপিটালের দেখতে এসে নিজের জন্য জামা কাপড় সাথে করে আনেনি সে। উত্তেজনায় নিজের জামা কাপড় আনতে ভুলে গেছে জুঁই। তাছাড়া হসপিটালের থেকে নিজের মা বাবার সাথে ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে ফিরে যাওয়া কথা ছিল ওর। কিন্তু মায়ার জোড়াজুড়িতে থাকতে হয় ওকে। কিন্তু এখন নিজের কাপড় না থাকায় বাধ্য হয়ে মায়ার জামা কাপড় পড়ে সে। তাছাড়া দুবোন তাঁরা সবসময়ই একে অন্যের জামা কাপড় পড়ে বেড়ায়। এটা নিয়ে কখনো ঝামেলা বা বিভ্রান্ত হয়নি নিজেদের মাঝে। মায়াও নিজের বাড়িতে গেলে জামাকাপড় নিয়ে যায় না। উল্টো জুঁইয়ের কাপড়ই পড়ে থাকে সবসময়। জুইয়ের তিক্ত রাগে মেজাজে বিগড়ে। তাদের দুই বোনের মধ্যে কখনো জামাকাপড় নিয়ে সমস্যা হয়না। তাহলে এই অসভ্য লোকটার কি সমস্যা? তাকে কেন এই অসভ্য লোকটা কাপড়ের খুঁটা দিচ্ছে। ফাওল লোক একটা।

—” আপনি শুধু অসভ্য ডাক্তার নয়। অসভ্য মানুষও বটে। আমার বাস চললে আপনাকে উগান্ডার টিকেট ধরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করতাম এই মূহুর্তেই। আপনি সভ্য জাতি না। অসভ্য জাতি। তাই অসভ্য সমাজে বসবাস করা দরকার আপনার।

মূহুর্তেই রাগে নিজের দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে ন্যায় আয়ন। জীবনও কখনো তাঁকে এমন ভাবে অসভ্য বলে উপাধি দেয়নি। আর না কেউ খারাপ ব্যবহার করেছে। কিন্তু এই মেয়েটা কথায় কথায় তাকে অসভ্য বলে পরিচয় দিচ্ছে। সেকি অসভ্য?

—” আপনি নিজের সীমা অতিক্রম করছেন মিস। মায়ার বোন বলে আপনি রেখাই পাচ্ছেন এতক্ষণ যাবত। নয়তো অসভ্য বলার অভিযোগে আপনাকে বুঝাতাম। অসভ্য কাকে বলে?

—” একদম! আমিও দেখতে চাই এই অসভ্য ডাক্তার আর কতটুকু অসভ্যতামি করতে পারে।

কথা গুলো বলেই তপ্ত রাগে গমগম পায়ে হেঁটে চলে যায় জুঁই। পিছন থেকে রাগে নিজের দু’হাত মুষ্টি বদ্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে আয়ন। নেহাত মেয়েটা মায়ার বোন নয়তো এতক্ষণ অসভ্য ডাকার কারণে ভয়ংকর কাজ করে ফেলতো আয়ন। বুঝাতো সে অসভ্যের অসভ্যতামি কাকে বলে? জুঁই প্রচন্ড রাগে দপদপ করে প্রবেশ করে মায়ার রুমে। গল্পে মগ্ন ছিল ফিহার সাথে মায়া। জুঁইয়ের হঠাৎ রাগের আগমনের মনোযোগ ভস্ম হয় দু’জনের। চোখ তুলে তাকাই জুইয়ের রাগান্বিত ফেসের দিকে। মূহুর্তেই চমকে উঠে দুজন। কৌতূহল বশত কেউ কিছু বলবে তার আগেই প্রচন্ড রাগে মুখ খুললো জুঁই। নিজের রাগ দমাতে না পেরে রাগে কটমট করে চিবুতে চিবুতে বললো জুঁই…..

—” আই সয়ার রিতু। জীবন কখনো এতটা অপমানিত হয়নি কারও সামনে। এই ঢাকায় এসে অসভ্য ডাক্তারের পাল্লায় পড়ে গেলাম আমি। কথা নেই, বার্তা নেই, হুটহাট জড়াজড়ি করে সে। ইচ্ছের তো করছে অসভ্য ডাক্তারকে কাঁচা চিবিয়ে খায়। আমাকে আবার তোর জামা পড়ার দায়ে অপবাদ দিচ্ছে। উফ! এতোটা অপমান সয্য করা যায়। ছেহ।

জুইয়ের নাক মুখ ছিটকানো কথায় মূহুর্তেই তাজ্জব বনে যায় উপস্থিত দু’জন। গোল গোল চোখে তাকায় জুইয়ের রাগান্বিত চেহারার দিকে। কি নিয়ে জুই এতটা রাগান্বিত সেই বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছে না কারও। তবে এতটা বুঝতে পারছে কারও সাথে ভিষণ ঝামেলা হয়েছে জুইয়ের। কিন্তু কার সাথে? মাথা আওড়ায় ফিহা। সে কিছু বলবে তার আগেই পাশ থেকে মুখ খুললো মায়া। অবাক সুরে বললো…..

—” কি হয়েছে জুন্নু? এতটা উত্তেজিত হয়ে কাকে বকছিস? কেউ কিছু বলেছে তোকে? ঝামেলা করেছিস কারও সাথে?

—” ঝামেলা আর আমি? লাইক সিরিয়াসলি? তোর শশুর বাড়িতে যে অভস্য ডাক্তারের আমদানি রয়েছে সেটা জানিস না তুই?

মায়া মাথায় আওড়ায়। চোখ পিটপিট করে তাকায় জুঁইয়ের দিকে। বিষয়টি বুঝতে পারছে না। কাকে অসভ্য ডাক্তার বলছে? মায়ার জানা মতো এই খান বাড়ির প্রতিটা সদস্যই সভ্য জাতির মানুষ। তাহলে জুঁই অসভ্য জাতি পেল কোথাও থেকে? তবে হ্যাঁ এই খান বাড়িতে রিদ ছাড়া মায়া জানা মতো আর কেউ নেই অসভ্য জাতি। তবে কি রিদ ভাইয়া কিছু করলো জুঁইয়ের সাথে। মায়া মূহুর্তে আতংকিত দৃষ্টি ফেলে জুঁইয়ের উপর। মায়া কিছু বলবে তার আগেই ফিহা অন্তত সন্দেহ পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন করে জুইকে।

—” তুমি কার কথা বলছ জুঁই? এই বাড়িতে ডাক্তার তো আয়ন ভাইয়া ছাড়া অন্য কেউ নেই। তাহলে তোমার ঝামেলা কার সাথে হলো?

সোজাসাপ্টা উত্তর…

—” ঐ অসভ্য ডাক্তারের সাথেই হয়েছে।

উত্তেজিত গলায় সাথে সাথে বললো ফিহা….

—” মানে আয়ন ভাইয়া সাথে।

বিরক্ত নিয়ে ছোট করে সম্মতি জানিয়ে বললো জুঁই…

—” হুমমম।

মায়া পিটপিট করে সেদিকে তাকায়। জুঁই এতক্ষণ যাবত আয়ন ভাইয়াকে অসভ্য ডাক্তার বলে বকছিল বিষয়টি মোটেও বোধগম্য ছিল না ওর। কিন্তু জুঁইয়ের মুখে আয়নের নামটা শুনে অবিশ্বাস দৃষ্টিতে তাকায় মায়া। কারণ মায়ার জানা মতে আয়ন ভাইয়া হলো একজন সুশৃঙ্খল সভ্যতার দারুণ পুরুষ। আর তার সম্পর্কে জুঁইয়ের এমন বাজে মন্তব্য অবিশ্বাস মায়ার কাছে। মায়ার চিন্তা ভাবনার মাঝেই গলা ফাটিয়ে হো হো করে হেসে উঠে ফিহা। নিজের পেট ধরে বিছানায় গড়াগড়ি করে হেসে যাচ্ছে সে। ফিহা হঠাৎ এমন কান্ডে অপদস্তক হয়ে যায় মায়াও জুঁই। কয়েক সেকেন্ড নিবাক বংগিতে তাকিয়ে থাকে ফিহার মুখপানে। ফিহা হাসান্নিত্ব গলায় নিজের পেট ধরে বলে উঠলো….

—” আমার সভ্য সমাজের ভাইটাকে অসভ্য সমাজের ডাক্তার বানায় দিল জুঁই। আমার ভাই কি জানে তার যে নতুন পদবি পাইছে জুঁইরানী থেকে।

ফিহা কথায় থমথমে খেয়ে যায় জুঁই। এতক্ষণ যাবত জানতো না আয়ন ফিহার বড় ভাই হয়। কিন্তু বিষয়টি জানার পর যেন ইতস্তত বোধ করলো নিজের মাঝে। ফিহা কি ভাবছে জুঁইকে নিয়ে বিষয়টি মাথায় আসতেই চোখ ছোট ছোট করে তাকায় সেদিকে। ইশ! এই খান বাড়িতে এসে যেন শেষ রক্ষাটা আর হচ্ছে না জুইয়ের। একের পর এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পরতে হচ্ছে ওঁকে। এতো লজ্জা জনক পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তির পাবে সে। নাহ! তাঁর আর এই খান বাড়িতে থাকা চলবে না সাংঘাতিক লোকদের মাঝে। কালই চলে যাবে মায়াকে নিয়ে সে। নিজের দেশ। নিজের বাড়ি। সেখানে শান্তিটাও নিজের নিজের লাগে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply