Golpo romantic golpo তোমার সঙ্গে এক জনম

তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১১


তোমারসঙ্গেএক_জনম (১১)

সানা_শেখ

ছেলের চেহারা দেখে জাকারিয়া মির্জা বলেন,

“কী হয়েছে তোর? এমন দেখাচ্ছে কেন তোকে? কিছু বলবি?”

জাকির কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই বলে,

“আমি লামহাকে বিয়ে করব।”

“কিহ!”

ছেলের কথা শুনে শকড জাকারিয়া মির্জা। নাজমা মির্জাও ব্যতিক্রম নয়। দুজনেরই চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে।

“লামহাকে বিয়ে করতে চাই আমি, ওকে বিয়ে করব।”

“পাগল হয়েছিস? কী বলছিস এসব?”

“শুনতে পাচ্ছো না কী বলছি? লামহাকে বিয়ে করবো আমি।”

জাকারিয়া মির্জা বসা থেকে উঠে দাঁড়ান। বাজখাঁই গলায় বলেন,

“একটা চড় দিয়ে সব দাঁত ফেলে দেব। কী বলছিস এসব? মাথা ঠিক আছে তোর?”

“আমার মাথা একদম ঠিক আছে। আমি ওকে বিয়ে করব, হিমেলের সঙ্গে ওর ডিভোর্স করাও।”

নাজমা মির্জা বলেন,

“পাগল হয়েছিস নাকি?”

“পাগল তো তোমরা, সত্যতা যাচাই না করেই বিয়ে ভেঙে দিয়েছ।”

“কী হয়েছে?”

“লামহা ধ/র্ষি/তা না। ওরা মিথ্যে বলে বিয়ে ভেঙেছিল। ধ/র্ষি/তা হলেই কি আর না হলেই কি, আমি ওকেই বিয়ে করব।”

“একজন ম্যাচিউর ছেলে হয়ে ইমম্যাচিউরের মতো আচরণ করছিস কেন? তোর সঙ্গে এসব কথা যায়? লামহা এখন তোর ছোটো ভাইয়ের বউ, তুই কোন আক্কেলে ছোটো ভাইয়ের বউকে বিয়ে করতে চাইছিস?”

“বউটা তো প্রথমে আমারই হওয়ার কথা ছিল, শুধুমাত্র আব্বুর জন্য হয়নি।”

“পৃথিবীতে কী মেয়ের অভাব পড়েছে যে ওই মেয়েকে বিয়ে করতে হবে?”

“হ্যাঁ।”

“এমন বেয়াদবের মতো আচরণ করছিস কেন? ভুলে গেছিস আমরা কে হই তোর?”

“একদম ভুলিনি, তোমাদের আত্মগরিমা আর অহংকারের জন্য লামহা আমার হয়নি। তোমাদের বাধ্য ভদ্র সন্তান আমি তাই তোমাদের বিরুদ্ধে গিয়ে তখন বিয়েটা করতে পারিনি।”

“ভদ্রভাবে কথা বল।”

“ভদ্রতা বজায় রেখেই বলছি। হিমেলের সঙ্গে লামহার ডিভোর্স করাও, আমি ওকে বিয়ে করব।”

তিনজনের তর্কাতর্কি শুনে বাড়ির সবাই রুমের সামনে এসে জড়ো হয়েছে শুধু লামহা বাদে। জাবির মির্জা ভাতিজার শেষের কথাগুলো শুনেছেন। ভেতরে প্রবেশ করতে করতে বিস্ময় নিয়ে বলেন,

“এসব কী বলছিস, জাকির?”

জাকির কাকার দিকে তাকায়। জাবির মির্জা আবার বলেন,

“লামহা এখন তোর ছোটো ভাইয়ের স্ত্রী, ওকে নিয়ে এমন কথা কীভাবে বলছিস?”

“হিমেল তো এই বিয়ে মানে না, কোনোদিন মানবেও না।”

“কে বলেছে তোকে?”

“হিমেল বলেছে, আমি নিজের কানে শুনেছি। তুমি লামহার ভালোর কথা ভেবেই তো হিমেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলে, এখন ওর ভালোর কথা ভেবে ওদের দুজনের ডিভোর্স করিয়ে দাও, আমি লামহাকে ভালো রাখব।”

জাকিরের কথা শুনে বাড়ির সবাই শকড হয়ে আছে। চুপচাপ থাকা শান্ত ছেলেটা কেমন অশান্ত হয়ে জেদ ধরে আছে।


রাতের খাবার খাওয়ার জন্য লামহার মা তানহা বেগম বাড়ির সবাইকে ডাকেন। ছোটো বড়ো সবাই ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে আসে। কলিং বেল বেজে ওঠে। সবাই একসঙ্গে দরজার দিকে তাকায়। রোমান ইসলাম বলেন,

“এই সময় আবার কে আসলো?”

রওশন চেয়ার ছেড়ে উঠে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। তানহা বেগম আর রওশনের মা সকলের প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে শুরু করেন।

দরজার দিক থেকে রওশনের রাগী গলার স্বর ভেসে আসতেই সকলে আবার তাকায় দরজার দিকে। কবীর রওশনকে ঠেলে সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে। কবীরের সঙ্গে ওর কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গও এসেছে।

চেয়ার ছেড়ে সবাই উঠে দাঁড়ায়। কবীর আগ্রাসী হয়ে লাবিব ইসলামের দিকে এগিয়ে আসে। ওনার টিশার্টের কলার চেপে ধরবে এমন সময় রওশন তেড়ে এসে কবীরের চোয়ালে ঘুষি বসিয়ে দেয়। টাল সামলাতে না পেরে কবীরের মাথা একদিকে হেলে পড়েছে। কবীরের সাঙ্গপাঙ্গরা রওশনের দিকে তেড়ে আসে। রওশন একটা চেয়ার তুলে এলোমেলোভাবে মা’রতে শুরু করে। কবীর লাবিব ইসলামকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে রওশনের উপর আক্রমণ করে। কবীরের আক্রমণে রওশন নিচে পড়ে যায়। বাড়ির সকলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রওশনের মা কাকি আর বউ কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। রওশনের বউ প্রেগন্যান্ট সেজন্য আগানোর সাহস করছে না।

রোমান ইসলাম আরেকটা চেয়ার তুলে কবীরকে বারি মা’রেন। বারি খেয়ে রওশনের উপর থেকে পড়ে গেছে কবীর। রওশনের ছোটো ভাই রোহান ক্রিকেট খেলার স্টাম্প নিয়ে এসেছে। লাবিব ইসলাম একটা স্টাম্প নিয়ে গরুর মতো মা’রতে শুরু করেন কবীরকে। রওশন নিচ থেকে উঠে ভাইয়ের হাত থেকে আরেকটা স্টাম্প নিয়ে কবীরের সাঙ্গপাঙ্গদের উপর আক্রমণ করে। কবীর আর ওর সাঙ্গপাঙ্গদের খালি হাত হওয়ায় পেরে উঠছে না এবার।
চারজনের হাতে উড়াধুরা মা’র খেয়ে আধম’রা অবস্থা কবীর আর ওর সাঙ্গপাঙ্গদের।
রওশন বজ্র কন্ঠে বলে,

“বাঁচতে চাইলে বের হ এই বাড়ি থেকে, আর কোনোদিন এই বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলে জান নিয়ে ফিরতে পারবি না।”

কবীর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলে,

“তুই খালি এই বাড়ির বাইরে বাইর হইস, জান কার থাকে আর কার না থাকে এইডা দেখমুনি।”

“যেই বা/ল ফালাইতে পারোস ফালাইস, তোরে আর তোর কু/ত্তাদের ডরায় না এই রওশন।”

“ক্যারা কারে ডরায় আর না ডরায় এইডা দেহা যাবনি।”

রওশনের মা আর বউ দ্রুত রওশনের কাছে এসে দাঁড়ায়। রওশনের নাকমুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে ফোঁটায় ফোঁটায়। রওশনের বউয়ের চোখজোড়া পানিতে টুইটুম্বর হয়ে গেছে। ওর মায়ের চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে টুপটাপ।

“কাদঁছো কেন তোমরা? কিছু হয়নি আমার।”

তানহা বেগম পানি নিতে রওশনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন,

“রওশন, কুলি করে পানি খাও।”

লাবিব ইসলাম বলেন,

“ডাক্তারের কাছে চল।”

রওশন কুলি করে পানি পান করে বলে,

“এত উতলা হওয়ার কিছু হয়নি।”

তানহা বেগম বলেন,

“বাড়ি থেকে বের হলে ওরা যদি কোনো ক্ষতি করে? ওদের দিয়ে তো কোনো বিশ্বাস নাই। কিছু করে ফেললে তখন তো আর উঠে আসবো না।”

“কী করতে পারে দেখবোনি, আগামীকাল সকালেই থানায় গিয়ে ওদের সবার নামে মামলা করে আসবো। অনেক জ্বালিয়েছে, যা নিয়ে ভয় ছিল সেই ভয় এখন আর নেই। ওদের পেছন দিয়ে গিট ওয়ালা বাঁশ না ভরলে আমার নামও রওশন না।”


মির্জা বাড়িতে ভালো গণ্ডগোল হচ্ছে। বাড়ির সবাই এখন ড্রয়িংরুমে অবস্থান করছে। জাকিরের ঘুরে ফিরে সেই এক কথা, ‘লামহার সঙ্গে হিমেলের ডিভোর্স করিয়ে দাও, আমি লামহাকে বিয়ে করব।’ বাবা-মাকে লামহা আর কবীরের কথপোকথনের কল রেকর্ড শুনিয়েছে কয়েকবার। বাড়ির সবাই স্পষ্ট বুঝতে পারছে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

শান্ত-শিষ্ট, নম্র ভদ্র জাকির পুরো অশান্ত হয়ে উন্মাদের মতো করছে। হিমেলের রুমের সামনে গিয়ে অলরেডি কয়েকবার দরজা ধাক্কিয়ে টাক্কিয়ে রেখে এসেছে, লামহা মনের ভুলেও দরজা খোলেনি। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে বসে আছে।

জাকির আবার কাকার দিকে তাকিয়ে বলে,

“হিমেলকে কল করে আসতে বলো বাড়িতে। ও লামহাকে তালাক দিয়ে চলে যাক, আমি ওকে বিয়ে করে নেব।”

“এটা সম্ভব না, কেন বুঝতে পারছিস না তুই? লামহা তোকে চায় না।”

“বিয়ে হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“এখন এমন পাগলামি করছিস, লামহার যদি অন্য জায়গায় বিয়ে হতো তখন কি করতি?”

“চোখের সামনে থাকতো না, দেখতাম না, একটা সময় পর ভুলে যেতাম। কিন্তু এখন ভুলবো কীভাবে? আমি তো মেনেই নিতে পারছি না ও আমার ছোটো ভাইয়ের স্ত্রী। আমি ওকে বিয়ে করব এটাই শেষ কথা।”

জাকারিয়া মির্জা বলেন,

“জাবির, হিমেলকে কল করে আসতে বল।”

“কেন?”

“এসে লামহাকে ওর সঙ্গে নিয়ে যাক। ওরা দুজন ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকবে আলাদা।”

চলবে………….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply