তোমাতেই_আসক্ত ২
পর্ব:৬
তানিশা সুলতানা
“যে যেতে চায় তাকে যেতে দাও
জোর করে মানুষের শরীর বাঁধা যায় মন নয়।
কিন্তু আতিয়া বেগম এর কলিজাটা যে ফেঁটে যাচ্ছে। তার সন্তান চলে যাচ্ছে। এখন আর ইচ্ছে হলেই তাকে দেখতে পাবেনা। ছুঁতে পারবে না।
আদ্রিতা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ড্রয়িং রুমে আসে। ইতিমধ্যেই ও জানতে পেরেছে আবরার তাসনিন বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। বড্ড খারাপ লাগছে ওর। বলা বাহুল্য আদ্রিতার ছোট্ট মনে আবরারের জন্য বিশাল একটা জায়গা রয়েছে। ভালোবাসা কাকে বলে সেটা হয়তো বোঝেনা তবে ভালো লাগাটা বেশ বুঝতে পারে।
তাইতো আবরার তাসনিন এতো বকাঝকা করার পরও ও তার পেছনে ঘুরঘুর করতো। লোকটার রাগী রাগী ফেইস দেখতে কি যে ভালো লাগে।
ভাবতে ভাবতে বাড়ির বাইরে চলে আসে। যে পথ দিয়ে আবরার তাসনিন চলে গিয়েছে। সেই পথের পানে তাকিয়ে থাকে পলকহীন দৃষ্টিতে।
বিড়বিড় করে বলে ওঠে
” যদি চলেই যাবেন তাহলে এতো যত্ন করলেন কেনো?
হৃদয়ে প্রেম জাগিয়ে পালিয়ে যাওয়া কি ঠিক হলো আবরার তাসনিন?
এর মাসুল কি আপনাকে দিতে হবে না?”
২০১৫ সালের জানুয়ারি ২৪ তারিখ মঙ্গলবার আজকে আবরার তাসনিন এর জন্ম দিন। ৩০ বছরে পা রাখলো ছেলেটা।
আতিয়া বেগম ফজরের নামাজ আদায় করে কিচেনে ঢুকেছে। চকলেট বড়ই ভালোবাসতেন আবরার। প্রতি বছর জন্মদিনে নিজে হাতে কেক বানাতেন আতিয়া। আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়।
চকলেট, ময়দা, চিনি, দুধ, ডিম, ভ্যানিলা, গুড়ো দুধ সব কিছু মিশিয়ে ব্যাটার বানিয়ে ওভেন এ ঢুকিয়ে দেয়। মনটা তার বড়ই খারাপ।
ছয় বছর হয়ে গেলো ছেলেটাকে দেখে না। মাঝেমধ্যে একটু আতটু ফোনে কথা হয় এই আর কি।
আর টিভিতে দেখা যাশ।
তবে আতিয়া বেগম এর মন কাঁদে। আবরারকে সামনে থেকে এক পলক দেখার জন্য পরাণ ছটফট করে। একটু ছোঁয়ার জন্য মন কাঁদে।
অহনা আজকে ঘুমায় নি। কালকেই তার অনার্স ফাস্ট ইয়ারের ইয়ার চেঞ্জ এক্সাম। পড়াশোনার ব্যাপারে সে ভীষণ স্টিক। কোনো গাফিলতি চলবে না।।
ম্যাথ বই রিভিউ দেওয়া প্রায় শেষ। একটু বাকি আছে। কিন্তু ক্লান্ত লাগছে। একটু না ঘুমালে চলবেই না।
এদিকে গলাও শুকিয়ে এসেছে। বোতলে পানি নেই। তাই বিরক্ত ভঙ্গিমায় বোতল খানা হাতে তুলে কিচেনে চলে যায়।
আতিয়াকে আঁচলে মুখ ঢেকে কাঁদতে দেখে অহনার বিরক্তি আরি বেড়ে যায়।
ফিল্টার থেকে পানি ভরতে ভরতে বলে
“যে চলে গেছে তাকে নিয়ে এতো নেকামি কিসের আম্মু?
সে তোমার কাছে থাকতে চায় নি। এটা বুঝতে পারো না?
তাড়াহুড়ো করে চোখের পানি মুছে নেয় আতিয়া। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ড্রাম থেকে চাল মেপে ভাতের হাড়িতে দেয়। অহনা যেনো এসব দেখেও দেখলো না। সে তার মতো পানি নিয়ে চলে যায়।
প্রথমদিন ভার্সিটিতে যাচ্ছে আদ্রিতা চৌধুরী। খুব এক্সাইটেড সে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া স্বপ্ন তার। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
আদ্রিতার একমাত্র বান্ধবী তিথি।
দুই বান্ধবী রিকশা করে ভার্সিটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামতেই একটা ছোট্ট বিড়াল ছাড়া আদ্রিতার পায়ের নিকটে চলে৷ সে। ভীষণ কিউট এবং ধবধবে সাদা পার্সিয়ান বিড়াল ছানাটিকে দেখে আদ্রিতার আনন্দিত মন নেচে ওঠে। সে চটজলদি কোলে তুলে নেয়।
নরম তুলতুলে শরীরে ঠোঁট ডুবিয়ে চুমু খেয়ে নেয় কয়েকটা। তিথি নাক সিঁটকিয়ে বলে
” কার না কার ক্যাট।
গোসল করায় কি না?
তুই চুমু খাচ্ছিস। কতো জীবানু লেগে আছে শরীরে কে জানে।
আদ্রিতা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে
“জীবানু খেতে মজা লাগে আমার। সো ইয়াম্মি।
ওদের আলাপচারিতার মাঝেই রোগা পাতলা লম্বা চওড়া এক খানা ছেলে সামনে এসে দাঁড়ায়। চমৎকার হাসি হেসে বলে
” ইটস মাই ক্যাট।
হার নেইম ইজ এ্যানি
“এ্যানি?
হাউ কিউট
আপনার একটাই বিড়াল? আর নেই?
থাকলে ওকে আমায় দিয়ে দিন। আমি ভীষণ আদরে রাখবো।
এবারেও ছেলেটি হাসে। এবং জবাবে বলে
” আমার আরও দুইডা বিড়াল আছে।
আদ্রিতা খুশিতে নেচে ওঠে।
“তাহলে আজকে থেকে এ্যানি আমার।
” ওকেহহহ
তোমার নাম কি?
“আদ্রিতা চৌধুরী
আপনার নাম কি?
” আসিফ আদনান
ফাস্ট ইয়ার?
“হ্যাঁ
আপনি?
” ফাইনাল ইয়ার। ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট।
তারপর আরও অনেক কথা হয় ওদের মধ্যে। আসিফ আদনান মানুষটা বেশ ভালো। ক্রাশ খাওয়ার মতোই। আদ্রিতার ভালো লেগেছে।
একটু বেশিই ভালো লাগেছে। বাড়ি ফিরে এসেও তাকে ভুলতে পারছে না। সর্বক্ষণ চোখের সামনে ভাসছে ওই মায়া ভরা মুখ খানা।
শ্যাম বর্ণের মানুষও এতো সুন্দর হয়?
কালো মানুষ তো আদ্রিতার পছন্দ নয়৷ তবে ওনাকে কেনো এতো পছন্দ হয়ে গেলো?
ছোট্ট এ্যানি আদ্রিতার কোলে। তার জন্য ফিটার কেনা হয়েছে। তাতে গরুর দুধ নিয়ে খাইয়ে দিয়েছে আদ্রিতা। এখন বাচ্চাটা ঘুমুচ্ছে। আর আদ্রিতা আসিফ আদনানের চিন্তায় বিভোর।
তিথি কল দিয়েছে। ফোন খানা কাঁপছে। আদ্রিতা বিরক্ত হলো। এখন কল করার সময়?
“হ্যালো তিথি তোর কি
বাকিটা শেষ করার আগেই তিথি ওপাশ থেকে বলে ওঠে
” আদ্রিতা
আবরার তাসনিন তোর কাজিন কার রেস এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হয়েছে।
ভাই বিশ্বাস কর
ওনাকে দেখে মাথা ঘুরছে আমার। এতো হট
উফফফ ইচ্ছে করে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরি।
আই উইশ উনি আমায় একটু পাত্তা দিতো।
আদ্রিতা ভেংচি কাটে। এবং বলে
“দৌড় দে
এক দৌড়ে সুইজারল্যান্ড চলে গিয়ে তার লেজ ধরে ঝুলে পড়। লাথি মারলেও ছাড়বি না।
এখন আমায় ডিস্টার্ব করিস না।
বলেই কল কাটে।।
ওয়াইফাই কানেক্টেড করে ফেসবুকে ঢোকে। আবরার তাসনিন ফেসবুক পেইজ এবং আইডির নাম। পেইজে ৯৪ মিলিয়ন ফলোয়ার এবং আইডিতে ১৬ মিলিয়ন।
প্রতিটা পিকচার ভিডিও রিলস এ ১০ মিলিয়ন এর ওপরে রিয়েক্ট।
লাখ লাখ নেকা নেকা কমেন্ট।
আদ্রিতা চেক করে লাইক কমেন্ট।
একবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেয় আবার ডিলিট করে।
আজকেও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেয়। কার রেস এর পরে যখন সবাই চিৎকার করে এ টি তাসিন বলছে স্লোগান দিচ্ছিলো তখনই লাল রংয়ের লেম্বারগিনি থেকে বেরিয়ে আসপ আবরার।
শরীরে শার্ট নেই। শুধু কালো রংয়ের জিন্স পরণে। কালো রংয়ের আন্ডারওয়্যার এর কিছুটাও দেখা যাচ্ছে।
শক্ত পোক্ত শরীর খানা চিকচিক করছে। বড় বড় চুল গুলো এলোমেলো। হাতে রুমাল বাঁধা। তার প্রতিটা কর্মকাণ্ডই বেশ আকর্ষনীয়। এই যে এই মুহুর্তে ঘাড় বাঁকালো অদ্ভুত ভঙ্গিমায়। এটা দেখে হাজার হাজার মেয়েরা ফিট খেয়ে পড়বে৷
আদ্রিতা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। আবরারের আইডি থেকে বেরিয়ে আসিফ আদনান নামে সার্চ করে। এবং খুব সহজেই আইডি খানা পেয়েও যায়।
ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিতে না দিতেই হোয়াটসঅ্যাপ এ এক খানা ভিডিও আসে আননন নাম্বার থেকে।
আদ্রিতা তাড়াহুড়ো করে হোয়াটসঅ্যাপ এ ঢুকে ভিডিও খানা প্লে করে। মুহুর্তেই তার গলা শুকিয়ে আসে। হাত থেকে ফোন খানা পড়ে যায়।
বিরবির করে বলে
” আবরার তাসনিন
আপনি ভীষণ খারাপ।
চলবে
Share On:
TAGS: তানিশা সুলতানা, তোমাতেই আসক্ত সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৫
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৮
-
অন্তরালে আগুন পর্ব (২৪+২৫)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৪৩
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ৫০
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ২২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১২
-
অন্তরালে আগুন পর্ব ১ (১ম অংশ+ শেষ অংশ)
-
অন্তরালে আগুন পর্ব:৩৫