Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৪


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:৪

তানিশা সুলতানা

“তততুই সাইকো আবরার।
ভয়ংকর

সিয়াম আজকে নতুন আবরারকে আবিষ্কার করলো। এতোদিন দেখে এসেছে গম্ভীর, কথা না বলতে জানা এক সুঠাম পুরুষকে। সেই পুরুষ রাগ করতে জানে কি না?
বা হাসতে জানে কি না?
কথা বলতে জানে কি না?
জানা ছিলো না। হু হ্যাঁ ইয়েস ছাড়া তার মুখে খুব বেশি কথাও শোনে নি।
তার সামনে কেউ কেঁদে মরে গেলেও প্রতিক্রিয়া করবে না আবার হেসে গড়াগড়ি খেলেও কোনো রিয়াকশন নেই।
সেই মানুষটা ভয়ংকর রাগ করতে জানে?
তারও কিছুতে আসক্তি রয়েছে?
আবরার তাকায় সিয়াম এর মুখ পানে। ডান হাতে দাঁড়ি চুলকায়। অদ্ভুত ভয়ংকর দেখাচ্ছে তাকে। কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে। ছোট ছোট বিলাই আঁখি পল্লবের সাদা অংশ লাল হয়ে গিয়েছে। সে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসতে থাকে সিয়াম এর দিকে। এখনই বুঝি তাকে খু/ন করে দিবে?
এই সুন্দর পৃথিবীর সুন্দর রূপ বুঝি আর দেখা হবে না? বিয়ে করার স্বপ্ন পূরণ হলো না। বাবা ডাক শোনা তো বিলাসিতা।
সিয়াম জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে পেছন দিকে পিছাতে থাকে। আর ভীতু স্বরে বলে
“এ….. এগোচ্ছিস কেনো? আআআআআ….মি আর ক……কোনোদিও

বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার বলে ওঠে
” ইয়েসসসস
এ’ম সাইকো অনলি বিকজ অফ ……..

বলতে বলতে থেমে যায় আবরার। বাইরে থেকে প্রচন্ড চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসছে। আদ্রিতার কান্নার আওয়াজও বেড়ে চলেছে।
পা বোধহয় ভেঙেছেই।
আবরারের গম্ভীর মুখশ্রী একটুখানি স্বাভাবিক হলো। দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে ফেলে। চতুর সিয়াম ঠিক বুঝতে পারলো “আদ্রিতার কান্না তার বন্ধু সহ্য করতে পারছল না”
বাহহহহ বাহহহহ
ভালো কাহিনি তো।।
আবরার কাবাডের ওপরে থাকা টিশার্ট খানা হাতে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে বেড়িয়ে যায় কক্ষ থেকে।
সিয়াম বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস টানে। বিরবির করে বলে
“ভাই তোর আদ্রিতাকে আমি মা বলে ডাকবো। তারে আপন মায়ের নজরে দেখবো।
ওহেে আমার মা জননী
তুই আমার মমতাময়ী
তোমায় আমি এনে দিবো
গোমড়া মুখো স্বামী
যে তোমায় বাসবে ভালো
আধারেও এনে দিবে এক ফালি ভয়ংকর আলো


ডান পা খানায় ভীষণ বাজে ভাবে আঘাত পেয়েছে আদ্রিতা। উদরে বেশখানিকটা কেটেছে। সেখান থেকে গল গল র/ক্ত ঝড়ছে। সাদা রংয়ের টপস খানা লাল রংয়ে মাখামাখি।
চোখের পানি নাকের পানিতে গোটা মুখশ্রী মাখামাখি। ভয়ও পেয়েছে বেশ। কেমন ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে।
বর্ষা আতিয়া এবং হাফিজুর চৌধুরী আদ্রিতাকে আহ্লাদ করতে ব্যস্ত।
বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই। আরিফ এবং আব্দুল রহমান বিজনেস এর কাজে চট্টগ্রাম গিয়েছেন সকালে। ফিরতে ফিরতে রাত হবে।
আবরার এগিয়ে আসে। প্রথমেই তার নজর পড়ে ফর্সা উদরে। বর্ষা টপস খানা উঁচু করে রেখেছে।
বিগড়ানো মেজাজ খানা আরও বিগড়ে যায়। এক হাতে কপাল ম্যাসাজ করে গম্ভীর স্বরে বলে

” কি হচ্ছে এখানে?

আতিয়া যেনো আশার আলো খুঁজে পেলো। সে বলে ওঠে
“আব্বা আদ্রিতাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। মেয়েটা অনেক ব্যাথা পেয়েছে।

হাফিজুর বলে
” দাদুভাই গাড়ি বের করো।

“ওকেহহ
বাট কাউকে যেতে হবে না। আমি একাই পারবো।

আবরারের বলতে দেরি আদ্রিতার চিৎকার করে উঠতে দেরি নেই।
” নাহহহহহহ
আমি এই হাতির সাথে কোথাও যাবো না।।
এমনিতেই পা ভেঙে গেছে। কোমরও আস্ত নেই৷
এসব কার জন্য?
ওনার জন্য।
দাদু তুমি বলো উনি সকালে আমায় অটিস্টিক বলেছিলো কি না?
উনি অটিস্টিক বললো আর আমি প্রতিবন্ধী হয়ে গেলাম।
এখন ওনার সাথে গেলে নরকে পাঠিয়ে দিবে।
আমি যাবোই না।

আবরারের সেসব কথা শোনার সময় নেই। সে ইতিমধ্যেই গ্যারেজে চলে গিয়েছে।
কালো রংয়ের মার্সিডিজ তার বড়ই পছন্দ। যদিও গাড়ি খুব একটা চালানো হয় না। তার সংগ্রহে অসংখ্য বাইক রয়েছে। একেক দিন একেক ব্যান্ডের বাইক নিয়েই উড়ে বেড়াতে ভালোবাসে।
তবে আজকে গাড়ি নিয়েই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গেইটের কাছে গাড়ি থামিয়ে এগিয়ে যায় আদ্রিতার কাছে। সে বর্ষার বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। কোনোমতেই আবরারের সঙ্গে যেতে রাজি নয়।
আতিয়া এবং বর্ষাও কিছু বলছে না। তারা আবরারকে চেনে। কাউকে নিবে না যখন বলেছে নিবেই না। আবার আদ্রিতাকে তার সঙ্গে একা ছাড়তে ভয় পাচ্ছে।
সে নিজেই প্রতিদিন এক্সিডেন্ট করে ক্ষত নিয়ে বাসায় ফেরে। এখনও তেমনটা হলে?

“যাবে না?

আবরার প্রশ্ন করে। আদ্রিতা মায়ের বুক থেকে মুখ তুলে এক পলক তাকায় আবরারের মুখ পানে। পরপর গেইটের কাছে রাখা গাড়ির দিকে।
আতিয়া বলে ওঠে
” ও তো হাঁটতে পারবে না।
তু

বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার ঝুঁকে কোলে তুলে নেয় আদ্রিতাকে। কিছু মুহুর্তের মধ্যেই ঘটে যায় ঘটনা খানা৷ একদম স্বপ্নের মতো। আদ্রিতা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে জড়িয়ে ধরে আবরারের গলা। মাথা রাখে বুকে। নাকে অদ্ভুত সুন্দর জেন্টল পারফিউম এর সুঘ্রাণ নাকে লাগে। মাতাল হয়ে যাওয়ার মতো সুন্দর।
পায়ের ব্যাথা, কোমরের ব্যাথা সবটাই বোধহয় কোথাও একটা গায়েব হয়ে গেলো। আদ্রিতা মজে যায় আবরারকে অনুভব করতে।
ড্রাইভিং সিটের পাশের তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়।
এবং গম্ভীর হাতি বসে পড়ে ড্রাইভিং সিটে। দক্ষ হাতে স্টারিং ঘুরিয়ে গাড়ি চালানো শুরু করে।
হাসপাতালের দুরত্ব খুব বেশি নয়। তবে ঢাকার শহরের জ্যাম এক অদ্ভুত প্যারা। দশ মিনিটের পথ এগোতে এক ঘন্টা লেগে যাবে।
এই মুহুর্তে আবরারের গাড়ি খানা জ্যামে আটকে আছে। আদ্রিতা ঘাড় বাঁকিয়ে একবার গম্ভীর হাতির পানে তাকাচ্ছে তো আরেকবার রাস্তায় তাকাচ্ছে।
পায়ের মধ্যে টনটন করছে।
কাটা স্থানে র/ক্ত জমাট বেঁধেছে বিধায় টান লাগছে। ইচ্ছে করছে কাঁদতে। কিন্তু সাহস পাচ্ছে না।
কান্না শুরু করলে লোকটা আবার ধমক মেরে দিবে কি না?

আবরার গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে জ্যাম দেখে নেয়। পরপর গাড়ির ডেক্স থেকে ফাস্ট এইচ বক্স বের করে। তুলোয় স্যাভলন লাগিয়ে আদ্রিতার দিকে তাকায়।

“জামা তোলো

আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকায়।
“কিছু মানুষ কতো ক্ষত নিয়ে থাকে। তাদের কিছু হয় না। এই টুকু পথই তো। আমারও কিছু হবে না।

আবরার শুনলো না। হাত বাড়িয়ে আদ্রিতার টপস ওপরল তোলে। ফর্সা উদরে লাল কাটার দাগ। বড্ড আকর্ষণীয়।
তবে সেদিকে নজর না দিয়ে তুলো দিয়ে আলতো হাতে র/ক্ত মুছে দিতে থাকে। আদ্রিতা ব্যাথা পায়। “উউউউউ” শব্দ করে ওঠে।

“স্যরি স্যরি
বেশি ব্যাথা লাগছে?

অদ্ভুত সুন্দর লাগলো আদ্রিতার কথা ব্যাপার খানা। তার ছোট্ট মনে দোল দিয়ে উঠলো। সে মাথা নেরে সম্মতি জানায়। আবরার এবার ফু দিয়ে দিয়ে ঔষধ লাগাতে থাকে।।
জ্যাম ছেড়ে দিয়েছে। আবরারও গাড়ি চালানো শুরু করেছে। আদ্রিতার মনে দোলা লাগলো।।তার দৃষ্টি আবরার তাসনিন এর পানল আটকায়।
দূরে কোথাও গান বাজছে
“ঝিরি ঝিরি স্বপ্ন ঝড়ে দুটি চোখের সিমানায়
চুপি চুপি কানে কানে
কে আমাকে ডেকে যায়
মন হারানোর রেসময়
পাখা মেলে না জানি যাবো কোথায়

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply