Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটেনি পর্ব ৬


ডেসটেনি [ ৬ ]

সুহাসিনি_মিমি

“হোটেল নূরজাহান গ্রান্ড” গেটের সামনে এসে থামল ওদের প্রাইভেট কারটি। গাড়ি থেকে একে একে নেমে এলো ওরা সকলে। সবার শেষে নামল প্রিয়ন্তী। মিতালী হেসে বলল,

“এই জায়গাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। শান্ত, ক্লাসি একদম সিলেট সিলেট একটা ভাইব আসছে।ইশ!”

রিসেপশনে যেতেই তাজধীর বুকিংয়ের কথা জানাল।
রিসেপশনিস্ট কম্পিউটার স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে আসস্থ করল ওদের,

“স্যার!মিতালী এন্ড পাভেল নামে একটা কাপল রুম কনফার্মড আছে। আপনাদের রুমটা ফোর্থ ফ্লোরে।”

এরপর তাজধীর নিজের আর প্রিয়ন্তীর জন্য দুটো সিঙ্গেল বেডরুম বুক করতে চাইলে ছেলেটি জানাল আপাতত তাঁদের এখানে একটি মাত্র রুমই ফাঁকা আছে। তাজধীর ভ্রু কুঁচকে জানতে চাইল,

“মানে?”

লোকটা কাঁচুমাচু করে বলল,

“মানে স্যার! একটাই রুম আছে। সেটাও সিঙ্গেল বেড টাইপ।”

মিতালী বিরক্ত হয়ে উঠল,

“এমা! এক রুমে দুজন থাকবে কি করে?”

ম্যানেজার এগিয়ে এসে ভদ্র গলায় বলল,

“দুঃখিত ম্যাডাম, আজ হোটেল প্রায় ফুল।”

তাজধীর চোখ সরু করে পরিস্থিতি বুঝলো। এরপর পকেট থেকে ফোন বের করল। ডায়াল পেডে কারো নাম্বার চেপে কল লাগাল সে। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম, হাসিব। কল উঠতেই বলল,

“হ্যা এসে গেছি। তুই কোথায়?”

ওপাশ থেকে হেসে উত্তর এলো তৎক্ষণাৎ,

“নূরজাহানে? এইতো আমি পাশেই আছি। দাঁড়া, আসছি। জাস্ট ওয়ান মিনিট!”

এক মিনিটও পেরোয়নি। এর আগেই হোটেলের গেট দিয়ে ঢুকল অতি সুদর্শন, স্মার্ট, এক গুডলুকিং বয়।
ম্যানেজমেন্টের দু’জন লোক হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল তাকে দেখতেই। সম্মান প্রদর্শন করে জানাল,

“স্যার, আপনি এখানে?”

আগন্তুক সেসব তোয়াক্কা না করে সোজা এসে
জড়িয়ে ধরল তাজধীরকে। কোলাকুলি করল কয়েক সেকেন্ড। এরপর আনন্দে আপ্লুত হয়ে বলল,

“আরে কমান্ডার সাহেব! আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিনা। সত্যিই সত্যিই এলি তাহলে?”

এরপর ঘুরে তাকাল পিছনে। মিতালী কে আগে থেকে চিনলেও বাকি দুজন কে চিনেনা হাসিব নামের ছেলেটি। ওর প্রশ্ন করার আগেই ওদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলো তাজধীর। বলল,

“মিট, ও পাভেল! মিতালীর হাসবেন্ড। এন্ড ওনি হচ্ছেন পাভেলের বোন!”

হাসিব সৌজন্যেতায় হাত বাড়াল পাভেলের উদ্দেশ্য। হেন্ড শেক করল দুজনে। প্রিয়ন্তীকে একবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সূক্ষ নজরে পরখ করে বন্ধুর কানের পাশে ঝুঁকল ফাঁসিব। বলল ফিসিফস করে,

“মিস কি সিঙ্গেল?”

তাজধীর হাতের কনুই দিয়ে গুতা মারল বন্ধুর পেটে। অল্প বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ব্যথাসূচক শব্দ বের করল হাসিব। ওদিকে ম্যানেজমেন্টের লোকেরা তখন বুঝে গেল এই মানুষটা সধারণ কেউ না। ম্যানেজার সাহস করে জিজ্ঞেস করল,

“স্যার, উনি কি আপনার পরিচিত?”

হাসিব দুষ্টু হেসে বলল,

“পরিচিত?একটু বেশিই পরিচিত! আমার চাইল্ডহুড ফ্রেন্ড। বাঁচপান কা জিগরি দোস্ত!”

এরপর থেমে মেনেজারের উদ্দেশ্য বলল আবার,

“আমার বন্ধুর আরেকটা পরিচয় আছে। যেটা জানলে তোমরা ওনাকে এভাবে দাঁড় করিয়ে রাখার দূসাহস তো দূর, চিন্তাও করতে পারতেনা।”

রিসেপশনের লোকদের ভুরু কুঁচকে গেল তাতে।
কৌতূহলে টান টান হয়ে উঠল সবার চোখ। তখনই তাজধীর একপা এগিয়ে এসে শান্ত গলায় বলল,

“না হাসিব। এখানে আমার পরিচয়টা নাহয় তোর বন্ধু হিসাবেই তোলা থাক!”

হাসিব বুঝল বন্ধুর কথার মানে। ছেলেটা এমনই। ফ্যামিলির সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছে তারমানে সেই সময়টুকু শুধু ফ্যামিলির নামে বরাদ্ধ। হাসিবও সায় জানাল তাতে। হেসে বলল,

“ঠিক আছে, কমান্ডার সাহেব! আপনার কথাই তোলা রইলো তাহলে!”

ম্যানেজমেন্ট মাথা নত করে বলল তখন,

“স্যার, আপনাদের জন্য আমরা এখনই দুটো আলাদা রুম অ্যারেঞ্জ করছি। একবারে ভিআইপি সেকশনে। এন্ড সরি স্যার। আসলে ওগুলোও “ভি আই পি ” পার্সনদের জন্য এরেঞ্জ করা ছিলোতো তাই আরকি!”

ওদিকে প্রিয়ন্তী, পাভেল, মিতালী বসেছিল রিসিপশনে। এতক্ষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সকলে।
ম্যানেজমেন্ট মিনিট দশেকের মধ্যেই দুইটা আলাদা রুম অ্যারেঞ্জ করে দিল। একই ফ্লোরে রুম দুটো। মিতালীদের রুম ফোর্থ ফ্লোরে আর ওদের দুজনেরটা ৬থ ফ্লোরে। প্রিয়ন্তী রুমে ঢুকেই হাতে থাকা ব্যাগটা রাখল একপাশে। ওয়েটার ছেলেটা ওর লাকেজ টা আগেভাগে রেখে গেছে সেখানে। বেশিকিছু আনেনি প্রিয়ন্তী সঙ্গে করে। এই হালকা পাতলা টুকটুক কিছু এনেছে। প্রিয়ন্তী ব্যাগটা নামিয়ে রেখেই প্রথমেই বাথরুমে ঢুকল। মুখে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে চুল ঠিক করল। এরপর টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছে বেরিয়ে এল বাইরে। এসে দাঁড়াল দরজার সামনে। হঠাৎ মনে পড়ল
মিতালী বলেছিল,

“তোমার রুমের পাশেই ভাইয়ার রুম!”

প্রিয়ন্তী অজানায় বা বাড়াল বারান্দায়। ওর রুমের বেলকনিটা একদম মাঝ বরাবর। দু পাশে আরো দুটো বেলকনি আছে। প্রিয়ন্তী কি মনে করে যেন সামনের বেলকনিতে তাকাল। ওটাই কি ওনার রুম? ভেবে উঁকি মারল। কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না। অমনি পিছন থেকে ডেকে উঠল কেউ,

“মিস প্রিয়ন্তী, আপনার বাচ্চার বাবা এখানে। এইযে আপনার পিছনে। সামনে কাকে খুঁজছেন?”

প্রিয়ন্তী চমকে ঘুরে দাঁড়াল। আকস্মিক ডাকে ভড়কে গেল মেয়েটা। অসন্তুষ্ট হয়ে বলল,

“কে বলল আমি আপনাকে খুজছিলাম?”

“তো কাকে খুঁজছিলেন এভাবে উঁকি ঝুকি মেরে?অন্যের রুমে এভাবে উঁকি ঝুকি মারা, ইটস বেড মেনার্স! ওয়েট কোনো কিছু চুরি টুরি করার মতলব নেইতো আবার আপনার? দেইখেন কিন্ত মিস, সবাই কিন্ত আর তাজধীর সিদ্দিক আযানের মত নয়, যে তার সামনে থেকে কিছু নিয়ে গেলেও কিছু বলবেনা!”

এবেলায় বেজায় চোটে গেল প্রিয়ন্তী। রেগেমেগে চড়বড়ে গলায় ফুসে উঠল,

“আপনার কি আমাকে দেখে চোর মনে হয়?”

তাজধীর সময় নিয়ে দেখল কিছুক্ষন। তাকিয়ে রইলো একই ভাবে। এরপর ভাবুক হয়ে আওড়াল,

“উহুম! আপনাকে দেখলে চোর মনে হয়না। বরং চুন্নি চুন্নি একটা ফিল আসে।”

প্রিয়ন্তী রাগে ফুঁসতে উঠল। নিজের প্রতি এমন অপবাদ মানা যায়না। মানতে পারল না সেও। লোকটা ওকে সেই প্রথম থেকেই যাচ্ছে নয় তাই বলে যাচ্ছে। ওর কি আত্মসম্মান বোধ নেই? বেজায় মানসম্মানের দায়ে কিছু বলেনা। রেস্পেক্ট করে। ভাইয়ের শশুর বাড়ির লোক দেখে। আর এটাকেই তো দুর্বলতা বানিয়ে লোকটা দিব্যি ওর সঙ্গে মজা নিচ্ছে। নিচ্ছে তো নিয়েই যাচ্ছে। থামার কোনো নাম গন্ধই নেই? কি পেয়েছে ওকে? ফুসতে ফুসতেই রাগের তোপে আকস্মিক করে বসল ও আরেক কান্ড। হঠাৎ একদম হুট্ করেই জাপানিসে চিৎকার করে উঠল ও,

“কুসোত্তারে!”

রাগের বসে শব্দটা একটু জোড়েই বলে থামল ও।বেচারা তাজধীর এক সেকেন্ড থমকে রইলো। ঠোঁট কামড়ে মুখে দুটি উঠল অমায়িক এক হাসি। হাসি টুকু অটুট রেখেই সংশোধন করে বলে উঠল অগত্যা,

“ওহ্‌! গালিটা এবার সিরিয়াস লেভেলের ছিল কিন্ত!
তবে, আপনার প্রনাউন্সটা কারেক্ট হয়নি, মিস প্রিয়ন্তী।”

প্রিয়ন্তী ভ্রু কুঁচকে তাকাল অবুঝের মতো। এ লোক বলছে কি? ওর প্রণাওন্স ঠিক হয়নি মানে? মানে লোকটা এর মানে জানে কি? হায় আল্লাহ! হায় সর্বনাশ! ঠিক তখনই তাজধীর বলে উঠল,

“এটা হবে, কু-সোৎ-তা-রে। এভাবে বললে কথাটা একদম গায়ে লাগে, আত্মসমানে লাগে। গালি হতে হবে গালির মতো। তবে ভালো মেয়েরা কিন্ত গালি দেয়না। আপনি নিশ্চই খারাপ মেয়ে নন?”

প্রিয়ন্তী আরো খেপে গেল এবার। ভ্রু কুঁচকে বলল,

“আপনি তাহলে জাপানিজও জানেন?”

তাজধীর ভ্রু তুলে প্রত্তুত্তর করল,

“উহুম। শুধু জাপানিস নয়, টোটাল ১৭টা ল্যাঙ্গুয়েজ আয়ত্তে রেখেছি। কোনোদিন কাজে না দিলেও আজ এভাবে হুট্ করে কাজে লেগে যাবে ভাবতে পারিনি!”

প্রিয়ন্তী রেগেমেগে ফুসে উঠল আবারও,

“বাজে কথা বলবেন না!”

“আমার স্বভাবে বাজে জিনিসটা বড্ড বেমানান, মিস। ওটা আমার ধারাচিত্তেও নেই।”

প্রিয়ন্তী দাঁত চেপে রইল। বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠছে। লোকটা ইচ্ছে করেই ওকে খ্যাপাচ্ছে, সেটা ভালো করেই বুঝছে সে। কিন্তু কিছু বলার মতো শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না। তাজধীর এক কদম এগিয়ে এল আরো। বলল,

“রাগ করলে আপনাকে কিন্ত আরও সুন্দর লাগে মিস ব্লু হাফমুন!”

“এই দেখুন?”

বলেই আঙ্গুল তুললো প্রিয়ন্তী। যতটুকু কাছে এগোনো যায় রহিক ততটাই কাছে আসল তাজধীর। একদম বারান্দার রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে হাঁস্কি টোনে বলল,

” দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যাবেনা মিস,তাই একটু সামনে এলাম। নিন এইবার দেখান!”

“কি দেখাবো?”

“যা দেখাতে চান, আমি কিন্ত সবকিছু দেখতেই প্রস্তুত!”

প্রিয়ন্তী এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। দরজার দিকে ঘুরে হাঁটতে হাঁটতে বলল,

“আপনার সঙ্গে কথা বলাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল!”

বলে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতে যাবে, ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এলো শান্ত গলা,

“ভুল হলে মানুষ ঠিক করে নেয়। আপনি কিন্তু এখনো আমাকে ঠিক করার সুযোগ দেননি।বাচ্চার বাবার প্রতি এ কেমন না ইনসাফী আপনার?”

প্রিয়ন্তীর হাতটা দরজার হাতলে থেমে গেল এক মুহূর্ত।
হৃদপিণ্ডটা আচমকা জোরে ধক করে উঠল।
তবে ঘুরল না। এক ঝটকায় ভেতরে ঢুকে পড়ল। এরপর শব্দ করে দরজাটা বন্ধ করল।
ভেতরে এসে প্রিয়ন্তী দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল এক সেকেন্ড। শ্বাসটা কেমন অগোছালো হয়ে আছে। রাগ? না কি লজ্জা? নাকি অকারণ একটা ভালো লাগা? কি নাম দিবে তার? এই অনুভূতির সঙ্গে যে সদ্য পরিচিত ও। লোকটা বোধহয় ওকে বেকাবু করেই দম নিবে।

চলবে….

( মনের জটিল প্রতিকূলতায় নিসপিস করে আপনাদের রিকোয়েস্ট মানতে বাধ্য হলাম একপ্রকার। ফিরে এলাম আবারও। তবে শর্ত একটাই। ৫ হাজার রিয়েক্ট আর ৫০০ প্লাস কমেন্ট না পূরণ হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পর্ব আসবে না। তাতে দশদিন লাগলে লাগুক। ফেইক পেইজে লেখা কপি করে যদি নিমিষেই ৫ হাজার + রিয়েক্ট উঠে যায় তাহলে আমি এত কষ্ট করে লিখার পড়ও কেন উঠবে না? যদি আপনারা এই শর্ত কালই পূরণ করতে পারেন তাহলে আগামীকালই পরবর্তী পর্ব আসবে। )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply