Golpo romantic golpo ডেনিম জ্যাকেট

ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৯


ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৪৯

অবন্তিকা_তৃপ্তি

কুহু অস্থির হয়ে নিজের ফোনের ঊর্মির সাথে চ্যাট হিস্ট্রি দেখতে থাকে ভালো করে।
এত মাস পর… প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত ইগোয়ালি, ইম্ম্যাচিউর, কুহেলিকা সিদ্দিক কুহু জুম করে করে দেখে ঊর্মির পাঠানো ঊর্মি-কাব্যের প্রত্যেকটা ঘনিষ্ঠ ছবি।

একটা সময় কুহু আশ্চর্য হয় ভীষণ। হা করে ফোনের চ্যাট-ছবি দেখতে দেখতে ও দ্রুত শার্লিনের দিকে ফিরে কাঁপতে কাঁপতে বলে—— ‘তুই… কাব্য ভাইয়ের ফেসবুক আইডি বের কর। ছ… ছবি বের কর উনার। দ্রুত… দ্রুত!’

কুহুর এমন অস্থিরতা দেখে শার্লিন অবাক হয়ে তাকায়—— ‘তোর কী হয়েছে বলবি তো? এমন প্যানিক অ্যাকশন করছিস কেন?’

কুহু ধমকে উঠে—— ‘আমি বের করতে বলেছি।’

শার্লিন থতমত খেয়ে যায়। পরপর কুহুকে আর না ঘাটিয়ে সাথে সাথে কাব্যের আইডি বের করে ওর ছবি বের করে কুহুর সামনে ধরে—— ‘নে ধর। কী দেখবি এখন ছবিতে। আর কাব্য ভাইয়ের এক্সের ছবি কেন বের করেছিস? তোর সমস্যা কী?’

কুহু বিড়বিড় করে কিছু বলছে; জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে এত অস্থিরতা ওর মধ্যে চেপে বসেছে। কুহু ওভাবেই বলতে বলতে শার্লিনের হাত থেকে ওর ফোনটা ছো মেরে নিয়ে দুটো ফোন পাশাপাশি হাতে রাখে। তারপর আবার ঝুঁকে এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছবি-দুটো দেখা শুরু করল।

শার্লিনেরও বোধহয় এবার অগ্রহ হলো ভীষণ। ও নিজেই ঝুঁকে এসে কুহুর সাথে দুটো ছবি মেলাতে থাকে। দুটো মাথা, কাব্যের দুটো ছবি একটা ওপরটার সাথে মেলাচ্ছে, বিজ্ঞদের মতো।

কুহু ছবিটা দেখতে দেখতে আচমকা হা করে শার্লিনের দিকে তাকাল। শার্লিন তখনও কিছুই বুঝেনি, ও তাকাল কুহুর দিকে———-‘কী দেখলি বল না?’

কুহুর চোখ টলমল করে উঠে। ওর ঠোঁট কাঁপছে! ও শার্লিনের দিকে অসহায় চোখে একবার তাকিয়ে আবার ছবি দুটো মেলায়—পুনরায়, বারবার! অথচ বারবার ঠিক একই ব্যাপার, একই প্যাটার্ন চোখে পড়ছে।

শার্লিন বিরক্ত হয়ে বলে—— ‘কী এত দেখছিস বল না?’

কুহু শার্লিনের দিকে তাকিয়ে, ছবি-দুটো বাড়িয়ে দিয়ে বলতে থাকে————‘কাব্য… ভাইয়ের চুলের কাটিং কেমন আছে এখন জানিস?’

নাক টেনে কুহু আবার বলে—— ‘আমি বলছি। কানের দিকে চুল ছেঁটে রাখা, রাইট?’

শার্লিন বলে উঠে—— ‘তো? তুই হঠাৎ উনার চুলের কাটিং নিয়ে পড়লি কেন?’

কুহু নাক টেনে ফোন দুটো আবার শার্লিনের দিকে বাড়াল——‘দেখ দুটো ছবি, ভালো করে দেখ একবার। এখানে কাব্য ভাইয়ের চুল কানের কাছেও একইরকম আছে, আর কাব্য ভাইয়ের চুল সামান্য কোঁকড়ানো, এখানে সিল্কি চুল। দেখতে পাচ্ছিস?’

শার্লিন অবাক হয়ে নিজেও তাকাল। পরপর কুহুর দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে বলল—— ‘হ্যাঁ, তাই তো।’

কুহু নাক টেনে উত্তেজিত হয়ে বলে—— ‘মনে আছে আমি তোকে একটা সিনেমায় নায়ককে দেখে বলেছিলাম যে নায়কের চুল কাব্য ভাইয়ের মতো? অথচ এই ছবিতে কাব্য ভাইয়ের চুল সম্পূর্ণ আলাদা!’

শার্লিন ভ্রু কুঁচকে তাকাল—— ‘তার মানে…!’

কুহু চিৎকার করে উঠে—— ‘এটা… এটা… এটা কাব্য ভাই না শার্লিন। কাব্য ভাই হতেই পারে না এটা।’

শার্লিন তাকায় কুহুর দিকে। কুহু পরপর নিজেকে থামিয়ে, কাপতে কাপতে আরেকটা ছবি বের করে দেখায়—— ‘দেখ এটা একটা চ্যাট স্ক্রিনশট!’

শার্লিন দেখে। কুহু ক্রমাগত বলে যায়—— ‘এখানে… কাব্য ভাইয়ের সাথে মেসেঞ্জারে কথা বলার চ্যাট দেখাচ্ছে ঊর্মি। কিন্তু চ্যাটে এ কাব্য ভাইয়ের নাম; প্রোফাইল সেই একই থাকলেও মেসেজের ধরন দেখ।’

শার্লিন দেখলো ভালো করেই। পরপর কুহুর দিকে তাকালো কিছুই না বুঝে। অস্থির-পাগলাটে-অসহায় কুহু বলে যায়—— ‘মেসেজের মধ্যে ফুল স্টপ অনেকবার বসানো হয়েছে, দেখেছিস? কাব্য ভাই মেসেজ করেন সম্পূর্ণ পারফেক্ট ওয়েতে। একবার ফুলস্টপ থাকে তার এক বক্তব্যে। তাছাড়া উনি এক মেসেজেই সম্পূর্ণ কথা শেষ করেন। আর মেসেজের টাইমিং দেখ। শুরুতে মেসেজের টাইমিং ঠিক থাকলেও; পরে ওভারল্যাপিং হচ্ছে, দেখেছিস? ঊর্মি মেসেজ পাঠিয়েছে ২:৩০ এ। কাব্য ভাই সেটার রিপ্লাই দিয়েছেন দেখাচ্ছে ২:১০ এ। কীভাবে? টাইমিং তারতম্য অদ্ভুত কেন?’

শার্লিন কুহুর দিকে তাকাল, পরপর নিজেও অবাক হয়ে হঠাৎ বলে উঠে—— ‘দ্যাটস মিন. .এ.. .এআই!’!’

‘এক্সাক্টলি শার্লিন!’ —— কুহু আত্মবিশ্বাসের সাথে শার্লিনকে বলে বসে।

কুহু বারবার ঢোক গিলছে। শার্লিনও আহাম্মক হয়ে আছে! ও হা করে কুহুর দিকে চেয়ে আছে, এসব কিছু বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছে। ঊর্মি সাইকোটা এতদূর এগিয়েছে, শুধুমাত্র কুহুকে পেছন ছাড়ানোর জন্যে? কুহু চেয়ে আছে শার্লিনের দিকে একইভাবে। শার্লিন হঠাৎ থেমে থেমে বলে—— ‘তুই পাগল? এআই আর রিয়েল ইমেজ বুঝিস না? একবার ক্রস চেকও করিসনি?’

কুহু থামে, ফোন বেঞ্চের উপর ছুড়ে ফেলে দুহাতে মাথার চুল খামচে ধরে। পরপর চুল ছেড়ে আবার শার্লিনের দিকে তাকায়; ওর নিজেকেও এখন হতবুদ্ধি লাগছে। কুহু বিহ্বল কণ্ঠে বলে—————‘কীভাবে করতাম? আমি তো তখন ভাবতাম কাব্য ভাই ঊর্মির বয়ফ্রেন্ড। এসব ছবি ইমেজ যখন সত্য হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিলো আমার কাছে। উনি আমাকে যা বলেছেন আমি তাই বিশ্বাস করেছি।আর বিয়ের পর এসব দেখার রুচি ছিলো না আমার কখনো।’

শার্লিন বিরক্ত হয়ে বলে—— ‘তাহলে কাব্য ভাই যখন বারবার বলেছিলেন সে এসব করেনি। প্রেমের বিষয়টা তোকে রিজেক্ট করার ছুতো ছিলো। তখনও কেন চেক করিসনি?

কুহু মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলো; জবাবে বলল—— ‘করিনি কারণ… ঊর্মি বজ্জাতটা আমার আর কাব্য ভাইয়ের সমস্ত কথা জেনে যেত। আমি ভাবতাম এগুলো কাব্য বলেছেন। তিনি মুখে বলেন শুধু ঊর্মির সাথে রিলেশন অজুহাত; অথচ ঠিকই ঊর্মি আপুকে আমাদের সব কথা জানাচ্ছেন। ইভেন… এখনও আমি বুঝতে পারছি না ওই সাইকোটা আমাদের এসব কথা, সেটা কীভাবে জানত। এতকিছুর পর কাব্য ভাই না… আমার ওই বেয়াদব ঊর্মির উপরেই সন্দেহ হচ্ছে। নিশ্চয়ই কাব্য ভাইকে সে ফাঁসিয়েছে… কাব্য ভাই না বললেও হয়তো… কোনও একভাবে ও এসব জেনে যেত।এবং আমার এটা জানা লাগবে!’

কুহু থামে! পরপর বলে—— ‘যে ঊর্মি কাব্য ভাইয়ের সাথে চ্যাট হিস্ট্রি; ইমেজ নকল করতে পারে… জাস্ট আমাকে জ্বালানোর জন্যে! আর যাই হোক! আমার কাছে ওর বাকি সব কিছু মিথ্যে লাগছে এখন।’

শার্লিন থামল, চুপচাপ কিছুক্ষণ কুহুর দিকে চেয়ে একসময় কুহুর গায়ে হাত রাখে— ‘কী করবি এখন?’

কুহু একহাতে মাথার চুল খামচে আর একহাত নিজের পেটের উপর রাখে। পরপর মাথাটা নামিয়ে বসে থাকে চুপচাপ। চোখের সামনে ভাসতে থাকে— একের পর এক কুহুর ভুল বোঝা, কাব্যের সাথে ঝগড়া। ঝগড়াঝাঁটি, কাব্যকে ছোট করা: সেদিনের ওই সকালের চূড়ান্ত অপমান!

কুহুর গলা শুকিয়ে আসে। এটা… এটা কী করে ফেলল ও? কী কী করে ফেলেছে ও? এবার… কাব্য ভাইয়ের সামনে মুখ দেখানোর পরিস্থিতি অব্দি কুহু রাখেনি। নিজের হাতে এতদিন ধরে ওর সুন্দর সম্পর্ককে গলা টিপে মেরে ফেলেছে।

শার্লিন কুহুকে ডাকে—— ‘উবার এসেছে কুহু।’

কুহু শুনেও না। ওর চোখে তখনও এসব দৃশ্য ভেসে বেড়ায়। শার্লিন আবার ডাকে—— ‘এই কুহু।’

‘হ্যাঁ… হ্যাঁ?’ —— কুহু তাৎক্ষণিক সম্বিত ফিরে পাশ ফিরে।

শার্লিন আবার বলে—— ‘উবার এসেছে। বাসায় যাবি না?’

কুহু তাকিয়ে থাকে চূড়ান্ত বিধ্বস্তের ন্যায়। শার্লিন কুহুর মনের অবস্থা বুঝে, নিশ্চুপ ওকে দেখে গায়ে হাত রেখে বলে—— ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। তুই বুঝতে পেরেছিস এটাই অনেক। চল এবার।’

কুহু শার্লিনের হাতটা সরিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে বলে—— ‘বড্ড দেরি হয়ে গেছে শার্লিন। বড্ড দেরি। আমি জানি না… এসব কীভাবে ঠিক করব!’

শার্লিন বলে—— ‘কিচ্ছু দেরি হয়নি। বেশি না ভেবে কাব্য ভাই আজ ফিরলে ডিরেক্ট তার পায়ে পড়ে যাবি। না এখনো মাফ চাইবি না?’

কুহু ভাঙা গলায় বলল—— ‘তাকে আমি অনেক আ ঘাত করেছি শার্লিন। অনেকটা ঘা দিয়েছি তার অন্তরে। আমার মুখ নেই মাফ চাওয়ার।’

শার্লিন বলে—— ‘তাহলে বারবার মাফ চাইবি। বিয়ের পরও কাব্য ভাই এর দোষ না থাকা সত্ত্বেও এতবার মাফ চেয়েছেন তোর কাছে। তার কত ধৈর্য ছিলো ভাব? তুই এবার দেখা নিজের ধৈর্য।’

কুহু টলমলে চোখে চেয়ে থাকে স্রেফ। ওর গলা কাঁপছে; হাতদুটো অনবরত ট্রেমোর হচ্ছে। ওকে বুঝতে পারে শার্লিন, শার্লিন বলে—— ‘নিজের বোকামির জন্যে তুই নিজেই নিজের এতবড় সর্বনাশ করেছিস কুহু। এখনই এসব তুই ঠিক না করলে এসব আর কখনোই ঠিক হবে না।’

কুহু তাকিয়ে রইল ফ্যালফ্যাল চোখে: শার্লিন বলল—— ‘এখন চল মেরি মা।’
—————————————-
সিদ্দিক মহল, কাব্যদের ফ্ল্যাট!

কাব্যের ফ্লাইট বাংলাদেশে ল্যান্ড করবে ২ ঘণ্টা পরেই। কুহু বাসায় ফিরেই অস্থির একদম। অস্থির হয়ে দৌড়ে গেল শামিমার কাছে: শামিমা তখন সবে চুলোয় রান্না বসিয়েছেন। কুহু গিয়ে উনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে স্থির উনার ঘাড়ে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল; একটা কথাও বললো না। কুহুর এমন আচরণে শামিমা অবাক হয়েছেন সম্ভবত কিছুটা। চুলাটা বন্ধ করে শামিমা পেছন ফিরলেন। কুহুর মলিন, কান্নামাখা মুখ দেখে আলতো করে গলা নরম করে বললেন—— ‘কী রে? কাঁদছিলি নাকি? কাব্য তো আজই আসছে।’

কুহু মাথা নেড়ে, শামিমার ঘাড়ে মুখ লুকিয়ে নিচু কণ্ঠে বলে উঠে————-‘আমি . .আমি এয়ারপোর্ট যাব বড়মা। ন. .নিয়ে যাও আমাকে প্লিজ।’

কাব্য আসছে দেখে দু ঘণ্টাও এই মেয়ের সহ্য হচ্ছে না। ছেলের প্রতি ছেলের বউয়ের এমন তড়পানো দেখে শামিমা না চাইতেও হেসে ফেললেন। কুহুর গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন—— ‘ঠিক আছে যাবি। এখন না; দু ঘণ্টা পর।’

কুহু আবার নাছোড়বান্দার ন্যায় বলে—— ‘এখনই যাব। প্লিজ বড়মা, প্লিজ।’

আচমকা কুহুর এই অস্থিরতা, মন পোড়ানো আচরনে শামিমা অবাক হয়ে তাকালেন। পরপর মৃদু হেসে বললেন—— ‘এত মন পুড়ছে, হ্যাঁ?’

কুহু শামিমার ঘাড় থেকে মাথাটা তুলে এবার উনার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। শামিমা হেসে কুহুর এলোমেলো চুল সুন্দর করে ক্লিপে আটকে দিয়ে বললেন—— ‘যা রেডি হয়ে নে। নিয়ে যাচ্ছি।’

কুহুর মুখটা তখনও ভার অনেক; আজ ভীষণ চুপচাপ দেখাচ্ছে ওকে। শামিমা নিজেও এটা লক্ষ করেছেন। কুহু রান্নাঘর থেকে চলে আসবে, হঠাৎ শামিমা অন্যমনস্ক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—— ‘কী হয়েছিল তোর? হাসপাতাল গেছিলি কেন?’

কুহু থামে, পেছন ফিরে। পরপর আস্তে করে বলল—— ‘আছে কিছু একটা। পরে বলব।’

পরপর কুহু চলে গেল। শামিমা পেছন ফিরে আবার তাকালেন। কুহুর কথা সন্দেহজনক। উনি যা ভাবছেন তাই কি!

আজ অনেকটাদিন পর,
কুহু ভীষণ সময় নিয়ে ইউটিউবে থেকে দেখে একটা শাড়ি গায়ে জড়ালো। সাদা রঙের নীল পাড়ের শাড়ি। পুরোটা সময় শাড়ি পড়তে বেচারীর বড্ড কসরত করতে হয়েছে। শাড়িটা কাব্য এনে দিয়েছিলো— পড়া হয়নি কখনো; জেদ দেখিয়ে কাব্যের সামনেই ওর দেওয়া গিফট ছুড়ে ফেলেছিল। কাব্য তখন কিছুই বলেনি; চুপচাপ গিফটটা আলমারিতে তুলে বেরিয়ে গেছিল রুম থেকে।

কুহুর চোখ আবার ভিজে আসে। ও কত কী জঘন্য; নিষ্ঠুর ব্যবহারই করেছে কাব্য ভাইয়ের সাথে… নিজের স্বামীর সাথে।
আর কাব্য… উনি নিজের দোষ না থাকা সত্ত্বেও কুহুর প্রতি সদয় ছিলেন; অসীম ধৈর্য দেখিয়েছেন: আগলে রেখেছেন ছোট পুতুলটার মতো। আর তাঁকে কী না কুহু এত ক্ষতবিক্ষত করেছে…

আর সেদিনের সকাল? ওই একটা সুন্দর; ওদের দুজনের জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল একটা রাতের পর কুহুর ওই ধরনের অপমান… কাব্য ভাইকে ঠিক কতটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে? এটা তো এখন ভাবতেও পারে না কুহু, নিজেই আতকে উঠছে ভাবলেই।

শাড়িটা পড়তে অব্দি পারছে না, এসব কথা যতবার মাথায় আঘাত হানছে ততবার ওর চোখ বেয়ে আবার জল গড়িয়ে পড়ছে, গলা কাপছে!
কুহু নিজেকে সামলায়! হঠাৎ পরনের শাড়িটা বড্ড বিরক্ত লাগতে শুরু করল। ও শাড়িটা কোনোরকমে পরে এসে বাথরুমে ঢুকে অনবরত পানি ছেটায় মুখে। পানির সাথে কান্নার অশ্রু বইয়ে যেতে থাকে অবলীলায়।

পানি ছেটাতে ছেটাতে হঠাৎ কুহু বেসিন চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ল। হাউমাউ করে কেঁদে উঠল অসহায় স্ত্রী কুহু। এবার রাগ-জেদ-অপমানে নয়, এমনকি নিজের অপমানেও নয়। বরং নিজের দেওয়া ভালোবাসার মানুষটার অপমানে। ও, ওর ভালোবাসার মানুষকে অপমান করেছে: তার ভালোবাসাকে ছোট করেছে: তার স্পর্শকে নোংরা বলে যাচ্ছিল—— আহ! কুহুর বুকটা আর্তনাদ করে উঠল। হাহাকার করে চোখে-মুখে বারবার পানি ছেটাতে থাকে, পাগলের মতো।

পরপর আয়নায় তাকিয়ে থেকে চূড়ান্ত অসহায় কণ্ঠে এক নাগাড়ে বলে যেতে থাকে—— ‘আই অ্যাম সরি!! আই অ্যাম সরি, কাব্য ভাই। সরি, সরি সরি!’

কুহু অনেকক্ষণ কাঁদার পর নিজেকে সামলালো। সময় হয়ে এসেছে, যেতে হবে। আজ কুহু এয়ারপোর্টে সবার সামনে কাব্যকে জড়িয়ে ধরবে।

আজ অব্দি, বিয়ের পর কোনোদিন কুহু শাড়ি পরেনি। ইচ্ছে করেই পরেনি তখন। তবে আজ থেকে পরবে। শাড়ি পরে কাব্যের বউ হয়ে ঘুরবে ওর আশেপাশে! তাও যদি কাব্য ভাই ওকে ক্ষমা করেন: মাফ করেন— ওর করা অন্যায়; দেওয়া আঘাতগুলো ভুলে জান।

কুহু শাড়িটা পরা শেষ করে চোখে সুন্দর করে কাজল পরল। লিপস্টিক দিল, লিপ লাইনার দিলো ভালো করে। চুল খোলা রাখলো, তবে বয়কাট চুল আগের থেকে বেশ বড় হয়েছে এখন।
কুহু চুলটা ছুঁয়ে দেখে; পরপর আয়নার দিকে চেয়ে বলে————‘কোমর সমান চুল অনেক পছন্দ ছিলো আপনার। আর আমি কিনা…!’

কুহুর চোখ টলমল করে উঠল আবার। কিন্তু ও কাঁদল না। কাজল দিয়েছে মাত্রই, লেপটে গেলে কাব্য ভাইয়ের মন জয় করবে কীভাবে!
কুহু সম্পূর্ণ সাজগোজ করে আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখল। পরপর পেটের দিকে চোখ গেল ওর। মা-সুলভ মনটা তা-তৈ করে উঠলো কুহুর। ও পেটের উপর আলতো করে হাত রেখে পেটের জনকে শোনাল—— ‘মাম্মা-পাপা তোমার জন্যে একটা সুন্দর পরিবার গড়বে বাবু। সমঝোতার না, মামা-পাপা ভালোবাসা দিয়ে তোমার জন্যে এখানে পৃথিবী গড়ে রাখবে। তুমি এসো: সুস্থভাবে এসে দেখ তোমার জন্য কী আছে, কতটা আছে এখানে।’

শামিমা ডাকছেন বারবার, তাড়া দিচ্ছেন বেরুবার জন্যে। ওদিকে বেচারি কুহু শাড়িটা ভালো করে সামলাতেই পারছে না। শামিমা আগে নিচে নেমে ড্রাইভারের সাথে কথা বলছেন কিছু নিয়ে। কুহু কোনোরকমে শাড়ি একহাতে ধরে ধরে নিচে নেমে আসলো। গাড়ির সামনে দাঁড়াতেই: শামিমা কুহুকে এই প্রথম বিয়ের পর শাড়িতে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকলেন। পরপর উচ্ছাস নিয়ে বললেন—— ‘শাড়ি পরেছিস, কুহু? অসম্ভব সুন্দরী লাগছে রে।’

কুহু লজ্জা পেয়ে হাসল; নুইয়ে গেল একপ্রকার। শামিমা উনার চোখ থেকে কাজল নিয়ে কুহুর কানের পেছনে লাগিয়ে দিয়ে মমতা নিয়ে বললেন—— ‘কাজলও দিয়েছিস দেখছি। কাব্য আজ একসাথে অনেকগুলো সারপ্রাইজ পাবে। হু?’

কুহু হেসে শামিমাকে জড়িয়ে ধরে লজ্জা নিয়ে বললো—— ‘কী মনে হয়? তোমার ছেলে কি পাগল হবে আজ?হু?’

শামিমা হেসে একহাতে ওকে ধরে বললেন—— ‘হবে মানে। অবশ্যই হবে: এরা বাপ-বেটা সবাই জানিস একই ধরনের। বউকে সাজতে দেখলেই এদের মাথা ঘুরে যায়।’

কুহু হালকা টিপ্পনি কেটে বলল—— ‘তাই? বড় চাচ্চুও বুঝি তোমাকে দেখে পাগল হয়ে যান?’

শামিমা বুড়ো বয়সে এমন লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে বললেন——‘পাজি মেয়ে। বেশি ফাজলামি করিস না তো।’

কুহু হেসে উঠে শামিমাকে আরও জোরে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখল। খানিক পর ভীষণ অন্যমনস্ক কণ্ঠে বলে বসল——‘তোমার বলা কথা আজ সত্যি হবে তো বড়মা? কাব্য ভাই আমাকে দেখে. .!’

কুহু বিড়বিড় করে বলে কতকিছু। শুনেননি শামিমা, অবাক হয়ে তাকালেন কুহুর দিকে। কুহু অন্যমনস্ক হয়ে সামনে তাকিয়ে ভাবছে কিছু। শামিমা ওর গায়ে হাত রেখে বললেন—— ‘এবার চলি আমরা?’

কুহু হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই সাথে সাথে শামিমাকে ছেড়ে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বলল—— ‘এক সেকেন্ড হ্যাঁ। একটু দোতলা থেকে আসছি। জাস্ট এক সেকেন্ড বড় মা।’

শামিমাকে কিছু বলতে না দিয়েই কুহু শাড়ি সামলে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে ওর বাবার ফ্ল্যাটে গেল: কলিং বেল বাজাল অনবরত।

কবিতা দরজা খুলে কুহুকে দেখে অবাক হয়ে বললেন—— ‘কী রে? আবার কী?’

কুহু দৌড়ে তাড়াহুড়ো করে ঘরে নিজের ঘর থেকে গাছ থেকে ফুল কয়েকটা নিয়ে সুন্দর করে র‍্যাপিং করে বেরিয়ে এসে বলল——‘এটা নিতে ভুলে গেছিলাম। আসি, দরজা লাগিয়ে দাও।’

কবিতা মেয়ের পাগলামি দেখে আজ শুধু অবাক হয়ে গেলেন। কুহু আজ বহুদিন পর অনেকটাই উচ্ছ্বসিত; হাসছে, ফিরছে; দৌড়াচ্ছে। ব্যাপারটা উনার চোখেও পড়ছে ভীষণ। কবিতা নজর তাড়ানোর দোয়া পড়ে দরজা আটকালেন।

কুহু সিঁড়ি বেয়ে নামছে। বারবার ফুলের দিকে তাকাচ্ছে; র‍্যাপ দেখছে ঠিকঠাক আছে কিনা। ওদিকে শাড়িটা প্রায় পেঁচিয়ে দুবার পায়ের সাথে পেছিয়ে যেতে- যেতেও যায়নি।

তারপর? এক তলার সিঁড়িতে পা রাখতেই… হঠাৎ কাব্যের জন্যে পড়া শখের শাড়িটার নিচের দিক কুহুর পায়ের পুরোটাই পেছিয়ে গেল। কুহু আচমকা শাড়ি পেঁচানোতে পিছলে টাল সামলাতে না পেড়ে রীতিমত উল্টে পড়ল সিঁড়িতে। সিঁড়ির মধ্যে পড়তেই আচমকা আঘাতের চাপ পড়লো পুরোটাই পেটের উপর, কুহু চিৎকার করে উঠল ব্যথায়, ওর হাত থেকে কাব্যের জন্যে বানানো ফুলের বুকে ছিটকে পড়ল সিঁড়ির এক মাথায়।

কুহু ওভাবেই দুটো সিড়ি নিচে পড়ল; নিজেকে সামলাতে সামলাতে আবার খেলো পেটের উপর মারাত্মক চাপ। অসম্ভব ব্যথা, কুহুর গলা ফাটিয়ে আর্তনাদ করে উঠে, কেদে উঠে চিৎকার করে।

আচমকা কুহুর চিৎকার শুনে শামিমা পেছন ফিরে তাকাতেই , পরপর সিঁড়ি টপকে কুহুকে পড়তে দেখে, উনি আহাম্মক হয়ে জান একমুহূর্তের জন্যে। পরপর —— ‘আল্লাহ গো।’ বলে পাগলের মতো দৌড়ে আসলেন কুহুর দিকে। কুহু দুটো সিঁড়ি পড়ে একদম মাটিতে এসে পড়ল। পেটে খেলো শেষবারের মতো আরেকটা চাপ।
শামিমা পাগলের মতো দৌড়ে কুহুকে এসে ধরলেন। কুহুর চিৎকারে কবিতা থেকে শুরু করে পুরো বিল্ডিংয়ের সবাই বেরিয়ে এসেছে: কুহু অসম্ভব যন্ত্রণায় পেটে হাত চেপে গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে যাচ্ছে।

শামিমা কুহুকে চেপে ধরে ভয় পেয়ে কেঁদে উঠলেন—— ‘কুহু; মা। তুই. .তুই. .’

কবিতা নিজেও মূর্ছা যাওয়ার পথে। শামিমা কুহুকে ধরতে গেলেই দেখলেন তার হাতে রক্ত। সাথে সাথেই কুহুর শরীরের দিকে তাকালেন উনি: রক্তে ভেসে যাচ্ছে কুহুর সাদা শাড়ি। শামিমা ফ্যালফ্যাল করে ওই রক্ত দেখে কবিতার দিকে তাকালেন। কবিতা তো রীতিমত রক্ত দেখেই ঢলে পড়লেন।

কুহু পেটে হাত রেখে গলা কাটা মুরগির মতো ছটফট করতে করতে পাগলের মতো চেঁচিয়ে যাচ্ছে বারবার—— ‘আম্মু… আমার বাচ্চা বাঁচাও প্লিজ। ওর. .ওর ..বা.. বাবা ওকে দেখে. . . আমার বাচ্চা… আমার বা. .বাচ্চা!’

অতিরক্ত ব্যথায় কুহু জ্ঞান হারিয়ে শামিমার হাতেই ঢলে পড়লো একসময়। বাড়িতে পুরুষ মানুষ কেউই নেই। তৎক্ষণাৎ সাথে সাথে ড্রাইভার এসে কুহুকে কোলে নিয়ে গাড়িতে তুলল। তারপর প্রচণ্ড স্পিডে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটল। সবার মাথায় তখন একটা কথাই ঘুরছে,
কুহু, প্রেগন্যান্ট ছিলো। কাব্য-কুহু বাবা-মা হতে যাচ্ছিল প্রথমবারের মতো। সিদ্দিক বাড়িতে আলো করে উত্তরাধিকারী আসতে যাচ্ছিল।
কিন্তু. . !

—————
স্কোয়ার হাসপাতাল ঢাকা, বিকেল ৪টা!

হাসপাতালের কেবিনে কুহুকে ডক্টর পরীক্ষা করছেন। একটু পর পর নার্স কি-কি যেন যন্ত্রপাতি নিয়ে ভেতরে ঢুকছে। কবিতা-সাদাত দুজনের অবস্থায় মেয়ের এসব দেখে শোচনীয়। কবিতা কাঁদতে কাঁদতে সাদাতের কাঁধে মাথা রেখে ফুপাচ্ছেন। সাদাতের চোখ রক্তিম; একদিকে স্ত্রী পাগল হয়ে যাচ্ছেন: অন্যদিকে মেয়ে-মেয়ের বাচ্চা দুটো ডক্টরের হাতে কাটাচেরা খাচ্ছে। উনি পুরুষ মানুষ, তাই হয়তো কেউ উনার ভেতরে বয়ে চলা তাণ্ডব বুঝতে পারছে না।

কেবিনের বাইরে শামিমা বেঞ্চে বসে আছেন। স্নিগ্ধ-কায়া একপাশে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। কাব্যকে ইতিমধ্যে কমপক্ষে শ-খানেক কল করা হয়েছে। কাব্য সম্ববত প্লেনে; কল ঢুকেনি ওর ফোনে। স্নিগ্ধ শেষপর্যন্ত মেসেজ করল———‘ভাই. . we are in hospital! কুহুর অবস্থা ভালো না। সোজা স্কয়ারে এসো।’

ঠিক এইবার কাব্যের ফোনে এই মেসেজ ঢুকেছে। আজ ফ্লাইট ডিলে হয়েছিল; তাই এত দেরি হয়েছে কাব্যের ঢাকা পৌঁছাতে। ও সবেই বাসায় আসবে বলে গাড়িতে উঠেছিল, স্নিগ্ধের এই মেসেজ পেয়ে ভীষন অবাক হয়েছে। সাথেসাথেই স্নিগ্ধের ফোনে কল দিলো কাব্য। স্নিগ্ধ রিসিভ করতেই; কাব্য ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল——-‘কি হয়েছে কুহুর? হ্যাঁ?’

স্নিগ্ধ বলতে যাবে বাচ্চার কথা, কায়া ওকে আটকে দিয়ে ওর থেকে ফোন নিয়ে কানে ধরে নিজে কাব্যকে বলল——-‘ডক্টর আপনাকে খুঁজছে ভাইয়া। দ্রুত আসেন, আসলে জেনে যাবেন। আসসালামুয়ালাইকুম।’

কায়া কল কাটতেই স্নিগ্ধ বলল——-‘বলিস নি কেন বাচ্চার কথা?’

কায়া ফোনটা স্নিগ্ধকে দিয়ে বললো—-‘আমি বলব? এটা কুহুপুর বলার কথা। আর গাড়িতে এটা শুনলে ভাইয়া অস্থির হবে ভীষণ। এখানে এসে সব ঠিক থাকলে শুনলেও উনার শান্তি।’

স্নিগ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে আরেকবার কেবিনের দিকে তাকাল। পরপর মলিন কণ্ঠে নলো———‘ভাইয়ার প্রথম বাচ্চা এটা। কিছু হয়ে গেলে. . !’

কায়া চুপ করে শুনে। স্নিগ্ধ হঠাৎ বলে উঠে——-‘আচ্ছা. . ওদের মধ্যে কিছু ঠিক নেই শুনেছিলাম। তাহলে এই বাচ্চা. .!’

কায়া নিজেও অন্যমনস্ক কণ্ঠে বলে——-‘হয়তো এক্সিডেন্টলি!’

স্নিগ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেলে, এই বাচ্চা থাকুক, বাঁচুক অনেকটা বছর বাবা-মায়ের সাথে। কুহু-কাব্যের জীবনের সব প্যাচ; দুর্ঘটনা, খারাপ সময়-সম্পর্ক; সবটা এই বাচ্চা এসে নিজ হাতে ঠিক করিয়ে দিল। সবার মুখে-মুখে শুধু এই দোয়া।

প্রেমা এসে শামিমার পাশে বসলেন: শামিমা কুরআন খতম মানত করেছিলেন: সেটাই পড়ছেন বসেবসে, আর বারবার আঁচলে চোখ মুছছেন। প্রেমা বসে থাকে উনার পাশে চুপচাপ, একসময় জিজ্ঞেস করল——-‘আপা, বাচ্চার কথা কি আপনি কিছু জানতেন?’

শামিমা চোখের জল মুছে কুরআন পড়া থামিয়ে, কান্না আটকে, জবাবে বললেন———‘না. .আমি আন্দাজ করেছিলাম। কুহু মুখে বলেনি আমাকে। ভেবেছিলাম কাব্যকে জানিয়ে ও আমাদের জানাবে। কিন্তু তার আগেই. .!’

শামিমা বলতে বলতে আবার ফুপিয়ে উঠলেন,শাড়ির আঁচলে মুখ লুকালেন কাঁদতে কাঁদতে। প্রেমা মলিন মুখে: শামিমাকে আগলে ধরে রাখলেন। প্রেমার চোখ থেকেও পানি পড়ছে।

ওদিকে কাব্য গাড়ির ড্রাইভারকে তাড়া দেয় আবারও—-‘মামা, প্লিজ একটু স্পিড দেন গাড়িতে।’

মামা ফোকলা দাতে হেসে বললেন——‘ঢাকার জ্যামে গাড়ি চালামু ক্যামনে বাবা?’

অতিরিক্ত টেনশনে কাব্য ঘেমে গেছে পুরোটাই। অস্থির ভঙ্গিতে জ্যাকেটটা খুলে ছুড়ে ফেলল সিটের উপর। হাত দিয়ে নাক ঘষতে ঘষতে আবার ফোনের দিকে তাকাল। কোনো আপডেট এসেছে কি না. . স্নিগ্ধকে আবার ফোন করল। ধরেনি স্নিগ্ধ! কাব্য ফোনটার দিকে স্থির চেয়ে রইল, ওর ভয় হচ্ছে ভীষন!

হঠাৎ কাব্যের ফোনে একটা মেসেজ এলো। মেসেজে একটা ছবি, এনং দুটো ভিডিও এলো। কাব্যের সেটা দেখেই ভ্রু কুচকে এলো! ভিডিওর নিচে লেখা——-‘অগ্রিম সমবেদনা নিজের মরা বাচ্চার জন্যে।’

———
অনেকটা সময় পর. .
ডক্টর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বেরুতেই জোকের মতো সিদ্দিক বাড়ির প্রতিটা সদস্য ভিড় জমালেন উনার আশেপাশে। সাদাত কবিতাকে নিয়ে দাঁড়ালেন দুর্বল ভঙ্গিতে ডাক্তারের সামনে। ডাক্তার.মিরাজ ওদের সবার চোখের আতঙ্ক লক্ষ করলেন। পরপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুখের মাস্ক খুলে বললেন——-‘আপনারা প্লিজ নিজেদের সামলান। দয়া করে রিঅ্যাক্ট করবেন ন।’

এটা শুনেই সবার মুখটাই পাংশুটে হয়ে গেল একদম। পাশ থেকে এবার স্নিগ্ধ এগিয়ে এলো——-‘কি হয়েছে ডক্টর?’

ডক্টর মিরাজ মাথাটা ঝুঁকে ছোট শ্বাস ফেলে বললেন——-‘মিসেস কাব্যের মিসক্যারেজ হয়েছে। আমরা মাত্রই এমব্রায়ো ওয়াশ করে ক্লিন করে দিয়েছি।’

কাব্য দৌড়াতে দৌড়াতে সবেই এসেছিল হাসপাতালের দোরগোড়ায়। হাসপাতালে পা রাখামাত্রই ডক্টরের এমন একটা খবরে কাব্য মূর্তির মতো দাড়িয়ে গেল। আর এক-পাও এগুতে পারলো না। ও ঠান্ডা হয়ে গেল একদম, হা করে ডক্টর মিরাজের দিকে চেয়ে থাকলো। স্নিগ্ধ দূর থেকে কাব্যকে দেখে চমকে উঠে। কাব্যের অবস্থা ভীষণ করুন, শার্ট এলোমেলো।

একসময় হাতের ডেনিম জ্যাকেটটা আলগোছে হাত থেকে পরে গেল। দুমড়ে মুচড়ে গেছে কাব্য, ওর চোখ কাউকে কিছু বলতে চায়। পারে না কেন যেন! ওর চোখ আশ্চর্য আজ, হা করে ডক্টরের দিকে তাকিয়ে আরেকবার চুড়ান্ত বোকার মতো কুহুর কেবিনের দিকে তাকায়।

স্নিগ্ধ এগিয়ে আসে, ডাকে——-‘ভাই. .ভাইয়া!’

চলবে

বেশ বড় পর্ব। ছোট করে দিতে পারতাম, দেইনি—অস্থির হবেন এজন্যে। আজ আমি কিছু বলব না, আপনারা বলবেন— আমি শুনব! তবে একটা কথাই বলব আজ:
এটা হওয়ার ছিলো,হয়েছে। এটা গল্পের জন্যে দরকার ছিলো বলেই: হয়েছে!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply