Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৫৭


দিশেহারা (৫৭)

সানা_শেখ

কলিং বেলের শব্দে ঘুম হালকা হয়ে আসে শ্রবণের, সঙ্গে সোহার-ও। শ্রবণের বাহু বন্ধনে আবদ্ধ সোহা। বুক থেকে মুখ তুলে শ্রবণের মুখের দিকে ঘুম ঘুম চোখে তাকায়। ঘুম জড়ানো গলায় বলে,

“কে আসলো এত রাতে?”

শ্রবণ কিছু না বলে চুপ করে রইল। কে এসেছে ও নিজেও বুঝতে পারছে না। পর পর আরো কয়েকবার কলিং বেল বেজে উঠলে রাগে শ্রবণের মাথার ভেতর দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়। সোহাকে বুক থেকে সরিয়ে শোয়া থেকে উঠতে উঠতে বলে,

“শুয়ে থাক, আমি দেখে আসছি।”

শ্রবণ বিছানা ছেড়ে নামতে গেলে সোহা ওর হাত টেনে ধরে। আতঙ্কিত হয়ে বলে,

“দরজার বাইরে কে আছে আমরা তো জানিনা, সে যদি তোমার কোনো ক্ষতি করে? যেও না।”

“কিছু হবে না, তুই শুয়ে থাক আমি দেখে আসছি।”

শ্রবণ সোহার কাছ থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়। ফোন হাতে নিয়ে টাইম দেখে নেয়, বারোটা বাজতে আর দুই মিনিট বাকি। শ্রবণ তো ভেবেছিল এখন রাতের দুইটা/আড়াইটা বেজে গেছে।
রুমের মেইন লাইট অন করে দরজার দিকে এগিয়ে যায় এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে।
সোহা শুয়ে থাকতে না পেরে শোয়া থেকে উঠে বসে। কে আসলো? শ্রবণের কোনো ক্ষতি করবে না তো? ভয়ে সোহার হৃৎস্পন্দন বাড়তে শুরু করে। মস্তিষ্কে অশনি সংকেত বাজছে।

শ্রবণ পিপ হোল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখে দরজার সামনে ওর বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে। ওদের দেখে ওর কপাল ভ্রু কুঁচকে যায়। এত রাতে ওরা এখানে কেন? বেশি কিছু না ভেবে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতেই ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ঠেলেঠুলে হুড়মুড় করে পাঁচজন ভেতরে প্রবেশ করে। শ্রবণ হতভম্ভ হয়ে ঘুরে দাঁড়ায় পাঁচজনের দিকে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই একসঙ্গে তিনটা পার্টি পপার ফাটার শব্দ হয়। পাঁচজন একসঙ্গে ওকে জন্মদিনের উইশ করে।

শ্রবণের খেয়াল হয় আজ ফেব্রুয়ারির এগারো তারিখ শেষ হয়ে বারো তারিখ পড়ল, ওর জন্মদিন। ও তো ভুলেই গিয়েছিল। অন্য সব-বার শ্রবণ ওর বন্ধুদের সঙ্গেই থাকতো মাঝরাত পর্যন্ত, তাই কাউকেই ওর ফ্ল্যাটে আসতে হতো না জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। বাইরেই কেক কেটে সেলিব্রেট করতো বন্ধুদের সঙ্গে। যদিও শ্রবণ নিজের জন্মদিন পালন করতে আগ্রহী না কখনোই, বন্ধুদের জন্যই বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে প্রতিবার। এবারেও তাই করতে হবে। শ্রবণ বাইরে যায়নি বলে ওরাই চলে এসেছে।

দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখে দরজার সামনে সোহা দাঁড়িয়ে আছে, হয়তো পার্টি পপার ফাটার শব্দে ভয় পেয়ে বিছানা ছেড়ে নেমে এসেছে।
শ্রবণ রুমের দিকে পা বাড়াতেই হাসান ওর হাত টেনে ধরে বলে,

“কোথায় যাচ্ছিস? কেক কাটতে হবে।”

“দাঁড়া, আসছি এখনই।”

হাসানের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে রুমের দিকে পা বাড়ায় দ্রুত। ওর যাওয়ার পথে তাকালে পাঁচজনের নজরে আসে সোহা।
শ্রবণ সোহার হাত ধরে বিছানার কাছে এগিয়ে আসে। মেইন লাইট অফ করে দিয়ে বলে,

“তুই শুয়ে ঘুমা, আমি কিছুক্ষন পর আসছি।”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,

“আজ তোমার জন্মদিন?”

“হ্যাঁ। শুয়ে পড় এখন।”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে আরো একবার তাকিয়ে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে। শ্রবণ ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে ভালোভাবে সোহাকে ঢেকে দেয়। ড্রয়িং রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই সোহা বলে,

“শোনো।”

শ্রবণ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সোহার দিকে। সোহা ঢোঁক গিলে গলা ভিজিয়ে বলে,

“হ্যাপি বার্থডে, বাবুর আব্বু।”

শ্রবণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এই প্রথম এমন উইশ পেল, আর সোহা-ও এই প্রথম ওকে বার্থডে উইশ করল। সোহার বলা ‘বাবুর আব্বু’ সম্বোধনটা বারবার কানে বাজছে। এতকাল শুনেছে, হ্যাপি বার্থডে, শ্রবণ। হ্যাপি বার্থডে, দাদু ভাই। হ্যাপি বার্থডে, ভাইয়া। হ্যাপি বার্থডে, বন্ধু। কিন্তু এই প্রথম শুনলো, হ্যাপি বার্থডে, বাবুর আব্বু। ওর ভেতর পর্যন্ত নাড়িয়ে তুলেছে এই সম্বোধন। গায়ের প্রত্যেকটা লোম খাড়া হয়ে গেছে, এর আগে কোনোদিন শ্রবণের সঙ্গে এমন হয়নি, কোনো সম্বোধন শুনে এর আগে কোনোদিন ওর হার্টবিট মিস যায়নি, হার্ট দ্রুত বিট করেনি, গায়ের লোম খাড়া হয়নি। ওই কন্ঠে আর শব্দে কি যেন একটা ছিল, স্পেশাল কিছু তো অবশ্যই ছিল।
ওর এবারের জন্মদিনের সবচেয়ে বড়ো সারপ্রাইজ বোধহয় সোহার এই সম্বোধনটাই। শ্রবণ সত্যই সারপ্রাইজড হয়ে গেছে সোহার এই উইশে।

সাকিবের ডাকে ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে শ্রবণ। কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে দ্রুত। টি টেবিলের ওপর কেক রেখেছে, কেকের চারপাশে ক্যান্ডেল, লাল সাদা গোলাপ আর গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে রাখা। কয়েকটা লাল সাদা বেলুনও আছে। এত দ্রুত কীভাবে করলো এতসব?
পাঁচজন ওর হাতে ছোটো ছোটো সাইজের গিফট বক্স ধরিয়ে দেয়। বক্সগুলো সোফার উপর রাখতেই হাসান শ্রবণের হাতে ছুরি ধরিয়ে দিয়ে বলে,

“কেক কাট।”

“এসবের কী প্রয়োজন ছিল?”

সিফাত বলে,

“প্রত্যেকবার এক কথা বলবি না, তোর প্রয়োজন নেই তবে আমাদের আছে। এখন দ্রুত কেক কাট, ভাই। খাওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না, সেই দশটা থেকে অপেক্ষা করে আছি কেক খাওয়ার জন্য।”

রাফি খোঁচা মে’রে বলে,

“পেটুক কোথাকার।”

সিফাত আঙুল তুলে বলে,

“তুই কেক খাবি না, খেলে খবর আছে।”

“একশবার খাবো তাতে তোর কী?”

“তাহলে তোর বোনকে বিয়ে করব।”

“আমার বোনের দিকে নজর দিলে তোর চোখ তুলে নেব।”

“তোর বোনের দিকে আরো আগেই নজর দিয়েছি, এখন থেকে আরো বেশি দেব।”

রাফি সিফাতকে ধরার জন্য হাত বাড়ায়। হাসান দুজনের মাঝখানে ঢুকে বলে,

“তোরা দুজন ছোটো বাচ্চা? ঝগড়া করছিস কেন এভাবে? চুপ থাক দুজন, শ্রবণ কেক কাট।”

সাকিব বলে,

“ভাবীকে নিয়ে আসতি।”

শ্রবণ সাকিবের দিকে তাকিয়ে বলে,

“না থাক।”

শ্রবণ কেক কেটে হাসানকে খাওয়াতে গেলে হাসান আগে ওকে খাওয়ায় তারপর নিজে খায়। একে একে সবাইকে কেক খাওয়ায় শ্রবণ, সবাই শ্রবণকেও খাওয়ায়। শ্রবণ কেকের বড়ো একটা পিস হাতে নিয়ে বেডরুমের দিকে এগিয়ে যায়। বাকিরা নিজেদের মতো কেক খাচ্ছে আর একে অপরের গালে লাগিয়ে দিচ্ছে।

সোহা দরজার দিকেই তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ। শ্রবণকে রুমে ফিরে আসতে দেখে দ্রুত চোখ বন্ধ করে নেয়। শ্রবণ বিছানার কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়ায়। সোহার উপর থেকে বাম হাতে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে দিয়ে বলে,

“সোহা, ওঠ একটু।”

সোহা শোয়া থেকে উঠে বসে। শ্রবণ কেকের পিসটা সোহার মুখের সামনে ধরে বলে,

“হা কর।”

সোহা শ্রবণের হাতটা ধরে শ্রবণের মুখের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলে,

“তুমি খাও আগে।”

“আমি খেয়েছি, তুই খা।”

সোহা আবার খেতে বলায় শ্রবণ একটু খায়, তারপর আস্তে আস্তে বাকিটা সোহাকে খাওয়ায়। ডিম লাইটের ম্লান আলোয় দুজন দেখছে একে অপরকে। আজকাল শ্রবণের একটু যত্নেই সোহার চোখজোড়া ভিজে ওঠে। শ্রবণ আর আগের মতো নেই, আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। যতটুকু সোহার খেয়াল রাখে, যত্ন করে ততটুকুও সোহার কাছে অপ্রত্যাশিত। এমন শ্রবণকে সোহা সারাজীবন চায়।

টিস্যু পেপার হাতে নিয়ে সোহার ওষ্ঠজোড়া মুছিয়ে দেয় শ্রবণ নিজেই। নিজের হাতে লেগে থাকা কেকের ক্রিম মুছতে মুছতে বলে,

“শুয়ে পড়, আমি একটুপর আসছি।”

সোহা বিছানা ছেড়ে নামার জন্য উদ্যত হতেই শ্রবণ বলে,

“নামছিস কেন?”

“পানি খাব।”

শ্রবণ গ্লাসে পানি ঢেলে সোহার হাতে দেয়। সোহা পানি পান করে শুয়ে পড়ে আবার। ও শুয়ে পড়তেই শ্রবণ রুম থেকে বেরিয়ে আসে। বন্ধুদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে একেকজনের চেহারার বারোটা বেজে আছে।
শ্রবণকে দেখে সিফাত বলে,

“যার পয়দা দিবস সেই তো চকচকা রয়েছে এখনো।”

শ্রবণ সামনে হাত বাড়িয়ে বাধা দেওয়ার মতো করে বলে,

“গুরুজনের সঙ্গে মস্করা করতে নেই, বাচ্চারা। আমি তোদের সকলের চেয়ে বড়ো তাই আমাকে সম্মান কর আর এই বা/লের ক্রিম লাগানো থেকে বিরত থাক।”

সাকিব বলে,

“ভুল বললি, ভাই। এটা বা/লের ক্রিম না, এটা পিওর দুধের ক্রিম।”

সাকিবের কথা আর বলার ধরন দেখে বাকিরা হা হা করে হেসে ওঠে।
হাসান হাসি থামিয়ে বলে,

“এখন চল সবাই।”

“এভাবে যাবো নাকি? এসব পরিষ্কার করতে হবে না?”

রাফির সঙ্গে একমত হয় বাকি তিনজন। শ্রবণ ওদের গেস্টরুমের ওয়াশরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিতে বলে।

পাঁচজন হাতমুখ ধুয়ে নেয়। হাসান বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছে দেখে সিফাত বলে,

“ভাই, একটু আস্তে তাড়াহুড়ো কর, তোর বউ আছে আমরা জানি।”

হাসান অবাক হয়ে বলে,

“বের হওয়ার সঙ্গে বউয়ের কী সম্পর্ক?”

“তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে এখন বউয়ের কাছে যাবি, তোর বউ নিশ্চই তোর অপেক্ষায় আছে। তোরা দুজন বিয়ে করে তো রাতে বাইরে বের হওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিস। আমরা অবিবাহিত সিঙ্গেল, আমাদের তো বউ নাই, তাই বউ অপেক্ষাও করে না, এই জন্য আমাদের তাড়াহুড়োও নেই।”

“ফালতু কথা বাদ দিয়ে চল এখন।”

“তুই যাবি তোর বউয়ের কাছে, শ্রবণ যাবে শ্রবণের বউয়ের কাছে, এখন আমরা অবিবাহিত সিঙ্গেলরা কোথায় যাব?”

“জাহান্নামে যা। শ্রবণ, আসছি আমি আগামীকাল দেখা হচ্ছে।”

বলতে বলতে হাসান দরজার দিকে এগিয়ে যায়। বাকিরাও শ্রবণের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এগিয়ে যায় দরজার দিকে। আগামীকাল ওদের ট্রিট দিতে যেন না ভোলে সেটাও মনে করিয়ে দিয়ে যায়। শ্রবণ ওদের পেছন পেছন এসে দরজা লক করে দেয় ভেতর থেকে।
বজ্জাতগুলো ড্রয়িংরুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে এই অল্প সময়ের মধ্যেই।
বেডরুমে এসে শুয়ে পড়ে সোহার দিকে ফিরে। সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকায়, কিছু বলার আগেই শ্রবণ সোহার চোখজোড়া হাত দিয়ে বন্ধ করে বলে,

“ঘুমা।”

সোহা উল্টো ফিরে শ্রবণের বুকে নিজের পিঠ ঠেকিয়ে নীরব হয়ে যায়। শ্রবণ সোহার গায়ের উপর হাত তুলে দিয়ে পেটের উপর রাখে। শ্রবণের হাতের উপর হাত রাখে সোহা। ব্ল্যাঙ্কেটের বাইরে থাকায় শ্রবণের হাত-পা বেশ ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।
শ্রবণের কানে সোহার করা প্রথম উইশ এখনো প্রতিধ্বনি হচ্ছে। ওর মনে হচ্ছে সোহা এখনো ফিসফিস করে বলছে, ‘হ্যাপি বার্থডে, বাবুর আব্বু’ ওর সব ধ্যান জ্ঞান দখল করে নিয়েছে সোহার বলা চারটা শব্দ।

সকালে সোহার ঘুম আগে ভাঙে। শ্রবণ আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে পেছন থেকে।
সোহা খুবই সাবধানে আস্তে আস্তে শ্রবণের হাত-পা সরিয়ে দেয় নিজের উপর থেকে। শোয়া থেকে উঠে বসতেই শ্রবণের ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ঘুম চোখের পাতা টেনে তুলে আবার বন্ধ করে নেয়। সোহার পেট সহ কোমর পেঁচিয়ে ধরে ঘুম জড়ানো ভারী গলায় বলে,

“উঠছিস কেন?”

“সকাল হয়ে গেছে।”

“হোক, শুয়ে থাক তুই, ঘুম হয়নি আমার।”

“ওয়াশরুমে যাব।”

“এক ঘন্টা পর পর কীসের এত ওয়াশরুমের চাপ আসে তোর?”

সোহা বিস্ময় নিয়ে বলে,

“কোথায় এক ঘণ্টা পর পর ওয়াশরুমে যাই?”

“যাস না কখন সেটা বল। রাতে শোয়ার পর দুই ঘন্টাও পার হয়নি, গেলি ওয়াশরুমে। শোয়ার পর আবার গেলি ফজরের আগে আগে। আবার এখন যাচ্ছিস।”

“এক ঘন্টা পর পর হলো?”

“হলো না?”

“না। ছাড়ো এখন।”

শ্রবণ ছেড়ে দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে বলে,

“দ্রুত আসবি।”

সোহা বলে না কিছু। বিছানা ছেড়ে নেমে চাদর গায়ে জড়িয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। বাবু পেটে আসার তিন মাস পর থেকে ওর ওয়াশরুমের চাপ বেড়েছে। এই শীতের মধ্যে রাতে উঠতে যে কত কষ্ট লাগে। শ্রবণ তো ভীষণ বিরক্ত হয় রাতে যখন ও ওয়াশরুমে যায়।

ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হয়। শ্রবণ ঘুমিয়ে গেছে আবার। রাতে দ্বিতীয়বার শোয়ার পর শ্রবণ আর ঘুমোতে পারেনি বললেই চলে, ঘুমিয়েছিল ফজরের আযানের পর।

সোহা ড্রয়িংরুমে এসে দেখে মাজেদা আন্টি ফ্লোর পরিষ্কার করছেন। সোহাকে দেখে উনি বলেন,

“রাতে কারা এসেছিল?”

“ওর বন্ধুরা এসেছিল।”

“ওহ।”

ড্রয়িংরুম পরিষ্কার করে রান্নাঘরে ফিরে যান মাজেদা আন্টি। সোহা ওনার পেছন পেছন এসে বলে,

“আন্টি, আপনি শুধু নাস্তা বানান, দুপুরের রান্না আমি করব। আর আপনি দুপুরের খাবার এখানে খেয়ে যাবেন।”

“দুপুরে এখানে খাওয়া সম্ভব না, সোহা। আমাকে দুপুরের আগেই বাড়িতে ফিরতে হয় তুমি জানোই।”

“তাহলে দুপুরের খাবার নিয়ে যাবেন।”

“আচ্ছা।”

সোহা রান্নাঘর থেকে ফিরে আসে বেডরুমে। না শুয়ে শ্রবণের পাশে বসে ফোন দেখতে শুরু করে।

নাস্তা সেরে বেরিয়ে গেছে শ্রবণ। সোহা মাজেদা আন্টির সাহায্য নিয়ে দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দুপুর হয়ে এলেও শ্রবণ ফিরছে না। অধৈর্য হয়ে সোহা শ্রবণের ফোনে কল করে।
শ্রবণ বন্ধুদের সঙ্গে রেস্টুরেন্টে এসেছে। সোহাকে কল করার জন্যই পকেট থেকে ফোন বের করেছিল মাত্র। সোহার কল দেখে সঙ্গে সঙ্গেই রিসিভ করে।

“হ্যালো।”

“হ্যাঁ, বল।”

“কোথায় তুমি? কখন ফিরবে?”

“বাইরে আছি, ফিরতে দেরি আছে।”

“খাবে না?”

সোহার গলার স্বর মলিন শোনালো। শ্রবণ বলে,

“তুই খেয়েনে, আমি বাইরে খাব।”

“এসে খেয়ে যাও।”

“যা বলেছি তা কর।”

“আচ্ছা।”

সোহা কল কে’টে দেয়। মলিন মুখে কিছুক্ষণ ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে ফোন বিছানার উপর ছুঁড়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে। কত আশা নিয়ে রান্না করেছিল শ্রবণের জন্য।
মন খারাপ করে খাবার খাওয়ার জন্য বসে চেয়ার টেনে। অভিমানে চোখজোড়া ভিজে উঠছে বারবার। নিজের উপরই রাগ হচ্ছে এখন, কেন এত বেশি আশা করে শ্রবণের কাছে? ও তো জানে শ্রবণ কেমন। জানেই তো শ্রবণের উপর জোর খাটিয়ে বা মুখের উপর কিছু বলতে পারবে না। সাহস করে তো বলতেই পারতো, ‘আমি তোমার জন্য রান্না করেছি, তুমি দ্রুত আসো দুজন একসঙ্গে খাব।’ বলতে তো পারলো না তাহলে কেন এত আশা রাখল?

চলবে………..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply