দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১০
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
১০_প্রথমাংশ
থামে সোহাগ। অসম্ভব লাল এক জোড়া চোখকে নিজের উপর তাক করতে দেখে আবারও থেমে যায় সে। ভয়ে শুকনো ঢুক গিলে। রিদ সম্পর্কে অবগত। কিন্তু হুট করে মায়াকে এতটা আঘাত করার কথাটা বুঝতে পারছে না সোহাগ। সবিই ঠিকঠাক ছিল। সেতো মায়ার সাথে কথা জাস্ট মজা করতে এসছিল। তার মধ্যে দিয়েই রিদের অপ্রত্যাশিত আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মায়ার উপর। কিন্তু কেন? এতটা অধিকার বোধ কিসের? আর কিসের বা ডির্বোস দুজনের মধ্যে? তাহলে কি মায়া রিদ ভাইয়ের বউ? নিজের বউকে সামান্য ছুঁয়াই এতটা ডেস্পারেট? সামান্য জন্য? নাকি আরও কিছু আছে রিদ ভাইয়ার মনে মায়াকে নিয়ে?
–” আই ওয়ান্ট টু ডিভোর্স হার।
রিদের বলা এক বাক্যে কথায় মূহুর্তে উত্তেজনা পরিবেশটা নিমিষেই স্তব্ধ নিবাক হয়ে যায়। মায়াকে নিয়ে টানপোরা উত্তেজনা এবার চমকে উঠে রিদের
বিষাক্ত বলিতে। প্রত্যেকে থমকে যাওয়া দৃষ্টি ভর করে রিদের উপর। নির্বাক, নিশ্চল হয়ে তাকিয়ে থাকে রিদের মুখশ্রীতে। বুক কাঁপে হৃৎযন্ত্র হয়ে। হেনা মায়াকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে নিজের সাথে। চোখ মুখে ভয় ভাবটা স্পষ্ট জানান দিচ্ছে তিনি এই মূহুর্তে কতটা আতংকিত রিদ কথায়। অশ্রু ভিজা ভয়াৎ টলমলে চোখে রিদের দিকে তাকায়। রিদ আগের থেকেই জানতো মায়া রিদের বউ? কবে থেকে জানতো এই সত্যিটা? সবটা জেনেই কি রিদ মায়াকে আঘাত করেছে প্রতিশোধে নেশায়? কি চলছে রিদের মাথায়? ভয়ানক কিছু করবে নাতো মায়ার সাথে? রিদের সত্যিটা জানায় বাঁচাতে পারবে তোহ রিদ থেকে মায়াকে? নাকি কোনো অঘটন…? তিনি থমকায়। পিছন থেকে আরাফ খান ভারি গম্ভীর কণ্ঠে রিদকে উদ্দেশ্য করে বললো….
–” তুই কি সবটা জেনেই মায়াকে আঘাত করেছিস রিদ?
স্বামী কথা আবারও চমকায় হেনা খান। হতভম্ব হয়ে বললো….
–” মানে! তুই জানতি রিদ মায়া তোর বউ সেটা? কিন্তু কবে থেকে?
আরাফ খান ও হেনা খানের পরপর কথায় মূহুর্তে কপাল কুঁচকে আসে সোহাগের। সে প্রথম থেকে রিদের কথায় আশ্চর্য। নতুন করে নিজের নানা-নানুর কথায় এবার গাঢ় সন্দেহ পূর্ণতা সৃষ্টি হয় নিজের মাঝে। তাই সেই সন্দেহ পূর্ণতা নিয়েই বলে উঠলো…
–” সামহাউ দ্যা আর হাজবেন্ড ওয়াইফ নানুমা? তাহলে কি সত্যিই রিদ ভাইয়ার বউ মায়া?
থমথমে পরিবেশে সোহাগে প্রশ্নটি অতি নিচ্ছক মনে হয় শাহেবার। পরিস্থিতি উত্তেজনা বুঝে পিছ থেকে শক্ত গালয় ধমক স্বরে বললো…
–” সোহাগ কিপ কোয়াইট। পরিস্থিতি বুঝতে শেখো আগে। বড়রা আছে কথা বলার জন্য। তুমি যাও এখান থেকে। দ্রুত মেয়েটা জন্য ডক্টরের ব্যবস্হা করো আগে।
বাক কয়েক মায়ার মুখে দিকে নিরব দৃষ্টি ফেলে বাধ্য ছেলে মতো উঠে চলে যায় সোহাগ। পরিস্থিতি এখানো টানপোড়া কমেনি। সবকিছু এখনো ধোঁয়াসা। রিদ কারও কথা উত্তর দিচ্ছে না। চোখ মুখ শক্ত করে রাগে আগে ন্যায় টায় দাঁড়িয়ে আছে জায়গায়। ভাব মূর্তির পরিবর্তন ঘটলো না। আর না বলির পরিবর্তন ঘটেছে। কয়েক জোড়া দৃষ্টিতে আবদ্ধ সে। প্রত্যেকের দৃষ্টিতে একরাশ কাতর ভাব। প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার উচ্ছ্বক। আরাফ খান রিদের পরিবর্তন না দেখে আবারও গম্ভীর মুখে বললো….
–” আমরা কিছু প্রশ্ন করেছি রিদ? আশা করি উত্তরটাও ঠিকঠাক পাবো আমরা।
আরাফ খানের কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সেদিকে। রিদের রাগে জ্বলসা চোখ দুটোতে আবদ্ধ হয় আরাফ খান। সে কারও কোনো কথা উত্তর না দিয়ে নিজ বাক্য বললো…
–” প্রশ্নের প্রতিউত্তুরে প্রশ্ন করাটা অক্ষতদের কাজ। তুমি অক্ষত নয়। তাই বিচক্ষণতা কাজে লাগাও দাদাভাই। এখানে ফ্যাক্ট না আমি কিভাবে মেয়েটার সম্পর্কে জানি? কবে থেকে জানি? কতটা জানি? ফ্যাক্ট হচ্ছে মেয়েটা এখনো বেঁচে আছে? আমার সত্যিটা জানার পরও। কেন বেঁচে আছে? আর কতদিন বেঁচে থাকবে? সেই কারণটা গুলো আপাতত বলতে বাঁধ্য নয়। আমার ডির্ভোস চাই। তাও আজকে মধ্যে।
রিদের কথায় হেনা খান কাতর কন্ঠে বললো…
–” তুই এতটা হার্টলেস কিভাবে হতে পারিস রিদ? সামান্য দয়া -মায়া লাগে না মেয়েটার প্রতি তোর।
তিরতির মেজাজে বললো…
–” নাহ! লাগে না।
আরাফ খান পরিষ্কার গলায় বললো…
–” তাহলে কি চাইছিস তুই??
রিদের বিরক্তি বাড়ে। রাগে রি রি করা শরীরটা যেন এবার আকাশ চুম্বক হয় রাগে। সহজ ভাষা গুলো সহজেই বুঝতে না পারায় তিরতির করে উঠে গা রাগে। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে তাকায় আরাফ খানের দিকে। কিছু একটা ভাবতেই বাঁকা হেঁসে সহজ বংগিতে দাঁড়ায় আরাফ খানের সামনে। নিজের পকেটে দুহাত গজিয়ে বেপরোয়া আচরণে শান্ত গলায় বললো…
–” তেমন কিছুই নাহ। আপাতত এক কন্টিন এসিডের সাথে তোমার সোনামার সহযাত্রা করাতে চাইছি। সুন্দর ভাষায় বলতে গেলে তোমার সোনামাকে এসিড ছিটিয়ে আগুন ধরাতে চাই। কি করতে দিবে?
রিদের বুক কাঁপানো, গা হিম ধরা কথায় গায়ে কাটা দিয়ে উঠে সবার। হেনা ভয়ে আতংকে উঠে চিৎকার করে বললো…
–” রিদ?
রিদ চোখ ঘুরিয়ে তাকায় হেনা খানের দিকে। কপাল কুঁচকে সেদিকে এক পলক তাকিয়ে থেকে আবারও তাকায় আরাফ খানের চোখ বরাবর। ভ্রঁ নাচিয়ে বললো…
–” কি করতে দিবে দাদাভাই? বললে নাতো?
শক্ত গলায় বলে উঠলো আরাফ খান….
–” রিদ! বেশি বেশি করছিস তুই এবার।
আগের ন্যায় ভ্রুঁ কুচকে বললো…
–” কোনটা বেশি বেশি হচ্ছে শুনি। আমাকে না জানিয়ে আমার মতের বিরুদ্ধে এই মেয়েকে আমার সামনে হাজির করেছো তোমার? অথচ আমাকে বলছো আমি বেশি বেশি করছি? আর এখন আমার থেকে আশা করছো আমি এই মেয়েকে নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে ধৈ ধৈ করে সংসার করতে। ইন্টারেস্টিং পার্টতো! আচ্ছা? তোমাদের কি অজানা ছিল কিছু? যে এই মেয়েটা আমার বউ আর এই সত্যিটা জানার পর আমি তাঁকে মেরে ফেলবো না এমন কিছু? বরং আমি তো তোমাদের স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলাম এই মেয়েটাকে জীবনের কখনো আমার সামনে দ্বিতীয়বার হাজির না করতে। তারপরও করেছ। কথা শুননি আমার। এখন আমার রিয়েক্ট করাটা তোমাদের আপত্তি। কিন্তু কেন? যা করার সবটা জেনে বুঝেই তো করেছো তোমরা। তাহলে এখন এতটা হাইপার হচ্ছো কেন? হুমম?
বিচলিত বংগিতে আরাফ খান বলে উঠলো…
–” রিদ অতীতে যেটা হয়েছে সেটার জন্য এক তরফা মায়াকে দ্বায়ী করাটা দোষী নয় পাপ হবে আমাদের। জেনে-বুঝে সেই পাপটা করি কিভাবে বল? তাছাড়া আমাদের স্বাথরের জন্য আমরা মায়াকে আমাদের কাছে রেখেছি। এখানে মায়ার দোষটা কোথায়? ওহ তোহ ঠিকঠাক মনেই নেই ওর কখনো বিয়ে হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে?
–” টু গুড? দোষটা আপাতত খন্ডাচ্ছিনা আর পাপটা দেখতে চাচ্ছি না। এই মেয়েকে তোমাদের স্বাথের জন্য একদিন রাখবে নাকি সারাজীবন রাখবে তোমাদের কাছে সেটা তোমাদের ব্যক্তিগত ইস্যু। আমাদের দেখার প্রয়োজন নেই। যেটা আমার প্রয়োজন সেটা হলো ডির্ভোসটা।
শান্ত বংগিতে রিদকে বুঝার চেষ্টা করে কোমল স্বরে বললো….
–” রিদ প্লিজ! তাড়াহুড়ো কিছু করা ঠিক হবে না। আগে মায়া সুস্থ হোক। তারপর নাহয়…? তাছাড়া মায়া এখনো ছোট। ওর প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া অবধি তোদের ডির্ভোস গ্র্যান্ডেড হবে না। ওর আঠারো হোক তারপর নাহয়…?
হালকা বিরক্তি ঝেড়ে। কপাল কুঁচকে বললো রিদ…
–” লেইম এক্সকিউজ! ডির্ভোস এর দরকার পড়বে না দাদাভাই। আমাদের দুজনের বিয়েটা অযাচিত চাইল্ড ম্যারেজ হয়েছিল। সেহেতু সেটা কোর্টে নোটিশ দিলে, পেপার বানিয়ে আমাদের বিয়েটা বাতিল ঘোষণা করা হবে। দুই পক্ষের দুটো সিগনেচার মাত্র ব্যাস। কোর্ট থেকে আমার বিয়েটা ডাইরেক্ট বাতিল হয়ে যাবে। সেখানে ডির্ভোস এর প্রয়োজন পড়বে না কখনোই।
রিদের পরপর বেপরোয়া কথায় আহত হচ্ছে উপস্থিত সবাই। হেনা খান কখনোই চান না মায়ার সাথে রিদের বিয়েটা বাতিল হয়ে যাক। অনেক কাটখোর পুড়িয়ে এই অবধি এনেছেন তিনি। আজ হঠাৎ করে সবকিছু নিঃস্ব হয়ে যাবে কথাটা ভাবতেই বুক ফাটা আতৎনাত বের হচ্ছে উনার। সবকিছু এভাবে শেষ করতে চান না তিনি। রিদকে থামাতে চান। কিন্তু কিভাবে থামাবে সেটা বোধগম্য নয়। তিনি অসহায় চোখ দুটো বিচরণ করার স্বামী আরাফ খানের মুখদ্বয়ে। স্ত্রী চোখে মনোভাব বুঝতে পেরে মূহুর্তে চাপা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে নিরবে। কারণ আরাফ খানের এই মূহুর্তে ঠিক কিছুই করার নেই। রিদ যাহ বলবে তাই করবে। সে যখন বলেছে বিয়েটা বাতিল করে যাবে তারমানে করেই যাবে। রিদকে বুঝানো দ্বায়। নয়তো হিতের বিপরীতে কিছু ঘটবে। দেখা যাবে রিদ রাগে বশে মায়াকে একের পর এক আঘাত করে বসলো। তখন মায়াকে রিদ থেকে বাচানো মুসকিল হয়ে যাবে। তাই সময়ে বর্তিতা বুঝে চুপ থাকাটায় শ্রেয় মনে হলো আরাফ খানের কাছে।
–
রিদ নিজ বাক্য শেষ করে। আবারও একবার নীরব চোখ আওড়ায় হেনা খানের কোলে মাথা রাখা মায়ার মুখদ্বয়ে। মায়া অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে সেখানটায়। এক পলক সেদিকে তাকিয়ে থেকে উল্টো ঘুরে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে কাটকাট গলায় জানায়, আজ রিদ চলে যাবে। যাওয়ার আগে সকল কাগজ পত্র দিয়ে যাবে বিয়ে বাতিল করার নোটিশ। এবং বাংলাদেশ আপাতত সে আর আসবে না। তাঁর কোনো কাজ নেই এখানে। যথা সম্ভব আজ রাতেই পাড়ি জমাবে নিজ গন্তব্যে জন্য।
চলিত…..
দেওয়ানা_২
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৭
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ১ গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০