দিশেহারা (৫৩)
সানা_শেখ
শ্রবণ আর সোহাকে একা ছেড়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায় হাসান। শ্রবণ সোহার চুলের ভাঁজে হাত গলিয়ে বলে,
“সকালে খেয়েছিস?”
সোহা শ্রবণের বুক থেকে মুখ তুলে দুদিকে মাথা নাড়ে।
“এখনো খাসনি কেন? কেউ খেতে দেয়নি?”
সোহা চোখমুখ মুছে জড়ানো গলায় বলে,
“তুমিও তো খাওনি। গতকাল দুপুরে খাওনি, রাতে খাওনি, খিদে পায়নি তোমার?”
“আমার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের চিন্তা কর।”
“বাবুর আব্বু যদি ভালো না থাকে তাহলে বাবুর আম্মু কীভাবে ভালো থাকবে? আমাদের ভালো রাখার জন্য যদি তুমিই না থাকো তাহলে আমরা কীভাবে ভালো থাকব?”
“তুই এখন একা নোস, বাবু আছে তোর সঙ্গে।”
“বাবুর আব্বু তো সুস্থভাবে ফেরেনি আমার কাছে।”
“বুঝতে পারছি তুই পাগল হয়ে গেছিস, তোকে পাগলা গারদে পাঠাতে হবে।”
“আমার সঙ্গে তুমিও যাবে।”
“কেন?”
“তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না আমি।”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সোহার চোখজোড়া টুইটুম্বর হয়ে আছে। চেহারা শুকনো মলিন, ওষ্ঠজোড়া শুষ্ক। এক রাতেই কি হাল করেছে নিজের।
“তোমার কষ্ট হচ্ছে না বসে থাকতে? শুয়ে থাকো। শরীরও ঠান্ডা হয়ে গেছে।”
“স্পর্শকে ডাক আবার।”
সোহা বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। শ্রবণ আস্তে আস্তে শুয়ে পড়ে শরীর ঢেকে।
স্পর্শ ভেতরে আসতেই শ্রবণ ওর দিকে তাকিয়ে বলে,
“সোহার জন্য খাবার নিয়ে আসো।”
“চাচ্চু খাবার নিয়ে আসছে।”
শ্রবণ আর কিছু বলে না। স্পর্শ বেরিয়ে যায়। সোহা শ্রবণের পাশে এসে বসে। শ্রবণ সোহার পেটের দিকে তাকায়। ব্ল্যাঙ্কেটের নিচ থেকে হাত বের করে সোহার পেটের উপর হাত রাখে। শ্রবণের হাতের উপর হাত রাখে সোহা। সোহার চোখজোড়া হতে এখনো টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছে। শ্রবণের গায়ের আঘাতের চিহ্নগুলোর কথা মনে হতেই কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“কাঁদিস না।”
“যেই জানোয়ারগুলো তোমাকে এভাবে আঘাত করেছে ওদের কাউকে আস্ত ছাড়বে না। কতটা হিংস্রতা নিয়ে তোমাকে মে’রে’ছে জানোয়ারগুলো। যেই হাত আর পা দিয়ে আঘাত করেছে তোমাকে সেই হাত-পা ভেঙে দেবে।”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে হাত উচুঁ করে সোহার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়। সোহার এমন কষ্ট ওর মোটেও সহ্য হচ্ছে না। সোহার কান্না কাটার মতো বিধছে ওর কানে। মন অস্থির হয়ে আছে, বুকের গভীরে কোথাও যেন র’ক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে, অসহায় যন্ত্রণায় ভারী হয়ে উঠেছে হৃদয়।
শ্রবণকে খাওয়ানোর জন্য স্যুপের বাটি নিয়ে ওর পাশে বসে সোহা। শ্রবণ আধশোয়া অবস্থায় রয়েছে ঠেস দিয়ে।
“তুই আগে খেয়েনে।”
“তুমি খাও তারপর খাচ্ছি।”
“গতকাল দুপুরে খেয়েছিলি?”
“হ্যাঁ।”
“বিকেলে?”
“বিকেলে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, তোমাকে নিয়ে বাজে স্বপ্ন দেখে সন্ধ্যায় ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। ভীষণ অস্থির অস্থির লাগছিল তাই তোমার খোঁজে নেওয়ার জন্য কল করেছিলাম। রুস্তম নামের কেউ একজন কল রিসিভ করে তোমার অবস্থা সম্পর্কে জানায়।”
“শুনেই এভাবে প্যানিক করতে হবে? যদি বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটত? এরপর কোনোদিন আর এমন করবি না। আমি ম’রে গেছি শুনলেও না।”
সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, চোখজোড়া হতে আবার টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছে। শ্রবণ বুঝতে পারে না এই মেয়ের চোখে এত পানি কেন। কোথা থেকে আসে এত পানি? ঝরতেই থাকে ঝরতেই থাকে তবুও শেষ হয় না।
সোহা চোখের পানি মুছে শ্রবণকে খাওয়াতে শুরু করে। শ্রবণ চুপচাপ খায় আর সোহাকে দেখে।
“আমাকে এত ভালো না বাসলেও পারতি, এত ভালোবাসার প্রয়োজন ছিল না।”
সোহার হাত থেমে যায় শ্রবণের মুখের কাছে গিয়ে। শ্রবণ কিছুক্ষণ হা করে থাকার পর বলে,
“দিচ্ছিস না কেন? দে।”
সোহা খাওয়াতে শুরু করে আবার। রাগ হচ্ছে শ্রবণের উপর কিন্তু প্রকাশ করার সাহস হচ্ছে না।
শ্রবণ হসপিটালে ভর্তি আছে আজকে চতুর্থ দিন। আজকে ওকে রিলিজ দিয়ে দেবে। শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলো নীল আর কালচে হয়ে আছে। ফর্সা দেহে নীল আর কালচে ভাব বিশ্রী দেখাচ্ছে। দেখে মনে হয় শরীরের চামড়া আর মাংস পচে গেছে। শরীরের দাগগুলো দেখলেই সোহার কান্না পায়।
হঠাৎ কেবিনের দরজায় নক হয়। শ্রবণ প্রবেশের অনুমতি দিতেই দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে হাসান। শ্রবণের কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়ায়। নিচু গলায় বলে,
“তুই ওদের মা’রতে লোক পাঠিয়েছিলি?”
শ্রবণ প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“কাদের?”
“আবিদদের।”
“না। আমি কেন ওদের মা’রতে লোক পাঠাবো? ওদের মা’রবো তো নিজের হাতে যত্ন নিয়ে।”
“তুই ওদের মা’রতে লোক পাঠাসনি?”
“না। আমি লোক পাবো কোথায় ওদের মা’রার জন্য?”
“কারা যেন ওদের মা’রতে মা’রতে প্রায় মে’রেই ফেলেছে। একেকটার অবস্থা করুণ। ডান হাত আর বাম পা ভেঙে দিয়েছে সবগুলোর। কার কার যেন দাঁতও ভেঙে ফেলেছে দেখলাম। এই শীতের মধ্যে কাপড়চোপড় খুলে শুধু আন্ডারওয়ার পরিয়ে রেখে মে’রেছে তারপর আবার সবগুলোকে পুকুরের ঠান্ডা পানিতে চুবিয়েছেও। বুঝতে পারছিস কেমন নৃশংসতা চালিয়েছে ওদের উপর? আমি তো জানার পর ভেবেছি তুই এসব করিয়েছিস।”
“আমি এসব কিছুই করাইনি। আমি তো জানলামোই মাত্র তোর কাছে। সবগুলো কোথায় এখন?”
“ঢাকা মেডিকেলে। অবস্থা খারাপ সবগুলোর।”
“তুই কীভাবে জানলি?”
“ফেসবুক থেকে। তুই তো কিছু করিসনি তাহলে কারা ওদের এই অবস্থা করল?”
“ওরা কিছু বলেনি?”
“একটায়ও কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।”
শ্রবণ চুপ করে আছে। এর মধ্যে সোহা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। শ্রবণ সোহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমার ফোনটা দে তো।”
সোহা চার্জারের ক্যাবল থেকে ফোন খুলে শ্রবণের হাতে দেয়। শ্রবণ বাবার নাম্বারে ডায়াল করে। কতকাল পর এই নাম্বারে ডায়াল করল হিসেব নেই। নাম্বার ওর ফোনে আছে প্রথম থেকেই তবে ব্লক লিস্টে।
তনিমা চৌধুরী শামীম রেজা চৌধুরীর ফোন হাতে নিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে আছেন স্ক্রিনে শ্রবণের নাম দেখে। শ্রবণ কেন কল করলো এই ফোনে?
শামীম রেজা চৌধুরী ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে বলেন,
“কে কল করেছে?”
“তোমার বড়ো ছেলে।”
শামীম রেজা চৌধুরী দ্রুত তনিমা চৌধুরীর কাছ থেকে ফোন নিজের হাতে নেন। রিসিভ করবে ঠিক তখনই কল কে’টে যায়।
ফোন আনলক করবেন তখনই আবার ফোনে রিং বেজে ওঠে। দ্রুত রিসিভ করে কানে ধরেন। কিছু বলার আগেই শ্রবণ গম্ভীর গলায় বলে,
“শামীম রেজা?”
“হ্যাঁ। কেমন আছো?”
“ওদের কেন মে’রেছেন?”
“কাদের?”
“না বোঝার ভান ধরবেন না, আমি জানি আপনিই ওদের মে’রেছেন?”
শামীম রেজা চৌধুরী স্ত্রীর দিকে তাকান। তনিমা চৌধুরী শকুনি দৃষ্টিতে ওনার দিকে তাকিয়ে আছেন।
“নিচে গিয়ে নাস্তা রেডি করতে বলো।”
“শ্রবণ কী বলছে?”
“নিচে যাও।”
তনিমা চৌধুরী যান না কোথাও। শামীম রেজা চৌধুরী টাওয়েল পরেই ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ান দরজা লাগিয়ে দিয়ে।
শ্রবণ ওপাশ থেকে আবার বলে,
“কেন মে’রেছেন ওদের?”
“কাদের মে’রেছি? আমি কেন কাউকে মা’রতে যাব? আমি কাউকেই মা’রিনি।”
“আপনি নিজের হাতে তো মা’রেননি, লোক দিয়ে মে’রেছেন। মিথ্যে বলে লাভ নেই, আমি শিওর যে আপনিই ওদের মে’রেছেন লোক দিয়ে।”
শামীম রেজা চৌধুরী চুপ করে রইলেন। শ্রবণ ক্ষোভ নিয়ে বলে,
“আমি ওদের নিজের হাতে মা’রতে চেয়েছি, আপনি কেন এর মধ্যে বাম হাত ঢুকালেন?”
“আমার ছেলে হসপিটালের বেডে পড়ে থাকবে আর ওরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবে এটা তো হওয়ার নয়।”
“ছেলে! ছেলের জন্য দরদ উথলে পড়ছে নাকি এখন? যখন নিজের হাতে আঘাত করতেন তখন ছেলের জন্য দরদ লাগতো না? আপনার সো কল্ড দ্বিতীয় স্ত্রী যখন বিনা দোষে আঘাত করতো তখন দরদ উথলে ওঠেনি? ছোটো বেলা থেকে এতবার হসপিটালে ভর্তি হয়েছি তখন দরদ উথলে ওঠেনি? এখন কেন দরদ উথলে পড়ছে? নেক্সট টাইম আমার কোনো ব্যাপারে বাম হাত ঢুকালে আপনার হাতই ছিঁড়ে নেবো আমি। বা/লের দরদ দেখাতে এসেছে। এই চ্যাডের দরদ আপনার ছোটো ছেলে আর ছোটো বউয়ের জন্য দেখাবেন, আমার জন্য না।”
“আমি চাইলে আমার ছেলেকে খু’ন করেও ফেলতে পারি তবে বাইরের কেউ আমার ছেলের গায়ে টোকা দিয়ে চলে যাবে আর আমি জেনেও চুপ থাকবো এমনটা নয়।”
“আগে তো থেকেছেন, উল্টো আমাকেই মে’রেছেন তখন। আপনার এসব আলগা পিরিত আমাকে দেখাতে আসবেন না, হাসি পায়। আমাকে আঘাত করার জন্য যদি কাউকে শাস্তি দিতে চান তবে সবচেয়ে বেশি শাস্তি নিজেকে দিন তারপর আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীকে।”
কল কে’টে দেয় শ্রবণ। হাসান আর সোহা দুজনেই বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে শ্রবণের মুখের দিকে। হাসান বিস্ময় প্রকাশ করে বলে,
“আংকেল এসব করিয়েছেন?”
“হ্যাঁ।”
“তুই কীভাবে বুঝলি আংকেল এসব করিয়েছেন?”
“ওদের নাম আমি শুধুমাত্র তোর কাছেই বলেছি, তখন উনি আর সোহা শুনেছে। সোহা আর তুই কাউকে বলবি না এটা আমি জানি। তাহলে আর ওদের বিষয়ে জানলো টা কে?”
“তবুও তুই শিওর হলি কীভাবে? অন্য কেউ অন্য কোনো কারণেও তো ওদের এই অবস্থা করতে পারে।”
শ্রবণ বলে না কিছু। হাসান ওকে ছেলেগুলোর অবস্থা সম্পর্কে বলার পরেই শামীম রেজা চৌধুরীর কথা মাথায় এসেছে শ্রবণের। ওর মন জোর দিয়েই বলেছে এসব ওর বাবা করিয়েছে।
সকাল দশটা নাগাদ ফ্ল্যাটে এসে পৌঁছেছে শ্রবণ আর সোহা। সামাদ চৌধুরী, সিয়াম আর স্পর্শ হাজারবার বলেও বাড়িতে যাওয়ার জন্য ওকে রাজি করাতে পারেনি। শ্রবণ বাড়িতে যাবে না মানে যাবেই না।
হাসান শ্রবণকে ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিয়ে ফিরে গেছে।
শ্রবণ রুমে এসে শুয়ে পড়ে। সোহা ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে প্রবেশ করে।
তিন দাদা নাতি সোফায় বসেছে। মাজেদা আন্টি ফ্ল্যাট পরিষ্কার করে এখন রান্না করছেন। প্রত্যেকদিন কল করে শ্রবণের খোঁজ খবর নিয়েছেন। একদিন দেখতেও গিয়েছিলেন হসপিটালে।
সোহার ডাকে ঘুম ভাঙে শ্রবণের। শোয়ার পরেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
“ওঠো। দুপুর হয়ে গেছে, খাবার খেয়ে ঔষুধ খেতে হবে।”
সোহা কথাগুলো বলে শ্রবণের গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে দেয়। শ্রবণ শোয়া থেকে উঠে বসে বলে,
“ওরা চলে গেছে?”
“হ্যাঁ।”
“কখন?”
“বারোটার দিকে।”
“তুই খেয়েছিস?”
“হ্যাঁ।”
শ্রবণ বিছানা ছেড়ে নেমে ওয়াশরুমের দিকে আগায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য।
ফ্রেশ হয়ে সোহাকে ভেতরে ডাকে। সোহা ভেতরে প্রবেশ করতেই শ্রবণ গায়ের টিশার্ট খুলে ফেলে। পায়ের উপর ভর করে বসে বলে,
“মাথায় পানি দিয়ে দে।”
সোহা হ্যান্ড শাওয়ার দিয়ে শ্রবণের মাথা ধুয়ে দেয়।
“গোসল করতে পারলে শান্তি লাগতো। আজকে তিনদিন গোসল করি না।”
“ডাক্তার তো গোসল করতে নিষেধ করেছেন।”
“মাথায় আরো পানি দে।”
“সর্দি লেগে যাবে।”
“লাগুক, দে তুই।”
“সর্দি লাগলে কাশি হবে, কাশি দিতে বুকে ব্যথা পাবে। শ্বাস নিতেই তো বুকে ব্যথা পাও। ওঠো এখন।”
শ্রবণ ঘাড় কাত করে সোহার মুখের দিকে তাকায়। ওকে এভাবে তাকাতে দেখে সোহার গলা শুকিয়ে আসে।
শ্রবণ উঠে দাঁড়িয়ে সোহার কাছ থেকে হ্যান্ড শাওয়ার নিয়ে নিজের পা দুটো ধুয়ে নেয়। মুখ ধুয়ে বের হয় ওয়াশরুম থেকে। সোহা টাওয়েল হাতে শ্রবণের পেছন পেছন বেরিয়ে এসে ওর চুলগুলো মুছিয়ে দেয়। হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে ভেজা চুলগুলো শুকিয়ে দিয়ে কাবার্ড থেকে ফুল হাতা টিশার্ট বের করে নিয়ে আসে। শ্রবণের গায়ের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো পানিতে টুইটুম্বর হয়ে ওঠে। শ্রবণ সোহার হাত থেকে টিশার্ট নিয়ে পরতে শুরু করে।
সোহা চোখের পানি মুছতে মুছতে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। শ্রবণ টিশার্ট পরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে রইল পলকহীন। আস্তে ধীরে চিরুনি হাতে নিয়ে চুলগুলো আঁচড়ে নেয়। নিজের চেহারার দিকে আরো কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে রুম থেকে বের হয়। ধীর পায়ে হেঁটে এসে চেয়ারে বসে। সোহা খাবার মেখে নিজ হাতে খাইয়ে দিতে শুরু করে ওকে। অ্যাকসিডেন্টের পর থেকে সোহা-ই খাইয়ে দেয়।
শ্রবণ সকালে চৌধুরী বাড়িতে এসেছে সোহাকে নিয়ে। সামাদ চৌধুরীর ভীষণ জ্বর হয়েছে হুট করে। ওনাকেই দেখতে এসেছে দুজন। শ্রবণ এখন কিছুটা সুস্থ। হাঁটা-চলা করতে সমস্যা হয় না এখন। হাতের ক্ষতও প্রায় শুকিয়ে এসেছে। শরীরের হালকা আঘাতের চিহ্নগুলো মিশে গেছে, শুধু গভীর ক্ষতগুলোই মেশেনি। সপ্তাহ খানিক পর থেকে শ্রবণের মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু।
এখন প্রায় সন্ধ্যা, কিছু সময় পর মাগরিবের আযান হবে। রুম থেকে বেরিয়ে আসে শ্রবণ। সোহা রুমেই রয়েছে। তনিমা চৌধুরীও রুম থেকে বেড়িয়েছেন নিচে যাওয়ার জন্য। শ্রবণকে এগিয়ে আসতে দেখে দ্রুত সিঁড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। শ্রবণ আসার আগেই নেমে যাবেন নিচে। সিঁড়িতে এক পা রাখতেই শ্রবণ পেছন থেকে ওনাকে ধাক্কা দেয় সজোরে। হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিঁড়িতে। শামীম রেজা চৌধুরী-ও নিচে যাওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। স্ত্রীকে পড়ে যেতে দেখে দৌড়ে এগিয়ে আসেন। সিঁড়ি বেয়ে নামতে নিতেই শ্রবণ পা বাঁধিয়ে ওনাকেও ফেলে দেয়।
প্যান্টের পকেটে দুহাত গুঁজে দুজনের চিৎকার আর পড়ে যাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করতে থাকে।
চলবে……….
গল্প পড়ে যারা লাইক কমেন্ট না করবে তারা রানু মন্ডল আর হিরো আলম তাই লাইক কমেন্ট করতে একদম ভুলবেন না কেউ। পেজটি ফলো দিয়ে না থাকলে ফলো দিয়ে রাখবেন। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ১০
-
দিশেহারা পর্ব ৭
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ২১
-
দিশেহারা পর্ব ৩৬
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১৩
-
দিশেহারা পর্ব ৫
-
দিশেহারা পর্ব ১২
-
দিশেহারা পর্ব ২৪