Golpo romantic golpo তোমার সঙ্গে এক জনম

তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৬


তোমারসঙ্গেএক_জনম (০৬)

সানা_শেখ

লামহাদের বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় গাড়ি। হিমেল লামহার দিকে তাকায়। লামহা ঘুমিয়ে আছে। প্রায় পুরো রাস্তা ঘুমিয়েই আসলো।
শিশির গাড়ি থেকে নামতে নামতে ভাইকে বলে,

“ভাবীকে ডেকে ঘুম থেকে জাগাও।”

“তুই জাগা।”

“বউ তোমার, আমি জাগাবো কেন? নিজের বউ তাই নিজে জাগাও।”

বলতে বলতে গাড়ি থেকে নেমে দরজা লাগিয়ে দেয়।
হিমেল ছোটো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দুটো বকা দেয় তারপর লামহার দিকে তাকায়।

“এই মেয়ে, ওঠো।”

লামহা ওঠে না। হিমেল হাত বাড়িয়ে লামহার গালে খোঁচা দিয়ে বলে,

“এই লামহা, ঘুম থেকে ওঠো, তোমাদের বাড়িতে চলে এসেছে গাড়ি।”

নড়েচড়ে পিটপিট করে তাকায় লামহা। হিমেল আবার বলে,

“তোমাদের বাড়িতে এসে গেছি, নামো গাড়ি থেকে।”

বলতে বলতে হিমেল গাড়ি থেকে নেমে আসে। শিশির বড়ো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

“তুমি এত আনরোমান্টিক কেন? নতুন বউ তোমার, একটু সুন্দর করে তো ডাকতে পারতে।”

“তুই মুখ বন্ধ রাখ, বেশি কথা বললে মুখ সেলাই করে দেব। গতকাল থেকে তোর অনেক কথা শুনেছি।”

শিশির রাতুলদের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,

“গতকাল শুনেছ, আজকেও শুনবে আবার আগামীকালও শুনতে হবে।”

বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে ছোটো বড়ো সবাই। লামহা দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ওঠে। তানহা বেগম মেয়েকে আগলে নেন বুকে। আদর করতে করতে নিজেও ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন।
লামহার কাকি, ফুপু সহ আরও কয়েকজন ওদের মা মেয়েকে শান্ত হতে বলছেন।

লাবিব ইসলাম স্ত্রীর উদ্দেশে বলেন,

“লামহার না, কান্নাকাটি পরে করবে, মেহমান এসেছে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করো ভেতরে গিয়ে।”

শিশির লাবিব ইসলামের পাশে দাঁড়িয়ে বলে,

“আংকেল, কাঁদতে দিন একটু। রোজ রোজ কি কাঁদবে নাকি? আন্টি, ভাবী, আপনারা আরও বেশি বেশি করে কাঁদুন।”

শিশিরের কথা শুনে মা মেয়ের কান্না থেমে গেছে। তানহা বেগম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন শিশিরের দিকে। তিনি চিনতে পেরেছেন এটা তার একমাত্র মেয়ের একমাত্র দেবর। ভারি চঞ্চল আর দুষ্ট ছেলেটা বুঝতে পারছেন।

“সবাই ভেতরে চলুন।”

রওশনের কথা শুনে সবাই ভেতরের দিকে পা বাড়ায়। রাতুল হিমেলের পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলে,

“তোর শা’লী টালি কিছু নেই?”

“কেন?”

“বিয়ে করব।”

হিমেল ঘাড় ঘুরিয়ে বন্ধুর মুখের দিকে তাকায়। রাতুলের পাশে হাঁটতে থাকা সোহান বলে,

“তোর হঠাৎ হিমেলের শা’লীকে বিয়ে করার মতো শখ জাগলো কেন?”

“বুঝবি না তুই, ছোটো মানুষ তাই ছোটোদের মতো করে থাক।”

সোহান রাতুলের ঘাড় চেপে ধরে বলে,

“তোর চেয়ে তেরো দিনের বড়ো আমি তাই সম্মান দিয়ে কথা বল।”

“তোরা থামবি? কি শুরু করেছিস?”

রাতুল ঘাড় থেকে সোহানের হাত সরিয়ে দিয়ে বলে,

“দাওয়াত খেতে এসেছি বলে নয়তো আজকে তোকে ফুল সম্মান দিয়ে দিতাম।”

সোহান কিছু বলতো কিন্তু বাড়ির ভেতর প্রবেশ করায় চুপ হয়ে যায়।


রাতের খাবার খাওয়ার পর সবাই বিশ্রাম নিতে যাবে এখন। লাবিব ইসলাম হিমেল আর হিমেলের বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বলেন,

“আপনারা একা একা কেউ বাড়ির বাইরে যাবেন না, যদি যেতেই হয় আমাদের বলবেন আমরা নিয়ে যাব।”

রাতুল বলে,

“এখন তো কোথাও যাবো না, আংকেল। গেলে দিনের বেলায় যাব।”

“দিনের বেলাও একা একা বের হবেন না কেউ।”

“কেন, আংকেল? কোনো সমস্যা আছে?”

“হ্যাঁ। যান, গিয়ে বিশ্রাম নিন সবাই।”

হিমেলের বন্ধুরা কেউ বুঝতে পারছে না কি এমন সমস্যা আছে যার কারণে ওদের একা একা বের হতে নিষেধ করছে।
সবাই হিমেলের দিকে তাকিয়ে চোখ ইশারা করে। হিমেল ওদের রুমে যেতে বলে ইশারায় তারপর নিজেও আগায় লামহার রুমের দিকে।

হিমেল আন্দাজ করতে পারছে সমস্যাটা আসলে কি আর কোথায়।

রুমে এসে দেখে লামহা লেহেঙ্গা চেঞ্জ করে থ্রী পিস পরেছে। হিমেলরা ফ্রেশ হয়ে গিয়ে যখন খেতে বসেছে লামহা তখন চেঞ্জ করতে রুমে এসেছে আবার, ওকে খাওয়ার জন্য ডাকলেও তখন খেতে বসেনি। রুমে আসার পর আর রুম থেকে বের হয়নি এখনো।

“যাও, গিয়ে খেয়ে এসো।”

হিমেলের গম্ভীর স্বর শুনে পেছন ফিরে তাকায় লামহা। জুয়েলারীগুলো আলমারিতে তুলে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায় চুপচাপ।
হিমেল নিজেও রুম থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের রুমে যায়।

লামহা খেয়ে রুমে ফিরে আসে। হিমেলকে দেখতে না পেয়ে ওয়াশরুমের দিকে তাকায়, দরজা খোলা দেখে ব্যালকনির দিকে তাকায়। ব্যালকনির দরজা ভেতর থেকে লাগানো। গেলো কোথায়?
লামহার ভাবনার মাঝেই হিমেল রুমে প্রবেশ করে। চোখাচোখি হয় দুজনের। হিমেল নিজের ফোন হাতে নিয়ে লামহার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,

“শুয়ে পড়ো তুমি।”

“আপনি কোথায় যাবেন?”

“বাইরে যাব।”

“বাইরে! বাইরে কেন যাবেন?”

“এমনিই ঘুরতে, রাতের গ্রাম দেখতে।”

“এই রাতের বেলা কি দেখবেন? সকালে যাবেন, এখন বিশ্রাম নিন।”

“আমি রাতের বেলাই যাব, তুমি ঘুমাও।”

“বাইরে যাবেন না এখন।”

“গেলে কি হবে?”

“কু/ত্তা কা’ম’ড়া’বে।”

“মানুষরূপী?”

“মা… মানে?”

“মানে মানুষরূপী কু/কু/র?”

“না না, সত্যি সত্যিই কু/ত্তা আছে। ওরা অপরিচিত মানুষ দেখলে কা’ম’ড়া’য়। বাড়ির সামনে রাস্তায়-ই থাকে দল বেধে।”

“দিনের বেলায়ও কা’ম’ড়া’য়?”

“দিনের বেলায় ছোটোদের দেখলে ধাওয়া দেয়।”

“তাহলে শ্বশুর মশাই আমাদের দিনের বেলায়ও একা একা বাইরে যেতে নিষেধ করলেন কেন?”

লামহা চুপ করে রইল। গতকাল রাতে ঢাকায় ফেরার সময় থেকেই হিমেলের উপর ওর রাগ উঠে আছে। গাড়িতে বসার পর হিমেলের চ্যাটাং চ্যাটাং কথা শুনেছে অনেক। বাড়িতে ফেরার পর রুমে গিয়েও অনেক কথা শুনিয়েছে আবার ওকে রুমে একা ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল কাউকে কিছু না বলে, সেজন্য আবার শাশুড়ি মায়ের কাছেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে।
এখন আবার মেজাজ গরম করে দিচ্ছে।

“এখন বাইরে যেতে হবে না, সকালে যাবেন।”

“আমি এখনই যাব।”

“যান, গিয়ে পাগলা কু/ত্তা/র খাবলা খেয়ে আসুন। অসভ্য, ঘাড় ত্যাড়া, বজ্জাত লোক।”

শেষের কথাগুলো বিড়বিড় করে বলে যার দরুন হিমেল শুনতে পায়নি।

“বিড়বিড় করে কি বললে?”

“কিচ্ছু বলিনি।”

লামহা বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে। যেখানে খুশি যাক, যা খুশি হয়ে যাক, কথা না শুনলে তাতে ওর কি? ও তো নিষেধ করছেই যেন বের না হয়।

হিমেল হা করে লামহার দিকে তাকিয়ে আছে। কীভাবে ঝাড়ি দিয়ে বলল, “কিচ্ছু বলিনি।”
বিড়বিড় করে বলে,

“বাপের বাড়িতে এসে জোর বেড়ে গেলো নাকি? রাগ দেখাচ্ছে আবার ঝাড়িও দিচ্ছে!”

চলবে…………

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply