তাজমহল #দ্বিতীয়_খন্ড
পর্ব_৩৩
প্রিমাফারনাজচৌধুরী
তাজদার বাড়ি যাবে এরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু মামারা তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়েছেন।রওশনআরাকে সামনে বসিয়ে বুঝিয়ে বলেছে, “ছেলে তোমার। শাসন বারণ রাগারাগি সব তার সাথে। তার বউয়ের সাথে না। মা ছেলের এই সমস্যা নতুন না। এইসবের মধ্যে পরের মেয়েকে জড়ানোর প্রয়োজন নেই।”
রওশনআরা চোখ ছলছল করছিল তখন। তাজদারকেও বলেছেন,”তুমি বউকে বাড়িতে রাখবে না সিদ্ধান্ত নিয়েছ ভালো কথা। কিন্তু তুমি বাড়ি ছাড়তে পারবে না। ছেলেরা কখনো মা বাবা আর নিজের বাড়িঘর ছাড়তে পারেনা যত যাইহোক। তুমি তোমার বউ বাচ্চাকে যেখানে ইচ্ছে রাখো। কারো কোনো আপত্তি নেই।”
রওশনআরাকে আরও বলেছেন,”আমি ওই বাড়ির মুরব্বিদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে সবার সম্মতিতে সব হবে। মানে তোমার সম্মতিও দরকার। তুমি মা। মেয়ের সবকিছুতে তোমার উপস্থিতি জরুরি। আর যদি সময় লাগে তাহলে সময় নাও। ভাবো। বাকি কথা তুমি আর রায়হানের আব্বা বলবে ওদের সাথে। আমি মামা হয়ে এতকিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না।”
ভাইয়ের কথায় নীরবে সম্মতি জানালেও রওশনআরা এইসব কিছুতে তেমন সক্রিয় নন। তাজদার লোকজন দাওয়াতে ব্যস্ত রায়হানের সাথে। গোরু মহিষ এনে উঠোনে রাখা হয়েছে। তৌসিফ আর শাওন তাদের নিয়ে টিকটক করছে। তিতলি কিছুক্ষণ পরপর তাদের চা খাওয়াচ্ছে। কারণ অনলাইনে একটা ড্রেস পছন্দ হয়েছে। খুব সিম্পল। দুই সপ্তাহ হয়নি সে ড্রেস কিনেছে। বিয়ের জন্যও কেনা হবে। কিন্তু এই ড্রেসটা তাকে কিনতেই হবে। আর সেটা কিনে দেবে তৌসিফউদ্দীন সিদ্দিকী। তার পকেট মারার জন্যই মূলত এত মেহনত।
“শাওন ভাই আপনাকে চা খাওয়ালাম। আপনি আমাকে কিছু দেবেন না?”
“কি চাও তুমি?”
“আপনি আমার জন্য রজনীগন্ধার মালা নিয়ে আসিয়েন গায়ে হলুদের দিন। বেশি টাকা হলে ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়েন। ভাইয়ে শাওন ভাইকে টাকা দিয়ে দিয়ো তো।”
বলেই ব্যস্ত পায়ে চায়ের কাপ নিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছিল। তৌসিফ বলল,
“নুভা ফুল নিয়ে আসবে। তোর আবার আলাদা করে ফুল অর্ডার দেয়ার কি দরকার?”
তিতলি ঘুরে দাঁড়ালো। যুক্তি দিয়ে বোঝালো সে দৌড়াদৌড়ি ছোটাছুটি আর কাজকাম করতে গিয়ে ফুলগুলো চুল থেকে ছিঁড়ে পড়ে যাবে। তখন আপুর কাছে খুঁজলেও দেবে না। তখন সে কার কাছে ফুল চাইবে? এত সহজ একটা কথা তৌসিফউদ্দীন বুঝলো না? সে হতাশ! পুরাই হতাশ!
শাওন আশ্বাস দিয়ে বলল,”আচ্ছা তোমার জন্য পুরো ফুলের দোকান নিয়ে আসবো তালতো বোন।”
তৌসিফ বলল,”অ্যাহ দোকানদার তো তোর দুলাভাই।”
“আমি তাহলে শপিংয়ে যাচ্ছি না।”
তাসনুভার কথাটা শুনে রওশনআরা বলল,”না না যাও শপিংয়ে। সেখানে আরেকটা ঝামেলা লাগিয়ে এসো। তুমি ওই বাড়ির মানুষকে কতক্ষণ তেল মেরে থাকতে পারো আমি দেখবো। কতক্ষণ সহ্য করতে পারো আমি দেখবো।”
তাসনুভা বিস্ফোরিত চাহনিতে চেয়ে আছে মায়ের দিকে। ঝিমলি মনে মনে বলল, আম্মু এবার বাড়াবাড়ি করছে। মেয়েটার মন ভাঙার কি দরকার এভাবে? তিনি আরও শিখিয়ে পড়িয়ে দেবেন তা না।
“ননদিনী আপনি চলুন আমার সাথে।”
নুভা নড়লো না একচুল পরিমাণও। চোখমুখ লাল হয়ে এসেছে। ঝিমলি তাকে দেখে ভয় পাচ্ছে। তাসনুভা দাঁত চিবিয়ে বলল,
“তোমার মতো শ্বাশুড়ি হলে অফকোর্স আমার জীবনটা জাহান্নাম হবে। আর আমিও সেই শ্বাশুড়ির জীবন জাহান্নাম বানিয়ে ছাড়বো।”
রওশনআরা ক্ষুদ্ধ হয়ে বললেন,”তা পারবে জানি। ওই বাড়িতে সংসার করতে পারলে তো ভালোই। না পারলে আমারও কোনো দায় নেই। যেখানে সেখানে মানিয়ে চলার মতো মেয়ে তো আমি তোমাকে বানাইনি। এখন যেখানে সেখানে মুখ দেয়ার স্বভাব হলো কোত্থেকে সেটাই আমি বুঝতে পারছিনা। একঝাঁক ননদ দেবর ভাসুর নিয়ে তুমি ওই বাড়িতে সংসার করবে? আমার চুলে পাক এমনি এমনি ধরেনি নুভা।”
“আম্মু!”
তাসনুভার চোখের কোণা জ্বলজ্বল করছে।
ঝিমলি তার হাত ধরে বলল,”প্লীজ! চলুন এখান থেকে। নুভা? আমি কিন্তু তোমার বড়ো ভাইয়াকে ফোন করছি। এইসব কি হচ্ছে? আম্মু এইসময় এসে এভাবে না বললেও চলতো। সে তো চলে যাচ্ছে। মায়েরা এভাবে বললে ছেলেমেয়েদের কেমন লাগে।”
“ওদের চামড়া গন্ডারের। কিচ্ছু লাগেনা ওদের।”
তাসনুভাকে টেনে নিয়ে এল ঝিমলি। ঘরে নিয়ে এসে দরজা বন্ধ করে দিতেই তাসনুভা চোখ মুছতে মুছতে বলল,
“এইসব থামাতে বলো প্লিজ। আমি এই বিয়ে করবো না। আমি করবো না। কিছুতেই করবো না। আমি দূরে কোথাও চলে যাব। আমার নিজেকে নিয়ে ভয় হচ্ছে।”
ঝিমলি তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,”রিল্যাক্স! শান্ত হও। তুমি আম্মু দেখিয়ে দেবে তুমি পারবে। সংসার মানেই নিজেকে বিলিয়ে দেয়া নয়। মানিয়ে নেয়া মানে নিজেকে সস্তা করে ফেলা নয়। নুভা সংসার করবে তার মতো করে। সে শিক্ষিত, বুদ্ধিমতী। সে সব ম্যানেজ করতে জানে। চেষ্টা করলে সে সব পারবে। শান্ত হও। আম্মু অভিমান থেকে বলছে এইসব। আমার দিকে তাকাও।”
“নো নো।”
“নুভা এমনটা করলে কিন্তু তোমার ভাইয়ারা মাথা গরম করে হুটহাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে। আর এইসব ওই বাড়িতে গেলে আনিস ভাই বেঁকে বসবেন। তুমি তো চেনো উনাকে। এত ঝামেলা হচ্ছে জানার পরও উনি কিন্তু এই বিয়েটা করবেন না। স্রেফ বলে দেবেন এইসবের কোনো দরকার নেই। শান্তি সবকিছুর উর্ধ্বে। তখন আর কিছু করার থাকবে না। রিল্যাক্স! উনি জানেন আম্মু বিয়েতে মত দিয়েছেন। এখানে সব ঠিকঠাক আছে। তোমার বড়ো ভাইয়া এইভাবে বলেছে। এখন তুমি এইসব বললে তারা মাথা গরম করবে। শান্ত হও। আচ্ছা আনিস ভাইকে একটা ফোন করি? জেনে নিই উনি কোথায় আছেন? শপিংয়ে কখন বেরোচ্ছি।”
আনিস একদিনের জন্য ছুটি নিয়েছিল। বিয়ের বাজার করার জন্য রাত যুৎসই নয়। তাসনুভা বলেছে সে রাতে শপিং করতে যাবে না। রাতে তাকে শোরুমে সময় দিতে হবে।
তৌসিফ আর শাওন উঠোনে মহিষ নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তাসনুভা তখুনি বের হলো। ঝিমলি বেরোলো পেছন পেছন। তারা দুজনেই যাচ্ছে শপিংয়ে। ওই বাড়ি থেকে সাবরিনা আর আনিস। শাবরিন আর শাপলাকে যেতে বলা হয়েছে তাদের ছোটো বাচ্চা আছে। তাই তারা যাবে না। যদিও আসল কারণ ছিল, তাদের যেতে বারণ করেছে তাদের বর। শাইনার বিয়ের শপিংয়ের ঘটনা এখনো মনে আছে তাদের।
রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে তাসনুভার বিরক্ত লাগছে। সে চুলের উপর থেকে চশমাটা নামিয়ে চোখে দিল। ঝিমলি ফোন করলো,
“আনিস ভাই কোথায় আপনারা?”
সাবরিনা তখন বেরিয়ে এসেছে। আনিস বলল,”জি, আর দুই মিনিট ভাবি।”
“উনি কিন্তু অধৈর্য হয়ে যাচ্ছেন।”
“আসছি।”
আনিস কিছুক্ষণ পরেই বেরিয়ে এল। তাসনুভা ততক্ষণে গাড়িতে উঠে বসেছে। চোখমুখ গম্ভীর দেখে কেউ খোঁচালো না। আনিস ড্রাইভারের সাথে গল্পগুজব করছে। কোথায় নাকি একটা ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। পেঁয়াজ আর আলুর দাম কত বেড়েছে, কম কমেছে এইসব নিয়ে সে কথা বলে চলেছে। ঝিমলি সাবরিনার দিকে তাকালো। দুজনেই ঠোঁট টিপে হাসলো।
শো-রুমের কর্মীরা প্রবেশপথ আটকে দাঁড়ালো। ফুলের তোড়া, মিষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। ছোটোখাটো একটা গেইট সাজিয়ে ফেলেছে। তাসনুভা গাড়ি থেকে নামামাত্রই অবাক হয়ে গেল। সাবরিনা, ঝিমলি এমনকি আনিসও। তাসনুভা যেতে যেতে বলল,
“হোয়াট ইজ দিজ? তোমরা এইসব কখন করেছ?”
এমপ্লয়িরা সবাই ফোকলা হাসলো। ভয়ে ভয়ে বলল,
“আপু সকাল থেকেই। ভাইয়া প্রথম শো-রুমে আসবে তাই ছোটোখাটো আয়োজন। আপনাকে বলিনি সারপ্রাইজ দেব বলে।”
তাসনুভা সব দেখার পর বলল,
“ইন্টারেস্টিং! বু্দ্ধিটা ভালোই।”
সে পেছনে ফিরে তাকালো। আনিসকে বলল,
“আপনি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকুন। আমরা ভেতরে যাই।”
ঝিমলি ভেতরে গেল। সাবরিনাকে আনিস যেতে দেয়নি। তারা ফুল ছিটিয়ে দুজনের মাথা ভরিয়ে দিয়েছে। আনিস মানিব্যাগ বের করছিল ঠিক তখুনি পেছন থেকে তাসনুভা বলল,
“টাকা দেবেন না। কাচ্চি অর্ডার করে দিন। সবাই মিলে খাব। গেইট বিয়ের দিন। সবাই যাও।”
আনিস বলল,”কাচ্চিও না হয় খাওয়াবো।”
“দরকার নেই। বিয়ের দিন কেউ ছাড় দেবেনা।”
ঝিমলি বলল,”আমার ননদিনী কিন্তু বরের টাকা সেভ করতে ওস্তাদ।”
তাসনুভা বলল,”আসুন।”
শো-রুমটার কথা সবাই মুখে মুখে শুনেছে। কেউ আসেনি। ঝিমলি এসেছে অবশ্য। শাইনাও এসেছিল তাজদারের সাথে। কিন্তু আনিস, সাবরিনা কেউ এর আগে আসেনি। আনিস অবশ্য এই পথেই অফিস থেকে ফেরে। তাই বাইরে থেকে দেখেছে। আজ প্রথম ভেতরে পা রাখা। সে বলেছে অন্য কোনো শপিংমল থেকে শপিংটা করতে। বিষয়টা খুব ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছে। কিন্তু সেটা তাসনুভা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছে।
সে নিজেই একটা ব্র্যান্ড! আবার কীসের ব্র্যান্ড?
আনিস তখন বলেছিল,”আমি বলেছি যাতে বেস্ট শাড়িটা তুমি পাও তাই।”
“আমার দোকানে বেস্ট শাড়ি নেই বলছেন?”
আনিস আর মেসেজ দেয়নি। এখানে এসে এখন সে বুঝতে পারছে এর বাইরে বেস্ট শাড়ি আর হয়না। বেশ ভালো লাগছে তার। কর্মীরা চা নাশতা সাজিয়ে ফেলেছে। এত নাশতার বহর দেখে আনিস বলল,”এতকিছুর দরকার ছিল না। আমরা খেয়েদেয়ে এসেছি। ওদের বলে দেয়া উচিত ছিল।”
শেষ কথাটা তাসনুভার উদ্দেশ্যে বললো। তাসনুভা আঙুল দিয়ে শাড়ি দেখিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ওরা আমার জন্য নিয়ে আসেনি এইসব। যার জন্য এনেছে তার খাওয়া দরকার।”
ঝিমলি আর সাবরিনা নিজেদের জন্য শাড়ি দেখছে। তাদের খুব ভালো লাগছে এখানে। কর্মীরা সবাই হাসিঠাট্টা করছে। যাদের ইঙ্গিত ইশারা করে হাসিঠাট্টা করছে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলায় ব্যস্ত। ঝিমলি একসময় কেশে উঠলো,
“আমাদের আসার দরকার ছিল না।”
আনিস ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। তারপর তাসনুভার দিকে তাকালো। তাসনুভা তৎক্ষনাৎ পাশ থেকে সরে গেল। আর আশেপাশে এল না।
সাবরিনা বলল,”ভাইয়া আপনি দেখেন ওইখানে সব বিয়ের শাড়ি।”
আনিস তেমন দেখলো না। সে জানে নুভা নিজেই শাড়ি পছন্দ করবে। সে এককোণায় গিয়ে ছেলে কর্মীদের সাথে রাজনৈতিক আলাপে মগ্ন হয়ে গেল। তাসনুভা ফুলছে তা দেখে। সাবরিনাকে বলল,”আপনার দেবরকে চলে যেতে বলুন। তার এখানে আসার কি দরকার ছিল?”
সাবরিনা হাসতে হাসতে আনিসকে ডাকতে চলে গেল।
“ভাইয়া শাড়ি দেখতে আসেন।”
“হ্যাঁ যাচ্ছি।”
সে সাবরিনার পিছু যেতে যেতে বলল,”আমি শাড়ি চিনবো কিভাবে?”
“পছন্দ না করলে বসে থাকবেন।”
ঝিমলি তখন তাসনুভার মাথার উপর একটা শাড়ির আঁচল তুলে দিয়েছে। সাবরিনার পেছনে আনিস এসে থামলো। আয়নায় তাদের সবাইকে দেখা যাচ্ছে। ঝিমলি আনিসের উদ্দেশ্যে বলল,
“আনিস ভাই এটা কেমন? আমার ননদিনীকে কেমন লাগছে বলুন।”
আনিস বলল,”লাল শাড়ি? হ্যাঁ লাল শাড়ি সুন্দর। খারাপ না। কিন্তু ও মনে হয় লাল পরবে না। আচ্ছা, আপনাদের জন্যও দেখুন।”
তাসনুভা মাথার উপর থেকে আঁচল ফেলে হনহনিয়ে চলে গেল ওয়াশরুমের দিকে। বাড়তি কথা বলে সবসময়! সুন্দর লাগছে এটুকু বললে কি হতো?
বিয়ের শাড়ি তিন চারটা পছন্দ হয়েছে। বিয়ের দিন যেকোনো একটা পরবে। একটা বেবি পিংক, একটা অফ হোয়াইট, একটা লাল টুকটুকে সিল্কের। বিয়ের শাড়ি কোনটা হবে সেটা বিয়ের দিন তার মুডই বলে দেবে। তাই বিয়ের শাড়ি ছাড়া বাকিসব প্যাকিং হয়ে গেল। ওয়ালিমার লেহেঙ্গা। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পরার গাউন। বাকিদের কাপড়চোপড়ও। কাচ্চি এনে সবাই একসাথে বসে খেয়েছে। বেশ আনন্দদায়ক মুহূর্ত কাটলো শোরুমে। রাত নেমে এসেছে ততক্ষণে। ঝিমলি তাসনুভাকে বলল,
“আপনি তো এখন ফিরবেন না। তাহলে আমি আর ভাবি চলে যাই। আপনি আনিস ভাইয়ের সাথে ফিরবেন।”
তাসনুভা সায় দিল। হিসেব নিকেশ করতে করতে প্রায় রাত সাড়ে এগারোটা বাজিয়েছে সে। আনিস ততক্ষণে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঝিমাচ্ছে। পাঁচ ছয়জন কর্মী ছিল তখন। তারা বলছে, ভাইয়া আমরা আপনার শোয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারি।
আনিস মাথা নাড়লো। তারা বলল,”তাহলে চেয়ারে বসে ঘুমান। কোনো সমস্যা নেই। আপনাকে টায়ার্ড লাগছে।”
আনিস সত্যি সত্যি চেয়ারে বসে চোখ বুঁজে বসে আছে। তাসনুভা এসে তাকে এই অবস্থায় দেখে বুকে হাত ভাঁজ করে তাকিয়ে রইলো। পেছনে কর্মীরা এসে দাঁড়িয়েছে। তারা হাসছে।
“আপু ডাকিয়েন না। নিজ থেকে ঘুম ভাঙুক। আপু ছবি তুলি?”
বলতে দেরী ছবি নিতে দেরী হয়নি। আনিসের চোখ ছুটে গেল। চোখ দুটো লাল হয়ে এসেছে। তাসনুভা বলল,
“আপনার ঘুমানো শেষ হলে আমরা যেতে পারি।”
“হ্যাঁ, চলো।” আনিস উঠে দাঁড়ালো।
যাওয়ার সময় তারা ড্রাইভারকে বলল, রেস্টুরেন্টের কাছেই গাড়িটা থামাতে। বাকি পথটুকু তারা হেঁটেই যাবে একসঙ্গে, নিভৃতভাবে। কিছু কথা আছে যেগুলো সবার সামনে, চার দেয়ালের ভেতর বলা যায় না। গভীর রাতের ব্যস্ত শহরের বুকে, আলো-ছায়ার ভিড়ে হাঁটতে হাঁটতেই সেগুলো বলা দরকার। কারণ নীরবতার মাঝেই অনেক স্বীকারোক্তি জন্ম নেয় যেগুলো উচ্চারণ না করলেও শুনে নেওয়া যায়, বুঝে নেওয়া যায়, খুঁজে নেওয়া যায়।
তাসনুভা ফেসিয়াল, হেয়ার রিবন্ডিং করার পর আর বাড়ি থেকে বের হয়নি। ওইদিনের পর রওশনআরাও আর কোনো শোনায়নি তাকে। সম্ভবত মেয়ের কান্না প্রথমবার দেখার পর তিনি নিজেই কিছু চমকে গেছেন।
তাজদার ব্যস্ত। একটু সময় হলেই ওই বাড়িতে ছুটে যায় বউ বাচ্চার মুখ দেখতে। আবার কাজে লেগে পড়ে।
সে যেহেতু দেশে আছে বিশেষ আত্মীয় স্বজনকে ফোনো দাওয়াত করাটা বেমানান। তাই স্বশরীরে গিয়ে দাওয়াত করে এসেছে। খাওয়াদাওয়া আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেই হচ্ছে। বাড়িতেও খাওয়াদাওয়া নেই। শাহিদা বেগম একবার বললেন,
“জামাইকে বল রাতে এখানে খেতে।”
শাইনা তাজদারকে ফোন করে বলল,”তাজদার সিদ্দিকী আম্মা বলেছে রাতে বাড়িতে খেতে।”
“জামাইয়ের জন্য স্পেশাল রান্না হয়েছে?”
“অফকোর্স।”
“কী?”
“মহিষের ভুঁড়ি।”
শাইনা মজা করে বলেছে। তাজদার সত্যি সত্যি ভেবে নিয়েছিল। মাগরিবের পর সে আচমকা হাজির। সোফায় বসে শাইনার দুলাভাইদের সাথে কথাবার্তা বলছিল মেয়েকে আদর করতে করতে। শাইনা আড়াল থেকে দেখলো। বোনের বিয়ে উপলক্ষে চুল দাড়ি কাটবে তাই আর কাটেনি। ভাল্লুকের মতো লাগছে। ঘরে এসে তাকে বলল,
“চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্টেড। আই লাভ ভুঁড়ি। চলে এসেছি খাওয়ার জন্য। সরিষার তেল দিয়ে ভুনা করবে।”
শাইনা পড়ে গেল মহাবিপাকে। সন্ধ্যা তখন সাতটা। সে শাহিদা বেগমের কাছে ছুটে গেল এক হাজার টাকা নিয়ে।
“আম্মা এখন ভুঁড়ি কোথায় পাব?”
“ভুঁড়ি?”
“হ্যাঁ, আর বলো না। আমি একটা কেলেংকারী ঘটিয়ে ফেলেছি।”
সে সবটা খুলে বললো। সবাই হাসাহাসি করছে। সে রেগে বলল,
“হেসো না তো। আব্বাকে তাড়াতাড়ি বলো একটা নিয়ে আসতে। এই টাকাটা নাও। তাড়াতাড়ি নিয়ে আসতো বলো। অল্প করে রেঁধে ভুনা করে দেব। বাকিগুলো পরে রেঁধো। তাড়াতাড়ি করো।”
শারমিলা বলল,”এটা তো অসম্ভব। পরিষ্কার করো। সেদ্ধ করো। রান্না করো। তারপর সময় নিয়ে লো হিটে ভুনা করো। তুই একটা কাজ কর। আমার ফ্রিজে ভুঁড়ি রাখা আছে। মহিষের। তোর ভাইয়া নিয়ে এসেছিল তোর মাওই খায় বলে। ওটা নিয়ে আসতে বল তোর দুলাভাইকে। সবুজ রঙের পলিথিনে রেখেছি।”
“ওকে।”
রাতের ভাত খেতে খেতে এমনিতেই রাত বারোটা হয়ে যায়। বাবু তার বাবার কোলেই আছে। বাবাকে পেলে তার আর কাউকেই লাগেনা।
জামিল ভাই ভুঁড়ি নিয়ে আসার পর শাইনা কোমর বেঁধে নেমে পড়লো ভুঁড়ি ভুনা করার জন্য।
খাবার টেবিলে একবাটি ভুঁড়ি ভুনা রাখার পর সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। আল্লাহ! সে আর কোনোদিন এই ব্যাটার সাথে মশকরা করবে না। তাকে কতবড়ে বিপদে ফেলে দিল! সে বলার পর নিশ্চয়ই লোভ লেগেছিল। নইলে তো এভাবে হাজির হতো না। যাক! খাওয়ার টেবিলে তাজদারকে খেতে দেখে তার মনে হলো পরিশ্রম স্বার্থক।
বিয়ে উপলক্ষে তাজদারের ফুপু, খালারা সবাই এসেছে। মহিলারা একজোট হলে কথার আর শেষ নেই। নুভা তাদের সালাম দিয়ে কথাবার্তা বলে চলে এসেছে ঘরে। আর বের হয়নি। সে অপেক্ষায় আছে তার খুব প্রিয় মানুষের। তার খুব কাছের মানুষের। অপেক্ষায় প্রহর গুণছে সে।
তাজের বউ বাচ্চাকে দেখতে ফুপুরা ওই বাড়িতে গিয়েছে। শাইনাকে অনেক জ্ঞান দিল মুরব্বি হিসেবে। সব কথা ফেলে দেয়ার মতো না। আবার সব কথা গ্রহণ করার মতো না। শাইনা যথাসাধ্য আপ্যায়ন করলো। যদিও বারবার মনে পড়ছিল তাজদার সিদ্দিকীকে আরেকটা বিয়ে করার কুবুদ্ধি দেওয়ার কথাগুলো। সবার কাছে এগুলো নেহাতই মুখের কথা। বললেই বলে, তাজ তো আর বিয়ে করতে যাচ্ছে না। কিন্তু একটা মেয়ের কাছে এই কথাগুলোর সংবেদনশীলতা কতখানি তা মেয়ে হয়েও অনেক নারী যে বুঝতে পারেন না এই ভেবেই শাইনার বিস্ময় কাটে না।
গায়ে হলুদের আগের দিন বাড়ির সামনে গাড়ি থামলো। সবার আগে তাসনুভা ছুটে এল।
কালো বোরকা পরা ফর্সামতো একটা মেয়ে
গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই সে ঝাঁপিয়ে পড়লো বড়ো বোনের উপর। যদিও মায়ের পেটের বোন নয়। তবুও বোন। ছোটো থেকে তাদের একসাথে বড়ো হওয়া। পরে সেই বড়ো বোনের জায়গা যদিও ঝিমলি নিয়েছে। কিন্তু এটার সাথে ছোটো থেকে বেড়ে ওঠা।
তাসনীমও তাকে জড়িয়ে ধরে রাখলো শক্ত করে। কাতারে থাকে সে স্বামীর সাথে। বিয়ে উপলক্ষে চলে এসেছে। তাসনুভা তার খুব কাছের।
তৌসিফ, তাশফিনের বড়ো বোন, দুলাভাই আর ভাগ্নে ভাগ্নীদের পেয়ে আনন্দের শেষ নেই। তিতলি তো সবাইকে নিয়ে গেছে গোরু আর মহিষ দেখাতে।
“আরেহ তুমি কাঁদছো নাকি? দেখি দেখি।”
তাসনুভার চোখের কোণা মুছে দিল সে।
“হয়েছে, হয়েছে। বাকিরা কোথায়? তিতলি কই? তৌসিফ তাশফিন!”
তাশফিন এসে বোনকে জড়িয়ে ধরলো। তৌসিফও এল। তিতলিকেও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে এল। তাসনীম তাদের সবাইকে দেখে বলল,
“বাঁদরামি আর গেল না তোমার।”
তিতলি বলল,”বড়ো চকলেট বক্সটা ভাইয়ে লুকিয়ে ফেলেছে। আমি খেলবো না।”
তাসনুভা দুলাভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলতে ভেতরে চলে গেল ভাগ্নীকে কোলে তুলে বুকের সাথে জড়িয়ে। তার হয়ে কথা বলার মানুষ এসে গেছে। ঝিমলি তাকে দেখে বলল,
“বাহ বাহ! খুশিতে কান্নাকাটিও হয়ে গেছে।”
“মোটেও না।”
“জানি জানি। আসসালামু আলাইকুম ভাইসাহেব! ফাইনালি আজিমপুরে পা পড়লো সবার।”
তাসনীমের স্বামী হাসলো। তাজদার এসে পড়তেই আরেক হৈহুল্লোড়! তৌসিফ তাসনীমের পিঠাপিঠি। ছোটোবেলায় সে আপু ডাকতোই না। বড়ো হওয়ার পর একটুআধটু ডাকতো। বিয়ের পর সেটা পাকাপোক্ত হয়েছে।
তিতলি বাবুনিকে নিয়ে এসেছে। সে কাঁদছে। নাকমুখ লাল করে কাঁদছে। তাসনীম কোলে নিতে নিতে বলল,
“মা কাঁদে কেন? এই তো আমি ফুপী। তাকাও।”
তাজদারকে দেখে সেদিকে যাওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
“দেখেছ বাবাকে কিভাবে চিনে ফেলেছে। আপনার জন্য চুড়ি এনেছি। পরবেন না?”
তাসনুভা কোলে নিয়ে শান্ত করাতে লাগলো। বলল,”অপরিচিত মানুষ দেখছে তাই কাঁদছে।”
“ওর মা কোথায়?”
“ওখানে।”
“বিয়ের সময়ও আসবে না।”
“না। তুমি গিয়ে দেখে এসো। এখন ঘরে চলো। ভাইয়া বাবুকে একটু নাও। শান্ত হচ্ছে না।”
তাজদার এসে মেয়েকে কোলে নিয়ে উপরে তুলে পেটে মুখ দিয়ে সুড়সুড়ি দিতেই সে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো। দাদিমা বলেন,
“এই দেখ চোখ দিয়ে জল ফেলতে ফেলতে হাসছে।”
তাজদার গাল মুছে দিতে দিতে বলল,”মেয়েকে কাঁদিয়েছি জানলে মমতাজ বেগম তো আমার অবস্থা বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। আপনি কান্না থামান আম্মা।”
“এরকম করে নাকি?”
“ইয়েস, ওভার প্রটেক্টিভ।”
বরের বাড়ি থেকে সাজগোজের জিনিসপত্র চলে এসেছে সকালে। মেহেদী পাতা তোলা হয়েছে। হলুদ বাটা হয়েছে। সমস্ত কাজবাজ শেষ। মেহেদী অনুষ্ঠান দেয়া হয়েছে ক্লাবে। রওশনআরা বলে দিয়েছে, বাড়িতে ঝামেলা চায় না। এত মেহমান সামলানো দায়। তাই ক্লাবে যেন দেয়া হয়। এতে অবশ্য দুই পক্ষেরই ভালো হয়েছে।
তাসনুভা গায়ে হলুদে গাউন পরার কথা ছিল। পরে আর গাউন ভালো লাগলো না। হলুদ রঙা সিল্কের শাড়িই পরলো। ব্লাউজ সবুজ। শাড়ি ব্লাউজ খুব দামী, ইউনিক ডিজাইনের। তারউপর অর্নামেন্টসগুলোও অর্ডার দিয়ে বানানো।
মেহেদীর রাতে সে নিজেই সেজেছে। চুলটা পার্লারে বেঁধেছে। সাজগোছ আর স্কিন কেয়ার নিয়ে তার অনেক জানাশোনা আছে। এটা নিয়েও ভবিষ্যতে কিছু করার ইচ্ছে আছে।
শাইনা, ঝিমলি, সাবরিনা সবাই এক রকম শাড়ি পরেছে। একরকমের সেজেছে। ছোট্ট বুড়ির জন্যও কোত্থেকে একটা শাড়ির ব্যবস্থা হয়ে গেল। তাজদার বলল,
“আম্মু এখন যদি হাঁটতে জানতো! আপনি কখন হাঁটবেন বলেন তো।”
মেয়েকে নিয়ে সে ফটোশুট করেই যাচ্ছে। আর কাউকে দরকার নেই তার।
শাইনাকে বলল,”ওর বিয়ের সময় আমি সাতটা মহিষ কিনবো ইনশাআল্লাহ।”
শাইনা বলল,”কম হয়ে গেছে। সর্বনিম্ন পনেরটা দরকার।”
“শাটআপ। অত মাংস খাওয়ার মানুষ নেই।”
মেহেদী অনুষ্ঠানে অনেক হাসি মজা হলো। বর বউয়ের কেক কাটাকাটির পর, নাচগান। তাজদারের একজন বন্ধু একদল গিটারিস্ট পাঠিয়েছিল। তারা গান গাইলো স্টেজ কাঁপিয়ে। মুরব্বিরা বিরক্ত!
“প্যাপু এইসব কী রে বাপ!”
তিতলি বলল,”ধুর! এর থেকে ভালো ছিল আমাকে গান গাইতে দেওয়া।”
সে শাওনকে গিয়ে ধরলো।
“শাওন ভাই আমার ফুল কোথায়?”
শাওন বলল,”ভুলে গেছি বেয়াইন। নট সরি।”
“আমি রাগ করেছি শাওন ভাই। চল না সুজন গানটা বাজান।”
“আচ্ছা।”
সে গানটা দিল। তিতলি মহাখুশি। সবাই যে যার মতো মজা করছে। আনিস আর নুভা নিচে নেমে এসেছে ততক্ষণে। ফটোশুট করতে করতে বিরক্ত!
শাইনা বাপ মেয়ের ছবি তুলছে। অনেক কাপল ছবি তোলা হয়েছে। পরে পরিবার সমেত ছবি তুলে অনুষ্ঠান শেষ হলো নাচগানের মধ্যে দিয়ে।
বিয়েতে শাইনা, ঝিমলি আর তাসনীম তিনজনেই পরেছে ঝলমলে গোল্ডেন রঙের শাড়ি। তিতলি বেছে নিয়েছে গাউন। অন্যদিকে শারমিলা, শাবরিন আর সাবরিনা বেবি পিংক রঙের শাড়ি পরেছে।
সবাই ভেবেছিল তাসনুভা হয়তো তার স্বভাবসুলভ স্নিগ্ধতায় অফ-হোয়াইট কোনো শাড়ি পরে আসবে। কারণ সে নিজেই সবাইকে বলেছিল সাদাটে কিছু পরতে। লাল বা গোলাপির ধারেকাছেও না যেতে। কিন্তু ভাইদের সাথে যখন ক্লাবঘরে তাসনুভা পা রাখল তখন উপস্থিত সবার চোখ ছানাবড়া!
সবাইকে চমকে দিয়ে জনুনআরা সিদ্দিকী হাজির হলো লাল টুকটুকে বউ সেজে! যেন অপ্সরা!
তার সাজটাও ছিল দেখার মতো। কোনো সাধারণ বা সাদামাটা সাজ নয়। বরং পুরোদস্তুর গর্জিয়াস মেকআপে অনন্যা। তাকে সেই রূপে দেখে সবার মুখে ভুবনভোলানো হাসি ফুটলো।
সবচেয়ে বেশি খুশি হলেন শাহিদা বেগম। লাল শাড়িতে পুত্রবধূকে দেখে তিনি পরম তৃপ্তিতে বলে উঠলেন,
“লাল শাড়িতেই তো আসল বউ! মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ!”
ক্লাবে এসে সে খোঁজ করতে লাগলে কে এসেছে, কে আসেনি। তার কর্মীদের ডেকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো তাদের পরিবার এসেছে কিনা। ঝিমলি কিছুক্ষণ পর এসে বলল,
“বধূয়া এত কথা বলে না।”
“প্লিজ আমাকে আমার কাজ করতে দিন। মুক্তার শ্বশুরবাড়ি থেকে কেউ আসেনি?”
বান্ধবীরা সবাই তাকে চমকে দিয়ে হাজির হলো।
“আনিসুজ্জামানের ফাঁদে পড়ে লাল টুকটুকে বউ তো সাজলেন! শুধু আমাদের বেলায় যত কথা।”
তাসনুভা বলল,”যাও বর এসেছে। দর কষাকষি কম করবে। এখানে আমার প্রেস্টিজ জড়িত। বেশ দরকষাকষি করলে আনিসুজ্জামানের বন্ধুরা বলবে কনেপক্ষ অভুক্ত আছে অনেকদিন।”
সবাই হাসছে তার কথা শুনে। জুথি বলল,
“বরের টাকা বাঁচাতে চাও সেটা বলো।”
বাইকে করে শাওন আর তার দলবল বরের গাড়ির পেছনে পেছনে এসেছে। খুব হৈ-হুল্লোড় হচ্ছে সেখানে।
তাসনুভা দোতলায় দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ দেখলো। তারপর আর তর সইলো না। সে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যেতে লাগলো। সবাই বলল,
“তুমি কোথায় যাচ্ছ?”
“আমি সব স্বচক্ষে দেখবো। ভিডিওতে দেখে মজা হবে না।”
আনিস গোল্ডেন রঙের ইউনিক ডিজাইনের একটি শেরওয়ানি পরেছে। পাঞ্জাবির উপরের কোর্টটি তাসনুভার পছন্দের। সে পাগড়ি খুলে পরিয়ে দিয়েছে তাজদারকে।
কারণ তাজদার তার বিয়ের দিন তার মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দিয়েছিল। সেখানে হাসিঠাট্টা হচ্ছে। শাইনার দুলাভাইরা টাকা ছাড়ছেনা।
তাসনুভা দরজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দেখছে সব। তার হিংসা হচ্ছে। আনিসুজ্জামান কোনো মেকআপ না নিয়েও সুন্দর।
চলমান…..
রিচেক হয়নি 🙏
Share On:
TAGS: তাজমহল সিজন ২, প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ২
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ৬
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ৯
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ২৭+২৭(২)
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ২১
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ১২+১৩
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ৫
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ১
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ৩০
-
তাজমহল সিজন ২ পর্ব ২০