ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৪২
অবন্তিকা_তৃপ্তি (১৮+ এলার্ট)
~ কাব্য-কুহু স্পেশাল পর্ব~
কাব্য রিসর্টের রুমে ঢুকে একহাতেই দরজাটা লক করলো। তারপর আলগোছে কুহুকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সরে যেতে নিবে— হঠাৎ কুহু বেঘোরে কাব্যের শার্টের কলার খামচে ধরে। কাব্য থমকে যায়, কলারের দিকে চেয়ে চোখ ফেরায় কুহুর দিকে। কুহুর ঠোঁটে মুচকি মাতাল-মাতাল একটা হাসি, কুহু কাব্যের কলারটা চেপে ধরে ওকে নিজের দিকে টেনে এনে ফিসফিস করে বলল———‘আমি আজ ঘুমাব না, কাব্য ভাই।’
কুহুর ওভাবে কলার ধরে টেনে আনায় কাব্য কুহুর মুখের দিকে ঝুঁকে আসে, ওভাবেই ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে——‘কেন?’
কুহু কাব্যকে আরো টেনে এনে ওর কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে এনে আলতো করে ফুঁ দিল কানের পাশটায়। বেচারা কাব্যের হঠাৎ মনে হলো— তার হার্টবিট বন্ধ হয়ে গেছে। ও চোখটা বুজে কুহুর বাহুতে হাত চেপে ধরে। কুহু এবার ওর কানের পাশটায় আলতো করে চুমু খেতেই কাব্য কাঁপা স্বরে থামাতে চেষ্টা করে——-‘কু… কুহু! প..প্লিজ!!’
কুহু শুনেও না। ও কাব্যের কানের পাশটায় ইচ্ছেমতো চুমু খেয়ে সরে এসে সরাসরি মুখ রাখলি কাব্যের মুখের দিকে। কাব্য ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালো কুহুর দিকে। কুহু এবার কাব্যের কলার ছেড়ে ওর দু’গালে হাত রেখে কাব্যের চোখে-মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। কাব্যও তাকিয়ে রইল, অনেকক্ষণ! কি যে বলে গেল একে অন্যকে— জানা নেই। তবে কথা বলে গেল; কত কথা, কত-কত অভিযোগ- সবটাই বুঝি বলা হলো।
কুহু হঠাৎ কাব্যকে ছেড়ে দিল। কাব্য ভ্রু কুচকে কিছু বোঝার আগেই কুহু দু’হাতে মুখ ঢেকে বাচ্চাদের মতো ফুপিয়ে জোরে কেদে উঠল।
বেচারা কাব্য তো এটা দেখে একদম আহাম্মক হয়ে গেল। মাত্রই তো ভালোবাসা দেখাচ্ছিল, এর মধ্যে কান্না এলো কোত্থেকে? ও দ্রুত কুহুর কাছে এগিয়ে এসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল——-‘হয়েছে কী? কাঁদছিস কেন হঠাৎ? কুহু? হোয়াটস হ্যাপেন?’
কুহু কাঁদতে কাঁদতে ফুপিয়ে বলল——-‘আমি না আপনাকে ভালোবাসি কাব্য ভাই। এখনো… এতকিছুর পরেও! কেন বাসি বলুন তো? আমার তো আপনাকে ঘেন্না করা উচিত। কেন করতে পারি না? ওই যে ঘেন্না? আপনি আমাকে অপমান করেছেন, কত কাঁদিয়েছেন। সব ভুলে যাই যখন আপনি আমার সাথে বসেন, কথা বলেন। কেন ভুলে যাই?’
বলে কাঁদতে ব্যস্ত কুহু। ওদিকে কাব্য কুহুর গোলগাল মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল, সবটাই শুনলো। একটু পর ম্লান হেসে কুহুর কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে কুহুর মুখের দিকে চেয়ে বলল——-‘ভালোবাসিস বলেই… ঘেন্না করতে পারিস না। ইনফ্যাচুয়েশন হলে ঘেন্নাই করতিস।’
কুহু কান্না থামিয়ে বোকার মতো কাব্যের দিকে তাকিয়ে থাকল। পরপর ঠোঁট ভেঙে বলল——-‘কিন্তু আপনি তো আমার ভালোবাসাকে ইনফ্যাচুয়েশন বলেছিলেন। বলেন নি?’
বলতে বলতে কুহুর দুই চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু হলো; ও নিঃশব্দে কাব্যের মুখের দিকে বুক ভাঙা চাতক পাখির মতো কুঁকড়ে কেদে যেতে থাকল।
অথচ কাব্যের বুকটাও এবার হাহাকার করে উঠে কুহুর অভিযোগ শুনে। ও ঢোক গিলে একটা, পরপর কুহুর মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে, মিশিয়ে নেয়। কুহু কাব্যের বুকের মাঝে মুখ গুঁজে কেঁদে ফেললো হাউমাউ করে। কাব্য ওকে থামায়, আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল——-‘ইনফ্যাচুয়েশন না, ওটা ভালোবাসা কুহু। তুই আমাকেই ভালোবাসিস। আমি বললাম তো ভালোইবাসিস তুই। এখন কান্না থামা, হুঁ? স্টপ ক্রাইং।’
কুহু থামে না, কেদেই যায়। কাব্য একসময় ধরা কণ্ঠে বলে উঠল——-‘কুহু… আমাকে আর কতভাবে ভাঙবি তুই? আর কতভাবে তোকে মানাতে লাগবে আমার? এমন যদি হয়— তোর আমার ভালোবাসা বুঝতে বুঝতেই আমার সময় ফুরিয়ে গেল? আমি তো কবরেও তোর অভিশাপ বয়ে নিয়ে যাব।’
কুহু সঙ্গেসঙ্গে কাব্যের বুক থেকে মাথাটা তাকাল। কাব্যের মুখটার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ উঠে এসে কাব্যের কপালে চুমু খেয়ে অস্থির কণ্ঠে বলল——-‘কে… কে অভিশাপ দেবে? হুঁ? আর আপনি… আপনি কোথায় যাবেন? কবরে? জীবনেও না। আমি যেতে দেব না, দেব না। বুঝেছেন? শুনেছেন?’
কুহু ভীষণ পাগলামি করছিল। কাব্য ওসব দেখে মৃদু হাসল স্রেফ। কিছু না বলে: শুধু কুহুকে আলতো করে বিছানায় শুইয়ে দিতে চাইলে কুহু শুতে চাইলো না। কাব্যকে ফেলে দিয়ে জোর করে উঠে একটা ওড়না লাগেজ থেকে নিয়ে এসে কাব্যের হাতের সঙ্গে নিজের হাত বেঁধে নিতে চাইলে, কাব্য আটকাল——-‘কি করছিস?’
কুহু কাব্যের মুখের দিকে তাকাল, অস্থির কণ্ঠে বললো——-‘আপনি কোথাও যাবেন না, বেঁধে রাখব আমার সাথে।’
কাব্য কুহুর বাচ্চামি দেখে কেন যেন হেসে ফেলল এইবার। ও ওড়নাটা হাত থেকে টেনে এনে ফেলে দিয়ে কুহুকে আগলে নিল বুকের সাথে, মৃদু কণ্ঠে বলল——-‘যাব না, কোথাও যাব না। আমার পাগলটাকে রেখে কোথায় যাব আমি?’
কুহু কাব্যের বুকে মাথা রেখে, মুখ ঘষতে ঘষতে আবার মুখ ফুলিয়ে বলল——-‘আমি পাগল না।’
কাব্য মাথা নামিয়ে ওর দিকে ভ্রু বাকিয়ে তাকাতেই কুহু বুক থেকে মাথা তুলে কাব্যের মুখের দিকে তাকাল। পরপর মিষ্টি একটা হাসি ছুড়ে বলল——-‘আমি শুধু আপনার পাগল, বলেছিলেন না? আমি কুহু স্রেফ আমার স্বামীর পাগল।’
বলেই শব্দ করে হেসে উঠল কুহু, হাসতে হাসতে একপ্রকার কাব্যের গায়ের উপর পরে যাচ্ছে। কাব্য কুহুর ওই হাসির দিকে অপলক তাকিয়ে রইলো। একদৃষ্টিতে দেখে গেল ওই হাসিটা। কুহু একসময় হাসি থামাল; কাব্যের চোখের দিকে তাকাতেই অন্য একটা ভাষা দেখলো যেন।
থেমে গেল ওর হাসি। দু’জন দু’জনের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল কেবল।
একসময় কুহু এগিয়ে এলো। কাব্যের চোখে চোখ রেখে: অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ ভীষণ করুন কণ্ঠে আবদার করলো————-‘আদর করুন না! একটু, প্লিজ!’
কাব্য ভ্রু কুঁচকে কুহুর ওর দিকে এগোনোটা দেখলো। পরপর মারাত্মক গম্ভীর স্বরে স্রেফ বলল——-‘এখন. . এভাবে না। যা হবে সজ্ঞানে হবে। চল ঘুমাবি।’
কুহুর কানে বোধহয় কথাগুলো গেল না। ও কাব্যের গলায় ঝুলে পড়ার প্রচণ্ড আগ্রহটুকু ধরে রেখে আবার এগোতে থাকে, হাঁটার মধ্যে কোনো ব্যালান্স নেই; শুধু দুলছে এদিক-ওদিক!
কুহু কাব্যের সামনে এসে ওর গলা জড়িয়ে ধরবে তার আগে কাব্য কুহুর মোলায়েম হাতদুটো খপ করে ধরে নিল, আরও একবার সোজা করে কুহুকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলল——-‘না. . কুহু। এভাবে না। আর আজকে তোর এই অবস্থায় তো একদমই না। এখন ঘুমানো উচিত তোর।’
তীব্র ভালোবাসার জোয়ারে কাব্যের এই বাধাটুকু কুহুর ভ্রু নাচাল; পরপর কাব্যের থেকে মুখটা নামিয়ে মনটা বেজার করে নিল। কাব্যের বোধহয় অমন মুখ বানানোতে মায়া লাগল। ও কী মনে করে কুহুর হাতটা ছেড়ে দিল; ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইল কুহু কী করে দেখার জন্য।
কুহু দেখল যখন ওর হাত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; ও এবার লাফিয়ে উঠে ঝুলে পড়ল কাব্যের গলায়। কাব্য সেটা দেখে হঠাৎ হেসে উঠল! পাগলি একটা! কাব্য নিজেও কুহুর সরু কোমরটায় হাত রাখল; টেনে নিল ওকে নিজের দিকে।
কুহু কাব্যের গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলতে ঝুলতে আদুরে গলায় বলল——-‘একটা চুমু খাই আপনাকে?’
কাব্য হালকা হেসে দু’দিকে মাথা নাড়ল! কুহুর যেন আকাশ জয় করে ফেলেছে; এমন একটা ভাব করে কাব্যের গালের দু’পাশ শক্ত করে ধরল! এ যাত্রায় কাছের বোধ হলো, ওর গালের মাংস এক করে দিচ্ছে কুহু।
কুহু কাব্যের গালটা ধরে কপালে চুমু খেতে যাবে অথচ কাব্য যে ভীষণ লম্বা! কুহু আবার মুখটা বেজার করে ফেলল, বলল———‘মাথাটা নামান না একটু।’
কাব্য হাসছেই শুধু কুহুর পাগলামি দেখে। ও চুপচাপ মাথা নামিয়ে দিল! কুহু হাসল দু’গাল ভরে। তারপর ঠোঁট চেপে একটা শক্ত চুমু খেল কাব্যের কপালে! কাব্যের তখন ভীষনরকম মনে হলো— এই নেশায় ডুবে থাকা কুহুটাই মারাত্মক প্রেমী! বাস্তবের কুহু কেন এমন হয় না?
কাব্যের আবেশে দু’চোখ বুজে আসছে। এবার আরও লোভী মনে কাব্য ওর গাল বাড়িয়ে দিল। কুহু ভ্রু উঁচিয়ে অবাক হয়ে বলল——‘গালেও চুমু খেতে হবে?’
কাব্য জবাবে মাথা নাড়ল——‘হুঁ, খেতে হবে। দে ঝটপট!’
কুহু কী করবে? বিস্ময়ভরা চোখে কাব্যকে দেখে গালেও চুমু খেল! কাব্য কুহুর দিকে চেয়ে মৃদু হেসে কুহুর চুল গুছিয়ে দিতে দিতে কেমন ধরা গলায় বলল——‘কুহু, তুই সকাল হলে আজকের রাতের সবকিছু ভুলে যাবি! তাই না?’
কুহুর ভীষণ ঘুম পাচ্ছিল! ও কাব্যের গলায় হাত রেখে ঝুলে ঝুলে জবাবে বলল——‘উ? কী ভুলে যাব?’
কাব্য জবাবে উত্তর দিল——‘এই যে তুই আমাকে চুমু দিলি; আদর চাইলি আমার থেকে?’
কুহু এবার হাসল। কাব্যের নাকটা টেনে দিয়ে খিলখিল করে হেসে বলল———‘ভুলে গেলে তুমি আবার মনে করিয়ে দেবে।’
বলতে বলতে কুহু আচমকা ঝাঁপিয়ে এসে কাব্যের ঠোঁটে আক্রমণ করে বসল! কাব্য তো পুরো হতবম্ভ হয়ে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে— কুহু মাত্র এটা কী করে ফেলল? কাব্যকে অস্থির করে দিল মুহূর্তেই? কাব্যের এতদিনের ধৈর্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে দিল?
সেকেন্ডের মাথায় কুহু সরে এল; হাতের উল্টো পিঠে ঠোঁট মুছে কাব্যের দিকে চেয়ে বলল——‘খুশি করে দিলাম আপনাকে। এখন ঘুমাতে যাই আমি। গুড নাইট!’
বলে কুহু কাব্যের গলাটা ছেড়ে দিতে যাবে; তার আগেই কাব্য ব্যস্ত গলায় দ্রুত বলল——‘ন… না! তুই ঘুমাবি না এখন।’
‘তো কী করব?’—— কুহুর অবাক গলা!
কাব্য তাকিয়ে রইল কুহুর দিকে! যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে! কুহু আবার কাব্যের দিকে এগিয়ে এলো। কাব্যকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরতে গেলেও কাব্য সাথেসাথেই সরে গেল। আশপাশ দেখে কুহুর দিকে চেয়ে ঢোক গিলে বলল——-‘এক সেকেন্ড; হুঁ? আসছি।’
বলেই দৌড়ে গিয়ে মোবাইল এনে সেটাতে চার্জ লাগিয়ে একটা পারফেক্ট অ্যাঙ্গেলে সেট করে রাখল। ভিডিওতে ওদের বেডটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
কাব্য মোবাইল রেখে কুহুর দিকে তাকাতেই, দেখতে পেলো কুহু বোকার মতো তখনো ফ্যালফ্যাল চোখে ওর ফোনের দিকেই তাকিয়ে আছে। কাব্য এগিয়ে এলো; ধীরে ধীরে— এক পা, দু’পা করে।
এসে কুহুর সামনে দাঁড়াতেই, কুহু তখনও চার্জে ভিডিও হতে থাকা ফোনটার দিকে অবাক হয়ে পলক ঝাপটে তাকিয়ে আছে। কাব্য জিজ্ঞেস করল——-‘কী দেখছিস?’
কুহু কাব্যের দিকে তাকাল, আঙুল দিয়ে ফোনটা দেখিয়ে দিয়ে বললো—-‘ফোনটা কি আমাদের এক লজ্জা-লজ্জা কাজগুলোর ভিডিও করবে?’
কাব্য হেসে ফেলল কুহুর এই ধরনের বাক্যে! মেয়েটাকে আজ ভীষণ বাচ্চা-বাচ্চা লাগছে। কথার টোন অব্দি চেঞ্জ হয়ে গেছে। কাব্য ভীষণ যত্নে, ভালোবেসে কুহুকে টেনে এনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলল——-‘হুঁ, করবে।’
‘কেন?’—— কুহু অবুঝ মনে তখনও প্রশ্ন করছে।
কাব্যও বুঝদার, ধৈর্যবানের ন্যায় জবাব দিয়ে গেল——‘কারণ আপনি সকালে উঠেই আমার সাথে কান্নাকাটি করবেন— আমি কেন এই লজ্জা-লজ্জা কাজগুলো আপনার সাথে করলাম। তাই প্রুভ রাখছি।’
কুহু গাল ফুলালো, বলল——-‘আপনার সাথে কেন কান্নাকাটি করব? এই লজ্জা-লজ্জা কাজগুলোর জন্য তো আমি রিকোয়েস্ট করছি।’
কাব্য কুহুর কপালে চুমু খেয়ে বুঝিয়ে বললো——-‘জি; করছেন। কিন্তু সকালে উঠেই আপনি ভুলে যাবেন। ভাববেন আমিই খারাপ; ফায়দা তুলেছি আপনার ইজ্জতের।’
‘ইশ, মোটেও বলব না এসব!’—— কুহু সাথেসাথেই ভীষন নাক কুচকে উত্তর দিল।
কাব্য অবশ্য আর ঘাঁটাল না ওকে, একটু বাজিয়ে দেখার জন্যে বললো—-‘এখন কি ঘুমাবি…’
বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই কুহু সব টেনশন একপাশে রেখে কাব্যের গলায় ঝুলে পড়ে তাড়াহুড়ো করে বলল——-‘না না না, আদর খাব বললাম না একটু আগে?’
কাব্য আবার শব্দ করে হেসে উঠল। কুহুর দিকে হাসতে হাসতে বলল———‘ওকে! চলুন তাহলে; আদর করি?’
বলেই পাজকোলে তুলে নিল কুহুকে। কুহু আবার হেসে উঠল; কাব্যের গলাতে দুহাত রেখে উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল——-‘এই এই; এক হাতে কোলে নিন না? ওই যে. . রাস্তায় যেভাবে নিয়েছিলেন।’
কাব্য একহাত দিয়ে নিতে গেলে কুহু আবার চেঁচাল——‘নামিয়ে আবার শুরু থেকে কোলে নিন, এবাবে না, এভাবে না।’
কাব্য ওর কথামত ওকে নামিয়ে দিল।
‘এবার নেব?’ —— কাব্য জিজ্ঞেস করল।
‘হুঁ; এক হাতে।’ —— কুহু আবার মনে করিয়ে দিল।
‘যো আপকি হুকুম ম্যাডাম।’ —— কাব্য ওকে এক হাতেই কোলে নিল এইবার। ওদিকে কুহু কাব্যের গলাটা দু’হাতে জড়িয়ে ধরে হেসে উঠল। বকবক করতে লাগল নিজের মতো——-‘আপনার এত শক্তি কাব্য ভাই? জানেন— এভাবে সিনেমার হিরোরা নায়িকাদের কোলে নেয়।’
কাব্য ওকে নিয়ে বিছানার দিকে এগোতে এগোতে বলল———‘তাই নাকি? আমি কি তাহলে তোর জীবনের হিরো?’
কুহু সাথেসাথেই মিষ্টি হেসে কাব্যের মুখের দিকে চেয়ে জবাব দিল——-‘না; আপনি শুধু আমার কাব্য ভাই। হিরোদের চরিত্রেও সমস্যা থাকে। আমার কাব্য ভাইয়ের তা নেই।’
কাব্য কুহুর উত্তরটা শুনে ওর তাকিয়ে রইল। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে ঠাটে পরক্ষণেই কুহু টের পেল তার নরম শরীর বিছানায় এসে ঠেকেছে। কাব্য ওকে শুইয়ে দিতে দিতে একবার ফোনের দিকে তাকাল, ভিডিও হচ্ছে। নিশ্চয়ই কুহুর কথাগুলোও ধরা পড়বে ভিডিওতে।
কুহু বিছানার বালিশে মাথা রেখে কাব্যের দিকে তাকিয়ে আছে; হাসি-হাসি মুখ ওর। কাব্যকে বারবার ফোনের দিকে তাকাতে দেখে ও বোধহয় বিরক্ত হলো। কাব্যের দিকে চেয়ে রাগী মুখ নিয়ে বলল——-‘ফোনটা বন্ধ করে আসুন; কাব্য ভাই।’
কাব্য ফিরে তাকাল——‘না!’
কুহু গাল ফুলিয়ে বলল——-‘কেন? না হলে আমার লজ্জা লাগবে। রাতে আমি কাপড় ছাড়া…’
বাকিটা বলার আগেই কাব্য তড়িঘড়ি ওর মুখ চেপে ধরে বলল——-‘ভিডিওটা প্রুফ হিসেবে থাকবে; কাল তোকে দেখিয়েই ডিলিট করে দেব, টেনশন নিস না।’
কুহুকে বোধহয় আশ্বস্ত হতে দেখা গেল। পরক্ষণেই লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে হেসে হেসে বলল——-‘আপনি ভিডিও সেভ রাখবেন না তো? ওই যে হিরোরা বউদের ভিডিও দেখে আড়ালে? ওসব করবেন না?’
কাব্য হাঁ হয়ে তাকাল কুহুর দিকে, এসব এই মেয়ে বলছেটা কি? কে পাকিয়েছে তো ভোলাবালা কুহুকে? সারাক্ষণ মুভিজ দেখার ফল এটা।
কাব্য তারপর চোখ-মুখ শক্ত করে বলল——-‘না, আমার সামনে বউ থাকতে আমার এসব ভিডিও দেখার দরকার পরে না। আমি লাইভ ফিলিংস নেওয়া বেশি প্রেফার করি।’
কাব্যের এই কাঠকাঠ জবাবে কুহুকে এবার সত্যিই আশ্বস্ত মনে হলো। বালিশ থেকে মাথা তুলে কাব্যের দু’গালে চটাস-চটাস করে চুমু খেয়ে বলল——-‘এই তো আমার লক্ষ্মী কাব্য ভাই, আই লাভ ইউ।’
কুহু কাব্যের দু’গালে ইচ্ছেমতো চুমু খাচ্ছে। ও বোধহয় খুশিতে পাগলপ্রায়। আর ওদিকে বেচারা কাব্যের প্রাণ যায় যায় অবস্থা! ও চোখ বুজে, কুহুর দু’পাশের কোমর শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে, খামছে ধরেছে জামার উপরেই।
কুহু একসময় থামল। কাব্যের থেকে সরে এসে মুখের দিকে তাকিয়ে রইল; কাব্যও কুহুর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। এবার কেন যেন কুহুর মুখের হাসি সরে গেল। ভীষণ যত্নে, ভালোবাসা নিয়ে ও তাকিয়ে থাকে কাব্যের মুখের দিকে। কাব্যও তাকিয়ে থাকে, ভ্রু কুঁচকে।
কুহু ওর দুহাত কাব্যের দু’গালে নামিয়ে আনে একসময়। কাব্যের চোখে চোখ রেখে হঠাৎ ভীষণ কাতর কণ্ঠে বলল——-‘ভা… ভালোবাসি।’
বেচারা কাব্যের মনে হলো— ওর হার্টবিট দু’বার মিস করল। ও একইভাবে তাকিয়ে রইল কুহুর কাতর মুখটার দিকে। কুহু আবার একইভাবে কাতর গলায় জিজ্ঞেস করল——-‘আজও উত্তর দেবেন না? ভালোবাসা নেই? আজও থাপ্পড় দেবেন? ফিরিয়ে দেবেন? হু?’
কাব্য ছোট একটা শ্বাস ফেলে কুহুর মুখটা দু’হাতে চেপে ধরল। কুহুর চোখে চোখ রেখে, ওভাবেই কুহুর মুখের দিকে তাকিয়ে ভীষণ আবেগ নিয়ে বলে উঠল——-‘ভালোবাসি কুহু! ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি। ভালোবাসি, ভালো…’
কাব্য এবার হুশ খুইয়ে বারবার ‘ভালোবাসি’ বলতে বলতে কুহুর পুরো মুখে একের পর এক ভেজা চুমু বসাতে লাগল। ওদিকে কাব্যের এত্ত ভালোবাসার বিনিময়ে কুহুর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। কাব্য আজ যা বলছে,এই একটা শব্দ সিদ্দিক বাড়ির রমণীর যে ভীষণ চাওয়ার ছিলো: শখের ছিলো।
কাব্য নিজের মতো পাগলের মতো ভালোবাসি বলতে বলতে কুহুকে চুমু খাচ্ছে—ওর নাকে, ঠোঁটের কোণে, গালের কার্নিশে, চোখের ওপর, চোখের কোণে, কপালে, কানের লতিতে।
চুমু খেতে খেতে কাব্য পাগলের মতো একনাগাড়ে বলে যাচ্ছে——-‘ভালোবাসি কুহু। ভা… ভালোবাসি। বিশ্বাস কর… ভালোবাসি! প্লিজ একটাবার বিশ্বাস কর… ভালোবাসি তোকে। তুই… তুই একবার সজ্ঞানে আমার কথাগুলো শোন, বুঝ। বিশ্বাস কর, আমি তোকে ভালোবাসি!’
বলতে বলতে কাব্যের চোখ আটকালো কুহুর ঠোঁটের ওপর। কুহুর দুই চোখ থেকে টপটপ করে জল পড়ছে। কাব্য ধীরে ধীরে সরে এলো। কুহুএ তখনও চোখ বন্ধ করে আছে; তখনো চোখের কোণ থেকে জল গড়াচ্ছে।
কাব্য ডাকে, ভীষণ কম্পিত কণ্ঠে, আদর-আদর গলায় —-‘এই কুহু?’
‘হু?’ —— কুহু চোখ বন্ধ রেখেই জবাব দিল। ওর ঠোঁট-দুটো কাঁপছে, যার পানে কাব্য চেয়ে আছে প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা নিয়েই।
কাব্য এবার কুহুর কানের উপর হাত রেখে ওর বন্ধ চোখের দিকে চেয়ে ধরা গলায় বলে——-‘আমি… আমি তোকে ভালোবাসি।’
কুহু এবার ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকাল। কাব্যের চোখের দিকে চেয়ে রইল; কাব্যও তাকিয়ে আছে। কুহু ধীরে মাথা নাড়ল, কম্পিত কণ্ঠে বলে—-‘বিশ্বাস করলাম।’
কাব্য এতক্ষণে মাথাটা ঝুঁকিয়ে নিঃশব্দে হেসে ফেলল। সাথেসাথেই হ্যাচকা টানে কুহুকে টেনে এনে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে নিল। দু’হাতে শক্ত করে চেপে ধরল কুহুকে নিজের বুকের মধ্যে। যেন ছেড়ে দিলেই কুহু আবার অবিশ্বাস করবে— ভাববে কাব্য ওকে ভালোবাসে না।
কাব্য কুহুকে বুকের সাথে মিশিয়ে দু চোখ বন্ধ করে আছে, অনুভব করছে কুহুকে ভীষণরকম, আরামে। এবার কুহু কাব্যের বুকে মাথা রেখে হঠাৎ বলল——-‘আমরা কি ওই লজ্জা-লজ্জা কাজগুলো করবো না আজ?’
এই এক প্রশ্নে কাব্য থমকে গেল, চকিতে চোখ দুটো খুলে তাকালো। কুহু ওর বুক থেকে মাথা তুলে ঠোঁট উল্টে তাকাল কাব্যের দিকে। কাব্য কুহুর ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে রইল। কুহুর হাসি সরে গেল; ও একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল কাব্যের ঠোঁটের দিকে।
অথচো দুইজনের হৃদয় কাঁপছে, হৃদস্পন্দ একইতালে স্পন্দিত হচ্ছিল।
ওভাবেই শাহরিয়ার সিদ্দিক কাব্য কুহুর গালে হাত রাখল, কুহুও কাব্যের দু’গালে একইভাবে হাতদুটো রাখল।
কাব্য একটু একটু করে এগিয়ে এলো। তারপর আচমকা কুহুর অধরে নিজেকে মিশিয়ে নিল। কুহুও সঙ্গে সঙ্গে কাব্যের গায়ের সঙ্গে মিশে গেল মোমের মতো। কাব্য অস্থির স্ত্রী কুহুকে আগলে নিল— ভীষণ যত্নে, পাগলের মতো।
চুমু. . কতটা প্রখর একটা অনুভূতি একজোড়া মিলিত হৃদয়ের জন্যে। কে যেন বলেছিল— চুমু, এটা মানসিক আবেগের শারীরিক প্রকাশ! আর ঠোঁটচুমু তার উস্তাদ!
যে বলেছিলেন: ঠিকই বলেছিলেন। কাব্য বুঝতে পারছে এখন— এই কথার মর্ম। এইজে কুহু চুমু খেতে খেতে বারবার ওর মাথার পেছনের চুল খামচে ধরছে— এই খামচে ধরার মধ্যেও একটা ভরসা আছে, আবেগ আছে।
আর এই যে চুমু খেতে খেতে কাব্য কুহুর কোমর চেপে ধরেছে, এই চেপে ধরাতেও একটা অধিকারবোধ আছে, ভালোবাসা আছে, পজিসিভনেস আছে।
ঠোঁট-চুমুর স্বাদ মিটিয়ে কাব্য প্রায় অনেকক্ষণ পর সরে এল। কুহু তখনো পুরো পাগলপ্রায়। ও এগিয়ে এসে টেনে টেনে কাব্যের শার্টের বোতাম খুলতে লাগল। অবশ্য কাব্যও সাহায্য করল। কুহু সব বোতাম খুলে ওর শার্ট খুলে মেঝেতে ছুড়ে ফেলল একপ্রকার।
কাব্য এবার কুহুর দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকাতেই, কুহু এবার নিজে থেকেই ওড়নাটা ওর গলা থেকে টেনে ছুড়ে ফেলল মেঝেতে। কুহুর ওড়না কাব্যের শার্টের কাছে পরে গড়াগড়ি খেতে লাগলো।
কাব্য তখনো তাকিয়ে রইল। কুহু বিছানার উপর হাঁটুগেড়ে বসে কাব্যের চুল এলোমেলো করে দিয়ে ওর ঠোঁটের দিকে অপলক চোখে তাকালো— অর্থাৎ ও কাব্যের থেকে আরো চুমু চাইছে। কাব্যও বুঝে তা. . ও আবার ঠোঁট মেলালো স্ত্রীর ঠোঁটের স্বাদ নিতে।
খানিক পর কুহু টের পেল— ওভাবেই ওর মাথাটা বালিশে এসে ঠেকেছে। কাব্য ধীরে ধীরে চুমু খেতে খেতে ওর ওপর ঝুঁকে আসে। একসময় চুমু খেতে থাকা কুহুও দু’হাতে কাব্যের জিম করা ফুলে ফেপে থাকা ম্যাসালের নগ্ন পিঠ জড়িয়ে ধরল। আজ মেয়েটা কাব্যের নগ্ন পিঠে নখ বসাচ্ছে ভীষণভাবে— যেন ছেড়ে দিলেই কাব্য পালাবে। কিন্তু কাব্য তো আর পালাবে না, এ জীবনে কখনোই না। পালাবে কোথায়? যেখানে ওর সমগ্র দুনিয়া থমকে যায়: এই বিধ্বংসী মেয়েটা তো ওর সামনেই; ওকে চুমু খাচ্ছে।
অনেকটা সময় পর, কাব্য কুহুর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে ওর মুখের দিকে তাকালো। দেখা গেলো. . কুহুও ধীরে চোখ মেলে তাকাল। কাব্য ওকে ডিঙিয়ে আলগোছে সুইচ টিপে বাতি নিভিয়ে দিল। তারপর আবার চড়াও হলো কুহুর গায়ের উপর। কুহুর জামার চেইনটা একটানে নামিয়ে পিঠ উন্মুক্ত করে আবার ওর ওপর শুয়ে পড়ল।
কুহু লজ্জায় তখন কাব্যের নগ্ন গলার পাশে মুখ লুকিয়েছে। কাব্য লাজুক, মাতাল,স্ত্রী মেয়েটার কানের কাছে মুখ এনে বলল——-—————‘আজ, এই রাতে. . আমি আমার সবকিছু তোকে উজাড় করে দিলাম কুহু। তার বিনিময়ে তোর থেকেও তোকে পুরোটা নিয়ে নিলাম।’
কুহু চোখ বুজে কাব্যের কথা শুনে যায় কেবল। কাব্য ওর কানের কাছে আবার ফিসফিসায়————‘প্লিজ কুহু. . . সকালে উঠে আমাদের এই আবেগ, অনুভূতি, একে অন্যকে দেওয়া কথা, ভালোবাসার স্বীকারোক্তি— এগুলোকে অপমান করিস না। তুই এগিয়ে এসেছিলি কুহু; আমি তোকে প্রশ্রয় দিয়েছি, ভালোবেসে আগলেছি। আমার এই প্রশ্রয়টাকে সকাল হলে ছোট করিস না, আমাকে আর ভাঙিস না। আমি তোর সব অবহেলা সহ্য করে নিতে পারব। কিন্তু আমাদের আজকের রাতকে তুই নোংরামি নাম দিলে আমি সেটা কোনদিন সহ্য করতে পারবো না কুহু।’
কুহু এসব শুনেও না, ও তো তখন কাব্যের আদর পেতে মরিয়া। ও দু’হাতে কাব্যকে আগলে নিল নিজের মধ্যে। কাব্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা. . কাকে কি বলছে। কুহু তো নিজের হুসেই নেই আজ।
কাব্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কুহুর কানের লতিতে ঠোঁট রেখে ছোট্ট চুমু খেয়ে বলল——-‘আই লাভ ইউ, জান।’
কুহু চোখ বন্ধ করে মিষ্টি করে হাসলো। নিজেও কাব্যের কানের কাছে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে কাব্যকে শুনিয়ে বললো——-‘লাভ ইউ টু।’
চলবে
কেমন লেগেছে বাসর স্পেশাল এপিসোড?
এই পর্বে যদি আজকের রাতের মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার রিয়াক্ট, বা বেশিবেশি গল্প নিয়ে বড় কমেন্ট আসে আপনাদের— তাহলে পরশু আরেকটা পর্ব দিব কাব্য-কুহুময়। এবার থেকে সত্য সত্য রেগুলার দিব এখন থেকে, যদি আপনারা শর্ত পূরণ করতে পারেন আজকের।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, ডেনিম জ্যাকেট
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩২
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৬
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৬
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৭
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩০