Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৬৭


দিশেহারা (৬৭)

সানা_শেখ

জগে ঠান্ডা পানি ভরে রুমে ফিরে এলো শ্রবণ। সোহা শুয়ে পড়েছে। শ্রবণ পানির জগটা রেখে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা না পেয়ে সোহার দিকে তাকাল। স্বাভাবিক গলায় বলল,

“সোহা, এখানে সিগারেটের প্যাকেট রেখেছিলাম, সেটা কোথায়?”

“আমি কীভাবে বলব? আমি তো সিগারেট খাই না, তাই তোমার সিগারেটের প্যাকেট আমি ধরিওনি।”

“এখানেই তো রেখেছিলাম।”

“কখন?”

“বাইরে থেকে এসে।”

“আমি দেখিনি।”

সোহা চোখ বন্ধ করে নিল আবার। শ্রবণ ড্রেসিং টেবিলের প্রত্যেকটা ড্রয়ার খুঁজল, পুরো রুম খুঁজল তবুও সিগারেটের প্যাকেট পেল না। শ্রবণের স্পষ্ট মনে আছে সে বাইরে থেকে এসে ড্রেসিং টেবিলের উপর সিগারেটের প্যাকেট আর ফোন রেখেছিল। ফোন এখনো আগের জায়গায় রয়েছে শুধু সিগারেটের প্যাকেটটাই নেই। প্যাকেটটা গেল কোথায়? হাত-পা গজাল নাকি?
শ্রবণ আবার এসে দাঁড়াল সোহার পাশে। খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বলল,

“এই ডাইনির বাচ্চা, বল সিগারেটের প্যাকেট কোথায় রেখেছিস।”

সোহা ঘুম ঘুম চোখের পাতা টেনে তুলে তাকাল। ঘুম জড়ানো ভারী গলায় বলল,

“তোমার সিগারেটের প্যাকেট কোথায় আমি কীভাবে বলব? তোমার সিগারেট আমি ধরি? নাকি সেগুলো দিয়ে আমার কোনো কাজ আছে? তুমি বোধহয় আনোনি—এখন ভুলে গেছো।”

শ্রবণ দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,

“আমার স্পষ্ট মনে আছে আমি সিগারেটের প্যাকেট কিনে নিয়ে এসেছিলাম আর ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখেছিলাম।”

“জানিনা তোমার সিগারেটের প্যাকেট কোথায় গেছে। ঘুমোতে দাও এখন, সেহরিতে উঠতে হবে।”

শ্রবণ রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িংরুমের সব জায়গায় খুঁজল, রান্নাঘরেও খুঁজতে বাদ রাখল না, কিন্তু কোথাও তার সিগারেটের প্যাকেট নেই, একদম হাওয়া হয়ে গেছে ফ্ল্যাট থেকে।
মেজাজ এত গরম হচ্ছে যে নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে শ্রবণের কাছে।
এখন বাইরে যেতে ইচ্ছে করছে না, আবার সিগারেট না খাওয়া পর্যন্ত শান্তিও লাগবে না। চব্বিশ ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে সিগারেট খায় না। তারাবি নামাজ আদায় করে ফ্ল্যাটে ফেরার পথে সিগারেটের আস্ত একটা প্যাকেট কিনে নিয়ে ফিরেছে, এখন সেই প্যাকেট ফ্ল্যাটের কোত্থাও নেই। কেমনটা লাগে?

ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে ওয়ালেট বের করে টাকা নিল হাতে। ফোন হাতে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়াতেই সোহা পিছু ডেকে বলল,

“কোথায় যাচ্ছো?”

“বাইরে। তুই ঘুমা, আমি আসছি কিছুক্ষণ পর।”

“বাইরে কী করতে যাবে?”

“সিগারেট কিনতে।”

“একটা সিগারেট খাওয়ার জন্য এখন এই ক্লান্ত শরীর টেনে নিয়ে বাইরে যাবে? এই বিষাক্ত ধোঁয়া না উড়ালে কী হবে? এসে ঘুমাও—ভালো লাগবে।”

শ্রবণ কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সোহা গলা ছেড়ে ডেকে বলল,

“ও বাবুর আব্বু, শোনো আমার কথা।”

শ্রবণ ফিরে এলো রুমে। শ্রবণের চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে সে ভীষণ বিরক্ত বোধ করছে। তিরীক্ষী মেজাজ নিয়ে বলল,

“বল কী বলবি। কিছু আনা লাগবে?”

“এখানে আসো, দেখো বাবু কীভাবে নড়ছে।”

শ্রবণ কাছে এগিয়ে এলো। সোহার পেটের উপর হাত রেখে দেখল বাবু অনেক নড়ছে। সোহা শোয়া থেকে উঠে বসে শ্রবণের হাত ধরে বিছানায় বসাল।

“উঠলি কেন? তোর না ঘুম পেয়েছে ভীষণ?”

“তুমি দূরে গেলে ভালো লাগে না, আসো একসঙ্গে ঘুমাই।”

“তুই ঘুমা, আমি সিগারেট কিনে নিয়ে আসছি।”

“সিগারেট খেতে হবে না। সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দাও।”

“ভাত খাওয়া ছেড়ে দিতে পারব কিন্তু সিগারেট খাওয়া ছাড়তে পারব না। হাত ছেড়ে ঘুমা এখন।”

সোহা শ্রবণের কাছে এগিয়ে এসে শ্রবণের বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরল শক্ত করে।

“এভাবে ধরছিস কেন এখন? ছাড়।”

সোহা ছাড়ল না বরং শ্রবণকে আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। বুকে মুখ গুঁজে রেখে বলল,

“ধরেছি বলে ছাড়তে বলছো? ম’রে গেলে ধরতে বললেও আর ধরব না দেখে নিও।”

“কে ম’রবে?”

“আমি।”

শ্রবণ চোয়াল শক্ত করল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“এই ডাইনির বাচ্চা, ম’রবি কেন?”

সোহা বুক থেকে মুখ তুলে শ্রবণের মুখের দিকে তাকাল। শ্রবণের চোখ-মুখ কঠিন হয়ে আছে।
চোখে চোখ রেখে বলল,

“বাবু হওয়ার সময় যদি ম’রে যাই? কত মা-ই তো বাবু জন্ম দিতে গিয়ে মা’রা যায়, আমিও যেতে পারি। জড়িয়ে ধরেছি বলে ছাড়তে বলছো, আমি ম’রে গেলে এত ভালো বাসবে কে তোমায়?”

শ্রবণ কিছু বলতে পারল না, নিজেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সোহা বুকে মুখ গুঁজে বলল,

“বাবু হওয়ার আগ পর্যন্ত তুমি আমার কাছে কাছে থাকো, সময় দাও। নাহলে ম’রে গেলে আফসোস হবে—তুমি আমাকে সময় দাওনি।”

শ্রবণ মৃদু স্বরে বলল,

“তোকে সময় দেই না আমি? তোর কাছে কাছে থাকি না?”

“এই যে এখন বাইরে যেতে চাইছো।”

“পাঁচ মিনিট লাগতো বাইরে থেকে ঘুরে আসতে।”

“পাঁচ মিনিট-ই অনেক সময়। হয়তো কোনোদিন দেখা যাবে পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে আমি চিরদিনের জন্য তোমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছি।”

“চুপ! আর একটা উল্টাপাল্টা কথা বললে ধরে আছাড় মা’রব।”

সোহা মুচকি হাসল। শ্রবণ সোহাকে শুইয়ে দিয়ে লাইট অফ করে শুয়ে পড়ল সোহাকে আগলে ধরে। সোহা এবার আরো বেশি করে হাসল। শ্রবণের সিগারেটের আস্ত প্যাকেটটা সোহা নিজেই গায়েব করেছে। সবগুলো সিগারেট ভেঙে প্যাকেট সহ কমোডে ফেলে ফ্ল্যাশ করে দিয়েছে। সারাদিন রোজা রাখে, নামাজ আদায় করে, আবার সিগারেটও খায়। এখন খা বেশি করে।
তুমি শ্রবণ চৌধুরী হলে, সেও সোহা চৌধুরী। ভুলে যেও না র’ক্ত একই।

                       **********

ফজরের নামাজ আদায় করে আর ঘুমাল না শ্রবণ। সোহাকে বলল রেডি হতে। সোহা কোনো প্রশ্ন না করে রেডি হয়ে নিল।
শ্রবণ গাড়ির চাবি নিয়ে সোহার হাত ধরে বের হলো ফ্ল্যাট থেকে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিচ্ছু জিজ্ঞেস করল না সোহা।

শ্রবণের গাড়ি এসে দাঁড়াল একটা কবরস্থানের পাশে। দুজন নেমে দাঁড়াল গাড়ির ভেতর থেকে। আশপাশ থেকে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ভেসে আসছে। নির্মল বাতাস বইছে, শীতল প্রকৃতি। সূর্যের দেখা নেই এখনো। কুয়াশাও পড়েছে বেশ।

শ্রবণ সোহার হাত ধরে কবরস্থানের ভেতরে প্রবেশ করল গেইট খুলে। সোহা পুরো কবরস্থানে নজর বুলাল। তার গায়ের প্রত্যেকটা লোম খাড়া হয়ে গেল কবরগুলো দেখে। এর আগে এত কাছ থেকে কোনোদিন কোনো কবর দেখা হয়নি। কয়েকটা কবর নতুন, কিছু কবর বেশ পুরোনো, অনেকগুলো মাটির সঙ্গে মিলিয়ে গেছে প্রায়। এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন অনেক মানুষ, একদিন ওদের জায়গায়ও এখানেই হবে। সোহা শ্রবণের হাতটা শক্ত করে ধরল। শ্রবণ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল, মৃদু স্বরে বলল,

“ভয় পাচ্ছিস?”

সোহা দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,

“না। সঙ্গে তুমি আছো তো।”

শ্রবণ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সোহার মুখের দিকে, তারপর এসে দাঁড়াল নির্দিষ্ট একটি স্থানে। সোহা তাকাল সামনে থাকা কবরের দিকে। কবরের শিয়রে টাইলস দিয়ে নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা রয়েছে নাম: মরহুমা সানজানা চৌধুরী। পিতা: মরহুম সাদিক চৌধুরী।
নাম দুটো পড়েই ফট করে শ্রবণের মুখের দিকে তাকাল সোহা। শ্রবণ টলমল চোখে তাকিয়ে আছে কবরটার দিকে। মনে হচ্ছে চোখজোড়া হতে এখনই গড়িয়ে পড়বে পানি। শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে সোহার চোখজোড়াও ঝাপসা হয়ে উঠল। কম্পিত স্বরে বলল,

“এটা বড়ো আম্মুর কবর?”

শ্রবণ মুখে কিছু না বলে মাথা নাড়ল। সোহা কবরের দিকে তাকাল আবার। সাদিক চৌধুরী তো সামাদ চৌধুরীর ছোটো ভাই ছিলেন। যে কিনা অনেক বছর আগেই অ্যাকসিডেন্টে মা’রা গেছেন। সোহা যতটুকু জেনেছে উনার সঙ্গে উনার ওয়াইফ আর ভাবি মানে সামাদ চৌধুরীর ওয়াইফও মা’রা গিয়েছিলেন সেই অ্যাকসিডেন্টে। তার মানে শামীম রেজা চৌধুরী ছোটো কাকার মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। এই কারণেই সোহা শ্রবণের নানির বাড়ির কাউকে দেখেনি এখন পর্যন্ত।

শ্রবণ সোহার হাত ধরে কবরের শিয়রে এসে দাঁড়াল। জড়ানো গলায় ডাকল,

“আম্মু।”

সোহা একবার শ্রবণের মুখের দিকে আরেকবার কবরের দিকে তাকাচ্ছে। শ্রবণ চোখের পানি মুছে বলল,

“আম্মু, তোমাকে বলেছিলাম না আমি বিয়ে করেছি? এই যে ছোটো ডাইনির বাচ্চা, আমার বউ, তোমার শ্রবণের বউ। তোমার ছেলেরও কদিন পর ছেলে হবে, আম্মু।”

সোহা তাকিয়ে রইল শ্রবণের মুখের দিকে। শ্রবণের চোখজোড়া পানিতে টইটম্বুর হয়ে রয়েছে।
সোহার নজর পড়ল পাশের কবরের উপর। গোটা গোটা অক্ষরে লেখা নাম: মরহুমা সাফা চৌধুরী। পিতা: শামীম রেজা চৌধুরী।
সোহা শ্রবণের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ছোটো কবরটার পাশে এসে দাঁড়াল। জন্ম আর মৃত্যুর তারিখ লেখা রয়েছে। সাফা সোহার চেয়ে বয়সে বড়ো ছিল।
শ্রবণ ঝুঁকে মায়ের কবরের উপর পড়ে থাকা গাছের পাতা তুলতে তুলতে মৃদু স্বরে বলল,

“জানো; আম্মু, ডাইনির বাচ্চাটা তোমার ছেলেকে পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেছে। তোমার ছেলে এখন ভালো হয়ে গেছে। আমি গত একসপ্তাহ ধরে সিগারেট খাইনি, রোজা রাখি, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি। শুদ্ধ করে কুরআন তেলাওয়াত শিখছি আবার। ছোটো ডাইনি যতটা খারাপ, ওর মেয়ে ততটাই ভালো।”

কবর জিয়ারত শেষে সোহাকে নিয়ে কবরস্থান থেকে বেরিয়ে এলো শ্রবণ। সোহাকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে নিজেও উঠে বসল। সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল একদৃষ্টে। শ্রবণ সোহার দিকে তাকাতেই সোহা বলল,

“বড়ো আব্বু আর বড়ো আম্মু কাজিন?”

“হুম। আম্মু যখন কলেজে পড়ত তখন নানা ভাই, নানু আর মামা মা’রা যায় অ্যাকসিডেন্টে, উনাদের তিনজনের সঙ্গে দাদুও মা’রা গেছেন সেই অ্যাকসিডেন্টে।”

“মামা! বড়ো আব্বুর ভাইও ছিল?”

“হ্যাঁ। দাদা ভাই আম্মুকে দূরে বিয়ে না দিয়ে নিজের বড়ো ছেলের সঙ্গেই বিয়ে দিয়েছিল যেন আম্মু ভালো থাকে, কোনো দুঃখ কষ্ট আম্মুকে ছুঁতে না পারে।”

এতটুকু বলে তাচ্ছিল্য করে হাসল শ্রবণ। দুঃখ কষ্ট তার আম্মুকে ছুঁতে পারবে না! দুঃখ কষ্ট তো তার আম্মুকে আস্টেপিস্টে জড়িয়ে ধরে নিয়েই চলে গেল।

“তখন নানা ভাইয়ের সকল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকার ছিল আম্মু, আম্মু আর সাফা মা’রা যাওয়ার পর ছিলাম আমি। আম্মু মা’রা যাওয়ার পর আব্বু যখন দ্বিতীয় বিয়ে করল তখন দাদা ভাই আম্মুর ভাগের সব সম্পত্তি আমার নামে করে দেয়।”

                     **********

সোহা ছোটো একটা সিরামিকের বাটিতে করে পায়েস নিয়ে এলো বেডরুমে। শ্রবণ ঈদের নামাজ আদায় করতে যাবে তাই নতুন পাঞ্জাবি পাজামা পরে তৈরি হচ্ছে।
সোহা শ্রবণের সামনে এসে দাঁড়াল। চামচে পায়েস তুলে বলল,

“হাঁ করো।”

শ্রবণ হাঁ করল। সোহা পায়েস খাইয়ে দিয়ে বলল,

“ঈদ মোবারক, বাবুর আব্বু।”

শ্রবণ সোহার হাত থেকে বাটি আর চামচ নিয়ে সোহাকে পায়েস খাইয়ে দিয়ে বলল,

“ঈদ মোবারক, ডাইনির বাচ্চা।”

সোহা গাল ফুলাল শ্রবণের উইশ শুনে। শ্রবণ ফোলা ফোলা গাল দুটো টিপে দিয়ে বলল,

“কী হলো? গাল ফুলাচ্ছিস কেন এভাবে?”

“তুমি ডাইনির বাচ্চা বললে কেন? আমি এত সুন্দর করে বললাম, আর তুমি আমাকে এভাবে বললে?”

“তো কীভাবে বলব?”

“সুন্দর করে বলবে।”

“এর চেয়ে সুন্দর করে শ্রবণ চৌধুরী বলতে পারে না।”

সোহা সরে গেল শ্রবণের সামনে থেকে। শ্রবণ পায়েসের বাটি রেখে আতর মাখলো গায়ে। টুপি মাথায় দিয়ে জায়নামাজ বের করল কাবার্ড থেকে। জায়নামাজ কাঁধের উপর রেখে ওয়ালেট পকেটে ভরে পায়েসের বাটিটা হাতে নিল। রুম থেকে বেরিয়ে দেখল সোহা গাল ফুলিয়ে বসে আছে সোফায়।
শ্রবণকে সামনে দেখে সোহা মুখ ফিরিয়ে নিল অন্যদিকে। শ্রবণ চামচে পায়েস তুলে বলল,

“হাঁ কর।”

সোহা হাঁ করল না, শ্রবণের দিকে তাকালও না। শ্রবণ বলল,

“কী বলছি কানে যাচ্ছে না? হাঁ কর দ্রুত, নামাজে দেরি হয়ে যাবে।”

সোহা ঘাড় ঘুরিয়ে দৃষ্টি নিচের দিকে রেখে হাঁ করল। শ্রবণ সোহার মুখে পায়েস পুরে দিয়ে বলল,

“ঈদ মোবারক, বাবুর আম্মু। এখন গাল ফুলিয়ে বসে না থেকে—গোসল করে সাজুগুজু করুন।”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকাল তড়িৎ গতিতে। শ্রবণ সোহার গাল টেনে দিয়ে দ্রুত চলে গেল দরজার দিকে। আজকে দাদা আর ভাইদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবে।

চলবে………..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply