Golpo romantic golpo ডেনিম জ্যাকেট

ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪০


ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৪০

অবন্তিকা_তৃপ্তি

দৃশ্যটা এমন—-
কুহু বিছানায় বসা; কাব্য মেঝেতে হাটুগেরে ওর সামনে বসা। কাব্যের দুই হাত কুহুর কোমরে; কুহুর দুই হাত কাব্যের দুই গালে চেপে ধরা। কুহু ছোট-ছোট শ্বাস ফেলতে ফেলতে ঘোরের মধ্যে কাব্যের ঠোঁটের দিকে এগুচ্ছে। কাব্যও ভুলে গেছে আশপাশ। একটু একটু করে নিজেও কুহুর অধরের দিকে এগুচ্ছিলো। দুজনের স্বাসপ্রশাস যখন চুড়ান্তে, কাব্য তখন আচমকা,হঠাৎ সামান্য উঁচু হয়ে কুহুর দুপাশ ধরে কোমর টেনে এনে. . ওর ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দিল! কুহু সাথেসাথেই, কাব্যের টিশার্ট আঙুলের মুঠোয় খামচে ধরে দুই চোখ খিছে নিলো শক্ত করে, জোরালোভাবে।

কাব্য আবারও, সামান্য উপরে উঠে কুহুর কোমরের দুপাশে শক্ত করে হাতটা চেপে ধরে টেনে আনল; কুহু মিশে গেল কাব্যের গায়ের সঙ্গে। কাব্যের বোধহয় ওসবেও পোষালো না, ও বড্ড তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে সাথেসাথেই বসা থেকে উঠে এসে বিছানায় কুহুর সামনে এসে বসে গেল।অথচ এতক্ষণে একবারের জন্যেও কুহুর অধরটুকু ছাড়ার প্রয়াস করেনি: বরং আরো জোরালো-তীব্র অধিকার দেখিয়েছে।

কুহু, কুহেলিকা সিদ্দিক কুহু—- একটা টিনেজ মেয়ে ছিলো, কাব্যের স্ত্রী হয়েছে যেজন—- কাব্যের সাথে তার এই প্রথম ঠোঁটচুমু। পুরো ব্যাপারটা যে ঠিক কতটা মাদকতা ঢেলেছে—- সেটা একজন উন্মাদ প্রেমিকই বোধহয় আন্দাজ করতে পারবেন।

ওদিকে আজ নিজের হুশ খুইয়েই বলতে গেলে—-কুহুও পাগলের মতো বারবার কাব্যের দুগাল চেপে ধরে ওর গায়ের সাথে মিশে যাচ্ছে। কাব্য কুহুর পাশে বিছানায় বসে কুহুকে আবারও কোমরে হ্যাচকা টানে ওকে নিজের সাথে মিশিয়ে আবার অধিকার দেখালো, ছুলো।ওরা দুজনে অজানা ঘোরে তখন হারিয়েছে সবে।

কুহু কাব্যের টিশার্টের বুকের কাছটা খামচে ধরে চোখ খিছে আছে পুরোটাসময়। কাব্য ওদিকে বড়ই বেচারা, হুশ-জ্ঞান খুইয়ে বিশ্রী এক পরিস্থিতি তার। ও আচমকা কুহুর শরীর থেকে পরনের ওড়না টেনেটুনে ছুড়ে ফেলে দিল মেঝেতে। কুহুও তাতে উস্কে গেল হঠাৎ—কাব্যের টিশার্ট খুলে উঠানোর চেষ্টা করতেই কাব্য ওর হাত চেপে ধরে আটকে পুনরায় কাছে নিয়ে এলো, আরো আরো কাছে।

কুহু সুযোগ পেল না, আর কাব্যও ওকে সেই সুযোগ না দিয়ে আলগোছে বিছানায় শুইয়ে দিল। ভীষণ ডেস্পারেটলি চুমু খেয়ে যাচ্ছিল ওরা দুজন, একে অপরকে। কাব্য চুমু খেতে খেতে কুহুর পরনের জামাতে হাত রাখলো, তাড়াহুড়ো ভঙ্গিতে।

তারপর?

তারপর হঠাৎ টেবিলের উপর রাখা কাব্যের ফোনটা বেজে উঠল, আচমকা একদম বাজখাই আওয়াজে। ব্যাস, বেচারা কাব্য সুযোগ পেল না। কাব্য-কুহুর দুজনেরই ঘোর ভাঙ্গে সাথেসাথেই। কাব্য ধীরে ধীরে সরে এলো কুহুর থেকে, চরম বিতৃষ্ণা নিয়ে টেবিলের উপর বাজতে থাকা ফোনের দিকে তাকালো, মাথাটা তখনও কুহুর গলার দিকে হেলিয়ে রাখা।

কুহু তখন পুরোটাই হতবম্ব! পুরো ব্যাপারটা ওর নিজের মাথাতেই প্রসেস করতে পারছে না। এটা. . এটা কি হলো? চুমু? কুহু নিজে থেকে. . . লজ্জায়-রাগে কুহুর কান্না চলে এলো একপ্রকার, অথচ কাব্য এসব দেখতে পেল না, লক্ষ করলো না কুহুর টলমল চোখের চাওনি। ফোনটা বাজতে বাজতে একসময় থেমেও গেল, কিন্তু পেরিয়ে যাওয়া সময়টুকু ফিরে পাওয়া হলো না যে।

কাব্য ফোনের থেকে চোখ সরিয়ে ধীরে ধীরে মাথাটা নামিয়ে কুহুর দিকে তাকালো। কুহু অন্যদিকে মুখটা ঘুরিয়ে জোরে একটা শ্বাস নিয়েই আচমকা কাব্যকে ধাক্কা দিলো।

কাব্য বেচারা আচমকা ধাক্কায় টাল সামলাতে না পেরে বিছানায় ছিটকে পড়ে। কুহু দ্রুত ঠোঁট হাতের তালুতে মুছতে মুছতে উঠে বসলো, তারপর পাগলের মতো মেঝে থেকে ওর ওড়না কুড়িয়ে শরীরে জড়িয়ে নিয়ে অন্যদিকে মুখটা ফিরিয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলে বারবার ঢোক গিলছে, ভুলেও বিছানায় শুয়ে থাকা কাব্যের দিকে তাকাচ্ছিলো না।

অথচ কাব্য বিছানায় শুয়ে শুয়ে কুহুর দিকে তাকিয়ে আছে, অপলক, চরম উন্মাদের ন্যায়।

বেচারা স্বামী কাব্য, নিজেও তখনও এতক্ষণ কি হয়েছিল সেটা প্রসেস করতে ব্যস্ত! এতক্ষণ মনে হচ্ছিল কোনো এক ঘোরেই ছিলো। কি ছিলো এটা? ওর মাথায় এখনো ক্যাচ করতে পারছেনা— এসব হলো টা কি? কিস? ইট ওয়াজ এ কিস? রিয়েলি? কিস ছিলো এটা? এ লিপ কিস? কাব্যের লাইফের প্রথম ঠোঁটচুমু?

কুহুর শরীর কাপছে, আত্মা অসম্ভব ধুকপুক করছিল, ও আড়চোখে কাব্যের দিকে একবার চেয়ে দেখতেই দেখে কাব্য ভ্রু উচিয়ে ওকেই দেখছে, চোখ দুখানা ভীষণ নম্র-শান্ত।

কাব্য কুহুর টলমলে চোখ দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে উঠে কুহুর হাত ছুতে যাবে, তার আগেই সাথেসাথেই কুহু আতকে উঠে মুখ সরিয়ে নিয়ে এক দৌড়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

কাব্য শান্ত-মলিন চোখে কুহুর যাওয়াটা দেখলো, পরপর মাথাটা নামিয়ে মলিন কণ্ঠে বিড়বিড় করে নিজেকে——‘.দ্য ফার্স্ট কিস, রিয়েলি?’

—————————————-
কাব্যদের ফ্ল্যাট, সকালের দৃশ্যের পর!

সেদিন সারাদিন কুহুকে একবারের জন্যেও কাছে পাওয়া গেলোই না, একবারের জন্যে কাব্যের চোখের সামনে অব্দি এলো না। কুহু সারারদিন এটা-সেটাই বাহানা করে শামিমার ঘরেই থেকেছে, লাঞ্চের সময়টাই দেখা গেল রান্নাঘরে এটা-ওটার ভান করে থেকেছে, আর কাব্য খাওয়া শেষ হওয়ার পরেই খেতে বসেছে।

বেচারা কাব্য কি করবে? কুহু লজ্জা পেয়ে কাছে আসছে না নাকি রাগ করে আসছে না ওর মাথাতে আপাতত এটাই ঢুকছে না। কুহুর সঙ্গে কথা বলতে হবে, পুরো ব্যাপারটা ও কিভাবে দেখেছে জানাটা দরকার খুব। এমনিতে এই মেয়ের ইগো কম না। নিজে থেকে কাব্যের কাছে এসেছে- এটা মানতেই পারবে না। নিজেই নিজেকেই দোষী বলে বলে হ্যানস্থা করবে বারবার— কাব্য তো চিনে একে।

স্নিগ্ধ টিভি দেখছে ড্রইং রুমে বসে। কাব্য এসে সোফায় বসলো, ফোন হাতের নিয়ে হাঁক ছুঁড়লো——-‘কুহু. . কুহু! পানি লাগবে।’

কুহু রান্নাঘরেই ছিলো। জবাব দিল না কাব্যের কথাতে, ওদিকে কাব্য সেটা বুঝে পরপর দুবার চাইলো পানি। শামিমা কাব্যের এবং হাক-ডাক শুনে রুম থেকে বেরিয়ে রান্নাঘরে এলেন। কুহু শামিমাকে দেখে তাড়াহুড়ো করে পানি ঢাললো গ্লাসে। শামিমা এসে বললেন——-‘ওহ পানি নিচ্ছিস। দিয়ে আয় দ্রুত, বেশি পিপাসা পেয়েছে মনে হয়। আমি ভাবলাম রুমে তুই; শুনিস নি। তাই এলাম।দিয়ে আয় দ্রুত।’

বলে শামিমা আবার চলে গেলেন। কুহু কি করবে এখন।কাব্যের সামনেই পড়তে চাইছে না ও। কুহু তারপর পানির গ্লাস নিয়ে কাব্যের থেকে অনেকটা দূরে একটা টেবিলের উপর রেখে চুপচাপ চলে গেল আবার। অথচ কাব্য ভেবেছিল— কুহু তো এখানেই আসবে পানি দিতে, কিন্তু এলো না— তাই দেখতেও পেল না।

আরেকবার পানির জন্যে হাঁক ছাড়তে যাবে, দেখা গেল— ইতিমধ্যেই পানির গ্লাস স্নিগ্ধের হাতে। কাব্য ভ্রু কুচকালো——-‘পানি কে দিল?’

স্নিগ্ধ টিভিতে মুভি দেখতে দেখতে জবাব দিল——‘ভাবি।’

কাব্য অবাক হলো——‘কখন দিল?’

স্নিগ্ধ জবাব দিল——-‘ওই টেবিলের উপর রাখা ছিলো। একটু আগে দিয়ে গেছে। নাও খেয়ে নাও।’

স্নিগ্ধ পানির গ্লাস এগিয়ে দিতেই, কাব্য উঠে গেল সোফা থেকে——‘লাগবে না, পিপাসা চলে গেছে।’

কঠিন স্বরে কথাটা বলে সোফার উপর থেকে জ্যাকেটটা হাতে তুলে বেরিয়ে গেল ফ্ল্যাট থেকে। নিচে কজন ছেলেপেলে এসেছে; ক্রিকেটের জন্যে। ফিরে এসে বসবে নাহয় চুড়ান্ত জেদিটার সাথে।
——

বিকেল হতেই কায়া এসেছে কুহুর সিলেট যাবার ব্যাগটা গুছিয়ে দেবার জন্যে। সঙ্গে লুকিয়ে-চুরিয়ে কিছু একটা এনেছেও। কিন্তু কুহুকে কি করে দেবে বুঝতে পারছে না, আর দেওয়াটা কি আদৌ ঠিক হবে, বড় বোন হয় শত হলেও। কিন্তু ও এসব না দিলে আর কেইবা দিবে? শার্লিন আপুকে ইনিয়ে-বিনিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে বলার পরেও শার্লিন সোজা মানা করে দিয়েছে— বেচারি কুহুকে ভয় পায়। আর এসব অশ্লীল কাজে হেল্প করলে কুহুর মাইর খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
আর সেখানে কাব্য জড়িত ব্যাপার হলে তো— শার্লিনের রক্ষে নেই।

তাই বেচারি কায়াই বাইরে গিয়ে সেটা কিনে এনে কাব্যের ফ্ল্যাটে এলো। কাব্য তখনো বাইরে, ক্রিকেট খেলে একেবারে সিলেটের জন্যে টুকটাক শপিং করে তারপর ফিরবে।

কায়া এসেছে কুহুর রুমে। কুহু ওকে দেখে চা বানিয়ে নিয়ে এলো দুজনের জন্যে। কায়া তখন কুহুর ড্রেস সিলেক্ট করছে কি কি পড়বে সিলেটে সেসব।

আজ কুহু ভীষণ চুপচাপ আজ। কায়া আলমারির সামনে দাড়িয়ে একটার পর একটা জামা দেখছে, ব্যাগে ঢুকিয়ে, আবার বের ক্করছে, আবার কুহুর সামনে এনে ট্রায়াল দিয়ে দেখছে—- ভীষন। যষ্টটা কায়ার এ ব্যাপারে— সিলেটের পুরোটাসময় কুহুজে বেস্ট দেখাতেই হবে।
অথচ কুহুর এসবে কোনো হেলদুল নেই। ওর মাথায় তখনও ঘুরছে—- কাব্যকে ও নিজে থেকে ছুয়েছে, চুমু খেয়েছে ওরা, কুহু নিজে থেকে এ লাই দিয়েছে স্বামী কাব্যকে।

কায়া তখনো আলমারির সামনে দাড়িয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে একটার পর একটা জামা দেখিয়ে বলে যাচ্ছে——‘আচ্ছা এই লালটা ভালো, কাব্য ভাইয়ের মেরুন বা লাল টাইপস কোনও টিশার্ট বা শার্ট আছে? কাপল জামা পেয়ার করে পরবা তোমরা, ভালো দেখাবে কিন্তু।’

কুহু জবাব অব্দি দিল না। ও চা খেতে খেতে ভেবে যাচ্ছে আজ সকালের সিন। কি ছিলো ওটা? কুহু নিজে থেকে এগিয়েছিল, এটা ভেবেই লজ্জায় কুহু শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিজেই নিজেকে গালি দিল আবারও—— কেন এগিয়েছিলি তুই ছাগল? সারাক্ষণ কাব্য ভাইয়ের কানের কাছে প্যানরপ্যানোর করে নিজেই সব ভুলে গেলি, ডিল ব্রেক করে ফেললি? হতচ্ছাড়া! এখন কাব্য ভাই আরও লাই পেয়ে বসবেন। আর কথার লাগাম. . ওটা তো ভুলেই যাও।

অসম্ভব লজ্জা আর নিজের উপর রাগে দেখা গেল কুহু চায়ের কাপটা ঠাস করে টেবিলের উপর রাখল।

কায়া কাপড় দেখছিল, আচমকা কুহুর করা এমন শব্দে চমকে উঠল রীতিমত। কুহুর দিকে ফিরে তাকাতেই দেখলো কুহু ধপধপ পায়ে বাথরুমে ঢুকে পানি দিচ্ছে চোখ-মুখে। আর বারবার ঘষেঘষে ঠোঁট মুছছে। কায়া অবাক; দৌড়ে এগিয়ে গেল——-‘কুহুপু. . কি হয়েছে? ঠোঁটে গরম চা লেগেছে?’

কুহু বারবার ঠোঁট ডলতে ডলতে একপ্রকার কাঁদো-কাঁদো হয়ে গেল, বলে যায়——‘ব্লান্ডার হয়েছে, হতচ্ছারা আমি. . তর সয়নি. তাই আমি কাব. .!’

পরপর থেমে গেল, এসব কায়াকে কি বলে যাচ্ছে ও।মাথা তুলে কায়ার দিকে তাকাতেই দেখে কায়া হা করে কুহুর দিকে চেয়ে আছে ওর এই কথার মানে বের করার জন্যে।

কায়ার এমন চাওনি দেখে কুহু থতময় খেয়ে গেল।পানি ট্যাপ বন্ধ করে অপ্রস্তুত হয়ে থেমে থেমে বলল——‘ড্রেস সিলেক্ট করা শেষ? আর কাপল ড্রেসের নাটক করা লাগবে না। একটা চুজ করে দে আমার জন্য। উনারটা উনি করে নেবে।’

‘ও. .ওকে!’ —- কায়া আবারও ফিরে এসে তাড়াহুড়ো করে আলমারি থেকে কাপড় বের করে লাগেজে ঢুকালো।

কুহু বাথরুমের দরজা আটকে ধীর পায়ে এসে বিছানায় বসলো। বিছানায় বসে আবার ভাবতে বসেছে ওসব! বুকটা এখনো কাপছে নির্লজ্জের মতো। এখনো কাব্যের ঠোঁটের স্পর্শ যেন অনুভব করতে পারছে , মনে হচ্ছে কাব্য এখনও ওর খুব কাছে, কাব্যের হাত ওর কোমরে, ওর হাত কাব্যের দু গা. . ছি, ছি! কুহু সাথেসাথেই নিজের ভাবনাতে লাগাম টানলো।

কায়া একসময় লাগেজ গোছানো শেষ করে হাতের প্যাকেটটার দিকে তাকালো। এখন এটা কি করবে ভাবছে। কুহুপুকে কি দেখাবে? যদি রাগ করে? কি মনে করে—— কায়া চুপচাপ প্যাকেটটা থেকে জিনিসটা বের করে লগেজের এক কর্নার রেখে দিল। গিয়ে নাহয় ওখানেই লাগেজ খুলে দেখবে, এখানে দেখিয়ে ওর মাইর খেয়ে লাভ নেই। এমনিতেই কুহুপুর মন মেজাজ আজ কেন যেন ভালো ঠেকছে না, কিছু একটা মনে হয় আবার ঘটেছে।
তবে এ আর নতুন কি!

কাব্য ফিরেছে, এসেই নিজেদের রুমে নক করল। কায়া কাব্যের গলা শুনে সাথেসাথেই লাগেজের চেইন টেনে লাগিয়ে দিল। অথচ কায়ার হাত লেগে যে ভুলবশত ফিনফিনে সিল্কের নাইটিটা বিছানার পাশে মেঝেতে পরে গেছে লাগেজ থেকে— বেচারি সেটা দেখেঅনি, কপালে শনি নাচছিলো সম্ভবত— মাইর খাবে সেজন্যে।

কাব্য রুমে ঢুকতেই, কুহু আড়চোখে ওর দিকে তাকালো। কাব্যও ওকে দেখল, পরপর কায়াকে দেখে বললো——-‘হ্যালো কায়া। কখন এলে? স্মিগ্ধ তো বাসায় নেই।’

কায়া লজ্জা পেল সম্ভবত; ভাসুরের মুখে এমন কথাতে কায়ার মাথায় নেমে এলো, জবাবে বলল——‘কুহুপুর লাগেজ গোছাতে এসেছি ভাইয়া।’

কাব্য আড়চোখে কুহুর দিকে তাকালো, দেখে কুহুই তাকিয়ে আছে। কাব্য তাকাতেই কুহু সাথেসাথেই চোখ সরিয়ে চায়ের কাপ গুছিয়ে ট্রেতে নিয়ে চলে যাবে, শুনতে পেল কাব্য টিকটকারি মেরে বলছে কায়াকে—-—‘এত বড় মেয়ের লাগেজ আবার গুছিয়ে দিতে হয় নাকি? এরা তো অনেক ফার্স্ট. . যেচে যেচে এসে কিস——–‘

সাথেসাথেই কুহু ট্রেট রেখে আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠে গলার জোরে——‘চুপ চুপ, জাস্ট স্টপ!’

কাব্য আচমকা কুহুর এমন চেঁচিয়ে উঠাতে ভ্রু উঁচিয়ে তাকায়।কায়া ফ্যালফ্যাল চোখে ওদের দুজনকে দেখলো—- এদের কথাবার্তার আগা-মাথা কিছুই তো বোঝা যাচ্ছে না। ওদিকে কুহু পুরোই এলোমেলো। ট্রেটা জোর করে কায়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে পরপর কায়ার দিকে ফিরে জোরে জোরে শ্বাস ফেলে ফেলে বললো—‘তুই. . তুই যা; বেরো তুই। বাকিটা আমি. . আমি গুছিয়ে নেব। গো।’

কায়া হা করে একবার কুহুর ধরিয়ে দেওয়া ট্রেটার দিকে তাকালো; পরপর কুহুর দিকে। কুহু এলোমেলো শ্বাস ফেলতে ফেলতে কায়াকে টেনে এনে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। কায়া হা করে তখনও দরজার দিকে চেয়ে আছে।

কায়া বেরিয়ে যেতেই কাব্য কুহুর দিকে তাকিয়ে বড্ড আফসোস নিয়েই বলল——-‘বাকিটা বলতেই দিলি না। সো ব্যাড।’

বলে কাব্য হেটে লাগেজের দিকে এগুলো। কুহু চেতে উঠে, গর্জন করে আঙুল উঁচিয়ে বলল——-‘দেখুন সকালে যা হয়েছে. .!’

‘আরে এটা কি?’ —- কাব্য বাকিটা শোনার আগেই নিচে ঝুঁকলো।

পরপর লাল রঙের ফিনফিনে নাইটিটা হাতে তুলে চোখের সামনে মেলে ধরতেই কুহুর নিজের চোখই যেন কোটর থেকে বাইরে আসার উপক্রম। ইয়া খোদা—-এটা. . এটা কোত্থেকে এলো? ওদিকে কাব্য একটা শুকনো ঢোক গিলে কাপড়টার দিকে একবার চেয়ে আবার আহাম্মক হয়ে কুহুর দিকে তাকালো।

চলবে

এই পর্বে যদি আজকের রাতের মধ্যে ৬ হাজার রিয়াক্ট, বা বেশিবেশি গল্প নিয়ে বড় কমেন্ট আসে আপনাদের— তাহলে
পরশু আরেকটা পর্ব দিব কাব্য-কুহুময়।

আবার বলছি— পরশু গল্প আসছে, শর্ত পূরণ করলে। পেইজের ড্যাশবোর্ডে রেড লাইট জ্ব লে গেছে, ফার্স্ট নিড টু ফিক্স দিস।

রেগুলার দিব এখন থেকে, যদি আপনারা শর্ত পূরণ করতে পারেন আজকের।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply