ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৫১ (রোমান্টিক পর্ব)
অবন্তিকা_তৃপ্তি
——-‘কাব্য. . . আই লাভ ইউ।’
সামান্য তিনটা শব্দ, আহামরি হয়তবা তেমন না। তবে এই তিনটা শব্দ আবার, আগের মতো কুহুর মুখ থেকে শোনার জন্যে কাব্য তড়পেছে, খুব; ভীষণ-ভীষণ তড়পেছে—- ঠিক কতটা সেটা স্বয়ং কাব্য আর তার খোদা জানে।
কাব্য থেমে গেল, কেপে উঠল কাব্যের পুরোটা শরীর-তন-মন-রুহ ওই একটা কথাতেই। পেছন থেকেই কুহু খেয়াল করতে পারল— কাব্যের পুরুষালি কাঁধ-পিঠ কেপে উঠেছে, কাব্যের একটা হাত দেয়াল চেপে নিথর হয়ে গেছে প্রায়।
কুহু মৃদু হেসে বালিশে হেলান দিয়ে আরাম করে বসে দেখল সেটা। একসময় নিজেকে সামলে কাব্য পেছন ফিরে তাকালো, কুহুর চোখের দিকে নিষ্পলক তাকাতেই কুহু ভ্রু বাঁকালো—-‘কি, থেমে গেলেন যে? যাবেন না? স্পেস চাই না নাকি আর?’
কাব্য থতমত খেয়ে গেল হয়তোবা। ও আমতা আমতা করে বলতে চাইল——‘তুই একটু আগে কি কি . . বলতে চাইলি!’
‘কি?’ —— কুহু কিছুই জানে না; ভাব এমন।
কাব্য ভ্রু কুচকে তাকাল, পরপর নিজেরই শোনার ভুল ভেবে মাথা ঝাড়ি দিল——‘নাথিং।’
ছোট শ্বাস ফেলে গোমড়া মুখে পেছন ফিরে চলে যাবে তার আগেই কুহু ডাকল—‘শুনুন।’
স্ত্রী-সুলভ ওমন আদুরে ডাকটায় কাব্য তাকালো পেছন ফিরে। কুহু আলমারি দেখিয়ে নরম স্বরে ঠোঁট উল্টে বাচ্চাদের মতো করে বলল——-‘এই জামাতে আমার না গরম লাগছে। আপনার একটা সাদা শার্ট বের করে দিবেন? প্লিজ?’
‘হোয়াট?’ ——- কাব্য আহাম্মক পুরো। কুহু কাব্যের শার্ট পড়বে? কি মুসিবত পাকাচ্ছে এই মেয়ে খোদাই জানে শুধু।
‘কি হোয়াট? দিন শার্ট।’ —— কুহু এবার চোখ পাকায়।
কাব্য সন্দিহান চোখে কুহুর চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ . । পরমুহূর্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাবার্ড থেকে সাদা শার্ট বের করে বিছানার উপর রাখলো। পরপর মাথাটা নামিয়ে চুপচাপ চলে গেল কথা না বাড়িয়ে। কুহু ওদিকে তখন ঠোঁটে শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে দিয়ে বড্ড আরাম করে বেডে হেলান দিয়েছে।
———————————-
পরদিন সকাল, সিদ্দিক মহল!
কুহুর মিসক্যারেজের এক সপ্তাহ পর আজ সিদ্দিক মহল পুনরায় সুসজ্জিত হয়েছে। সিদ্দিক মহল যেন বহুদিন পর প্রাণ পেয়েছে নিজের। কাব্যের বিয়েতে খুব একটা আয়োজন করা হয়নি দেখে শামিমা-আনোয়ার দুজনেই স্নিগ্ধের বিয়ে বেশ ধুমধাম করেই দিচ্ছেন।
এই তো আজ. .
বেশ বড়সর করে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে সিদ্দিক বাড়িতে। বাড়ির সব গিন্নিরা ভীষন ব্যস্ত, ইতি-অতি দৌড়াচ্ছেন, একবার এই কাজ তো আরেকবার ওই। ফুরসত নেই কারোরই দু-দন্ড। ওদিকে কাব্যকে পাঠানো হয়েছে স্নিগ্ধের রুমে, ওকে তৈরি করে এনে স্টেজে বসানোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাব্যকেই।
শামিমার কথামতো, স্নিগ্ধ তৈরি হচ্ছে নিজের ঘরে, মাত্রই গোসলে গেল। কাব্য স্নিগ্ধের জন্যে সাদা-হলুদের মিশেলে পাঞ্জাবি বের করে বেডের উপর রেখেছে। স্নিগ্ধ গোসল করে বেরিয়ে আসতেই কাব্য পাঞ্জাবি বাড়িয়ে দিল———‘সাইজ দেখেছিলি? ঠিক আছে?’
‘হ্যাঁ; ফিটিং ঠিকাছে, ট্রায়াল দিয়েছিলাম কাল।’ ——— স্নিগ্ধ পাঞ্জাবি নিতে নিতে নিতে জবাবটা দিল।
কাব্য কথা বাড়ালো না আর। স্নিগ্ধ পাঞ্জাবি পড়তে পড়তে তাড়া দেখিয়ে বলল——-‘তুমি গিয়ে রেডি হচ্ছো না কেন? ভাবি রেডি হয়েছে?’
কাব্য স্নিগ্ধের পারফিউম এগিয়ে দিতে দিতে জবাব দিল—-‘পরে রেডি হচ্ছি। আম্মুর আদেশ; তোকে রেডি করিয়ে তারপর যাব।’
স্নিগ্ধ মৃদু হেসে কাব্যের দিকে তাকাল। পারফিউম ছিটিয়ে সেটা রেখে এগিয়ে এলো কাব্যের দিকে। কাব্য তখন স্নিগ্ধের জন্যে আনা হলুদ কোটটা হ্যাঙ্গার থেকে বের করে বিছানায় রাখছিল। স্নিগ্ধ সামনে গিয়ে ডাকল নরম কণ্ঠে———‘ভাইয়া। একটা কথা ছিলো।’
কাব্য পেছন ফিরে তাকাল—-‘কি?’
স্নিগ্ধ হঠাৎ কিছু না বলে, কাব্যকে ম্যানলি হাগ করে বসলো। কাব্য অবাক হয়ে তাকাল ঘাড় ফিরিয়ে স্নিগ্ধের দিকে। স্নিগ্ধ ভীষণ নরম স্বরে ম্যানলি হাগ করে শক্ত করে কাব্যকে জড়িয়ে ধরে ভীষণ কৃতজ্ঞতা নিয়ে শোনালো—-‘থ্যাংক ইউ ভাইয়া। শুরু থেকে. . এখন অব্দি, সবকিছুর জন্যে। তুমি না থাকলে এসব কিছু হতোই না. . থ্যাংক গড তুমি ছিলে।’
কাব্য এ-যাত্রায় মৃদু হেসে ভাইয়ের পিঠে চাপড় দিয়ে থেমে গেল। স্নিগ্ধ সরে এলো, কাব্যের মুখের দিকে চেয়ে আবার তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলল——-‘১২ টা বেজে গেছে অলরেডি। ভাবি ওয়েট করছে। দ্রুত যাও রেডি হয়ে নাও। সবার আগে তুমি-ভাবী আমাকে হলুদ দিবে আজ। বাট অল্প করে দিয়ো কিন্তু।’
‘ওকে দেন।’ ——-কাব্য স্নিগ্ধের কাঁধে চাপড় দিয়ে বেরিয়ে এলো স্নিগ্ধের ঘর থেকে।
কাব্য নিজের রুমের দিকেই যাচ্ছিল। হঠাৎ কোথা থেকে প্রেমা দৌড়ে এলেন ওর দিকে——-‘এই কাব্য. . শোন না।’
কাব্য থামল প্রেমাকে দেখে—-‘জি চাচী? কিছু বলবেন?’
প্রেমা হাপাতে হাপাতে বলতে শুরু করেন——-‘তোর রুমে সম্ভবত হলুদের দুটো ডালা রাখা, নিয়ে আসবি একটু বাবা।’
কাব্য শুনে সহসা বলল——-‘আমি রুমেই যাচ্ছি; আপনি চলেন নাহয়। আমি সম্ভবত খুঁজে পাব না।’
প্রেমা তাই ঠিক মনে করলেন। কাব্যের সাথে চললেন কাব্যের রুমের দিকে। কাব্য দরজায় নক করলো প্রথমে, তারপর আস্তে করে দরজাটা খুলে বাতি জালাল রুমের।
তারপর ব্লা স্ট.! সাথেসাথেই— বেচারা কাব্য-প্রেমা দুজনের মুখ এই একদম হা হয়ে গেলো। কারণ? কারণটা কাব্যের স্ত্রী কুহু!
কাব্যের আধ-পাগল স্ত্রী কুহু এইমুহূর্তে শুধুমাত্র কাব্যের সাদা শার্ট গায়ে ওদের সামনে কাচুমাচু মুখে দাড়িয়ে আছে নগ্ন পা-অব্দি দেখা যাচ্ছে। সাদা শার্টটাও পড়েছে কাঁধের থেকে কিছুটা নামিয়ে; উপরের দুটো বোতাম খুলে রাখা। অর্থাৎ বুকের একাংশ অনেকটাই দৃশ্যমান ছিলো। চুলে গামছা পেঁচানো, মাত্রই গোসল করে এসে সম্ভবত কাব্যের জন্যেই অপেক্ষা করছিল।
কুহু হা করে প্রেমার দিকে তাকিয়ে আছে; নিজেও আহাম্মক ও। পরপর কুহুও তাজ্জব হয়ে ওদের দুজনকে বোকার মত দেখে সাথেসাথেই পাগলের বেশে দৌড়ে কম্ফোরটার দিয়ে ঢেকে নিলো নিজেকে। তাড়াহুড়ো হাতে শার্টের উপরের দুটো বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল———‘চাচী. . . ওই . . আসলে. . আমি . . ভেবেছি——‘
কাব্য নিজেও আহাম্মক পুরো, হা করে একবার কুহুকে দেখে প্রেমার দিকে তাকাল। প্রেমা বেচারি এতটা লজ্জায় পরে গেছেন,কোনরকম বললেন———-‘আমি. .আমি আসছি। কাব্য তুই ডা . . ডালা নিয়ে আয়।’
বলেই দ্রুত মুখ ফিরিয়ে একপ্রকার পালিয়ে চলে গেলেন এ পাগল দুটো স্বামী-স্ত্রীকে একা রেখে।
কুহু তখনও লজ্জায় শেষ, কাব্যের দিকে তাকিয়ে একপ্রকার কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল———‘আপনি. . এভাবে চাচিকে নিয়ে রুমে ঢুকে গেলেন কেন? বজ্জাত লোক। ছি।’
কাব্য তখনও বিস্মিত। ও আহাম্মক হয়ে ঢোক গিলল একটা। তারপর এগিয়ে সিটকিনি তুলে দিল দরজার। এরপর কুহুর দিকে ফিরে আগগোড়া করে দেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলল———-‘এসব কি পড়েছিস?’
কুহু কম্ফোরটার সরিয়ে দিল; পরপর আবার নগ্ন- সুন্দর মখমলে পা জোড়া কাব্যের নাদান দুটো অসভ্য চোখের সামনে উন্মুক্ত হলো। কাব্য সাথেসাথেই শুকনো ঢোক গিলে চোখ নামিয়ে নিলো। কুহু কাব্যের দিকে ফিরে বলল———‘দেখতে পাচ্ছেন না কি পড়েছি? আপনার শার্ট: কালকেই আপনি দিয়েছেন, আর আজ মনে নেই?’
কাব্য অন্যদিকে তাকাতে তাকাতে আবার বেহায়ার ন্যায় তাকিয়ে রইল কুহুর দিকে, নিশ্চুপে। কুহু নিজেকে একবার দেখে নিয়ে বলল——-‘লুকিং হট না?’
বলেই কাব্যকে অশ্লীল ভঙ্গিতে চোখ টিপলো কুহু। কাব্য আলগোছে, হাসল অন্যদিকে মুখ লুকিয়ে। পরপর গম্ভীর মেজাজে কুহুর দিকে তাকিয়ে বলল———‘অত্যন্ত বাজে লাগছে; খুলে ফেল।’
বলেই হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে ড্রয়ারের দিকে এগুলো কাব্য। কুহু বেচারি ঠোঁট উল্টে বলল———‘আমি নিজে খুলবো? আপনি খুলে দিবেন না? হু?’
কাব্য থেমে গেল; সাথেসাথেই পেছন ফিরে তাকাল———‘মানে?’
কুহু হাসল: বাকা-অশ্লীল এক হাসি ছুড়তেই কাব্য ঘেমে উঠল। সন্দিহান চোখে তাকাল এই মেয়েটার দিকে। এই মেয়ে. . কুহু কি মতলব আটছে মূলত? কুহু কাব্যর দিকে তাকিয়ে এগুতে শুরু করতেই: কাব্য কপাল ঘেমে গেল—- নার্ভাস হতে লাগলো ভীষণ। কুহুও এগুতে লাগলো ধীর পায়ে, সেই সাথে শার্টের বোতাম খোলার চেষ্টা করতে করতে হাস্কি ভয়েজে বলল———‘মানে? মানে জানতে চান আপনি? হু? বোঝাব আমি, এগুলির মানে কি?’
কুহু এগুচ্ছে ধীর পায়ে, কাব্য ওর পায়ের দিকে চেয়ে ওর এগুনোটা দেখল একবার। বেচারা নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। সটান হয়ে দাড়িয়ে কোনরকম বলল——-‘কুহু. . ন্যাকামো না। এখন সকাল, কাজ আছে বাইরে।’
‘তো কাজ করুন; আমি কখন না করলাম?’ ——- কুহু ডোন্ট কেয়ার ভাব করে এগুচ্ছে।
এগুতে এগুতে একপ্রকার মিশে এলো কাব্যের গায়ের সঙ্গে। কাব্যের গায়ের সাথে মিশে ঘনিষ্ট হতেই সাথেসাথেই কাব্য পিছিয়ে গেল দুকদম। কুহু এগুলো; কাব্য নার্ভাসভাবে আবার পেছালো। কুহু সেটা দেখে এ যাত্রায় তিরস্কার করে বলল———‘কি? পুরুষ মানুষ হয়ে এভাবে পেছাচ্ছেন কেন? লজ্জা করে না? সোজা হয়ে দাঁড়ান বলছি।’
কাব্য শুকনো ঢোক গিলে ঘড়ির দিকে ইশারা করে শাসালো——-‘কুহু. . . স. .সকাল এখন। এখন না এসব, প্লিজ।’
‘আর আপনাকেও প্লিজ।’ —— বলে একপ্রকার লাফিয়ে উঠে কুহু কাব্যের গলা হাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরতে যাবে তার আগেই কাব্য পেছাতে পেছাতে সোজা বিছানার উপরই ছিটকে পড়ল। সাথেসাথে কুহুও পা পিছলে পরে গেল কাব্যের বুকের উপর।
বেচারা কাব্যের মনে হলো— ওর বুকের পাঁজরগুলোই বোধহয় ভেঙ্গে গেছে। কাব্য ব্যথাতুর ভাবে চোখ খিছে দুহাতে কুহুর কোমর চেপে ধরল। কুহু এবার কাব্যের ঘাড় থেকে মুখ তুলে ওর মুখের দিকে তাকাল। ওর ঠোঁটে হাসি, বেচারি হাসতেও পারছে না ঠিকঠাক করে। আহারে একটা ভদ্র-সভ্য স্বামীই কি না কুহুর কপালে জুটতে গেল? যার দিওয়ে দু-পা এগিয়েই এলেই সে ঘেমে যায়। আর এই পুরুষ কি না কুহুর রূপের গরম সহ্য করবে?
কুহুর বেশ মজা লাগতে শুরু করলো এখন। কুহু কাবের কানের লতিতে হালকা করে চুমু খেতেই কাব্য চোখ তুলে তাকাল। ভ্রু কুচকে কুহুকে সরানোর চেষ্টা করে বলল———‘কুহু, প্লিজ, এখন পাগলামি না। স্নিগ্ধ ওয়েট করছে।’
‘করুক, ভাইয়ের অপেক্ষার দাম আছে, আমার নেই? আমার অপেক্ষার কি?’ ———- কুহু শাসিয়ে উঠে কাব্যের বুকে শার্টের উপরেই নকশা আঁকতে শুরু করলো।
কাব্যের নার্ভাস হচ্ছে ভীষণ। ওভাবেই হঠাৎ নজর গেল কুহুর সাদা শার্টের দিকে; বেশ অনেকটাই উপরে উঠে গিয়েছে, হাঁটুর থেকে বেশ উপরে। কাব্য ওই অবস্থাত কুহুকে দেখে কেশে উঠল সাথেসাথেই, কোনরকম বলার চেষ্টা করলো———-‘আ. . আমার উপর থে. . . থেকে উঠ কুহু, প্লি. . প্লিজ।’
কুহু ঠোঁট উল্টে বেচারার ন্যায় নিজেকে দেখল এবার—- শার্টের অবস্থা আসলেই অনেক করুন-নাজুক। কুহু ডোন্ট কেয়ার ভান দেখিয়ে শয়তানি হেসে এ যাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে সোজা শার্টের বুকের দিকের উপরের দুটো বোতাম খুলে দিল কাব্যেরই চোখের সামনেই।
কাব্য তো ওদিকে হা হয়ে বুকের দিকে তাকিয়ে সাথেসাথেই চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল————‘বোতাম লাগা, প্লিজ। কি চাইছিস তুই?’
‘বোতাম? আমি লাগাবো? আপনি লাগিয়ে দিন না। আমি তো বোতাম খুলতেই জানি শুধু।’ ————— কুহু কথাটা বলে অশ্লীল হেসে কাব্যের পরনের শার্টের বোতামে হাত রাখল।
একটা বোতাম খোলার সাথেসাথেই কাব্য ওর হাত ধরে ফেলল———‘কি করছিস? বললাম তো এখন না এসব; প্লিজ।’
কুহু চোখ-মুখ গম্ভীর হয়ে উঠল, কাব্যের বোতাম থেকে হাত সরিয়ে মুখটা গোঁমড়া করে বলল———-‘আমার প্রতি আর আকর্ষণ নেই? আগে তো আমার ফায়দা তুলতেন। শাড়ি পড়ানোর ভাব করে এখানে-ওখানে ছুতেন, আর এখন? ‘
কাব্য অবাক হলো———‘তুই বুঝেছিলি সেদিন?’
‘বুঝব না? আপনি যে ওড়না চেঞ্জ করে পাতলা ওড়না চোখে দিয়েছেন আমার সব দেখার জন্যে; আমি ঠিক বুঝেছি। কিছু বলিনি অবশ্য। কারণ. . !’ ———- কুহু অল্প থামল। কাব্য ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকে বাকিটা শোনার জন্যে।
কুহু থামে. . পরপর মুখ নামিয়ে কাব্যের কানের কাছে ঠোঁট এনে ফিসফিস করে উত্তর দিল বাকিটুকুর———-‘কারণ. . আমি চেয়েছিলাম আপনি আমাকে ছোঁন। আপনার স্পর্শ অনেকটা এলকোহলের ন্যায়; আপনি সেটা জানেন?’
কুহু বলতে বলতে কাব্যের কানের লতিতে চুমু খেলো আবারো। কাব্য থমকে গিয়ে চোখ বুঝে মৃদু হাসলো স্রেফ, আবেগে-আবেশে চেপে ধরল কুহুর পাতলা কোমর ভীষণ শক্ত-করে।
কুহু সরে এলো কানের ওপাশ থেকে। কাব্যের গালে পাঁচ-আঙুল রেখে খসখসে গাল ওভাবেই ছুয়ে দিতে দিতে তাকাল কাব্যের নেশালো ঠোঁটের দিকে। কাব্যও থমকেছে কেন যেন। স্পেস চাওয়া কাব্য এর চলহ আপনা-আপনি কুহুর দুই চোখ থেকে নেমে এলো সহায় কুহুর গোলাপ ন্যায় অধরের দিকে। দুজনের হরমোন চুড়ান্ত বেসামাল তখন। দুজন-পাগলপ্রায় হরমোনের জ্বালাতনে। মুখ বাড়িয়ে কুহু কাব্যকে ছুঁতে যাবে; দুজনের অধর মিশতে যাবে একে অন্যের সাথে, ঠিক তখনই স্নিগ্ধ টোকা দিল দরজায়, সাথে ডাকছেও———-‘ভাইয়া. . লেট হবে তোমাদের?’
স্নিগ্ধ হাসির গলা শুনে সাথেসাথেই কুহু ভয় পেয়ে কাব্যের উপর থেকে উঠে গায়ে পাগলের মতো গায়ে কম্ফোরটার টানতে যাবে কাব্য ওর হাত চেপে ধরে। মৃদু স্বরে বলল———-‘সিটকিনি লাগানো; ডোন্ট ওরি।’
কুহু হয়তো অবাক হয়েছে, তাকাল কাব্যের দিকে। পরপর হেসে ফেলল অল্প-করে। কাব্য ওর হাত ছেড়ে দিল, চেঁচিয়ে স্নিগ্ধকে বললো———-‘আসছি আমরা। ১০ মিনিট দে।’
স্নিগ্ধ চলে গেছে সম্ভবত, আর ডাকছে না। এবার কাব্য কুহুকে গম্ভীর কণ্ঠে বলল————‘বেরোতে হবে আমাদের। এসব পাগলামি বেশভূষা ছেড়ে রেডি হো দ্রুত। আমি রুমে পাঞ্জাবি পরে নেব।’
কাব্য কথাটা বলেই উঠে পাঞ্জাবি বের করতে শুরু করল। কুহু তাকিয়ে রইল অপলক কাব্যের দিকে। পরপর উঠে গিয়ে কাব্যের অনেক আগে গিফট করা শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
————————————
সিদ্দিক বাড়ির ছোট ছেলের হলুদে, বড় ছেলে কাব্য ডেকোরেশনের লোকদের ধরে ধরে বকাঝকা করছিল। একটা কাজও ওরা ঠিকঠাক করতে পারেনি। বলা হয়েছিল— স্টেজটা হলুদ-সাদা এর মধ্যে সাজাবে। অথচ করেছে কি না সাদা-সবুজ। সবুজ রংটা কায়া-স্নিগ্ধের দুজনেরই পছন্দ না। ডেকোরেশনের লোকদের এতবার বলার পরও এই ভুল করেছে; আর এখন ভুল করে ওরা আমতাআমতা করছে শুধু।
কাব্য দিল তারপর একটা ধমক, পাঠালো তখুনি হলুদ ফুল কিনতে। তারপর তাড়াহুড়ো করে নিজেও হাত পাতল স্টেজ সাজানোতে। কাব্যের এই ব্যস্ততায় এদিক দিকে স্নিগ্ধ ভীষণ আমোদেই আছে। এক পাশে বসে কেক খেতে খেতে ফোনে কথা বলছে। কায়া ওদিকে হলুদের সাজ শেষ করেছে। স্নিগ্ধকে কল করে দেখাচ্ছে, ঘুরে ঘুরে। স্নিগ্ধ রেট করছে কতটা সুন্দর হয়েছে ওর বিয়ে করা বউয়ের সাজ।
কায়া সাজ দেখাচ্ছিল; স্নিগ্ধও মুখস্তের মতো বলে যাচ্ছে———‘হ্যাঁ লেহেঙ্গা সুন্দর। গয়নাও সুন্দর লাগছে,কালারফুল লেহেঙ্গায় তোকে চমৎকার লাগছে। ইউ নিড এ মেডেল ফর ইওর বিউটি।’
কায়া এযাত্রায় রেগে উঠে——-‘মজা করছেন স্নিগ্ধ? সিরিয়াসলি? মেডেল?’
স্নিগ্ধ সাথেসাথেই হুসে ফিরে: কেক রেখে সোজা হয়ে বসে বলল——-‘সরি, বাট আসলেই তোকে সুন্দর লাগছে, এন্ড আম সিরিয়াস।’
কায়া লজ্জা পেয়ে হেসে বলল———‘থ্যাংক ইউ ফর ইওর কমপ্লিমেন্ট।’
এপর হঠাৎ স্নিগ্ধ জহুরি চোখে কায়াকে দেখে থেমে বলল——-‘তোর কাবিনের আংটি কোথায়?’
কায়া আঙুল দেখে বলল———‘আছে; লুকিয়ে রেখেছি।এখন পড়তে দেখলে বাসায় কি জবাব দিব? ‘
‘তবুও পড়বি। পর এখন।’ —- স্নিগ্ধ হয়তো রেগেছে, মারাত্মক গম্ভীর স্বরে বলল।
কায়া ভ্রু কুচকে স্নিগ্ধের নাকের পাটাতে টলমল করা রাগ দেখলো। পরপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে গলার ফুলের গহনা উঠিয়ে চেইন দেখাল স্নিগ্ধকে———‘এই যে দেখুন ভালো করে।’
‘গলাতে কি দেখব?’ —- স্নিগ্ধ বুঝেনি তখনও।
কায়া আবার ইশারা করে গলার চেইনে ঝুলানো আংটি দেখিয়ে বলে———‘আপনার সাধের আংটি। চেইনের সাথে লাগিয়ে পড়েছি। আর হ্যাঁ, ওটার মায়া আমার নিজেরও আছে। শুধু আপনার একার না।’
স্নিগ্ধ দেখল হা হয়ে। পরপর অবাক হয়ে উঠে বলল ———-‘বুদ্ধি আছে আমার বউয়ের। এত বুদ্ধি কই রাখিস বল তো?’
‘কচু! আচ্ছা রাখি এখন. . আম্মা ডাকছে। বাই!’ ——- স্নিগ্ধকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই কায়া তাড়াহুড়ো করে ফোন কাটল। স্নিগ্ধও ভোতা মূখে ফোনটা রেখে কাব্যের দিকে তাকাল। কাব্য বেচারা আজ দৌড়াচ্ছে ভীষণ। অবশ্য স্নিগ্ধেরও মজা লাগছে এটা দেখে। সারাক্ষণ তো স্নিগ্ধই খেটে যায়: আর কাব্যের পালা— আজ তো স্নিগ্ধ রাজা হয়েছে, রানী পালকি করে আনবে বলে।
—-
মেহমানদের একটা বাচ্চা ভীষন কাঁদছিলো অন্যপাশে। কাব্য দূর থেকেই শুনতে পারছে বাচ্চার গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে কান্নার আওয়াজ। বাচ্চার বাবা একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরছেন শুধু— ওর মায়ের খুঁজে। পারলে এখুনি বাচ্চাকে মাইর দিয়ে বসেন।আর এদিকে বাচ্চা তো বাবার এরকম আচরণে আরও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে কাঁদছে।
বাচ্চার বাবা একসময় রেগে উঠে হাউকাউ করে বলে জান———‘আয়েশা কই? একটুও যদি বুদ্ধি থাকতো এই মেয়ের। মা হওয়ার পরও এতটা কেয়ারলেস। নিজে ঘুরছে: আর আমাকে দিয়ে গেছে এই টেপ রেকর্ডারকে। আসার পর থেকে ব্যা ব্যা।’
কাব্য স্টেজে ফুল লাগাচ্ছিলো। দূর থেকেই শুনতে পেল ও কথা। ও ফুলের ঢালা ডেকোরেশনের লোককে দিয়ে এগিয়ে এসে দাঁড়াল উনার সামনে ————‘ভাইয়া. . কোনো প্রবলেম?’
কাব্য বলতে বলতে বাচ্চাটার দিকে তাকালো। ভীষণ নিষ্পাপ মুখে কাঁদতে কাঁদতে এখন হাপাচ্ছে রীতিমত। চোখ-মুখ ফুলে গেছে একদম। বাচ্চার বাবা কাব্যকে দেখে নালিশের বান্ডিল একের পর এক ছুড়ে বললেন——‘ওর মা কে দেখেছো? একটু খুঁজে বলবা দিশান কাঁদছে। আমি থামাতেই পারছি না। মনে হচ্ছে পাগল হয়ে যাব।’
কাব্য মৃদু হেসে বাচ্চার দিকে তাকালো। ওর পকেটে সবসময় পালস চকলেট থাকে। ও একটা পালস চকলেট বাচ্চার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল———‘চকলেট খাবা মামা?’
বাচ্চাটা চকলেট দেখেই কান্না থামিয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে কাব্যের দিকে তাকিয়ে রইল। কাব্য হাত বাড়িয়ে দিল———‘মামার কোলে আসবা! মজা দিব?’
বাচ্চাটা কাব্যের দিকে চেয়ে থাকল অনেকক্ষণ। তারপর হঠাৎ ওকে অবাক করে দিয়ে কোলে উঠার জন্যে দু-হাত বাড়িয়ে দিল। কাব্য নিজেও অবাক হয়েছে সম্ভবত। পরপর হেসে সাথেসাথে এই সুন্দর বাচ্চাকে লুফে নিলো নিজের কোলে। চকলেট ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল——-‘এই নাও মজা। এত কাঁদছিলে কেন মামু? কান্না করা ভালো? গুড বয় না তুমি?’
বাচ্চার বাবা দিহান নিজেও অবাক হয়েছে। বললেন———‘তোমাকে মনে হয় ওর ভালো লেগে গেছে। ও তেমন কারোর কোলে-টোলে যায়না নরমালি। বাঁচালে তুমি আমাকে ভাই।’
কাব্য বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দোলাতে দোলাতে বলল———‘আমি ওকে দেখে রাখছি; আপনি এনজয় করুন।’
দিহান যেন শান্তি পেলেন। কাব্য চলে যাবে বাচ্চাকে নিয়ে; হঠাৎ কি মনে করে দিহান পেছন থেকে ডাকলেন———‘কাব্য. . শুনলাম তোমার বউয়ের নাকি একটা বাচ্চা মরেছে পেটে?’
কাব্য থমকালো সাথেযাথেই।পেছন ফিরে তাকিয়ে কোলের বাচ্চার কপালে চুমু খেয়ে মৃদু স্বরে জবাব দিল———-‘হু. . .!’
বলে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে চুপচাপ চলে গেল ও। দিহান তাকিয়ে রইলেন কাব্যের যাওয়ার দিকে। কাব্যকে দেখে খারাপই লাগছে। কি বাচ্চা পেয়ে কদর নেই; আর কেউ বাচ্চা হারিয়ে. অন্যের বাচ্চার মধ্যে নিজেরটা খুঁজে।
—————
স্নিগ্ধকে হলুদ লাগানোর সময় হয়ে এসেছে। স্টেজ সাজানোও শেষ। ডেকোরেশনে লোকেরা কাব্যকে বলে চলে গেছে পেমেন্ট নিয়ে।
ওদিকে কাব্য দিহানের বাচ্চাটাকে পুরোটা সময়ই কোলে নিয়ে হেঁটেছে, কাজও করেছে কোলে নিয়েই—এতকিছুর পরেও ওর মুখে একটুও বিরক্তির রেশ নেই।অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে— বাচ্চাটাও খুব সুন্দর কাব্যের সাথে মিশে গেছে। দেখে বোঝা যায় না— ওদের আজকেই প্রথম দেখা হয়েছে। বাচ্চাটা খুব ফুর্তি-আমোদেই আছে মনে হচ্ছে, একবার কাব্যের গালে হাত বুলাচ্ছে তো আরেকবার কাব্যের ঘাড়ে মুখ গুঁজে চকলেট খাচ্ছে।
স্নিগ্ধ গিয়ে স্টেজে বসেছে। কাব্য একহাতে হলুদ এনে রাখল টেবিলে: স্নিগ্ধ কাব্যের কোলে বাচ্চাকে দেখে জিজ্ঞেস করল———‘কার বাচ্চা এটা ভাইয়া?’
‘আয়েশা আপুর।’ —— কাব্য জবাব দিয়ে আবার কাজে লেগে গেল।
শামিমা দূর থেকে কাব্যকে একটা বাচ্চা কোলে সমেত দেখছেন। বেচারির মা-সুলব মনটা হু-হু করে উঠে আবার, দুই চোখ উনার আবার টলমল করে উঠেছে। ছেলেটা কতটা বাচ্চা-কাচ্ছা ভালোবাসতো, আদর করত। আজ সব ঠিক থাকলে মানুষের বাচ্চা কোলে রাখা লাগত না ছেলেটার। অথচ. . !
‘এই রাফি, এদিকটা ফুল উল্টে গেছে, স্কচটেপ দে একটা এদিকে।’ —— কাব্য চেঁচিয়ে ডাকল কাউকে।
কথা বলার মধ্যেই হঠাৎ একটা মসৃণ মখমলে হাত কাব্যের বাহু আষ্টেপিষ্টে ধরে গায়ের সাথে মিশে গেল। কাব্য কথা থামিয়ে মাথা ঢুকুয়ে পাশে ফিরে তাকাতেই দেখে কুহু একটা শুভ্র রঙের হলদেটে মিশেলে শাড়ি পরে ঠিক কাব্যের বা পাশেই মিশে দাড়িয়ে আছে। হাসিহাসি মুখে তাকিয়ে আছে কাব্যের মুখটার দিকে মাথা তুলে। কপালে টিপও দিয়েছে আজ,সেজেছে ভীষণ আদুরেভাবে।
কাব্য হা হয়ে পাশ ঘাড় ঘুরিয়ে সবটাই দেখে গেল অপলক, কুহু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে কাব্যের ওই চাউনি। কাব্যের বুক কাঁপছে, কাব্য আলগোছে কুহুর মুখের দিকে ঝুঁকে চেয়ে থাকে। আশ্চর্যজনকভাবে ফ্যানের বাতাসও এদিকেই আসছিলো তখন। তাতে কুহুর চুল উড়ে উড়ে কাব্যের মুখের উপর পড়ছে। পুরোপুরি ফিল্মি একটা দৃশ্য!
স্নিগ্ধ স্টেজে বসে ছিলো। ওদের এই চোখে-চোখে চাওয়া-চাওয়ি দেখে বেচারা দারুণ বিরক্ত হলো। বিরক্ত হয়ে ডাকলো চেঁচিয়ে———‘আব. .ভাইয়া—ভাবী। আশিকি ২ মুভি প্লিজ নিজেদের রুমে দেখাও। হলুদ দিতে আসো এখন। ভাইয়া . .!’
স্নিগ্ধের চেচানোতে সাথেসাথে কাব্য চোখ সরিয়ে নিলো লজ্জায়। অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে কুহুকে বাহু থেকে ঠেলে দিতে দিতে বলল——-‘সর: সবাই দেখছে।’
কুহু শুনেও না। ও আরও শক্ত করে কাব্যের বা-হাতটা চেপে ধরে বলল জেদ দেখিয়ে বললো——-‘দেখুক; আমার হাজবেন্ডকে আমি ধরেছি। তো? এত লজ্জা কেন পাচ্ছেন? সবসময় এই গুড বয়গিরি আমাকে দেখাবেন না তো, বিরক্ত লাগে।’
কাব্য ভ্রু কুচকে তাকালো———‘আমি গুডবয়?’
কুহু মুখ ভেংচি দিয়ে কাব্যকে ঠেলে নিয়ে গেল স্নিগ্ধের কাছে। পরপর কাব্যকে ছেড়ে খানিকটা হলুদ আঙুলে দিয়ে স্নিগ্ধের দুগালে ছুইয়ে দিতে দিতে বলল———-‘জিজুর গায়ে হলুদ লাগুক; বোনের শরীরে বিয়ের রং উপচে পড়ুক।’
স্নিগ্ধ মুখ সরিয়ে নিয়ে নিলো এটা শুনে—-‘কুহু সরি ভাবি. . আমি আগে তোমার ভাই হই। এই জিজু কি আবার?’
কুহু শুনে বলল——-‘জিজু বলব না: ভাই-ই বলব।তবে আগে মুখ ভরে আমাকে ভাবি ডাকটা শেখো। এই কুহু সরি ভাবি. . এটা শুনে শুনে আমি টায়ার্ড ভাই।’
স্নিগ্ধ লজ্জা পেয়ে গেল এবার——‘বিয়েটা করে ফাঁসিয়ে দিয়েছিস সরি. .দিয়েছো একদম। অভ্যাস নাই, তাই এসব গোলমাল ডাকই বেরোচ্ছে মুখ দিয়ে।’
কুহু মৃদু হেসে এবার কাব্যকে ঠেলে দিয়ে বলল——-‘হলুদ লাগান ভাইকে। তারপর কথা আছে আপনার সঙ্গে। কুইক!’
কাব্য ভ্রু বাকালো—-‘কি কথা?’
কুহু কাব্যকে ঠেলে দিতে দিতে বললো——-‘আগে হলুদ লাগান: তারপর বলছি।’
কাব্য ছোট শ্বাস ফেলে স্নিগ্ধের হাতের উপর সামান্য হলুদ লাগিয়ে দিয়ে বলল———‘বিয়ে কর, তারপর বুঝ বউ কতটা প্যারার। কনগ্রাচুলেশন ব্যা দ্য উয়ে।’
স্নিগ্ধ হেসে উঠে, বললো——‘আমি তো এই প্যারাই বুঝতেই চাইছি ভাইয়া, তোমরাই দিলে না এত বছর।’
কাব্য স্নিগ্ধকে ভ্রু কুচকে দেখে পরপর সরে গেল। বাকিরা একে একে স্নিগ্ধকে হলুদ দিয়ে দিচ্ছে। কুহু এই ফাকে কাব্যের সামনে এসে দাড়িয়ে শাসন স্বরে বলল—-‘কথা আছে আপনার সঙ্গে; রুমে চলুন।’
কাব্য বাচ্চাটাকে ওর মায়ের কোলে রেখে এসেছে সবেই। কুহুকে পথ আটকাতে দেখে জবাব দিল—‘আমাদের রুমে মেইবি খালারা বসা।’
কুহু মুখ ফুলিয়ে ছোট শ্বাস ফেলে বলল——-‘তাহলে স্টোর রুমে চলুন।’
কাব্য কুহুকে সামনে থেকে সরিয়ে খাবার টেবিল সেট করছে, জবাব দিল—‘স্টোর রুম? কেন? স্টোর রুমে যাওয়া লাগবে কেন?’
কুহু এবার বিরক্ত হলো ভীষণ, শাসিয়ে উঠে বলল———‘এই আপনি যাবেন কি না বলেন আগে?’’
কাব্য থমকালো কুহুর রাগ দেখে। শেষ পানির গ্লাসটা টেবিলে রেখে বলল———‘চল।’
কুহু কাব্যের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগল স্টোর রুমে। স্টোর রুমে ঢুকেই সবার আগে কুহু কাব্যকে ভেতরে ঠেলে দিয়ে সিটকিনি আটকালো রুমের। কাব্য সিটকিনি দেখে সাথেসাথেই তাজ্জব হয়ে বলল———‘তুই এসব করার জন্যে এখন আমাকে এখানে এনেছিস? সিরিয়াসলি? স্টোর রুমে শেষপর্যন্ত?’
‘চুপ অশ্লীল পুরুষ। রুম থাকতে এই নোংরা জায়গায় কিছু করতে যাব কেন আমি?’ ———- বলে কুহু কাব্যের দিকে এগুলো।
কাব্য একদৃষ্টিতে; অপলক তাকিয়ে রইল কুহুর মুখটার দিকে। কুহু এগিয়ে গিয়ে ভীষণ আশ্লেষে স্বামীর দু-কাঁধে হাত জড়িয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরে কাব্যের মুখের খুব-খুব কাছে মুখ এগিয়ে আনল। কাব্য কুহুর দিকে স্থির তখনও চেয়ে আছে। কুহু ভীষণ নরম কণ্ঠে শোধাল———-‘রাগ এখনো কমেনি? আর কি করতে হবে আমাকে? হু?’
কাব্য শুনেই সাথেসাথে কুহুর হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো। কুহু এবার মেজাজ দেখিয়ে কাব্যের গলাটা আরও তীব্র অধিকার দেখিয়ে পেচিয়ে ধরে রাগী কণ্ঠে বললো———‘ছাড়বো না, কি করেন আজ আমিও দেখব।’
কাব্য কঠিন কণ্ঠে কুহুর হাত ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করে মুখটা নামিয়ে বললো———-‘কিছু করার নেই আমার আর। লিভ মি এলোন।’
কাব্য কথাগুলো যত বলছিল, কুহু তত শক্ত করে কাব্যের গলা পেঁচিয়ে ধরছে। কাব্য তবুও ভীষণ হম্বিতম্বী করছে। এবার কুহু ভীষণ রেগে গিয়ে একহাতেই শাড়ির আঁচল বুক থেকে নামিয়ে নিয়ে ফেলে দিল। কাব্য সেটা দেখে রীতিমত তাজ্জব হয়ে একবার দেখেই অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলল——-‘লাভ নেই কুহু: আমি গলব না এবার। শাড়ির আঁচল ঠিক কর।’
কুহু শুনলই না। উল্টো কাব্যের দিকে আরও ঝুঁকে এসে; ঘনিষ্ট হয়ে একদম শক্ত করে একটা চুমু গেঁথে দিল কাব্যের ডান গালে। কাব্য এতেই একদম মূর্তি হয়ে গেল, স্থির তাকিয়ে রইলো সামনে। কুহু কাব্যের গালে নাক ঘষতে নিভু আওয়াজ চোখ বন্ধ করে বলে যায় ———-‘সিডিউজ হবেন না? আমিও দেখব কেমন পুরুষ আপনি। আজ রাতে আপনার ধৈর্যের মহা পরীক্ষা নেব। দেখব আমিও— কেমনে পাশ করেন।’
চলবে
সবাই বেশি বেশি রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন। আচ্ছা, কাব্য-কুহুর এই ভরপুর রোমান্স পর্ব এই প্রথম তাইনা? কেমন লাগল; একটু বলবেন তো?
রোমান্টিক পর্ব এটা, এবং আজকের পর্ব আমি একদম মনের মাধুরি মিশিয়ে লিখেছি পুরো। জানিনা কেমন লাগবে আপনাদের কাছে।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, ডেনিম জ্যাকেট
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৭
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৬