Golpo romantic golpo তুমি এলে অবেলায়

তুমি এলে অবেলায় পর্ব ৪


৪.
পর্দার ফাঁক গলে রোদ্দুর সামাইরার চোখেমুখে আছড়ে পড়তেই তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। হাই তুলে উঠে বসল সে। তার পাশে শেহজাদ নেই। গতকাল রাতে বালিশ দিয়ে তৈরি করা বেড়াজাল এখনো অক্ষত আছে। অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চোখ পিটপিট করে সামাইরা দেয়ালঘড়ির দিকে তাকাল। নয়টা বাজে। বেলা অনেক গড়িয়েছে।
শেহজাদ সম্ভবত তার অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে। আচ্ছা মানুষটা কি লৌহমানব? বিশ্রাম নামক শব্দটা কি তার অভিধানে নেই? রাত ভরে চুটিয়ে পার্টি করে সকাল হতে না হতেই ফুড়ুৎ! কাজের নেশায় সর্বদা মশগুল।

​সামাইরা ফ্রেশ হয়ে অতি সাধারণ একটি সুতির শাড়ি পরে নিচে এলো।
সুফিয়া রহমান তখন লিভিং রুমের এক কোণে বসে, চশমা চোখে দিয়ে সংবাদপত্র পড়ছেন। পাশের ছোট্ট টেবিলটায় রাখা চায়ের কাপ থেকে উষ্ণ ধোঁয়া বেরুচ্ছে।
সামাইরাকে দেখা মাত্র ওনার ম্লান মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।

  • ঘুম ভেঙ্গেছে, মা? রাতে বেশ ধকল গিয়েছে তোমার ওপর দিয়ে। শরীর ঠিক আছে তো?

​সামাইরা মিষ্টি করে হেসে বলল,

  • জ্বি মা, আমি ঠিক আছি। আপনি নাস্তা করেছেন?
  • সকালে আমার তেমন আয়োজন করে নাস্তা করা হয় না। এক কাপ চা আর দুটো বিস্কুট খেলেই সই। পুরোনো অভ্যাস।

সামাইরা কিছুটা ইতস্ততভাবে জিজ্ঞেস করল,

  • উনি কি বেরিয়ে গেছেন?
  • কে শেহজাদ? ও তো আরোও সকালে এক কাপ কফি গিলে বেরিয়ে গেল। তোমাকে বলে যায় নি?

সামাইরা নত মাথা ঝাঁকাল।

  • দেখো কান্ড! তোমায় না বলে বেরিয়ে গেছে?আঠাশ বছরের দামড়া যুবক, এখনো বোধশক্তিহীন। কাজ ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না।
    আস্ত গাঁধা একটা।

একথা বলে সুফিয়া রহমান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। সামাইরা এবার শাশুড়ীর দিকে সরে বসল। তার হাত নিজের হাতের মুঠোয় পুরে বলল,

  • মা, আমি একটা কথা ভাবছিলাম।

সুফিয়া জিজ্ঞাসু চোখে শুধালেন,

  • কি কথা রে?
  • আজ দুপুরের রান্নাটা যদি আমি করি?
  • ওমা! তোমার রান্না করতে হবে কেন? বাড়িতে এতজন বাবুর্চি আছে, ওরা সব রান্না করতে পারে। তাছাড়া তুমি নতুন বউ। এসব করার কোনো প্রয়োজন নেই।

সামাইরা অনুনয় করে বলল,

  • বিশ্বাস করুন মা, এভাবে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে তো, কাজ না করলে শরীরটা কেমন যেন অচল হয়ে যায়। তাছাড়া বাবা বলতেন, অলস মস্তিস্ক নাকি শয়তানের কারখানা। এভাবে বসে থাকলে আমার মস্তিস্কটাও কারখানা হয়ে যাবে।

ছেলের বউ এর মুখে এমন কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলেন সুফিয়া রহমান। বললেন,

​- আচ্ছা ঠিকাছে। কতকাল হলো ঘরোয়া খাবার খাই নি। এ বাড়ির খাবার তো আর ফাইভ স্টার হোটেলের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়! আজ একটু ভিন্নতা আসুক। তুমি সেই পুরনো দিনের মত করে সরষে ইলিশ আর ঘন মুগ ডাল রান্না করতে পারবে?

​সামাইরা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,

  • নিশ্চয়ই পারব, মা! আপনি শুধু পাশে বসে আমাকে একটু সঙ্গ দেবেন। আপনার অভিজ্ঞ চোখ আমার ওপর থাকলে ভুল হওয়ার ভয়ও থাকবে না।

​সামাইরা কালবিলম্ব না করে রান্নাঘরে গিয়ে উপস্থিত হলো। প্রধান বাবুর্চি আর সহকারীদের এক প্রকার জোর করেই আজকের জন্য ছুটি দিয়ে দিল। বিশাল সেই অত্যাধুনিক কিচেনে সামাইরা আর সুফিয়া বেগম নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করে নিল। শুরু হল এক ঘরোয়া উৎসব।

এই আধুনিক হেঁশেলে চুলা জ্বালানো থেকে মসলা বাটা সবই হয় মেশিনে। তবে সামাইরা পুরোনো গ্রাম্য পদ্ধতিই বেছে নিল। মসলা বাটা, মাছ ধোয়া আর সুফিয়ার ছোটখাটো নির্দেশনায় রান্নাঘরটা যেন প্রাণ ফিরে পেল। সামাইরার সাবলীল কর্মচঞ্চলতা দেখে ক্রমশ মুগ্ধ হতে লাগলেন সুফিয়া।

​সরিষার তেলের ঝাঝালো ঘ্রাণ তখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সুযোগ বুঝে সামাইরা অতি সাবধানে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।

  • মা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব? কিছু মনে করবেন না তো?

​সুফিয়া ইলিশ মাছের গায়ে নুন-হলুদ মাখাতে মাখাতে বললেন,

  • বলো না মা, মনে করার কী আছে? এখন তো তুমি আমার মেয়ে।

​- আপনি বলেছিলেন আপনার স্বামী আপনাদের ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। অভাবের সাথে আপনারা যুদ্ধ করেছেন। এতকিছুর পরেও উনার পরিবার পরিজনদের সাথে আপনাদের এত ভালো যোগাযোগ আছে কিভাবে?

​সুফিয়া বেগম থামলেন। ওনার দৃষ্টি জানালা ভেদ করে সুদূর আকাশে নিবদ্ধ হলো। যেন বহুকাল আগের কোনো ধুলোমাখা স্মৃতি হাতড়াচ্ছেন তিনি। ধীর গলায় বললেন,

​- শেহজাদের দাদা ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ মানুষ। নিজের ছেলের এমন জঘন্য অন্যায় তিনি মেনে নিতে পারেননি। তাই মৃত্যুর আগে ধানমন্ডির সেই পৈতৃক বাড়িটা সুকৌশলে আমার নামে লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন আমাদের মাথার ওপর যেন অন্তত নিরাপদ ছাদ থাকে। ধানমন্ডির সেই বাড়ি থেকে শুরু হয়েছিল আমাদের ‘রহমান লিগ্যাসি অ্যান্ড এস্টেট’ – এর স্বপ্ন। সেই ইটের ওপর ইট গেঁথে আজ যখন ঢাকার মাটিতে বিশাল বিশাল সব অট্টালিকা আকাশ ছুঁয়েছে, তখনও ও ক্ষান্ত হয়নি। বরং বাবার সামনে নিজেকে সফল প্রমাণ করার মোহে ছুটে চলেছে ক্রমাগত। আজ বঙ্গোপসাগরের নীল বুকে ওর ‘রহমান শিপিং লাইন’ এর যে কুড়িটি বিশালাকার কন্টেইনারবাহী জাহাজ আর অয়েল ট্যাঙ্কার রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে, তার প্রতিটি ইস্পাতের বুননে মিশে আছে ওর বাবার প্রতি জমানো এক পাহাড় সমান ঘৃণা।

​সুফিয়া একটু থেমে আবার বললেন,

  • প্রথমে সকলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল ঠিকই তবে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নেয় নি। আর গতকাল যে দেখলে ডাইনিং টেবিলে বসা দুই দাদীকে, অভাবের দুর্দিনে যখন আমাদের একবেলার চাল কেনার সংস্থান ছিল না, ওনারাই গোপনে সাহায্য করেছেন।
    আর এখন আত্মীয়তার বন্ধন জোরালো করবার প্রচেষ্টার কারণ অবশ্যই তুমি বুঝতে পারছো। টাকা বড় খারাপ জিনিস, মা। তবে আমি সবাইকে মাফ করে দিয়েছি। বেঁচে থাকতে হলে পরিবার পরিজনদের দরকার পড়ে, মা।

​সামাইরা স্তব্ধ হয়ে শুনছিল সুফিয়া বেগমের আহত কণ্ঠের সেসব কথা। একজন বাবা ছাড়া সন্তানদের জীবন তো সত্যিই অসহায়। কত নিরন্তর লড়াই করে এ পর্যায়ে এসেছে। সকলে শেহজাদের অর্জনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু এর পেছনে কত তিক্ত অভিজ্ঞতার গল্প লুকিয়ে আছে, তা কেউ জানে না। এই প্রথম শেহজাদের প্রতি সামাইরার মনে এক চিলতে করুণা উঁকি দিল।


গুলশানের প্রাণকেন্দ্রে শিরদাঁড়া উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্থাপত্যবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন ‘রহমান আইকনিক টাওয়ার’। এই টাওয়ারের একুশ তলায়, ঠিক মেঘেদের কাছাকাছি শেহজাদ রহমানে একান্ত রাজত্ব।

শেহজাদের বিশাল কেবিনটির উত্তর দিকের সম্পূর্ণ দেয়াল জুড়ে বিশাল এক স্বচ্ছ কাঁচের ক্যানভাস। সেখানে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকালে মনে হয় কোলাহলপূর্ণ ব্যস্ত ঢাকা শহরটা কোনো ধুলোবালিমাখা বিবর্ণ খেলনা। রোদে পোড়া এ শহরটা যেন বড়ই তুচ্ছ, বড়ই নগণ্য।

মেহগনি কাঠের রাজকীয় ডেস্কে সাজানো সর্বশেষ মডেলের ম্যাকবুক। তার ঠিক পাশে একটি হীরের মতো স্বচ্ছ ক্রিস্টাল পেপারওয়েট আলোর প্রতিসরণে বিচ্ছুরিত হচ্ছে।

​দেয়ালের নির্জন কোণে ঝোলানো এক বিশাল তৈলচিত্র। উত্তাল কৃষ্ণবর্ণ সমুদ্রের বুকে একাকী এক জাহাজের মরণপণ লড়াই। ক্যানভাসের সেই নিঃসঙ্গ নাবিকের মাঝে যেন শেহজাদের নিজেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।

ডিসেম্বরের আকাশটা আজ কেন যেন কাঁচের মতো স্বচ্ছ আর নীল। আর সেই নীল চিরে এক ফালি অবাধ্য রোদ কাঁচের দেয়াল গলে শেহজাদের ডেস্কে আছড়ে পড়ছে।

​শেহজাদ তখন অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে একটি ফাইলে সই করছিল। তার পরনে কাস্টমাইজড নেভি ব্লু স্যুট। চুলে সেই সূক্ষ্ম হাইলাইটের কারুকাজ। ঠিক তখনই কোনো অনুমতি ব্যতীত ঝড়ের বেগে কেবিনে প্রবেশ করল রাইসা।

তার পরনে দামী পশমি ওভারকোট, চোখে দামী সানগ্লাস। তার চোখেমুখে ঝরে পড়ছে আগ্নেয়গিরির লাভা। রাইসা ধপাস করে শেহজাদের সামনের চেয়ারটায় বসে পড়ল।
রুক্ষ স্বরে বলল,

  • শেহজাদ! হোয়াট ওয়াজ দ্যাট লাস্ট নাইট?

শেহজাদ খুব মনযোগ দিয়ে ফাইলটা নেড়েচেড়ে দেখছিল। সে অবস্থাতেই জানতে চাইল,

  • কি হয়েছে?
  • আমি ভিডিওতে দেখলাম তুমি তোমার ওই তথাকথিত বউয়ের সাথে ডান্স ফ্লোর মাতিয়ে বেরাচ্ছিলে! আমার ফোন ধরলে না। রাতে ভিডিও কল দিলে না। তুমি কি সত্যি আমাকে ইগনোর করছ?

​শেহজাদ ফাইলের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বরফশীল গলায় বলল,

  • রাইসা, তুমি খুব ভালোমতো জানো ওটা স্রেফ নাটক ছিল। হাই-প্রোফাইল অতিথিদের সামনে ওটুকু করতেই হত। কেন ফালতু সিন ক্রিয়েট করছ?

রাইসা এবার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। বিস্মিত স্বরে বলল,

  • ফালতু সিন? তুমি ওই মেয়েটার কোমরে হাত দিয়েছিলে, শেহজাদ! ওটা আমার সহ্য করার ঊর্ধ্বে। রাতে ভিডিও কল দাও নি কেন?

শেহজাদ গলার স্বর কিছুটা উঁচিয়ে বলল,

  • ডেইলি তোমাকে ভিডিও কলে রাখতে হবে নাকি? তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না?
  • তুমি অলরেডি ওই মেয়েটার গায়ে হাত দেওয়া শুরু করেছো, তোমাকে কিভাবে বিশ্বাস করব?

শেহজাদ ফাইলটা বন্ধ করে রাইসার দিকে তাকাল এইবার। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

  • তা তোমাকে বিশ্বাস করানোর জন্য কি করতে হবে?

রাইসা সহজ গলায় বলল,

  • আমাকে বিশ্বাস করাতে হলে তোমার বুকে আমার নামের ট্যাটু করাতে হবে। যাতে তোমার উন্মুক্ত বুকের দিকে তাকালেই মেয়েটার চোখে আমার নামটা বিঁধে থাকে।

​শেহজাদ চরম বিরক্তিতে কপাল কুঁচকাল। গম্ভীর গলায় বলল,

  • ট্যাটু? রাইসা, আর ইউ আউট অফ ইওর মাইন্ড? তোমাকে একটু প্যাম্পার করেছি বলে এখন যা খুশি তাই বলবে নাকি? আমি এসব সস্তা ইমোশনাল ড্রামায় বিশ্বাস করি না।

শেহজাদের ​গম্ভীর গলার স্বরও রাইসাকে দমাতে ব্যর্থ হল। এবার সে শেহজাদের খুব কাছে গেল। গা ঘেঁষে দাঁড়াল। তার দামী শার্টের কলার আঙুলের ফাঁকে নিয়ে খেলা করতে করতে আহ্লাদী সুরে বলল,

  • রাগ করছো কেন? তুমি তো জানো, তোমায় নিয়ে আমি কত পজেসিভ! আচ্ছা, লেটস গেট ইন্টিমেট। জাস্ট ফর এ ফিউ মিনিটস। আই মিসড ইউ এ লট, শেহজাদ। গিভ মি এ কিস। পাগলের মত চুমু খাও আমায়।

​রাইসা শেহজাদকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করতেই তাকে বেশ জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল সে। তার চোখের বিরক্তিভাব সীমানা পেরিয়ে গেছে। শেহজাদ ধমকে উঠল,

  • রাইসা, স্টপ ইট! জাস্ট স্টপ ইট! আমি বড্ড বিরক্ত বোধ করছি। তোমাকে অনেকবার বলেছি এটা আমার অফিস। এখানে এসব সস্তা আচরণ করবে না আমার সাথে।

রাইসা এবার তাচ্ছিল্যমাখা সুরে বলল,

  • আমার সাথে তোমার এত বছরের সম্পর্ক। অথচ কোনোদিন আমাকে মন ভরে আদর করলে না। আর দুদিন হল না বিয়ে করেছো, বউকে সবার সামনে খুব ধরতে ইচ্ছে করে তোমার! সেসব সস্তা আচরণ নয় না?
  • তুমি ভুলে যাচ্ছো, রাইসা। ও আমার বিয়ে করা বউ। তুমি নও।

এপর্যায়ে ​রাইসা অপমানে বিবর্ণ হয়ে গেল।

  • তুমি আমাকে ঠেলে দিলে শেহজাদ? ওই থার্ড ক্লাস মেয়েটার জন্য?

শেহজাদ বুঝতে পারল সে রাইসাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। তাকে জড়িয়ে ধরবার উদ্দেশ্যে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। কণ্ঠস্বর নরম করে বলল,

  • বাবু, আমি ওরকম কিছু মিন করে তোমাকে বলি নি। আমি শুধু…

​রাইসা শেহজাদের কথা শেষ হতে দিল না। রাগে গটগট করে বেরিয়ে গেল। শেহজাদ চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চোখ বন্ধ করল। অস্ফুট স্বরে দাঁতের ফাঁক দিয়ে বলে উঠল,

  • ফা/ক, ফা/ক, ফা/ক!

নিজের ভালোবাসার মানুষটার সাথে এমন ব্যবহার কেন করল শেহজাদ? তবে নিজের অনুভূতির বিপরীতে গিয়েও আজ কিছু করে নি সে।

প্রায় তিন বছরের সম্পর্কে রাইসাকে সে অগুনিত বার চুমু খেয়েছে। অত্যন্ত গভীর ও দীর্ঘ ছিল সে চুমুগুলো। রাইসা সবসময় পুরোপুরি ইন্টিমেট হতে চাইলেও, শেহজাদ নিজেকে রাইসার বুকের ভাঁজ অব্দি চুমু খেয়েই সমাপ্তি টানত। এ নিয়ে রাইসার অভিযোগের শেষ নেই।

কিন্তু আজ সেই রাইসার স্পর্শ শেহজাদের এমন অসহ্যকর লাগল কেন? রাইসার ব্যবহৃত চিরচেনা উগ্র বিদেশি পারফিউমটার গন্ধও তার কাছে বড্ড উৎকট বলে মনে হচ্ছে। যা আগে কখনো মনে হয় নি!

চলবে…

গল্পঃ #তুমিএলেঅবেলায় 🍂

পর্ব_৪

লেখনীতে, #আতিয়া_আদিবা

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply