Golpo romantic golpo তুমি এলে অবেলায়

তুমি এলে অবেলায় পর্ব ৬


তুমিএলেঅবেলায় 🍂 (পর্ব ৬)

সামাইরার নতুন বিয়ে হয়েছে। স্বামী সোহাগের চিহ্ন নিয়ে তার প্রতিটি দিন শুরু হবার কথা। অথচ প্রতিদিনের মতন আজও এক বিষণ্ণতার চাদর মুড়ি দিয়ে সামাইরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের ফ্যাকাশে মুখটা ছুঁয়ে দেখছে বারবার। ঘুম হলেও চোখের নিচে কালচে দাগের হাতছানি যেন বলে দিচ্ছে জীবনে শান্তির বড্ড অভাব।

সামাইরা অনুভব করছে গতকাল দেয়ালের বিপরীতে তাকে ঠেকিয়ে ধরা শেহজাদের তপ্ত নিশ্বাস। পরক্ষণেই মনে পড়ছে শার্টের কলারে লেগে থাকা লাল লিপস্টিকের সেই অবমাননাকর দাগ।
সবকিছু একইসাথে কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে তার স্মৃতিতে আঘাত হানছে।

​সামাইরা সিদ্ধান্ত নিল আজ সে আর এই গুমোট প্রাসাদে থাকবে না। অন্তত একটা দিনের জন্য হলেও সে তার সেই নোনা ধরা দেয়াল আর বৃষ্টির জল জমা এক চিলতে উঠোনের কাছে ফিরে যাবে। যেখানে তার বাবা আছেন। যেখানে মেকি আভিজাত্যের চেয়ে সাধারণ মানুষের ঘ্রাণ বেশি।

সামাইরা ​নিচে নেমে দেখল সুফিয়া রহমান লিভিং রুমের ইজিচেয়ারে বসে আছেন। হাতে একটা পুরনো অ্যালবাম ধরা। খুব মনোযোগ দিয়ে ছবি দেখছেন। সামাইরা ধীরপায়ে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

​- মা?

​সুফিয়া বেগম চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন। সামাইরার কিঞ্চিৎ ম্লান মুখ তার দৃষ্টি এড়ালো না। ভ্রুঁ জোড়া কুচকে শুধালেন,

  • কী হয়েছে রে মা? তোর কি শরীর খারাপ লাগছে?

​- না মা। বলছিলাম কী, আজ যদি একটু বাবার ওখান থেকে ঘুরে আসতাম? বাবা তো একা আছেন, তাছাড়া উনার শরীরটাও তো তেমন ভালো থাকে না।

​সুফিয়া রহমান মিষ্টি করে হাসলেন। সামাইরার হাতটা আলগোছে চেপে ধরলেন। তিনি আদুরে স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন,

  • অবশ্যই, যাবি মা! বাবার জন্য মন কেমন করছে না রে?

সামাইরা হ্যা সূচক মাথা ঝাঁকাল। সুফিয়া চিন্তিত স্বরে বললেন,

  • কিন্তু এই অবস্থায় একা যাবি কী করে? আকাশের ভাব সাব মন্দ। যেকোনো সময় আবার বৃষ্টি নামতে পারে। ডিসেম্বর মাসে কি অত্যাচার যে শুরু হল!

​সামাইরা প্রত্যুত্তরে কিছু বলার আগেই সিঁড়িতে জুতোর খটখট শব্দ শোনা গেল। শেহজাদ নামছে। পরনে ছাই রঙের স্যুট। চোখদুটো নিবদ্ধ হাতের লেটেস্ট মডেলের আইফোনের স্ক্রিনে।

তবে শেহজাদের মুখে আজ সেই চিরচেনা দম্ভ নেই। বরং এক ধরণের অপরাধবোধের ছাপ রয়েছে।
সামাইরার দিকে সে একবার আঁড়চোখে তাকাল, কিন্তু পরক্ষণেই চোখ সরিয়ে নিল।

​সুফিয়া গলার স্বর কিছুটা চড়িয়ে বললেন,

  • শেহজাদ, এদিকে আয় তো বাবা।

​শেহজাদ থমকে দাঁড়াল। সামাইরার দিকে আরোও একবার সন্দেহের চোখে তাকিয়ে এরপর দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল।

  • বলো মা, কি হয়েছে?
  • সামাইরাকে তোর শ্বশুরবাড়ি নামিয়ে দিয়ে অফিসে যা।

শেহজাদ গম্ভীরমুখে বলল,

  • মা, আজ আমার পোর্টে যাওয়ার কথা। লইয়ার ওয়েট করছে।

সুফিয়া রহমান বাজখাঁই গলায় বললেন,

​- তো যাবি! পোর্ট কোথাও পালিয়ে যাবে না। আগে সামাইরাকে ওর বাবার বাড়ি নামিয়ে দিয়ে আসবি। এরপর যাবি।

শেহজাদ কপাল কুচকে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। সুফিয়া রহমান তাকে সেসময় না দিয়ে পুনরায় গলা উঁচিয়ে বললেন,

  • খবরদার, কোনো অজুহাত দিবি না।
  • মা, আমি ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি। সামাইরাকে নামিয়ে দিয়ে আসবে।
  • ড্রাইভার দিয়ে নতুন বউকে বাপের বাড়ি পাঠাবো? এই শিক্ষা দিয়েছি আমি তোকে?

​শেহজাদ দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করল। দাঁতের ফাঁক দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল,

  • ফাইন।

এবার সে সামাইরার দিকে তাকাল। সামাইরা তখন অন্যদিকে তাকিয়ে। জানালার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখার ব্যর্থ প্রচেষ্টায়। শেহজাদের মনে হলো, সামাইরা ওর অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছে।

​- সামাইরা রেডি হয়ে এসো। আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি।

শেহজাদ নির্বিকার গলায় কথাগুলো বলে গটগট করে বেরিয়ে গেল।

★★★

গাড়ির পেছনের সিটে স্বামী-স্ত্রী দুজন বসে আছে। অথচ তাদের মাঝখানে জেঁকে বসেছে এক সুবিশাল শূন্যতা। সামাইরা জানালা দিয়ে কুয়াশার পাতলা আস্তরণে ঢাকা ধূসর ঢাকা শহরটাকে দেখছিল। তার কোলের ওপর রাখা হাতদুটি যতটুকু সম্ভব গুটিয়ে বসছে সে, যেন শেহজাদের শরীরের সামান্যতম স্পর্শও আজ তার কাছে নিষিদ্ধ। গাড়ির ভেতরে দামী পারফিউম আর ল্যাভেন্ডার এয়ার ফ্রেশনারের সেই উগ্র মিশ্রণটা সামাইরার পাকস্থলীতে এক ধরণের কুন্ডলী পাকাচ্ছে। বমি ভাব পাচ্ছে ভীষণ।

​শেহজাদ গত দশ মিনিটে অন্তত পাঁচবার আড়চোখে সামাইরার মুখপানে তাকিয়েছে। শেহজাদ ভেতরে ভেতরে বড্ড অস্থির হয়ে উঠছিল। কেন তা অজানা। দীর্ঘ এক নিস্তব্ধতা ভেঙে শেহজাদ নিজের দম্ভের দেয়ালটা সামান্য নিচু করল। গলা খাঁকারি দিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল,

  • গতরাতের ব্যবহারের জন্য আমি…

শেহজাদ একটু থামল। ‘সরি’ বলাটা তার অভিব্যক্তির সাথে যায় না। কাজেই সে পুনরায় বলতে শুরু করল,

  • আসলে ব্যবসায়ীক ঝামেলা নিয়ে মেজাজটা একটু বিগড়ে ছিল। আই ডিডন্ট মিন টু বি দ্যাট রুড।

​সামাইরা কোনো উত্তর দিল না। জানালার কাঁচের ওপারে দ্রুত পিছিয়ে যাওয়া ট্রাফিক সিগন্যালের দিকে তার নির্লিপ্ত দৃষ্টি মেলে নিশ্চুপ রইল।

সামাইরার এমন কঠোরতায় শেহজাদ দমে গেল না। সে আরও একটু এগিয়ে এসে বলল,

​- সামাইরা, ওই লিপস্টিকের দাগটা…
ওটা একেবারেই এক্সিডেন্টলি লেগেছে। আই নো হোয়াট ইউ আর থিঙ্কিং, বাট ট্রাস্ট মি, তোমার সাথে বিয়ে হওয়ার পর আমি রাইসার সাথে বিন্দুমাত্র ইন্টিমেট হইনি। ওটা আমার ইথিকস-এর বাইরে। আমি জানি আমি ভালো মানুষ নই। কিন্তু আমি কখনো মিথ্যা বলি না।

​সামাইরা এবার ধীরলয়ে মুখ ফেরাল। তার চোখেমুখে এসব কথা শোনার কোনো আগ্রহ নেই। কোনো বিস্ময় নেই। বরং আছে শুধু এক মহাসমুদ্র সমান উদাসীনতা। সে শেহজাদের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল,

  • মিস্টার রহমান, আপনি কার সাথে কতটা ইন্টিমেট হলেন বা আপনার ইথিকস ঠিক কতটুকু স্বচ্ছ, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।
    যত দ্রুত সম্ভব আমাকে এই সম্পর্ক থেকে মুক্তি দিন। আমি আপনার এই গোলকধাঁধায় আর থাকতে চাই না।

​শেহজাদ স্তব্ধ হয়ে গেল। সে আর কথা বাড়াতে পারল না। তার সমস্ত দম্ভ এই মধ্যবিত্ত মেয়ের মৌনতার কাছে বড় ঠুনকো!

​গাড়ি যখন ধানমন্ডির লেকের ধারের পুরনো রাস্তাগুলো ধরে এগোচ্ছিল, তখন প্রকৃতির রূপ বদলে গেল। ঢাকার এই অংশটা যেন আজও তার আভিজাত্য আর নস্টালজিক মায়াটুকু ধরে রেখেছে। লেকের ধারের সেই বিশাল বিশাল কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়া গাছগুলো পাতাহীন ডাল মেলে দাঁড়িয়ে আছে। লেকের স্থির জলেও কুয়াশার চাদর ভেসে বেড়াচ্ছে। ধানমন্ডির এই পুরনো গলিগুলোতে ইটের গাঁথুনি আর শেওলা ধরা দেয়ালের মাঝে কত বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প লুকিয়ে আছে!

​গাড়িটা একদম শেষ মাথায়, একটা সরু গলির মুখে এসে থামল। রাস্তার অবস্থা এখানে বড়ই করুণ। গতরাতের বৃষ্টিতে নর্দমা উপচে কালচে রঙের জল জমে আছে ছোট ছোট গর্তে। অভিজাত ভিলা’র চকচকে ব্ল্যাক মার্সিডিজটি এই নোংরা জলে নামতে যেন চরম ইতস্তত বোধ করছে। শেহজাদ চরম বিরক্তিভরা চোখে তাকাল।

​- এখানকার মানুষ থাকে কীভাবে? ড্রেনেজ সিস্টেম বলে কি কিছু নেই?

​সামাইরা গাড়ি থেকে নামার আগে কিঞ্চিৎ হেসে বলল,

  • সবাই তো আর একুশ তলায় রাজত্ব করে না মিস্টার রহমান। কেউ কেউ এই জমা জলেই কদম ফুলের স্বপ্ন দেখে। আপনি বরং যান, আপনার লইয়ার অপেক্ষা করছে।

​সামাইরা নোংরা জল মাড়িয়েই গলির ভেতরে ঢুকে গেল। শেহজাদ গাড়ির কাঁচ নামিয়ে তাকিয়ে রইল তার প্রস্থানের পথে।

পুরনো আমলের এক তলা পাকা বাড়ি। ছাদের কোণে শেওলা জমেছে, গেটের মরচে ধরা রডগুলো অনেকদিনের পুরনো ইতিহাসের সাক্ষী বয়ে বেরাচ্ছে যেন! শেহজাদ দেখল, দরজায় এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে অতি সাধারণ লুঙ্গি আর ফতুয়া। সামাইরাকে দেখেই বৃদ্ধের ম্লান মুখে যেন এক চিলতে রোদ্দুর ফিরে এলো।

সামাইরা দৌড়ে গিয়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরল।
তৎক্ষনাৎ ​শেহজাদের বুকটা কেন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।
তার এত টাকা, এত জাহাজ, সুবিশাল অট্টালিকা। অথচ দিনশেষে তাকে এভাবে জাপ্টে ধরার কোনো ফাদার ফিগার নেই। মায়ের আদর তাকে অভুক্ত রাখেনি কোনোদিন। কিন্তু বাবার শাসনের অভাব যে তাকে একজন সুপুরুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে বিশাল বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেহজাদের চোখের কোণটা সামান্য চিকচিক করে উঠল। সে অন্য দিকে তাকিয়ে ঘাড় ডানে বামে মুড়িয়ে সোজা হয়ে বসল। মুখে ফিরে এলো দম্ভ। এরপর ভরাট গলায় বলল,

  • ড্রাইভার, গাড়ি ঘোরাও।

★★★

পোর্টের সেই দমবন্ধ করা ফাইলপত্রের স্তূপ আর আইনজীবীদের প্যাঁচালো যুক্তির আবর্ত থেকে বেরিয়ে শেহজাদ যখন নিজের গাড়িতে হেলান দিল, ঠিক তখনই মাথায় পরজীবির মত কুটকুট করতে কামড়াতে লাগল ‘রাইসা’ নামটি।

শেহজাদ পকেট থেকে ফোন বের করে সরাসরি অফিসে ফোন দিল।

​- রাইসা ম্যাডাম অফিসে এসেছে?

শেহজাদের গম্ভীর কণ্ঠেও এক ধরণের অস্থিরতা বিদ্যমান। ​ওপার থেকে রিসেপশনিস্টের কুণ্ঠিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

  • না স্যার, রাইসা ম্যাম আজ আসেননি। এমনকি কোনো ফোনও করেননি। আমরা রিচ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

​শেহজাদ দাঁতে দাঁত চিপল। ইংরেজি গালি শোনা গেল তার মুখে।

  • ব্লা*ডি হেল!

গতকালের ব্যবহারে রাইসা অভিমান করেছে। যদিও এই অভিমান ভাঙানোর দাওয়াই শেহজাদের নখদর্পণে। তবে অভিমান ভাঙ্গানোর ইচ্ছেটা বড় ক্ষীণ শেহজাদের। তবুও ড্রাইভারকে সে নির্দেশ দিল সোজা বনানীর এক অভিজাত ফুলের দোকানে যাওয়ার জন্য।

মিনিট দশেকের ব্যবধানে শেহজাদের ব্ল্যাক মার্সিডিজটি কয়েকশ লাল গোলাপের সুবাসে ভরে উঠল। পেছনের সিট থেকে শুরু করে ড্যাশবোর্ড অব্দি সবখানে শুধুমাত্র রক্তিম গোলাপের মেলা।

​গাড়ি গিয়ে থামল রাইসাদের আলিশান অট্টালিকার সামনে। শেহজাদ ফোন করল রাইসাকে। তিনবার বাজার পর ফোন রিসিভ করা হল।
ওপার থেকে ভারী গলায় প্রশ্ন তেড়ে এল,

  • কেন ফোন করেছ?

শেহজাদ স্বাভাবিক গলায় বলল,

  • নিচে এসো, রাইসা।

রাইসা মুহুর্তেই ফোঁস করে উঠল,

  • যাও না তোমার সেই মিডল ক্লাস ওয়াইফের কাছে! আমাকে কেন প্রয়োজন তোমার?

​শেহজাদ এবার হেসে ফেলল। এই রাগটুকু তার চেনা। সে পুনরায় বলল,

  • নিচে এসো, বেবি। পাঁচ মিনিট। না এলে আমি কিন্তু এই গেটের সামনেই সারারাত দাঁড়িয়ে থাকব।

​অনেক টালবাহানা আর ন্যাকামির পর রাইসা নিচে নেমে এলো। পরনে সিল্কের গাউন, ওপরে দামী পশমি শাল জড়ানো। চোখেমুখে কৃত্রিম বিরক্তির ছাপ থাকলেও মনে মনে সে শেহজাদের এই হুট করে আসাটা বেশ উপভোগ করছে। সে ধীরপায়ে গাড়ির কাছে এসে দাঁড়াল।

​- কী বলতে চাও? কুইক বলো, আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে।

​শেহজাদ খট করে গাড়ির দরজাটা খুলে দিল। রাইসা ভেতরে তাকাতেই তার চোখ ছানাবড়া! অজস্র গোলাপের পাপড়ির মাঝে ড্যাশবোর্ডে রাখা একটি নীল ভেলভেটের বক্স। চারপাশটা যেন এক টুকরো লাল গোলাপের বাগান।

রাইসা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সব অভিমান ভুলে সে এক লাফে গাড়িতে ঢুকে শেহজাদকে সজোরে জড়িয়ে ধরল। গোলাপের কাঁটা লাগার ভয় ভুলে সে শেহজাদের বুকের ওপর চড়ে বসল।

আবেগী স্বরে বলল,

​- ইউ আর সো ক্রেজি শেহজাদ! আমি ভেবেছিলাম তুমি সত্যিই আমাকে ইগনোর করছ।

​রাইসা শেহজাদের চিবুক ধরে নিজের দিকে টেনে নিল। তার ওষ্ঠাধর যখন শেহজাদের ঠোঁটের খুব কাছে, এক গভীর চুম্বনে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে তার ঠিক আগের মুহূর্তে শেহজাদ আলতো করে তাকে সরিয়ে দিল।

​রাইসা অবাক হয়ে তাকাল।

  • কী হলো?

​শেহজাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাইসার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিল। বলল,

  • রাইসা, ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। আমি মানসিকভাবে এখন খুবই বিধ্বস্ত। বাসায় নতুন একটা মানুষ, মায়ের অসুস্থতা, সব মিলিয়ে আই এম জাস্ট আউট অফ মাই মাইন্ড। এই মুহূর্তে কোনো ফিজিক্যাল ইনটিমেসি আমি নিতে পারছি না। আমাকে একটু সময় দাও।

​রাইসা কিছুটা দমে গেল বটে। তবে সে শেহজাদের কপালে ফুটে থাকা সূক্ষ্ম ভাঁজগুলো মনযোগ দিয়ে দেখল। সে বুঝতে পারল শেহজাদ সত্যিই চাপে আছে। সে ন্যাকামি করে শেহজাদের চুলে আঙুল বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

​- ওকে বাবা, বুঝলাম। তোমাকে অনেক স্যাক্রিফাইস করতে হচ্ছে ওই মেয়েটার জন্য। কিন্তু মনে রেখো শেহজাদ, আমাদের বিয়ের রাতে কিন্তু আমি কোনো এক্সকিউজ শুনব না। সেদিন তোমাকে পুরোপুরি আমার হতে হবে। আই ক্যান্ট রেজিস্ট মাইসেল্ফ যখন তুমি আমার সামনে থাকো।

​শেহজাদ এক রহস্যময় হাসি হাসল। তার চোখের মনিতে তখন এক আদিম শিকারীর চাউনি। সে রাইসার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

​- ডোন্ট ওরি রাইসা। তখন আমাকে সামলানোর জন্য তোমারর নিজেরই হিমশিম খেতে হবে।

​রাইসা খিলখিল করে হেসে উঠল। শেহজাদও হাসল। কিন্তু সেই হাসিও আজ কেমন কৃত্রিম ঠেকল।

লাইক, কমেন্ট করে এক্টিভ থাকুন গল্প দ্রুত আসবে❤️

​চলবে…

লেখনীতে, #আতিয়া_আদিবা

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply