দিশেহারা (৪৬)
সানা_শেখ
বাইরে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে শ্রবণ। সোহা বিছানায় বসে শ্রবণের দিকে তাকিয়ে আছে।
শ্রবণ তৈরি হয়ে বাইকের চাবি আর ওয়ালেট নিয়ে বিছানার কাছে এগিয়ে আসে ফোন নেওয়ার জন্য।
ফোন হাতে নিয়ে পকেটে ভরে সোহার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
“খেয়ে নিস তুই।”
“তুমি খাবে না?”
“না।”
“কোথায় যাবে? খেয়ে যাও, দুপুর তো হয়েই গেছে।”
“এত কথা বলতে বলেছে কে? খেয়ে ঘুমাবি, আমি সন্ধ্যায় ফিরব।”
“আচ্ছা।”
শ্রবণ বেরিয়ে যায় রুম থেকে। সোহা শ্রবণের যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল। খ্যাক খ্যাক না করে একটু ভালোভাবেও তো কথা বলা যায়।
শ্রবণ বাইক নিয়ে টিএসসির মোড়ে চলে আসে। হাসান আগে থেকেই ওর অপেক্ষায় বসে আছে বাইকের উপর। শ্রবণকে দেখেই বাইকের উপর থেকে নেমে দাঁড়ায় হাসান।
শ্রবণ বাইক থেকে নেমে কোলাকুলি করে আবারও অভিনন্দন জানায় হাসানকে।
“হঠাৎ বিয়ের সিদ্ধান্ত? আগে তো বললি না কিছু?”
“কীভাবে বলব, ভাই? বিয়ে নিয়ে তো আমারও কোনো প্ল্যান ছিল না।”
“তাহলে কীভাবে কী হলো?”
সবকিছু খুলে বলে হাসান। সব শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে শ্রবণ তারপর বলে,
“তুই রিতাকে ভালোবাসিস?”
“হ্যাঁ। প্রায় দুই বছর হয়েই এলো।”
“দুই বছর ধরে ভালোবাসিস আর আজকে বলছিস আমাকে?
“আরে ভাই, বললাম তো সবকিছু।”
“তাই বলে তুই লুকিয়ে যাবি আমার কাছ থেকে? একবার তো বলতে পারতি।”
“এই যে এখন বলছি। মামাকে কি বলব, রাজি হবে কি-না তাছাড়া আমারও বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল না।”
“ভালোবাসবি অথচ বিয়ে করবি না এটা আবার কেমন কথা?”
হাসান চুপ করে থাকে। শ্রবণ ওর বাহু ধরে ঝাঁকিয়ে বলে,
“কিরে কথা বলছিস না কেন?”
“আরে বাদ দে এসব কথা।”
“বিয়ে কবে?”
“দিন ঠিক হয়নি এখনো।”
“ওহ।”
“ওরা কখন আসবে?”
“কিজানি? আসতে বলেছি সেই কখন।”
“বিয়ের কথা বলেছিস ওদের?”
“না। বললে কত কি বলবে আল্লাহ তা’য়ালা ভালো জানেন।”
শ্রবণ হেসে হাসানের গলা জড়িয়ে ধরে চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে বলে,
“ওরা হা হুতাশ করবে আর আমরা বউ বাচ্চা নিয়ে প্যারায় থাকব।”
“বউ-ই তো হলো না এখনো, বাচ্চা আসবে কোথা থেকে?”
“এসে যাবে খুব শীগ্রই, প্যারা নিস না। আমি বিয়ের তিন মাস পর জানতে পেরেছি বাবা হচ্ছি, ইনশা-আল্লাহ তুই এক মাস পরেই জানতে পারবি বাবা হচ্ছিস। আয় এখন চা খাই।”
ফ্ল্যাটে সন্ধ্যায় ফেরার কথা থাকলেও শ্রবণের ফিরতে ফিরতে রাত আটটা বেজে গেছে।
হাসান জোর করে ওকে ওদের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। হাসান আর রিতার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে আসলো মাত্র। দুদিন পর শুক্রবার, সেদিন হাসান আর রিতার বিয়ে। খাওয়ার জন্য হাজার জোরাজুরি করলেও শ্রবণ খায়নি। ও শুধু ফিরে আসার জন্য ছটফট করছিল।
বেডরুমে এসে দেখে সোহা শুয়ে আছে উল্টো ফিরে। শ্রবণ কিছু না বলে ফোন, ওয়ালেট আর বাইকের চাবি রেখে ফ্রেশ হতে যায়।
ফ্রেশ হয়ে এসে ট্রাউজার আর টিশার্ট পরে বিছানার কাছে এগিয়ে আসে।
“সোহা।”
সোহা সাড়া দেয় না। শ্রবণ দুই হাতের উপর ভর করে সোহার উপর ঝুঁকে সোহার মুখের দিকে তাকায়। সোহা ঘুমিয়ে আছে। এখন ঘুমাচ্ছে কেন? হাত তুলে সোহার গালে কপালে হাত ছোঁয়ায়। জ্বর তো হয়নি, ঠিকই আছে।
সোহার গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলে,
“এই ওঠ।”
চমকে শোয়া থেকে উঠে বসে দ্রুত। আতঙ্কিত হয়ে এদিক ওদিক নজর বুলায়, ভয় পেয়ে গেছে। শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলে,
“ক… কখন এসেছ?”
শ্রবণ কপাল ভ্রু কুঁচকে সোহার দিকে তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ। আস্তে করেই তো ডাক দিয়েছে তার পরেও এত ভয় পাওয়ার কি হয়েছে বুঝতে পারছে না। গম্ভীর গলায় বলে,
“কিছুক্ষণ আগেই। শরীর খারাপ লাগছে?”
“না।”
“এই সময় ঘুমিয়েছিলি কেন?”
“শুয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি।”
“ফ্রেশ হয়ে আয়, খাব।”
“হুম।”
সোহা বিছানা ছেড়ে নেমে ওয়াশরুমের দিকে আগায়।
শ্রবণ ঘাড় ঘুরিয়ে ওয়াশরুমের দিকে তাকায়।
সোহা ফ্রেশ হয়ে আসলে ওকে নিয়ে খাওয়ার জন্য ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে আসে।
শ্রবণের জন্য ভাত বেড়ে দিয়ে নিজের জন্যও বেড়ে নেয়। একটু আগে ঘুম থেকে ওঠার কারণে এখন মোটেও খেতে ইচ্ছে করছে না সোহার।
ভাত মাখার সময় শ্রবণের ফোনে মেসেজ নোটিফিকেশন আসে। প্লেটের পাশে থাকা ফোনের স্ক্রিনে তাকায়। হাসানের মেসেজ। ভাত মাখতে মাখতে মেসেজের রিপ্লাই দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
রিপ্লাই দেওয়া শেষ করে ভাত তুলে মুখে দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই মুখ থেকে সব ভাত উগরে ফেলে দেয় ফ্লোরে। খেঁকিয়ে বলে,
“এসব কী রান্না করেছিস?”
“কেন, কী হয়েছে?”
“তেতো, লবণ দিয়ে ভরা।”
“কোথায় লবণ বেশি? ঠিকই তো আছে।”
“ঠিক আছে? নে, খেয়ে দেখ।”
শ্রবণ এক লোকমা তুলে সোহার মুখের দিকে বাড়িয়ে ধরে। সোহা শ্রবণের বাড়িয়ে রাখা হাতের দিকে তাকিয়ে হা করে মুখে পুরে নেয় ভাত। সঙ্গে সঙ্গে ও নিজেও মুখের ভাত উগরে ফেলে দিয়ে পানি খায় দ্রুত।
শ্রবণ চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“এখন ফেলে দিলি কেন?
সোহা শ্রবণের প্লেটের দিকে তাকিয়ে নিজের প্লেটের দিকে তাকায়। নিজের প্লেট থেকে এক লোকমা তুলে শ্রবণের মুখের দিকে বাড়িয়ে ধরে বলে,
“এটা খাও।”
“এই বা/লের রান্না খেয়ে মুখের বারোটা বাজাতে চাই না আর।”
“এটা খাও আগে।”
“খাব না।”
“তেতো লাগবে না, খেয়ে দেখো।”
শ্রবণ মুখে পুরে নেয়, আসলেও তেতো না তো। তাহলে ওর প্লেটের খাবার এত তেতো কেন?”
“এই ডাইনির বাচ্চা, আমার প্লেটে কী মিশিয়েছিস?”
“আমি কিচ্ছু মেশাইনি, তুমি মিশিয়েছ। আগলা লবণ নিতে নিতে বেশি নিয়ে ফেলেছ।”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে নিজের প্লেটের দিকে তাকায়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে আর কিছু বলে না। মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার তালে বোধহয় বেশি লবণ নিয়ে ফেলেছে।
শ্রবণ হাত ধুয়ে আসে বেসিন থেকে। সোহা লবণ মেশানো ভাত অন্য একটা বাটিতে ঢেলে রেখেছে।
শ্রবণ খাওয়া বাদ দিয়ে চুপচাপ বসে আছে।
“খাও।”
“হা।”
শ্রবণকে হা করতে দেখে সোহা নিজেই হা করে তাকিয়ে আছে ওর মুখের দিকে।
“হা করে কী দেখছিস? খাওয়া।”
“আ… আমি খাইয়ে দেব?”
“আমার আর কয়টা বউ আছে যে তারা খাইয়ে দেবে?”
সোহা মিনমিন করে বলে,
“তুমি হাত দিয়ে খাও।”
“খাইয়ে দিলে দে নয়তো আমি গেলাম।”
“বোসো, দিচ্ছি।”
সোহা শ্রবণকে খাইয়ে দিতে শুরু করে। শ্রবণ খাচ্ছে আর মেসেজে হাসানের সঙ্গে কথা বলছে।
“তুইও খা।”
শ্রবণকে খাওয়াতে খাওয়াতে সোহা নিজেও খেতে শুরু করে। কি জ্বালা, এত বড়ো ছেলেকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে। অসুস্থ ছিল তখন খাইয়ে দিয়েছে সেটা এক ভাব, এখন তো সুস্থই আছে।
শ্রবণ মেসেজে কথা বলছে আর আরামসে খাচ্ছে। মেসেজ করতে করতে আবার মুচকি মুচকি হাসছেও। ওর হাস্যোজ্বল মুখের দিকে একটু পর পর নজর দিচ্ছে সোহা। হাসলে শ্রবণকে দারুন লাগে। না হেসে সবসময় মুখটা কেমন গম্ভীর করে রাখে, দেখলে ভয়-ই লাগে সোহার।
কিছুক্ষণ হা করে থাকার পরেও যখন মুখে খাবার ঢোকে না তখন ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সোহার দিকে তাকায়।
“দিচ্ছিস না কেন?”
সোহা প্লেট থেকে একটা মাংসের টুকরো তুলে শ্রবণের মুখে ঢুকিয়ে দেয় তারপর আবার ভাত নিতে শুরু করে প্লেটে। প্লেটের ভাত শেষ হয়ে গেছে সেজন্য ভাত নিচ্ছিল, আর এদিকে তার একটু দেরি সহ্য হচ্ছে না এখন।
ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ওঠে শ্রবণ। সোহা কপাল ভ্রু কুঁচকে তাকায় ওর মুখের দিকে।
“এভাবে কপাল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছিস কেন? হা, দে।”
সোহা খাইয়ে দিতে শুরু করে আবার। ওর নিজের আর খেতে ইচ্ছে করছে না।
“দিচ্ছিস না কেন? দে।”
“ভাত শেষ।”
শ্রবণ ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সোহার মুখের দিকে তাকায় তারপর প্লেটের দিকে তাকায় তারপর তাকায় যেই বাটিটাতে ভাত রাখা ছিল সেটার দিকে।
বাটিতে বা প্লেটে কোনোটাতেই ভাত নেই।
“ভাত শেষ?”
“হ্যাঁ।”
“কীভাবে শেষ হলো?”
“খেয়ে শেষ করেছ।”
“কতটুকু চালের ভাত রান্না করেছিলি আজ?”
“অন্যদিন যতটুকু রাঁধি, ততটুকুই। আজকে তুমি ভাত বেশি খেয়েছ।”
“কোথায় বেশি খেলাম? খাওয়াই তো শুরু করলাম একটু আগে।”
“পানি খাও এখন।”
বলতে বলতে চেয়ার ছেড়ে উঠে এটো প্লেট বাটি গুছিয়ে রেখে বেসিনের দিকে আগায় হাত ধোয়ার জন্য।
শ্রবণ পানি পান করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
পেট যেন ফেটে যাবে এবার। আল্লাহ, মেসেজ করার তালে তালে কত খেয়েছে আজ!
সোহা হাত ধুয়ে টেবিলের কাছে এগিয়ে আসে আবার। বাড়তি তরকারি ফ্রিজে রাখার জন্য বাটি হাতে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে যায়। শ্রবণ গলার স্বর বাড়িয়ে বলে,
“এই ডাইনির বাচ্চা, খাইয়ে দিতে বলেছি বলে জন্মের খাওয়া খাইয়ে দিয়েছিস নাকি একবারেই? এত খাইয়েছিস কেন?”
সোহা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলে,
“দিতে একটু দেরি হলে হা হা দে দে করেছো আর এখন আমার দোষ দিচ্ছ কেন?”
“তাই বলে এত খাওয়াবি।”
“তুমি খেয়েছো আমি খাইয়ে দিয়েছি, এখন আমার কি দোষ? তোমার পেট, তুমি বুঝতে পারোনি ভরেছে নাকি খালি আছে?”
“পানি খাওয়ার পর গলা পর্যন্ত হয়ে গেছে। এখন আমি ঘুমাবো কীভাবে?”
“বাইরে থেকে একটু হেঁটে আসো।”
“এই ভরা পেট নিয়ে এখন হাঁটতে যেতে পারবো না। বেশি হাঁটলে পেট ফেটে যাবে।”
কথাগুলো বলে উল্টো ঘুরে রুমের দিকে হাঁটা শুরু করে। সোহা ওর পেছন পেছন হেঁটে রুমে চলে আসে।
বিছানায় উঠে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে শ্রবণ। আরাম না পেয়ে কাত হয়ে শোয়। নিজের হাতে খেলে জীবনেও এত খেতো না। জীবনে এভাবে খায়নি কোনোদিন, কীভাবে আজ এত খেলো? আজকের মতো করে এক সপ্তাহ খেলে ভুঁড়ি ওয়ালা মোটা অংকের হয়ে যাবে।
সোহার দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বলে,
“এই ডাইনির বাচ্চা, তোর পেট বড়ো হয়েছে বলে তুই আমার পেটও বড়ো বানিয়ে দিলি খাইয়ে? একটু কম খাওয়ালে কী হতো?”
সোহা চোখমুখ ছোটো করে বলে,
“তুমি খেতে চেয়েছো বলেই তো খাওয়ালাম।”
“আর একদিন এভাবে খাওয়ালে তোর খবর আছে। না খেলেও জ্বালা আবার বেশি খেলেও জ্বালা। আল্লাহ, আজকের মতো পেট টা কমিয়ে দাও, জীবনেও আর এভাবে খাব না।”
হাসানের বিয়ে উপলক্ষে সোহাকে নিয়ে শপিং করতে এসেছে শ্রবণ।
সোহাকে নিয়ে আসলেও সোহা নিজের জন্য কোনকিছু পছন্দ করেনি, দুজনের সবকিছু শ্রবণ নিজের পছন্দে কিনেছে।
কেনাকাটা শেষ করে সন্ধ্যার আগে আগে শপিং মল থেকে বের হয় দুজন।
শপিং ব্যাগগুলো পেছনে রেখে সোহাকে গাড়িতে বসাবে তখন আরেকটা জিনিসের কথা স্মরণ হয় শ্রবণের। এখন আবার ভেতরে যেতে হবে।
সামনেই একটা জুয়েলারির শপ আছে, এখন আর ভেতরে যেতে পারবে না।
“আমার সঙ্গে আয়, আরেকটা জিনিস নিতে ভুলে গেছি।”
সোহা কোনো প্রশ্ন না করে শ্রবণের পেছন পেছন পা বাড়ায়।
শ্রবণ কয়েকটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে দাঁড়িয়ে যায়। সোহা তো ওর সঙ্গে আসছে না। পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে সোহা রাস্তার কিনারায় দাঁড়িয়ে জুতা থেকে কি যেন ছাড়ানোর চেষ্টা করছে পা ঘষে ঘষে।
সোহার পেছনে তাকিয়ে দেখে একটা বাইক রাস্তার কিনার ঘেঁষে দ্রুত গতিতে সোহার দিকে এগিয়ে আসছে।
শ্রবণ সোহার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ওঠে সোহার নাম ধরে। আর এক মুহুর্তও দেরি না করে দৌড় দেয় সোহার দিকে। শ্রবণের এত জোরে চিৎকার শুনে হকচকিয়ে গেছে সোহা, কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্রবণ ছুটে এসে সোহাকে এক টানে রাস্তা থেকে সরিয়ে এনে নিজের বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নেয়। সঙ্গে সঙ্গে সোহা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখান দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলে যায় বাইকটা। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বড়ো একটা দুর্ঘটনার কবল থেকে বেঁচে গেলো।
শ্রবণের হার্টবিট বেড়ে গেছে। ভয়ে আতঙ্কে সোহার হাত-পা সহ পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে। ভয়ে চোখ বন্ধ করে শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরেছে শ্রবণকে।
শ্রবণ বাইকের যাওয়ার পথে তাকিয়ে যা মুখ দিয়ে আসছে তাই বলে গালাগালি করছে।
ওই ছেলেকে ধরতে পারলে জানেই মে’রে ফেলতো এখন। রাগ আর ভয় দুটোর সংমিশ্রণে শ্রবণের শরীরও থরথর করে কাঁপছে। একটু দেরি হলে কি হতো আজ? সঠিক সময়ে যদি পেছন ফিরে না তাকাতো?
আশপাশ থেকে বেশ কয়েকজন মানুষ এগিয়ে এসেছে ওদের কাছে। কয়েকজন বাইকার ছেলেটাকে বকাবকি করছে।
শ্রবণ সোহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“তুই ঠিক আছিস?”
সোহা কেঁদে ফেলে। কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আমি বুঝতে পারিনি এমন কিছু হবে। জানলে ওখানে দাঁড়াতাম না।”
“তুই ঠিক আছিস?”
“হ্যাঁ।”
“ওই শু/য়ো/রের বাচ্চাকে হাতের কাছে পেলে টেনে ছিঁড়ে ফেলতাম।”
পাশ থেকে একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ বলেন,
“বাপের টাকায় বাইক কেনে, সেটা নিয়ে রাস্তায় বের হলে মানুষকে আর মানুষ ভাবে না, আশপাশ তাকিয়েও দেখে না, চোখ কান বন্ধ করে চালানো শুরু করে। এই সব বেপরোয়া ছেলেরাই অ্যাকসিডেন্ট করে যেখানে সেখানে ম’রে পড়ে থাকে।”
“এই সব ছেলেদের হাতে বাইক না দিয়ে কোদাল ধরিয়ে দেওয়া উচিত মাটি কা’টার জন্য, তাহলেই শরীর গরম র’ক্ত ঠান্ডা হয়ে যাবে।”
আরও কয়েকজন অনেক কিছু বলেন। একজন পানি নিয়ে আসে সোহার জন্য।
শ্রবণ সোহাকে পানি খাওয়ায়। সোহা নিজের পায়ে ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। শ্রবণ রাগের মাথায় আরও কিছুক্ষণ গালাগালি করে ছেলেটাকে।
সোহাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে গাড়ির দিকে আগায়। সোহা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,
“পেটে অনেক জোরে ঝাঁকি লেগেছে। বাবুর কিছু হবে না তো?”
চলবে………..
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৩১
-
দিশেহারা পর্ব ৪৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩
-
দিশেহারা পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ২৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ২৭
-
দিশেহারা পর্ব ২০
-
দিশেহারা পর্ব ৯
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৩