তোমাতেই_আসক্ত ২
পর্ব:৭
তানিশা সুলতানা
সুইজারল্যান্ড এর জুরিখ শহর জুড়ে বয়ে চলা ছোট্ট জুরিখ নদী পাড় হওয়ার জন্য এক খানা ব্রিজ রয়েছে। কালো রংয়ের এই ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ কিন্তু মানুষ চলাচল করার অনুমতি রয়েছে। ছুটির দিনে কিংবা অবসর সময়ে মানুষজন এখানে ঘুরতে আসে। ডিপ্রেশন কিংবা একাকী সময় কাটানোর জন্য এটা বেস্ট।
আবরার তাসনিন এর পছন্দের জায়গার মধ্যে এটা একটা।
গতকাল রাতে কার রেস এ চ্যাম্পিয়ন হয়েও যেনো খুশি হতে পারে নি আবরার তাসনিন। অবশ্য তার খুশি বোঝার উপায় নেই। সর্বক্ষণ গোমড়ামুখে থাকবে। ভালো খারাপ যেটায় হোক কখনোই শেয়ার করবে না বা নিজের এক্সপেশন এর মাধ্যমে বোঝাবে না।
সদা সর্বদা নিজের মতো থাকতেই পছন্দ করে। তবে তার একাকীত্ব জীবন ছাড়া ছারখার করে দেওয়ার জন্য চারজন বন্ধু রয়েছে। তারা প্রতি নিয়ত বিরক্ত করতেই থাকে।
এই যে কালকে আবরার চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সেলিব্রেট করছে সিয়াম আমান আহাদ ইভান। তারা বাড়িতে প্রার্টিথ্রো দিয়েছে। তবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না আবরার। সে এক বোতল হুইসকি নিয়ে জুরিখ নদীর এই ব্রিজে বসেছে। হুইসকি অনেক আগেই শেষ তবে এখনো আঙুলের ফাঁকে সিগারেট রয়েছে। ঝাঁকড়া কোঁকড়ানো বড় বড় চুল গুলে কপাল জুড়ে এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। সাদা রংয়ের শার্ট খানা পাশে রাখা। কালো প্যান্ট ছাড়া গায়ে আর কিছু নেই।
পেটানো শরীরের কয়েক স্থানে ক্ষত চিহ্ন। ছোট ছোট বিলাই চোখ দুটো টকটকে লাল রং ধারণ করেছে। বেশ ভালো নেশা হয়েছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তবে সেই নেশা থাকে ঘায়েল করতে পারে নি৷ স্টিল স্টং হয়ে বসে আছে।
পকেটে থাকা ফোন খানা অনবরত বেজে চলেছে। কে কল করেছে হয়ত বুঝে গিয়েছে। তাই বিরক্ত ভঙ্গিমায় পকেট থেকে ফোন বের করে রিসিভ করে। ওপাশের মানুষ কি বললো সেটা শোনার ধৈর্য কিংবা ইচ্ছে কোনোটাই নেই।।
সে গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে
“আই ফা**** ইউওর এটিটিউট বাস্টার্ড
ব্যাসস কল কেটে এরোপ্লেন মোড অন করে পূণরায় পকেটে পুরে। সিগারেটে টান দিয়ে নাক মুখে ধোঁয়া ওড়ায়।
“এটি তাসিন? ওহহ মাই গুড নেস। আই নেভার এক্সপেক্টেড টু সী ইউ এগেইন।
গিভ মি অন অটোগ্রাফ প্লিজজ?
পেছন থেকে একটা মেয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে বলে ওঠে। আবরার পেছন ঘুরে এক পলক তাকায়৷ বরাবরের মতো দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে রেখেছে। মেয়েটার হৃদয়ে দোলা দিয়ে উঠলো যেনো। এই মানুষটা এতো সুন্দর কেনো? ইসস সে যেনো নতুন করে আবার ক্রাশ খেলো।।
” হাউ সুইট।
ইউ আর লুকিং সো হ্যান্ডসাম।
আবরার জবাব দেয়। সে মেয়েটার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে পাশে থাকা শার্টখানা তুলে দাঁড়িয়ে পড়ে।
তারপর মেয়েটাকে একপ্রকার ইগনোর করে সেখান থেকে চলে যায়। রাস্তায় তার গাড়ি রাখা আছে। কালো রংয়ের মার্সিডিজ খানা তার। রোদের আলোতে চিকচিক করছে। গাড়ির সামনে সুন্দর করে লেখা “AT Tashin”
আদ্রিতার বেশ মন খারাপ। হুট করে বড়মা এসে বলছে “আমি আর তুই সুইজারল্যান্ড যাবো। টিকিট রেডি। আজকে রাত সাতটার ফ্লাইটেই যেতে হবে। তুই রেডি থাকিস’
এটা কোনো কথা? হুট করে যাওয়া যায় নাকি? তাছাড়া আদ্রিতার কাছে শুধু বাংলাদেশই ভালো লাগে। আর কোনো দেশে যাওয়ার ইচ্ছে নেই।
তার ওপর আবরার তাসনিন থাকে সুইজারল্যান্ড। ওই গোমড়া মুখো হাতির দেশে যাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অসভ্য একটা।।
গতকাল একটা ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে৷ সেখানে দেখা যাচ্ছে সিগারেট খেতে খেতে কালো রংয়ের গাড়ির ওপর বসে আছে নবাব। গায়ে শার্ট নেই। মানছি জিম করে সিক্স প্যাক বানিয়েছে। তাই বলে সারাক্ষণ বের করে রাখতে হবে? অসভ্য নির্লজ্জ বেডা মানুষ কোথাকার। এই বেডাকে এক সময় আদ্রিতা পছন্দ করতো। সে চলে গেছে বলে সে কি মন খারাপ।
ছিহহহ ছোট বেলায় ওর চয়েস এতো বাজে ছিলো?
ভাবতে ভাবতে মুখ বাঁকায় আদ্রিতা।
বড় মাকেও ঠিকঠাক মানা করতে পারছে না। ওই মানুষটার জন্য বড্ড মায়া হয়। ছেলে মেয়ে কেউ ই তার কথা শোনে না। এখন আদ্রিতাও না শুনলে কোথায় যাবে মানুষটা?
দুঃখ বেড়ে যাবে তার।
এ্যানিকে কোলে নিয়ে নিজ কক্ষের বেলকনিতে বসে আছে আদ্রিতা। এই ছোট্ট ছানাটাকে কোল থেকে নামাতেই ইচ্ছে করে না। আদ্রিতার একমাত্র সঙ্গী বলে কথা।
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গিয়েছে। সূর্যি মামা পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছে। যখন তখন টুপ করে আসমানের আড়ালে গায়েব হয়ে যাবে। ধরণী কালো অন্ধকারে ছেয়ে যাবে।
আর সেই আঁধারে ডুববে আদ্রিতা। কেনোনা আর মাত্র তিন ঘন্টা পরেই তাদের ফ্লাইট। আজ রাতেই সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে। ব্যাপারখানা বাড়ির কেউ জানে না। কাউকে বলা হয়নি।
খানিকক্ষণ আগে বড়মা এসে লাগেজ গুছিয়ে দিয়ে গেছে। এক খানা জামা বিছানায় রেখে সেটা পড়ে রেডি হতে বলেছে।
দ্বীধায় ভুগতে থাকা আদ্রিতার কান্না পাচ্ছে।
ধুররররর
বেজায় বিরক্ত আদ্রিতা। এয়ারপোর্টে তাদের কেউ রিসিভ করতে আসে নি। শুধু এক খানা গাড়ি পাঠানো হয়েছে।
এ্যানিকে কোলে নিয়প গাড়িতক গিয়ে বসে। বাংলাদেশলর এয়ারপোর্টে বাইরে কতো গাড়ি, মানুষের কোলাহল, ঠিক যেনো মাছের বাজার।
কিন্তু এখানকার এয়ারপোর্ট শান্তিপূর্ণ। কোনো জ্যামজোট নেই। মানুষের কোলাহলের তো প্রশ্নই ওঠে না।
আদ্রিতা বিরবির করে বলে ওঠে
“এখানে কোনো কোলাহল নেই। রাস্তায় জ্যাম নেই, হিজরা নেই।
এর থেকে তো আমাদের বাংলাদেশই ভালো।
অউন্নত দেশ।
গাড়ি এসে থামে একটা বাড়ির সামনে। আদ্রিতা এবং আতিয়া বেগম নেমে পড়ে।।
আবরার’স হাউজ খুবই সুন্দর এবং চমৎকার এক খানা বাড়ি। জুরিখ শহরের সব থেকে আকর্ষণীয় বিলাশ বহুল বাসার ভেতরে এটি একটি।।
বাড়িটা দেখেই আদ্রিতার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। গাড়ির ড্রাইভার আতিয়া বেগম এর হাতে একটা কার্ড দেয়। যেটা দিয়ে লক খুলতে হবে।
আদ্রিতা বলে ওঠে
” বড় মা কার না কার বাড়িতে এসে পড়লাম।।
এতো সুন্দর বাড়ি তোমার ছেলের জীবনেও হবে না। মাতব্বরি করে লক খুলো না। নাহলে ফেঁসে যাবো।
চলবে?
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৬
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৪
-
অন্তরালে আগুন গল্পের লিংক
-
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৩৯
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২১
-
তোমাতেই আসক্ত ২ পর্ব ৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৩