২.
নব বিবাহিত বউয়ের গোটা বাসর রাত কেটে গেলো স্বামীকে তার প্রেমিকার সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখে।
সকাল সাড়ে ছয়টা।
গুলশান ২-এর লেকসাইডে আভিজাত্যের ছাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘দ্য স্কাইলাইন ভিলা’। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি যেন যান্ত্রিক ঢাকার বুকে ছোট্ট এক টুকরো ইউরোপ। সাদা ধবধবে ইতালিয়ান মার্বেলের মেঝে আর কাঁচের দেয়াল ভেদ করে ভোরের প্রথম প্রহরের আলো যখন ভেতরে প্রবেশ করে, তখন বাড়িটার সৌন্দর্য যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বাড়ির অন্দরমহলে পা রাখতেই বিশাল লিভিং এরিয়াটি যেকোনো আগন্তুককে আধুনিকতার মায়ায় আচ্ছন্ন করে ফেলে। সিলিং থেকে ঝুলে থাকা মডার্ন ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি, চারদিকের কাস্টমাইজড আসবাবপত্র আর দামী লেদারের সোফাগুলো থেকে শেহজাদের শত কোটি টাকার দম্ভ নিদারুণ ভাবে প্রকাশ পায়।
সামাইরার গোটা রাত কেটেছে নির্ঘুম। ভোরের আলো ফোটার ক্ষণিককাল আগেই চোখজোড়া সামান্য লেগে এসেছিল। তাও পরিপূর্ণ ঘুম আর হল কই?
সে ধীরপায়ে বাসর ঘরের বিছানা ছাড়ল। আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের বিধ্বস্ত চেহারাটার দিকে তাকিয়ে সামাইরার বুক ফেটে কান্না এল। সংবরন করল সে নিজেকে।
গতকাল রাতের রজনীগন্ধার ঘ্রাণ এখন আর মোটেও মিষ্টি ঠেকছে না। কেমন উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে! সামাইরা জানালার বিশাল স্লাইডটি খুলে দিল। গুলশান লেকের শান্ত জলরাশি সামাইরার ক্ষত বিক্ষত মনেও এক টুকরো ভালোলাগা ছুঁইয়ে দিল।
শেহজাদ তখনো সোফায় অঘোরে ঘুমাচ্ছে। সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর আত্মসম্মানকে গতরাতে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েও এভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়? অঢেল টাকার মালিক হলে হয়ত যায়!
সামাইরা বাথরুমে গিয়ে চোখে-মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিল। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে তার মনে পড়ে গেল অতীতে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা।
সামাইরা খুব ছোটবেলায় নিজের জন্মদাত্রী মাকে হারিয়েছে। বাবা নিম্ন গ্রেডের এক সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি জীবন সামলিয়ে সে চেষ্টা করেছে সামাইরাকে পৃথিবীর সবটুকু সুখ এনে দেওয়ার। পাছে মেয়ের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে, এমন চিন্তাধারা থেকে দ্বিতীয় বিয়ের কথা মাথাতেও আনেন নি।
বাজারের চাল-ডাল আর নিত্যপণ্যের দাম যখন হুরহুর করে বাড়ছিল, বাবার সেই সামান্য বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সংসারের অভাব মেটাতে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি শুরু করেছিল সামাইরা।
ধানমন্ডির সেই পুরনো চারতলা বাড়িটা ছিল সুফিয়া রহমানের। সেই বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়ার ছেলেকে পড়াতে যেত সামাইরা। একদিন হুট করেই সুফিয়া বেগম নিজের বাড়ির হালচাল দেখতে এসেছিলেন। পরনে সাদা সুতির শাড়ি, চোখে মোটা চশমা, মুখে অভিজ্ঞতার ছাপ।
সামাইরার কাজল কালো চোখ, কোমড় অব্দি চুল, স্নিগ্ধ চাহনি, শান্ত স্বভাব আর পড়ানোর ফাঁকে ছোট ছেলেটার সাথে তার মিষ্টি ব্যবহার সুফিয়া বেগমের অভিজ্ঞ মনে একদম গেঁথে গিয়েছিল। ‘পিওর বাঙ্গালী বিউটি’। এমন মেয়েকে হাতছাড়া করা বোকামি নয়ত কি?
পরবর্তীতে সুফিয়া রহমান নিজ উদ্যোগে সামাইরার বাবার খোঁজ নেন। সশরীরে হাজির হন তাদের জরাজীর্ণ বাসায়। সামাইরার বাবার সামনে হাতজোড় করে নাথা নত রেখে বলেছিলেন,
- আপনার মেয়েকে আমার ঘরের লক্ষ্মী করে নিতে চাই!
বিয়ের এক পয়সা খরচও তিনি সামাইরার বাবাকে করতে দেননি। উল্টো সসম্মানের সহিত সামাইরাকে পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করে নিয়েছেন।
ফ্রেশ হয়ে, শাড়ি পাল্টে সামাইরা ঘর থেকে বের হল। কোরিডোর পার হতেই তার দেখা হল শ্বাশুড়ির সাথে। বারান্দায় বসে সুফিয়া ভোরের নরম রোদ পোহাচ্ছিলেন। সামাইরাকে দেখেই ওনার ফ্যাকাশে মুখটা ভোরের সূর্যের মতোই উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
- এসো মা, কাছে এসো।
সুফিয়া পরম মমতায় সামাইরার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় পুরে নিলেন।
- এত সকালে উঠলে যে! রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়েছে তো মা?
সামাইরা মাথা ঝাঁকিয়ে মিথ্যে সম্মতি জানাল।
- শেহজাদ কি অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছে?
সামাইরা এবারো ইশারায় জবাব দিল।
- দেখো কান্ড! বিয়ের রাতটাও ছাড় দিল না। আসলে ছেলেটা আমার বড্ড জেদী। কাজের নেশায় নিজের আরামের কথা ভুলে যায়।
সামাইরা জোর করে ঠোঁটে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে রাখল। একবার তার মনে হল শাশুড়ীকে সবটা খুলে বলবে –
আপনার ছেলে তো আমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণই করেনি! সে গতরাতে আমাকে স্পর্শ করে নি। আমি তার কাছে স্রেফ একটা বিজনেস ‘ডিল’। যে ডিল আপনার মৃত্যুর সাথে সাথেই টার্মিনেট হয়ে যাবে!
কথাগুলো ঠোঁটের ডগায় এসেও থেমে গেল সামাইরার। সুফিয়া বেগমের মমতাময়ী চোখের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সংযত করল সে। দীর্ঘদিন মায়ের অভাবে ভুগেছে অভাগীটা। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু তাকে আরও একবার কাউকে ‘মা’ বলে ডাকার সুযোগ করে দিয়েছেন, সেই সুযোগ লুফে না নিলে কি হয়? তাছাড়া সত্যের আঘাত তিনি কতটুকু গ্রহণ করতে পারবেন, এ বিষয়েও সন্দিহান!
- সমস্যা নেই, মা। উনার ব্যস্ততা আমি বুঝতে পেরেছি।
সামাইরা অবনত মাথায় খুব নিচু স্বরে কথাগুলো বলল।
সুফিয়া রহমান মৃদু হাসলেন। সামাইরাকে ইশারায় আরো কাছে ডাকলেন। সামাইরা হাটু ভেঙ্গে তার সামনে বসল। সুফিয়া অতি যত্নে সামাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ওনার চোখের কোণে এক টুকরো ম্লান স্মৃতি যেন হুট করেই ভেসে উঠল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
- মা, আমি জানি শেহজাদ একটু রুক্ষ স্বভাবের। কারো সাথে সহজে মিশতে পারে না। কাউকে সহজে বিশ্বাসও করতে চায় না। আসলের ওর ছোটবেলা বাকি আট দশটা সাধারণ ছেলের মত ছিল না।
সামাইরা কৌতূহলী চোখে শাশুড়ির মুখের দিকে তাকাল। সুফিয়া বেগম শূন্যে দৃষ্টি মেলে দিলেন, যেন বহুকাল আগের কোনো ধূসর ক্যানভাসের বেরঙিন ছবি দেখছেন।
- ওর বাবা যখন আমাদের পরিত্যাগ করে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঘর ছাড়ল, শেহজাদ তখন স্রেফ দশ বছরের শিশু। ওর চোখের সামনেই আমাদের সাজানো সংসারটা তছনছ হয়ে গেল। কেড়ে নেওয়া হল আমাদের ভিটেমাটি। আমি আর ও রাস্তার ধুলোবালি মেখে লড়াই করেছি মা। অভাবের সাথে যুদ্ধ করে, দিনরাত এক করে আজ এই শত কোটি টাকার ব্যবসা আমি আর আমার ছেলেই তিল তিল করে দাঁড় করিয়েছি। সেদিনের সেই ছোট্ট শেহজাদ আজকের এই বিজনেস টাইকুন হওয়ার পেছনে আছে অনেক অবহেলা আর বঞ্চনার ইতিহাস। ও বেঁচে থাকার স্বাদ নিয়ে বেঁচে নেই মা। টিকে থাকতে হবে বলে বেঁচে আছে!
সামাইরা মাথা নিচু করে রইল। মনের ভেতরে ভয়ংকর যুদ্ধ চলছে তার। সুফিয়ার কণ্ঠস্বর আবেগে বুজে এল এবার। তিনি বললেন,
- এখন তো তুমি আছো মা, তুমিই ওকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখো। আমার অবর্তমানে এই সংসার, এই সম্মান আর শেহজাদ – সবই তো তোমার আমানত! শেহজাদ কক্ষচ্যুত হয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না, মা। কাজেই ও যদি কোনো ভুল ত্রুটি করে, ওকে মাফ করে দিও। সঠিক পথে ফিরিয়ে এনো।
সামাইরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এ লড়াই যে তার ব্যক্তিত্বের একেবারে বিপরীত। এ লড়াই এর জন্য তো সে প্রস্তুত নয়! ভাগ্যের পরিহাস সর্বদা কেন এত নির্মম হয়?
‘দ্য স্কাইলাইন ভিলা’-র অন্দরমহলে এক তুমুল কলরবে রূপ নিল বেলা আরেকটু গড়াবার পর।
ব্রেকফাস্ট টেবিলে যেন মুঠো মুঠো আভিজাত্যের পসরা সাজানো। সাদা পোর্সেলিনের দামী ক্রকারিতে গরম লুচি, এলাচ সুগন্ধি আলুর দম আর জাফরানি হালুয়া। ডাইনিং রুমে উৎসবের আমেজ।
টেবিলজুড়ে আত্মীয়স্বজনের এক বিশাল বহর। শেহজাদের বড় চাচা, ছোট ফুফু আর কাজিনদের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য বিস্তার করে আছেন দুই দাদী। রাবেয়া বেগম আর ছলেমন নেসা। তাঁদের পানের বাটার টুং টাং শব্দ আর খিলখিল হাসিতে মুখরিত চারিপাশ।
শেহজাদ নিচে নামল একদম ‘বিজনেস টাইকুন’ বেশে। পরনে ইস্ত্রি করা ধবধবে সাদা শার্ট আর নেভি ব্লু ফরমাল প্যান্টস। সামাইরার দিকে তাকিয়ে সে বেশ রোমান্টিকভাবে হাসল। যেন গতরাতের কোনো কথা তার মনে নেই। এক নিপুণ অভিনেতার মত নিজের চরিত্র বদলে নিয়েছে সে।
শেহজাদের সবচেয়ে ছোট কাজিন আবির ফিক করে হেসে বলল,
- কী রে ভাইয়া! নতুন ভাবিকে পেয়ে তো আমাদের ভুলেই গেলি। সারা রাত এক মুহুর্তের জন্য দরজা খোলার নামও নিলি না! অথচ গতরাতে তোর কিন্তু ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’ পার্টি থ্রো করার কথা ছিল।
শেহজাদ খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাসল। সে এগিয়ে গিয়ে সামাইরার একদম গা ঘেঁষে দাঁড়ালো।
সামাইরা তখন মেইডদের সাহায্য নিয়ে সকলের প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছিল। সহসা শেহজাদ সবার সামনেই সামাইরার কোমরে শক্ত করে হাত দিয়ে নিজের দিকে টেনে নিল।
সামাইরা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো শিউরে উঠল, হাতের চামচটা থরথর করে কাঁপতে লাগল। হতবিহ্বল চোখে শেহজাদের পানে তাকাল। শেহজাদের সেদিকে ভ্রুক্ষেপহীন। মজার ছলে বলল,
- আজেবাজে বকিস না তো, আবির। নতুন বউকে একটু এক্সক্লুসিভ সময় তো দিতেই হয়। বিয়ে কর। তখন বুঝবি।
একথা বলে শেহজাদ সামাইরার চোখে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। উপস্থিত মুরুব্বীরা এই দৃশ্য দেখে হেসেই আকুল।
বড় দাদী রাবেয়া বেগম হাসতে হাসতে বললেন,
- আহা রে! ভ্রমর যে নতুন নতুন ফুলের বাগান পেয়েছে। এখন কি আর অন্য কোথাও মন বসবে?
তবে নতুন বউ শুনে রাখো, আমাদের এই নাতি কিন্তু বড্ড একরোখা, ঠিকমতো সামলে রেখো, কেমন?
দাদী ছলেমন নেসা হঠাৎ ভেংচি কাটলেন। সামাইরার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,
- শোনো বউ, এই শেহজাদ যখন ছোট ছিল, ও বলত বড় হয়ে আমাকেই বিয়ে করবে। সেদিক থেকে আমিই কিন্তু ওর প্রথম স্ত্রী! আমাদের সম্পর্কটা তাহলে কি হল বল তো?
দাদী এবার ভাঙ্গা গলা ছেড়ে গান ধরল,
”দুই সতীন যার ঘরে, কথায় কথায় বিবাদ করে
আয়ু থাকতে স্বামী মরে দ্বন্দ্বেরী জ্বালায়”
ডাইনিং টেবিলজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল। এই বৃদ্ধার খুনসুটি আর পুরনো স্মৃতিচারণায় সামাইরাও হেসে ফেলল।
কিন্তু শেহজাদের হাতের আঙুলগুলো তখনও সামাইরার কোমরে স্থির। সামাইরা রীতিমতো ঝ্যাংটা মেরে নিজেকে সরিয়ে নিল। শেহজাদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে বলল,
- খেতে বসেন।
শেহজাদ হাসিমুখে টেবিলের প্রধান চেয়ারটিতে বসে পড়ল। আড্ডায় মেতে উঠল সকলের সাথে।
খাবার বেড়ে দিতে গিয়ে সামাইরা লক্ষ্য করল শেহজাদের ফোনের স্ক্রিনে নোটিফিকেশন এসেছে। সেন্ডারের স্থানে ‘রাইসা ইসলাম’ নামটি জ্বলজ্বল করছে।
নাস্তার রাজকীয় আয়োজন শেষ হতেই সকলের সামনে হতে সামাইরার ছোঁ মেরে বেডরুমে নিয়ে এলো শেহজাদ। দোতলার নির্জনতায় আদর্শ স্বামী’র সুনিপুণ খোলসটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। পকেট থেকে একটা খাম আর একটি গোল্ডেন ক্রেডিট কার্ড বের করে অবজ্ঞার সাথে বিছানার ওপর ছুড়ে ফেলল সে।
আঠাশ বছর বয়সী এই বিজনেস টাইকুনের চোখেমুখে আছড়ে পড়ছে বরফশীতল রুক্ষতা। সে গম্ভীর গলায় বলল,
- এখানে তোমার এই মাসের হাতখরচ আছে। একটা কার্ড আছে। লিমিট নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করো না, হাত খুলে খরচ করো।
সামাইরা খামটার দিকে একবারও না তাকিয়ে তীক্ষ্ণ শ্লেষ মেশানো গলায় বলল,
- আপনি কি সত্যিই মনে করেন টাকা দিয়ে দুনিয়ার সব কিছু হাসিল করা সম্ভব? আপনি কোন সাহসে আমাকে সবার সামনে ওভাবে জাপটে ধরলেন?
শেহজাদ এবার কয়েক কদম এগিয়ে এল। শীতল গলায় বলল,
- টাকা দিয়ে অন্তত আভিজাত্যের কঙ্কালটা ঢেকে রাখা যায় সামাইরা। তোমার কি মনে হয়? তুমি এই লাইফস্টাইল ডিজার্ভ করো?
তাচ্ছিল্য মিশিয়ে শেহজাদ নিজেও উত্তর দিল,
- ডিজার্ভ করো না, সামাইরা। কেবলমাত্র মায়ের ওই সেকেলে সেন্টিমেন্ট আর জেদের কারণে তুমি এই ‘স্কাইলাইন ভিলা’য় ঘোরাফেরা করছ। আর তোমাকে জাপ্টে ধরার অধিকার আছে কি নেই এ নিয়ে সন্দেহ থাকলে কাবিননামা আরোও একবার পড়ে নিও।
সো, জাস্ট গ্র্যাব ইট অ্যান্ড শাট আপ।
সামাইরা রাগে, অপমানে চোখমুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইল।
শেহজাদ একটু থামল। এরপর নিজেকে কিছুটা শান্ত করে পুনরায় বলল,
- আজ রাতে আমার সকল হাই-প্রোফাইল গেস্টরা আসবেন। তাদের সামনে যেন তোমাকে ‘পারফেক্ট হ্যাপিলি ম্যারেড কাপল’-এর পার্টটা নিখুঁতভাবে প্লে করতে দেখি। আর শোনো, কোনো সস্তা মধ্যবিত্ত আচরণ করবে না। তোমার কোনো সিলি অ্যাক্টিভিটি যেন আমার স্ট্যাটাস আর ইমেজে আঁচড় না কাটে।
শেহজাদ এক মুহূর্তও আর সেখানে দাঁড়ালো না। গটগট করে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। সামাইরা নিথর হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রইল।
(গল্পটি কেমন এগোচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন।।আর যারা প্রথম পর্ব পড়েন নি, লিংক কমেন্টে দেওয়া আছে)
তুমিএলেঅবেলায় 🍂
পর্ব_২
লেখনীতে, #আতিয়া_আদিবা
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, তুমি এলে অবেলায়
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তুমি এলে অবেলায় গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩১
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৯
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩৪
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৯
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৫
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩২(বাসর স্পেশাল❤️)