Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৬৫


দিশেহারা (৬৫)

সানা_শেখ

“কিচ্ছু বলিনি, এগুলো যেখান থেকে এনেছো সেখানে নিয়ে রেখে এসো।”

শ্রবণ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সোহার মুখের দিকে। এই ডাইনির বাচ্চা বিড়বিড় করে মাঝেমধ্যে কী বলে? ওকে গালি দেয়? তাই হবে হয়তো। শুনতে পায় না বলে, নয়তো কানশা বরাবর একটা দিয়ে কালা বানিয়ে দিত।
ছোটো ছোটো কাঁথাগুলো ভাঁজ করে আগের জায়গায় রেখে এলো।
বিছানায় উঠে বসল সোহার গা ঘেঁষে। সোহা একবার তাকাল শ্রবণের মুখের দিকে তারপর পুনরায় সেলাই করায় মনোযোগ দিলো।

শ্রবণ মনোযোগ সহকারে আরো কিছুক্ষন দেখল কীভাবে সেলাই করতে হয়। সোহার হাত থেকে টেনে নিয়ে নিল কাঁথা আর সুই। সোহা ভীষণ বিরক্ত হলো শ্রবণের এই কাজে। কপালে কয়েক ভাঁজ ফেলে বলল,

“কী হয়েছে? এভাবে কাঁথা টেনে নিলে কেন? দাও সেলাই করব।”

শ্রবণ গম্ভীর গলায় বলল,

“আমি সেলাই করব।”

“কিহ! তুমি সেলাই করবে? সেলাই করতে পারো তুমি?”

“শ্রবণ চৌধুরী পারে না এমন কোনো কাজ নেই। কথা না বলে চুপচাপ দেখ শুধু।”

“শ্রবণ চৌধুরী পারে না এমন অনেক কাজ আছে।”

শ্রবণ কটমট করে তাকাল সোহার মুখের দিকে। সোহা মিনমিন করে বলল,

“কাঁথাটা দাও এদিকে।”

“আজ কাঁথা সেলাই করে তোকে দেখিয়ে দিবো শ্রবণ চৌধুরী-ও পারে।”

“পারতে হবে না, রেস্ট করো তুমি। কাঁথাটা দাও এখন আমার কাছে।”

শ্রবণ বলল না কিছু, কাঁথাও দিলো না। কাঁথা ঠিকঠাক মতো ধরে সুই গাথল আর সঙ্গে সঙ্গেই ‘আহ্’ শব্দ উচ্চারণ করে কাঁথা ফেলে দিয়ে বাম হাত ঝাঁকাতে শুরু করল। সোহা শ্রবণের হাতটা ধরে সম্মুখে স্থির করল। কাঁথা সেলাই করতে গিয়ে নিজের আঙুলে সুই ফুটিয়ে দিয়েছে। আঙুলের ডগা থেকে র’ক্ত বের হচ্ছে। শ্রবণের হাতে র’ক্ত দেখে সোহার কষ্ট লাগার বদলে ভীষণ হাসি পেল। ফিক করে হেসে বলল,

“কাঁথা সেলাই করতে হতো, তোমার হাত নয়।”

শ্রবণ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“মজা করছিস আমার সঙ্গে?”

সোহা দুদিকে মাথা নেড়ে টিস্যু পেপার দিয়ে আঙুলের র’ক্ত মুছে চেপে ধরে রইল। শ্রবণ জোর করে সোহার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল। আঙুলের দিকে তাকিয়ে দেখল আবার র’ক্ত বের হচ্ছে। সোহা টিস্যু পেপার দিয়ে পুনরায় চেপে ধরল। কী জোরেই না সুইটা ফুটিয়েছে আঙুলে!
শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এভাবে কেউ নিজের আঙুলে সুই ফুটায়?”

“আমি জানতাম নাকি যে আঙুলে ঢুকে যাবে?”

“বলেছিলাম তো পারবে না।”

শ্রবণ আবার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে কাঁথা হাতে নিল। সুই হাতে নিয়ে বলল,

“আমি অবশ্যই পারব।”

“আবার হাতে সুই ফুটে যাবে, জেদ বাদ দাও। তুমি সব পারো আমি মেনে নিয়েছি, এখন কাঁথা দাও আমার কাছে।”

শ্রবণ দিলো না কাঁথা, কিন্তু সেলাই করতে গিয়েও করতে পারল না। কাঁথা সোহার হাতে দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

“কীভাবে সেলাই করতে হয় ভালোভাবে দেখা আমাকে।”

সোহা সেলাই করল আর শ্রবণকে শিখাল সেলাই করা। শ্রবণ কাঁথা হাতে নিয়ে আবার সেলাই করার চেষ্টা করল আর এবার সফল হলো কিছুটা। সোহা বলল,

“সেলাই আরো ছোটো ছোটো করে তোলো, বেশি বড়ো হয়ে গেছে।”

শ্রবণ ঘাড় কাত করে তাকাল সোহার মুখের দিকে। সোহা দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই শ্রবণ আবার সেলাই করতে শুরু করল। সেলাই ঠিকঠাক মতো হচ্ছে দেখে বিশ্ব জয় করা হাসি দিলো। হাহ, শ্রবণ চৌধুরী পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
সেলাই করতে করতে বেশ কয়েকবার সুইয়ের খোঁচা খেলো দুই হাতেই।
সুতো শেষ, এখন আবার সুতো লাগাতে হবে সুইয়ে।
সোহা সুই নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে বলল,

“সুই দাও, সুতো লাগিয়ে দিই।”

শ্রবণ সোহার হাত সরিয়ে দিলো ধাক্কা দিয়ে। ভাব নিয়ে বলল,

“সুতো লাগাতে পারব আমি।”

“হ্যাঁ, শ্রবণ চৌধুরী পারে না এমন কোনো কাজ তো নেই এই দুনিয়ায়।”

শ্রবণ ঘাড় কাত করে তাকাল সোহার মুখের দিকে। বিড়বিড় করে কী বলল এই ডাইনির বাচ্চা? সোহার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে সুইয়ে সুতো লাগাতে ব্যস্ত হলো, কিন্তু কিছুতেই লাগাতে পারছে না। শ্রবণের সুতো লাগানোর ভঙ্গি দেখে মুচকি মুচকি হাসতে শুরু করল সোহা।
কয়েক মিনিট পরেও যখন সুতো লাগাতে পারল না তখন সুই সুতো সোহার হাতে দিলো। সুইয়ের পাছায় সুতো লাগানো অনেক প্যারা, ডুকছে না কিছুতেই।
সোহা সুইয়ের পাছায় কীভাবে সুতো লাগাল তা মনোযোগ দিয়ে দেখেছে শ্রবণ। সুই হাতে নিয়ে এক টানে সুতো খুলে ফেলল। সোহা হাঁ করে শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সুতো খুলে ফেলল কেন?
সুতো খুলে ফেলে শ্রবণ নিজে আবার লাগানোর চেষ্টা করল, আর এবার সফলও হলো। সোহার বিস্মিত চেহারার দিকে তাকিয়ে বিস্তর হাসল।

রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় বসে বসে লবণ দিয়ে বরই খাচ্ছে সোহা। ওর পাশে শুয়ে শুয়ে ফোনে বন্ধুদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চ্যাটিং করছে শ্রবণ।
সোহা একটা বরই শ্রবণের মুখের সামনে ধরে বলল,

“হাঁ করো।”

শ্রবণ দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,

“খাব না, তুই খা।”

“একটা খাও।”

“টক খাই না আমি।”

“এটা বেশি টক না, খেয়ে দেখো মিষ্টি।”

“টক বরই আবার মিষ্টি হয় কীভাবে?”

“হাঁ করো তো।”

“বলছি তো খাব না আমি।”

সোহা গাল ফুলিয়ে আবার বরই খেতে শুরু করল। শ্রবণ তাকিয়ে রইল সোহার ফোলা ফোলা গালের দিকে। সোহা আবার তাকাল শ্রবণের দিকে। শ্রবণকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আবার একটা বরই নিয়ে বলল,

“একটা খাও, দেখো সত্যিই টক না।”

শ্রবণ বরইটা হাতে নিল। কা’মড় দিয়ে একটু মুখে নিল, আসলেও তেমন একটা টক না যতটা শ্রবণ ভেবেছিল। মিষ্টি মিষ্টিই লাগছে, খেতেও বেশ মজা। পুরোটা মুখে পুরে আবার চ্যাটিং করায় ব্যস্ত হলো।
কিছুক্ষণ পর সোহা আরেকটা বরই শ্রবণের মুখের সামনে ধরল, শ্রবণ বিনা বাক্যে হাঁ করে বরইটা মুখে নিল।
সোহা নিজে বরই খেতে খেতে শ্রবণকেও বেশ কয়েকটা খাওয়াল।
লাস্ট একটা বরই শ্রবণের মুখে পুরে দিয়ে সোহা বিছানা ছেড়ে নেমে গেল দ্রুত।
দুবার চিবিয়ে লাফিয়ে শোয়া থেকে উঠল শ্রবণ।
মুখের বরই দ্রুত ফ্লোরে ফেলে দিলো থু থু করে। রেগে সোহার দিকে তাকিয়ে বলল,

“এই ডাইনির বাচ্চা, আমার সঙ্গে বাটপারি? কত বড়ো কলিজা তোর, তুই আমার সামনে বসে আমার সঙ্গে বাটপারি করলি!”

সোহা দূরে দাঁড়িয়ে মিটি মিটি হাসছে। বরইটা যা টক ছিল! কা’মড় দিতেই সোহার শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠেছিল। পরে মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চাপে আর বরইটা শ্রবণের মুখে পুরে দেয়।
শ্রবণের দাঁত শিড়শিড় করছে, গা ঝাঁকি দিচ্ছে এখনো। অগ্নিশর্মা হয়ে সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, কী বজ্জাত মেয়ে! নির্লজ্জের মতো দাঁত বের করে হাসছে এখনো। ইচ্ছে করছে ছুটে গিয়ে ঠাস করে একটা লাগিয়ে দিতে।
আঙুল তুলে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“তোকে তো পরে দেখে নিব।”

“পরে দেখবে কেন? এখনই ভালোভাবে দেখে নাও।”

শ্রবণ বিছানা ছেড়ে হাত তুলে তেড়ে এলো সোহাকে মা’রার জন্য। সোহা ভয় পেয়ে সামনে দুহাত দিয়ে বাধা দেওয়ার মতো করে ধরে মাথা একদিকে হেলিয়ে নিল চোখ খিঁচে বন্ধ করে।
শ্রবণ বাম হাতে সোহার উঁচু করে রাখা হাত দুটো ধরে ডান হাতটা গালে বোলাতে বোলাতে বলল,

“এখন যদি এখানে একটা লাগাই তাহলে কেমন হবে?”

সোহা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকাল শ্রবণের মুখের দিকে। ভয় জড়ানো গলায় কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল,

“খুব ব্যথা পাব তাহলে।”

“তাহলে রাগাস কেন?”

“আমি কী জানতাম নাকি তুমি এত রেগে যাবে?”

“জানতি না?”

সোহা দুদিকে মাথা নাড়ল। শ্রবণের রাগী চেহারা দেখে চোখ দুটো পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। শ্রবণ সোহার হাত থেকে প্লেটটা নিয়ে বলল,

“যা, ঘুমা।”

সোহা ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়ল একটা বাক্য উচ্চারণ না করে। শ্রবণ লাইট অফ করে নিজেও শুয়ে পড়ল। সোহা আজ আসলো না শ্রবণের বুকে, দূরেই শুয়ে রইল উল্টো ফিরে। শ্রবণ নিজেও সোহাকে জড়িয়ে ধরল না, মাঝখানে দূরত্ব বজায় রেখে শুয়েছে, শুয়েই ফোন হাতে তুলে নিয়েছে।
বেশ কিছুক্ষণ পর সোহার ফোঁপানোর আওয়াজ পেল শ্রবণ। ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সোহার দিকে তাকাল, সোহা আগের মতোই উল্টো ফিরে শুয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে সোহার মাথায় হাত রেখে বলল,

“এই ডাইনির বাচ্চা, কী হয়েছে?”

সোহা কথা বলল না, ফোঁপানোর আওয়াজ কমে গেছে। শ্রবণ তাকিয়ে রইল আগের মতোই। মিনিট পেরোনোর আগেই সোহা ডুকরে কেঁদে উঠল।
শ্রবণ হাত থেকে ফোন রেখে সোহার কাছে এগিয়ে এলো। সোহাকে জোর করে নিজের দিকে ফেরাল। চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলল,

“কাঁদছিস কেন? কী হয়েছে?”

সোহা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“বকা দিয়েছো।”

“আর।”

“জড়িয়ে ধরোনি।”

“আর।”

“বকা দিয়ে আদর করোনি।”

“অন্যদিন তো নিজে থেকেই বুকে চলে আসিস, আজ আসিসনি কেন?”

“রাগ করেছি তোমার সঙ্গে।”

“কেন?”

“বকা দিয়েছো তাই।”

শ্রবণ জড়িয়ে ধরল, আদর করল, মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“কান্নাকাটি বাদ দিয়ে ঘুমা এখন। দিনদিন নাটক বেড়েই চলেছে।”

সোহা নাক টানতে টানতে নিশ্চুপ হয়ে গেল। শ্রবণের বুকে উষ্ণ ওমে ঘুমের দেশে পাড়ি জমাল।

                        **********

সেহরির সময় শ্রবণকে ঘুম থেকে জাগাল সোহা।
শ্রবণ চোখ বন্ধ রেখেই ঘুম জড়ানো গলায় বলল,

“কী হয়েছে? ডাকছিস কেন?”

“সেহরির সময় হয়েছে, ওঠো।”

“আমি উঠে কী করব?”

“সেহরি খাবে।”

“রোজা রাখি না আমি, তুই গিয়ে খা।”

“আগে রাখোনি, কিন্তু এখন থেকে রাখবে। ওঠো, সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।”

“জ্বালাস না তো, ঘুমোতে দে।”

“আমি একা একা খাব না, তুমি ওঠো, আমার সঙ্গে খাবে।”

“না খেলে ঘুমা।”

“না খেয়ে রোজা রাখব কিন্তু তাহলে।”

শ্রবণ চোখ মেলে তাকাল। সোহা ওর হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করে বলল,

“আরে ওঠো তো। নামায পড়ে না, রোজা রাখে না, সারাদিন শয়তানের মতো টো টো করে ঘুরে বেড়ায়।”

শ্রবণ শোয়া থেকে উঠে বসে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সোহার দিকে। রাগী গলায় বলল,

“আমি সারাদিন শয়তানের মতো টো টো করে ঘুরে বেড়াই?”

“নামায তো পড়ো না, আবার রোজাও রাখবে না বলছো।”

“আমি না পড়লে, না রাখলে তোর কী?”

“অনেক কিছু। নামায পড়ে বড়ো আম্মুর জন্য তো দু’আ করতে পারো। আমার জন্য না করলেও বাবুর সুস্থতার জন্য করতে পারো, নিজের জন্যও করতে পারো। এত বড়ো মানুষ অথচ আজ অবধি একটা রোজা রাখোনি। নামায পড়েছো কদিন বলোত।”

“কদিন ধরে নামায পড়ে নিজেকে কী ভাবিস?”

“কদিন ধরে না, অনেকদিন ধরে পড়ি। এখন ওঠো, সময় চলে যাচ্ছে। আগে যা করেছি, করেছো সেসব বাদ। এখন থেকে নিজেদের পরিবর্তন করব, দাদা ভাই কী বলেছে মনে নেই? ওঠো না।”

শ্রবণ বিছানা ছেড়ে নেমে দাঁড়াল। সোহার মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ওয়াশরুমে প্রবেশ করল।

সেহরি খাওয়া শেষ হতেই শ্রবণকে জোর করে পাঞ্জাবি পাজামা পরিয়ে মসজিদে পাঠাল সোহা। শ্রবণ কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না এখন নামায আদায় করতে মসজিদে যেতে, সোহা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে মসজিদে পাঠাল।
নিজেও ওযু করে এসে জায়নামাজ বিছাল নামায আদায় করতে। চৌধুরী বাড়িতে থাকতে নামায কালাম পড়ত না সোহা, তবে রমজান মাসে রোজা রাখত ঠিকই। গত দুমাস ধরে নামায আদায় করা ধরেছে তবে মাঝেমধ্যেই ছেড়ে দিত, গত কয়েকদিন ধরে এক ওয়াক্ত-ও নামায ছাড়ে না। শ্রবণকে নামায আদায় করতে বললেও শ্রবণ পড়ে না, আগ্রহও দেখায় না, সবসময় এড়িয়ে যায়।

                      ***********

যোহরের নামাজ আদায় করে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করল শ্রবণ। জীবনের প্রথম আজ রোজা রেখেছে শ্রবণ চৌধুরী। বেডরুমে এসেই ঠাস করে শুয়ে পড়ল বিছানায়। ওকে রোজায় ধরেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ, পেটের ভেতর গুড়গুড় করছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে রয়েছে, কিচ্ছু ভালো লাগছে না।
সোহা শ্রবণের কাছে এগিয়ে এলো। শ্রবণের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“কী হয়েছে? এভাবে শুয়ে পড়লে কেন?”

শ্রবণ চোখ মেলে তাকাল। খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বলল,

“খিদে পেয়েছে, গলা শুকিয়ে গেছে, খাব আমি।”

“রোজা রেখে কীসের খাই খাই?”

“রোজা আমি রেখেছি? তুই জোর করে রাখিয়েছিস। খিদে পেয়েছে আমার, খাব।”

“এমনিতে তো না খেয়ে থাকতে পারো, আজ এমন খাই খাই করছো কেন?”

“না খেয়ে কোথায় থাকি? খাবার না খেলেও, পানি খাই, সিগারেট খাই, কফি খাই, তাছাড়া আরো কতকিছু খাই। খিদে পেয়েছে আমার।”

“ঘুমাও, ঘুম ভেঙে দেখবে বিকেল হয়ে গেছে।”

“তুই গিয়ে খাবার খা। না খেয়ে থেকে বাবুর বা তোর কিছু হলে খবর আছে তোর।”

“কী হবে? ডাক্তার তো বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই আমার, রোজা রাখতে পারব। বলেছি তো বেশি খারাপ লাগলে রোজা ভেঙে ফেলব।”

শ্রবণ একটা বালিশ বুকের উপর তুলে জড়িয়ে ধরল। চোখ বন্ধ করে বলল,

“আমার খিদে পেয়েছে।”

“গান শুরু করেছে ‘খিদে পেয়েছে’। খিদে পেয়েছে খিদে পেয়েছে না করে তাসবীহ পাঠ করো, সওয়াব হবে।”

শ্রবণ কটমট করে তাকাল সোহার মুখের দিকে। এই ডাইনির বাচ্চাকে জীবনে এনে লাভ হলো নাকি লস হলো হিসেব মিলছে না শ্রবণের।

চলবে………..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply