দিশেহারা (৫৪)
সানা_শেখ
দুজনের চিৎকার শুনে একপ্রকার দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে সোহা। শ্রবণ ওর দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগী গলায় বলে,
“এই ডাইনীর বাচ্চা, এভাবে হাঁটছিস কেন? কিছু হয়ে গেলে? আস্তে হাঁট।”
সোহা হাঁটার গতি কমিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে বলে,
“কার কী হয়েছে? এভাবে চিৎকার করলো কে?”
“তোর শ্বশুর আর শাশুড়ি ম’রার দুয়ারে কড়া নাড়ে।”
“মা… মানে? কী হয়েছে?”
শ্রবণ দুই কদম এগিয়ে সোহার হাত মুঠো করে ধরে বলে,
“আয় দেখাচ্ছি।”
সোহা শ্রবণের সঙ্গে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করে। শাহীন রেজা চৌধুরীও রুম থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এসে দেখেন বড়ো ভাই আর ভাবী সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে আছেন। তনিমা চৌধুরীর মাথা ফেটে র’ক্ত পড়ছে। শ্রবণ পাশেই দাঁড়িয়ে আছে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে। ওর বাম হাতের মুঠোয় সোহার হাত। সোহার চেহারায় অস্থিরতা, উদ্বিগ্নতা স্পষ্ট তবে শ্রবণের জন্য দুজনের কাছে যেতে পারছে না।
সিয়াম আর স্পর্শ বাড়ির বাইরে ছিল, দুজনের চিৎকার শুনে ভেতরের দিকে এগিয়ে আসছে। সিঁড়ির গোড়ায় বাবা-মাকে পড়ে থাকতে দেখে স্পর্শ ছুটে আসে। শাহীন রেজা চৌধুরী ভাইকে ধরে তুলে বসান। স্পর্শ রাগ অভিমান ঝেড়ে মাকে ধরে উদ্বিগ্ন হয়ে বলে,
“আম্মু, কী হয়েছে তোমার? কীভাবে পড়েছ?”
তনিমা চৌধুরী হাত দিয়ে শ্রবণকে দেখান। এতগুলো সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়ে মাথা তো ফেটেছেই সঙ্গে মনে হচ্ছে শরীরের হাড়গোড় সব ভেঙে গেছে। ইতি মধ্যে কপালও ফুলে উঠেছে। মাথা ব্যথায় কোকাচ্ছেন, চোখ দুটো অন্ধকার হয়ে আসছে। স্পর্শ এক হাতে মাকে ধরে রেখে অন্য হাতে মায়ের ফাটা মাথা চেপে ধরে আছে।
তনিমা চৌধুরী ব্যথাতুর কন্ঠে বলেন,
“শ্রবণ ধাক্কা দিয়েছে আমাকে সিঁড়ির উপর থেকে।”
এমন কথা শুনে চারজন একসঙ্গে শ্রবণের মুখের দিকে তাকায়। শামীম রেজা চৌধুরী বলেন,
“এটা কোন ধরনের বেয়াদবি, শ্রবণ? আমাদের এভাবে কেন ফেললে?”
শ্রবণ বাবার দিকে তাকিয়ে বজ্র কন্ঠে বলে,
“আমাকে বেয়াদব বলছিস? বেয়াদব তো তুই।”
“শ্রবণ।”
“চুপ, একদম গলা উঁচিয়ে কথা বলবি না আমার সামনে।”
“ভদ্রভাবে কথা বলো।”
“ভদ্রভাবেই কথা বলছি আমি। তোরা এর চেয়ে বেশি ভদ্রতা ডিজার্ভ করিস না।”
“দিন দিন তোমার অসভ্যতা আর অভদ্রতা বেড়েই চলেছে।”
শ্রবণ আশপাশে নজর বুলিয়ে সোহার হাত ছেড়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। একটা ভারী সিরামিকের ফুলদানি হাতে নিয়ে এগিয়ে আসে আবার। চোখমুখ গম্ভীর তবে রাগ স্পষ্ট। ওর চেহারাই বলে দিচ্ছে এই ফুলদানি দিয়ে এখন কী করবে। সিয়াম আর স্পর্শ ছুটে এসে শ্রবণকে ধরে। সিয়াম বড়ো ভাইয়ের হাত থেকে ফুলদানি নেওয়ার চেষ্টা করতে করতে বলে,
“ভাইয়া, তুমি কী করতে চাইছ? ছাড়ো এটা।”
“ছাড় আমাকে।”
শাহীন রেজা চৌধুরী দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে শ্রবণের হাত থেকে ফুলদানি কেড়ে নেন। শ্রবণের ডান হাত এখনো ঠিক হয়নি সেজন্যই নিতে পেরেছেন নয়তো এত সহজে নিতে পারতেন না। স্পর্শ বলে,
“ভাইয়া, তুমি এখনো অসুস্থ, প্লীজ শান্ত থাকো, ধস্তাধস্তি করলে পেটে ব্যথা পাবে।”
শ্রবণ বাবার দিকে তাকিয়ে বজ্র কন্ঠে বলে,
“তোর বউকে ধাক্কা দিয়েছি বলে খুব জ্বলছে তাইনা? তোর বউ যখন আমাকে সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল তখন জ্বলেনি? বিনা দোষে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল, কিন্তু আমি তো বিনা দোষে ফেলিনি। আর একটা কথা বলবি তো এই ফুলদানি দিয়ে বারি মে’রে তোর মাথাও ফাটিয়ে দেব।”
সামাদ চৌধুরী ধীর পায়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলেন,
“আবার কী হয়েছে? তনিমার মাথা ফাটলো কীভাবে? শামীমের কী হয়েছে?”
শাহীন রেজা চৌধুরী বাবার দিকে তাকিয়ে বলেন,
“শ্রবণ ভাইয়াকে আর ভাবীকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির উপর থেকে ফেলে দিয়েছে।”
শ্রবণ তনিমা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলে,
“তোর বাপদের কাছে গিয়ে বল শ্রবণ চৌধুরী তোদের সিঁড়ির উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে খু’ন করতে চেয়েছিল। মামলা টামলাও করে আয়, পারলে তোর বাপদের সঙ্গে করে এনে আমাকে জেলে ভরে দে।”
তনিমা চৌধুরী কিছু না বলে মাথা চেপে ধরে বসে রইলেন। ব্যথায় জান যায় যায়। শ্রবণ খুব ভালো করেই জানে কেউ ওর বিরুদ্ধে কিছু বলবে না বা করবেও না। এমন কিছু হলে শ্রবণ সবাইকে রাস্তায় নামাবে এটা সবাই জানে তাইতো অন্যায় দেখলেও চুপ করে থাকে। তনিমা চৌধুরীর মাথা থেকে টপটপ করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ফ্লোরে। সামাদ চৌধুরী বলেন,
“শ্রবণকে ছেড়ে তনিমাকে হসপিটালে নিয়ে যাও।”
শ্রবণ তনিমা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে কটাক্ষ করে বলে,
“এত উতলা হওয়ার কিছু হয়নি, কৈ মাছের জান, ম’রবে না এত সহজে।”
স্পর্শ আর সিয়াম শ্রবণকে ছেড়ে তনিমা চৌধুরীকে দুপাশ থেকে ধরে নিয়ে বাইরের দিকে এগিয়ে যায়। শাহীন রেজা চৌধুরী বড়ো ভাইকে ধরে তোলেন নিচ থেকে। শামীম রেজা চৌধুরী পায়ে বেশ ব্যথা পেয়েছেন, ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছেন না। কপালে আর মাথায়ও বেশ ব্যথা পেয়েছেন।
সোহা বিস্মিত আর আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শ্রবণের দিকে। শ্রবণ ওর দিকে ঘাড় কাত করে তাকায়। গম্ভীর গলায় বলে,
“কী হয়েছে?”
সোহা দ্রুত দুদিকে মাথা নেড়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সামাদ চৌধুরী শ্রবণের কাছে এগিয়ে এসে বলেন,
“ওদের এভাবে ফেলেছ কেন?”
“সিঁড়ি থেকে না ফেলে ছাদের উপর থেকে ফেলে দেওয়া উচিত ছিল। তুমি কষ্ট করে আবার রুম থেকে বের হয়েছো কেন? রুমে চলো।”
সামাদ চৌধুরী শ্রবণকে বোঝানোর মতো করে বলেন,
“যতই হোক ওরা তোমার বাবা-মা, ওদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়।”
“ওদের বাবা-মা বলে মানে কে? আমার বাবা-মা হওয়ার যোগ্যতা ওদের নেই।”
সামাদ চৌধুরী আর কিছু বলেন না, বলে লাভও নেই। এই ছেলে নিজের মর্জির বাইরে চলবে না এটা সবাই জানে।
রাত আটটা বাজতেই শ্রবণ আর সোহার খাবার রুমে দিয়ে যায় একজন মেড। দুপুরেও রুমেই খেয়েছে দুজন। সামাদ চৌধুরী খাবার খেয়ে ঔষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েছেন। হসপিটাল থেকে এখনো কেউ বাড়ি ফেরেনি। শ্রবণ বা সোহা দুজনের একজনও শামীম রেজা চৌধুরী আর তনিমা চৌধুরীর ব্যাপারে কিছুই জানে না। শ্রবণের জানার ইচ্ছেও নেই তবে সোহার জানার ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই আর সাহসও নেই।
শ্রবণ খাওয়ার জন্য আয়েশী ভঙ্গিতে বিছানায় উঠে বসে। সোহা হাত ধুয়ে একটা প্লেট হাতে নিয়ে শ্রবণের সামনে বসে।
“হা করো।”
শ্রবণ ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সোহার মুখের দিকে তাকায় তারপর হাতের দিকে। হা করে খাবার মুখে নিয়ে আবার ফোনের স্ক্রিনে তাকায়। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে মেসেজ করছে।
“তুইও খা।”
সোহা মুখ তুলে শ্রবণের মুখের দিকে তাকায়, শ্রবণ-ও মুখ তুলে সোহার দিকে তাকায়।
“খা। প্রত্যেকবার কেন বলতে হয়?”
সোহা নিজের মুখে খাবার পুরে শ্রবণের মুখে পুরে দেয়।
রাত দশটা নাগাদ বাড়িতে ফেরে পাঁচজন। শামীম রেজা চৌধুরীর ডান পা মোচকে গেছে। কপালে ছিলে গেছে, ফুলে গেছে। কনুই, মাজা সহ আরো কয়েক জায়গায় ছিলে গেছে।
তনিমা চৌধুরীর চুল কে’টে ফেলতে হয়েছে। ওনার মাথার দুপাশে বেশ ক্ষত হয়েছে।
স্পর্শ মাকে ধরে তার রুমে নিয়ে আসে। তনিমা চৌধুরী বিছানায় বসে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলেন কিন্তু স্পর্শ তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
“অনেক বলেছ, তোমরাও দুধে ধোয়া তুলসী পাতা নয়। তুমিও তো ভাইয়াকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির উপর থেকে ফেলে দিয়েছিলে, তখন ভাইয়ারও নিশ্চই এমনই অবস্থা হয়েছিল।”
“তুই দেখেছিস আমি ওকে ধাক্কা দিয়েছি?”
“না দেখলাম, শুনেছি তো। তোমরা কথা ভালো আমার জানা আছে।”
কথাগুলো বলে আর এক মুহুর্তও দেরি করে না স্পর্শ, দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। শামীম রেজা চৌধুরী রুমে ঢুকতেই তনিমা চৌধুরী বলেন,
“তোমার বড়ো ছেলে যেন এই বাড়িতে আর না আসে।”
শামীম রেজা চৌধুরী গায়ের টিশার্ট খুলতে খুলতে গম্ভীর হয়ে বলেন,
“যাও, গিয়ে বলে আসো ও যেন এই বাড়িতে না আসে।”
“তুমি গিয়ে বলো।”
“আমি কেন বলব? স্পর্শ যেমন আমার ছেলে, শ্রবণ-ও তেমন আমারই ছেলে। আমার এক ছেলেকে আমি বাড়িতে রাখবো আরেক ছেলেকে বাড়িতে আসতে নিষেধ কেন করব? তাছাড়া এই বাড়ির অর্ধেক মালিক বর্তমানে শ্রবণ। বাড়ির মালিককে আমি নিষেধ করবো যে বাড়িতে এসো না আর?”
“বড়ো ছেলের জন্য দেখছি খুব দরদ উথলে পড়ছে আজকাল।”
“তনিমা, মাথা গরম করাবে না আমার।”
“আমি মাথা গরম করাচ্ছি?”
“হ্যাঁ। আমার অগচরে তুমি আর তোমার বোন মিলে আমার বড়ো ছেলের সঙ্গে কি কি করেছো সেসব এখন আর আমার অজানা নেই। শ্রবণ যে তোমাকে আর তোমার মা-বোনকে ডাইনী আর শ’য়’তান ডাকে তা শুধু শুধু না, ঠিকই ডাকে। তোমার প্ররোচনায় পড়ে, তোমার সঙ্গে থেকে থেকে আমিও শ’য়’তান আর জানোয়ার হয়ে গেছি। কম তো অন্যায় অবিচার করিনি শ্রবণের সঙ্গে। তোমার জন্য আর নিজের ভুলের জন্য আমার প্রথম স্ত্রীকে আর তোমার বোনের জন্য আমার মেয়েকেও হারিয়েছি। নিজের হাতে নিজের বড়ো ছেলের জীবন নরকে পরিণত করেছি, ওর জীবন নষ্ট করেছি। শ্রবণ যদি আমাকে খু’নও করে ফেলে তবুও ওর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল তোমাকে ভালোবাসা আর বিয়ে করা।”
তনিমা চৌধুরী রেগে স্বামীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। শামীম রেজা চৌধুরী খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন। আজকাল আর কিছুই ভালো লাগে না ওনার। এতগুলো বছর পর এসে নিজের করা অন্যায় আর ভুলগুলো উপলব্ধি করতে পারছেন। এতকাল চোখ থাকতেও অন্ধ আর কান থাকতেও বধির হয়ে থেকেছেন। ভুলগুলোকেও ঠিক ভেবেছেন, সবকিছুতেই শুধু শ্রবণের দোষ চোখে পড়েছে। স্বার্থপর হয়ে গিয়েছিলেন বড়ো ছেলের বেলায়।
এতকাল শ্রবণের মায়ের কথা মনে পড়েনি তবে আজকাল ভীষণ মনে পড়ে। মেয়ের কথা মনে পড়ে, বড়ো ছেলেকে মিস করেন। বুক ভার হয়, শ্বাস ভারী হয়ে আসে, দম নিতে গিয়ে বুঝতে পারেন পাপের ভারে নুয়ে পড়েছেন ধীরে ধীরে।
রাত গভীর। চারপাশ নিস্তব্ধ। গভীর ঘুমে বিভোর হয়ে থাকা শ্রবণ হঠাতই ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে শোয়া থেকে উঠে বসে। পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে। এই কনকনে শীতের মধ্যেও ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গেছে। পাগলের মতো অস্থির হয়ে বিছানা হাতড়ে সোহাকে খোঁজে। বিছানায় সোহাকে না পেয়ে চিৎকার করে ডাকতে শুরু করে সোহার নাম ধরে।
সোহা ওয়াশরুমে ছিল। তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে শ্রবণের কাছে এগিয়ে আসতে আসতে বিচলিত হয়ে বলে,
“কী হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন? আমি এখানেই, এই যে।”
শ্রবণ ঘুরে সোহার দিকে তাকায়। উন্মাদের মতো ব্ল্যাঙ্কেটের নিচ থেকে বেরিয়ে পা ঝুলিয়ে বসে সোহার কোমর জড়িয়ে ধরে শক্ত করে।
অস্থির হয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে,
“কো… কোথায় গিয়েছিলি আমাকে ছেড়ে?”
শ্রবণকে ধরে সোহা শকড। এমন ঘেমে গেছে কেন? সোহা যখন ওয়াশরুমে গেলো তখন তো শ্রবণ এমন ঘামে ভেজা ছিল না। এত ভয় পেয়ে আছে কেন? স্বপ্নে কিছু দেখেছে? বিয়ের পর প্রথম কয়েকদিন এমন চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে বসতো, তখন ঘামে জবজবে হয়ে থাকতো পুরো শরীর। তারপর এতগুলোদিন পেরিয়ে গেছে এমন কিছু আর হয়নি। সোহা নিজেও শ্রবণকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম। তোমার কী হয়েছে? চিৎকার করেছিলে কেন? বাজে স্বপ্ন দেখেছ?”
শ্রবণ সোহার বুকে মুখ গুঁজে রেখেই কম্পিত স্বরে বলে,
“আমি ঘুমিয়ে থাকলে তুই আমার কাছ থেকে দূরে সরবি না। ওয়াশরুমে গেলে আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তারপর যাবি।”
সোহা নিজের ওড়না দিয়ে শ্রবণের ঘাড় গলা মুছে দিতে দিতে বলে,
“কী স্বপ্ন দেখেছ? এমন করছো কেন?”
“ওই স্বপ্ন আমি আর মনে করতে চাই না। তুই আমার কাছ থেকে দূরে সরবি না।”
“আচ্ছা, ঠিক আছে। ছাড়ো পানি নিয়ে আসি পানি খাও।”
শ্রবণ সোহাকে ছাড়তে চায় না, সোহা নিজেই শ্রবণের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রুমের লাইট অন করে গ্লাসে পানি ঢেলে নিয়ে আসে। শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে আরেক দফায় শকড সোহা। শ্রবণের দুই চোখে পানি টুইটুম্বর, কয়েকফোঁটা গড়িয়েও পড়েছে। চেহারায় এখনো স্পষ্ট ভয় আর আতঙ্ক। কেমন অস্থির হয়ে আছে, এখনো দরদর করে ঘামছে। সোহার বুকের ভেতর কেমন যেন করে ওঠে। শ্রবণের চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে ওকে পানি খাওয়ায়।
হাতের গ্লাস রেখে দুই হাতে শ্রবণের মুখ আগলে ধরে বলে,
“কী দেখেছো স্বপ্নে?”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে সোহার হাতের উপর হাত রেখে বলে,
“তুই বাবু—
বাকি কথা বলতে পারে না শ্রবণ। ওর গলার স্বর রোধ হয়ে এসেছে, চোখজোড়ায় পানি টলমল করছে। সোহা শ্রবণকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“তোমাকে একা ছেড়ে কোথাও যাবো না আমরা। তুমি ঘুমিয়ে থাকলে তোমাকে একা ছেড়ে দূরে যাবো না আর।”
“আমরা সকালেই চলে যাবো এখান থেকে। এই বাড়ি অভিশপ্ত। এই বাড়ি আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। তোরা এখানে থাকলে—
না না, আমি তোদের এখানে আর রাখবো না, কোনোদিন আনবো না আর তোদের এই বাড়িতে।”
চলবে………
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৪৭
-
দিশেহারা পর্ব ২৪
-
দিশেহারা পর্ব ১৭
-
দিশেহারা পর্ব ৯
-
দিশেহারা পর্ব ৪০
-
দিশেহারা পর্ব ৫১
-
দিশেহারা পর্ব ৩৩
-
দিশেহারা পর্ব ১৪
-
দিশেহারা পর্ব ১০
-
দিশেহারা পর্ব ২৭