তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১৫ (১৫)
সানা_শেখ
সকালে ফোনের রিংটোনের শব্দে ঘুম ভাঙে হিমেলের। এই ফোন ওর ঘুমের শত্রু। আজকাল ভীষণ ঘুমে ডিস্টার্ব করে এই ফোন। যখন তখন কর্কশ শব্দে বেজে ওঠে। ঘুম ঘুম চোখে স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে শ্বশুরের কল। বিছানায় তাকিয়ে দেখে লামহা নেই। ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে রুমের দরজার দিকে তাকায়। গলা ছেড়ে লামহার নাম ধরে ডাকে দুবার। লামহার সাড়া না পেয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। অলস ভঙ্গিমায় বিছানা ছেড়ে নেমে দরজার দিকে আগায়।
রান্নাঘরের দরজায় এসে দেখে লামহা বুয়ার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। হিমেলকে দেখে লামহা আর বুয়া দুজনেই তাকায় ওর দিকে। হিমেলকে দেখে বুয়া লামহার দিকে তাকিয়ে বলে,
“কইছিলাম না তোমারে ডাকে, বিশ্বাস করলা না আমার কথা।”
লামহা চুপ করে রইল। হিমেল গম্ভীর গলায় বলে,
“আব্বু কল করেছেন, কথা বলবেন তোমার সঙ্গে।”
লামহা গুটি গুটি পায়ে হিমেলের সামনে এসে দাঁড়ায়। হিমেল ওর হাতে ফোন ধরিয়ে দিয়ে রুমের দিকে এগিয়ে যায়। আবার ফোনে রিং হতেই রিসিভ করে কানে ধরে বলে,
“আব্বু, ভালো আছো?”
“আলহামদুলিল্লাহ, তুই কেমন আছিস, মা?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। কী করো?”
“বসে আছি, তুই কী করছিস?”
“কিছু করি না। আম্মু কোথায়?”
“আমার পাশেই।”
“আম্মুর কাছে দাও।’
লাবিব ইসলাম স্ত্রীর কাছে দেন ফোন। লামহা মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ফুঁপিয়ে ওঠে। মেয়ের কান্না শুনে তানহা বেগমও কেঁদে ফেলেন।
লাবিব ইসলাম স্ত্রীর হাত থেকে ফোন নিজের হাতে নেন। কানে ধরে বলেন,
“লামহা।”
লামহা জড়ানো গলায় বলে,
“বলো, আব্বু।”
“ওই শ’য়’তানকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে গতরাতে।”
“কার কথা বলছ?”
“কবীর।”
কবীরের নাম শুনতেই লামহার কান্না থেমে যায়। নাক টেনে বলে,
“কীসের জন্য ধরেছে?”
“কোনো এক বড়ো ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঝামেলা করেছিল সেই ব্যবসায়ীই ওকে ধরিয়ে দিয়েছে। গ্রামের মানুষ কিছুটা শান্তি পাবে এবার।”
“ভালো হয়েছে। আরো একমাস আগে কেন ধরিয়ে দিলো না শ’য়’তানটাকে? তখন ধরিয়ে দিলে তো এখন আমাকে এখানে থাকতে হতো না তোমাদের ছেড়ে। আমার ভালো লাগে না এখানে, তুমি এসে নিয়ে যাও আমাকে।”
“কলেজে অ্যাডমিশন হোক তারপর নিয়ে আসবো, কথা হয়েছে আমার বেয়াই-এর সঙ্গে।”
লামহা ঠোঁট উল্টে বলে,
“আমি এখানে পড়বো না।”
“কোথায় পড়বি?”
লামহা কিছু বলবে এমন সময় হিমেল রুম থেকে ডেকে ওঠে। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও সোফা ছেড়ে উঠে রুমে আসে। হিমেল স্যুটকেসে কিছু খুঁজছে, লামহাকে দেখে বলে,
“আমার ব্রাশ কোথায় রেখেছ? খুঁজে পাচ্ছি না তো।”
লামহা ঝুঁকে হিমেলের ব্রাশ বের করে দেয়। ব্রাশ আর টাওয়েল হাতে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায় হিমেল।
“হ্যালো, আব্বু।”
“হ্যাঁ, বল।”
“কবে আসবে আমা—
পুরো কথা শেষ করার আগেই কল কে’টে গেছে। লামহা ফোন হাতে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তবে ওপাশ থেকে আর কল আসে না। সিম কার্ডের ব্যালান্স শেষ বোধহয়। হিমেলের ফোন লক থাকায় লামহা-ও কল ব্যাক করতে পারছে না।
ফোন রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
লামহা বেরিয়ে যাওয়ার পর কয়েকবার রিং বেজে কে’টে যায়।
টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে হিমেলকে ডাকতে রুমে আসে লামহা। হিমেলকে রেডি হতে দেখে কপাল ভ্রু কুঁচকে যায়। হিমেল আয়নার দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে,
“কিছু বলবে?”
“কোথায় যাবেন?”
“বউ বউ ভাইব চলে এসেছে।”
কথাগুলো বলে হাত থেকে চিরুনি রেখে ঘুরে দাঁড়ায় লামহার দিকে। কাছে এগিয়ে এসে লামহার মাথা থেকে শাড়ির আঁচল নামিয়ে দেয়। লামহা আঁচল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে হিমেল হাত ধরে বাঁধা দেয়। গালে হাত রেখে বলে,
“বিকেল পর্যন্ত একা থাকতে পারবে না? আমি দ্রুত আসার চেষ্টা করব। এখন ভার্সিটি যাব, ভার্সিটি থেকে হলে যাব, ওখান থেকে সবকিছু নিয়ে তারপর ফিরব।”
“খেয়ে যাবেন না?”
“হ্যাঁ।”
“চলুন তাহলে।”
গাল থেকে হিমেলের হাত সরিয়ে দেয় লামহা। মাথায় ঘোমটা টেনে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
হিমেল পেছন থেকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর নিজের ফোন আর ওয়ালেট পকেটে ভরে রুম থেকে বের হয়।
গোধূলি বেলা। আকাশ লাল কমলা রঙে সেজেছে। পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে নীড়ে ফিরছে।
ব্যালকনিতে বিষণ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লামহা। তাকিয়ে আছে দূর আকাশের দিকে। একটু পর পর চোখজোড়া বর্ষার ভরা বিলের মতো ভরে উঠছে।
হিমেল এখনো ফেরেনি। বেলা বারোটায় বুয়া সব কাজ শেষ করে চলে গেছেন। তারপর থেকে পুরো ফ্ল্যাটে একাই আছে লামহা।
কলিং বেলের শব্দ শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে রুমের দিকে তাকায়। হিমেল চলে এসেছে বোধহয়। আঁচল ঠিক করে ব্যালকনি থেকে চলে আসে।
দরজা খুলে দিতেই দেখে ক্লান্ত হিমেল দাঁড়িয়ে আছে। ঘামে গায়ের শার্ট আধভেজা, চুলগুলো কিছুটা অবিন্যস্ত, চোখমুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ।
পথ ছেড়ে দাঁড়ায়, হিমেল ব্যাগপত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। গরমে কাহিল অবস্থা। বাইরে আজকে এত গরম, সহ্য করা যায় না। কবে যে বৃষ্টি হবে, বৃষ্টি হলেই প্রকৃতি একটু ঠান্ডা হবে।
লামহা ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানির বোতলটা নিয়ে আসে রুমে। কোনো কথা না বলে বোতল বাড়িয়ে দেয় হিমেলের দিকে। হিমেল ফ্যানের নিচে বসে শার্টের বোতাম খুলছিল। পানির বোতলটা দেখে বোতাম খোলা বাদ দিয়ে পানির বোতল হাতে নিয়ে ছিপি খুলতে খুলতে লামহার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ধন্যবাদ তোমাকে, বউ। এটারই প্রয়োজন ছিল এখন, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বাইরে যা গরম পড়েছে আজ, আল্লাহ!”
লামহা বলে না কিছু। হিমেল পানি পান করে গলা ভিজিয়ে নেয়। বোতলের ছিপি লাগিয়ে রেখে পুনরায় শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলে,
“দুপুরে খেয়েছ?”
লামহা গাম্ভীর্য ভাব বজায় রেখে বলে,
“হুম।”
হিমেল তাকিয়ে রইল লামহার মুখের দিকে। লামহা অস্বস্তিতে এদিক ওদিক তাকায়। হিমেল তবুও দৃষ্টি না সরালে লামহা সরে যায় হিমেলের পাশ থেকে। ওর হার্টবিট বেড়ে গেছে, বুকের ভেতর জোরে জোরে শব্দ হচ্ছে। এই টুকু সময়ের মধ্যে হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছে। হিমেল ঘাড় ঘুরিয়ে লামহার দিকেই তাকিয়ে রইল। গায়ের শার্ট খুলে প্যান্টের বেল্ট খুলতে শুরু করেছে এখন।
লামহা আড়চোখে তাকিয়ে দেখে হিমেল এখনো ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। অস্বস্তিতে ছটফটিয়ে ব্যালকনিতে চলে যায়। হিমেল বলে,
“এই গরমের মধ্যে ওখানে কেন যাচ্ছ? এখানে আসো ফ্যানের নিচে।”
লামহা চুপ থাকে। হিমেল আবার পানি পান করে বসা থেকে উঠে ব্যালকনিতে আসে। পেছনে হিমেলের অস্তিত্ব টের পেয়ে ফিরে তাকায় লামহা। নিজের পেছনে ঠিক এক হাত দুরত্বে উদোম হয়ে হিমেলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত সোজা হয়ে দাঁড়ায় আবার। হার্টবিট আগের চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে এবার। হাত পায়ের কম্পন বেড়েছে বুকের কম্পন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।
লামহা দূরত্ব বাড়ায় দুজনের মধ্যে তবে সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে আরো নিকটে আসে হিমেল। লামহা নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে তবে কেন যেন পারছে না। সব কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, ও নিজের সব কথা হারিয়ে ফেলেছে, মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না।
“রুমে চলো, এখানে গরম।”
লামহা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই হিমেলের শক্তপোক্ত উদোম বুকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। চোখ তুলে হিমেলের মুখের দিকে তাকাতেই হিমেল ওর চোখে চোখ রেখে গভীর স্বরে বলে,
“হঠাৎ ঝগড়া না করে এমন পালাই পালাই কেন?”
লামহা দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে হিমেলকে পাশ কাটিয়ে রুমে চলে যায়। হিমেল ব্যালকনিতেই দাঁড়িয়ে রইল।
কিয়ৎক্ষণ পর রুমে ফিরে আসে। পুরো রুমে নজর বুলিয়ে দেখে লামহা রুমে নেই। চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বিড়বিড় করে বলে,
“পুতুলটার হঠাৎ হলোটা কী?”
উপরের দিকে একবার তাকিয়ে রুমের চারদিকে নজর বুলায় আবার।
“ফ্ল্যাটে জ্বীন ভূত টুত আছে নাকি? একা একা থাকায় জ্বীন ভূতে আছর করল নাকি?”
রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে আসে লামহার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে। লামহা সোফায় বসে আছে। হিমেল অবাক হয়ে বলে,
“সত্যি সত্যিই তোমাকে জ্বীন ভূত ধরেছে নাকি? এই গরমের মধ্যে এখানে এভাবে বসে আছো কেন ফ্যান অফ রেখে?”
লামহা কটমট করে তাকিয়ে বলে,
“আমার চিন্তা আপনাকে করতে হবে না, আপনি গোসল করে আসুন।”
“আমার বউয়ের চিন্তা আমি না করলে কে করবে?”
“আপনি গোসল করতে যান তো।”
“চলো করি।”
লামহার বিস্মিত দৃষ্টি দেখে বলে,
“আমি গোসলের কথা বলেছি। প্রচুর গরম, তোমারও নিশ্চই অনেক গরম লাগছে। চলো একসঙ্গে গোসল করি আরাম লাগবে।”
“আমার আরামের প্রয়োজন নেই, আপনি যান আমার সামনে থেকে।”
“যাব?”
“হ্যাঁ।”
“যদি না যাই?”
“খু’ন করে ফেলব।”
“তোমার পূর্ব পুরুষ কী খু’নি আর জল্লাদ ছিল নাকি?”
লামহা তেজ দেখিয়ে সোফা ছেড়ে উঠে ধুপধাপ শব্দ তুলে বেডরুমে চলে যায়।
হিমেল রুমে প্রবেশ করতে করতে বলে,
“হিমেল, তুই তোর বউয়ের রূপের আগুনে পুড়বি, আর তেজের আগুনে জ্বলবি। জ্বলে পুড়ে শেষমেষ ছারখার না হয়ে যাস।”
লামহা চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“আমি সকালেই চলে যাব বাড়িতে।”
“কোন বাড়িতে?”
“আমার বাবার বাড়িতে, গ্রামে।”
“আগামীকাল তোমার কলেজে ভর্তি হওয়ার আবেদন করতে যাব।”
“আমি পড়বো না এখানে।”
“কোথায় পড়বে?”
“ইব্রাহিম খাঁ কলেজে নয়তো ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। দুটোর মধ্যে যেটা আসবে সেটাতেই পড়ব”
“তোমাদের গ্রামে?”
“হ্যাঁ।”
“এখানে থেকে ওখানে পড়াশোনা করবে কীভাবে?”
“এখানে থাকবে কে?”
“কেন, তুমি।”
“আমি এখানে থাকছি না, ওখানে ভর্তি হয়ে ওখানেই থাকব।”
“আমি?”
“আপনি কী?”
“আমি কোথায় থাকব?”
“যেখানে খুশি?”
“আমার ভার্সিটি এখানে, তুমি পড়বে গ্রামে। এখন দুজন দুই জায়গায় থাকব?”
“হ্যাঁ।”
“আমি বউ ছাড়া একা একা থাকতে পারবো না এখানে।”
“তো বিয়ে করে নিন।”
“বিয়ে করেছি বলেই তো বউ হয়েছে, বিয়ে ছাড়া বউ আসবে কোথা থেকে?”
“আরেকটা করুন।”
হিমেল চোখজোড়া ছোটো ছোটো করে বলে,
“দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলছ?”
লামহা গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
“হ্যাঁ।”
হিমেল লামহার কাছে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
“বউ থাকতে কেন দ্বিতীয় বিয়ে করব?”
“কারণ প্রথম বউ থাকবে না আপনার কাছে।”
“কেন থাকবে না?”
“জানেন না আপনি?”
“না।”
“জানতে হবে না, সরুন আমার সামনে থেকে।”
“সরবো না।”
“কেন?”
হিমেল চোখেমুখে দুষ্টামির হাসি ফুটিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
“পুতুলের মতো মিষ্টি বউটাকে আদর করব।”
লামহা পেছন থেকে বালিশ হাতে নিয়ে দুজনের সামনে ঢাল হিসেবে ধরে বলে,
“একদম আমার কাছে আসবেন না।”
“কাছে না আসলে আদর করব কীভাবে? আর আদর না করলে বাবা হবো কীভাবে?”
হিমেলের কথা শুনে লামহার কান গরম হয়ে ওঠে। গালে লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে। চোখ গরম করে বলে,
“অসভ্য, নির্লজ্জ, বেশরম লোক, আমাকে একদম উল্টাপাল্টা কিছু বলবেন না।”
“দুনিয়ার সব পুরুষ তাঁর বউয়ের কাছে অসভ্য, নির্লজ্জ, বেশরম। আমার শ্বশুর মশাইও।”
“জীবনেও না।”
“জি। সে অসভ্য, নির্লজ্জ, বেশরম না হলে তোমার জন্ম হতো না।”
লামহা হাতের বালিশ দিয়ে হিমেলকে মা’রতে শুরু করে। হিমেল লামহাকে থামানোর চেষ্টা করতে করতে বলে,
“জামাই মা’রা মোটেও সোয়াবের কাজ নয়, দ্রুত এই কাজ বন্ধ করো।”
থামে না লামহা। কাড়াকাড়ি করে লামহার হাত থেকে বালিশ ছিনিয়ে নেয় হিমেল। লামহা পেছাতে গিয়ে বিছানায় পড়ে যায় চিৎ হয়ে। হিমেল বালিশ রেখে লামহার উপর ঝুঁকে পড়ে লামহার দুদিকে দুই হাত রেখে। লজ্জায় আড়ষ্ট হয় ষোড়শী কন্যা। শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে দ্রুত। বুক দ্রুত ওঠানামা করছে। ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে।
হিমেল কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে লামহার মুখের উপর থেকে শাড়ির আঁচল সরিয়ে নেয়। লামহা দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেলে আবার। হিমেলের গরম শ্বাস আছড়ে পড়ছে ওর হাত দুটোর উপর। হৃৎস্পন্দনের গতি অস্বাভাবিক।
হিমেল ঘোর লাগা স্বরে ডাকে,
“লামহা।”
লামহা সাড়া দেয় না। হিমেল এক হাতে ভর করে অন্য হাতে লামহার এক হাত টেনে সরায় মুখের উপর থেকে। লামহা একবার হিমেলের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। হিমেলের মুখের দিকে তাকাতে পারছে না। ওই দৃষ্টি মাদকতা ছড়িয়ে আছে, মুখে কিছু না বললেও চোখজোড়া যেন ঝরঝর করে কথা বলছে।
“এই পুতুল, তাকাও আমার দিকে।”
লামহা রোধ হয়ে আসা কন্ঠে বলে,
“স… সরুন আমার উ… উপর থেকে।”
“ভয় পাচ্ছ?”
চলবে……..
Share On:
TAGS: তোমার সঙ্গে এক জনম, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৪৭
-
দিশেহারা পর্ব ৫২
-
দিশেহারা পর্ব ২৫
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ৪৪
-
দিশেহারা পর্ব ৪৫
-
দিশেহারা পর্ব ২৭
-
দিশেহারা পর্ব ১২
-
দিশেহারা পর্ব ২৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩৫