Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১১


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:১১

তানিশা সুলতানা

“ইউ আর লুকিং সো বিউটিফুল।
হোয়াটস ইউওর নেইম?

লাল রংয়ের গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে একটা ছেলে। দেখে বখাটে মনে হচ্ছে না আবার ভদ্রলোকও মনে হচ্ছে না। অদ্ভুত
তবে সুন্দর।
সুইজারল্যান্ড এর ছেলেরা আবার সুন্দরও হয়? কি করে সম্ভব এটা?
আদ্রিতা এ্যানিকে বুকে জড়িয়ে ফুলো গালে চোখ ভর্তি পানি নিয়ে লোকটার মুখ পানে তাকিয়ে আছে। ঝাঁকড়া চুলের আড়ালে লুকানো ছোট ছোট চোখ দুটো ঠিক আসিফ আদনানের মতো। যেনো আপন দুই ভাই।
আদ্রিতার থেকে জবাব না পেয়ে লোকটা পূণরায় বলে
” এন্সার মি?
হোয়ার ডু ইউ লিভ?

এবার আদ্রিতা নরেচরে বসে লোকটার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়। সে কোথায় থাকে?
আসলেই তো তার কোনো থাকার জায়গা নেই। পূণরায় কান্না পেয়ে যায়। ঠোঁট ফুলিয়ে নাক টেনে জবাব দেয়
“আমাকে এয়ারপোর্ট দিয়ে আসতে পারবেন?
বাংলাদেশে থাকি আমি। ভুল করে সুইজারল্যান্ড চলে এসেছি। এখন বাসায় যাওয়ার উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।

ছেলেটা ভ্রু কুচকে আদ্রিতার পাশে বসে।
” তুমি বাঙালি?

“হ্যাঁ
আপনিও বাংলা জানেন?

” অভিয়েসলি
একচুয়েলি আমার মাম্মা বাংলাদেশী। পাপা সুইজারল্যান্ড এর। বাট পাপারও বাংলাদেশের সাথে কানেকশন রয়েছে। বিকজ আমার দাদাও বাংলাদেশী ছিলেন বাট দাদু সুইজারল্যান্ড এর।

আদ্রিতা ঠিকঠাক বুঝতে পারলো কি না মুখ দেখে বোঝা গেলো না। তবে ছেলেটা থেমে নেই৷ সে ফের বলতে শুরু করে

“২০১৯ এ গিয়েছিলাম বাংলাদেশ। আই থিংক ঢাকা মীরপুর ৭ এ আমার দাদা বাড়ি।

” আরেহহহ আমারও তো তাই।।
মীরপুর ৭ এ চৌধুরী বাড়ির রাজকন্যা আমি। আদ্রিতা চৌধুরী।

“চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ এন্ড আকিজ কোম্পানির ওনার হাফিজুর চৌধুরীর

বাকিটা শেষ করার আগেই আদ্রিতা বলে
” হ্যাঁ
আমার দাদা ভাই।।
আপনি দেখছি সবই চিনেন।

ছেলেটা হাসলো। নিজের ডান হাত খানা এগিয়ে দিয়ে বলে
“মাই নেইম ইজ টিশান।

আদ্রিতা হাত মেলায় না।।
বলে
“টিশান কেনো? তিশান
তিহান
টুটুল, এগুলোও হতে পারতো।

টিশান হাত নামিয়ে নেয়।
আর তখুনি আরও একটা গাড়ি এসে থামে ওদের সামনে। কালো রংয়ের মার্সিডিজ টিশান এবং আদ্রিতার পরিচিত। আবরার তাসনিন ছাড়া আর কে হবে? আর যেভাবে গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে রেখেছে যেনো আগুন লাগিয়ে দিবে।
আদ্রিতা মুখ বাঁকায়। টিশানের দিকে একটু চেপে বসে। এ্যানিটা বড্ড ভয় পেয়েছে বোধহয়। কেমন গুটিশুটি মেরে বুকের সঙ্গে মিশে আছে৷ এতটুকুও শব্দ করছে না।
গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসে আবরার। আদ্রিতা সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে

” নিতে আসলেই হবে না। কোনোমতেই যাবো না আমি। সাফ সাফ জানিয়ে দিলাম। মগের মুল্লুক না কি? আদ্রিতা চৌধুরী এতোটাও ফেলনা নয়। সে চৌধুরী বাড়ির পিন্সেস।

আবরার টিশানের সামনাসামনি গিয়ে দাঁড়ায়। ছেলেটার চোখের পানে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে জবাব দেয়

“নিতে আসি নি তোমায়। গাড়ি চাপা দিতে মা/র/তে এসেছি।

ভয় পেলো আদ্রিতা। শুকনো ঢোক গিলে তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখ পানে। কতোটা পাষাণ। ইয়া আল্লাহ এই পাষাণের পাল্লায় কেনো ফেললে? অকালে জানটা হারাবে। এখনো আসিফ আদনানকে বিয়ে করা বাকি। তার শত পুত্রের জননী হওয়া বাকি। জীবনটা শুরু হওয়ার আগেই শেষ।
টিশান ঠোঁট বাঁকিয়ে দাঁড়ায়। লম্বায় আবরার তাসনিন এর সমান সমান৷ পার্থক্য শুধু এতোটুকুই আবরার তাসনিন এর পেটানো শরীর। ফিটনেস পারফেক্ট। আর টিশান একটু হেংলাপাতলা।

“আবরার তোমার বোন ভীষণ সুন্দরী।

আবরার তাসনিন সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর স্বরে জবাব দেয়
” সী ইজ নট মাই সিস্টার।

আদ্রিতাও লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে বলে
“হ্যাঁ
কিছুতেই সে আমার ভাই না।
কোথায় হাতি আর কোথায় সুইট আদ্রিতা। করলা কোথাকার। মুখ খুললেই তেঁতো গন্ধ নাকে লাগে। এমন পাষাণকে কোন দিক থেকে আমার ভাই মনে হয়?
জানেন উনি কি করেছে আজকে?
আমার বাচ্চাকে বাইরে ফেলে দিয়ে গিয়েছে।

টিশান অবাক হলো না কি চমকালো জানা গেলো না। তবে কিছুটা জোরে সোরেই বলে ওঠে
” তোমার বাচ্চা মানে?

“বাচ্চা মানে সন্তান।
এটাও জানেন না? পড়ালেখা করেন নি? অশিক্ষিত মূখ্য।
এই না প্রথমে ইংরেজি ঝাড়ছ

বাকিটা শেষ করার আগেই আবরার ধমক লাগিয়ে দেয়।।
” জাস্ট সাট আপ
আর একটা কথা বললে জিভ টে/নে ছিঁড়ে নিবো।

আদ্রিতা দু পা পিছিয়ে যায়৷ ডান হাত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরে। যেনো ভূমিকম্প হয়ে গেলেও আর মুখ খুলবে না।।
“এভাবে ধমক দিবে না আবরার। সী ইজ সো

আবরার টিশানের কথা শেষ করার সুযোগ না দিয়েই হুশিয়ারের স্বরে বলল
“ডোন্ট ফরগেট টু লুক এট হিম । সী ইজ মাই ……….

” কাজিন?
ওকেহহ আবরার তাসনিন এর কাজিন কে নিজের কাজিন মনে করবো।
টিশান মুচকি হেসে বলে। আর মনে মনে বলে

” বাট আমার যে নজর পরে গেছে আবরার তাসনিন। এবার শুধু দেখতে থাকো।

আবরার শুনেও যেনো শুনলো না। সে আদ্রিতার হাতের কব্জিতে ধরে টেনে গাড়ির কাছে নিয়ে যায়। গাড়ির দরজা খুলে ধাক্কা মেরে ভেতরে ফেলে। ঠাসস করক গিয়ে সিটে বসে পড়ে।।ব্যাথা পায় আঙুলে। এ্যানিটা ছিঁটকে পরে। ব্যাথা পেয়েছে বোধহয়। কেমন মিউ মিউ আওয়াজ তুলে ছোটাছুটি করছে। আদ্রিতা চটজলদি কোলে তুলে নেয়। পরম মমতায় বুকে আগলে নেয়। নাক টেনে ধীরে ধীরে বলতে থাকে
” মাম্মাম ব্যাথা পেলে? পাষাণ ওই লোক। খুব তাড়াতাড়ি আমরা চলে যাবো। হাতির আশেপাশেও আসবো না জীবনে।।

আবরার গাড়িতে বসেই স্ট্রাট দেয়।
চোয়াল শক্ত, গলার এডমস এ্যাপেল নরছে একটু পর পর। ফর্সা হাতে একটাও লোম নেই। তবে রগ গুলো ফুলে উঠেছে। কণুই ওবদি শার্টের হাতা গোটানো। যার ফলে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আদ্রিতা আড়চোখে দেখতে থাকে। ইচ্ছে করছে অনেক কথা বলতে তবে গলা দিয়ে বেরুচ্ছে না।
এটাও বলতে পারছে না “আপনার বাড়িতে যাবো না আমি। এয়ারপোর্টে রেখে আসুন আমায়”

এরই মধ্যে আবরার এর ফোন খানা বেজে ওঠে। এক হাতে ড্রাইভ করতে করতে অপর হাতে কানে ব্লুটুথ গুঁজে নেয়। তারপর কল খানা রিসিভ করে। ওপাশ থেকে কি বললো শোনা গেলো না। তবে আবরার জবাব দেয়
“এ’ম নট হ্যাভিং সে*** উইথ হার

আদ্রিতা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে। বিরবির করে কয়েকবার “আসতাগফিরুল্লাহ” বলে ওঠে।
এই হাতি শুধু খারাপই না সাথে অশ্লীলও। ভীষণ অশ্লীল। ছিহহহ কিভাবে পারলো যুবতী একটা মেয়েকে পাশে বসিয়ে এমন কথা বলতে? বুকের ভেতরটা কাঁপছে ওর। হাত পায়েও মৃদু কাঁপন ধরেছে। এ্যানিকে ধরে রাখার ক্ষমতাও যেনো হারিয়ে ফেলবে যখন তখন।
না না এই লোকটার থেকে দূরে থাকতে হবে। কিছুতেই তার আশেপাশে আসা যাবে না। কোনো মতেই না।
ভাবনার মাঝেই আদ্রিতা খেয়াল করে গাড়িটা এয়ারপোর্টের সামনে এসে থামলো। কিছু সংখ্যক গাড়ি পার্ক করা এবং বিশাল বড় ব্যানারে এয়ারপোর্টের নাম লেখা।
মানে আবরার সত্যি সত্যি তাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দিচ্ছে। এবং তা এখনই?
মনটা একটুখানি খারাপ হয়ে যায় আদ্রিতার। সে অভিমানের স্বরে বলে ওঠে
“থ্যাংক ইউ
ভালো থাকবেন।

আবরার ঘাড় বাঁকিয়ে আদ্রিতার মুখ পানে তাকায় তবে জবাব দেয় না।
আদ্রিতা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করে তবে পারে না। যবর শক্ত।
কই তাদের গাড়ির দরজা তো শক্ত না। যেমন হাতি তেমনই তার গাড়ি।।
দুইটাই আজাইরা।
বিরক্ত আদ্রিতা ঠোঁট ফুলিয়ে কিছু বলতে উদ্ধৃত হয়৷ তখনই আবরার হিসহিসিয়ে বলে ওঠে
“খু/ন করে ফেলবো একদম।
ঠোঁট কাঁপাবে না খবরদার।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply