Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটেনি পর্ব ১৩


ডেসটেনি [ ১৩ ]

সুহাসিনি_মিমি

সকালের নাস্তার জন্য ডাইনিং টেবিলটা একাধারে সাজিয়ে যাচ্ছেন বাড়ির সার্ভেন্টরা। টেবিলের উপর চোখ পড়লে মনে হবে ছোটখাটো কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে বোধহয়। চার কোনা বিশিষ্ট কাঁচের টেবিলটা ভরে আছে খাবারের প্লেটে। টেবিল জুড়ে সারি সারি খাবার রাখা যেখানে —গরম লুচি, পরোটা, খাসির নেহারি, ডিম ভাজি, আলুর দম, সেমাই, ফ্রুট সালাদ, পায়েস, মধু আর বাটার থেকে শুরু করে হরেক রকম নাম না জানা বিদেশী আইটেম ও আছে। একপাশে গরম চা আর ফ্রেশ জুসও সাজানো। হাসিবের মায়ের আদেশে সবাই একে একে বসে পড়ল চেয়ার টেনে।

তাজধীর নিজেদের সঙ্গে হাসিবকেও একপ্রকার জোরপূর্বক টেনে বসালো। ওরা সবাই বসা মাত্র হাসিবের মা, রোজিনা বেগম সার্ভেন্টদের ইশারায় বললেন সেখান থেকে চলে যেতে। ওরা সবাই বাড়ির মানুষই। যা লাগবে নিজেদের পছন্দমত, নিজেদের ইচ্ছেমতো সেটাই নিয়ে খাবে। এমনটাই ধারণা ভদ্রমহিলার। একপাশে বসেছে তাজধীর হাসিব আর হীরা। রোজিনা বেগম বসেছেন মাঝা বরাবর। অপর পাশে মিতালী, পাভেল আর প্রিয়ন্তী বসেছে। তবে সবার দৃষ্টি আপাতত খাবারের দিকে নিবদ্ধ থাকলেও প্রিয়ন্তীর গাঁ হিম ধরা জ্বলন্ত অক্ষীযুগল তাক করা সরাসরি তাজধীরের পাশে বসা হীরা মেয়েটার উপর। ওই দৃষ্টিতে ভস্ম করে দিবে যেন। পরোক্ষনে নিজেকে সামলালো প্রিয়ন্তী। মনে মনে বিড়বিড় করে নিজেকে নিজেই ধমকে উঠল। একটু বেশিই ভাবছিস তুই প্রিয়ন্তী। মেয়েটা হয়তো নিজের ভাইয়ের মত করেই দেখেন উনাকে। আর তাছাড়া মেয়েটা সবেই কিশোরী। এমন সময় মেয়েদের মধ্যে একটু জড়তা কাজ করবেই। এটা স্বাভাবিক নয়কি? বাদ দে। বাদ দে। আপাতত খাবারে কনসেনট্রিট কর বোকা মেয়ে।

নিজেকে নিজেই ধমকে ধামকে খাবারে পূর্ণ মনোযোগ দিলো প্রিয়ন্তী। এমন সুস্বাদু খাবার সামনে পেয়ে সবাই কমবেশি খেল জোড় করে। পাভেল প্লেট ভর্তি করে খেতে খেতে হঠাৎ একটা খাসির নেহারিটা তাজধীরের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে জানাল,

“ভাই, এটা ট্রাই করে দেখুন। খুব মজা হয়েছে!”

বরাবরই খাসির মাংসে এলার্জি তাজধীরের। তাই সে কিছু বলতে যাবেই অমনি পাশ থেকে হঠাৎ হীরার উদ্বিগ্ন কণ্ঠ ভেসে উঠল,

“না না! ওটায় উনার এলার্জি আছে। ওটা খাবেন না, তাজধীর ভাই!”

হীরার কথায় আশেপাশের সবাই অবাক হলো। পাভেল আলগোছে সরিয়ে আনলো সেটা। হাসিব ভ্রু তুলে হাসল অল্প। কারও মুখে সরাসরি কিছু না থাকলেও বোঝা গেল—কথাতে অবাক হয়েছে সকলেই । তাজধীরের পছন্দ অপছন্দ হীরা সবকিছুই নিজের আয়ত্তে রেখেছে।তবে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে বোধহয় প্রিয়ন্তী। মেয়েটার হাত থেমে গেছে প্লেটের উপরেই। ভ্রু কুঁচকে হীরা মেয়েটাকে অবলোকন করছে সে। একবার চোখ তাজধীরের দিকে, তারপর হীরার দিকে গিয়ে আটকাচ্ছে।আশ্চর্য লোকটা তখনো খেয়েই যাচ্ছে।

বুকের ভেতর কেমন খচখচ করে উঠল প্রিয়ন্তীর। আশ্চর্য ওকি জেলাস হচ্ছে? ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও উপরে নিজেকে যথেষ্ট স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। চুপচাপ মাথা নিচু করে খেতে লাগল ও।

খাওয়া চলতে লাগল স্বাভাবিকভাবেই। খাওয়া শেষের দিকে হীরা আবার উঠে গেল ভেতরে। কিছুক্ষণ পর হাতে একটা ছোট বাটি নিয়ে ফিরে এল। বাটিটা নিয়ে সরাসরি তাজধীরের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

“একবার এটা ট্রাই করে দেখুন। আপনার জন্য বানিয়েছি।”

বাটিতে ছিল ক্ষীর মালাই—ঘন দুধে তৈরি, উপরে বাদাম-পেস্তা ছড়ানো। তাজধীরের পছন্দের একটি ডেজার্ট। তাজধীর এবার সত্যিই একটু অবাক হলো। ভ্রু তুলে তাকিয়ে বলল,

“তুই নিজে রেঁধেছিস?”

“হ্যাঁ।”

তাজধীর ঠোঁট দুটো প্রসারিত করে বলল,

“বাহ্! আমাদের হীরা তো দেখি অনেক বড় হয়ে গেছে।”

পাশে বসে থাকা হাসিবের মা হেসে বললেন,

“আর বলো না! তুমি আসবে বলেই সেইজে সকালে কিচেনে ঢুকেছে আর বের হয়নি!”

“তোর জন্যই বানাইছে ভাই। তোর চাঁদ কপাল! আমি বললে এক গ্লাস পানিও এগিয়ে দিবে না।”

হাসিবের কথায় হেসে উঠে সকলে। শুধু প্রিয়ন্তী বাধে।ও চুপচাপ বসে তখনো। হাতে চামচ থাকলেও আর খাওয়ার দিকে মন নেই। হাতে থাকা চামুচটা নেড়েচেড়ে যাচ্ছে বারংবার।


নাশতা শেষ হতেই খানিক্ষন বাঁধেই হাসিবের মা সবাইকে নিয়ে উপরে চললেন। ওদের সবাইকে আলাদা আলাদা করে রুমে নিয়ে গেলেন। তাজধীরকে এক রুম, মিতালী আর পাভেলকে আরেকটি রুম, আর প্রিয়ন্তীকে তার নিজস্ব রুমে থাকতে দেয়া হলো।

নিজের থাকতে দেয়া রুমে ঢুকে দরজাটা ঠাস করে বন্ধ করে হাতে থাকা ব্যাগটা খাটের উপর ছুড়ে ফেলল প্রিয়ন্তী। এতক্ষনে নিজেকে প্রানপনে ধমিয়ে রাখার ধৈর্য্য,সহ্য টুকু এবার উপচে বেরিয়ে আসছে বাইরে। চরম অস্থিরতায় এপাশ ওপাশ পায়চারি করতে লাগলো ও। কিছুইতেই শান্ত হচ্ছেনা মনটা।

তন্মধ্য ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে নিয়ে কল লাগালো কাউকে। একবার রিং বেজে কেটে গেলে পরপর আবারও কল লাগায় ও। এইবার কলটা রিসিভ হতেই রাগে গজগজ করে উঠে পুরোদমে,

“একটু খানি একটা পুচকে বাচ্চা। নাক টিপ টিপলে দুধ বের হবে, অথচ ভাব দেখো পুরো জেঠি আম্মাদের মত! মনটা তো চাচ্ছে মেয়েটার মাথাটা ফাটিয়ে দিতে!”

ওপাশ থেকে শ্রেয়ার উৎকন্ঠীত কণ্ঠ ভেসে এলো সঙ্গে সঙ্গেই,

“কিরে কার মাথা ফা টাবি? কার কথা বলছিস? কে আবার কি করল?”

প্রিয়ন্তী আগের ন্যায় এবারও ফোঁসফোঁস করতে করতেই বলল,

“সামান্য একটা পুচকি বাচ্চা তার আবার এত সাহস! তুই জানিস কি করেছে মেয়েটা? “

“কি করেছে? না বললে জানবো কিভাবে ভাই?”

“কি করেনি বল? ওনার জন্য নিজের হাতে জুস্ বানিয়ে নিয়ে আসে। সার্ভ করে আবার নিজের হাতে। সেটা আবার ওনার পায়ের উপর ফেলে দিয়ে আহাম্মকের মত নিজেই পরিষ্কার করতে যায়। ভাবতে পারছিস কতটা সেয়ানা এই মেয়ে?”

“আরেহ বাবা কোন মেয়ে? কার কথা বলছিস তুই?”

“আরেহ হীরা। হাসিব ভাইয়ের বোন!”

এতক্ষনে বিষয়টা খানিকটা ঠাহর করতে পারল শ্রেয়া। গতকাল শুনেছে ওরা আজ হাসিবদের বাড়িতে যাবে। নিশ্চই সেখানেই কিছু ঘটেছে ভেবে পুনরায় জিজ্ঞেস করে,

“এখন মাথা ঠান্ডা করে বলতো কি হয়েছে এক্সাক্টলি?”

প্রিয়ন্তী ফুস করে একবার দম ছাড়ে। এরপর খাটের পাশে গিয়ে বসে আরেকবার বড়োসড়ো করে একটা নিঃশাস নেয়। পরপর খুলে বলে সমস্ত ঘটনা বান্ধবীকে। আচানকই অপর প্রান্তে থাকা মেয়েটা এবার শব্দ করেই হেসে উঠল। পরিহাস করে আওড়াল,

“প্রিয়? শেষমেষ কিনা তোর থেকে ছোট একটা মেয়ের উপর জেলাস হচ্ছিস তুই?”

“কথাবার্তা সামলে বলবি শ্রেয়ার বাচ্চা। ওই মেয়ের সাহস দেখে রীতিমতো অবাক হচ্ছি আমি। আর ওই ব্যাটা নিরামিষর বাচ্চার কি কোনো হুদিস জ্ঞান নেই নাকি? সালা নিজেও তো একবারও দেখলাম না কিছু বলতে!”

“উনি কি বলবে? হয়তো মেয়েটাকে উনি নিজের ছোট বোনের নজরে দেখে!”

“সে যাই হউক। মেয়েটাকে আমার মোটেও সহ্য হচ্ছেনা ভাই! ষোলো বছরের পুচকি একটা মেয়ে জানে না উনার বয়স কতটা?ওদের মধ্যে বয়সের গ্যাপ কি আদৌ জানা নেই মেয়েটার?”

“ভাই এমন ভাবে বলছিস যেন তুই উনার সমবয়সী? তোদের মধ্যেও তো এইজের বিশাল গ্যাপ আছে!”

“তবুও আমি ভার্সিটিতে পড়ি। আর ওই মেয়ে তো এখনো স্কুলের গন্ডিই পাড় করতে পারেনি। তার আগেই পেকে ঝুনা হয়ে আছে!”

“ঠিক আছে, ঠান্ডা মাথা কর। আর হ্যাঁ, এখন কোথায় আছিস?”

প্রিয়ন্তী নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,

“রুমে।

“আজ কি ওখানেই থাকবি?”

“জানিনা!”


দুপুরের খাবার শেষে যে যার রুমে ফিরে এলো পুনরায়। প্রিয়ন্তী ওর রুমে সেইজে ঢুকেছে আর বেরোয়নি একবারও। সন্ধ্যার দিকে, প্রিয়ন্তীর ঘুম ভাঙল—ফোনের শব্দে। আদো আদো চোখ দুটো স্পষ্ট মেলে রিসিভ করে কানে তুললো ফোনটা। বুঝেছে মেয়েটা অনেক্ষন যাবৎ ওর থেকে কোনো আপডেট না পেয়ে অস্থির হয়েই কল দিয়েছে। হলো ও তাই। ফোন ধরতে না ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো কৌতূহলি স্বর,

“কিরে কিরে কি করছিস মাইয়া? আর কোনো খবর নাইজে তোর? কই আছিস?”

“ঘুমাচ্ছিলাম আমি। পরে ফোন দেই তোকে?”

“আরেহ আগে বল সারাদিনে আর কি কি করলি? তোর কমান্ডার কই? তুই যে রুমে ঘাপটি মেরে আরাম করছিস ওদিকে যদি ওই হীরা না ফিরা তোর কমান্ডার কে বশ করে ফেলে?”

এতক্ষনে তরাক করে চোখ মেলে প্রিয়ন্তী। সত্যিই তো। ওর মাথায় তো একটুর জন্যও আসেনি সেটা। এই মেয়ে যে হারে পাকনা তাতে উল্টা পাল্টা কিছু করতে দ্বিতীয় বার ভাববে না। দুপুরে খাওয়ার সময়ও তো নিজে বড়োদের মত পাকামি করে করে বেড়ে বেড়ে খাওয়াচ্ছিলো তাজধীর কে। আর মুখ দিয়ে তাজধীর ভাই তাজধীর ভাই বলতে বলতে ফেনা উঠিয়ে ফেলেছে। একটু খানি একটা মেয়ে ওনাকে নাম ধরে ডাকবে? আর উনিই বা কেমন, তাতে কোনো আপত্তি বা অসন্তুষ কিছুই নেই?

প্রিয়ন্তী ধরা গলায় বলল,

“এটা আগে বলবি না বাল। এতক্ষনে তোর বলার সময় হলো?”

অমনি দরজায় কড়ানাড়ার শব্দে ফোনটা কানে চেপেই উঠে দাঁড়ালো প্রিয়ন্তী। দরজা খুলে সামনে আবিষ্কার করল ভাবিকে। ইশারায় বলল,

“কি হয়েছে ভাবি?”

“আরেহ রুমের মধ্যে কি করছো? এখানে কি ঘুমাতে এসেছো। বাইরে আসো জলদি। দেখে যাও!”

“কি দেখবো?”

“না আসলে দেখবে কি করে। আমার সঙ্গে চলো তো!”

বিছানায় থেকে ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে ফোন কানে চেপেই ভাবীর সঙ্গে বের হলো প্রিয়ন্তী। মিতালী ওকে সোজা বাড়ি থেকে বের করে এনে বাড়ির পিছন সাইডে নিয়ে যাচ্ছে দেখে চলা অবস্থাতেই প্রশ্ন করল,

“আরেহ ওখানে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ সেটা তো বলো?”

“তোমার ভাই ব্যাডমিন্টন খেলছে!”

“তো এতে কি হয়েছে? খেলতেই তো পারে স্বাভাবিক!”

“আরেহ কথা না বাড়িয়ে আসো তো আগে। না দেখলে মিস করবা!”

বলেই মেয়েটাকে আর কিছুই বলার ফুরসৎ না দিয়েই এক প্রকার টেনে বাড়ির ব্যাক ইয়ার্ডে নিয়ে থামলে মিতালী।

হাসিবদের বাড়িটা আকারে বিশাল। তেমনি বিশাল বিস্তৃত জায়গাজুরে বাড়ির ঠিক পিছনটায় একটা বড় প্লে গ্রাউন্ড বানানো হয়েছে। হয়তো বা বাড়ির ছেলে মেয়েরা এখানেই তাদের অবসর সময় পাড় করে। বড়লোকদের বিশাল কারবার।

সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠটার চারিদিকে আয়তকার জায়গায় জুড়ে আবার বসার জায়গায় ও আছে। বলা চলে অনেকটা টিভিতে দেখা সেই আন্তর্জাতিক মাঠের মতোই। তার মাঝে আপাতত একটি নেটের জাল টানানো। সেখানে আপাতত একপাশে তার ভাই আর হাসিব আর অপর পাশটায় দাঁড়ানো তাজধীর।

প্রিয়ন্তীর চোখ গিয়ে থামল সেখানেই। লোকটার পরনে ট্রাউজার স্যুট। পায়ে সাদা কেডস। খেলছে যেন উড়ে উড়ে। একা একজন মানুষ, অথচ ওর ভাই আর হাসিব মিলে যেভাবে লড়ছে, তাতেও যেন লোকটাকে টেক্কা দিতে পারছে না। লোকটার প্রতিটা মুভমেন্ট—আত্মবিশ্বাসী, নিখুঁত, শক্তিশালী। র‌্যাকেট চালানোর ভঙ্গি বলে দিচ্ছে লোকটার দক্ষতা। এই মানুষটার সবকিছুতেই কেমন একটা ম্যানলি ভাইব ফুটে উঠে।যা মানুষকে আকর্ষণ করতে সক্ষম। প্রিয়ন্তী একদৃষ্টিতে তাকিয়েই রইল। লোপ পেলো ধ্যান জ্ঞান। মন্ত্রমুগ্ধর ন্যায় চেয়েই রইলো নির্নিমেষ। চোখে যেন আর কিছুই পড়ছে না।

দীর্ঘক্ষন যাবৎ বান্ধবীর থেকে কোনো রেসপন্স না পেয়ে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শ্রেয়া “হ্যালো, হ্যালো!” করেই যাচ্ছিল অনেকক্ষণ যাবৎ। কিন্তু প্রিয়ন্তীর কানে কিছুই ঢুকছে না। বুঁকের ভিতরটা সমান তালে ঢিপঢিপ করছে। নাম না জানা অনুভূতিতে আষ্টে পিষ্ঠে ধরেছে ওকে।
ঠিক তখনই—তাজধীর হঠাৎ থামল। কপালে জমে থাকা ঘাম হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিয়ে, এক টানে খুলে ফেলল উপরের জেকেটটা। হাঁটতে হাঁটতে সেটি এগিয়ে দিল পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক মেয়ের দিকে।
অমনি ধ্যান ভাঙল প্রিয়ন্তীর। চোখের পাতা কাঁপল সামান্য। মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল মুহূর্তে।

ওখানে দাঁড়িয়ে আছে হীরা। মেয়েটার হাতে শুধু কোট নয়—তাজধীরের ওয়ালেট, ফোন—সবকিছুই খুব যত্ন করে হাতে ধরে আছে মেয়েটা। অদ্ভুত এক অনুভূতি বয়ে গেল প্রিয়ন্তীর ভেতর দিয়ে। মুহূর্ত আগের মুগ্ধতা বিলীন হয়ে তরতর করে জন্ম নিলো একরাশ ক্ষোভ।

খেলার গতি ধীরে ধীরে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠেকল। চারপাশে নিঃশ্বাস আটকে রাখা নীরবতা—শুধু শাটলককের তীক্ষ্ণ শব্দ আর র‌্যাকেটের আঘাতের প্রতিধ্বনিই শোনা যাচ্ছে। শেষ সার্ভটা দিল তাজধীর।
চোখের পলকে দৌড়ে গিয়ে এমন এক শট মারল—যেটা প্রতিহত করার সুযোগই পেল না ওর ভাই আর হাসিব। শাটলটা নিঃশব্দে গিয়ে পড়ল তাদের কোর্টে।
খেলা শেষ। জয়ী—তাজধীর।

প্রিয়ন্তীর চোখ স্থির হয়ে রইল তাজধীরের উপরেই। নিজের চোখের সামনেই দেখল—তার ভাই, আর হাসিব—দুজন মিলে যাকে হারাতে পারল না, সেই মানুষটা একাই জিতে গেল। খেলা শেষে সবাই একত্রে জড়ো হলো একজায়গায়। পাভেল হাপিয়ে পানি খেতে খেতে হেসে বলল,

“ভাই, আপনি তো সেই দুর্দান্ত খেলেন! হাসিব ভাই ঠিকই বলেছিলো!”

তাজধীর ভ্রু ভুলে জানতে চাইলো,

“কি বলেছে ও ?”

পাভেল উত্তেজিত গলায় বলল,

“আরে, আপনি একা আর আমরা দুজন একসঙ্গে টিম—তাই আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, পারবেন কিনা! হাসিব ভাই বলল, আপনি একাই নাকি একশো জনের সমান! প্রথমে তো বিশ্বাস করি নাই, তবে এখন হারে হারে বুঝলাম!”

কথাটা শেষ হতে না হতেই মাঝ খানে ফোড়ন কাটলো হীরা,

“হবেনা? আমার তাজধীর ভাই পরপর দুই দুইবারের “BWF”ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্যাডমিন্টনে!”

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply