Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটেনি পর্ব ১৫


ডেসটেনি [ ১৫ ]

সুহাসিনি_মিমি

প্রিয়ন্তী ঝড়ের মতো উঠে চলে যাওয়ার পর এখনো ঠিক আগের মতোই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে তাজধীর।ডান হাতে ফোনটা শক্ত করে চেপে ধরা ওর। ফোনের স্ক্রিন অফ হয়ে গেছে প্রায় অনেকক্ষণ।

অমনি সেখানে এসে ধুম করে ওর পাশটায় এসেই বসল হাসিব। বসতে বসতেই কটাক্ষ ভরা গলায় ছুড়ে দিলো কিছু বাক্য,

“কি ভাই! ব্যাপার-স্যাপার তো তোর আমার মোটেও সুবিধাজনক লাগছে না। তুই তো এমন ছিলি না আগে।”

হাতে ধরা ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো তাজধীর। ঘাড়টা গুঁজে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,

“কি বলতে চাস?”

হাসিব ঠোঁট বাঁকিয়ে মাথা নাড়ল।বলল,

“বলতে চাইছি—আমাদের কমান্ডার সাহেব তো এইরকম না। আমাদের মধ্যে তুই একমাত্র ছেলে ছিলি, যে সবসময় মেয়েদের থেকে এট লিস্ট দশ মাইল দূরে থাকত। সেখানে এখন নিজের বোনের ননদের সাথে এভাবে চিপকে থাকিস কেন? এসব তো তোর স্বভাবে নেই।”

তাজধীর ভ্রু কুঁচকে তাকাল। বিরক্ত হয়ে বলল,

“তোর মাথায় এসব আউল-ফাউল চিন্তা ছাড়া ভালো কিছু আসে না, তাই না?”

সামান্য বেঁকে নিজের দু’হাত পিছনে ঠেকিয়ে শরীরটা হেলিয়ে উত্তর করল হাসিব,

“আমার এই বিচক্ষণতাকে তুই মোটেও আউল-ফাউল হিসেবে ট্যাগ দিতে পারিস না। আমি কিন্তু আসার পর থেকেই লক্ষ্য করছি। সবসময় নিজের ‘বিয়াইনের’ কাছে ঘেঁষে থাকছিস কেন? অন্য সব ছেলেদের মতো আচরণ শুরু করলি কবে থেকে তুই?”

তাজধীর বিরক্তিতে এবার একটু জোরেই বলে উঠল,

“সবাইকে তোর মতো ভাবিস নাকি?”

হাসিব আয়েশ ভঙ্গিতে মাথাটা সামান্য কাত করল। ঠোঁটে সেই চিরচেনা আত্মতুষ্টির হাসি বজায় রেখে সুধালো,

“হাহ! আমার মতো তুই জীবনেও হতে পারবি না। এই হাসিব—ওয়ান পিসই!”

“তোর মতো হওয়ার ইন্টারেস্ট আমার জিরো পার্সেন্টও নেই।”

“কথা ঘুরাইয়ো না, মামা।”

বলেই হাসিব এবার সোজা হয়ে বসল। চোখ দুটো সরু করে তাকাল তাজধীরের দিকে। ইগলের মত চোখ করে বলল,

“এই হাসিবের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ—চোখ ফাঁকি দেওয়া এত সহজ না। যাকে সবসময় মেয়েদের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে থাকতে দেখতাম, সে কিনা এখন একটা মেয়ের আগে পিছনে ঘুরঘুর করে?বাহ্ বাহ্ ভালো তো! ভালো না?”

তাজধীর এবার মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। ভেজায় চটে গিয়ে আওড়াল,

“তুই দেখেছিস আমাকে ঘুরঘুর করতে?”

“তো এখানে কি করছিলি তুই ? বাড়িতে এত জায়গা থাকতে তোর এখানেই কেন আসতে হলো—সেইটার জবাব আগে দে আমাকে।”

তাজধীর ভ্রু কুঁচকে সোজা হয়ে বসল।বলল সোজাসাপ্টা,

“তোকে এখন আমার কৈফিয়ত দিতে হবে?”

“দিলে দিবি, সমস্যা কই?”

“তাজধীর সিদ্দিক আজ পর্যন্ত কাউকে কৈফিয়ত দেয়নি। ইন ফিউচার কখনো দিবেওনা।”

তাজধীর কথাটা এমনভাবেই বলল, যেন এটাই তার শেষ কথা। এমন তুচ্ছ বিষয়ে সে আর কথা বাড়াতে চায়না। হাসিবও থেমে থাকার পাত্র না। ঘাড় বাকিয়ে সেও ত্যাড়া ভাবেই প্রত্তুত্তরে বলল,

“তোর এই ডায়লগটা শুনতে শুনতে প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে আমার। কিন্তু সমস্যা কি জানিস?এখানে তুই কমান্ডার তাজধীর সিদ্দিক আযান না। এখানে তুই আমার ফ্রেন্ড। আর ফ্রেন্ড হিসেবে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতে হয়, মামা।”

তাজধীর বুঝলো তার এই ঘাওড়া ফ্রেন্ড আপাতত যেহেতু একটা টপিক পেয়েছে ওকে হেনস্থা করার সেটার সুযোগ হাতছাড়া করবে না। তাই প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলল,

“আগামীকাল আমাকে চলে যেতে হবে।”

“কি?”

“কাল রাতেই ব্যাক করতে হবে।”

“হঠাৎ এত তাড়াতাড়ি?তুই তো বলছিলি আরও কয়েকদিন থাকবি!”

“প্ল্যান ছিল। তবে কিছু করার নেই আপাতত। ফোন এসেছে। অর্ডার তো মানতেই হবে। বাধ্য আমরা!”

হাসিব হতাশ গলায় বলল,

“ধুর! এভাবে হঠাৎ করে চলে যাবি? আর দুই-একটা দিন থাকলে হয়না? মেনেজ করতে পারবিনা!”

“মেনেজ করে লাভ? তুই জানিস না আমার কাছে আমার প্রফেশনাল লাইফের উর্ধে কিছু নেই!তবে আজ তো আর যাওয়া পসিবল না। কাল রাতেই ব্যাক করতে হবে!”

“ভাই জীবনে কর্মক্ষেত্রই সব না। ডিউটির আগে নিজের লাইফটাও তো সেটেল কর। এভাবে আর কতদিন থাকবি? দেখ আমার ব্যাপারটা এখন আবার তুই তুলিস না। আমার বিষয়টা পুরোটাই ভিন্ন। বাড়িতে মানুষজনের অভাব নেই। তবে তোর বাসায় আন্টি একা থাকেন। ওনারও তো বয়স হয়েছে বল। এই বয়সে আন্টির এভাবে একা থাকাটা তোর কাছে কতটা যুক্তিসংযুক্ত?”

তাজধীর আড় চোখে একবার হাসিবের দিকে চেয়ে গমগমে স্বরে প্রশ্ন করল,

“আম্মু শিখিয়েছে এসব তোকে তাইনা?”

ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসল হাসিব। আমতা আমতা করে আওড়াল,

“ভুল তো আর কিছু বলেনি!”

“তুই আগে বিয়েটা কর। এসব ফাজলামো ছেড়ে নিজেকে ঠিক কর। আংকেলের কাজে হেল্প কর অযথা এসবে সময় নস্ট না করে। কথা দিচ্ছি তোর বিয়ের পরপরই বিয়ে করে ফেলবো, যা!”

হাসিব নীরবে একটা দীর্ঘস্বাস ফেলল। যার অর্থ হলো সেও কোনোদিন ঠিক হবেনা আর তার এই নিরামিষ বন্ধু ও কোনোদিন আমিষে রূপান্তরিত হয়ে বিয়ের আসরে বসবে না!


নিত্যদিনের তুলনায় আজকের সকালটা বেশ শান্ত, নীরব। সকালের স্বর্ণালী কিরণ বারান্দার কার্নিশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকছে।সেই বারান্দার বা কোণায় নির্জীব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হীরা। সারারাত ঘুমাতে পারেনি মেয়েটা। বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে কখন যে ভোর হয়ে গেছে—সে নিজেও টের পায়নি। চোখ দুটো লালচে ফোলা ফোলা হয়ে আছে তাতে।

কিশোরী হীরার মনকুঠুরে সেই গতকাল থেকে প্রিয়ন্তীর বলা কথাগুলোই বারবার ঘুরে ফিরে আসছে।আচ্ছা ওর তাজধীর ভাইয়ের কি সত্যিই বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে? তাহলে উনি কেন সবাইকে বলল না সে বিষয়ে?

ছোটবেলা থেকে, যখন থেকে বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই তো তাজধীরকে আলাদা করে দেখত হীরা।
কখনো জোর করে নিজের মনকে বোঝানোর চেষ্টা করেনি—শুধু নিঃশব্দে, দূর থেকে পছন্দ করে গেছে।
কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে ওর কিশোরী মনটা ভেঙে গেলো! তবুও কোথাও একটা খচখচানি থেকে যাচ্ছে।
আচ্ছা কথাটা যদি মিথ্যা হয়? যদি সত্যিই না হয় সবটা? এই একটুকু আশা বেঁধেই নিজেকে কোনোভাবে সামলে নিয়ে রুম থেকে বের হলো হীরা। ধীরে ধীরে পা ফেলে এগিয়ে গেল করিডোর ধরে। থামল গিয়ে ঠিক তাজধীরের রুমের সামনে। বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে সমানতালে। বলবে? না বলবে না? জিজ্ঞেস করাটা ঠিক হবে?যদি হেতে ফির ওর তাজধীর ভাই জিজ্ঞেস করে বসে অন্যকিছু?

মেয়েটার এহেন ভাবনা চিন্তার ভিতরেই আবির্ভাব ঘটে তাজধীরের। লোকটা রুম থেকে বেরিয়ে আসছে।বোধহয় নিচে যাচ্ছে । হীরাকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থামল তাজধীর। ভ্রু কুঁচকে স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“কিরে কি হয়েছে? এখানে কি করছিস?”

হীরা চমকে উঠল। অপ্রস্তুত হয়ে হাত দুটো একসাথে জড়িয়ে ফেলে আমতা আমতা করে আওড়াল,

“তা… তাজধীর ভাই… একটা কথা বলি?”

প্রিয়ন্তী নিচে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিল সবেই। অমনি ওর চোখ গিয়ে পড়লো সামনে। এই সাত সকালে হীরা মেয়েটাকে এখানে তাজধীরের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হৃদপিন্ডটা ধপাস করে লাফিয়ে উঠল ওর। হঠাৎ করেই গতকালের কথাগুলো মনে পড়ে গেল। আয়হায়! হয়েছে কান্ড! যদি এই বিচ্ছু মেয়েটা সব বলে দেয় তো?

ভাবতেই গলা শুকিয়ে এল প্রিয়ন্তীর। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছে বেগতিক হারে। হাতের তালু ঘেমে টেমে একাকার। মনে মনে শপথ করল আর জীবনেও কোনোদিন মিথ্যার আশ্রয় নিবেনা ও। তাজধীর তখন বলল,

“তোর আমার কাছে কিছু বলতে আবার পারমিশন লাগে নাকি কাঠববিড়ালি? বল, কি বলবি?”

হীরা ঠোঁট কামড়ে ধরল। চোখ দুটো একবার নিচে নামাল, আবার তুলল উপরে। খানিক্ষন কাইকুই করে অবশেষে বলতে লাগল,

“তাজধীর ভাই আপনি কি..

“তাজধীর বাবা, তোমরা নাকি আজ চলে যাবে?”

আকস্মিক মেয়েলি প্রশ্নে সবাই তাকালো উল্টো ঘুরে।করিডোর পেরিয়ে আসছে হাসিবের আম্মু। ভদ্রমহিলা ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্নখানা ছুড়ে দিলেন তাজধীরের উদ্দেশ্য। আকস্মিক মায়ের আগমনে হীরার কথা থেমে গেল মাঝপথেই।

“হ্যা আন্টি! আজ রাতেই যেতে হবে আমাদের।সেটা জানাতেই নিচে আসছিলাম আমি!”

প্রাণহীন পাখিটা যেন হঠাৎ করেই আবার ডানা ঝাপটাতে শুরু করল প্রিয়ন্তীর,ভদ্রমহিলার আগমনে।

“এমা, এভাবে হঠাৎ করেই চলে যাবে? আর দুইটা দিন থাকো না বাবা! তোমরা এসেছো আমার যে কতটা ভালো লাগছে বলে বুঝাতে পারবোনা। চলে গেলে বাড়িটা যে খালি খালি হয়ে যাবে। এতদিন পর আসলে—ভালো করে তো কিছু খাওয়াই হলো না!”

তাজধীর ভদ্রভাবে হালকা হাসল। বিনয়ী স্বরে বলল,

“ইচ্ছা তো ছিল আন্টি। কিন্তু কিছু করার নেই। হঠাৎ করেই অর্ডার এসেছে। আজ রাতেই রওনা দিতে হবে।”

“আজ রাতেই? রাতটুকু অন্তত থেকে যাও। তোমার আংকেল আজ রাতেই ফিরবেন। তোমাদের আসার কথা শুনেই টিকেট কেটে তাড়াহুড়োয় বাড়ি ফিরবেন বললেন!”

“ইনশাআল্লাহ, আবার আসবো। তখন দেখা করে নিবো নাহয়!”

“কি বলবো বলো। আচ্ছা এখন তাহলে দ্রুত নিচে আসো। নাস্তা করবে। আমি সবকিছু টেবিলে দিতে বলছি । আসো আসো!”

তাগাদা দিয়ে চলে গেলেন ভদ্রমহিলা।মায়ের প্রস্থানের দিকে তাকিয়ে নীরবে শ্বাস ফেলে দাঁড়িয়ে রইলো হীরা। তবে আশ্চর্য হলো যখন শুনলো,

“হ্যাঁ কি বলছিলি যেন ? বল।”

“আরে তুমি এখানে!তোমাকে তো সেই কখন থেকে তোমার দাদি ডাকছে! নিচে খুঁজছে তোমায়। জলদি যাও তো!”

হীরা একটু অবাক হয়ে তাকাল প্রিয়ন্তীর দিকে। সন্ধিগ্ন গলায় বলল,

“মাত্রই তো নিচ থেকে এলাম আমি!”

“দাদি অনেক্ষন যাবৎই ডাকছে তোমায়। শুনতে পাওনি হয়তো। তোমাকে খুঁজতেই তো এসেছি আমি। যাও যাও গিয়ে দেখো!”

কথা শেষ হতে না হতেই প্রিয়ন্তী প্রায় জোর করেই হীরাকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে দিল। হীরা আর কিছু বলার সুযোগই পেল না। মন বেজার চুপচাপ চলে গেল সেখান থেকে। তাজধীর পুরো ব্যাপারটা আড়চোখে দেখল। কিছু বলল না তখনই। হীরা চলে যেতেই তাজধীর কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

“কি ব্যাপার, মিস প্রিয়ন্তী! আপনাকে এমন লাগছে কেন?”

প্রিয়ন্তী ভড়কে গিয়ে বলল,

“ক—কেমন লাগছে?”

“গলায় কাঁ টা আটকে যাওয়ার মতো ছটফট করছেন কেন হঠাৎ? কি হয়েছে?”

প্রিয়ন্তীর চোখ কটমট করে চাইলো। নিজের অস্থিরতা ঢাকতে গলা শক্ত করে বলল,

“আজব! আপনার সমস্যা কি, হ্যাঁ? নেভির জব ছেড়ে কি গোয়েন্দায় নাম লিখতে মন চাচ্ছে নাকি?”

বলেই আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ালো না বেচারি। যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই ছুটলো। প্রিয়ন্তীর যাওয়ার দিকে তাজধীর ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে উঠল,

“এর আবার কি হলো?স্ট্রেঞ্জ!”


রাত আনুমানিক তখন ১১ টা পেরিয়ে। রাতের ডিনারটুকু শেষে সবাই একটু আকটু রেস্ট নিয়েছে নিজেদের রুমে। ওদিকে প্রিয়ন্তীর মনটা একদিকে যেমন ফুরফুরে হয়ে আছে এ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার খুশিতে অন্যদিকে ঠিক ততটাই আধার নেমে এসেছে। ভাবীর মুখে শুনেছে লোকটা নাকি বাড়ি ফিরেই চলে যাবে। তারমানে কি লোকটার সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হবেনা ওর? কথা হবেনা এভাবে? ওই সুদর্শন মানুষটাকে প্রিয়ন্তী দেখে দেখে নিজের চক্ষু তৃষ্ণা মিটাতে পারবেনা আর? এসব ভেবেই ভেবেই অস্থির হয়ে উঠছে মেয়েটা ক্ষনে ক্ষনে।

হাসিবদের বাড়ির সবার কাছ থেকে একে একে বিদায় নিয়ে ওরা সবাই উঠে বসল গাড়িতে। হাসিব ড্রাইভ করে বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে দিবে। কথামতোই জ্যাম না থাকায় মিনিট বিশেকের মাথায় ওরা বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছালো। তাজধীর আগে থেকেই টিকেট বুক করে রেখেছিলো অনলাইনে।

ওদের বাসটা দাঁড়িয়ে আছে একপাশে। রাত ১২টার স্লিপার কোচ। নিয়মমাফিক পাভেল আর মিতালীর জন্য একটা কাপল সিট, প্রিয়ন্তী আর তাজধীর—দু’জনের জন্য আলাদা দুটো সিঙ্গেল সিট বুক করা হয়েছে। হাসিব কে বিদায় দিয়ে ওরা সবাই উঠে বসেছে যার যার জায়গায়।

ঠিক রাত ১২ টাই ছাড়লো ওদের বাসটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো বাসটা প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে গেল। লাইট অফ করে দিয়েছে বাসের ড্রাইভার। মিতালী ঘুমিয়ে পড়েছে পাভেলের কাঁধে মাথা রেখে। পাভেলও আধো ঘুমে চোখ বন্ধ করে আছে।

তাজধীর কিছু ইম্পরট্যান্ট ইমেইলের ফাইল চেক করছে বসে বসে। অন্যদিকে প্রিয়ন্তীর চোখে ঘুমের ছিটেফোঁটা টুকু ও নেই আজ। জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে ও। অন্ধকার রাস্তা ধরে ঢুলতে ঢুলতে এগিয়ে যাচ্ছে ওদের বাসটি।

এভাবেই পাড় হলো প্রায় দেড়-দুই ঘন্টা। একটা জায়গায় এসে বাসটা হঠাৎ করে থামলো। একটা বড় রেস্টুরেন্টের সামনে থামানো হয়েছে বাসটি। লাইট জ্বলে উঠতেই হেলপারের গলা শোনা গেল,

“যার যার দরকার আছে—নেমে যান! বিশ মিনিটের ব্রেক! খাওয়া-দাওয়া, ফ্রেশ হয়ে নেন!”

কথামতোই নড়েচড়ে অনেকেই নামতে লাগলো বাস থেকে। পাভেল একবার নড়েচড়ে উঠে ডাকলো মিতালী কে। কিছু খাবে কিনা জিজ্ঞেস ও করল। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মিতালী সাড়াশব্দ টুকু ও দিলোনা। পাভেল ও নামলো না তাই।

ওদিকে দুটো পানির বোতল পুরো খালি করে এখন অবস্থা কাহিল প্রিয়ন্তীর। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে ওকে ওয়াশরুম যেতে হবে। খুবই প্রয়োজন। শেষমেশ আর টিকতে না পেরে উঠে বসল ও।

ওড়নাটা ঠিকঠাক করে গায়ে পেঁচিয়ে চুলগুলো বেঁধে নিচে নেমে দাঁড়ালো। রাত তখন প্রায় আড়াইটা ছুঁইছুঁই। রেস্টুরেন্টের সামনে মানুষের ভিড়। এটা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটা বাস, মাইক্রো, কার এসে থামানো হয়েছে এখানে। প্রিয়ন্তী সোজা ওয়াশরুমের দিকে এগোল।

ওয়াশরুমের সামনে থাকা লম্বা সিরিয়াল চোখে পরতেই বিরক্তিতে ঠোঁট কামড়ে ধরল ও। এত বড় সিরিয়াল তো সরকারি চাল, ডাল ভিতরণেও দেখা যায়না। একটু ভেবে আবার পিছিয়ে যাবে নাকি—ভাবল। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনের কাছে হার মানতেই হলো। নিরুপায় হয়ে লাইনের শেষ মাথায় গিয়ে দাঁড়াল ও।

এভাবে মিনিট দশেক অতিবাহিত হওয়ার পরই ঘটলো এক অযাচিত ঘটনা। হুট্ করেই ওর পেছন থেকে হঠাৎ কেউ ধাক্কা মেরে ওকে অতিক্রম করে নিজেই গিয়ে আগেভাগে ঢুকলো ভিতরে। প্রিয়ন্তী কিছু বুঝে ওঠার আগেই মহিলা ওকে পাশ কাটিয়ে সামনে গিয়ে ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক ধাক্কায় প্রিয়ন্তীর পা পাশের একটা লোহার স্ট্যান্ডর সঙ্গে লেগে গিয়ে ডান পায়ের বুড়ো নখটা প্রায় অনেকটা আলগা হয়ে উঠে এলো যেন। “আহহ” ব্যথায় চেঁচিয়ে উঠল প্রিয়ন্তী।
পায়ের নখটা একটু উঠে গেছে। জ্বালা করে উঠল সাথে সাথে। চোখে পানি চলে এলো ব্যথায়। রাগে, অপমানে, ব্যথায়—সব মিলিয়ে মাথা পুরোপুরি গরম হয়ে এলো ওর।

“এই! আপনি কি করলেন এটা? লাইন দেখেন না? ধাক্কা দিয়ে ঢুকলেন কেন?”

মহিলা ভেতর থেকে কোনো উত্তর দিল না। প্রিয়ন্তী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসছে তখনো। কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে বের হলো সেই মহিলা। প্রিয়ন্তী আর নিজেকে সামলাতে পারল না। তৎক্ষণাৎ ফণা তুলা সাপের মত ফুসফুস করে উঠল,

“আপনার কি সমস্যা? মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে—আপনি এসে ধাক্কা মেরে ঢুকে গেলেন কেন?”

মহিলা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।বিরক্তির সহিত বলল,

“এইডা আবার কি কথা! আমি কি তোরে ধাক্কা মারছি? নিজেই ঠিকমতো দাঁড়াইতে পারোস না—দোষ আবার আমারে দিস!”

“এক্সকিউজ মি? আপনি সরাসরি ধাক্কা দিয়েছেন! আর এখন উল্টা কথা বলছেন?”

মহিলা কোমড়ে হাত রেখে দাঁড়াল।বলল,

“এই মাইয়া, বেশি ইংরেজি ঝাড়িস না! আমি তোরে ধাক্কা মারি নাই। আমি আগে আছিলাম—তুই আইসা মাঝখানে দাঁড়াইছস!”

“কি বললেন আপনি! আমি অনেকক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি!”

“দাঁড়াইছস তো কি হইছে? আমার জরুরি আছিল! আমি আগে ঢুকছি—তোর সমস্যা কই?”

প্রিয়ন্তীর রাগ এবার চূড়ায় উঠল। কটমট করে বলল,

“সমস্যা কই মানে? এটা কি আপনার বাপের ওয়াশরুম? সবাই লাইনে দাঁড়ায়—আপনি নিয়ম মানবেন না কেন ?”

মহিলা এবার তেড়ে এলো আরও,

“এই মাইয়া, বেশি বাড়াবাড়ি করিস না কইলাম! ছোট্ট মাইয়া হইয়া আমারে জ্ঞান দিস?”

“আপনি আগে শিখেন কিভাবে লাইনে দাঁড়াতে হয়। আর মানুষকে ধাক্কা দিয়ে ঢুকা ভদ্রতা না—এটা অসভ্যতা!”

“ছোট একটা মাইয়া বড়জনের মুখে মুখে তর্ক করোস? পরিবার কিছু শিখায় নাই?”

“করবোই ! কারণ আপনি ভুল করেছেন!আর আমার পা দেখেন—নখ উঠে গেছে আপনার জন্য!”

মহিলা একবার নিচে তাকাল, তারপর নাক সিটকালো,

“এইডা আবার কি হইছে! এতটুকু লাগছে—এইডা নিয়া আবার নাটক শুরু কইরা দিছস!”

“নাটক?আপনার জন্য ইনজুরি হয়েছে—আর আপনি বলছেন নাটক?”

“আরে যা যা, বেশি কথা কইস না! আমারে চেনস না তুই!”

“আমি আপনাকে চিনতেও চাই না। কোন হরিদাস পালের মেয়ে আপনি? “

চারপাশে কয়েকজন থেমে থেমে তাকাচ্ছে ওদের দিকে। মহিলাটি এবার আরও গর্জে উঠে বলল,

“এই মাইয়া, বেশি কথা কইস না—নইলে কিন্তু ঠিক হইবো না!”

প্রিয়ন্তী এক পা এগিয়ে এল,

“কি ঠিক হইবো না? আমাকে থ্রেট দিচ্ছেন?”

রেস্টুরেন্টের একপাশে,অন্ধকার এক কোণায় দাঁড়িয়ে সবেই সিগারেট ধরিয়েছিল তাজধীর। ইমেইল চেক শেষে একটু আগেই উঠে এসে দাঁড়িয়েছিল এখানটায়। অমনি অতি পরিচিত মেয়েলি কণ্ঠে ভ্রু কুঁচকে গেল তার। আরেকবার ভালো করে শুনতেই বুঝতে দেরি হলো না আসলে কণ্ঠটা কার। প্রিয়ন্তী। নামটা মস্তিষ্কে বিধতেই অবিলম্বে সিগারেটটা নিচে ফেলে পা দিয়ে পিষে দিল। তারপর দ্রুত পা বাড়াল কণ্ঠস্বরের দিকে।
ভিড় ঠেলে এগিয়ে এসে একটু দূরে থামতেই দেখতে পেলো প্রিয়ন্তী আর সেই অর্ধবয়সী মহিলা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া দৃশ্যখানা। দুজনেই মগ্ন হয়ে করে যাচ্ছে সেকি তুমুল জগড়া।কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না একচুল ও। তাজধীর কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল শুধু। নীরব দর্শকের মতো সবটা দেখল সে। প্রিয়ন্তী কে এভাবে আগে কখনো দেখিনি সে। মেয়েটা যে এভাবে জগড়া করতেও পারে সেসব ধারণাতেও আসেনি তার।এ যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ! মনে মনে বিড়বিড় করল সে।

এর মাঝেই তার চোখ প্রিয়ন্তীর পায়ের উপর পরতেই নড়েচড়ে দাঁড়ালো তাজধীর। কিছু একটা ভেবেই তৎক্ষণাৎ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে থামলো প্রিয়ন্তীর সামনে। নরম গলায় ওকে উদ্দেশ্য করে আওড়াল,

“আপনার পা থেকে তো র ক্ত ঝরছে! কি হয়েছে পায়ে? ব্যথা পেয়েছেন কী করে?”

কথা বলতে বলতেই প্রিয়ন্তীর হাত ধরে টেনে একপাশে সরিয়ে আনলো তাজধীর। প্রিয়ন্তী একটু ভড়কে গেলেও কিছু বলার আগেই তাজধীর ওকে নিয়ে দাঁড় করাল পাশেই। তারপর একবার চোখ তুলে মহিলার দিকে তাকাল।বিনা বাক্যয় চোখ রাঙিয়ে
শুধু হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিল—এখান থেকে চলে যেতে।মহিলা গজগজ করতে করতে সরে গেল সেখান থেকে। তাজধীর নিচে বসে পড়ল। প্রিয়ন্তীর পা নিজের দিকে টেনে নিল অতি সাবধানে।

“স্টে স্টিল!”

গম্ভীর গলায় বলল সে। পকেট হাতড়ে রুমাল বের করে আলতো করে লেগে থাকা নখের র ক্ত মুছতে লাগল। পাশের ট্যাপ থেকে পানি এনে পরিষ্কার করল জায়গাটা।প্রিয়ন্তী একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। ব্যথা থাকলেও লোকটার এহেন উদ্দীগ্নতায় ভুলে বসল সব।
তাজধীর খুব মনোযোগ দিয়ে কাজটা করল।
রক্তপাতটা থামিয়ে দিল বেশ খানিকটা।

“হয়ে গেছে আপাতত। চলুন!”

উঠে দাঁড়িয়ে বলল সে। প্রিয়ন্তী একটু থেমে হঠাৎ বলল,

“আসল কাজই তো করা হয়নি।

“কি কাজ?”

প্রিয়ন্তী একটু ইতস্তত করে বলল,

“মানে ওয়াশরুমে যাওয়াটাই তো…”

“আমার সাথে চলুন।”

প্রিয়ন্তী বাধ্য মেয়ের মতোই অনুসরণ করল লোকটাকে। রেস্টুরেন্টের ভেতর দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দু’তলায় উঠল দু’জন। ওখানে তুলনামূলক শান্ত, ফাঁকা একটা করিডোর পেরিয়ে তাজধীর একটা দরজার সামনে থেমে বলল,

“এইটা ইউজ করুন।”

তারপর একটু ভ্রু কুঁচকে যোগ করল,

“এখানে ফাঁকা রেখে ওখানে গিয়েছিলেন কেন?”

প্রিয়ন্তী অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

“আমি জানতাম না এখানে আরেকটা আছে।”

“আপনি যান। আমি বাইরে আছি।”


রেস্টুরেন্টের নিচের অংশে তখনো কিছু যাত্রী ঘোরাঘুরি করছে। সময়ও প্রায় শেষের দিকে—হেলপারদের ডাকে বোঝা যাচ্ছে বাস ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রিয়ন্তী আর কিছু না বলে সোজা নিজের বাসের দিকে এগিয়ে গেল। তাজধীরও পেছন পেছন এলো এগিয়ে। বাসে উঠে সোজাসুজি নিজের সিটের সামনে এসে দাঁড়াল প্রিয়ন্তী। ক্লান্ত ভঙ্গিতে পর্দাটা কিঞ্চিৎ সরাতেই বিনা মেঘে বজ্রপাত হওয়ার মতোই চমকে উঠল মেয়েটা। চোখ দুটো মুহূর্তেই বড় বড় হয়ে উঠল।

ভেতরে যা দেখল—তা একেবারেই যে অপ্রত্যাশিত।
দুটো ছেলে মেয়ের আপত্তিকর এহেন দৃশ্যয় এক সেকেন্ডও তাকিয়ে থাকা সম্ভব হলোনা। চট করে পুনরায় পর্দা টেনে দিল ও। একদম স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। সম্বিৎ ফিরতেই তাড়াহুড়ায় সরে এসে প্রায় দৌড়ে নেমে গেল বাস থেকে। তাজধীর তখন ঠিক বাসের দরজার কাছেই ছিল।প্রিয়ন্তী এসে হাপাতে হাপাতে বলল,

“আমার সিট কোথায়? আমার সিটে অন্য কেউ বসে আছে কেন?”

তাজধীর ভ্রু কুঁচকে বলল,

“মানে?”

“মানে আমার সিটে অন্যজনরা বসে আছে কেন? আমি কোথায় বসে যাবো?”

তাজধীর কিছু একটা ভেবে বাসে উঠে নিজের সিটে ঝুঁকতেই চোখ সরু হয়ে এল ওর। তারপর চারপাশে ভালো করে নজর দিল। বাসের ভেতরের পরিবেশ… লোকজন সবকিছুই কেমন যেন আলাদা লাগছে।

তাড়াহুড়ায় বাস ছেড়ে সোজাসুজি নেমে দাঁড়ালো বাইরে। নেমে চারপাশে তাকাল দ্রুত।এটা তো ওদের বাস নয়। আশেপাশে দেখল আবারও। ওদের বাসটা নেই। অস্থির হয়ে দ্রুত হাত ঢুকাল পকেটে।ইশ! ফোঁনটাও তো নেই। নামার আগে ফোনটা চার্জে দিয়ে নেমেছিল সে।

“ওহ শিট!”

প্রিয়ন্তী হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।লোকটার কার্যকলাপ লক্ষ্য করছে আড় চোখে। তাজধীর ওর দিকে তাকিয়ে তাড়া দিয়ে বলল,

“আপনার ফোনটা দিন তো।”

প্রিয়ন্তী সাথে সাথেই বলল,

“ফোন নিয়ে কি কেউ ওয়াশরুমে যায়?”

তাজধীর থমকে তাকালো। বলল,

“মানে… আপনার কাছেও নেই?”

“না! ওটা তো সিটে আছে! কিন্তু আমার সিটে ওনারা কারা? কিছুই তো বুঝছি না! দাঁড়ান—আমি ভাইয়াকে ডাকছি—”

বলে আবার বাসের দিকে এগোতে যাবে—ঠিক তখনই তাজধীর হাত তুলে থামাল ওকে। ভারী গলায় বলল,

“এটা আমাদের বাস না।”

“এহ?”

“মানে—আপনার ঝগড়ার চক্করে আমাদের বাস আমাদের রেখেই চলে গেছে।”

প্রিয়ন্তী চোখ কপালে তুলে বলল,

“হ্যা?!এখন—এখন কি হবে? আমার ফোন আমার ব্যাগ… সব তো ওই বাসে! আর আমার ভাই। আমার ভাই তো ওই বাসে। আমার,আমার ভাইয়ের কি হবে? “

তাজধীর বিরক্ত হয়ে বলল,

“কিভাবে এখন আমরা পৌঁছাবো—সেই টেনশন না করে আপনি ফোনের জন্য টেনশন করছেন? আর এই মুহূর্তে আপনার ভাই নয় বরং নিজের জন্য চিন্তা করুন। কিভাবে পৌঁছাবেন বাকিটা পথ সেটা ভাবুন আপাতত।”

এরপর কিছু একটা ভেবে তাজধীর পুনরায় বলল,

“আপনি এখানে দাঁড়ান আমি আসছি!”

বলেই উক্ত বাসের ড্রাইভায়ের সঙ্গে কথা বলল তাজধীর। জানালো ওদের হুট্ করে বাস মিস হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা। ড্রাইভার তাজধীরের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনল। অবশেষে মাথা নেড়ে বলল,

“আপনাদের ভাগ্য ভালো বলতে হবে। ভাগ্যক্রমে আজ আমাদের একটা কাপল সিট্ বুক করা ছিল। যাত্রীও উঠেছিল। তবে কোনো একটা পার্সোনাল ইস্যুতে আবার ওনারা নেমে পরে মাঝ রাস্তায়। আপনারা চাইলে সেটায় উঠতে পারেন। তবে একটা শর্ত আছে—ওই সিটটা রিজার্ভ ছিল। এখন আপনাদের নিতে হলে ভাড়া দ্বিগুণ করে দিতে হবে আমায়।”

“ঠিক আছে। সমস্যা নেই।”

ড্রাইভার একটু অবাক হলেও আর কিছু বলল না। মাথা নেড়ে বলল,

“ওকে, তাহলে দ্রুত উঠে পড়েন।”

ড্রাইভায়ের কাছ থেকে আশ্বস্ত হয়ে তাজধীর নেমে এলো বাস থেকে। প্রিয়ন্তী তখনো কনফিউজড হয়ে বলল,

“কি হলো?”

“ব্যবস্থা হয়েছে। এই বাসেই সিট খালি আছে।”

প্রিয়ন্তী স্বস্তির নিঃশাস ফেলে বলল,

“ওহ আলহামদুলিল্লাহ!”

তাজধীর পুনরায় শান্ত গলায় যোগ করল,

“তবে একটাই কাপল সিট খালি আছে আপাতত। সেটায় করেই যেতে হবে আমাদের দুজনকে।”

চলবে….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply