দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৮
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
১৮
হসপিটালের বেঁটে নির্লস ভঙ্গিতে শুইয়ে আছে মায়া। তার ঠিক পাশের কেবিনে অবস্থান করছে আরাফ খান।ইমার্জেন্সি অপারেশন থ্রিয়েটারে জসিমের অবস্থান। অপারেশন চলছে বিগত ঘন্টা ধরে। ক্ষতবিক্ষত অবস্থা তাঁর। মায়াকে বাঁচাতে গিয়ে জোরালো ভাবে মাথায় আঘাত পেয়েছে সন্ত্রাসীদের হাতে। প্রচুর রক্ত ক্ষয় হয়েছে। আসিফ সেখান থেকে উদ্ধার করেছে আরাফ খান ও জসিমকে। সোজা হসপিটালের এডমিট করিয়েছে। আরাফ খানের উপরও হামলা হয়েছিল। সেখান থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তুলে এনেছে আসিফ। স্যালাইন চলছে তাঁর হাতেও। অবস্থা খানিকটা এখন ভালো। সুস্থ তিনি। হুস ফিরেছে আরও ঘন্টা তিনেক আগেই। উপস্থিত নিজের পরিবারের সাথে কথা বলছে হাসি মুখে। মাথায় আর বাহুতে ব্যান্ডেজ করা। হেনা খান কেঁদে কেটে বুক ভাসাচ্ছেন। খান পরিবারের প্রতিটা সদস্যের জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে তাদের হামলার কথাটা। বিকাল থেকে খান পরিবারের প্রতিটা সদস্যই হসপিটালের ভিড় জমিয়ে ছিল। উপস্থিতত ছিল হেনা খানের দুই কন্যা, শাহেবা ও মেহেরবান। তাদের স্বামীও সন্তানরা এতক্ষণ যাবত হসপিটালেরই ছিল। লন্ডন ফোন করে আয়নকেও জানানো হয়েছে তাদের পরিস্থিতি কথা। উত্তেজনায় পাগল পাগল হয়ে ফিরে আসছে বাংলাদেশে সে। ইমারর্জেন্সি টিকেট নিয়েছে বাংলাদেশের। সকাল হতে হতে সেও পৌঁছে যাবে হসপিটালের। মায়ার পরিবার ও বাদ যায়নি। তাদের ও জানানো হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। মেয়ের অবস্থা শুনে কান্নায় জর্জরিত হয়ে তারাও রওয়ানা হয়েছে প্রায় সাথে সাথেই। ঢাকা পৌঁছাতে আরও ঘন্টা খানিক লাগবে। রাত একটা। কিছুক্ষণ আগে আরাফ খান জোর পূর্বক সবাইকে বাসায় পাঠিয়েছে হসপিটাল থেকে। বলেছে রাতটা না থেকে সকালে আবার সবাই আসতে। শুধু হেনা খান যায়নি স্বামী আর সোনামাকে রেখে। দু’জনই উনার কলিজার মানুষ। তাদের বিধস্ত অবস্থা দেখে অনবরত কেঁদেই চলছে। আরাফ খান নিষেধাজ্ঞা করেও কোনো কাজ হচ্ছে না তার। একবার মায়ার কেবিনে যাচ্ছে তো একবার আরাফ খানের পাশে থাকছে। হেনা খানের সাথে হসপিটালের আসিফও রয়েছে। রিদ ছিল ঘন্টা খানিক সময়। নিজের পরিবারকে হসপিটালের ভিড় জমাতে দেখে আসিফকে পাহারায় রেখে সে নিরবে চলে গেছে। কারণ অতিরিক্ত ইমোশনাল সিন কোনো কালেই পছন্দ না তাঁর। আর এই মূহুর্তে সেই কাজটায় করবে নিজের পরিবার। তাই নিরব বংগিতে প্রস্হান করে হসপিটাল থেকে।
মায়া জ্ঞান ফিরেনি। মাথায় ছোটখাটো ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। পরিস্থিতি চাপে পড়ে গেছে অনেকটা। বিগত দশ ঘন্টা যাবত বেহুশ। প্রথমে বেহুশ থাকলেও পড়ে ডাক্তার ফুল পাওয়ারের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পারিয়ে রেখেছে মায়াকে। ট্রমা থেকে বের হওয়ার জন্য মস্তিষ্ক ঠান্ডা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছে ডাক্তাররা। সেই থেকেই ঘুম। বামহাতে ক্যানুলা লাগানো। স্যালাইন চলছে ধীরে গতিতে। রিদ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কেবিনে ঢোকে। প্রথমেই দৃষ্টি পড়ে মায়ার শুকিয়ে যাওয়া মুখটি দিকে। এক পলক সেদিকে তাকিয়ে থেকে কপাল কুঁচকে তাকায় পাশে উপস্থিত ঘুমন্ত নার্সটির দিকে। মায়া পাশে চেয়ারে বসে দিব্যি ঘুমাচ্ছে সে। রিদ বিরক্তি চোখে নিজের হাত ঘড়িটা দেখে ন্যায়। একটা ১ঃ১৩ মিনিট। চোখ আওড়িয়ে আবারও তাকায় মায়ার দিকে। মেয়েটা এতো ঘুমাচ্ছে কেন? এতক্ষণে উঠে যাওয়া কথা। নাকি ইচ্ছা করেই এই নারী ঘুমাচ্ছে এখনো। এই নারীর বিশ্বাস নেই। তাঁকে জ্বালানোর জন্য সবকিছু করতে পারে এই অবাধ্য নারী। কথা গুলো মনে মনে আওড়িয়ে বিরক্তি নিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় মায়ার বেডের পাশে। মায়াকে এক পলক পরখ করে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বয়স্ক নার্সটির। গলা খাকিয়ে বিরক্তি স্বরে ডেকে উঠে নার্সিকে। রিদের প্রথম ডাক না শুনাতে বিরক্ত হয় সে। বিরক্তি নিয়ে তিক্ত মেজাজে হাত বাড়িয়ে আস্তে করে পাশের ফ্লাওয়ার ভাজটি ফেলে দেয় ফ্লোরে। উচ্চ শব্দে ঘুম থেকে ধুর ফুরিয়ে উঠে নার্সটি। শব্দের উৎসে ফ্লাওয়ার ভাজটিকে ফ্লোরে পরে থাকতে দেখে থমথম দৃষ্টিতে থাকালো রিদের দিকে। রিদের নির্ভীক মনোভাব। বিরক্তিতে খানিকটা কপাল কুঁচকানো। বয়স্কর নার্সটি কিছু বলবে তাঁর আগে মুখ খুললো রিদ।
—” আপনার কাজ শেষ। বাহিরে যান আপনি।
রিদের কথায় থমথমে খেয়ে যায় তিনি। চোখ বুলাই মায়ার ঘুমন্ত চেহারার দিকে। মায়ার ভাবাবেগ উন্নতি না দেখে অপরাধীর কন্ঠে বললো নার্সটি।
—” পেশেন্টের তো এখনো জ্ঞান ফিরেনি। পেশেন্টের জ্ঞান না ফিরা পযন্ত আমার এখানে থাকতে হবে স্যার ডক্টরের আর্দেশ। তাই আমা…
বয়স্ক নার্সিটিকে থামিয়ে দিয়ে তিক্ত মেজাজে বললো রিদ….
—” জ্ঞান দেন আমাকে? বলছি জ্ঞান দিতে? ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কিসের পাহারা দেন আপনি? যান এখান থেকে। আপনার পেশেন্ট আমার কাছে থাক। যান আপনি।
—” সরি স্যার ভুল হয়ে গেছে। আসলে চোখ লেগে গেছিল। আর এমন হবে না। আমি এখানে থাকি স্যার। পেশেন্টের সমস্যা হলে নার্সের প্রয়োজন পরবে উনার পাশে।
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে রিদের। সাংঘাতিক বিরক্তিকর মনে হচ্ছে এই মহিলাকে তাঁর। এতটা ধৈর্য সে কোনো কিছুতেই ধরতে পারে না। তাই দাঁতে দাঁত পিষে বললো।
—” সমস্যা আপনার পেশেন্টের না আমার। আমি আপনার পেশেন্টকে কাঁচা চিবিয়ে খাবো তাই টেস্ট অনুযায়ী আমার লবণ মরিচ লাগবে। এজন্য কথা না বাড়িয়ে যান সেটা গিয়ে নিয়ে আসুন। কুইক!
রিদের কথার ধার্চে অবাক হয়না বয়স্ক নার্সটি। কারণ তিনি জানেন রিদ খানকে। তার সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত। তারপর ও তিনি রিদের সুমর্জি চেয়ে কিছু বলবেন তাঁর আগেই হুংকার ছেড়ে ফের উনাকে চলে যেতে বলেন রিদ। অন্যত্রায় উপায় না পেয়ে পা গুটিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায় তিনি। নার্সটি যেতেই বিরক্তি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্থির হয় মায়ার ঘুমন্ত চেহারার দিকে। খানিকটা সময় কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে ঝুকে আসে মায়ার দিকে। মায়ার বেডের দুই পাশে দুহাত রাখে। নিজের দুহাতের মধ্যস্থ করে মায়াকে। গভীর দৃষ্টিতে চোখ বুলাই মায়ার শুকনো মায়াবী চেহারার দিকে। রিদ নির্ভীক ভাবে ফের কপাল কুঁচকানো। মায়ার উপর আছড়ে পরল তার উষ্ণ গরম নিশ্বাস। খানিকটা সময় যেতেই হালকা নড়ে উঠল মায়া। হয়তো জ্ঞান ফিরছে। হলো তাই! অল্প সময়ের ব্যবধানে পিটপিট করে ধীরস্থে তাকাল মায়া। চোখ মেলে তাকাতেই প্রথমে দৃষ্টি গোচর হয় রিদের কুঁচকানো তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মাঝে। নিজের মুখ বরাবর ঝুঁকে আছে রিদ। মায়ার দৃষ্টি সেদিকে স্থির হয়। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রিদের মুখশ্রীতে। গভীর ঘুম থেকে উঠায় বুঝতে পারছে না নিজের অবস্থানের কথা মায়া। এক মূহুর্তে জন্য কিছুই মনে করতে পারছে না সে। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে রিদের দিকে তাকিয়ে থাকতেই একে একে মনে পড়লো সবকিছু। সাথে সাথেই আতংকিত হয়ে যায় রিদের চেহারা দেখে। উত্তেজনায় নিজের চোখ মুখ হিচকে বন্ধ করে ন্যায় সাথে সাথে। নিজের দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে বেডের চাদর খামচি ধরে শক্ত করে। তৎক্ষনাৎ রক্ত উঠলো স্যালাইনের পাইবে বেয়ে। দুপুরে রিদের সেই হিংস্র চেহারাটা ঝলঝল করে ভেসে ওঠে মায়ার সামনে। দক্ষ হাতে মানুষ মারার দৃশ্যটা আঘাত আনলো মস্তিষ্কে ফের। রিদ সেদিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে চোখ বুলাই মায়ার বামহাতে রক্ত উঠা ক্যানুলার দিকে। পাইব বেয়ে রক্ত স্যালাইনে উঠতে দেখে দৃষ্টি ঘুরার মায়ার ভয়াৎ মুখের দিকে। রিদ নির্ভীক। মাত্রাতিক স্বাভাবিক তার ভঙ্গি। মায়ার ভয়টা সে বুঝতে পারছে। ভয় পাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু তারপর সেটা পছন্দ হচ্ছে না রিদের। তাঁর মতো গ্যাংস্টাকে ডেঙ্গাতে ভয় লাগে না। অথচ সামান্য লাশ দেখে বেহুশ দশ ঘন্টা। বিষয়টি আসলেই বিরক্তিকর রিদের কাছে। গম্ভীর তপ্ত শ্বাস ফেলল মায়ার মুখের উপর। সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠে মায়া। মায়াকে কাঁপতে দেখে বাঁকা হাসল রিদ। আলতো হাতে মায়ার কাঁধের সরে যাওয়া কাপড়টা টেনে উঠিয়ে দিল উপরে। ঢেকে দেয় নিচের অবশিষ্ট বেড়িয়ে আসা অন্তবাসের ফিতার এক টুকরো কাপড়টি। রিদের হালকা হাতের ছুঁয়াই আবারও মায়া কেঁপে উঠতেই আরও খানিকটা মায়ার দিকে ঝুঁকে পরে রিদ। মায়ার কানে কাছে মুখ গুঁজে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে…
—” নাইস কালার।
রিদের নেশালো কন্ঠ মায়ার কর্ণকহর হতেই ঠোঁট কামড়িয়ে কান্না আটকায় মায়া। রিদের কথার মানে বোধগম্য হলো না তার। তাই আরও খানিকটা চোখ মুখ কুচকে ফেলল ভয়ে। রিদ মায়ার কান থেকে মুখ উঠায়। বরাবর হয় মায়ার চেহারার দিকে। নিজের ডানহাতটা আলতো ছুঁয়ায় মায়ার বামহাতের উপর। মুষ্টি বদ্ধ করা মায়া হাতটা ছাড়িয়ে দিতে চাই রক্ত উঠা থেকে। কিন্তু মায়ার হেলদোল নেই। রিদ বাধ্য হয়ে মায়ার হাতের ক্যানুলা হতে একটানে স্যালাইনের সুইটি খোলে ফেলে। বন্ধ করে মায়ার হাতের রক্ত উঠা থেকে। মায়ার বন্ধ চোখের পাতা অনবরত কাঁপছে ভয়ে। রিদ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাড়ায়। মায়া ভয়ে কারণ বুঝতে পেরে পিছিয়ে যেতে থাকে নিঃশব্দে। পিছিয়ে যাওয়া পা থামে দরজার সামনে। দৃষ্টি স্থির মায়ার দিকে। মায়া রিদের উপস্থিতিটা নিজের কাছে না পেয়ে সন্দেহ বশে ধীরস্থে চোখ খোলে তাকায় সামনে। চোখে সামনে কাউকে দেখতে না পেয়ে তৎক্ষনাৎ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পাশে তাকাতেই চোখে পড়লো রিদের নির্ভীক ভঙ্গির উপস্থিত। চোখাচোখি হয় দু’জনের। মায়া ভয়ে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিতেই কানে আসলো রিদের বেপরোয়া কন্ঠ….
—” ম্যাডাম ভয় পাচ্ছেন? সবে তো শুরু। চিন্তা করবেনা ম্যাডাম আমি আছি তো আপনাকে ভয় দেখানো জন্য। রোজ রোজ দেখা হবে আমাদের। বারবার দেখা হবে। কারণ অকারণে দেখা হবে। আপনি প্রস্তুত থাকিয়েন। আমি প্রস্তুতি দিয়ে এসেছি। লাইফে সেচ্ছায় আনতে চাই নাই আপনাকে। জোর করে আসছেন আপনি। তাই ওয়েল কাম টু মাই বেপরোয়া লাইফ।
মায়া চমকে উঠে মূহুর্তে মুখ ফিরিয়ে তাকায় রিদের দিকে। রিদ বেপরোয়া হয়ে দুহাত ছড়িয়ে দেয় মায়ার সামনে। অ্যাটিটিউডের সহিত পুনরায় বলে উঠলো…
—” ওয়ালকাম টু মাই গ্যাংস্টার লাইফ ম্যাডাম। গ্যাংস্টারের সাথে পাল্লা পরেছে আপনার। এবার থেকে রোজ আপনার সৎসাহস প্রয়োজন পড়বে ম্যাডাম। হসপিটাল থেকে সুস্থ হয়ে নয় বরং সাহস নিয়ে বাসায় যাইয়েন কিন্তু। আজকাল শুধু আপনার সাহসটায় প্রয়োজন হবে ম্যাডাম। কারণ আমি আছি তো আপনাকে ভয় দেখানোর জন্য। আপনাকে মারার প্ল্যানিং করে এসেছি এবার। পারলে নিজেকে বাঁচায়েন আমার থেকে। আমি এখানে। আপনিও এখানেই।
কথা গুলো শেষ করে প্রস্হান করে সে। যে ধাপে এসেছিল সেই ধাপে বেড়িয়ে গেলো সে। মধ্য থেকে রিদের বেপরোয়া কথায় শরীর অনবরত কেঁপে উঠে মায়া। রিদের এতটা কাছে আসা আজই প্রথম। তার উপর আবার রিদ মায়াকে মারতে চাই। তাই মায়ার চিন্তা রিদ ভয়ানক গুন্ডা মানুষ। অকারণে মানুষ মারে অনবরত। রিদ ভাইয়া খুনি, বাজে সন্ত্রাসী মানুষ। সে দেখেছে তার রিদ ভাইয়াকে মানুষ খুন করতে। যারা মানুষ খুন করে তাঁরা ভালো হয়না কখনো। রিদ ভাইয়াও ভালো না। দুনিয়ায় সবচাইতে নিষ্ঠুর খারাপ মানুষ তার রিদ ভাইয়া। মায়ার কান্না গুলো দলা পাকিয়ে আসে গলায়। নিজেকে বাঁচাতে চাই তার সন্ত্রাসী রিদ ভাইয়া থেকে। কে বাঁচাবে তাকে এই মানুষ থেকে? মায়ার কি বাঁচার কোনো উপায় নেই?
উত্তেজনার টানটান হয়ে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ায়ে হসপিটালের প্রবেশ করে আয়ন। সারারাতের অঘুম আর জার্নিতে ক্লান্তিটা স্পষ্ট মায়াবী চেহারায়। ইয়ারফট থেকে সোজা হসপিটালের এসেছে সে। খানিকটা বিধস্ত চেহারায় হসপিটালের করিডোর ধরে দৌড়ায়। উদ্দেশ্য নিজের নানাভাই ও মায়াকে দেখা। হামলার খবর পাওয়ার পর থেকে ছটফট করছে সে। ভিতরটা খাঁ খাঁ করছে মায়াকে এক পলক দেখার। হসপিটালের ফাস্ট ফ্লোর থেকে সেকেন্ড ফ্লোরে উঠে। করিডোর ধরে কিছুটা পথ দৌড়াতেই চোখে পড়লো করিডোরের রেলিং ধরে নিচের দিকে হেলিয়ে পরা মায়াকে। লম্বা চুলের বেনি করে পিঠের উপর ছাড়া। সামনের দিকে ঝুকে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে সে। গায়ে সাদামাটা গ্লাউন জড়ানো। মায়া সামনের দিকে ঝুকে থাকায় চেহারাটা স্পষ্ট নয়। পিঠ দৃশ্যমান আয়নের সম্মোহে। থেমে যায় আয়নের পা। শীতল হয় আয়নের প্রশস্ত বুকখানা। মায়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দৌড়ে যায় সেদিকে। আকস্মিক ভাবে মায়ার বাহু টেনে চেপে ধরে নিজের প্রশস্ত বুকের মাঝে। দুহাতে ঝাপটে ধরে মায়ার পিঠ। আকস্মিক ঘটনায় ভয়ে চমকে উঠে মেয়েটি। শক্তপোক্ত হাতের পিষিতে পরে দম বন্ধ হয়ে আসছে তার। মূহুর্তে ছটফট করে উঠে আটকে থাকা বাহু বন্ধন থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। কিন্তু আয়ন অনড়। কিছুতেই ছাড়তে নারাজ মায়াকে। নিজের উত্তেজনার বুকটি শীতল করতে চাই মায়াকে বুকে নিয়ে। মেয়েটির ছটফট ও আয়নের বোধগম্য হচ্ছে না। একপর্যায়ে মেয়েটি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে করতে ভয়াৎ কন্ঠে বললো….
—” ছাড়ুন।
আয়ন শুনতে নারাজ। তাই নিজের বাক্যে অধৈর্য গালয় বললো সে….
—” তোমাকে নিয়ে প্রচুর ভয় পেয়ে গেছিলাম আমি। মনে হচ্ছিল এই বুঝিয়ে হারিয়ে ফেলবো তোমায়। আল্লাহ বাঁচিয়েছে তোমায়। প্লিজ কিছুটা সময় থাকু আমার এই অশান্ত বুকে। বড্ড ছটফট করছে তুমিহীন বুকটা। প্লিজ দুটো মিনিট চাই আমার।
আয়নের কথায় দ্বিগুণ ছটফট করে উঠে মেয়েটি। উত্তেজনায় নিজের ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো…
—” প্লিজ ছাড়ুন আমাকে। কে আপনি?
চলিত……
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ১ গল্পের লিংক