Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১০


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:১০

তানিশা সুলতানা

আদ্রিতা অশ্রুসিক্ত নয়ন আবরার তাসনিন এর হৃদয় গলাতে সক্ষম হয় না। পাষাণ পুরুষ জোর পূর্বক এ্যানিকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। আদ্রিতা চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করে। আর কখনো তার সামনে আসবে না ছোট্ট ছানাটি সেটারও ওয়াদা করে। তবুও আবরারকে থামাতে পারে না। চোখের আড়াল হয়ে যায়। সিয়াম আমান আহাদ ইভানও বেশ কষ্ট পাচ্ছে। তাদের ইচ্ছে করছে গম্ভীর মানবকে বলতে “ছানাটিকে এবারের মতো ক্ষমা করে দে”
আতিয়া বেগম আঁচলে মুখ ঢেকে কিচেনে চলে যায়। না ছেলেকে কিছু বলতে পারছে আর না আদ্রিতাকে থামানোর সাহস আছে। এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে “আদ্রিতাকে সাথে না আনলেই ভালো হতো। কেনো যে আনতে গেলো? এবার কিভাবে সামলাবে?
ও যদি এখুনি বাংলাদেশ ফেরার জেদ ধরে তখন কিভাবে মানাবে?”
ভাবনার কুল কিনারা খুঁজে পায় না আতিয়া বেগম। ভাত হয়ে এসেছে। সেটা চুলা থেকে নামাতে ব্যস্ত হয়ে পরে।
সিয়াম আদ্রিতাকে শান্ত করার উদ্দেশ্যে বলে
“রিলাক্স আপু
আমি এ্যানিকে খুঁজে আনবো।

ইভান সঙ্গে সঙ্গে বলে
” আবরার ওকে কোথায় ফেলে দিয়ে আসবে তার কোনো হিসেবই নেই। তুই কোথা থেকে খুঁজে আনবি?
আন্দাজে শান্তনা দিস না।

আদ্রিতা এবার চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। প্রচন্ড রেগে গেলো যেনো। চোখের সামনে একগুচ্ছ চুল বড্ড জ্বালাতন করছিলো। তাদের কানের পেছনে গুঁজে দাঁড়িয়ে পড়ে। আশেপাশে কিছু খুঁজতে থাকে।
একটা হকিস্টিক খুঁজে পায়। আমান আহাদ ইভান এবং সিয়াম ভাবে ওদের পেটাবে তাই কয়েক পা পিছিয়ে যায় ওরা আর কান ধরে বোঝায় যে “আমরা নির্দুশ”
তবে সেদিকে নজর না দিয়ে হকিস্টিক হাতে নিয়ে টেবিল ল্যাপে বারি মারে আদ্রিতা। পর পর ড্রাইনিং টেবিল, বিশাল বড় সাইজের মনিটর, টি-টেবিল, সহ ছোটখাটো কাঁচের সব জিনিস ভেঙে গুড়িয়ে ফেলতে থাকে। যেনো এই ধ্বংস না করে থামবে না আদ্রিতা চৌধুরী।
সিয়াম বিরবির করে বলে
“চৌধুরী বংশ মানেই শিরায় শিরায় রাগ আর জেদ। আমরা ভাই ফেঁসে গেছি ওদের মধ্যে।

আতিয়া বেগমও আদ্রিতাকে থামানোর সাহস পাচ্ছে না। শুধু একটু পরপর সাবধানের বাণী শোনাচ্ছে
“আদ্রি লেগে যাবে সোনা।।
পাগলামি করে না।

আতিয়া বেগম এর কথাই যেনো সত্যি হলো।
এক টুকরো কাঁচ ঢুকে পরে আদ্রিতার পায়ের পাতায়। মুহূর্তেই গল গল র/ক্তে সাদা ফ্লোর রক্তিম হয়ে ওঠে।
আদ্রিতা ফুঁপিয়ে কেঁদে বসে পরে পা ধরে।।
বড়মার মুখ পানে তাকিয়ে কঠিন হুশিয়ারের সুরে বলে
” আমার বাচ্চাকে এনে না দিলে আগুন জ্বালিয়ে দিবো এই বাড়িতে। মগের মুল্লুক পেয়েছে?
তোর হাতি ছেলের গলা কেটে র/ক্ত খাবো আমি। চেনে এই আদ্রিতা চৌধুরীকে?

তখুনি আবরার তাসনিন এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। সুমুখ পারফিউম এর কড়া ঘ্রাণ নাকে লাগে। এই হাতি আশেপাশে আসলেই এমন সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। আদ্রিতা আড়চোখে তাকায়। খারাপ মানুষটা দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশে কোথাও এ্যানি নেই। মানে আসলেই ফেলে দিয়ে এসেছে। বুকটা ফেঁটে যায় আদ্রিতার। অনগল অশ্রুকণা গড়াতে থাকে দুই চোখ বেয়ে। ঠোঁট ফুলিয়ে বড়ই মায়া মায়া নয়নে তাকিয়ে থাকে আবরার তাসনিন এর মুখ পানে।
তবে সেসবে পাত্তা দিলো না পাষাণ হাতি। সে গোটা ড্রয়িং রুমে নজর বুলায়। এবং গম্ভীর স্বরে শুধায়

“এসব কে করেছে?

আদ্রিতা ভয়ে দমে গেলো না। আর কাউকে কিছু বলার সুযোগও দিলো না। নিজেই চিৎকার করে বলে ওঠে
” আমি করেছি।
এ্যানিকে ফেরত না দিলে আগুনও লাগিয়ে দিবো।

আবরার কঠিন নয়নে তাকালো আদ্রিতার মুখ পানে। উচ্চস্বরে বলা কথা মোটেও পছন্দ হলো না।
“গেট আউট অফ মাই হাউজ।

আদ্রিতা যেনো বুঝতে পারলো না আবরারের কথা। তাই ভ্রু কুচকে বলল
” এ্যাঁ?

আবরার জবাব দিলো না।।বরং এগিয়ে এসে আদ্রিতার হাতের কব্জি ধরে তাকে টেনে তোলে। এবং টানতে টানতে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। গেইটের সামনে এনে কব্জি ছেড়ে দেয় এবং সাথে সাথেই দরজা লক করে।
আদ্রিতা কিছু মুহুর্ত একই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর দীর্ঘ শ্বাস ফেলে হাতের উল্টে পিঠে চোখের পানি মুছে নেয়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে “মরে গেলেও আর এই বাড়িতে যাবো না”


“এটা কি করলি আব্বা? ওর পায়ে কাঁচ ঢুকেছে।

আতিয়া বেগম এর চোখে পানি। আবরার সেসব দেখলো না। সে নিজ কক্ষের পানে পা বাড়াতে বাড়াতে জবাব দেয়
” দরজা যেনো খোলা না হয়।

সিয়াম তখুনি জানালা দিয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। আর যাই হোক আদ্রিতাকে সে একা ছাড়তে পারে না৷
আতিয়া বেগম আব্দুল রহমানকে কল করতে থাকে। এখুনি সে কিছু একটা ব্যবস্থা করুক এবং তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিক। ছেলেকে দেখার জন্য মন কাঁদছিলো। দেখে নিয়েছে ব্যাসস এবার তিনি ফিরতে চায়।
তবে আব্দুল রহমান কল রিসিভ করে না। কথা বলতে চায় না তিনি নিজ স্ত্রীর সঙ্গে। কথা না শোনার শাস্তি না দিলে পরবর্তীতে ভয়কে জয় করে ফেলবে খুব সহজে। যেটা আব্দুল রহমান কখনোই হতে দেবে না৷
আতিয়া বেগম হতাশ হয়ে কল করে অহনার নাম্বারে। যদিও তিনি জানে মেয়েও কল ধরবে না৷
তবে আতিয়া বেগমকে অবাক করে দিয়ে অহনা কল রিসিভ করে। মাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলে

“আ’ম কামিং সুইজারল্যান্ড।
রাত দশটা নাগাদ কাউকে এয়ারপোর্ট পাঠিয়ে দিও।

ব্যাসস সঙ্গে সঙ্গে কল কাটে। আতিয়া বেগমকে কোনো কথা বলার সুযোগই দেয় না।


কুঁচকানো পোশাক। গলায় তোয়ালে, হাঁটু সমান লম্বা চুল গুলো এলোমেলো, টকটকে ফর্সা গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে, চোখের বড় বড় পাপড়ি গুলো ভেজা। গোলাপি অধর জোড়া তরতর করে কাঁপছে।
সূর্য মামা ডুবে গিয়েছে। চারিদিক থেকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। আদ্রিতা পাগলের মতো এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আর দৌড়াচ্ছে।
কিছু মুহুর্ত আগেই পা থেকে কাঁচের টুকরো বের করেছে। এখনো র/ক্ত পড়া থামে নি৷ তবে সেদিকে খেয়াল নেই।
আদ্রিতাকে যে কোনো মূল্যে এ্যানিকে খুঁজে পেতে হবে।
ছানাকে পেয়ে গেলে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে রাখবে দীর্ঘক্ষণ। তারপর ওকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে যাবে। আর কোনোদিনও ফিরবে না এই পাষাণ শহরে।
ওই নির্দয় হাতির মুখোমুখিও হবে না কোনোদিন।
শুধু এ্যানিকে পেয়ে যাক।
কিন্তু অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না আদ্রিতা।
অসহায় হয়ে দৌড়ানো থামায়। হতাশ ভঙ্গিমায় বসে পড়ে রাস্তার মাঝখানে।
এতোক্ষণ আবেগে ভয়কে জয় করে নিতে পারলেও এখন আদ্রিতার বেশ ভয় করছে।
অন্ধকারই যে তার দুর্বলতা।
বাংলাদেশে রাতের বেলাতেও অনবরত গাড়ি চলাচল করতে থাকে। ল্যামপোস্টের আলোতে পথঘাট আলোকিত হয়ে থাকে।
অথচ এখানে একটা ল্যামপোস্টও দেখা যাচ্ছে না।
কি করবে এবার ভীতু আদ্রিতা? ভয়ের চোটে কি এবার সে ম/রেই যাবে?
অবশ্য মরে গেলেও খারাপ হয় না। ওই পাষাণ মানুষটার মুখটা তো আর দেখতে হবে না।
ভাবনার মাঝেই দূর থেকে এক খানা গাড়ি ছুটে আসে।।
গাড়ির হেডলাইটের আলোতে রাস্তা স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়। এবং দেখা যায় রাস্তার এক কোণায় ছোট্ট এ্যানি গুটিশুটি মেরে বসে আছে।
এক পলক দেখাতেও বেশ ভালো করেই চিনতে পেরেছে আদ্রিতা। মুহুর্তেই ওর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যায় এ্যানির দিকে।
কাছাকাছি গিয়ে কোলে তুলতে যাবে তখনই গাড়িটা এসে থামে আদ্রিতার পা বরাবর। একটু হলেই লেগে যেতো।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply