দিশেহারা (৫২)
সানা_শেখ
ভোর রাতে জ্ঞান ফেরে শ্রবণের। সারা গায়ে অসহ্য রকমের ব্যথা, ব্যথায় টনটন করছে পুরো শরীর। চোখ মেলে আশেপাশে নজর বুলায়। বুঝতে পারে আইসিইউতে রয়েছে। মুখে এখনো অক্সিজেন মাস্ক, হাতে স্যালাইন চলছে।
এই হসপিটাল আর আইসিইউ ওকে এত ভালোবাসে কেন? চোখ বন্ধ করে নেয় আবার। রাগে মাথার ভেতর আগুন ধরে গেছে। বাম হাত দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বুক ভারী লাগছে, মনে হচ্ছে বুকের উপর হাজার টনের পাথর তুলে দিয়েছে কেউ যার জন্য শ্বাস নিতে পারছে না।
মনিটরের বিপ বিপ শব্দ শুনে নার্স দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসে শ্রবণের কাছে। দ্রুত অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দিয়ে বলে,
“মাস্ক খুলেছেন কেন?”
শ্রবণ মুখের উপর থেকে আবার মাস্ক সরিয়ে ক্ষীণ স্বরে বলে,
“আমাকে এখানে কে এনেছে?”
নার্স আবার মাস্ক পরিয়ে দিয়ে বলে,
“আপনার ফ্যামিলি। অক্সিজেন মাস্ক খুলবেন না আর। চুপ করে শুয়ে থাকুন, ডাক্তার আসুক তারপর ফ্যামিলির সঙ্গে দেখা করবেন।”
শ্রবণ মাস্ক খুলে ফেলে আবার। কিছুটা রাগী গলায় বলে,
“বারবার এই বা/লডা পরিয়ে দিচ্ছেন কেন? বাইরে কে আছে তাকে ভেতরে আসতে বলুন, জরুরি প্রয়োজন।”
“গতরাতে বারবার আপনার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, এখনো শ্বাস নিতে পারছেন না ভালোভাবে। মাস্ক পরে থাকুন, আমি ডাকছি আপনার ফ্যামিলির কাউকে।”
“গতরাত! এখন কটা বাজে?”
“এখন ভোর সাড়ে পাঁচটা।”
“মানে গতরাত থেকে আমি এখানে আছি?”
“হ্যাঁ।”
শ্রবণের হার্টবিট বেড়ে যায়। কেমন অস্থির হয়ে উঠেছে। জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে ক্ষীণ স্বরে বলে,
“আমার ফ্যামিলির কাউকে ডাকুন।”
“ডাকছি, আপনি শান্ত হোন।”
নার্স দ্রুত পায়ে বাইরে বেরিয়ে স্পর্শকে ডেকে নিয়ে আসে ভেতরে। স্পর্শ ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের চুলে হাত বুলিয়ে বলে,
“ভাইয়া, কেমন লাগছে এখন?”
“ভালো। সোহা ফ্ল্যাটে একা রয়েছে, ও একা থাকতে ভয় পায়, ওকে—
“সোহাকে গতরাতেই নিয়ে এসেছি এখানে, তুমি শান্ত হও।”
স্পর্শ অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেয়। শ্রবণ স্পর্শের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। শ্রবণের অস্থিরতা কমে, হার্টবিটের গতি স্বাভাবিক হয় আস্তে আস্তে।
নার্স শ্রবণের বিপি চেক করে, সবকিছু ঠিকঠাক আছে দেখে বলে,
“আপনি অস্থির না হয়ে শান্ত হয়ে শুয়ে থাকুন, ডাক্তার চলে আসবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই। আপনি এখন বাইরে যান।”
“স্ট্রেস নিও না, ভাইয়া। সোহা আর বাবু এখন ঠিক আছে, তুমি শান্ত হয়ে থাকো।”
স্পর্শ দরজার দিকে এগিয়ে যায়। শ্রবণ চোখ বন্ধ করে নেয়। গত সন্ধ্যার সব ঘটনা স্মরণ করে। রাগে চেহারা রক্তিম বর্ণ ধারণ করে। বাঘের লেজে পা দিয়ে এর আগে থাবা খেয়েছে, এবার তো বাঘকেই ঘায়েল করেছে।
আটটার পর ডাক্তার প্রবেশ করেন আইসিইউ-এর ভেতর। শ্রবণের শারীরিক অবস্থা দেখেন, কেমন ফিল করছে সেসব জিজ্ঞেস করেন। শ্বাস নিতে এখন আগের মতো অত বেশি কষ্ট হচ্ছে না। অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা স্থিতিশীল। ধরে শোয়া থেকে তুলে বসানো হয়। শরীরের ব্যথায় চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়। ডান পাশে কোমরের উপরে বেশি ব্যথা করছে। ওখানে কিছু একটা ঢুকিয়ে দিয়েছিল। বুকে অনেক লাথি দিয়েছে, এই জন্যই বারবার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। শ্বাস টানলে বুকের ব্যথা বেশি অনুভব হচ্ছে।
আগে একটু সুস্থ হোক তারপর ওগুলোকে বোঝাবে শ্রবণ চৌধুরী কি আর কে।
আইসিইউ থেকে শ্রবণকে কেবিনে শিফট করা হয়। বাড়ির প্রায় সবাই দেখা করে ওর সঙ্গে, ওর বন্ধুরাও চলে এসেছে হসপিটালে ওকে দেখার জন্য। ওর বন্ধুরা সবাই সকালে জানতে পেরেছে শ্রবণের অবস্থা সম্পর্কে তাও নিউজ দেখে। শ্রবণের ফোন রাতে গাড়িতেই রেখে চলে এসেছিল সবাই, হাসান বারবার কল করেও ওকে পায়নি। সকালে নিউজ দেখে বাকি বন্ধুদের জানায় তারপর সবাই চলে এসেছে।
দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখে শামীম রেজা চৌধুরী দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছেন। ওনার চোখমুখ শুকনো, মলিন। চুলগুলো কিছুটা এলোমেলো। বাবার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেয় শ্রবণ। শামীম রেজা চৌধুরী দরজার সামনে থেকে সরে করিডোরে বসে পড়েন চেয়ারের ওপর।
“সোহা কোথায়?”
সামাদ চৌধুরী বলেন,
“আছে হসপিটালেই। সিয়াম, সোহাকে নিয়ে আসো।”
সিয়াম মাথা নেড়ে কেবিনের ভেতর থেকে বের হয়। বড়ো আব্বুর দিকে চোখ পড়তেই কিছুক্ষণ দাঁড়ায়। এর আগে কোনোদিন ওনাকে বড়ো ছেলের জন্য উতলা হতে, ব্যাকুল হতে দেখেনি সিয়াম। গতরাত থেকে অন্য এক শামীম রেজা চৌধুরীকে দেখছে। শ্রবণের র’ক্তের প্রয়োজন হয়েছিল, শামীম রেজা চৌধুরী নিজে র’ক্ত দিয়েছেন ছেলেকে।
কেবিনের ভেতর থেকে সবাই বেরিয়ে আসে। একটু পরেই সিয়াম সোহাকে নিয়ে কেবিনের সামনে এসে দাঁড়ায়। ওদের দুজনের সঙ্গে তনিমা চৌধুরীও এসেছেন। সোহা সকলের দিকে তাকায়, সবাই ওর দিকেও তাকায়। সোহা এখনো কাঁদছে।
চোখ দুটো বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। সিয়াম সোহাকে কেবিনের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়। সোহা দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে শ্রবণের দিকে তাকিয়ে রইল।
শ্রবণ দরজার দিকেই তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ। সোহাকে দেখে শোয়া থেকে উঠে বসতে বসতে বলে,
“ম’রি’নি বলে এভাবে কাঁদছিস?”
শ্রবণের কথা শুনে সোহার কান্না বাড়ে। শ্রবণ উঠে বসে সোহাকে কাছে ডাকে হাতের ইশারায়। সোহা এগিয়ে আসে, শ্রবণ সোহাকে নিজের সামনে বসায় বিছানায়। বুকে জড়িয়ে নিতেই সোহা হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে ওকে জড়িয়ে ধরে। শ্রবণ বাম হাতে সোহার চুলে হাত বুলিয়ে বলে,
“কান্না বন্ধ কর, দোয়া করবি বেশি বেশি তাহলে পরেরবার ঠিক ম’রে যাব।”
সোহা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। শ্রবণ মুখ দিয়ে ব্যথাতুর ধ্বনি তুলে বলে,
“ওরে ডাইনীর বাচ্চা, আস্তে ধর, বুকে ব্যথা, আআআ।”
সোহা পূর্বের ন্যায় শক্ত করে ধরে রাখে শ্রবণকে।
কাঁদতে কাঁদতে ঠিক মতো শ্বাস নিতে পারছে না এখন। শ্রবণ সোহার এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে বলে,
“শান্ত হ, এমন করলে অসুস্থ হয়ে পড়বি। চুপ।”
সোহা শ্রবণের বুক থেকে মুখ তুলে তাকায়। শ্রবণ সোহার মুখের ওপর থেকে চুল সরিয়ে দিয়ে কপালে চুমু খায়।
“কিছু হয়নি আমার, ঠিক আছি আমি। তোকে আরো কষ্ট দেওয়ার জন্য বেঁচে আছি।”
সোহা হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“তোমার কিছু হয়ে গেলে আমাদের কী হতো? জানোয়ারগুলো কীভাবে মে’রে’ছে তোমাকে, কত কষ্ট দিয়েছে, কত ব্যথা দিয়েছে। কেমন হয়ে গেছে তোমার সারা গায়ে। ওরা এভাবে কেন মে’রে’ছে তোমাকে?”
“তুই কান্না বন্ধ কর।”
“তুমি আর কোথাও যাবে না, আমি তোমাকে কোথাও যেতে দেবো না।”
শ্রবণের ডান হাত ধরতেই চমকে ওঠে সোহা। ডান হাতের উল্টো পিঠের চামড়া উঠেউঠে রয়েছে। কেমন লাল লাল সাদা সাদা হয়ে গেছে। সোহা ডুকরে কেঁদে ওঠে হাতটা ধরে রেখে।
শ্রবণ নিজেও নিজের ডান হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। হাতের উপর পারা দিয়ে ধরেছিল। পারা দিয়ে ধরেই ক্ষান্ত হয়নি, পিষে ফেলার মতো করে পিচঢালা রাস্তায় ঢলেছে তখন এমন হয়েছে হাতটা।
“জানোয়ারগুলো হাতটার কি অবস্থা করেছে। ওরা এত কষ্ট কেন দিয়েছে তোমাকে? সবাই কেন শুধু তোমাকে আঘাত করে, কষ্ট দেয়?”
শেষের কথাগুলো বলতে বলতে শ্রবণের গালে হাত রাখে সোহা। সোহার ডান হাতটা ধরে শ্রবণ বিচলিত হয়ে বলে,
“এই, তোর কী হয়েছে? তোর হাতে ক্যানুলা কেন? তুই ঠিক আছিস? বাবু ঠিক আছে? এই ডাইনীর বাচ্চা, কথা বলছিস না কেন? তোরা দুজন ঠিক আছিস?”
“ঠিক আছি আমরা।”
“কী হয়েছিল তোদের? ক্যানুলা কেন লাগিয়েছে তোর হাতে? কথা বলছিস না কেন? বল ক্যানুলা কেন লাগিয়েছে।”
সোহা কথা বলে না। শ্রবণ দরজার দিকে তাকিয়ে সিয়ামের নাম ধরে ডাকে কিন্তু শ্রবণের ডাক দরজার বাইরে পৌঁছায় না। ওর গলা দিয়ে আগের মতো আওয়াজ বের হচ্ছে না। জোরে ডাক দিতে গেলে বুকে ব্যথা লাগছে।
“এই ডাইনীর বাচ্চা, সিয়ামকে ডাক।”
সোহা সিয়ামকে ডাকে। সিয়াম না থাকায় স্পর্শ দরজা ঠেলে উঁকি দিয়ে বলে,
“সিয়াম নেই, নিচে গেছে।”
শ্রবণ বলে,
“তুমি এখানে আসো।”
স্পর্শ এগিয়ে আসে।
“সোহার কী হয়েছে? ওর হাতে ক্যানুলা কেন?”
“গতকাল সোহাই প্রথম কল করে দাদা ভাইকে বলেছিল তোমার কথা, পরে ওকে অনেকবার কল করেও আর পাওয়া যায়নি। তোমাকে হসপিটালে রেখে ওকে নিতে ফ্ল্যাটে যাই, গিয়ে দেখি অজ্ঞান হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। তারপর হসপিটালে এনে ভর্তি করি। মধ্যরাতে ঘুম ভাঙলে তোমাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। আইসিইউতে নিয়ে যায় তোমাকে দেখানোর জন্য। সেখানে গিয়ে তোমার অবস্থা দেখে আবার অজ্ঞান হয়ে যায়।”
“আচ্ছা, তুমি যাও।”
স্পর্শ বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে।
শ্রবণ সোহাকে বুকে চেপে ধরে। সোহা এখনো ননস্টপ কেঁদে চলেছে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“তুমি আর কোত্থাও যাবে না। ওরা যদি তোমাকে মে’রে ফেলে তাহলে আমি কোথায় পাবো তোমাকে? আমাদের বাবু এতিম হয়ে যাবে। আমরা কীভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া?”
শ্রবণ কিছু বলার আগেই দরজায় টোকা পড়ে। সোহা শ্রবণের বুকেই মুখ গুঁজে রাখে। শ্রবণ দরজার দিকে তাকায়। সামাদ চৌধুরী দরজা খুলে বলেন,
“পুলিশ এসেছে তোমার সঙ্গে কথা বলতে।”
“ভেতরে আসতে বলো।”
সোহা শ্রবণের কাছ থেকে সরে না, আগের মতোই শ্রবণকে ধরে বসে রইল।
দুজন পুলিশ অফিসার, সামাদ চৌধুরী আর শামীম রেজা চৌধুরী ভেতরে প্রবেশ করেন। বাকিরা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
একজন পুলিশ অফিসার বলেন,
“আপনার উপর ঠিক কখন হামলা হয়েছিল আর কীভাবে?”
“তখন প্রায় সন্ধ্যা, সাড়ে পাঁচটার উপর বাজে। একটা টয়োটা গাড়ি পেছন থেকে দ্রুত গতিতে এসে আমার বাইকে ধাক্কা দেয়। আমি বাইক নিয়ে ছিটকে পড়ি দূরে। অ্যাকসিডেন্ট হওয়ার মিনিট খানিক পর কয়েকটা বাইক এসে দাঁড়ায় আমার সামনে। বাইকে সাত আটজন ছেলে ছিল, ওদের প্রত্যেকের হাতে হকি স্টিক ছিল। একজনের হাতে ধারালো কিছু একটা ছিল, ওটা আমার ডান পাশের কোমরের উপর ঢুকিয়ে দিয়েছিল। সেটা ভেঙে সম্ভবত ভেতরেই থেকে গিয়েছিল।”
“হ্যাঁ, আমরা পেয়েছি সেটা। ওরা কারা ছিল কিছু বলতে পারবেন? চেনেন ওদের?”
“না। তাদের মধ্যে থেকে কাউকেই চিনিনা আমি।”
“কারো মুখ দেখেননি?”
“ওদের সকলের মাথায় হেলমেট ছিল।”
“কেউ কিছু বলেনি?”
“না।”
“কেন মে’রে’ছে সেই বিষয়ে কিছু বলেনি?”
“না।”
“আপনার কাছ থেকে কিছু নিয়েছে? দামি কিছু বা টাকা ছিল আপনার কাছে, যা নেওয়ার জন্য ওরা আপনার উপর হামলা চালিয়েছে?”
“তেমন কিছু ছিল না, শুধু ফোন আর ওয়ালেট ছিল।”
“আপনি সত্যিই কাউকে চিনতে পারেননি?”
“না।”
“কে বা কারা আপনার উপর হামলা চালালো, কেন করলো এসব কিছুই বুঝতে পারছেন না?”
“না।”
“কোনো ক্লু না পেলে কীভাবে তদন্তে আগাবো আমরা?”
শ্রবণ চুপ করে রইল। আলতো হাতে সোহার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। সোহার কান্না বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু একটু পর পর হেঁচকি তুলছে আর নাক টানছে।
“আচ্ছা, আমরা তাহলে এখন আসি। আপনার কোনো কিছু মনে পড়লে অবশ্যই আমাদের জানাবেন।”
“ওকে।”
অফিসাররা কেবিন থেকে বেরিয়ে যান। সামাদ চৌধুরী ওনাদের পেছন পেছন বেরিয়ে যান। হাসান ভেতরে প্রবেশ করে, বাকিরা বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের কথা শুনছে। শামীম রেজা চৌধুরী কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে নিয়েও থেমে যান হাসানের কথা শুনে।
“শ্রবণ, অফিসারদের মিথ্যে বললি কেন?”
“কী মিথ্যে বললাম?”
“আমি শিওর তুই জানিস কে কে তোর উপর হামলা চালিয়েছে।”
শ্রবণ হাসানের মুখের দিকে তাকায়। হাসান আবার বলে,
“তুই অন্যদের কাছে মিথ্যে বলে ধরা না পড়লেও আমার কাছে ঠিকই ধরা পড়েছিস। তোর চোখমুখ বলছে তুই ওদের খুব ভালো করেই চিনিস। বল কারা ওরা আর পুলিশের কাছে মিথ্যে বললি কেন?”
“আমি চাই না ওদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে। পুলিশ আজকে ধরবে দুদিন পর ছেড়ে দেবে, তাতে আমার মন শান্ত হবে না। আমার সঙ্গে যা করেছে তার কয়েকগুণ ফেরত পাবে। শুধু আমি একটু সুস্থ হই।”
“কে কে ছিল? নাম কী?”
নাম বলতে বলতে দরজার দিকে চোখ পড়ে শ্রবণের। শামীম রেজা চৌধুরীকে এখনো কেবিনের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শ্রবণের চোখমুখ আরো গম্ভীর হয়ে আসে। এই লোক এখনো না বেরিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে আছে কেন? তখন না মনে হলো বেরিয়ে গেল। এখানেই যে দাঁড়িয়ে আছে সেটা তো নজরেই আসেনি এতক্ষণ।
শামীম রেজা চৌধুরী ছেলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যান।
“আংকেল তো সব শুনে ফেললেন।”
“নো প্রবলেম।”
শ্রবণ সোহার দিকে তাকায়। সোহা ওর বুকের সঙ্গে মিশে আছে এখনো। চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে হাসানের সামনেই সোহার মাথায় চুমু খায়।
চলবে………..
গল্পটা শুরু করার আগেই আমি মস্তিষ্কে কাহিনী সাজিয়ে ভেবে রেখেছিলাম বিশ/পঁচিশ পর্বের মধ্যে শেষ করবো, কিন্তু হাফ সেঞ্চুরি হয়ে যাওয়ার পরেও গল্প শেষ হওয়ার নাম গন্ধ নেই। গল্প শেষ হতে আরো বিশ পঁচিশ পর্ব লাগবে, হয়তো আরো বেশিই লাগবে। যাই হোক যারা যারা এখনো পেজটি ফলো দেননি তারা দ্রুত ফলো দিয়ে রাখবেন, আর লাইক কমেন্ট করতে একদম ভুলবেন না, ধন্যবাদ সবাইকে।
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৩৪
-
দিশেহারা পর্ব ৪
-
দিশেহারা পর্ব ৩৭
-
দিশেহারা পর্ব ৪১
-
দিশেহারা পর্ব ৫০
-
তোমার সঙ্গে এক জনম গল্পের লিংক
-
দিশেহারা গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ৪৩
-
দিশেহারা পর্ব ২৫
-
দিশেহারা পর্ব ২৩