তালাক_নামা
সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)
পর্ব-৩
বিবাহ বিচ্ছেদ হবে বলে বাবার চোখে মুখে তেমন কিছু দেখিনি সেদিন।তখন সে নতুন বউয়ের গরম লাগছে তাকে বাতাস দিতে ব্যস্ত।আমার মা ঘেমে নেয়ে একাকার। রবিন মামা মায়ের হাত ধরে বসে আছে।মামাদের মধ্যে আমার রবিন মামা সবচেয়ে ছোটো আর বোন ভক্ত।এই বছর সে মেট্রিক পাশ করে কলেজ ভর্তি হয়েছে। মা তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“রবিন, ভাই আমার শোন। সুকন্যা আর সোহানা কিছুই খায়নি সকাল থেকে। ওদের নিয়ে একটু বাজারে যাবি ভাই? ওদের কিছুই খাইয়ে আন।”
“না আপা যেতে হবে না।আমি নাস্তা নিয়েই এসেছিলাম তোমাদের জন্য।তুমিও ঘরে চলো।এই বাড়ি তোমার।তুমি যা বলবে তাই হবে আপা।কিন্তু তোমার শরীর আগে।আম্মা নাই তুমিও নিজেরে কষ্ট দিলে আমরা কার কাছে যাবো।”
মামার কথায় বাকীরাও তাই বললো। মতির মা জগ ভর্তি ঠান্ডা পানি আর প্লেট এনে মায়ের ঘরে রাখলো।বড় মামা নিজ হাতে খাবার ভাগ করে সবার প্লেটে দিচ্ছে।মায়ের দিকে তাকাচ্ছে না সে। তার চশমার আড়ালে চোখটা লাল হয়ে আছে। পরোটা ছিড়ে মামা মায়ের মুখে তুললেন। সেই মুহুর্তে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন মামা। বোনের মাথায় হাত রেখে বললেন,
“আমি তখন এতো কিছু বুঝি না কি রে রাবু?বুঝলে তোকে এই নরকে পাঠাতাম?আমায় মাফ করে দিস।”
“আমাদের কারোর কোনো দোষ নেই ভাইজান।দোষ আমার কপালের কথায় আছে মেয়ে মানুষের চেহারার থেকে তার কপাল ভালো হওয়া বেশি দরকার। আমার কপালটাই খারাপ।”
“না আপা, তোমার কপাল খারাপ হবে কেন?আমরা আছি না?ওর পা ভেঙ্গে দেওয়া উচিৎ ছিল সেবার। তাহলেই ফণা তুলতো না।”
ঘরের দরজার দিকে তাকাতেই মা দেখল তার দুই বোন এসেছে। মায়েরা ছয় ভাই তিন বোন। দুই জন বাদ দিয়ে সবাই উপস্থিত। খালামণিরা আসাতে বাড়ির পরিবেশ আরো বদলে গেল।ছোটো খালামণির রাগের জন্য সবাই তাকে ভীষণ ভয় করে। সে ঘরে ঢুকার আগেই দাদীর গলা থেকে আমার মায়ের চেইন খুলে নিয়ে এসেছে।সেটা আমার বোনের গলায় পরিয়ে দিয়ে বললেন,
“তুমি যদি ভয় পাও তোমার সাথে সাথে এই দুইটা মেয়ের কপালেও কষ্ট হবে। সেটা কি তুমি জানো না?”
মেঝ খালামণি নিজ হাতে আমাদের খাবার খাইয়ে দিলেন।রবীন মামাকে বললেন,
“রবু ওদের নিয়ে ঘুরে আয়। আমরা আছি।আজ যাই হোক না কেন ছোট্ট দুইটা মেয়ে এসব না দেখুক।”
খাওয়া শেষ করে যখন আমরা বের হলাম সবাই তখন দাদীকে দেখলাম কেমন নিষ্প্রাণ হয়ে বসে আছে এক পাশে। গ্রামের দুই একজন মহিলা তাকে বাতাস করতেছে।খানিক দূরে দাঁড়িয়ে আছে বাবা আর নতুন বউ। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে দাদা বসে আছেন কাজীর সামনে, তার পাশে বসে আছে একজন মধ্য বয়সী মহিলা।যার গায়ে গোলাপি রঙের শাড়ি। কিছুটা এগিয়ে যেতেই বুঝলাম কাজী সাহেব দাদার উদ্দেশ্যে কিছু একটা বলছে এবং দাদা তাকে অনুসরণ করে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”
কবুল শব্দের সাথে সাথে যা শোনা গেল সেটা হলো আমার দাদীর চিৎকার।সে হুশে বেহুশে চিৎকার করছে। দাদাকে অভিশাপ করছে, সে সতীনের সংসার করবে না।আমাদের আর সেদিন বের হওয়া হলো না। রবু মামা যেতেই চাইলো না।ছোটো খালামণি মুখ টিপে হাসছে অথচ আমি দাদীর সেই আহাজারির সাথে আরো একটা ঘটনার মিল পাচ্ছিলাম।এক বছর আগে আমার মা নিজেও একই জায়গায় বসে এই ভাবেই বিলাপ করেছিল। সেদিন আমার ছোট্ট মনে প্রশ্ন আসে প্রথম বারের মতো।আচ্ছা সত্যি কি ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটে?”
চলবে(আগামী পর্ব আগামীকাল সন্ধ্যে সাতটায় পাবেন ইনশাআল্লাহ)
Share On:
TAGS: তালাক নামা, সাদিয়া খান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৮
-
ও ফুল পর্ব ১
-
নিগৃহীতা পর্ব ৩
-
বি মাই লাভার পর্ব ২১
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৯
-
তালাক নামা পর্ব ২
-
নিগৃহীতা অন্তিম পর্ব
-
বি মাই লাভার পর্ব ২০
-
নিগৃহীতা পর্ব ১
-
নিগৃহীতা পর্ব ২