ডেসটেনি [ ১২ দ্বিতীয় অংশ]
সুহাসিনি_মিমি
রাত আনুমানিক দশটার ভিতরেই ওরা সবাই হোটেলে ফিরলো। আশার পথে একবারে রাতের ডিনার শেষ করেই এসেছে। হোটেলে ফিরে সবাই একসাথে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল যেন। সারাদিনের এত এত জার্নি, ঘুরাঘুরি সব মিলিয়ে শরীরটা বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সবারই। লবিতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করে যে যার রুমের দিকে চলে গেল।
প্রিয়ন্তী নিজের রুমে ঢুকেই দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করল। গলায় থাকা ওড়নাটা অলস্য ভঙ্গিতে ছুড়ে মারল বিছানায়। পরপর ফ্রেশ হতে চলে গেল ওয়াশরুমে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্লান্ত মুখটা দেখে আপনাআপনি একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল ওর।
মুখে পানির ঝাপটা দিতে চোখ দুটো বন্ধ করতেই চক্ষু স্পটে ভেসে উঠল সেই ভিবৎস দৃশ্যখানা। অমনি গা শিউরে উঠে চোখ মেলল তড়িঘড়ি। পায়ের নিচটা তো এখনো পিলপিল করছে। মনে হচ্ছে পিচ্ছল জিনিসটা এখনো ওর পায়ের পাতার মধ্যে আটকে আছে।
বেন্টিবেগে থাকা ফোনটা কতক্ষন যাবৎ ভাইব্রেট হয়ে বেজেই যাচ্ছে। প্রিয়ন্তী ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে ফোনটা তুলে নিলো হাতে। স্ক্রিনে বান্ধবীর নামটা দেখে আর দেরি করলোনা। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে চেনা কণ্ঠটা প্রায় উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল এবার,
“এই মাইয়া কই তুই? সারাদিনে একবারও ফোন দিলি না!কমান্ডার বেয়াই পেয়ে বান্ধবীদের ভুলে গেলি? জলদি আপডেট বল। আজকে কি কি করলি সব বল তাড়াতাড়ি! আমার সহ্য হচ্ছেনা!”
প্রিয়ন্তী বিছানার কোণে আরাম করে বসল এবার। এরপর বলে উঠল,
“আরে ধীরে! আমি এখানেই আছি ভাই। এত হাইপার হচ্ছিস কেন?”
“না না, আগে বল। তোরা আজকে কোথায় গিয়েছিলি? কি করছিলি? এই দাড়া ছবি কই? ছবি তোলোস নাই?”
“আজকে যা হয়েছে না, তোকে বললে তুই বিশ্বাসই করবি না।”
ওপাশ থেকে সাথে সাথেই উত্তর এল,
“আচ্ছা! তাহলে তো আরও কিউরিয়াস মামা। জলদি বলতো কি হয়েছে।”
প্রিয়ন্তী এবার পুরো ঘটনাটা খুব সংক্ষিপ্ত আকারে খুলে বলল। সকাল থেকে শুরু করে ওর সঙ্গে ঘটা যাবতীয় ঘটনাই শেয়ার করল বান্ধবীকে। সব শুনে ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধতা জারি রেখে তারপর হঠাৎ চিৎকার করেই উঠল মেয়েটা,
“কি বলছিস! তোর পায়ের নিচে সত্যি সত্যি সাপ ছিল?”
প্রিয়ন্তী বিরক্ত গলায় বলল,
“হ্যাঁ রে! আমি তো প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম ভাই। এরকম হরিবল এক্সপেরিয়েন্স কোনো শুত্রুর ও না হোক!”
ওপাশ থেকে হাসির শব্দ ভেসে এল তৎক্ষণাৎ। যেন মেয়েটা খুব মজা পাচ্ছে।উৎসুক হয়েই জানতে চাইলো পুনরায়,
“তারপর? তারপর কি হলো? নিশ্চই আমাদের কমান্ডার সাহেব তোকে সেইফ করেছিল? “
প্রিয়ন্তী থেমে বলল,
“হ্যা তাজধীর ভাই সাপটাকে টেনে ধরে ছুড়ে ফেলেছিলো। তবে এর আগে অবশ্য আমাকে টিজ করতে ভুলেনি। ”
ওপাশ থেকে সাথে সাথেই নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে থামে মেয়েটা,
“ওহহ! নায়ক এন্ট্রি!হু?ভাবতে পারছিস কি জোস্ একটা সিন্?ইশ আমার তো ভাবতেই ব্লাসিং ব্লাসিং ফিল হচ্ছে!”
প্রিয়ন্তী মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“উফ! নায়ক-টায়ক কিছু না।ওনার জায়গায় যে কেউ থাকলে অমনটাই করতো। স্বাভাবিক!”
“তোরে কি আমি শুধু শুধু বলদ বলি?আচ্ছা বাদ দে। তুই তো এমনিতেও বলদ। বাট লোকটা কিন্ত সেই মামা।”
“মানে?”
“মানে! দেখ প্রতিটা ক্ষেত্রেই লোকটা কেমন নায়ক স্টাইলে এসে তোকে সেইভ করে যাচ্ছে?”
প্রিয়ন্তী একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল,
“বাল।উনি উল্টো আমাকে নিয়েই মজা করছিল।”
ওপাশ থেকে আবার প্রশ্ন এলো,
“আরেহ ওটা, ওয়ান কাইন্ড অফ রোমান্টিক মোমেন্ট! ওসব তুই বুঝবি না। একেকজনের লাভিং স্টাইল একেকরকম। আচ্ছা এরপর কি করলি আর?”
প্রিয়ন্তী হাসতে হাসতে হাসিবের পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটাও বলল এবার। সব শুনে মেয়েটা প্রায় হেসে লুটোপুটি খাওয়ার মত অবস্থা নিয়ে বলল,
“আরে থাম থাম! আমি কল্পনা করেই হাসতেছি ভাই। এই হাসিব ব্যাটা তো একটা চিজই।”
বান্ধবীর সঙ্গে গল্প করতে করতে ক্লান্তির ভার একটু একটু করে কমে যাচ্ছিল বৈকি। ওপাশ থেকে শ্রেয়া আবারও আগ্রহভরা কণ্ঠে শুধাল,
“আচ্ছা এত কিছু বললি, কিন্তু ছবি কই? সারাদিন ঘুরলি, একটা ছবিও পাঠাবি না? আমি দেখবো না?”
I
প্রিয়ন্তী হালকা হেসে ফোনটা স্ক্রল করতে করতে বলল,
“আরে আছে তো। আজকে জাফলং গিয়ে বেশ কয়েকটা গ্রুপ ছবি তুলেছিলাম। দাড়া পাঠাচ্ছি।”
এক এক করে কয়েকটা ছবি পাঠিয়ে দিল ও।জাফলংয়ের পাথুরে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি, পাহাড়ের পটভূমিতে সবাই মিলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি—সবই ছিল সেগুলোর মধ্যে। ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা ভেসে এলো বিনিময়ে। মনে হচ্ছিল শ্রেয়া অধীর মনোযোগ দিয়ে প্রতিটা ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। হঠাৎই মেয়েটা বলে উঠল,
“এই ভাই! একটা জিনিস খেয়াল করেছিস?”
প্রিয়ন্তী অবাক হয়ে বলল,
“কি?”
“দেখেছিস লোকটা তোর দিকে কিভাবে তাকিয়ে ছিল?”
প্রিয়ন্তী সঙ্গে সঙ্গেই সোজা হয়ে বসল। অবিলম্বে বলল সে,
“কি বলছিস! কোথায় তাকিয়েছে?”
শ্রেয়া বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,
“আরে বলদ! ভালো করে দেখ। লাস্টে যে ছবিটা পাঠিয়েছিস, ওইটায় তোদের সবার দৃষ্টি ক্যামেরার দিকে। কিন্তু লোকটা—সে কিন্তু তোর দিকেই তাকিয়ে আছে। ভালো করে জুম করে দেখ মাইয়া!”
বান্ধবীর কথায় প্রিয়ন্তী তৎক্ষণাৎ সেই ছবিটা খুলে দেখল। কিছুক্ষণ মন দিয়ে তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করল।
সত্যিই তো! ছবিটায় তাজধীর সামান্য ঝুঁকে আছে, আর তার দৃষ্টি যেন প্রিয়ন্তীর দিকেই নিবদ্ধ। তবে কি লোকটা সত্যিই ওর দিকে তাকিয়ে ছিল? নাকি ওর পেছনে অন্য কিছু দেখছিল? সেটা নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছে না। মুহূর্তেই নিজের অস্বস্তিটা লুকিয়ে নিয়ে প্রিয়ন্তী ধমকের সুরে বলল প্রায়,
“উনি যে আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল এটা তুই কিভাবে শিওর হলি?”
শ্রেয়া হেসে উঠল শব্দ করে। বলল,
“আরে বলদী, একটা ছেলের তাকানোর স্টাইল দেখলেই আমি বলে দিতে পারি। ছেলেরা যখন কোনো মেয়ের দিকে তাকায় না তখন ওদের চোখে এক অন্যরকম নেশা ফুটে ওঠে।”
প্রিয়ন্তী অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
“সামান্য একটা ছবি দেখে তুই এতকিছু বলে দিতে পারছিস?”
শ্রেয়া সঙ্গে সঙ্গেই কটাক্ষ করে বলল,
“আমি কি তোর মত বলদ নাকি? জীবনেও একটা রিলেশন করেছিস? সবসময় বলিস—ছেলেদের নাকি তোর ট্রাস্ট হয় না! আরে সব ছেলে একরকম হয় না মামা।”
প্রিয়ন্তী বিরক্ত হয়ে বলল,
“হইছে! এখন আউল-ফাউল লেকচার বন্ধ কর।”
শ্রেয়া দুষ্টু গলায় বলল,
“ঠিক আছে, ঠিক আছে। এখন থেকে শুধু তোমার কমান্ডারকে নিয়েই কথা বলব।ওটাই তো শুনতে চাইছো পাখি!”
প্রিয়ন্তী তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করল,
“উনি মোটেও আমার কমান্ডার না। সো প্লিজ—‘আমার, আমার বলা বন্ধ কর।”
শ্রেয়া হাসতে হাসতেই বলল,
“আজ না হোক কাল হবেই। আমার তো ভাবতেই ভালো লাগছে—আমার বান্ধবী হবে কিনা একদিন লেফটেন্যান্ট কমান্ডারের বউ! আচ্ছা তখন তোকে ধরা যাবে তো?”
“না!”
প্রিয়ন্তী প্রায় রেগেই বলল কথাটা। কিন্তু কথাটা বলার পরই হঠাৎ করে যেন ভেতরে কোথাও একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল ওর মনে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আচমকাই প্রশ্ন করে বসল,
“আচ্ছা শ্রেয়া… উনি কি সত্যিই আমাকে পছন্দ করে রে?”
“এই তো চান্দু, এইবার লাইনে আসছিস।”
“হেঁয়ালি না করে সরাসরি বল।”
শ্রেয়া এবার একটু গম্ভীর স্বরে বলল,
“বেটা শুধু পছন্দ না। পছন্দের সীমা অলরেডি অতিক্রম করে ফেলেছে ইতিমধ্যে।”
প্রিয়ন্তীর গলায় বিস্ময় ফুটে উঠল,
“সত্যি বলছিস?”
“আমি দূর থেকে বুঝতে পারছি, আর তুই কাছাকাছি থেকেও বুঝতে পারছিস না?”
প্রিয়ন্তী একটু থেমে বলল,
“কিভাবে বুঝব উনি আমাকে পছন্দ করে?”
শ্রেয়া কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বলল,
“ওটা সরাসরি বলে বুঝানো যাবেনা। তবে কিছু হিন্ট দিতে পারি।”
প্রিয়ন্তী চুপচাপ শুনতে লাগল।শ্রেয়া পুনরায় বলতে লাগল,
“যেমন ধর, লোকটার কাছাকাছি গেলে তোর ভিতরে একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করবে।উনাকে দেখলে মনে হবে সময়টা যেন থেমে যাক। আশেপাশের সবকিছু থেমে থাক। কখন সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে—সেদিকে তোর খেয়ালই থাকবে না।উনার কথা শুনলে অকারণেই তোর ভালো লাগবে। উনার কাছে দাঁড়ালে তোর বুকটা অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করবে।স্বাভাবিক নয়, বড্ড অস্বাভাবিক ভাবে চলবে হৃদস্পন্দন। আর যদি বাই চান্স কখনো উনার স্পর্শ লাগে, মনে হবে শরীরের ভেতর কোনো হাই ভোল্টেজের কারেন্ট বয়ে গেছে!”
প্রিয়ন্তী নিশ্চুপ হয়ে শোনলো সবটা। শ্রেয়া আবার বলল,
“আর একটা কথা—ওনাদের পার্সোনালিটি কিন্তু খুব স্ট্রং মামা । ওই বয়সের মানুষগুলো এমনই হয়। মুখে কিছু স্বীকার করবে না। ওরা কিন্তু ‘প্রেম ট্রেম” করবে না। ওনাদের কি প্রেম করার বয়স আছে? দেখবি, সরাসরি একদিন বাসায় গিয়ে মায়ের কাছে তোর বিয়ের প্রপোজাল দিয়ে বসবে। যদি না দেয়—তখন আমার নাম পাল্টে দিস।”
বিয়ের কথাটা শুনতেই প্রিয়ন্তীর গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে উঠল কেমন। মনে হলো বুকটাও কাঁপলো অস্বাভাবিক ভাবে। অদ্ভুত, অচেনা,অতিসুন্দর একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল ভিতরটায়। নিজেকে সামলে নিয়ে সে আবার বলল,
“এরকম ফিল হলেই বুঝবো আমি প্রেমে পড়েছি?”
“পড়েছি না। পরে গেছিস। তাও আবার গভীর প্রেমের খাঁদে। যেই খাঁদ থেকে নেভিয়ান ধুলাভাই ছাড়া আর কেউ উঠাতে পারবে না!”
“ধেৎ!চুপ থাকতো!”
লাজুক হেসে কপট রাগ দেখিয়ে বলে প্রিয়ন্তী। এভাবেই আরও কিছুক্ষন দুজনের মধ্যে আড্ডা চলল।
কথা বলতে বলতে কখন যে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে কেউই খেয়াল করেনি। শেষে শ্রেয়া হাই তুলে বলল,
“চল, এখন রাখি। কাল আবার সব আপডেট দিবি।”
প্রিয়ন্তী মৃদু হেসে বলল,
“ঠিক আছে।”
কলটা কেটে গেল তখনি। ঘরের নিস্তব্ধতায় ফোনটা নামিয়ে রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল প্রিয়ন্তী।
এরপর ফোনটা পুনরায় অন করে আনমনেই সেই ছবিটায় দৃষ্টি তাক করল। যেখানে তাজধীর সামান্য ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার দৃষ্টি যেন ঠিক প্রিয়ন্তীর দিকেই। বিড়বিড় করে আওড়াল প্রিয়ন্তী,
“আমার নিরামিষ কমান্ডার?”
সেদিনের রাতটা কোনোভাবে কাটালেও প্রিয়ন্তীর চোখে ঘুম তেমন একটা জোটেনি। অদ্ভুত সব ভাবনা আর দিনের ঘটনাগুলো বারবার এসে ভিড় করছিল মনে। তবে সকালে উঠতে হলো খুব ভোরেই।
গতরাতে রুমে ফেরার আগেই সবাইকে কড়া গলায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল—সকালে সবাই মিলে যাবে হাসিবদের বাসায়। নাস্তার করবে সেখানেই। তাই ভোরের আলো ফুটতেই একে একে সবাই উঠে পড়ল। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে, রেডি ফেডি হয়ে সবাই নিচে লবিতে এসে জড়ো হলো।
হাসিবও এরই মধ্যে গাড়ি নিয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে-মুখে ঘুমের রেশ উতলে পড়ছে ছেলেটার। বারবার হাই তুলছে সে। বোঝাই যাচ্ছে, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে উঠতে তার মোটেও ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু তার আম্মার কড়া নির্দেশ—ওদের নিজে গিয়ে নিয়ে আসতেই হবে। তাই বাধ্য হয়েই হাজির হয়েছে সময়মতো। সবাই একে একে গাড়িতে উঠতেই গাড়িটি ধীরে ধীরে রওনা দিল সিলেটের বিখ্যাত লন্ডনীপাড়ার উদ্দেশ্যে।
লন্ডনীপাড়া—নামটা শুনলেই এক ধরনের আলাদা আভিজাত্যের অনুভূতি জেগে ওঠে মনে । সিলেটের এই অঞ্চলটি বরাবরই পরিচিত তার স্বচ্ছলতা আর বিদেশফেরত বাসিন্দাদের জন্য। এখানকার অধিকাংশ মানুষই দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করেন কিংবা সেখানেই স্থায়ী হয়েছেন। ফলে এই এলাকার বাড়িগুলোতেও সেই বিদেশি স্টাইলে তৈরী।
তবে এই সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন, সবচেয়ে বিলাসবহুল যে বাড়িটি—সেটি নিঃসন্দেহে হাসিবদের।প্রায় দশ মিনিটের মধ্যেই গাড়িটি এসে থামল সেই বিশাল ভবনের সামনে। উঁচু গেটের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা এক নজরেই চোখ আটকাটে সক্ষম। গাড়ি থামতেই দারোয়ান তড়িঘড়ি করে গেট খুলে দিল। গেট খুলতেই সামনে উন্মোচিত হলো এক আধুনিক, নান্দনিক স্থাপত্য—যেখানে আভিজাত্য আর সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
হাসিবদের পরিবার মূলত যৌথ পরিবার। তার বাবা, চাচারা সবাই একসঙ্গে থাকেন এই বিশাল বাড়িটিতে। তবে এই মুহূর্তে বাড়িটা কিছুটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কারণ গত সপ্তাহেই হাসিবের চাচা-ফুফুরা সবাই মিলে বিদেশে ঘুরতে গেছেন। এখন বাড়িতে আছেন শুধু হাসিবের বাবা।
বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ভেতর থেকে দরজাটা খুলে দিলেন এক মধ্যবয়সী নারী। প্রথম দেখাতেই চোখ আটকে যাওয়ার মতো অতীব সৌন্দর্যর অধিকারী সেই নারীর চেহারায় বয়সের ছাপ থাকলেও তার ভেতরকার লাবণ্য একটুও ম্লান হয়নি।চেহারায় অকৃত্রিম মাধুর্য আর মুখভরা আন্তরিক হাসিতে পরিপূর্ন সেই নারীকে দেখামাত্রই তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গিয়ে সালাম জানাল তাজধীর,
“আস্সালামুআলাইকুম আন্টি, কেমন আছেন?”
নারীটি স্নিগ্ধ হেসে সালামের জবাব দিলেন। মিতালীও তাকে আগে থেকেই চিনত, তাই এগিয়ে এসে সালাম জানিয়ে বলল,
“আন্টি, কেমন আছেন?”
তিনি মমতাভরা কণ্ঠে উত্তর দিলেন,
“আছি আলহামদুলিল্লাহ, আম্মু। তোমরা কেমন আছো? আসো, আসো—তাড়াতাড়ি ভেতরে এসে বসো।”
প্রিয়ন্তী বুঝল এটা নিশ্চয়ই হাসিবের আম্মু।যদি হাসিবের সঙ্গে চেহারায় মিল নেই সামান্যটুকুও। সবাই একে একে ভেতরে ঢুকে ড্রইংরুমে গিয়ে বসল। চারপাশে সাজানো-গোছানো অভিজাত পরিবেশ, আর তার মাঝেই যেন এক উষ্ণ পারিবারিক আবহ।
হাসিব সোফায় বসতে বসতেই বিরক্ত গলায় বলল,
“এই যে, তোমাদের ছেলেকে এনে দিয়েছি। এখন আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে একটু রেস্ট নিতে দাও—আমি গেলাম!”
কথা শেষ করে উঠে যেতে নিতেই তাজধীর দ্রুত হাত চেপে ধরে টেনে নিজের পাশে বসিয়ে দিল বন্ধুকে। বলল চিবিয়ে চিবিয়ে,
“কোথায় যাচ্ছিস। একটুও নড়বি না খবরদার!”
হাসিব কাতর গলায় বলল,
“ভাই, ছাড়! একটু রেস্ট নিতে দে না!”
কিন্তু তাজধীর ছাড়ার পাত্র নয়। মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে সে আবার বলল,
“আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দে—আমার বউ কোথায়, আন্টি?”
তাজধীরের কথা শেষ হতে না হতেই ভেতরের দিক থেকে ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন এক বৃদ্ধা নারী। তিনি এসে সোজা হাসিবকে ধাক্কা দিয়ে উঠিয়ে দিলেন,
“এই সর! আমি বসব আমার হ্যান্ডসামের সঙ্গে।”
তারপর নিজে এসে বসে পড়লেন তাজধীরের পাশে।
তাজধীর মুচকি হেসে বলল,
“বা! আমার বউ তো দেখি দিন দিন আরও বেশি সুন্দর হয়ে যাচ্ছে! সামনাসামনি তো আরও ইয়াং লাগছে তোমাকে ইয়াং লেইডি!”
বৃদ্ধা ভান করে চোখ রাঙিয়ে বললেন,
“চুপ কর বেয়াদব! বুড়ি মানুষকে নিয়ে এসব ফাজলামি করিস?”
তাজধীর হেসে বলল,
“বুড়ি কোথায়? তুমি তো এখনো একদম আমার সুইট সিক্সটিনই আছো দেখছি!”
চারপাশে হালকা হাসির রোল পড়ে গেল অমনি। এরপর তাদের মধ্যে আরও বেশ কিছুক্ষন আলাপচারিতা চললো। এক পর্যায়ে তাজধীর সবাইকে একে একে পরিচয় করিয়ে দিতে শুরু করল।
সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিতে দিতে শেষে এসে থামল প্রিয়ন্তীর সামনে। একটু থেমে, সংক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,
“ও… মিতালীর ননদ।”
কথাটা শেষ হতেই হঠাৎ করেই হাসিবের দাদি কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন,
“তোমার বিয়ে হয়েছে?”
আকস্মিক এহেন প্রশ্নে খানিকটা ভড়কে গেল প্রিয়ন্তী। কী উত্তর দেবে, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না । মুখ খুলে কিছু বলার আগেই মিতালী দ্রুত সামলে নিয়ে হেসে বলল,
“না দাদি, আমরা আমার ননদকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিব না।”
অমনি সেখানে এসে হাজির হলেন হাসিবের দাদান। হাতে একটি লাঠি—যদিও সেটার উপর ভর দেওয়ার প্রয়োজন তার নেই, তবুও সেটা তার ব্যক্তিত্বেরই অংশ হয়ে ফুটে উঠেছে। এক সময় পুরো সিলেট শহরের অর্ধেকাংশ তার অধীনস্ত ছিল। বয়স তাকে খানিকটা ধীর করেছে ঠিকই, কিন্তু তার উপস্থিতির গাম্ভীর্য এখনও আগের মতোই অটুট।
ঘরে ঢুকেই তার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো তার সহধর্মিনীর উপর। যিনি বেশ আয়েশ করেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তাজধীরের পাশে বসে আছেন। দৃশ্যটা দেখে ভ্রু খানিকটা কুঁচকে উঠল বৃদ্ধার। চোখের দৃষ্টিতেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে তাজধীরকে তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না।
তাজধীরও বিষয়টা বুঝতে পেরে হালকা সোজা হয়ে বসল তৎক্ষণাৎ। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে টেনে টেনে বলল,
“কেমন আছো, ইয়াং ম্যান?”
বৃদ্ধ লোকটি মুখে স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্য এঁটে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন। চোখ দুটো স্থিরকরে ভারী কণ্ঠে শুধালেন,
“এতক্ষণ তো ভালোই ছিলাম। এখন আর ভালো থাকা হবে না দেখছি।”
কথাটার মধ্যে লুকানো খোঁচাটা স্পষ্টই বুঝতে পারল তাজধীর। দাদান তাকে খুব একটা সহ্য করতে পারেন না জানে সে। তবুও সুযোগ পেলেই একটু খোঁচা দিতে ছাড়ে না সেও। আর এবারও ব্যতিক্রম হলো না।
তাজধীর মুচকি হেসে, আরও একটু সামনে ঝুঁকে বলল,
“তোমার বউটা কিন্তু হেব্বি জোস হচ্ছে দিন দিন। একটু দেখে শুনে রেখো—কোনো দিন না আবার গায়েব হয়ে যায়!”
কথাটা ঠিক আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করল।
বৃদ্ধ লোকটির মুখমণ্ডল আরও কঠিন হয়ে উঠল তখনি। লাঠিটা মেঝেতে ঠুকলেন একবার। চোখে বিরক্তি নিয়ে চাপা কণ্ঠে সুধালেন,
“তোমার এই বেয়াদবি দিন দিন বাড়তেছে তাজধীর। বড়দের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার আদব-কায়দা শিখোনি এখনো?”
তাজধীর নির্বিকার ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকাল,
“আদব তো শিখছি দাদাভাই। কিন্তু তোমার সামনে এলেই না, কেন জানি ভুলে যাই! আদব হারিয়ে বেয়াদব হয়ে যাই!”
বৃদ্ধ এবার ফসফস করে বললেন,
“এত বড় পদে নিযুক্ত থেকেও দেখছি স্বভাব পাল্টায়নি। ঠিক হয়ে যাও বুঝছো? “
তাজধীর এবার একটু সোজা হয়ে বসল। বলল ভাবলেশহীন,
“তোমার বউটাকে আমায় দিয়ে দাও দাদা ভাই। একদম স্বভাব পাল্টে ফেলবো। তোমার প্রমিস করে বলছি!”
বৃদ্ধ চোখ রাঙালেন এবার। ফসফোঁস করে বললেন,
“তুই একটাবার বিয়ে কর। তোর বউকে তোর সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাবো আমি। বাসর ঘর থেকেই ওকে নিয়ে পালাবো। তখন বুঝবি কেমন লাগে!”
তাজধীর হালকা হেসে বলল,
“আমার বউয়ের তো ঠেকা পড়ছে তোমার মত বুড়োর সঙ্গে পালাবে। তোমার মধ্যে কিছু আছে নাকি। সব তো ঝঙ্গ ধরে গেছে। বউ তুমি একটু আপডেট দিতে পারোনা তোমার বুড়ো বরটাকে?”
“আপডেট দিলেও কাজ হবেনা ভাই।বুড়োটা পুরো ডেমেজ হয়ে গেছে।”
হাসিব এবার মুখ চেপে হাসি থামানোর চেষ্টা করছে।মূলত এটা নতুন কিছু নয়।ওর দাদা ভাই তাজধীর কে আগে থেকেই পছন্দ করেন না। তার একমাত্র কারণই হলো ওর দাদি। বউ যদি সারাদিন জামাইর সামনে অন্য পুরুষের গুনগান গায় তাহলে কোন পুরুষ সহ্য করবে ওসব? বৃদ্ধ বিরক্ত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন,
“আল্লাহ জানে, এই ছেলের শেষ কী হবে!”
বলেই গটাগট পায়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলেন তিনি। অমনি সশব্দে হেসে উঠলেন উপস্থিত সকলে।
তাজধীর সোফায় হেলান দিয়ে বসে চারপাশে একবার তাকিয়ে হঠাৎই বলল,
“আন্টি, কাঠবিড়ালিটা কোথায়? দেখছি না তো!”
হাসিবের মা হেসে মাথা নেড়ে বললেন,
“আর বলো না বাবা! তোমরা আসবে শুনে সেই যে নিজে পাকামো শুরু করে কিচেনে ঢুকছে—এখনো কাজ করেই যাচ্ছে! আল্লাহই জানে কি করছে এতক্ষন লাগিয়ে!”
তারপরই তিনি কিচেনের দিকে মুখ করে ডেকে উঠলেন,
“এই হীরা! আর কতক্ষণ লাগাবি? তোর জুসের অপেক্ষায় থাকলে ছেলেমেয়ে গুলো আমার পানিপিপাসায় মরবে!”
কিচেনের ভেতর থেকে ভেসে এলো চিকন, মিষ্টি মেয়েলি নরম একটা কণ্ঠ,
“আসছি আম্মু!”
কিছুক্ষণ পরই সেখান থেকে বেরিয়ে এলো এক তরুণী। বয়স বড়জোর ষোলর ঘরে হবে। চিকন-চাকন গড়ন, ফর্সা ত্বক, আর চঞ্চলতায় ভরা মুখখানা—দেখতেই যেন একেবারে প্রাণবন্ত।
হাত ভর্তি ট্রে নিয়ে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। ঘরে সার্ভেন্টের অভাব না থাকলেও, নিজ হাতে সবার জন্য জুস পরিবেশন করছে সে।মিতালী মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে বলল,
“এইটা আমাদের হীরা না ? মাশাআল্লাহ! কত বড় হয়ে গেছে!”
হীরা হেসে এগিয়ে এসে বলল,
“ভালো আছো আপু?”
মিতালী স্নেহভরা কণ্ঠে উত্তর দিল,
“এই তো বোন, ভালো আছি। কিন্তু তুমি এত কষ্ট করতে গেলে কেন?”
এর মাঝেই হীরা একে একে সবার হাতে জুসের গ্লাস তুলে দিলো। তাজধীর কৌতূহলী ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করল,
“কোন ক্লাসে পড়ছিস তুই?”
তুই সম্বোধনটা যে হীরার খুব একটা পছন্দ হয়নি, সেটা তার চোখ-মুখ দেখলেই বোঝা যায়। তবুও ভদ্রতা বজায় রেখে উত্তর দিল,
“এই তো নিউ টেন।”
“ওহ! কোন বিভাগ?”
“সায়েন্স।”
তাজধীর মাথা নেড়ে বলল,
“ভালো! তো পড়াশোনা ঠিকঠাক করছিস তো?”
হীরা কিছু বলার আগেই,তাজধীরের দিকে গ্লাস বাড়িয়ে দিতে গেলেই অকসস্মাৎ হঠাৎ করেই ওর হাতটা থরথরিয়ে কেঁপে উঠল। পরক্ষণেই—গ্লাসটা হাত ফসকে সোজা পড়ে গেল তাজধীরের পায়ের ওপর।
ঝপ করে জুস ছিটকে পড়তেই হীরা একেবারে হতভম্ব হয়ে গেল। তড়িঘড়ি নিচু হয়ে তার পা থেকে জুসটা মুছতে মুছতে বলতে লাগল,
“সরি ভাইয়া! সরি, সরি! আমি ইচ্ছে করে করিনি!”
হাসিব সঙ্গে সঙ্গেই বিরক্ত হয়ে বলে উঠল,
“যেটা পারিস না, সেটা করতে আসিস কেন? পাকা কোথাকার!”
তাজধীর হাত বাড়িয়ে ইশারায় হাসিবকে থামিয়ে পরপর বলল ওকে,
“আরেহ আরেহ পাকা বুড়ি থাম থাম। কিছুই হয়নি। তুই সর—আমি নিজেই ক্লিন করে নেবো।”
হীরা ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“আমি সত্যি ইচ্ছে করে করিনি ভাইয়া। হঠাৎ হাত ফসকে গেছে।”
তাজধীর খুব স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আরে, তো কি হয়েছে? পড়তেই পারে—একদম নরমাল ব্যাপার। তুই যে আমাদের জন্য নিজে হাতে জুস বানিয়ে নিয়ে এসেছিস, সেটাই তো অনেক বড় কথা।”
ওদিকে সবেই জুসের গ্লাসটায় চুমুক বসিয়েছিল প্রিয়ন্তী। অমনি মেয়েটার কাণ্ডে রীতিমতো থ বনে গেল ও । আশ্চর্য, হতবিহুল হয়ে দেখছে সেসব। মস্তিস্ক টা তরাক করেই জলে জ্বলে উঠছে। দৃষ্টি সেদিকে রেখেই এক টানে জুসের গ্লাসটা খালি করে ধুম করে গ্লাসটা টি টেবিলের উপরে রাখল। তবে সকলে সেই কাণ্ডে ডুবে থাকায় সেদিকে আর কেউ খেয়াল করলোনা। প্রিয়ন্তী মনে মনে দাঁত পিষলো কয়েকবার। বাচ্চা একটা মেয়ে অথচ হাবভাবে মনে হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্কা নারী। মেয়েটা মোটেও সুবিধাজনক নয়। এই কোন জ্বালায় এসে পড়ল ও?একটা মেয়ের দৃষ্টি আরেকটা মেয়ে খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারে। প্রিয়ন্তীর দেরি হলোনা সেসব বুঝতে। মনে মনে বিড়বিড় করে উঠল,
” শেষমেষ কিনা একটা বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে ওর কম্পিটিশন লাগবে?”
চলবে….
(কাহিনীর সুবিধার্থে সবকিছুই দেখানো হবে। হাসিব এখানে আরেকটা ইম্পরট্যান্ট রোল ধরে নিতে পারেন। পরবর্তী পর্ব টুকু আজই লিখে রাখবো। তবে শর্ত ৪ হাজার রিয়েক্ট আর ৪০০ + কমেন্ট পূরণ করতে পারলে আগামীকালই পর্ব দিয়ে দিবো প্রমিস। বাকিটা আপনাদের ইচ্ছা আপনারা কবে পর্ব চান )
এই গল্পের অত্যন্ত রোমান্টিক ধারায় লিখা #ইবই_ডেসটেনি পড়তে পারেন বইটই এপ থেকে। লিংক….
https://link.boitoi.com.bd/1lm23
Share On:
TAGS: ডেসটেনি, সুহাসিনী মিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেসটেনি গল্পের লিংক
-
ডেসটেনি পর্ব ১
-
ডেসটেনি পর্ব ১০
-
ডেসটেনি পর্ব ৩
-
ডেসটেনি পর্ব ১২ (প্রথম অংশ)
-
ডেসটেনি পর্ব ১১
-
ডেসটিনি পর্ব ৫
-
ডেসটেনি পর্ব ২
-
ডেসটেনি পর্ব ৮
-
ডেসটেনি পর্ব ৯