Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৯


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:৯

তানিশা সুলতানা

কতো সময় পরে ঘুম ভাঙলো জানা নেই আদ্রিতার। নরম জিহ্বা এবং ঠান্ডা লালার সংস্পর্শে ঘুম ছুটেছে। পিটপিট করে চোখ খুলতেই হালকা অন্ধকারে এ্যানির জ্বল জ্বল করতে থাকা চোখ দুটো দেখতে পায়। কেমন ভয় পেয়ে চুপসে আছে। যেনো কেউ আচ্ছা মতো বকে দিয়েছে। বা অচেনা জায়গায় হারিয়ে গিয়েছে।
আদ্রিতা কপাল কুঁচকায়। হাই তুলতে তুলতে এ্যানির গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। বড়ই শান্ত স্বরে শুধায়

“মাম্মাম তোমায় কে বকেছে?
কোন পাডার সাহস হয়েছে আমার বাচ্চাকে বকার? নামটা খালি বলো। মেইন পয়েন্ট এ

বাকিটা শেষ করার আগেই আদ্রিতার নজর পরে খাটের অন্য কোণায়৷ কালো দাড়িতে আবৃত্ত শক্তপোক্ত এক খানা চোয়াল। চোখ দুটো বন্ধ। এই ঝাপসা আলোতেও তার মুখ স্পষ্ট। মুহূর্তেই ওর চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। এক লাফে উঠে বসে। টেনেটুনে স্কার্ট এবং টপস ঠিকঠাক করে আশেপাশে নজর বুলায়।
ছোট্ট এ্যানি বোধহয় ভয় পেলো। সে আদ্রিতার কোলের মধ্যে এসে বসে।
মিউ মিউ আওয়াজ তুললো কয়েকবার। হয়ত জিজ্ঞেস করলো
” কি হইছে মাম্মাম?

তবে আদ্রিতা জবাব দেওয়ার মুডে নেই। সে ভেবে চলেছে “আমি এখানে আসলাম কিভাবে? বা উনিই বা এখানে আসলো কেমনে? হায়য় আল্লাহ একটা ছেলের সাথে এক বিছানায় থাকলাম আমি? সমাজে মুখ দেখাবো কিভাবে? মানুষ জানলে ছি ছি করবে”

ভাবতে ভাবতেই শুকনো ঢোক গিলে। কোল থেকে এ্যানিকে সরিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে নামে। আশেপাশে অনেক খুঁজেও ওড়নার সন্ধান পায় না। তবে এক খানা আধভেজা তোয়ালে পেয়ে যায়। অগত্যা ওড়না ছাড়াই তোয়ালে নিয়ে দৌড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। ছোট্ট এ্যানিও মাম্মামের পেছন পেছন দৌড় লাগায়।
এক্কেবারে ড্রয়িং রুমে গিয়ে থামে দুজনই। ক্লান্ত আদ্রিতা সোফায় বসে পড়ে। জোরে জোরে শ্বাস টেনে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে অনবরত। আতিয়া বেগম নুডলস এর বাটি হাতে বেরিয়ে আসে কিচেন থেকে।

“কি রে?
কোথায় ছিলি?
আমি কখন থেকে খুঁজছি তোকে।

আদ্রিতা চোখ পাকিয়ে তাকায় আতিয়ার মুখ পানে। যেনো সব দোষ তার।।
” কেনো নিয়ে এসেছো তুমি আমাকে এখানে? অউন্নত গরীব দেশ সুইজারল্যান্ড। এখানে কারেন্ট থাকে না৷ দিনের বেলায়ও রাতে মতো অন্ধকার থাকে বাড়িতে।
কোনটা কার রুম সেটাও বোঝা যায় না।
বাঁদর ভেবে বাঘের গুহায় ঢুকে পড়েছিলাম। জান হাতে নিয়ে দৌড়ে পালাতে পারলাম বলে। নাহলে এতোক্ষণে পটল তুলতাম।

আতিয়া বেগম বুঝতে পারে না কথাগুলো। বোঝার চেষ্টাও করে না। নুডলস এর বাটি আদ্রিতার হাতে তুলে দিয়ে বলে
“কি আবোলতাবোল বকছিস?
জলদি খাওয়া শেষ করে কিচেনে আয়। আমায় হেল্প করবি।

আদ্রিতা মুখ বাঁকায়। জীবনেও সে কিচেনে যাবে না।
রান্না বান্না গরিব আর অসুন্দর মেয়েরা করে। সে হচ্ছে সুন্দরী আর বড়লোক্স। রান্না বান্না তার জন্য না।
বিরবির করতে করতে কাঁটাচামচে নুডলস পেঁচিয়ে মুখে পুরে দেয়৷
আহহহহা দারুণ মজাদার। এমন তিন বাটি নুডলস এক নিমিষেই শেষ করে দিতে পারবে আদ্রিতা।

” আজও প্রতি রাতে জেগে থাকি
তোমার আশায়
তুমি চলে গেছো তাই
বিরহের গান গাই
ঘুম নেই দুটো চোখে বুকের ব্যাথায়

সিয়াম উচ্চস্বরে গান গাইতে গাইতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। ইভান তাল মিলিয়ে বলে
“আহহহা সিয়াম মানতেই হবে তোর ট্যালেন্ট আছে। নাহলে নিমিষেই কিভাবে আনাম একটা গান বাঁধতে পারিস?

সিয়াম টিশার্টের কলার খোঁজে। দুর্ভাগ্যবসত কারণে কলার ছিলো না তাই নিজ চুলে হাত বুলিয়ে বলে

” অহংকার করি না ভাই
আমি একটা রত্ন
বাংলার গর্ব
আমার জন্ম হওয়ার কথা ছিলো মঙ্গলগ্রহে কিন্তু একটু মিস্টেক এর জন্য পৃথিবীতে এসে পড়েছিলাম।

আদ্রিতা ফট বলে ওঠে
“এতদিন জানতাম চাপাবাজ শুধু বাংলাদেশেই থাকে
এখন দেখি সুইজারল্যান্ডেও চাপাবাজ আছে।

সিয়াম কি অপমানিত হলো? তার মুখ দেখে ঠিক বোঝা গেলো না। তবে আহাদ এগিয়ে এসে আদ্রিতার পাশে বসে বলে
“এই চাপাবাজ বাংলাদেশ থেকেই এসেছে।
সুইজারল্যান্ডের মানুষদের চাপাবাজি করার মত সময় নেই।

আদ্রিতা মুখে নুডলস পুরে বলে
” হ্যাঁ হ্যাঁ আমি চিনতে পেরেছি। উনি আগে আমাদের বাড়িতে যেতো ওই হাতির সাথে।

আমান এগিয়ে এসে বলে
“হাতি কে?

সিয়াম ইতিমধ্যেই এ্যানিকে কোলে নিয়েছে। এই বিড়াল ছানাটিকে বড্ড মনে ধরেছে তার। কতো কিউট রে ভাই। ইচ্ছে করে টুপ করে গিলে নিতে।

“আছে আছে একজন
লম্বা মতোন দেখতে। ফর্সা কিন্তু গাল দুটো ফুলিয়ে থাকে সর্বক্ষণ। মাথায় সিং নেই তবুও হাতির মতোই। আবার দাঁড়ি আছে।
এই বাড়িতেই থাকে হাতি।

চতুর ইভান বলে ওঠে
” তুমি কি আবরারের কথা বলছো?

“হবে হয়ত
ছেলে মানুষের নাম মনে রাখি না।

আমান বড়ই কৌতুহলী হলো। সুন্দরী মেয়ে মানুষ আবার বেস্ট ফ্রেন্ডের কাজিন একটু বাজিয়ে দেখা যাক। সিট খালি থাকলে একটু চান্স নেওয়া যাবে।

” কেনো মনে রাখো না? পার্সোনাল কেউ আছে বুঝি?

“দেখুন অটোপাস ডাক্তার অভার স্মার্ট হবেন না। এই আদ্রিতা চৌধুরী ইজ জিনিয়াস। সব বুঝতে পারে।
আপনারা আমার চাচার মতোন।
ফ্ল্যার্ট করার কথা চিন্তাও করবেন না৷

সিয়ামের হাত ফসকে এ্যানি পড়ে যায়।
ডিএনএ এ টেস্ট এর দরকার আছে। আবরার তাসনিন এর বোন এতো কথা বলতেই পারে না। হবে হয়ত কুড়িয়ে টুরিয়ে এনেছিলো।

” হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ

হঠাৎ করে গম্ভীর একখানা কন্ঠস্বরে আদ্রিতা সহ সকলেই চমকায়। পেছন ঘুরে তাকায় গম্ভীর মানবের মুখ পানে। আবরার তাসনিন এর সামনে এ্যানি। মূলত এই মাত্রই সে ভুল বসত আঁচড় দিয়ে ফেলেছে আবরারের পায়ে। এটার জন্য অনুতপ্তও সে। ক্ষমা চাইতেও প্রস্তুত। কেমন কুটি কুটি নয়নে তাকিয়ে আছে।
আদ্রিতা নুডলস এর বাটিটা রেখে এক দৌড়ে গিয়ে এ্যানিকে কোলে তুলে নেয় এবং বলে

“ও আমার বাচ্চা
চেঁচাচ্ছেন কেনো? ভয় পেয়ে যাবে না?

বড়ই মধুর আদ্রিতার কন্ঠস্বর। তবে আবরারের ভালো লাগলো না৷ সে বড় বড় পা ফেলে কিচেনের দিকে এগিয়ে যায়। ফ্রিজ খুলে একটা পানির বোতল হাতে নিয়ে তার সিপি খুলে তাতে চুমুক দিতে দিতে আবারও ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে। টি টেবিলের ওপর থাকা হেডফোন কানে সেটআপ করে অদ্ভুত ভঙ্গিমায় ঘাড় নারিয়ে বসে পড়ে সোফায়। পরনে শুধু একটা কালো রংয়ের প্যান্ট। বাড়িতে বিয়ের লায়াক একটা মেয়ে রয়েছে সেদিকেও খেয়াল নেই হাতি টার। লাজ লজ্জার কথা তো বাদই দিলাম। সেসব তো বিক্রি করে কটকটি খেয়েছেই। পানি খাওয়া শেষে বোতল টি টেবিলে রেখে ফোন দেখতে দেখতে সিয়ামকে আদেশের স্বরে বলে

” এটাকে বাইরে ফেলে আয়। আই ডোন্ট লাইক দিস।

হুকুম অমান্য করার সাহস সিয়ামের নেই। তাই সে আদ্রিতার দিকে এগিয়ে যায় বিড়াল ছানাটিকে আনতে।
আদ্রিতা চিৎকার দিয়ে ওঠে

“আমার বাচ্চাটাকে একদম বাইরে ফেলা যাবে না। কিছুতেই না। সে আমার।।

আবরার আবারও গম্ভীর স্বরে বলে
“ইটস মাই অর্ডার সিয়াম। কুইক

সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিতা হাত পা ছড়িয়ে বসে পড়ে। ছোট্ট এ্যানি মায়ের বুকের সঙ্গে লেগে আছে। আতিয়া বেগম কিচেন থেকে দৌড়ে আসে খুনতি হাতে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন পড়ে না৷ কারণ ইতিমধ্যেই সে শুনে ফেলেছে।
সিয়ামের সাহস হচ্ছে না আদ্রিতার দিকে এগোনোর। মেয়েটার যে হাবভাব এক পা এগোলেই চিৎকার দিয়ে কানের তালা ফাটিয়ে দিবে বোঝাই যাচ্ছে।
আতিয়া বেগমকে দেখে আদ্রিতার যেনো সাহস বাড়লো। সল ঠোঁট উল্টে বলে

“বড় মা তুমি জোর করে এনেছো আমায়। তোমার হাতি ছেলে আমার বাচ্চাকে ফেলে দিতে চাচ্ছে। বিচার করো। নাহলে আমায় বাংলাদেশ রেখে এসো।
এই

বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার তাসনিন দাঁড়িয়ে পড়ে। বড় বড় পা ফেলে এগোয় আদ্রিতার দিকে। কিছু বলার আগেই ছো মেরে এ্যানিকে নিয়ে নেয়।
দাঁতে দাঁত চেপে বলে
“আমার বাড়িতে এই ক্যাট থাকবে না

বলেই বাইরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় সঙ্গে সঙ্গে আদ্রিতা তার পা জড়িয়ে ধরে।
ফুঁপিয়ে কেঁদে বলে
“পাষাণ পাষাণ পাষাণ
তাহলে আমাকে সহ বাইরে ফেলে দিন।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply