Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

০২
আজ একমাস পূণ্য হলো মায়ার খান বাড়িতে। এই বিগত এক মাসে মায়া এই খান বাড়ির পরিবারে সদস্যের একজন হয়ে উঠেছে। যার মধ্যেমুনি মায়া। মায়াকে ঘিরেই দিন পার হচ্ছে আপাতত হেনা খান ও আরাফ খানের। এরি মধ্যে মায়াকে নিজেদের স্কুলে ও ভূর্তি করিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মায়ার পড়ালেখা নিয়ে নতুন নতুন সব পাগলামোও উদ্ভব হচ্ছে দিন বা দিন।

মায়াকে এক প্রকার বাঁধ্য করেই খান পরিবারে নিজস্ব স্কুল “বাংলা মিডিয়াম স্কুলের নাইনে ভূর্তি করিয়ে দেন আরাফ খান। খান বাড়ির থেকে পাঁচ-দশ মিনিটের রাস্তা মায়ার স্কুল হতে। স্কুলে পৌঁছে দেওয়া বিষয়টি পড়ে যথাযথ ভাবে ড্রাইবার কাঁধে। কিন্তু এতেও বাঁধ সাজলো মায়া। কিছুতেই একা যাবে না স্কুলে। তাই সাদা স্কুল ডেস পরিহিত অবস্থায় এই মূহুর্তে ঘাপটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে হেনা খানের সামনে। স্কুলের কিছুতেই যাবে না বলে নতুন আবদার জুড়ে বসে আছে। আর তার রেশ নিয়েই চোখে মুখে বিরক্তিতে ছিল কুঁচকানো। আর তার সহিত বলে উঠলো..

–” আমি আর একা একা স্কুলে যেতে পারবো না দাদী। হয় তুমি আমার সাথে স্কুলে চলো নয়তো আমিও আর যাবো না স্কুলে।

–” তুই কি বলছিস এই বয়সে তোর সাথে আমায় স্কুলে যেতে মায়া?

–” হ্যা! আমি যেতে পারলে তুমি কেন যেতে পারবে না দাদী?

–” তোর আর আমার বয়স এক হলো? যে আমি তোর সাথে গিয়ে স্কুলে বসে থাকবো? তুই কি এখনো ছোট আছিস মায়া? যে হাত ধরে ধরে স্কুলে পাঠাবো আমি?

–” আমি জানি না দাদী। আমি একা স্কুলে যেতে পারবো না ব্যস! আমার ভয় করে একা একা স্কুলে যেতে।(বিরুক্তিতে গাল ফুলিয়ে)

–” এক সাপ্তাহ ধরে স্কুলে যাচ্ছিস তারপরও তোর ভয় করে? ড্রাইবার নিয়ে যায় আবার ড্রাইবার নিয়ে আসে তাহলে তোর ভয়টা কোথায় শুনি? টপ মারছিস আমার সাথে পড়া চুরি করার জন্য হ্যাঁ?( রাগী কন্ঠে)

নাক মুখ কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে বলে উঠে..

–” আমি কিছু বললেই তোমার মনে হয় আমি পড়া চুরি করছি। এতে ঘোর অপবাদ দাও তুমি আমাকে পড়া চুরি বলে। সেটা আমার সম্মানে লাগে দাদী। ছোট বলে তুমি আমার সম্মান নিয়ে টানাটানি করছো। অপবাদ দিচ্ছো বড় বড়। এতে আমি আহতও হচ্ছি বড় বড়। তোমার এই বড় বড় ব্যাপার গুলো যদি আমি আমার ছোট ছোট মনে নিয়ে নিহত হয়। তাহলে সাংঘাতিক বড় বড় কান্ড হয়ে যাবে দাদী। এতে করে তুমি ফ্রীতে জেলে সাথে আমিও করবরে। তাতে আমি তুমি দুজনেরই লস। এতো এতো লস নিয়ে কি আর চলা যায় দাদী? বলো!

মায়ার পরপর কথায় মূহুর্তে চোখ বড় বড় কথা তাকায় হেনা খান সহ বাড়ির সকল সার্ভেন্ডরা। সামান্য পড়া বিষয়কে টেনে টুনে মায়া এতো বড় লম্বা ইতিহাস বানিয়ে ফেলবে সেটা আপাতত কেউ ভাবিনি এই মূহুর্তে। মায়া আজ মাস খানিকটা ধরেই খান বাড়িতে আছে। প্রথম প্রথম মাথা খানিকটা চুপচাপ থাকলেও দিন দিন মায়ার চঞ্চলতা প্রকাশ পাচ্ছে কথায় ও কাজে কর্মে। এতো কারও আপত্তি না থাকলেও মায়ার পড়ালেখা না করা নিয়ে ঘোর আপত্তি হেনা খানের। তিনি বিগত এক সাপ্তাহ ধরে মায়াকে নিজেদের বাংলা মিডিয়াম স্কুলের পাঠাচ্ছেন। কিন্তু আজ হুট করেই জেদ ধরে বসে যে একা যাবে না স্কুলে। এবার কেন যাবে না কারণটা মায়া সবাইকে ঠিকঠাক বলতে চাচ্ছে না এই মূহুর্তে। কিন্তু হেনা খান মায়ার কথায় খানিকটা আবাক করা সুরে বললেন..

–” আমার সামান্য পড়া চুরি বলাতে তোর সম্মানে লেগে গেলো যে তুই সোজা আমাকে জেলে আর তোকে কবরে পাঠিয়ে দিচ্ছিস মায়া?

সোজাসাপ্টা উত্তর..

–” হুমমম


একদল স্কুল ছাত্র ছাত্রী সাথে স্কুলের গেইট ধরে রাস্তার সামনে দাঁড়ায় মায়া। যে যার মতো করে স্কুল বাস অথবা নিজস্ব কার চড়ছে বাসার উদ্দেশ্য। এই মূহুর্তে মায়ার তাই করতে চাইছে কিন্তু বিপত্তি ঘটে অসময়ে স্কুল ছুটি হওয়া নিয়ে। কিছু কারণ বশত টিফিন টাইমে ছুটি হয় মায়ার। দল বেঁধে ছাত্র ছাত্রীরা স্কুল ছাড়তে ব্যস্ত। মায়া স্কুলের গেইটের সামনে দাঁড়। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নিজের সহপাঠীদের দিকে। সকলে ব্যস্ততার মাঝে দাঁড় করায় নিজেকে উদ্দেশ্য ড্রাইবারে জন্য অপেক্ষা করা। দশ মিনিট সময় নিয়ে এক এক করে সকল বাস ছুটে ছাত্র ছাত্রীদের গন্তব্যের উদ্দেশ্য। মায়া অপেক্ষা করে বিরক্তিতে হাতে থাকা ঘুড়ি দিকে তাকিয়ে সময়টা দেখে নেয়। ১ঃ৩৪ মিনিট। কাট পুড়া রোদ মাথার উপর। কপাল কুঁচকে নিজের ফেসের সামনে হাত রেখে ছায়া দিয়ে মাথার উপর সূর্যেরটা এক পলক দেখে নেয়। আশেপাশে চোখ বুলাই। চওড়া প্রশস্ত রাস্তাটিতে একে বারে নির্জন হয়ে আছে। আবাসিক এলাকায় হওয়ায় রাস্তার পাশে বিশাল বহুল বাড়ি ছাড়া কিছুই চোখে পড়ছে না মায়ার। রাস্তা ধরে মাঝে মাঝে কার আসে যাওয়া করছে এদিক সেদিক। স্কুল গেটের সামনে কয়েকটি বড় বড় দোকান ছাড়া কিছু নেই। ফুটপাত ধরে নেই কোনো ছোট ছোট দোকানপাঠ। মায়া এদিক সেদিক আবারও চোখ বুলাই নিজের গাড়ির জন্য। ড্রাইবার তিনটা দিকে মায়ার স্কুলে হাজির থাকে মায়াকে নেওয়ার জন্য। যেহেতু মায়ার স্কুল চারটায় ছুটি হয় সেই সুবাদে এক ঘন্টা আগে চলে আসে ড্রাইবার মায়ার স্কুল মাঠে। কিন্তু আজ তোহ মায়ার স্কুল আঁড়াই ঘন্টা আগে ছুটি হয়েছে তাই মায়াকে বাঁধ হয়েই এই আড়াই ঘন্টা স্কুল গেইটে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে কথাটি ভাবতেই বিরক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে মায়া। সামনের রাস্তাটি এদিক সেদিক দুই দিক থেকেই প্রায় এক হওয়ায় বুঝতে পারছে না, কোন দিকে খান বাড়ির রাস্তাটি। বিরক্তিতে আরও দশ মিনিট সময় নিয়ে দাঁড়িয়ে উল্টো পথে হাঁটা ধরে আজ একা একাই চলে যাবে খান বাড়িতে। তবুও আড়াই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা প্রশ্নই উঠে না এই কাট পুড়া রোদের মাঝে। মায়ার জানা মতো খান বাড়ির এখানেই আশেপাশে কোথাও আছে শুধু খোঁজে নিলেই হবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। উল্টো রাস্তা ধরে হাঁটছে আর চারপাশে চোখ বুলিয়ে খান বাড়ির খোঁজা চেষ্টা করছে। হাঁটতে হাঁটতে কতটা পথ অতিক্রম করেছে জানা নেই কিন্তু চারপাশে যখন সবকিছু বড্ড অচেনা ও অপরিচিত লাগছিল তখনই ছোট পা গুলো থেমে যায় মূহুর্তেই। চারপাশে সবকিছু একিই রকম এবং অপরিচিত মনে হওয়ায় বুঝতে পারে সে উল্টো পথে হেঁটে এসেছে এতটা রাস্তা। তাই সাহসীকতার সাথে আবারও পিছনে ফিরে সঠিক পথে হাঁটতে গিয়ে বুঝতে পারে মায়া শুধু বিপদে নয়! মহা বিপদে পড়েছে এই মূহুর্তে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সকল রাস্তাটায় বন্ধ ওর। এতক্ষণ নিজেকে সাহসী নারী ভাবা মেয়েটি পর মূহুর্তেই রুপান্তরিত হয় ভীতিকর নারীতে। চমকে উঠে মায়া চোখ বড় বড় করে তাকাই সামনের রাস্তা দিকে। সামনে দুটো রাস্তা মোড় দেখা যাচ্ছে। এবার মায়া কোন রাস্তা ধরে এতটা রাস্তা হেঁটে এসেছে তাই তাল পাকিয়ে ফেলেছে এই মূহুর্তে মাথায়। রাগে, দুঃখের, ভয়ে মূহুর্তে হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে কান্না করতে ইচ্ছা করতে মায়ার। এবার কি করবে সে? সেটা বুঝতে না পেরে কাদু কাদু হয়ে চারপাশে চোখ বুলাই কারও কাছ থেকে হেল্প নেওয়ার জন্য। কিন্তু আপসোস দুপুরের এই অসময়ে হওয়ায় নির্জন এলাকায় আপাতত কাউকে দেখতে পারছে না মায়া। শুধু কতগুলো গাড়ি রাস্তা ধরে সাঁই সাঁই করে চলে যাচ্ছে। উপায় না পেয়ে ভয়ে চোখ দুটো টলমল করে উঠে মায়ার। পিছন ফিরে চারপাশে তাকাই কারও কাছ থেকে হেল্প নেওয়া জন্য। কিন্তু এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি মায়া। চারপাশে কাউকে দেখতে না পেরে হতাশতায় টলমল চোখ দুটো যায় ধুর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কালো গাড়িটির উপর। কোনো দিক বিবেচনা না করে দৌড় লাগায় সেই দিকে। উদ্দেশ্য হেল্প চাওয়া খান বাড়ির অবধি পৌঁছানো জন্য। মায়া দৌড়ে কালো গাড়িটির সামনে দাঁড়াতেই চোখে পড়ে একটি ২৩-২৪ বছরের ছেলেকে। যে গাড়ির সামনের ডিস্কে উপর উঠে বসে হেলিয়ে শুইয়ে আছে গাড়িতে। নিজের কপালে একটা হাত ঠেকানো। অন্য হাতটি ছড়িয়ে রাখা গাড়ির উপর। একটি পা ঝুলন্ত অবস্থায় নিচের দিকে থাকলেও অন্য পা টি গাড়ির উপর তুলা ভাঁজ করে রাখা। ছেলেটির বেখেয়ালি ভাবটা এতটাই ছিল যে সূর্যের কাট পুড়ানো রোদটা অবধি তাঁকে বেঁধ করতে পারছে না। ফর্সা গায়ে হালকা ব্লু শার্ট জড়ানো সাদা পেন্টের সাথে। মায়া প্রাণপূণ দৌড়ে এসে দাঁড়ায় কালো গাড়িটির সামনে। হাঁটুতে দু-হাত রেখে ভর দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…

–” আমি বাসায় যাব। আমাকে নিয়ে চলুন।

আমার এমন অধিকার বোধ বাক্যে টনক নড়ে ছেলেটি। হঠাৎ কানে মেয়েলি কন্ঠে আসতেই মনোযোগ ভস্ম হয় তাঁর। আস্তে করে কপাল থেকে হাতটা সরিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো একটি স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে। হালকা কপাল কুঁচকে মেয়েটিকে এক পলক দেখে আবারও টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে আগের নেয় ছেলেটি। মায়া ছেলেটির কোনো রুপ ভাবান্তর না দেখে পুনরায় আবারও হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠে…

–” কিহল উঠুন। আপনি আবার শুয়ে পড়ছেন কেন? আমি বাসায় যাব আমাকে দিয়ে আসুন প্লিজ।

কথা গুলো বলেই সোজা হয়ে দাঁড়ায় মায়ার। ছেলেটি মায়ার পরপর অধিকার বোধের কথায় এবার খানিকটা বিরক্তি নিয়ে উঠে বসে গাড়ির উপর। পা ঝুঁলিয়ে গাড়িতে বসে বিরক্তি দৃষ্টি ফেলে মায়ার উপর। চোখ বুলাই মায়ার দিকে। মায়ার পড়নে ধবধবে সাদা স্কুল ডেস। গলায় আইডি কার্ড। মাথায় স্কুল ক্যাপ। মুখে মাক্স। পায়ে সাদা স্কুল সুজ। বামহাতে কালো ফিতার ঘুড়ি। কমড়ের নিচ অবধি চুল গুলো বেনি করে দুই সাইডে দেয়া। কাঁধে স্কুল ব্যাগ ঝুলানো। ছেলেটি মায়াকে এক পলক পযবেক্ষণ করে নিয়ে কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করে বলে উঠে..

–” ইউ থিংক আই এম এ ড্রাইবার?

ছেলেটির কথায় মূহুর্তেই মায়া নিজের মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানায়। যার অর্থ সে ছেলেটিকে এই মূহুর্তে ড্রাইবার মনে করছে না। মায়ার মাথা নাড়ানোতে আরও খানিকটা কপাল কুঁচকে আসে ছেলেটির। মায়া আসলে কি বলতে চাচ্ছে সেটা বুঝার চেষ্টা করে গাঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে সেদিকে। মায়া ছেলেটি দিকে তাকিয়ে বিনীত সুরে আস্তে করে বলে উঠে…

–” স্কুল থেকে বের হয়ে আমি বাড়ির রাস্তা ভুলে গেছি ভাইয়া! কোন দিক থেকে এসেছি সেই রাস্তাটাও ভুলে গেছি। না স্কুলে ফিরতে পারছি আর না বাড়িতে যেতে পারছি। আমি হারিয়ে গেছি ভাইয়া। বাসার কারও জানা নেই আমি হারিয়ে গেছি সেটা। প্লিজ ভাইয়া আমাকে দিয়ে আসুন না বাসায়। প্লিজ!

মায়ার কথা গুলোতে নিজের অসহায়ত্বটা প্রকাশ পাচ্ছে। ছেলেটি মায়ার কথায় যেন আরও বিরক্ত হয়। বিরক্তিতে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে দেখার চেষ্টা করে কেউ আছে কিনা মায়াকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু দুপুরের এই অসময়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে আবারও চোখ ঘুরিয়ে তাকায় মায়ার দিকে। কপাল কুঁচকে বলে উঠে…

–” বাসায় ফোন দাও ।

–” আমার ফোন নেই ভাইয়া।

মায়া কথায় ঠিকঠাক বিশ্বাস হয়নি ছেলেটির। কপাল কুঁচকে মায়াকে দেখে নিয়ে নিজের পকেট থেকে ফোনটি বের করে এগিয়ে দেয় মায়ার দিকে। মায়া খুশিতে লাফিয়ে উঠে সাথে সাথে ফোনটি হাতে নিয়ে টাইপ করে হেনা খানের নাম্বার। ডায়াল করার জন্য কিক করতেই ফোনের স্কিনে ঝলমলে নাম ভেসে ওঠে “দাদীমা” ফোনের স্কিনে সেইভ করা ঝলমলে “দাদীমা’ নামটি দেখেও ঠিকঠাক কিছু বুঝতে পারেনি বিষয়টি মায়া। কিন্তু পরপর দুই তিনবার রিং হওয়ার পরও যখন কলটি রিসিভ হয়নি হতাশতায় ব্যর্থ হয়ে ফোনটি এগিয়ে দেয় ছেলেটির দিকে। ক্ষুন্ন মনে আস্তে করে বলে উঠে…

–” দাদী ফোন রিসিভ করছে না ভাইয়া।

মায়ার এমন কথায় এবার ছেলেটি সত্যি সত্যি বেশ বিরক্তি প্রকাশ করে চোখে মুখে। এই অসময়ে হুট করে এমন ঝামেলা জড়াবে বুঝতে পারেনি ছেলেটি। এই মূহুর্তে মায়াকে ভিষণ রকমের ঝামেলা মনে হচ্ছে তাঁর। নিজের গাড়িটি অসময়ে খারাপ হয়ে যাওয়ায় এখানে থামতে হয় থাকে। ফোন করে নিজের জন্য দ্বিতীয় গাড়িকে আসতে বলা হয়েছে বেশ খানিকটা আগেই। কিন্তু সেই গাড়ি পৌঁছাতে আরও আধাঘন্টা সময় নিতে পারে। এই আধা ঘন্টা মায়াকে নিয়ে এই রাস্তা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এই বিষয়টিই যেন বিরক্তি প্রধান কারণ হয়েছে দাঁড়িয়ে ছেলেটির জন্য। তাই বিরক্তিতে লাফিয়ে নেমে দাঁড়ায় গাড়ির উপর থেকে। মায়ার সামনে দাঁড়িয়ে ফোনটি হাতে নিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে উঠে…

–” বাসা কোথায়?

–” এই এরিয়াতেই।

–” কত নাম্বার বাড়ির?

মায়া কিছু বলতে নিবে তার আগেই ফোন বেজে ওঠে ছেলেটির। মায়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে ফোনটি কানে তুলতেই গম্ভীর মুখে হয়ে বলে..

–” হুমমম বলো দাদী শুনছি!

ফোনের ওপাশের ব্যক্তিটির কথা শুনা না গেলেও পর মূহুর্তে আবারও ছেলেটি গম্ভীর বলে উঠে…

–” আমি তোমাকে কল করিনি দাদী।

–“(…)

–” হ্যাঁ আসছি আমি। অন দ্যা ওয়ে! বাই।

শটকাট কথা গুলো শেষ করেই ফোনটি পকেটে ঢুকিয়ে তাকাই মায়ার দিকে সুক্ষ দৃষ্টিতে পড়ে আবারও প্রশ্ন করে বলে উঠে…

–” কত নাম্বার?

ঝটপট উত্তরে বলে উঠে..

–” নাম্বার জানিনা। তবে খান বাড়ির যাব…

মায়ার মুখে খান বাড়ির শব্দটি শুনতেই যেন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায় ছেলেটি। মায়াকে উপর থেকে নিচ অবধি মূহুর্তেই চোখ বুলাই। কপাল কুঁচকে অবিশ্বাস কন্ঠে পুনরায় প্রশ্ন করে বলে….

–” খান বাড়ির?

ছেলেটি এমন প্রশ্নে মায়া তুমুল গতিতে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায় যার অর্থ হ্যাঁ। মায়া নিজের চোখ ঘুরিয়ে নিতেই দৃষ্টি যায় ছেলেটি বাম হাতে দিকে। হাতে উল্টো পিঠে বড় সড়ো একটা কাটা ছেঁড়া সাথে সাথে বেশ রক্ত জমাট বেঁধে আছে সেখানটায়। মায়া রক্ত দেখে মূহুর্তে ভয়ে আতংকে উঠে। ভয় ভয় নজর সেদিকে তাকিয়ে থেকে ভয়াৎ কন্ঠে আস্তে করে বললো…

–” র র রক্ত।

মায়ার কথায় মূহুর্তেই ছেলেটি চোখ যায় নিজের বাম হাতে দিকে। যথারীতি সেখানটায় রক্ত দেখে আবারও চোখ তুলে তাকায় মায়ার ভয়াৎ দৃষ্টির দিকে। কপাল কুঁচকে মায়ার দৃষ্টি অনুসরণ করে সাথে সাথে পিছন ঘুরে নিজের গাড়ি থেকে সাদা একটা রুমাল বের করে দক্ষ হাতে মুড়িয়ে বেঁধে নেয় নিজের বাম হাতে। মায়াকে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর মুখে বলে উঠে….

–” কাম উইথ মি!

মায়া দ্রুত গতিতে বলে উঠে..

–” আরে আপনার গাড়ি তো এখানে ফেলে যাচ্ছেন ভাইয়া?

–” সময় মতো গাড়ি নিজেই চলে আসবে। ইউ জাস্ট ফলো মি।( গম্ভীর মুখে)

কথাটা গুলো বলেই ছেলেটি সামনের রাস্তা ধরে এগোতেই মায়াও গুটি গুটি পায়ে গিয়ে হাজির হয় ছেলেটির পাশে। রাস্তা পাশ ধরে দু’জন একসাথে হাঁটছে চুপচাপ। ছেলেটি পকেটে দুহাত গজিয়ে দূর রাস্তা তাকিয়ে এক মনে হাঁটছে। পাশে কেউ আছে কিনা তার সেই ভাবান্তর নেই। মায়া বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে ছেলেটিকে দেখার চেষ্টা করছে। এই মূহুর্তে মায়ার কাছে এই যুবক নিদারুণ নিষ্পাপ মুখের অধিকারী মনে হচ্ছে। চোখে মুখে ক্লান্তি চাপ থাকলেও এক অন্য রকম মায়া কাজ করছে ছেলেটি মুখদ্বয়ে। সৌন্দর্যে সাথে পাল্লা দিয়ে যেন সুন্দর হওয়ার চেষ্টা তাঁর। ছেলেটির মুখে মাক্স থাকায় ঠিকঠাক চেহারা দেখতে না পারলেও এতটা বুঝতে পারছে ছেলেটি সাংঘাতিক ভয়ানক টাইপের সুন্দরের অধিকারী হবে। চোখ দুটোতে ঘায়েল করার মায়া তাঁর।

মায়া চোখ আওড়িয়ে আবারও তাকাই ছেলেটির দিকে। নিজের অবুঝতায় বলে উঠে…

–” আপনি খুব সুন্দর ভাইয়া।

মায়া অবুঝতায় ছেলেটি চোখ ঘুরিয়ে তাকায় মায়ার দিকে কপাল কুঁচকে। ভ্যাপসা গরমে ক্যাপের ভিতর দিয়েই মায়ার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম মধ্যে আঁখি চারণ করে ছেলেটি। ডাগর ডাগর চোখ দুটো কুঁচকিয়ে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে। ছেলেটি দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে সামনে দূর রাস্তায় রাখে গম্ভীর মুখে। চুপচাপ আপন মনে হেঁটে চলছে সেই সাথে মায়াও তাল মেলানোর চেষ্টা। ছেলেটিকে কথা বলতে না দেখে মায়ার ছোট মনে অপমান বোধ করে তাই সেইও চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছে। রোদের তাপের মধ্যে দশ মিনিট সময় নিয়ে দুজন হাঁটতেই অবশেষে এসে পৌঁছায় খান বাড়ির সামনে। চোখের সামনে মায়া খান বাড়ির গেইট দেখেই লাফিয়ে উঠে খুশিতে চঞ্চলতা সহিত বলে উঠে…

–” ইয়াহু! এইতো এসে পড়েছি আমারা ভাইয়া। এটাই আমার বাড়ির। আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

কথা গুলো বলেই মায়া দৌড়ে কয়েক কদম এগিয়ে যায় বাড়ির দিকে ছেলেটিকে পিছনে ফেলে। কিন্তু হঠাৎ কিছু একটা মনে করতেই আবারও দৌড়ে এসে দাঁড়ায় ছেলেটির সামনে। কৃতজ্ঞতা সহিত আবারও বলে উঠে…

–” আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনি এবার চলে যান আপনার গাড়ির কাছে। আর আপ….

মায়ার বাকি কথা গুলো না শুনেই ছেলেটি মায়ার পাশ কাটিয়ে চলে যেতে থাকে খান বাড়ির গেইটের সামনে। মায়া বোকার মতো তাকিয়ে থাকে ছেলেটি যাওয়ার দিকে। কোনো কিছু না বুঝে আবারও দৌড় লাগায় ছেলেটির উদ্দেশ্য। ছেলেটির পাশে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে বলে উঠে…

–” আপনিও কি আমার সাথে যাবেন নাকি ভাইয়া?

মায়া কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মায়ার দিকে ছেলেটি। অপরিচিত মেয়ের সম্পর্কে ঠিকঠাক জানা না থাকায়। এবার বেশ কৌতূহল নিজের মধ্যেও জম্মায়। তাই মায়ার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে কপাল কুঁচকে…

–” আর ইউ সিওর এই বাড়িটায়?

ছেলেটি অদ্ভুত কথার মানে মায়া বুঝতে না পারলেও আবারও সম্মাতি জানায় ছেলেটিকে। যার অর্থ সে এই বাড়িতেই থাকে। ছেলেটি মায়ার মাথা নাড়ানোর দেখে কালবিলম্ব না করে সাথে সাথে সামনের দিকে তাকিয়ে হেঁটে খান বাড়ির বিশাল গেইটের ধরে ভিতরে প্রবেশ করতে করতে আবারও মায়াকে প্রশ্ন করে বলে..

–” কতদিন ধরে আছো এই বাড়িতে?

সোজাসাপ্টা উত্তরে জানায়…

–” একমাস

আগের নেয় গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠে….

–” খান বাড়ির সাথে সম্পর্ক?

ছেলেটির এমন কথায় মূহুর্তে মায়া সরল মনে সোজাসাপ্টা উত্তরে গরগর করে বলে উঠে…

–” এই বাড়ির আর্দশ গুরুজন আমার দাদাশশুর। আর তাঁর ছেলে আমার শশুর! তার একমাত্র গুনধর ছেলের একমাত্র বউ হলাম আমি এই বাড়ির।

মায়ার এমন কথা মূহুর্তেই পা দুটো থেমে যায় অচেনা ছেলেটির। চমকে উঠে পাশ ফিরে মায়ার দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাস কন্ঠে বলে উঠে…

–” আমার বউ?
চলবে

দেওয়ানা_২

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply