Golpo romantic golpo তাজমহল সিজন ২

তাজমহল সিজন ২ পর্ব ৩৫


তাজমহল #দ্বিতীয়_খন্ড

পর্ব_৩৫

প্রিমাফারনাজচৌধুরী

মেয়েরা প্রচন্ড খুশি! শাইনার দুলাভাইদের কাছ কোনোমতে ছয় হাজার টাকা খুইয়েছে। মালা পরানোর সময় আরও ছয় হাজার খোয়াতে পারলে শান্তি। বড়োরা গিয়ে বকাবকি করতেই বরকে ভেতরে আসতে দেয়ার আয়োজন দ্রুত শেষ হলো। তাসনুভা তার বান্ধবীদের সাথে কথা বলছে। সবাই নানান বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলছে। তাসনুভা রিলেটিভদের খুঁজে খুঁজে কথাবার্তা বলছে। সবাই তার বিয়েতে এটেন্ড করেছে কিনা দেখছে। রওশনআরা এককোণায় নিজের বোনদের সাথে চুপচাপ বসে আছে। বেয়াইন বরণের সময় তার ননদ আর ভাইয়ের বৌরা গিয়েছে। শাহিদা বেগমও নিজ থেকে কথা বলতে এলেন না। মনে বেশ ক্ষোভ পুষে রেখেছেন। এত বড়ো আয়োজন যাচ্ছে। তার মেয়ে আর নাতনিটাকে কেউ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলো না। কতোবড় গাদ্দার এরা।

আনিসের ব্যাংকের সিনিয়র, জুনিয়র, সহকর্মীরা এসেছে। সবার সাথে কথা বলা শেষে ক্যামরাম্যান বলল,

“ভাইয়া এদিকে আসতে হবে একটু।”

তাসনুভার সামনে ঘোমটা টেনে দিয়েছে ঝিমলি।

“একটু লজ্জা টজ্জা তো পেতে হবে তাই না? ঘোমটার নিচে মাথা নিচু করে রাখবেন। আনিস ভাইয়ের দিকে তাকাবেন না। তাকে দেখার সময় অনেক পড়ে আছে।”

তাকে বিয়ের আসরে নিয়ে বসিয়ে দিল সে। সে তারপরও ঘোমটা নিচে থেকে সবাইকে দেখে যাচ্ছে। আনিসুজ্জামানকেও। পরক্ষণেই বড়দের ডাক এলো। কাজি সাহেব গম্ভীর গলায় বললেন, “দেরি হয়ে যাচ্ছে এবার খাতাটা এদিকে আনুন।”


চারিদিকে পিনপতন নীরবতা। শুধু মাঝে মাঝে ক্যামেরার শাটারের শব্দ দূর থেকে ভেসে আসছে। আগত অতিথিদের মৃদু গুঞ্জন তো আছেই। মাঝখানের ফুলের পর্দা দেয়া। সবাই একজোড়া মানুষের নতুন জীবনে পদার্পণের অপেক্ষায় আছে। কাজি সাহেব সামনে রাখা বড় রেজিস্টার খাতাটি খুলে চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে বসালেন। প্রথমেই বললেন,

“উপস্থিত সাক্ষীগণের সামনে জানানো যাচ্ছে যে মোহাম্মদ আফসারুজ্জামানের দ্বিতীয় পুত্র মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের সাথে আপনাকে পনের লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিবাহ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে নগদ আদায় ধরা হয়েছে নির্দিষ্ট অংশ। আপনি এই বিবাহে রাজি থাকলে সজ্ঞানে বলুন আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”

তাসনুভার বুকের ভেতরটা তীব্রভাবে কাঁপছে। ঝিমলি তার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। তাসনুভা নিচের দিকে তাকিয়ে ধরা গলায় প্রথমবার বলল, “আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”

দ্বিতীয়বার বলতে গিয়ে তার কণ্ঠস্বর সামান্য বুজে এলো। তৃতীয়বার সে পূর্ণ সম্মতিতে শব্দটি উচ্চারণ করল তখন তার চোখের কোণে এক বিন্দু জল টলমল করে উঠল।

কাজি সাহেব এবার আনিসের উদ্দেশ্যে বললেন,

“মোহাম্মদ তাজউদ্দীন সিদ্দিকীর কন্যা জুনুনআরা সিদ্দিকীকে পনের লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে আপনার নিকট বিবাহ দেওয়া হচ্ছে। আপনি এই বিবাহে রাজি থাকলে বলুন আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”

আনিস জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে স্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ করল, “আলহামদুলিল্লাহ কবুল।”

পুরো মজলিশে প্রশান্তি নেমে এলো। বড়রা সমস্বরে “মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ” বলে উঠলেন। কাজি সাহেব কলম বাড়িয়ে দিলেন। আনিস বিসমিল্লাহ বলে দস্তখত করে দিল। এরপর সেই লাল মলাটের খাতাটি তাসনুভার সামনে আনা হলো। কাঁপা কাঁপা হাতে তাসনুভা নিজেকে আনিসুজ্জামানের নামে লিখে দিল। যাকে প্রথমবার মনের পর্দায় আবিষ্কার করার পর সে নিজেকে প্রথম ঘৃণা করেছিল।

তাজউদ্দীন সিদ্দিকী একপাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলেন। তার কলিজার টুকরো মেয়েটা আজ অন্য বাড়ির বউ হয়ে গেল। আনন্দের মাঝেও বুকটা কেমন হু হু করে উঠল তাঁর। তিতলি গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তৌসিফ তার গাল টেনে দিল

“এখনই তোর বোন বিদায় হচ্ছে না। কান্না জমিয়ে রাখ।”

মোনাজাত শুরু হলো। সবাই হাত তুলল নবদম্পতির সুখের জন্য।

তারপর মিষ্টি আর খেজুর বিতরণ শুরু হলো। তিতলি একপাশে বসে মিষ্টি খাচ্ছে। তার চোখ টলমল করছে। তৌসিফ পেটে চেপে ধরে হাসছে তাকে দেখে।


পর্দার ওপাশে হাসাহাসি, খুনসুটি। তাসনুভা দোপাট্টার আড়ালে মুখ লুকিয়ে বসে আছে।

সাদা গোলাপ আর রজনীগন্ধার ঘন বুনন করা ফুলের পর্দা ঝুলে আছে আনিস আর তাসনুভার মাঝখানে। আনিস আসতেই ঝিমলি দুষ্টুমি করে বলে উঠল, “আগে নজরানা দিন তবেই প্রিয়ার দেখা মিলবে আনিস সাহেব।”

জামিল বলল,”নজরানা বউয়ের হাতে যাবে।”

“আমাদের হাত আর বউয়ের হাত একই। এখানে কিন্তু অনেক ভাবি আছে।”

শাওন শাইনাকে বলল,”আসসালামু আলাইকুম পাশের বাসার ভাবি।”

শাইনা হেসে ফেললো। “যা, ফাজিল কোথাকার।”

“টাকা পেলে ওটা আমাকে দিয়ে দিবি। আজ আনিস মিয়ার ফতুর হওয়ার দিন।”

জামিল ভাবিদের হাতে নজরানা দিতে যাচ্ছিল। ঝিমলি জিভ কামড় দিয়ে দুপাশে মাথা নাড়লো।

“সর্বনাশ! রুহাবের আব্বু আর তাজদার সিদ্দিকী দেখলে বকে দেবে। নজরানা বউয়ের হাতেই যাক। আমি মজা করেছি।”

রায়হান আর তাজদার এসে বলল,” এখানে এখনো হয়নি?”

ঝিমলি বলল,”হবে। বর বউয়ের মুখ দেখবে না? আপনারা কাজে যান।”

দুজনেই আবারও কাজে লেগে পড়লো। একের পর আত্মীয় স্বজন আসছে। তাদের সাথে কুশল বিনিময় আর সবার খাওয়াদাওয়া হচ্ছে কিনা তদারকি করতে হচ্ছে। তৌসিফকে রায়হান কয়েকবার বকে দিয়েছে। কোনো কাজে নেই সে। দায়িত্ব নেয়া শিখবে কখন থেকে?

এদিকে বউয়ের মুখ দেখার পর্ব চলছে। পর্দা সরতেই দেখা গেল মাথা নিচু করে বসে থাকা একটা লাল টুকটুকে বধূ। তাসনুভার গায়ের লাল শাড়ির কারুকাজ ঝাড়বাতির আলোয় হীরের মতো জ্বলজ্বল করছে। আনিসের হাত দুটো সামান্য কাঁপছে। সে ধীর পায়ে তাসনুভার একদম কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।

“আরেকটু লজ্জা পেতে হবে তো! মাথাটা একটু নিচু করুন।” ঝিমলির কানে কানে বলা কথাগুলো তাসনুভার কানে পৌঁছাল। তার হার্টবিট তখন ড্রাম বাজাচ্ছে। আনিস অতি সাবধানে তাসনুভার মাথার ওপর থেকে লাল পাড়ের ঘোমটাটি ধীরে ধীরে সরিয়ে দিল। নিচু স্বরে বলল, “নাকের নোলকটা আরও ছোটো হলে ভালো হতো। এখন তো নাকটা ব্যাথা হয়ে যাবে। আরও ভেবেচিন্তে পরা দরকার ছিল।”

তাসনুভা সেই কণ্ঠস্বর শুনে অবাধ্য হয়েই একবার চোখ তুলে তাকালো। চার চোখের সেই মিলন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের, কিন্তু তাতে আগামী জীবনের সহস্র প্রতিশ্রুতি। সে দ্রুত চোখ নামিয়ে নিলো বটে, কিন্তু তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা সেই এক চিলতে হাসিতেই আনিসুজ্জামান তার সারা জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায়নি কি?

ক্যামেরাম্যানরা লেন্সের ওপর দিয়ে আনিসের দিকে তাকিয়ে বলল,

“ভাইয়া একটা স্পেশাল শট লাগবে। ভাবির কপালে একটা চুমু দিন তো। জাস্ট এক সেকেন্ড হোল্ড করবেন।”

ক্যামেরাম্যানের কথা শুনেই আনিসের ফর্সা মুখটা মুহূর্তে টকটকে লাল হয়ে গেল। সে ছেলেটার উপর একটু বিরক্ত প্রকাশ করলো। এদের মুখে কোনো বাঁধ নেই।

আশপাশে উপস্থিত ব্যাংকের কলিগরা সমস্বরে শোরগোল করে উঠল। একজন ফিসফিস করে টিপ্পনি কেটে বলল, “আরে আনিস সাহেব ব্যাংকে তো বড় বড় লোন পাশ করেন, এখন একটা ছোট কিস পাশ করতে এত লজ্জা পাচ্ছেন কেন?”

আনিস তাকে চোখ রাঙিয়ে ক্যামেরাম্যানের দিকে ঘুরে বলল, “এটা স্কিপ করো। বড়োরা আছে।”

তাসনুভা ঘোমটার নিচে আরও কুঁকড়ে গেল। তার সারা শরীরের রক্ত মুখে এসে জমা হয়েছে। ঝিমলি খিলখিল করে হেসে উঠে তাসনুভার কানের কাছে বলল,

“এটা কিন্তু তোলা রইলো। সুদে আসলে আদায় করে নেবেন।”


ঝিমলি আর সাবরিনা মিলে একটি কারুকাজ করা বিশাল আয়না নিয়ে এল তার পরপর। ঝিমলি আয়নাটি ধরে বলল,

“ননদিনী এই আয়নায় কার চেহারা দেখা যাচ্ছে বলুন তো? শুধু দেখলে হবে না সবার সামনে জোরে বলতে হবে।”

আনিস মনে মনে প্রার্থনা করছে এই ভরা মজলিশে সবার সামনে ও যেন আনিস ভাই নামটা মুখে না আনে তাহলে ইজ্জত আর থাকবে না।

তাসনুভা আয়নার স্বচ্ছ কাঁচের ওপর এক পলক দৃষ্টি ফেলল। সেখানে তার নিজের লাজুক প্রতিচ্ছবি আর তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে থাকা শেরওয়ানি পরা আনিসুজ্জামানের অপেক্ষমাণ দুটি চোখ। সে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে অত্যন্ত স্পষ্ট স্বরে উত্তর দিল,

“মাই ম্যান। মাই হাসবেন্ড।”

আনিস হাফ ছেড়ে বাঁচল। তার বুক থেকে মস্ত বড় একটা পাথর নেমে গেল। এবার আনিসের পালা। ঝিমলি আয়নাটা আনিসের দিকে একটু ঘুরিয়ে ধরে টিপ্পনি কাটল, “আনিস সাহেব এবার আপনার পালা। মুখ ফুটে বলুন আয়নায় কাকে দেখতে পাচ্ছেন?”

আনিস মুহূর্তের জন্য কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।
চারপাশে অসংখ্য মানুষের উৎসুক দৃষ্টি আর ফোনের ক্যামেরার লেন্স তার উপর। সে গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে তাসনুভার চোখের দিকে সরাসরি তাকালো। তারপর খুব শান্ত স্বরে বলল,

“মাই ওয়াইফ। মাই বেস্টফ্রেন্ড।”

বলাই বাহুল্য, এই উত্তর শোনা মাত্রই আসরে হাসির বোমা ফাটল। আনিসের বন্ধুদের দল আকাশ থেকে পড়ল। চেঁচিয়ে বলল, “আমরা তাহলে ভাড়াটিয়া! এতদিন আমাদের সাথে বন্ধু বন্ধু ভাব নিয়ে আজ বিয়ের পিঁড়িতে বসেই ঘোষণা দিলি বউ তোর বেস্টফ্রেন্ড?”

আনিস একটু লজ্জা পেলেও বন্ধুদের থামানোর জন্য ধমক দিয়ে বলল, “তোরা একটু বেশি কথা বলিস।”

সবাই আনিসের কথা শুনে অট্টহাসিতে মেতে উঠেছে, তাসনুভা চুপচাপ। আনিসুজ্জামানের এই সহজ স্বীকারোক্তিটা তার মনের গোপন কোনো কোণে ভালোলাগার এক পশলা তপ্ত বৃষ্টি নামিয়ে দিয়েছে। বন্ধু শব্দটা কত ছোট কিন্তু এর ব্যাপ্তি যে এত বিশাল হতে পারে সেটা সে আগে কখনো ভাবেনি।

এরপর তাদের খাবার টেবিলে নিয়ে যাওয়া হলো। তাজদার আনিসকে উদ্দেশ্য করে বলল, “দেখ, তোর জন্য একটা আস্ত ছাগল সাজিয়েছি।” আস্ত রান্না করা ছাগলটার নিচে প্রচুর ডিম সাজানো। তাজদার ডিমগুলো তার পাতে তুলে দিতে দিতে বলল, “এগুলো ছাগলের ডিম।”

সবাই উচ্চস্বরে হাসছে। আনিস বলল, “মশকরা করবি না। এটা কেটে সবাইকে দে। আমার পাতে দিবি না।”

তাজদার নাছোড়বান্দা, “এটা আমাদের বাড়ির জামাইয়ের জন্য স্পেশালভাবে করা। তুই চুপ থাক।”

তারপর সে তাসনীমের স্বামী উসমানকে ডেকে বলল, “দুলাভাই!”

উসমান সাড়া দিল, “জি।”

তাজদার বলল, “দুই জামাই মিলে ছাগলটাকে টেবিলের ওপর জবাই করে দিন তো!”

হাসাহাসির রোলে খাবার টেবিলটা মুখরিত। আনিসের পাশে উসমান, তারপর রায়হান আর শাইনার দুলাভাইরা বসেছে। এপাশে একটা চেয়ার খালি রেখে তাজদার বসেছে। তাসনুভাকে সেখানে নিয়ে আসা হলো। সে আগেই বলে দিয়েছিল খাবে না, কিন্তু ছবি তোলার জন্য বসানো হলো। আনিস অতি সাবধানে নিজের প্লেট থেকে একদম অল্প করে ভাত আর মাংস তুলে দিয়ে তার হাতে চামচ দিল।

তাসনুভার পাশে বসা তাজদার বলল, “আনিস একদম অল্প করে দিয়েছে। খেয়ে নাও, পরে খিদে লাগবে।”

তাসনুভা কাঁটাচামচে গেঁথে ছোট্ট একটা মাংসের টুকরো মুখে দিতে দিতে নিচু স্বরে বলল, “আনিস ভাই আপনার সিগনেচার সুন্দর হয়নি।”

কথাটা শুনেই আনিস খুকখুক করে কেশে উঠল। খাবারের লোকমা গলায় আটকে যাওয়ার যোগাড়!


ফটোশুট, ইনডোর, আউটডোর শুট শেষ করা পর বড়োরা তাড়া দিল সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এবার বধূ বিদায়ের পালা।

এতক্ষণ হৈ-হুল্লোড় চললেও এবার সবাই নিভে এল। তাজদার আর রায়হান একটা চেয়ারে বসে আছে। বড়োমামা এসে বলল,

“দুজন এখানে কেন? আসেন। বোনকে তুলে দেন।”

“বড়োরা তো আছে।”

“ভাইদেরও দরকার।”

তাজদার রায়হানকে যেতে বললো। রায়হান যেতে যেতে বলল,”আয়।”

শাইনা বাবুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে আদর করতে করতে দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখে যাচ্ছে। তাজদারকে দেখে এগিয়ে গেল। তাজদার তার দিকে একটা চেয়ার ঠেলে দিল।

“ও কিছু খেয়েছে?”

“হুম।”

সে মেয়েকে কোলে গালে অজস্র চুম্বন করে শাইনার কোলে দিয়ে দিতে দিতে বলল,

“আমার মেয়েকে আমি বিয়ে-টিয়ে দেব না।”

বলেই সে চলে যাচ্ছিল। শাইনা বলল,

“বর তাজদার সিদ্দিকীর মতো হলেও না?”

তাজদার থেমে গেল। উত্তরটা ঝুলে রইলো। নিজের কাছেও নেই সেই উত্তর। জীবনসঙ্গী হিসেবে সে কেমন?

শাইনা মেয়েকে দোল দিতে দিতে বলল,

“ময়নার বিয়ে হবে। সবচেয়ে ভালো বরটা আমার ময়নার। না মা?”

মেয়ে তাকে অস্ফুটস্বরে জবাব দিতে লাগলো। তার মায়ের মন সেই কথাগুলো বুঝে নিতে লাগলো।

শারমিলা বলল,”বাপরে বাপ মেয়েটাকে একটু কোল থেকে রাখ। এদিকে দে। আমার কোলে দে। সবার সাথে একটু মিশতে দিস। সারাক্ষণ কোলে রেখে দিস। এজন্যই তো বেশিক্ষণ মাকে ছাড়া থাকতে পারেনা।”

শাহিদা বেগম বললেন,”সেটাই তো দেখছি। সারাক্ষণ কোলে নিতে ঘুরে। ঘুমালেও ঘোরে। ঘুমের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ঘুরতে নেই।”

শাইনা হেসেহেসে বলল,

“ও বড়ো হয়ে গেলে তখন কোলে উঠতেই চাইবেনা।”

সে মেয়ের মাথায় চুম্বন করতে করতে বলল,”চলুন আমরা বউয়ের সাথে বাড়ি ফিরবো। আগে আগে গাড়িতে চলে যাই।”

তাজউদ্দীন সিদ্দিকী, রওশনআরা, তাসনীম, আর খালামণি ফুপুদের চোখে জল দেখে তাসনুভা নিজের চোখের পানি সংযত করতে করতে বলল,

“আমার কষ্ট হচ্ছে। প্লিজ স্টপ। এইসব কী হচ্ছে? আব্বু কাঁদবে না। তিতলি স্টপ!”

সে কেঁদে ফেললো মাকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। আম্মু শেষপর্যন্ত এল না।

চোখের পানি গড়িয়ে পড়ার আগেই সে আনিসকে বলল,”আনিস ভাই আমাকে গাড়িতে নিয়ে যান।”

টিস্যু দিয়ে চোখের কোণা হালকা চেপে নিতে নিতে চোখের পলক ফেলতে লাগলো সে। আশরাফ আনিসকে বলল,”ওকে নিয়ে গাড়িতে ওঠ।”

আনিসের মামারাও তাড়া দিল। শারমিলা, সাবরিনা এসে তাসনুভাকে নিয়ে গেল। তাজউদ্দীন সিদ্দিকী বারবার চোখ মুছছেন। তৌসিফ তাজদার রায়হান এককোণায় দাঁড়িয়ে আছে। মামা, ফুপারা তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে, বোন সুখে থাকবে। পাড়ার ছেলেপেলেরা চিৎকার করছে,”আনিস ভাই জিতছে। নুভা আপু জিতছে।”

শাহিদা বেগম চোখ মুছছিলেন। শাওন হো হো করে হেসে উঠলো। হাততালি দিয়ে বলল,

“আম্মা কাঁদছো কেন? ওই দেখো বউ কাঁদছে না। কাঁদছে শ্বাশুড়ি। হা হা।”

“দূর হ গোলাম।”

তিনি রেগেমেগে হনহনিয়ে গাড়ির দিকে ছুটলেন। শাওন শাইনাকে বলল,

“মণি দেখ আম্মা কাঁদছে।” সে উচ্চস্বরে হাসছে। শাইনা মায়ের দিকে কপাল কুঁচকে চেয়ে আছে। সর্বনাশ!

তিতলি কাঁদছিল তাই তাসনুভা জানালা দিয়ে হাত বের করে তাকে ডাকলো। তিতলি ছুটে এল। তাসনুভা পার্সটা তাকে দিল।

“এখানে অনেক চকলেট আছে।”

তিতলি পার্সটা নিয়ে দৌড় মেরে ক্লাবের ভেতরে চলে গেল। এককোণায় বসে চকলেট খেতে খেতে তাসনুভার গ্যালারি ঘাটতে ঘাটতে তার ছবিগুলো দেখতে লাগলো।


বরের গাড়ি উঠোনে এসে থেমেছে। পরপর অনেক গাড়ি এসে থামলো। তাসনুভা গাড়ি থেকে নেমে উঠোনে দাঁড়ালো। কেউ বলছে চেয়ার দাও। কেউ বলছে এখানে বসার দরকার নেই।

শাহিদা বেগম বোরকা পাল্টে শাড়ির আঁচল মাথায় টেনে এনে বউ বরণ করার ছুটে এলেন জা, ননদ, বোন আর ভাইয়ের বৌদের নিয়ে।

তাসনুভা মিষ্টি মুখ করা শেষে হুট করে বলল,”আমি এক্ষুণি আসছি।”

“কোথায় যাচ্ছ?”

“আমার কাজ আছে। এক্ষুণি আসছি।”

সে তাদের বাড়িতে চলে গেল। তিতলি তার পার্সটা দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনবোধ করলো না? আশ্চর্য!
সে গিয়ে ঢুকতেই হতভম্ব হয়ে গেল! সোফায় বাবা, তিতলি, দাদু সবাই কাঁদছে। সবাই তাকে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো! হাসার চেষ্টা করলো। এককথায়, সবাই লজ্জায় পড়ে গেছে।

সে তিতলির কোল থেকে পার্সটা নিয়ে বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বেরিয়ে আসতেই তৌসিফ বলল,”আমাকে বললেই তো হতো।”

“আমি না গেলে দেখতেই পেতাম না ওখানে সবাই এখনো কাঁদছে। আম্মুও।”


শাহিদা বেগম বউকে ঘরে তুললেন। শাইনা বাবুকে তৌসিফের কোলে দিয়ে এসে ঘরের কাজে লেগে পড়লো। দাদিমা ডাকলেন,”শানু এদিকে আয় তো একটু।”

শাইনা শাড়ি পাল্টে সালোয়ার পরে এল।

“বলো।”

“ভাবিকে মিষ্টিমুখ করা। ননদ ভাবির সম্পর্ক মিষ্টির মতো হোক।”

শাইনা অল্প করে করে মিষ্টি কেটে তাসনুভার দিকে বাড়িয়ে দিল।

তাসনুভাকে দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সাড়ে দশটার দিকে। আনিসের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াতেই ভেতরে থাকা মেয়েগুলো দরজা খুলে দিল। সম্ভবত সবাই শাইনার মামাতো খালাতো বোন। তারা ঘর সাজানোর কাজ পেয়েছে।

“আসসালামু আলাইকুম ভাবি।”

“ওয়ালাইকুমুস সালাম। কি করছো তোমরা?”

“আপনার ঘর সাজাচ্ছি।”

সে ভেতরে পা রাখলো।

“তোমরা আগেও এরকম সাজিয়েছ?”

“না।”

“প্রথমবার তো দারুণ।”

“থ্যাংকস ভাবি! আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। আমরা বাইরে দরজা বন্ধ করে দিচ্ছি। আনিস ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা হাতাবো।”

“কতো?”

“দেখিনা কতো পারি।”

শাইনা এসে বলল,”দরজা খোল তো।”

সে একটা ব্যাগ নিয়ে এসেছে। তাসনুভার সাজগোজের জিনিসগুলো তার রুমে রাখা ছিল। সে ব্যাগটা নিয়ে রুমে ঢুকলো। এককোণায় রাখতে রাখতে বলল,”এখানে রাখলাম।”

বলেই সে বেরিয়ে গেল। তাসনুভা ঘরজুড়ে খালি পায়ে হাঁটছে। দেখছে সব। আনিসুজ্জামানের ঘর ঠিক আনিসুজ্জামানের মতো।


আনিস ঘর সাজানোর টাকা হিসেবে তিন হাজার ছাড়লো। তারপর সবাই দরজা ছাড়লো। দাদিমা ভেতরে বসে আছেন। তাসনুভা বিছানার উপর হাঁটু কুড়িয়ে বসে তার উপর থুঁতনি ঠেকিয়ে বসে দাদিমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে যাচ্ছে।

দাদিমা হাসছে। সেও হাসছে।

“আসসালামু আলাইকুম।”

আনিস সালাম নিল,”ওয়া আলাইকুমুস সালাম।”

দাদিমা বলল,”হাতে ওটা কি?”

আনিস টেবিলের উপর রাখলো।

“প্যাকেট!”

“বউয়ের জন্য বিরিয়ানি আনছে। রসকষ তো আছে দেখতেছি।”

আনিস কিছু বললো না। ফোনে শাওনকে বলল,

“তোদের নাচানাচি কবে থামছে? এত আওয়াজ করে গান বাজাচ্ছিস কেন?”

“বিরহের গান দিচ্ছি। রিল্যাক্স!”

“কান বরাবর মারবো চর। গান থামা। বড়োরা সবাই বিয়ের জার্নি শেষ করে ঘুমাবে। বাবুদের ঘুম ভেঙে যাবে। তোদের লাফালাফি অন্য কোথাও গিয়ে কর।”

“চুপ শালা। বেশি কথা বলিস। বিয়ে করে সরেস হয়ে গেছে।”

“শাওন?”

শাওন ফোন কেটে দিয়ে তার পছন্দের গান দিয়েছে যাতে বিরক্ত না করে। গান বাজছে, বাহির বলে দূরে থাকুক। ভেতর বলে আসুক না।

দাদিমা চলে গেছে তাসনুভার কানের কাছে ফিসফিস করে। তাসনুভার হাতে এখনো চুড়ি বাজছে। আনিস তার দিকে ফিরলো। বিরিয়ানির প্যাকেটটা তার কাছে রেখে বলল,

“এটা খাও। তুমি অল্প করে ভাত খেয়েছ।”

তাসনুভা প্যাকেটটা খুললো। চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে খেতে লাগলো। বিফ বিরিয়ানি। খুব মজার।

আনিস শেরওয়ানি পাল্টে শার্ট পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে শাওনকে ফোন করে আবারও গর্জালো।

“শাওন এইসব বন্ধ করবি?”

“আরেহ আমরা এখানে ক্রিকেট খেলছি। তোর সমস্যা কী?”

আনিস তাজদারকে ফোন করলো। বারান্দায় বেরিয়ে তাজদারকে বলল,

“তাজ এদেরকে থামাতো। শারমি, আর শাবরিনের শ্বাশুড়িরা আছে বাড়িতে। তোদের বাড়িতেও মুরব্বি আছে। দেখছিস কত আওয়াজে গান বাজাচ্ছে? এদের ধরে চ্যাংদোলা দে।”

তাজদার বলল,”আমিও ক্রিকেট খেলছি।”

বলেই সে ব্যাট উঁচু করে আনিসকে দেখালো। আনিস হতাশ কণ্ঠে বলল,

“বাচ্চার বাপও বাচ্চা হয়ে গেছে।”

“কিন্তু আমি গান বাজানোর পক্ষে নেই। ওরা বাজাচ্ছে নইলে নাকি খেলা জমছেনা।”

আনিস ফোন কেটে দিল। গানের আওয়াজ একটু কমেছে।

তাসনুভা বিরিয়ানি অর্ধেক তার জন্য রেখে দিয়েছে। আনিস তা দেখে বলল,

“আমি খাব না। তোমার জন্য এনেছি।”

তাসনুভা চুড়ি খুলতে পারছে না। চারটা খুলে হাত প্রায় ব্যাথা হয়ে গেল। ছিঁড়েও গেছে। আনিস তা দেখে বলল,

“চুড়ির সাইজ ছোটো হয়েছে বলোনি কেন?”

“আমি বেশি বড়ো চুড়ি পরিনা।”

আনিস উপয়ান্তর না দেখে একটা বোল করে পানি নিয়ে এল। তাসনুভার সামনে বসে বাম হাতে সাবান মেখে দিয়ে ধীরেধীরে চুড়ি খুলতে লাগলো। বেশ সময় লাগছে যদিও। তাসনুভা সেই ফাঁকে ডান হাত দিয়ে চামচে করে তার দিকে বিরিয়ানি বাড়িয়ে দিল।

“মজার খাবার না খেলে নষ্ট হয়ে যাবে। খেয়ে নিন।”

আনিস কিছুটা অপ্রস্তুত। বলল,”পরে।”

তাসনুভা চামচটা তার মুখের সামনে রাখতেই খেতে বাধ্য হলো। আনিস তারপর ডান হাতের চুড়িগুলো খুলে দিতে লাগলো। ছেঁড়া জায়গায় সাবান লাগতেই জ্বালাপোড়া করছে খুব।

আনিস তার হাত পানিতে ভিজিয়ে, ফেনিয়ে আলতোভাবে চুড়ি খুলতে খুলতে বলল,

“জ্বলছে?”

“হালকা।”

“বড়োআম্মুকে ক্লাবে দেখলাম এককোণায় বসে ছিল। বাড়িতে নিশ্চয়ই বড়োসড়ো ঝামেলা হয়েছে।”

তাসনুভা চুপ করে রইলো। আনিস বলল,

“তাজ শাইনাকে বাসায় রেখে যাবে বলছে। তারমানে আমি যা ভাবছি তাই?”

সে তাসনুভার দিকে চোখ তুললো। তাসনুভা এতক্ষণ পর চোখ নিচে নামিয়ে নিল।

“বাড়িতে ঝামেলা হলে বাসায় চলে যাওয়াটা ভালো অবশ্যই। আচ্ছা বেশ, আমি এইসব বিষয় নিয়ে কথা তুলবো না। কিন্তু আমি তোমাকে কিছু কথা বলে রাখতে চাই। যেগুলো খুব জরুরি।
এখানে তোমার কোনো অসুবিধা হলে তুমি আমাকে এসে বলবে। অন্য কাউকে না। কোনোকিছু মনমতো না হলে তৎক্ষনাৎ রিয়েক্ট করবে না। যদি তোমার গন্তব্য হয় শান্তি। তাহলে ওই শান্তি অব্ধি পৌঁছানোর জন্য তুমি মাঝখানের সব অহেতুক, অযাচিত সব তর্ক-বিতর্ক, কথাবার্তা এড়িয়ে চলবে। যেখানে কথা না বললে তোমার কোনো ক্ষতি হবেনা সেখানে কথা না বলার চেষ্টা করবে। সবাই একসাথে কথা বললে শুনবে কে? এই কথাটা মাথায় রাখলে দেখবে নিজেকে নিয়েও নিজের কোনো অভিযোগ থাকবে না। শুধু এটুকুই বলার ছিল। বাকিসব তুমি বুঝে নেবে। এমনকি আমাকেও।”

সে আবারও চোখ তুললো। তাসনুভা এবার চোখ সরিয়ে নিল না।

“আমার কথাগুলো কি বেশি কঠিন হয়ে গেল?”

তাসনুভা দুপাশে মাথা নাড়লো।

“ইন্টারেস্টিং!”

আনিস মুচকি হাসতে গিয়েও হাসলো না।


চুড়ি খোলার পর তাসনুভা একটু স্বস্তি পেল। নোলক সে আগেই খুলে রেখেছে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে বসলো।

“দোপাট্টার পিনগুলো সাবধানে খুলবেন।”

আনিস তার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। ধীরে ধীরে দোপাট্টাটা খুলে নিল। তারপর মাথার টিকলি, গয়না, আর চুলের খোঁপা। তাকে এবার অন্যরকম লাগছে। সে দ্রুত আয়নার সামনে থেকে সরে গেল। মেকআপ রিমুভার আর ক্লিনজার নিয়ে মুখ ধুতে চলে গেল।

আনিস তার জন্য একটা গাঢ় খয়েরী রঙের সিল্কি সফট ফেব্রিক্সের শাড়ি বের করে রাখলো। তাসনুভা মুখ ধুয়ে বের হয়ে এল প্রায় বিশ মিনিট পর। শাড়িটা খুলে নতুন শাড়িটা পরে নিতে লাগলো।

সে সমস্ত জড়তা আর সংকোচকে বিসর্জন দিয়েছে। কারণ সে জানে, আনিসুজ্জামান আড়ালে দাঁড়িয়ে তৃষ্ণার্ত চোখে চেয়ে থাকার মানুষ নয়।

হৃদয়ে প্রেমের আভাস পাওয়ামাত্রই সেই অনুভূতিকে তুচ্ছ না করে তিনি বড় করে দেখেছেন। গভীর প্রেমে হাবুডুবু না খেলেও নিজের ভেতরে জেগে ওঠা সেই ক্ষণিকের ভালো লাগাটুকুকেই সে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়েছেন। একে ঠিক প্রথাগত প্রেম বলা যায় না বরং নিজের হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতিটুকুর প্রতি একনিষ্ঠ সম্মান প্রদর্শন বলা যেতে পারে।

ছেলেপেলেরা গান বাজাচ্ছে,

“ভালোবাসবো, বাসবো রে, বন্ধু, তোমায় যতনে
আমার মনের ঘরে চান্দের আলো চুইয়া চুইয়া পড়ে।”

তাসনুভা সুন্দর করে গুছিয়ে শাড়ি পরতে জানে। তবে আজ কেন যেন গুছিয়ে পরা হলো না।

“আনিস ভাই শুনুন!”

“বলো।”

“এদিকে আসুন।”

আনিস তার শাড়ি দোপাট্টাগুলো গুছিয়ে রেখে পেছনে এসে দাঁড়ালো।

“বলো।”

তাসনুভা সামনে ফিরলো। শাড়ির আঁচল কাঁধে তুলে হাত দিয়ে আঁচল নেড়ে বলল,

“ঠিকঠাক আছে?”

“হুম।”

“দাঁড়ান।”

সে টুপ করে আলো নিভিয়ে দিয়ে আচমকা আনিসের গলা জড়িয়ে ধরলো। আনিস একটু ভ্যাবাচ্যাকা গেছে খানিকটা পিছিয়ে গেল। অজান্তেই একটা হাত তাসনুভাকে জড়িয়ে ধরলো। তাসনুভা একদম শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। আনিস নড়তে পর্যন্ত পারছেনা। সে বিড়বিড় করে বলতে চাইল, “আমি একটু

তার আগেই তাসনুভা বলল,”চুলের কাঠিটা খুলে দিন।”

আনিস অন্ধকারের হাতড়ে চুলের কাঠিটা আলগা করে দিল। বাদামি চুলগুলো ঝাঁপিয়ে পড়লো পিঠের উপর।

পরক্ষণেই তাসনুভা তার দুই পায়ের ওপর নিজের নরম, শীতল পা দুটো তুলে দিল।

“এবার হাঁটুন।”

আনিস অবাক হয়ে বলল,”এভাবে হাঁটা যায়?”

“হুম বহুদূর।”

আনিস ধীরলয়ে এক পা এক পা করে এগোতে লাগল। বিয়ের সময়কার তুলে রাখা সেই চুম্বনখানা তাসনুভা সুদে আসলে আদায় করে নিয়েছে ফুলের বিছানায় ধসে পড়ার পর।

চলমান…🙈

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply