তুষারিণী —- ১২
সানজিদাআক্তারমুন্নী
পারিবারিক পার্টিটার এক নিভৃত কোণে চুপচাপ বসে আছে নূশা। জমকালো এই পারিবারিক পার্টির চারপাশের কোলাহলের মাঝেও নূশা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে বসে আছে। এই উৎসবমুখর পরিবেশে আসার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তার ছিল না। নেহাত ইথানের জেদ আর প্রচ্ছন্ন বাধ্যবাধকতার কাছে হার মেনেই তাকে এখানে আসতে হয়েছে। একটা কোণে, সোফায় প্রায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে সে। চারপাশের মানুষের হাসি-ঠাট্টা আর সঙ্গীতের মূর্ছনা তার কানে পৌঁছাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মস্তিষ্কে কোনো রেখাপাত করছে না। তার সমস্ত মনোযোগ আর চিন্তার জগৎ জুড়ে একটি মানুষ সে হলো ইথান।
গত কয়েকদিন ধরে তার ভেতরে অচেনা পরিবর্তন এসেছে। নূশা কিছুতেই সমীকরণ মেলাতে পারছে না। ইথান সন্তর্পণে নিজের খোলস পাল্টে ফেলছে। আগে কথায় কথায় যে অবহেলা, যে তীক্ষ্ণ তুচ্ছতাচ্ছিল্য নূশাকে সইতে হতো, এখন আর তা দেখতে হয় না তাকে। ইথান নূশার সাথে হঠাৎ করেই স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নূশার মনে স্বস্তি নেই। কারণ সে খুব ভালো করেই জানে, ইথানের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর দ্বৈত সত্তা। দিনের বেলার এই মোলায়েম আচরণের আড়ালেই ঢাকা পড়ে থাকে রাতের অন্ধকারের সেই পৈশাচিক রূপ। রাতের বেলার অমানবিক অত্যাচারে তো একবিন্দুও ভাটা পড়েনি! তাহলে দিনের বেলার এই পরিবর্তন কি মিথ্যা কোনো অভিনয়, নাকি নতুন কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস? নূশা বিশ্বাস করতে ভয় পায় ভীষণ ভয় হয় তার।
পার্টির অপর প্রান্তে, বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে ইথান। নূশার অপলক দৃষ্টি আটকে আছে তার ওপর। অন্য অতিথিদের সাথে সাবলীল ভঙ্গিতে কথা বলছে সে, ঠোঁটের কোণে ঝুলছে মেপে রাখা বাকা এক হাসি। নূশা নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ইথান স্বভাবের দিক থেকে আস্ত একটা জানোয়ার হতে পারে, কিন্তু রব তাকে রূপ দেওয়ার সময় কোনো কমতি করেননি। সুদর্শন চেহারায় বিন্দুমাত্র খাদ নেই। পেশিবহুল, সুঠাম কাঠামো, উজ্জ্বল গায়ের রঙ আর ছয় ফুট এক ইঞ্চি দীর্ঘ নজরকাড়া উচ্চতা সব মিলিয়ে বোধহয় গ্রিক পুরাণের কোনো সুন্দর ভাস্কর্য। নূশা জানে, এই ঝলমলে রূপের কাছে সে বড্ড সাধারণ। তার সাথে তো মানায় না ইথান কে। ইথান তো রাজার সমান তার তুলনায়।
নূশার এই এক জায়গায় চুপচাপ জড়সড় হয়ে বসে থাকার পেছনে মানসিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি শারীরিক কষ্টও কম দায়ী নয়। আজ তার পরনে একটা স্নিগ্ধ নুড কালারের বোরকা, মাথায় পরিপাটি করে প্যাঁচানো ম্যাচিং হিজাব। এই পোশাকের সাথে মানানসই হবে বলে ইথান নিজে পছন্দ করে তাকে একটা মিডিল হিল পরিয়ে এনেছে। কিন্তু হিল পরার অনভ্যস্ততায় ততক্ষণে নূশার পায়ের পাতায় চামড়া উঠে ফোস্কা পড়ে গেছে। ব্যথায় পা টনটন করছে, এক পা ফেলারও উপায় নেই। ইথানের চাপিয়ে দেওয়া সৌন্দর্যের ভার বইতে গিয়ে নূশা নীরবে এই শারীরিক কষ্ট সয়ে যাচ্ছে।
ওদিকে ইথানের দিকে তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায় নূশার। সে নিজেকে আজ সাজিয়েছে একটা রক্তিম লাল রঙের শার্ট আর আভিজাত্য ছড়ানো কুচকুচে কালো রঙের স্যুট-কোটে। পায়ে চকচকে দামি লেদারের জুতো।আর তার বাঁ হাতের কবজিতে শোভা পাচ্ছে এমন এক ঘড়ি, যার ব্র্যান্ড বা দামের হিসেব কষতে গেলে নূশার রীতিমতো হার্টফেল হওয়ার জোগাড় হবে। তাই ওসব আকাশছোঁয়া দামের হিসেব না কষে, নূশা শুধু এক অসহায়, নীরব দর্শকের মতো দূর থেকে নিজের এই সুদর্শন অথচ ভয়ঙ্কর ইথানকে দেখে যাচ্ছে।
ইথান ধীর পায়ে এগিয়ে এসে নূশার ঠিক পাশ ঘেঁষে বসে। চারদিকে একনজর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়ে সে মুখটা নূশার কানের কাছে নিয়ে আসে। ফিসফিস করে বলে, “কী হলো, এভাবে বসে আছো কেন?”
নূশা চরম বিরক্তি নিয়ে ইথানের দিকে তাকায়, “তো কী করব? আমাকে নিয়ে এসেছেন কেন এখানে? আর সাথে কী জুতো পরিয়ে এনেছেন, হাঁটতেই পারছি না! পায়ে মনে হয় ঠোসা পড়ে গেছে।”
কথাটা শুনে ইথান ভ্রু কুঁচকে নূশার পায়ের দিকে তাকিয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে, “কেন? ঠিকই তো লাগছে, সুন্দর দেখাচ্ছে।”
নূশা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে গুমরে ওঠে, “হ্যাঁ, লাগবেই তো। আমি কষ্ট পেলেই তো আপনার কাছে সুন্দর লাগে!”
বলেই সে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। কিন্তু ইথান কিছু না বলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়, তারপর সোজা নূশার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। নিজের হাতে খুলতে শুরু করে নূশার পায়ের জুতো জোড়া। নূশা অবাক না, স্রেফ অবাক নয়, আক্ষরিক অর্থেই হতভম্ব! এত গণ্যমান্য মানুষের সামনে ইথান তার পা ছুঁচ্ছে? এটা কী করে সম্ভব! চোখ বড় বড় করে সে বলে ওঠে, “কী করছেন কী? ছাড়ুন পা, সবাই দেখছে!”
কিন্তু ইথানের সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। সে নূশার ডান পা-টা নিজের চোখের সামনে তুলে ধরে নিবিড়ভাবে পরখ করে শান্ত গলায় বলে, “পা তো লাল হয়ে গেছে দেখছি। মেডিসিন লাগিয়ে দিলে ঠিক হয়ে যাবে।”
নূশা তীব্র অস্বস্তিতে চারপাশে তাকায়। যদিও এখানকার কালচারে এসব খুব স্বাভাবিক, উপস্থিত অনেকেই দৃশ্যটা দেখে মুচকি হাসছে, কিন্তু নূশার কাছে পুরো ব্যাপারটা চরম অস্বস্তিকর। সে চোখ রাঙিয়ে হিসহিস করে ওঠে, “কী করছেন? সবাই দেখছে। পা ছাড়ুন! সবার সামনে পা কেন ছুঁচ্ছেন আমার?”
ইথান নূশার কথা পুরোপুরি উপেক্ষা করে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কাইককে ইশারা করে। কাইক ইশারা পেয়েই দ্রুত প্রস্থান করে। এবার ইথান নূশার দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বলে, “চুপ করে বসে থাকো। সবকিছুই তো ছুঁয়ে, মেপে মেপে দেখি। তাহলে পা ছুঁলে কী হবে? সব তো আর সবার সামনে ধরা যায় না, তাই পা-ই ধরি!”
এমন নির্লজ্জ কথা শুনে নূশা চোখ বুজে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এই লোকটা যে কী করতে চায়, কে জানে! কাইক গাড়ি রেডি করে এসে ইথানকে ইশারা দেয়। ইথান এবার উঠে দাঁড়ায়। উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে ঘোষণা করার মতো করে বলে, “আমি আসলে আর এখানে থাকতে পারছি না, সরি। আমার ওয়াইফের পায়ে প্রবলেম হচ্ছে, সাথে ওর সাফোকেশনও লাগছে। তাই আমরা রওনা হলাম।”
কথাটা শেষ করেই সে নূশার জুতো জোড়া বাঁ হাতে নেয় এবং ডান হাতে নূশাকে এক টানে দাঁড় করিয়ে সোজাসুজি নিজের কোলে তুলে নিয়ে ফিসফিস করে বলে, “চুপচাপ আমার গলা জড়িয়ে ধরো। এই বিরক্তিকর ফালতু পার্টি থেকে বের হওয়ার জন্যই এই নাটকটা করলাম। এবার তুমি বাকিটা কন্টিনিউ করো।”
নূশা এবার বোঝে, এতক্ষণ ধরে ঘটা সবকিছুই ছিল নাটক। তাচ্ছিল্যের এক চিলতে হাসি ঠোঁটে ঝুলিয়ে সে ইথানের গলা জড়িয়ে ধরে। ইথান নূশাকে কোলে নিয়ে, বাঁ হাতে জুতো জোড়া ধরে পার্টি থেকে বেরিয়ে যায়। একজন মিনিস্টারের নিজের স্ত্রীর প্রতি এমন পজেসিভনেস আর প্রকাশ্যে কোলে তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই রীতিমতো বিস্মিত।
গাড়ির সামনের ড্রাইভিং সিটে কাইক বসে পড়ে, ইথান নূশাকে নিয়ে পেছনের সিটে বসে। কনভয়ের গাড়িগুলো একে একে স্টার্ট নেয়। নূশা আড়চোখে ইথানের হাতের দিকে তাকায়। সে এখনো তার জুতো জোড়া হাতে নিয়েই বসে আছে! নূশা ভ্রু কুঁচকে বলে, “আমার জুতো দুটো দিন। এখনো হাতে নিয়ে বসে আছেন কেন?”
ইথান ঘাড় ফিরিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়। “আমার ইচ্ছে হয়েছে, তাই। আর এখন তো জুতো পরে তোমার কোনো কাজ নেই।”
নূশা বিড়বিড় করে ওঠে, “যত্তসব নাটক!”
বিরক্তিতে সে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ইথান এসব দেখেও নিশ্চুপ বসে থাকে। কাইকের সামনে সেও খুব বেশি কিছু বলতে বা করতে পারে না, নাহলে এতক্ষণে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার হিসাবটা সে ঠিকই চুকিয়ে দিত। নূশা ব্যাগ থেকে ফোন বের করে রিলস দেখতে শুরু করে। লোকটার এই সিমপ্যাথি পাওয়ার সস্তা নাটকগুলো তার কাছে ভীষণ বিরক্তিকর ঠেকছে।
অবশেষে তারা ক্যাসেল ফিরে আসে। নূশা গাড়ি থেকে নেমেই গটগট করে ভেতরে ঢুকে চলে আসে। ইথান জুতোটা নিজের কাছেই রাখুক, যখন দেবেই না বলে পণ করেছে! নূশা সিঁড়ি বেয়ে আগে আগে উঠছে, আর ঠিক তার পেছনে ইথান আসছে তার এক হাতে জুতো, অন্য হাতে নূশার ব্যাগ যেটা সে নিজেই নূশার কাঁধ থেকে খুলে নিয়েছে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কাইক এই দৃশ্য দেখে লুকিয়ে একটা ছবি তুলে রাখে। মনে মনে হাসে, “হোয়াট আ কোল্ড ব্রো ইউ আর! বউয়ের সামনে তো দেখি একেবারে ভেজা বেড়াল।”
রুমে ঢুকেই নূশা বোরকা খুলে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায় গোসল করার জন্য। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে ইথানও পিছু পিছু ভেতরে ঢোকে। নূশা এবার রীতিমতো চেঁচিয়ে ওঠে, “এই খাচ্চর পুরুষ! সমস্যা কী আপনার? আমি এসেছি, আর অমনি আমার পেছনে পেছনে আসতে হবে? আমার সাথে এত চিপকে থাকার কী হয়েছে?”
ইথান বাঁকা হেসে ধীর পায়ে নূশার দিকে এগোতে থাকে। “তোমার সাথে না চিপকালে যে আমার মন-প্রাণ, হাত-পা, শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিস্তেজ হয়ে যায়। তাই চিপকাচ্ছি, সুইটহার্ট।”
বলেই সে আরও দু-কদম এগিয়ে আসে। নূশা পেছাতে পেছাতে একেবারে ওয়াশরুমের দেয়ালে গিয়ে ঠেকে যায়। ইথান একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে নূশার গালে হাত রাখে। মুখটা একদম মুখের কাছে নামিয়ে এনে ফিসফিস করে বলে, “তুমি কি আমাকে কিছু করেছ, নূশা?”
নূশা কপালে ভাঁজ ফেলে বলে, “কী করব?”
“এনিথিং। এমন কিছু, যা করলে তোমার সাথে আঠার মতো লেগে থাকব।”
“হ্যাঁ, আমার তো মরে যাওয়ার শখ জেগেছে যে আপনাকে নিজের সাথে লাগিয়ে রাখার জন্য কিছু করব! সরুন তো, ক্ষিদে পেয়েছে আমার। আমি গোসল করব।”
“আমারও তো পেয়েছে। তোমার মতোই। তবে খাবারের নয়, তোমার। আসো, একটু ট্রাই করি।”
বলেই ইথান নূশার হাত টেনে ধরে তার কোমর পেঁচিয়ে কাছে টেনে নেয়। নূশা এবার ইথানের দুই কাঁধে হাত রেখে সরাসরি তার চোখের দিকে তাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে বলে, “যা করার করবেন, কিন্তু এখন না। গোসল করে খেয়ে নিই, তারপর করবেন। হবে?”
“হবে। কিন্তু এখন কিস করি?”
“করুন।”
অনুমতি পেয়েই ইথান নূশার খোলা চুলের ফাঁকে আঙুল ডুবিয়ে দেয়। উন্মত্তের মতো নূশাকে চুমু খেতে শুরু করে। নূশা খুব ধীরে ইথানের কাঁধে ও ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। সে জানে, এই মুহূর্তে ইথানকে কন্ট্রোল করতে হলে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাকে এই টোপ গিলতে হবে। ইথান যা বলছে তা নিঃশব্দে মেনে নেওয়াই এখন শ্রেয়, এতে অন্তত ইথান তাকে কষ্ট কম দেবে। নূশা নিজ হাতে ইথানের শার্টের বোতামগুলো একে একে খুলে দেয়। শার্টটা শরীর থেকে নামিয়ে নিয়ে, ঠোঁট থেকে ইথানকে সরিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলে, “যান, শাওয়ারটা নিয়ে নিন।”
ইথান তৃপ্তির এক চিলতে হাসি হাসে শুধু।
গোসল সেরে নূশা কিচেনে এসে ঢোকে। ফ্রিজ থেকে নিজের আগে রান্না করা তরকারিগুলো বের করে সে। চুলায় নতুন করে ভাত বসায়, আর তরকারিগুলো গরম করতে থাকে। মেন্যুতে রয়েছে দারুণ সব সিলেটি আয়োজন সাতকরার আচার দিয়ে রাঁধা গরুর মাংস, শুটকি শিরা আর জিভে জল আনা শুটকি চাটনি। কিচেনজুড়ে ম-ম করছে সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ।
কিচেন আইল্যান্ডের ওপাশে থাকা উঁচু, স্টাইলিশ বার স্টুলগুলোর একটায় বসে আছে ইথান। আপনমনে নিজের ফোন ঘাঁটতে ব্যস্ত সে। ভাত রান্না করতে করতেই নূশা ইথানের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করে, “কী খাবেন আপনি? আপনার জন্য কি স্যুপ করে দেব?”
ফোন থেকে মুখ তুলে ইথান নূশার দিকে তাকিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে, “তুমি কী খাবে?”
নূশা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেয়, “আমি তো আমার ভাত খাব। আপনি তো আর এসব খান না।”
ইথান শান্ত কণ্ঠে বলে, “আমি ট্রাই করব। আমার জন্যও নাও।”
বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় নূশার অবিশ্বাস নিয়ে সে বলে, “শিওর?”
মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় ইথান, “অবশ্যই!”
নূশা দুজনের জন্যই খাবার বাড়ে। শুভ্র মার্বেলের কাউন্টারের ওপর প্লেটগুলো সাজিয়ে রেখে ইথানের পাশের উঁচু স্টুলটা টেনে নিয়ে বসে সে। ইথানের প্লেটে ভাত বেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে, “কী দেব? কী দিয়ে খাবেন?” “
ইথান অপলক দৃষ্টিতে খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটু দ্বিধা নিয়ে বলে, “কোনটা দিয়ে শুরু করব? আমি তো জানি না, তুমিই বলো।”
নূশা একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এরপর ইথানের পাতে একটু গরুর মাংসের তরকারি আর সামান্য শুটকি চাটনি তুলে দেয়। সাথে একপাশে যত্ন করে দুই টুকরো তাজা লেবুও রাখে। নিজের প্লেটেও খাবার নিয়ে মাখাতে শুরু করে সে। নূশাকে দেখে ইথানও হাত দিয়ে ভাত মাখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তার ভঙ্গিটা নেহাতই আনাড়ি। বাচ্চারা যেমন শুকনো খাবার আঙুল দিয়ে তুলে খায়, ইথানও তেমনি দুই লোকমা কোনোমতে মুখে পোরে। মানে মনে হচ্ছে চানাচুর খাচ্ছে। ইথান ভাত ঠিকমতো মাখাতেও পারে না। নূশা সেদিকে না তাকিয়েই নিজের মতো চুপচাপ খেতে থাকে। নূশা ভাতের ওপর এক টুকরো লেবু চিপে রস ছড়িয়ে নেয়। তাকে দেখে ইথানও নিজের লেবুটা চিপতে যায়। কিন্তু অনভ্যস্ত হাত থেকে ফসকে লেবুর টুকরোটা সোজাসুজি উড়ে গিয়ে পড়ে নূশার প্লেটে! নূশা তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় ইথানের দিকে। ইথান ভীষণ ইতস্তত বোধ করে বলে, “আমি না আসলে জানি না এগুলো কী করে খায়।”
নূশার মনে মনে এবার রাগ আর বিরক্তি দলা পাকিয়ে ওঠে। সে ভাবে, “এই সামান্য কাজটা পারবি না, তো শালা পারবি কী? আমাকে কী করে নতুন নতুন তরিকায় খেতে হয়, সেটা তো ঠিকই পারিস! বলদের ঘরে বলদ কোথাকার!”
রাগে একটা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে নূশা শান্ত থাকার চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে এক টুকরো মাংস ছিঁড়ে ভাতের সাথে মাখিয়ে দেখিয়ে বলে, “এই যে, এভাবে করতে হয়।”
ইথান আবার চেষ্টা করে। কিন্তু তার সেই অদ্ভুত মাখানো দেখে নূশার এবার আক্ষরিক অর্থেই বমি আসার উপক্রম হয়। আর সহ্য করতে না পেরে নূশা নিজের চেয়ারটা ইথানের দিকে ঘুরিয়ে ইথানের হাতের কব্জিটা ধরে বলে, “থাক, আমিই খাইয়ে দিচ্ছি। আপনার আর কষ্ট করতে হবে না।”
এই বলে ইথানের হাতটা হাত ধোয়ার বাটিতে চুবিয়ে পরিষ্কার করে দেয় সে। তারপর নিজের প্লেটটা হাতে নিয়ে ইথানের দিকে তাকিয়ে নরম সুরে জিজ্ঞেস করে, “আমার প্লেট থেকে খাবেন?”
ইথান মাথা নেড়ে উত্তর দেয়, “খাব!”
নূশা মনে মনে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে শুটকি চাটনি দিয়ে ভাত মাখায়। তার ওপর সযত্নে লেবুর রস চিপে একটা লোকমা তুলে দেয় ইথানের মুখে। খাবারটা মুখে নিয়েই ইথান মুগ্ধতায় চোখ বুজে ফেলে। চিবোতে চিবোতে বলে, “এটা মারাত্মক ছিল!”
এবার নূশা সাতকরার আচার দিয়ে রাঁধা গরুর মাংস দিয়ে এক লোকমা তুলে দেয়। মাংসের স্বাদ আর ঘ্রাণে ইথান যেন আরও অবাক হয়ে যায়। উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, “এই ঘ্রাণটা এত টেস্ট কেন? এত টেস্ট কীসের? কী দিয়েছ এতে?”
নূশা আরেকটা লোকমা ইথানের মুখে পুরে দিতে দিতে কপট ধমকের সুরে বলে, “এত কথা না বলে চুপচাপ খাবারটা খান তো!”
নূশা নিজের হাতে খাবার মাখায় তারপর ইথানকে দেখিয়ে দেখিয়ে কিছুটা শাসন মেশানো গলায় বলে, “দেখুন, ঠিক এভাবে মাখাবেন, তারপর এভাবে তুলে নেবেন বুঝেছেন?”
ইথান বাধ্য ছেলের মতো খাবার চিবোতে চিবোতে মাথা নাড়ে, “আচ্ছা।”
নূশা নিজের হাতে খাইয়ে ইথানের ইচ্ছেমতো তার পেট ভরিয়ে দেয়। ইথানের খাওয়া শেষ হলে নূশা নিজের জন্য প্লেট টেনে নিয়ে খেতে বসে। এদিকে পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে ইথান বলে ওঠে, “খাবারটা দারুণ ছিল, আর তোমার যত্ন নেওয়ার ধরনটাও খুব ভালো। চলো, এই চমৎকার আয়োজনের উপলক্ষে আজ আমার ইচ্ছেমতো একটু ইন্টিমেট হওয়া যাক!”
কথাটা কানে যেতেই নূশার হাতের গ্রাস থেমে যায় একরাশ বিরক্তি আর বিষাক্ত দৃষ্টি হেনে সে ইথানের দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বলে, “এই একটা কাজ ছাড়া আপনার মাথায় আর কিছু ঘোরে না, তাই না? কিছু একটা হলেই শুধু এই বিষয়টা টেনে আনতে হবে?”
নূশার কথায় ইথান কাঁধ ঝাঁকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, “তো আর কী করব? আমাদের কালচারে তো আমরা এভাবেই খুশি প্রকাশ করি।”
“আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না। একজন স্বাভাবিক মানুষ তার স্ত্রীর প্রশংসা করতে গেলে সরাসরি বিছানার কথা তোলে না।”
ইথান ভ্রু কুঁচকে শুধায়, “তো কী বলে?”
নূশা শান্ত কিন্তু রাগী গলায় উত্তর দেয়, “কমপ্লিমেন্ট দেয়, সুন্দর করে কথা বলে। হয়তো একটা ফুল দেয়, ভালোবাসার দু-চারটে কথা বলে আলতো করে হাতটা ধরে। আপনার মতো শুধু শরীরের নরম মাংসের লোভে পাগল হয়ে থাকে না।”
ইথান এবার কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক আর ছেঁদো গলায় বলে ওঠে, “তাহলে আমার কী করা উচিত? আমি কি তোমার সাথে কিচ্ছু করব না? ওসব না করলে তো আমার ঘুমই আসবে না! তা কী করতে বলো? ফুল দেব? হাত ধরে বসে থাকব?”
নূশা আর কথা বাড়ায় না। খাওয়ার টেবিল ছেড়ে উঠে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ায়। যেতে যেতেই নিস্পৃহ গলায় বলে, “আমার হাত ধরতে যাবেন কেন? ফুলই বা দেবেন কেন? আমি তো আর আপনার ওয়াইফ নই! আপনার যা প্রয়োজন, ঠিক নিয়ে নেবেন। আপনি ওপরে যান, আমি আসছি। অযথাই আমার মাথাটা আর নষ্ট করবেন না।”
‘আমি আপনার ওয়াইফ নই’ কথাটা ইথানের মগজে যেন জ্বলন্ত আঙারের মতো বিঁধে যায়। মুহূর্তেই তার ভেতরের রসিকতা উবে গিয়ে সেখানে জায়গা নেয় এক অদ্ভুত জেদ আর রাগ। রুক্ষ গলায় সে বলে ওঠে, “তুমি আমার ওয়াইফ নও মানে? তাহলে কী তুমি? অন্তত এই ছয় মাসের জন্য হলেও তো তুমি আমারই ওয়াইফ!”
রান্নাঘরে ঢুকতে যাওয়া নূশা থমকে দাঁড়ায়। হাতের কাজ ফেলে ঘুরে তাকায় ইথানের দিকে। চোখের দৃষ্টিতে একরাশ অবজ্ঞা আর শূন্যতা নিয়ে শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ গলায় বলে, “যে সম্পর্কটা মন থেকেই মানেন না, সেটা নিয়ে মুখে এত বড় বড় কথা বলে কী লাভ?”
নূশার এই অভাবনীয় অথচ অকাট্য প্রশ্নের সামনে ইথান পুরোপুরি থমকে যায়। তার মুখে কোনো ভাষা জোগায় না। কী উত্তর দেওয়া উচিত, তা সে কিছুতেই ভেবে পায় না। এই মেয়েটা ঠিক এভাবেই বারবার তাকে বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, এমন সব তীক্ষ্ণ আর বিষাক্ত প্রশ্নবাণে তাকে স্তব্ধ করে দেয়, যার কোনো উত্তর ইথানের জানা নেই।
ইথান কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ থেকে নিজের অহংবোধটুকু সযত্নে টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় বলে ওঠে, “তাও ঠিক। তুমি তো আর আমার ক্লাসের নও, যদি হতে তাহলে হয়তো মেনে নিতাম।”
কথাটা শুনে নূশা কিচেন আইল্যান্ডের ওপর দু’হাত ভর দিয়ে দাঁড়ায়। ইথানের চোখের দিকে সরাসরি তাচ্ছিল্যভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সে বলে, “সমপর্যায়ের মানুষকে মেনে নিতে পারবেন না, অথচ তার সাথে দিনের পর দিন পৈশাচিক আনন্দে ঠিকই মেতে উঠতে পারবেন! এতই যখন হাই ক্লাসের মানুষ আপনি, তাহলে ছেড়ে দিন না এই লো ক্লাসের মেয়েটাকে।”
নূশার কথায় ইথান শব্দ করে হেসে ওঠে। ভ্রু জোড়া সামান্য কুঁচকে শুধায়, “তুমি কি আমাকে উসকে দিচ্ছো?”
নূশা কণ্ঠে পুনরায় তাচ্ছিল্য ঢেলে দেয়, “যা ঘোরতর সত্য, আমি সেটাই বললাম। এখানে উসকানোর কী আছে?”
“তোমার কথা শুনে তো সেটাই মনে হচ্ছে, আমাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করছো। তবে চিন্তা করো না, আর তো মোটে পাঁচটা মাস। সময়টুকু কেটে যাক, তারপর তো তুমি চলেই যাবে।”
নূশা অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলে, “জি, চলে তো অবশ্যই যাবো।”
নূশাকে এমন উচ্ছ্বসিত হতে দেখে ইথানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। সে বলে, “আর আমি যদি তোমাকে যেতে না দিই?”
এমন অপ্রত্যাশিত কথায় নূশা কপাল কুঁচকে ফেলে। খানিকটা বিরক্তির সুরেই বলে, “আমি তো আপনার জীবনের একটা বোঝা মাত্র। আমাকে আটকে রেখে কী করবেন? তাছাড়া, আমি তো আপনার ক্লাসেরও নই। আমাকে ডিভোর্স দিয়ে নিজের স্ট্যাটাস অনুযায়ী কাউকে বিয়ে করুন, সুন্দর করে সংসার সাজান।”
ইথান মাথা নেড়ে সায় দেয়। মূলত নূশাকে ঈর্ষান্বিত করার উদ্দেশ্যেই সে বলে ওঠে, “হ্যাঁ, সেটাই করব। আমি একজনকে দেখেও রেখেছি। দু-তিন বছর পর তাকেই বিয়ে করব।”
কথাটা শুনে নূশার বুকের ভেতরটা কেমন একটু ভারী হয়ে আসে, খারাপ লাগে। তাও সেই অনুভূতি সযত্নে লুকিয়ে রেখে সে মুখে এক কৃত্রিম হাসির রেখা টেনে বলে, “করুন। সবার জীবনেই একটা সুন্দর সংসার থাকা জরুরি। তবে আমাকে কিন্তু ইনভাইট করবেন বিয়েতে। আমি আমার হাসবেন্ডকে সাথে নিয়ে আপনাদের দেখতে আসব।”
‘হাসবেন্ড’ শব্দটা কানে যেতেই ইথানের মেজাজ মুহূর্তে বিগড়ে যায়। ভেতরে ভেতরে ছ্যাঁত করে ওঠে তার। রুক্ষ স্বরে সে বলে ওঠে, “হাসবেন্ড! হাসবেন্ড কোথায় পেলে তুমি? তুমি কি বিয়ে করে নিয়েছো?”
এতক্ষণ ধরে ইথান নিজে কত কী শুনিয়ে দিল, আর নূশা একটি শব্দ উচ্চারণ করতেই আকাশ ভেঙে পড়ল তার মাথায়! নূশা ইথানকে কিছুটা শান্ত করার উদ্দেশ্যেই বলে, “এখনো হাসবেন্ড পাইনি ঠিকই, তবে পেয়ে তো যাব, তাই না? ডিভোর্স নিয়েই আমি কিছুদিনের জন্য দেশে যাব। তারপর সেখান থেকেই বিয়ে করে ফিরব।”
“বিয়ে করার এতই শখ তোমার?”
“হুম, একটা সুন্দর সংসারের খুব শখ আমার।”
কথাটা শুনে ইথান কয়েক মুহূর্ত নূশার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এরপর আর কোনো কথা না বাড়িয়ে বসা থেকে উঠে হনহন করে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায় সে। সুন্দর একটা স্বাভাবিক কথোপকথনের মাঝে হঠাৎ করে লোকটার কী হলো, তা নূশা একেবারেই বুঝে উঠতে পারে না।
ইথানের অকারণ রাগের ভাবনায় নিজেকে আর না জড়িয়ে নূশা চারপাশটা গুছিয়ে নিয়ে নিজের রুমের দিকে এগোয়। রুমে পা রাখতেই সে দেখতে পায়, ইথান অস্থির ভঙ্গিতে পায়চারি করছে। নূশাকে ভেতরে ঢুকতে দেখেই সে ধপ করে সোফায় বসে পড়ে। নূশা তাকে কিছু না বলে, কোনোদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই ওজু করার উদ্দেশ্যে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
ওদিকে ইথানের মনের ভেতর তখন যেন ঝড় বইছে। নূশা কি সত্যিই বিয়ে করে নেবে? নূশা কি তাকে ছেড়ে চিরতরে চলে যাবে? এই চিন্তাতেই সে পাগল হয়ে যাচ্ছে। রাগে, ক্ষোভে তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। ইথান নিজেও জানে না, তার ঠিক কেন এত রাগ হচ্ছে! সে শুধু এটুকু জানে, নূশাকে ছাড়া তার পক্ষে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
ওজু শেষে নূশা ওয়াশরুমের দরজা খুলে বের হতেই চমকে ওঠে। সে দেখে, ঠিক তার সামনেই পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইথান। নূশা ইথানের চোখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলে। নূশার এমন দৃষ্টি দেখে ইথান আর স্থির থাকতে পারে না, সরাসরি প্রশ্ন করে বসে, “তুমি কি সত্যি সত্যি বিয়ে করে নেবে?”
নূশা চরম বিরক্তিতে নিজের কপালে হাত দিয়ে চাপড়ে বলে, “না, করব না ভাই আমি! আমি কোনো বিয়ে করছি না। বিয়ের কথা আপনাকে বলাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাপ হয়েছে। আপনি এত অস্থির হচ্ছেন কেন? কে হই আমি আপনার, যে আমার বিয়ে হবে কি হবে না তা নিয়ে আপনি এত পেরেশান হয়ে যাচ্ছেন?”
নূশার এমন ধমক শুনে ইথান জাদুমন্ত্রের মতো শান্ত হয়ে যায়। ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসিটা ঝুলিয়ে সে অত্যন্ত মোলায়েম স্বরে বলে ওঠে, “তুমি আমার সুইটহার্ট হও।”
চলবে,,,,
কেমন হলো বলবেন
Share On:
TAGS: তুষারিণী, সানজিদা আক্তার মুন্নী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ১২
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৯
-
তুষারিণী পর্ব ১
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ১১
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ১০
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৫
-
তুষারিণী পর্ব ৫
-
তুষারিণী পর্ব ৯
-
তুষারিণী পর্ব ৪
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৭