Golpo কষ্টের গল্প তুষারিণী

তুষারিণী পর্ব ৬


তুষারিণী—৬

সানজিদাআক্তারমুন্নী

ইথান নূশার উপর মুখ থুবড়ে পড়ে দাঁত চেপে চিৎকার করে ওঠে, “সাহস বেশি হয়ে গেছে তোমার!”
নূশা নিজের বোকামির জন্য নিজেই মরছে, কারণ একে তো চকলেট, তার মধ্যে ইথানের শরীরের ভার। নূশা শ্বাস ফেলতে পারছে না কষ্টে। নূশা ইথানের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলে, “প্লিজ, আমার উপর থেকে সরুন। শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
ইথান নিজেও অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তাই কোনোক্রমে বাথটাব থেকে উঠে দাঁড়ায়। দাঁড়িয়ে নূশার হাত টেনে ধরে তাকেও তুলে দাঁড় করায় আর বলে, “এসো, ওয়াশরুমে এসো। ফ্রেশ হবে।”
নূশার শরীর চকলেটে ভারী হয়ে গেছে। নূশা জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে ছটফটিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ে আর বলে, “আপনি যান, গিয়ে ফ্রেশ হোন। একসাথে হবো না আমি।”
ইথান রেগে গিয়ে নূশাকে বলে, “ড্রামা করছো কেন? আমার সাথে ফ্রেশ হলে কী সমস্যা? ওকে ফাইন, তুমি থাকো, আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।”
এতটুকু বলে ইথান ওয়াশরুমে চলে যায়। নূশা বসে থেকে চোখ থেকে পানি ফেলতে থাকে। দাঁত চেপে কান্না আটকাতে চেষ্টা করেও পারে না। কী হবে তার? এই মানুষের পাল্লায় পড়ল যে সে! কী হবে তার? এ কেমন অদ্ভুত মানুষ! নূশা অঝরে কাঁদতে থাকে এই ইথান না তাকে মেরে ফেলে!
অনেক্ষন পর,,
নূশা ফ্রেশ হয়ে একটা বাথরোব পরে নিয়েছে। এক ঘন্টায় শরীর থেকে চকলেট সরিয়েছে। এখন ইথান নূশাকে নিয়ে এই অচেনা ক্যাসলের মাস্টার বেডরুমে নিয়ে এসেছে। নূশা ঘরের ভেতর ঢুকে অবাক হয়ে যায় পুরো রয়্যাল নেভি ব্লু’ ও সোনালী আভার তৈরি ইন্টেরিয়রের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ছাদ। বিছানায় শুয়ে তাকালেই মনে হবে সমুদ্রের তলদেশে শুয়ে আছেন পুরো সিলিং জুড়ে একটি বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম, যেখানে স্বচ্ছ কাঁচের ওপারে নানা রঙের মাছ এবং কোরাল রিফ জীবন্ত হয়ে ধরা দিচ্ছে। এই অনন্য ছাদের নিচে, ঘরের ঠিক মাঝখানে রয়েছে মখমলের হেডবোর্ডযুক্ত বিশাল ক্যালিফোর্নিয়া কিং সাইজ বেড। ঘরটিতে ফ্লোর-টু-সিলিং গ্লাস উইন্ডো দিয়ে শহরের প্যানোরামিক ভিউ দেখা যায়, যার একপাশে রয়েছে ব্যক্তিগত ফায়ারপ্লেসসহ বিলাসবহুল সিটিং এরিয়া, হিডেন মিনি বার এবং জরুরি কাজের জন্য একটি এন্টিক মেহগনি ডেস্ক। আরেক পাশে বড় বেলকনির দরজা। হিডেন টিভি ইউনিটের পাশাপাশি ঘরটিতে সংযুক্ত রয়েছে ডিজাইনার স্যুটে ঠাসা বিশাল ওয়াক-ইন ক্লোজেট এবং জাকুজি বড় সোফা আর কতকি কিন্তু উপরের সুইমিং দেখে নূশা বেশি অবাক হয়েছে এ কেমন ডিজাইন! অদ্ভুত রকম সব। ইথান নূশার দিকে তাকিয়ে বলে, “যাও, শুয়ে পড়ো। আমি আসছি।”

নূশা ইথানের কথার উল্টো উত্তরে বলে, “আমাকে কাপড় দিন কিছু পরার জন্য।”
ইথান এ কথায় আড় চোখে নূশার পা থেকে মাথা অবধি পরখ করে নেয় আর বলে, “যেটা গায়ে আছে সেটাও থাকবে না একটু পর। তাই যা বলছি সেটা করো।”
নূশা ইথানের কথার প্রতুত্তরে প্রতিবাদ করে বলে, “এখন সকাল হয়ে গেছে। আপনার সময় শেষ। এখন আপনি আর আমার কাছে আসতে পারবেন না। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান।”
ইথান নূশার কথায় তার দিকে এগোতে এগোতে বাঁকা হেসে বলে, “আবারও আমার কথার উল্টো উত্তর দিচ্ছো? তিনদিন বিছানায় পড়ে ছিলে, তাও শিক্ষা হয়নি? এবার হসপিটালে যেতে চাও ডিরেক্ট? বলো কী চাও?”

ইথানের কথায় নূশা তার থেকে দু-পা পিছনে সরে যেতে যেতে বলে, “আ… আপনি আমার কাছে আসছেন কেন? অদ্ভুত! আমি তো শুয়ে যাচ্ছি।”
ইথান নূশার এমন কথায় বাঁকা হেসে তার দিকে এগুতে থাকে আর নূশা জান বাঁচাতে পিছনে সরে যেতে যেতে বেডে উঠে গায়ে ব্ল্যাংকেট জড়িয়ে শুয়ে পড়ে। নূশা শুয়ে যাওয়ার পরেই ইথান হাত দিয়ে তালি বাজিয়ে দেয়, সাথে সাথে রুমের লাইট অফ হয়ে যায়। নূশা ভয়ে আঁতকে উঠে বসে। তখনি ইথান বেডে উঠে নূশার দুই হাতের কবজি নিজের বাঁ হাতে একসাথে ধরে বেডের হেডবোর্ডে চেপে ধরে। নূশা ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে, তার কবজিতে ইথানের আঙুলের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। সে ছটফট করে আর্তনাদ করে, “আহহ! হাতে লাগছে… কী করছেন আপনি? হাত ছাড়ুন, প্লিজ ছাড়ুন! আমি তো বাধা দিচ্ছি না, আপনি যা বলবেন আমি তা-ই করব। তাহলে এভাবে ফোর্স করার মানে কী?”
ইথান এক মুহূর্তের জন্য থামে। কিন্তু তার হাতের বাঁধন আলগা হয় না, বরং সে নূশাকে আরও নিজের শরীরের সাথে লেপ্টে নেয়। ইথানের ঠোঁটে এখন এক পৈশাচিক অথচ মোহনীয় হাসি। সে নূশার চোখের খুব কাছে নিজের চোখ রেখে একদম শান্ত কিন্তু ভারী গলায় বলে—
“সহজ জয় আমার কোনোদিনই পছন্দ না, ফ্র্যাজাইল তোমার এই সারেন্ডার করাটা আমার কাছে খুব বোরিং লাগে। আই ডোন্ট ওয়ান্ট ইউ টু জাস্ট গিভ ইন।
সে নূশার কানের কাছে মুখ নিয়ে আসে, উত্তপ্ত নিঃশ্বাস নূশার গায়ের পশম খাড়া করে দিচ্ছে। ইথান ফিসফিসিয়ে বলে
“আই লাভ দ্য রেজিস্ট্যান্স, লিটল ক্যাপটিভ। তোমার এই ছটফটানি, এই বাধা দেওয়ার চেষ্টা… এটাই তো আমার আসল নেশা। তুমি যত বেশি বাঁচার চেষ্টা করবে, তোমাকে বশ করার আনন্দ আমার কাছে তত বাড়বে। ইটস নট জাস্ট অ্যাবাউট ইন্টিমেসি, ইটস অ্যাবাউট ডমিন্যান্স। আই ওয়ান্ট টু টেক ইউ, নট আস্ক ফর ইউ।
নূশা স্তব্ধ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে, ইথান হলো এক শিকারি, যে তার শিকারের আর্তনাদ আর লড়াইয়ের মাঝেই নিজের তৃপ্তি খুঁজে পায়।এতটুকু বলে ইথান নূশার বাথরোবের ফিতে খুলে দেয়। নূশা কুঁকড়ে উঠে বলে, “হাতটা ছাড়ুন, আমার হাতটা ছাড়ুন প্লিজ ইথান! আমি ছটফট করতে পারছি না।”
ইথান নূশার হাত এবার ছেড়ে দিয়ে বলে, “নাও ছাড়লাম। ডিস্টার্ব করবে না একদম। আমার কাজে তুমি বড্ড বেশি বাধা দাও।”
এতটুকু বলে ইথান নূশার গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চুমু খায়। নূশার শ্বাস তীব্র ভারী হয়ে যাচ্ছে। ও ইথানের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে বলে, “প্লিজ প্লিজ সরুন ইথান! আমার শরীরটা আপনার এই টর্চার নিতে পারে না। হাতটা সরান বুক থেকে, প্লিজ ইথান!”
ইথান আবারও নূশার দুই হাত এক হাতে নিয়ে বালিশের সাথে চেপে ধরে বলে, “এ জন্য তোমার হাত চেপে ধরতে আমি বাধ্য হই। তুমি কেন এত অবুঝ? আই এম ইউর বেড পার্টনার, আমাকে সাপোর্ট দেওয়া তোমার কর্তব্য। চিল্লিয়ে যেটা হচ্ছে সেটা কি থামাতে পারবে?”
নূশা ফুপিয়ে কেঁদে দেয়, “আপনি কি একটু ভালোবেসে কাছে নিতে পারেন না? এই এত যন্ত্রণা কেন দিচ্ছেন? অমানুষের মতো খাবলাচ্ছেন কেন আমাকে? আর কত সহ্য করব?”
“ভালোবাসা আবার কী? ওইটার কোনো দাম আমার কাছে নেই। তোমার শরীর আমার, আমি যেমন ইচ্ছে তেমন ইউজ করব।”
“আমি মরে যাব, আমি মরে যাব! প্লিজ সরুন!”
“আমার দেহের নিচে চাপা পড়ে যদি মরে যাও, তাহলে মন্দ হবে না। মরে যাও।”
ইথান নূশাকে একটুও বোঝে না। সে তার নিজের মতো নূশাকে কষ্ট দিতে থাকে। নূশা প্রতিবারের মতোই হার মেনে কান্নায় বিলীন হতে থাকে আর বারবার একটা কথাই ভাবতে থাকে কেন যে তার বিয়ে ইথানের সাথে হলো!
সকাল সাতটা
নূশা রুমে রাখা বেলকনির পাশের জানালার সিটারের উপর একটা ব্ল্যাংকেট গায়ে জড়িয়ে, আরেকটা নিচে বিছিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। রোদ পোহাচ্ছে বসে বসে। আজ রোদ পড়েছে। ইথান বেডে ঘুমিয়ে আছে। এই একটু আগে ইথান নূশাকে ছেড়েছে নিজের থেকে। ইথান ফ্রেশ হয়ে আবারও ঘুমিয়েছে। নূশাকে নিজের বুকের নিচে নিয়েই ঘুমিয়েছে, কিন্তু নূশা থাকেনি, উঠে এখানে এসে বসেছে। মন তার ভালো থাকার কথা না, তারপরও নিজেকে বোঝাচ্ছে যে মাত্র ছয় মাস কষ্ট করতে হবে। তারপর ছয় মাস পর সে মুক্ত। নিজেকে যা পারে বোঝাচ্ছে।

ইথানের চোখ খুলে যায়। চোখ খুলেই ও কিছুটা ভড়কে যায়, নূশার শরীরের ঘ্রাণ পাচ্ছে না। নূশার নরম শরীরটা তো তার বুকের নিচেই ছিল, হঠাৎ কোথায় গেল? ইথান হকচকিয়ে মাথা তুলে চারদিকে তাকায়। তখনি চোখ পড়ে নূশার উপর, যে জানালার কাছে বসে আছে। ইথানের ঘুম যেহেতু ভেঙে গেছে, সেহেতু আর লাগবে না চোখের পাতা। তাই হড়মুড় খেয়ে উঠে বসে। কোমরে টাওয়েলটা জড়ানো নেই, তাই টাওয়েলটা নিয়ে কোমরে জড়িয়ে নিতে নিতে নূশার দিকে এগিয়ে আসে আর বলে, “তোমার খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই? এত সাফার করলে। ব্রেকফাস্ট এখানে আনিয়ে দিব?”
নূশা ইথানের কথায় তার দিকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। এক পলক তাকিয়ে ঘৃণায় চোখ ফিরিয়ে নিতে নিতে বলে, “দিন।”
খিদেয় পেটে চোঁ চোঁ করছে। না খেলে এখন নিশ্চয়ই জ্ঞান হারাবে।ইথান নূশার অনুমতি পেয়ে বেল বাজিয়ে দেয়, যাতে সার্ভেন্টরা খাবার দিয়ে যায়। ইথানের আজ বাইরে যাওয়ার তাড়া নেই। তাই সে নূশার পাশে এসে বসতে বসতে বলে, “জ্বরের প্রবলেম হলে মেডিসিন নিও। আমি কিন্তু আর ছাড় দিতে পারব না।”
ইথানের কথায় নূশা ইথানের দিকে বিষাক্ত চোখে তাকিয়ে বলে, “ছাড় দিবেন কেন? দিয়েছেন আদৌ? আপনি একটা নরখাদক হায়না, যে কিনা ভালো-মন্দ কিছু বোঝে না। সারাটা শরীর অবশ আমার।”
ইথান নূশার কথায় বাঁকা হেসে বলে, “মানুষ হয়ে কী লাভ? মানুষ আমিও ছিলাম, কিন্তু মানুষ থাকতে পারিনি। তাই তুমি যা বলবে, যা ভাববে, তার চেয়েও নিকৃষ্ট আমি।”
নূশা চোখের কোণে জমে থাকা পানিটুকু মুছে নিতে নিতে বলে, “নিরুপায় পেয়ে আমাকে যেভাবে ব্যবহার করছেন না, এর হিসেব দিতে হবে আপনায়। আমাকে ডিভোর্স দেওয়ার পর যদি আপনি বিয়ে করেন, তাহলে দোয়া করব একটা মেয়ের বাবা যেন আল্লাহ আপনাকে বানায়। আমার সাথে যা হচ্ছে তার সাথে না হোক, কখনোই না হোক। একটা মেয়ের বাবা হলে বুঝবেন যন্ত্রণা কী।”
নূশার কথাগুলো মন দিয়ে শোনে ইথান। এরমধ্যে মেইড ব্রেকফাস্ট দিয়ে যায় তাদের। ইথান একটা ব্রেডে জ্যাম মাখাতে মাখাতে নূশাকে জিজ্ঞেস করে, “ছয় মাসে কি একটা বাচ্চা জন্ম দেওয়া পসিবল?”
নূশা জুসের গ্লাসে ঠোঁট বসিয়ে এক ফোঁটা জুস গিলতে নিচ্ছিল, তার আগেই সে বিষম খেয়ে যায় ইথানের এই প্রশ্নে। এটা কেমন প্রশ্ন? ছয় মাসে বাচ্চা মানে কী? নূশা নিজেকে সামলিয়ে ইথানের দিকে রুক্ষ চোখে তাকিয়ে বলে, “ফাইজলামি করছেন? ছয় মাসে বাচ্চা হবে কীভাবে? বাচ্চা সাজছেন?”
ইথান নূশার কথায় ধমক দিয়ে বলে, “এই, আমি জানি হয় না। তারপরও কনফিউশনে ছিলাম তাই জিজ্ঞেস করছি।”
“কেন? আপনি হঠাৎ এটা জিজ্ঞেস করছেন কেন?”
“তুমি বললে না একটা মেয়ে যেন আমার হয়, তাই ভাবলাম ছয় মাসের ভেতর হলে তোমাকে বাচ্চার মা হিসেবে বেছে নিতাম। তুমি ছাড়া অন্য কারো শরীর ছুঁতে মন টানে না।”
নূশা ইথানের এমন ভাবনা দেখে প্যানকেকের এক টুকরো মুখে নিতে নিতে বলে, “আমি আমার দোয়া ফিরিয়ে নিলাম। আল্লাহ যেন আপনার মতো পুরুষকে সন্তান না দেয়। আপনার মতো পুরুষ শুধু মানুষকে অত্যাচারই করতে পারে, আর কিছু না। দায়িত্ব নেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব না।”
ইথান নূশার কথায় হাসতে হাসতে বলে, “দায়িত্ব? তুমি আমায় দায়িত্ব শেখাও? দায়িত্ব কী তুমি বোঝো? একটা পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে নিজেকে খুব দায়িত্ববান মনে করছো? হাহ! হাস্যকর।”
“উপহাস করবেন না। আমি আমার ক্ষেত্রে যেটা দেখেছি সেটাই বলছি। আপনি কতটা দায়িত্ববান!”
“তোমার প্রতি আমার কোনো দায়িত্ব নেই। তুমি শুধু আমার কন্টাক্ট আর প্রয়োজন। তুমি শুধুমাত্র প্রয়োজন, তোমাকে অপছন্দ আমার।”
ইথানের কথাগুলো নূশার বুকে তীরের মতো বিঁধে। নূশা একটা মুচকি হেসে বলে, “এতই যখন অপছন্দ, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিন না। বিশ্বাস করুন, আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু ডিভোর্স চাই।”

“ডিভোর্স নিয়ে কী করবে? এখানেই তো ভালো আছো। টাকা, লাক্সারি লাইফে আছো।”
নূশা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে, “লাক্সারি জীবনই সব নয়। আমি মুক্তি চাই, আপনার থেকে মুক্তি চাই। আপনার মতো মানুষের সাথে আমি থাকতে পারব না।”

“থাকতে হবে না। ছয় মাস থাকো, দ্যান তুমি তোমার পথে, আমি আমার পথে। আর এর আগে আমায় ছাড়তে চাইলে বোঝোই তো কী করব? দেশে গিয়েও বাঁচতে পারবে না শান্তিতে।”

এতটুকু বলে ইথান নূশার হাত থেকে জুসের গ্লাসটা নিয়ে পাশে ট্রে-তে রেখে তাকে কোলে তুলে নিতে নিতে বলে, “ওকে চলো, এখন একটু এন্টারটেইন হই। আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তোমাকে এখান থেকে ক্যাসলে নিয়ে যাব।”

নূশা ইথানের কোল থেকে লটকে নেমে যেতে যেতে বলে, “আ… আমি রেস্টুরেন্টে যাব। প্লিজ ছেড়ে দিন। আজ না গেলে জবটা থাকবে না আমার। নতুন মালিকের সামনে থাকতে হবে তো।”
ইথান নূশাকে পিছলাতে দেখে আরও জোরে তার কোমর জড়িয়ে ধরে। তাকে কোলে নিয়ে ‘টাশ’ করে তাকে বেডে আছাড় মেরে ফেলে দেয় আর বলে, “আমি তোমাকে এর থেকে বড় রেস্টুরেন্টের ওনার বানিয়ে দিব। জাস্ট পাঁচটা মিনিট আমাকে দাও সুইটহার্ট ।”

নূশা নিজের খোলা চুলগুলো বাঁধতে বাঁধতে বলে, “কিসের পাঁচ মিনিট? চার মিনিট? সকাল হয়ে গেছে কিন্তু, কন্টাক্ট ভুলে যাবেন না। আমার চুলে কেন ধরেন আপনি? চুলের গোড়ায় ব্যথা করছে।”
ইথান নূশার কথায় বাঁকা হেসে জবাব দেয়, “মরার শখ হয়েছে নাকি তোমার? তাড়াতাড়ি এদিক আসো, জাস্ট একবার। দ্যান তোমার নামে একটা রেস্টুরেন্ট।”

নূশা চিৎকার করে ওঠে, “আমাকে কি আপনি পণ্য পেয়েছেন যে আপনি বিনিময় দিতে চান? আমার কাছে আসবেন না বলে দিলাম।”

নূশার কথা কি ইথান শোনে? না, তা কখনোই নয়। সে ঝাপটে টেনে নেয় নূশাকে আবারও নিজের কাছে।

অনেকক্ষণ পর।
নূশা ইথানের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। পানি ভরাট নয়নে ইথানও নূশার দিকে তাকিয়ে আছে। নূশা চোখের পাতা বুজে পানি ছেড়ে বলে ওঠে, “আপনার কি একটুও দয়া হচ্ছে না? আমার না ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। অনেক তো হলো, ছেড়ে দিন না আমায়!”
ইথান নূশার কথায় হেসে বলে, “সম্ভব হলে দিতাম। দয়া হয় না বলেই তুমি এখানে।”

নূশার দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। সে তার শেষ শক্তি দিয়ে ইথানের চওড়া বুকটা ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইছে, কিন্তু পারছে না। তার গলার স্বর কান্নায় ভেঙে আসছে, তবুও সে আর্তনাদ করে বলে ওঠে,
“আমাকে এভাবে নিরুপায় পেয়ে আপনি স্রেফ ব্যবহার করছেন! এই যে নিষ্ঠুরতা করছেন আমার ওপর, এটার হিসেব আপনাকে দিতেই হবে ইথান আজ না হয় কাল, নয়তো পরপারে। আমি জানি আপনার চাহিদা আছে, আমার ওপর আপনার পূর্ণ অধিকার আছে; কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি এতটা নির্মম হবেন! আপনি কি কোনো মেডিসিন নিচ্ছেন? সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে কি এত টর্চার করার শক্তি পাওয়া পসিবল?”
ইথান এক মুহূর্তের জন্য থামে না। সে নূশার গলার ভাঁজে তার উত্তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে চলেছে। হঠাৎ সে নূশার কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে আসে আর হিসহিসিয়ে নূশার কানে ফিসফিস করে বলে,
“আই এম অ্যান এজাকুলেটরি কন্ট্রোলার, বেইব।”

মুহূর্তেই নূশার কান্নার বেগ থমকে যায়। এ শুনে তার শরীর যেনো জমে পাথর হয়ে গেছে। সে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে ইথানের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার হৃদপিণ্ড এখন ড্রামের মতো বাজছে। সে কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে বিড়বিড় করে জিজ্ঞেস করে,
“আ… আপনি কি তবে একজন ‘দি এনডিউরেন্স বিস্ট’?”
ইথানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে। সে নূশার অবিন্যস্ত চুলে নিজের আঙুল ডুবিয়ে দিয়ে শান্ত অথচ দাপুটে গলায় জবাব দেয়,
“ইয়াপ বেইবি। ইউ আর ডিলিং উইথ আ রিয়েল ওয়ান।
নূশার দম বন্ধ হয়ে আসছে। সে যা শুনছে তা কি সত্যি? সে কোথাও পড়েছিল যে পৃথিবীর মাত্র ১ ভাগ পুরুষ এমন গড-গিফটেড স্ট্যামিনা আর অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জন্মায়। তারা চাইলে মুহূর্তগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেনে নিতে পারে। ইথান তবে সেই বিরলদেরই একজন এক সত্যিকারের ‘এনডিউরেন্স বিস্ট’। নূশা বুঝতে পারে, এই টর্চার থেকে তার কোনো মুক্তি নেই।নূশা চোখ বুঁজে নেয় আর বলে, “আমার পক্ষে আপনার মতো স্ট্যামিনা কিং সামলানো সম্ভব নয়। আপনি আরো কয়েকটা বিয়ে করে ফেলুন।”
ইথান নূশার কথায় হাসতে হাসতে তার গালে চুষে চুমু খেতে থাকে। নূশা ইথানকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়ে বলে, “ছাড়ুন বলছি! অসহ্য!”
ইথান নূশার গালে কামড় দিয়ে লটকে যেতে থাকে। নূশা ইথানের কান্ডে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে, “আমার কাছ থেকে সরুন বলছি! মেরে ফেলব!”
ইথান নূশার হাত দুটো নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে বিছানার সাথে চেপে ধরতে ধরতে বলে, “এত ছটফট করো না সুইটহার্ট। আমার এই গ্রিপ সহ্য করার ক্ষমতা তোমার নেই তো।”

“জানোয়ার! অমানুষ! পশু! গরু কোথাকার! তোর আর তোর এই অদম্য পৌরুষের ওপর গজব পড়ুক! গজব! তুই মরে যা কুত্তা! তোর মতো জানোয়ার কেন আমার কপালে জুটল?”

ইথান নূশার এসব গালিতে পাত্তা দেয় না। সে নিজের মতোই হারাতে থাকে নূশার মধ্যে।
রাতের সময়
একটা গোডাউনে ইথান বসে আছে, তার চারপাশে কিছু লোক বসে আছে। ইথান তাদের সাথে টেররিস্ট হামলা আর গডফাদার সংক্রান্ত কথা বলছে। এই লিজিয়ন আর তাদের গডফাদার সীমা লঙ্ঘন করছে। কাল রাত দুটোর দিকে গডফাদার স্বয়ং লাইভে এসে একটা ফিমেল লয়ারকে নগ্ন অবস্থায় ঝুলিয়ে তার বুকের দুই স্তন জ্যান্ত অবস্থায় কেটে দিয়েছে। এমন বিশ্রী কাজ শুধু গডফাদার আর তার লিজিয়ন দ্বারাই সম্ভব। মেয়েটার প্রাইভেট পার্টে লোহার রড প্রবেশ করিয়ে তাকে হত্যা করেছে, তাও সরাসরি লাইভে। মেয়েটার দোষ গডফাদার বলেনি, শুধু বলেছে ‘চিটার’। এই লয়ারটা বড় বড় মিনিস্টারদের পক্ষে লড়ত। দেশের জনগণ এসব দেখে খুবই আতঙ্কে আছেন। এই গডফাদার আর লিজিয়নদের ধরতেই আজকের এই মিটিং। তার এই গোডাউনটা ইথানের নিজেরই। মিটিং চলছে, এরমধ্যে ইথানের বডিগার্ড কাইক এসে জানায়, “স্যার, আপনার ওয়াইফ বিকেল তিনটের সময় বাইরে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছেন ক্যাসেল থেকে। এখন রাত সাতটা বাজে, তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা এই সিটির সব ক্যামেরা চেক করে দেখেছি, তিনি আর সাথে একটা মেয়ে লা ফোরে জঙ্গলের দিকে যাচ্ছেন। হয়তো আপনার ওয়াইফ পালিয়েছেন।”
এই কথাগুলো শুনে ইথানের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। এমনিতেই এই লিজিয়নরা, তার ওপর নূশা! ইথান বডিগার্ডকে বলে, “তুমি যাও, আমি মিটিংটা শেষ করে আসছি।”
ইথান দ্রুত মিটিং শেষ করে নেয়। সবাই চলে যাওয়ার পর বডিগার্ডরা ইথানের হাতে সেই ফুটেজ দেয়, যেখানে নূশা গাড়িতে উঠেছিল আর চোখের পানি মুছছিল। ইথান ফুটেজটার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, “কোথায় পালাবি? পালা। যেখানে ইচ্ছে সেখানে গিয়ে মর। কিন্তু আমার নিঃশ্বাস থেকে তোর শরীরের ঘ্রাণ মুছে যাওয়ার আগেই। আমি আবারও তোকে খুঁজে বের করে ছিঁড়েখুঁড়ে নিব।”

এটা বলে ইথান কাইকের দিকে তাকিয়ে বলে, “রেডি কর। আমি নিজে যাব ওকে আনতে।”
“ওকে।”
এদিকে নূশা নিজের একটা ফ্রেন্ড নায়লা যার সাথে ভার্সিটিতে ভর্তি হতে গিয়ে পরিচয় হয়েছিল, তাকে সব বলেছে। সব শুনে নয়লা তাকে সেভ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বলে যে, “নূশা, তুই যেকোনো ওয়েতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আয়। আমি তোকে সেফলি একটা বাড়িতে পৌঁছে দিব। যে বাড়িটায় আমার মা থাকে, লা ফোরে জঙ্গলের ভেতরেই সেটি। ইথান নিশ্চিত তোকে খুঁজবে না, কারণ ও তো তোকে লাইক করে না।” কয়েকদিন লুকিয়ে থেকে অন্য শহরে সেটেল হয়ে যাবে নূশা প্রথমে মানেনি এসব, কিন্তু এখন কোনো পথ না পেয়ে এটাই বেছে নিয়েছে সে। পালিয়ে এসেছে ইথানের কাছ থেকে। পালিয়ে এসেছে, আর দোয়া-দরুদ পড়ছে গাড়িতে বসে। যদি ইথান তার খোঁজ পায়, তাহলে বাঁচা-মরা সমান হয়ে যাবে। ইথান যেই লেভেলের সাইকো তার সাথে থাকা মানে মরণের সাথে ঘুরে বেড়ানো।

চলবে,,
কমেন্ট করে মতামত জানান

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply