Golpo ডার্ক রোমান্স ডিজায়ার আনলিশড

ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ৩৩


ডিজায়ার_আনলিশড

✍️ সাবিলা সাবি
পর্ব: ৩৩

WARNING: This chapter contains explicit content, intense romantic scenes, and adult themes (18+). Reader discretion is strongly advised.

সমুদ্রের সেই লোনা জল আর মৃ,ত্যুর হিমশীতল আলিঙ্গন থেকে ফিরে আসার পর জাভিয়ানের ভেতরের অসুস্থ সত্তাটা যেন আরও কয়েক গুণ তেতে উঠেছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ যেমন তীরের বালুকাভেলায় আছড়ে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হতে চায়, জাভিয়ানের দীর্ঘদিনের অবদমিত কামনার ঢেউগুলোও আজ তেমনি বাঁধ ভাঙার অপেক্ষায়। তার রক্তে আজ এক আদিম অস্থিরতা, যা কেবল এক শান্ত সমর্পণের খোঁজ করছে।

পরেরদিন রাত হতেই জাভিয়ান তান্বীকে নিয়ে জিপে করে পাহাড়ের আরও গহীনে যাত্রা শুরু করল। খাড়া পাহাড়ি পথ বেয়ে জিপ যখন উপরে উঠছিল, তান্বী অবাক হয়ে লক্ষ্য করল রাস্তার প্রতিটা মোড়ে কালো পোশাকে অস্ত্রধারী কমান্ডোরা পাহারায় নিযুক্ত। তাদের পাথরের মতো নিস্পৃহ মুখ আর হাতের উদ্যত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র জানান দিচ্ছে—আজ এই পাহাড়ের চূড়ায় জাভিয়ানের অনুমতি ছাড়া এক বিন্দু বাতাসও প্রবেশের অধিকার রাখে না।

তান্বী ভয়ার্ত চোখে জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “জাভিয়ান, আমরা কোথায় যাচ্ছি? এত গার্ড কেন? আমার খুব ভয় করছে।”

জাভিয়ান স্টিয়ারিংয়ে এক হাত রেখে অন্য হাতে তান্বীর বরফশীতল হাতটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। ওর ঠোঁটে সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী আর রহস্যময় হাসি। সে চিবুক ঈষৎ উঁচিয়ে নিচু স্বরে বলল, “ভয় পেও না জিন্নীয়া। এই পুরো পাহাড়টা আজ শুধু তোমার আর আমার। এই গার্ডরা পাহারা দিচ্ছে যাতে আমাদের একান্ত মুহূর্তগুলোতে বাইরের কোনো পৃথিবী হানা দিতে না পারে। আজ শুধু আমরা থাকব, আর থাকবে আমাদের নিঃশ্বাসের শব্দ।”

পাহাড়ের একদম খাড়া ঢালের শেষ প্রান্তে এসে জিপটি থামল। যেখানে নীল আকাশ যেন পাহাড়ের বুকে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে আছে।

চারিদিকে জাকারান্দা ফুলের হালকা মাদকতাময় সুবাস আর চাঁদের আলোর মায়াবী আভা। একটি বিশাল প্রাচীন বৃক্ষের শক্তিশালী মগডাল থেকে ঝোলানো হয়েছে এক শুভ্র মখমলের বিশাল লাক্সারি ‘সুইং বেড’ বা ঝুলন্ত বিছানা যাকে হ্যামক বল হয়।চারপাশটা শত শত ছোট ছোট মোমবাতির আলোয় সাজানো। নিচে ঘন কুয়াশার চাদর আর ওপরে তারায় ভরা আকাশ সব মিলিয়ে জায়গাটাকে কোনো এক ডার্ক রূপকথার অংশ মনে হচ্ছে। নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি ঝর্ণার অবিরাম কলতান। জাভিয়ান তান্বীকে তার বলিষ্ঠ বাহুবন্ধনে আগলে নিয়ে এলো সেই দোদুল্যমান বিছানায়। নিচে ঘন অরণ্যের গাঢ় অন্ধকার, আর ওপরে অগণিত তারার মেলা। বিছানাটি রাতের হিমেল বাতাসে মৃদু দুলছে; মনে হচ্ছে তারা কোনো মর্ত্যের মাটিতে নয়, বরং এক নিষিদ্ধ মেঘের ওপর ভাসছে।

জাভিয়ান তান্বীকে কোলে তুলে নিয়ে অত্যন্ত সাবধানে সেই দোদুল্যমান হ্যামকের ওপর বসিয়ে দিল। নিচে তাকাতেই তান্বীর মাথাটা ঘুরে উঠল। অতল অন্ধকার খাদ আর এই ঝুলন্ত হ্যামক ভয়ে ও জাভিয়ানের শার্টের কলার শক্ত করে খামচে ধরল।

তান্বী ফ্যাকাসে মুখে অস্ফুট স্বরে বলল, “জাভিয়ান… আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? এমন একটা ভয়ংকর জায়গায় কেউ কীভাবে রোমান্টিক মুহূর্ত কাটানোর কথা ভাবতে পারে? আমি তো নিচে তাকাতেই পারছি না!”

জাভিয়ান হাসল। সেই বাঁকা, নেশাতুর হাসি। সে হ্যামকের একপাশে বসে তান্বীকে নিজের বলিষ্ঠ বুকের সাথে পিষে ধরল। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস তান্বীর কপালে আছড়ে পড়ছে। সে নিচু কিন্তু ভারী স্বরে বলল—
“এটাই আমার ভালোবাসা তোমার প্রতি জিন্নীয়া—ভয়ংকর। সাধারণ রোমান্স তো সাধারণ পুরুষরা করে। জাভিয়ানের ভালোবাসা মানেই হলো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে মৃ/ত্যুর চোখে চোখ রেখে জীবনের চরম স্বাদ নেওয়া। আজ তোমার ভয় আর আমার তৃষ্ণা—দুটোকেই এই গিরিখাতে বিসর্জন দেব।”

জাভিয়ানের হাতটা এবার তান্বীর উন্মুক্ত পিঠের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেল। ওর কর্কশ আঙুলের স্পর্শে তান্বী এক তীব্র শিহরণে চোখ বুজল।

তান্বী আমতা আমতা করে প্রশ্ন করল, “জাভিয়ান… বলছিলাম আজকে কি… মানে আজকে কি করতেই হবে?”

জাভিয়ান ওর চিবুকটা এক আঙুলে উঁচিয়ে ধরল। ওর দুচোখে এখন সেই মাদকতা নেশা। জাভিয়ান খুব সাবলীল কিন্তু ধারালো গলায় উত্তর দিল

“ইয়েস! অনেক মাস ধরে সিগন্যাল হাই হয়ে আমার ব্লুটুথ অন হয়েছিল, কিন্তু তোমার ওই ‘প্রাইভেসি সেটিংসের’ জন্য কানেক্ট করতে পারিনি। আজ তোমার পেয়ারিং কোড পেয়েই গেছি, তখন কি আর ডেটা ট্রান্সফার না করে থাকা যায়? আজ শুধু ব্লুটুথ কানেক্ট না, একবারে ‘ফুল এক্সেস’ নিয়েই ছাড়বো।”

জাভিয়ান তান্বীর কানের কাছে মুখ নামিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাসে ফিসফিস করে বলল, “এই মাটির পৃথিবীটা বড় নোংরা জিন্নীয়া। ওখানে সবাই তোমার দিকে নজর দেয়। তাই তোমাকে এখানে নিয়ে এলাম… এই আকাশের কাছাকাছি। যেখানে শুধু বাতাস আর এই গভীর রাত আমাদের সাক্ষী থাকবে।”

পাহাড়ের খাড়া ঢালে ঝুলন্ত হ্যামকটা বাতাসের তোড়ে একবার খাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে,পরক্ষণেই ফিরে আসছে বটগাছের কাণ্ডের দিকে। নিচে কয়েকশ ফুট গভীর অন্ধকার গহ্বর—একটু অসাবধানতা মানেই সলিল সমাধি। তান্বী ভয়ে আর আতঙ্কে জাভিয়ানের প্রশস্ত বুকটা বারবার দুই হাতে খামচে ধরে আছে। ওর হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি যেন বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে।

হ্যামকের প্রতিটি দুলুনিতে তান্বীর মনে হচ্ছিল সে এখনই ছিটকে পড়ে যাবে। ও ফুঁপিয়ে উঠে বলল, “জাভিয়ান, প্লিজ… আমার মাথা ঘুরছে। আমি পড়ে যাব! আমাকে নামিয়ে দিন!”

জাভিয়ান কোনো কথা বলল না। সে কেবল তান্বীর কোমর জড়িয়ে থাকা হাতের বাঁধনটা আরও কয়েক গুণ শক্ত করে দিল। ওর বলিষ্ঠ হাতের সেই কর্কশ স্পর্শে তান্বী এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল।

জাভিয়ান ওর চিবুকটা উঁচিয়ে ধরে সরাসরি ওর চোখের গভীরে তাকাল। ওর ওই উন্মাদ চোখের মনিতে তখন মোমবাতির শিখা প্রতিফলিত হচ্ছে।

জাভিয়ান ফিসফিস করে বলল, “আমার চোখের দিকে তাকাও জিন্নীয়া। নিচের অন্ধকারের দিকে নয়, আমার এই চোখের ভেতরের আগুনের দিকে তাকাও। আমি থাকতে এই পাহাড়ের সাধ্য নেই তোমাকে আমার বুক থেকে কেড়ে নেয়।”

জাভিয়ান ওর ঠোঁট নামিয়ে আনল তান্বীর কানের কাছে। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস তান্বীর ভয়ার্ত শরীরে এক বৈদ্যুতিক প্রবাহ ছড়িয়ে দিল। জাভিয়ানের হাতটা এবার তান্বীর পিঠের অনাবৃত অংশ দিয়ে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে উঠতে লাগল। ওর কর্কশ আঙুলগুলো যখন তান্বীর মেরুদণ্ডের প্রতিটি হাড় ছুঁয়ে যাচ্ছিল, তান্বী ভয়ের কথা ভুলে গিয়ে এক অদ্ভুত আবেশে চোখ বুজল।

জাভিয়ান তান্বীর ঘাড়ের সেই স্পর্শকাতর ভাঁজে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে এক প্রকার নিষ্ঠুর আস্বাদনে মত্ত হলো। ওর দন্তের সামান্য চাপে তান্বী যন্ত্রণায় আর এক অদম্য সুখে ডুকরে উঠল। ধীরে ধীরে হ্যামকের সেই বিপজ্জনক দুলুনি তান্বীর কাছে আর আতঙ্ক মনে হলো না, বরং মনে হতে লাগল এই দুলুনিটাই বুঝি ওদের মিলনের একমাত্র ছন্দ।

জাভিয়ান এক ঝটকায় তান্বীর কাঁধের ওপর থেকে জামার কাপড়টা সামান্য সরিয়ে দিতেই ওর শ্বেতশুভ্র কাঁধ উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। জাভিয়ান সেখানে নিজের ঠোঁটের গভীর সিলমোহর এঁকে দিয়ে ভারী গলায় বলল, “ভয় লাগছে এখনো? নাকি আমার এই ছোঁয়ায় তোমার ভেতরের ভয়গুলো আমার তৃষ্ণায় পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে?”

তান্বী এখন পুরোপুরি আচ্ছন্ন। ওর হাত দুটো জাভিয়ানের চুলের ভেতরে বিলি কাটছে। সে অবচেতনভাবেই নিজেকে জাভিয়ানের শরীরের সাথে আরও নিবিড়ভাবে মিশিয়ে দিতে চাইল।

জাভিয়ান তান্বীকে বিছানার মাঝখানে শুইয়ে দিল। জাভিয়ান তার পেশিবহুল শরীরের সবটুকু ওজন নিয়ে তান্বীর ওপর ঝুঁকে পড়ল। নিচে ঝর্ণার গর্জন আর ওপরে পাতার মর্মর ধ্বনি তাদের দ্রুততর হৃদস্পন্দনের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। বাতাসের প্রতিটি ঝাপটায় হ্যামকটি দুলছে, যা তাদের এই সান্নিধ্যের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও বেশি অনিশ্চিত আর রোমাঞ্চকর করে তুলছে। কোনো দেয়াল নেই, কোনো ছাদ নেই আছে শুধু চারিদিকে উন্মুক্ত প্রকৃতি।

জাভিয়ানের স্পর্শে আজ কোনো সামাজিক বা নৈতিক বাধা নেই, সে এই বন্য প্রকৃতির মাঝেই তার পুরুষালি অধিকার পূর্ণ করতে চায়। তান্বীর লম্বা রেশমি চুলগুলো বিছানা ছাড়িয়ে বাতাসের ডালপালায় ডানা মেলছে।
জাভিয়ানের ভারি নিঃশ্বাস তান্বীর ঘাড়ের স্পর্শকাতর ভাঁজে তপ্ত আগুনের মতো অনুভূত হচ্ছে। হঠাৎ জাভিয়ান তান্বীর দুই হাত মাথার ওপরে তুলে শক্ত করে চেপে ধরল। তার চোখের মণি এখন কেবল নেশায় নয়, বরং এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর জেদে জ্বলছে। সে তান্বীর গলার কাছে মুখ ডুবিয়ে খুব নিচু স্বরে, প্রায় হিসহিস করে বলল—”জানো জিন্নীয়া? এই হ্যামকের দড়িগুলো যদি আজ ছিঁড়ে যায়, আর আমরা যদি এই কয়েকশ ফুট ওপর থেকে নিচে পাথুরে ঝর্ণায় আছড়ে পড়ি—আমি বিন্দুমাত্র ভয় পাব না।”

তান্বী বিস্ময় আর আতঙ্ক মাখা চোখে তাকাতেই জাভিয়ান তার ঠোঁটে এক বন্য হাসি ফুটিয়ে তুলল। সে তার এক হাত দিয়ে তান্বীর গলা আলতো করে পেঁচিয়ে ধরল; সেই স্পর্শে ভালোবাসা নাকি নিগ্রহ লুকানো ছিল, তা বোঝা দায়। জাভিয়ান কর্কশ স্বরে বলল—
“আমি চাই আমরা ওভাবেই মরি। একদম একসাথে। যাতে নিচে পড়ার পর আমাদের হাড়গোড়গুলো একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে যায় যে, কোনো ফরেনসিক ডাক্তারও যেন আমাদের আলাদা করতে না পারে। কেউ যেন কোনোদিন বলতে না পারে—কোনটা জাভিয়ান আর কোনটা তার জিন্নীয়া।”

জাভিয়ানের এই ভয়াবহ আর সর্বগ্রাসী রোমান্টিসিজম তান্বীর মেরুদণ্ড দিয়ে এক শীতল স্রোত বইয়ে দিল। জাভিয়ান আর এক মুহূর্তের বিরতি দিল না। সে তার ঠোঁট ডুবিয়ে দিল তান্বীর গলার নরম ভাঁজে।

পাহাড়ের সেই খাড়া ঢালে ঝুলন্ত হ্যামকটি এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জাভিয়ানের পৈশাচিক ঠোঁটদুটো তান্বীর গলার প্রতিটি খাঁজে আর ঘাড়ের স্পর্শকাতর ভাঁজে ক্ষুধার্ত বাঘের মতো বিচরণ করছে। জাভিয়ানের সদ্য সেভ করা গালের ঘর্ষণ আর ওর ঠোঁটের তপ্ত ছোঁয়ায় তান্বীর সারা শরীরে এক তীব্র সুড়সুড়ি আর শিহরণের ঢেউ খেলে যাচ্ছে।

তান্বী নিজেকে সামলাতে না পেরে জাভিয়ানের আলিঙ্গনের মধ্যেই হাসফাস করতে লাগল। সুড়সুড়ির চোটে ও অবচেতনভাবেই শরীরটা মোচড় দিয়ে এদিক-ওদিক নড়াচড়া করতে শুরু করল। কিন্তু এই নড়াচড়াতে হ্যামকটা ভারসাম্য হারিয়ে খাদের দিকে বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ছে।

জাভিয়ানের মাথাটা এখন পুরোপুরি বিগড়ে গেছে। ওর রক্তে এখন কেবল তৃষ্ণা আর আধিপত্যের নেশা। তান্বীর এই ছটফটানি ওর সেই বুনো ছন্দকে নষ্ট করে দিচ্ছে। জাভিয়ান হঠাত করেই থেমে গেল। ওর চোখের মনিতে তখন এক হিংস্র শীতলতা।

সে এক হাত দিয়ে তান্বীর দুই হাত শক্ত করে মাথার ওপরে চেপে ধরল, আর অন্য হাতে কোমর থেকে নিজের সেই চকচকে ধারালো ছুরিটা বের করল। তান্বী আতঙ্কে পাথর হয়ে গেল। জাভিয়ান কোনো কথা না বলে এক ঝটকায় হ্যামকের চারটে দড়ির মধ্যে একটা দড়ি অর্ধেকটা কেটে দিল!

হ্যামকটা একপাশে কাত হয়ে ঝুলে পড়ল। তান্বী চিৎকার দিয়ে উঠতে গেলে জাভিয়ান ওর মুখটা নিজের হাত দিয়ে চেপে ধরল। ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে বরফশীতল গলায় জাভিয়ান গর্জে উঠল—
“অনেক হয়েছে জিন্নীয়া! এবার স্থির হও। আমার এই তৃষ্ণার মাঝে তোমার ওই সুড়সুড়ির অজুহাতে নড়াচড়া করাটা আমি আর সহ্য করছি না। একবার দড়িটা কেটেছি, এটা জাস্ট একটা ওয়ার্নিং। আরেকবার যদি নড়াচড়া করেছ বা আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছ, অন্যাপাশের দড়িটাও আমি কেটে দেব। তখন আমরা দুজন সরাসরি এই গিরিখাতের তলায় গিয়ে আমাদের বাসর শেষ করব। তুমি কি সেটা চাও?”

তান্বীর চোখ দুটো ভয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। জাভিয়ানের এই উন্মাদনা ওর কল্পনার বাইরে। সে বুঝতে পারল, জাভিয়ান এখন কোনো সাধারণ মানুষ নয়; ও একটা পৈশাচিক সত্তা, যে নিজের শিকারকে পূর্ণরূপে পাওয়ার জন্য মৃত্যুকেও আলিঙ্গন করতে দ্বিধা করছে না।

জাভিয়ান ছুরিটা হ্যামকের ওপর গেঁথে রেখে আবার তান্বীর ওপর ঝুঁকে পড়ল। এবার আর কোনো বাধা নেই। তান্বী মূর্তির মতো স্থির হয়ে পড়ে রইল, কেবল ওর তপ্ত নিঃশ্বাসগুলো জাভিয়ানের বুকে আছড়ে পড়ছে। জাভিয়ান ওর ঠোঁট দুটোকে আবার নিজের শাসনের নিচে পিষ্ট করতে শুরু করল। হ্যামকটা এখন তিনটে মাত্র দড়ির ওপর কোনোমতে ঝুলে আছে, আর তার নিচে অতল মৃ/ত্যু। কিন্তু জাভিয়ানের কাছে এখন ওই মৃ/ত্যুর চেয়েও তান্বীর শরীরের ঘ্রাণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জাভিয়ান তান্বীর কানের লতিতে কামড় বসিয়ে ফিসফিস করে বলল, “বি গুড। শুধু আমাকে অনুভব করো।”

হ্যামকটি তখন বাতাসের ঝাপটায় আর জাভিয়ানের আদিম ছন্দে উন্মত্তের মতো দুলছে। জাভিয়ানের প্রতিটি মুভমেন্ট ছিল এতোটাই শক্তিশালী আর বন্য যে তান্বীর মনে হচ্ছিল সে কোনো বিশাল ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েছে। শরীরের সেই তীব্র দহন আর হ্যামকের নিচে অতল খাদের ভয়—দুটো মিলে তান্বীর সহ্যক্ষমতা ছাড়িয়ে গেল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না; জাভিয়ানের কাঁধে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে উঠল।
সেই কান্নার শব্দ জাভিয়ানের কানে পৌঁছাতেই ওর ভেতরের পৈশাচিক সত্তাটা এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াল। কিন্তু পরক্ষণেই ওর চোখের মণি দুটো রাগে আর উত্তেজনায় টকটকে লাল হয়ে উঠল। জাভিয়ান কান্না সহ্য করতে পারে না, বিশেষ করে তার মিলনের এই চরম মুহূর্তে জিন্নীয়ার চোখের জল তার মস্তিস্কের শিরা-উপশিরায় বিষাক্ত মাদকতা ছড়িয়ে দেয়।

সে এক ঝটকায় তান্বীর চিবুকটা উঁচিয়ে ধরল। ওর আঙুলের চাপে তান্বীর চোয়ালটা প্রায় জমে যাওয়ার উপক্রম। জাভিয়ান হিসহিস করে কর্কশ গলায় গর্জে উঠল—”কান্না বন্ধ করো তান্বী! এই মুহূর্তে তোমার চোখের জল আমার সহ্য হচ্ছে না। আমি কি তোমাকে সুখ দিচ্ছি না? নাকি কষ্ট দিচ্ছি?”

তান্বী কান্নার তোড়ে অস্ফুট স্বরে বলল, “জাভিয়ান… প্লিজ… আমি আর পারছি না… আমার খুব ভয় করছে…”

জাভিয়ানের মাথাটা এবার পুরোপুরি বিগড়ে গেল। সে ঝট করে হ্যামকের ওপর রাখা সেই ধারালো ছুরিটা হাতে তুলে নিল এবং চোখের পলকে হ্যামকের দ্বিতীয় প্রধান রশিটার ওপর ধরল। তান্বী আতঙ্কে পাথর হয়ে গেল।

“চুপ!” জাভিয়ান হিমশীতল গলায় বলল। “তুমি যদি আর একটা শব্দ করো, তবে এই মুহূর্তেই এই দড়িটাও আমি কেটে দেব। তুমি কি চাও আমরা ওভাবেই মরি? নাকি শান্ত হয়ে আমার এই আদর উপভোগ করবে?”

জাভিয়ান ছুরিটা রশির ওপর একটু বেশিই চাপ দিল। দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার সেই বীভৎস ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে তান্বীর হৃৎপিণ্ড যেন থেমে গেল। সে তার কান্না গলার ভেতরেই গিলে ফেলল। তার বড় বড় চোখ দুটো এখন ভয়ে আর বিস্ময়ে জাভিয়ানের দিকে স্থির হয়ে আছে। জাভিয়ানের চোখে কোনো কৌতুক নেই, আছে এক ভয়াবহ উন্মাদনা।

তান্বীকে নিথর হয়ে যেতে দেখে জাভিয়ানের ঠোঁটে আবার সেই হাসিটা ফিরে এলো। সে ছুরিটা একপাশে সরিয়ে দিয়ে তান্বীর কবজি দুটো আবার রশির সাথে শক্ত করে চেপে ধরল।

“গুড গার্ল।আজ রাতে এই অরণ্যের প্রতিটি পাতা জানবে যে তুমি কার… তুমি কেবলই জাভিয়ান এমিলিও চৌধুরীর!”

জাভিয়ান আর কোনো কথার অবকাশ রাখল না। সে আবার নিজের সেই উন্মত্ত নেশায় ডুব দিল। হ্যামকটি তখন পাহাড়ের ঢালে বিপজ্জনকভাবে দুলছে, যেন বাতাসের প্রতিটি ঝাপটায় তারা মৃ/ত্যুর খুব কাছে চলে যাচ্ছে। কিন্তু জাভিয়ানের কাছে ওই খাদের গভীরতা এখন তুচ্ছ; তার পুরো পৃথিবী এখন তান্বীর তপ্ত নিঃশ্বাস আর ওর শরীরের ঘ্রাণে সীমাবদ্ধ।

জাভিয়ানের হাতের বাঁধন আলগা হলো না, বরং প্রতিটি মুহূর্তে তা আরও নিবিড় হতে লাগল। তান্বী অনুভব করছিল, জাভিয়ান যেন কোনো মানুষ নয়—বরং এক ঝড়, যা তাকে ছিঁড়েখুঁড়ে নিজের ভেতর বিলীন করে নিতে চায়। ওর প্রতিটি স্পর্শে ছিল এক অদম্য জেদ, এক নিরঙ্কুশ মালিকানা। খাদের নিচে অতল অন্ধকার ওত পেতে থাকলেও, জাভিয়ানের বাহুবন্ধনে তান্বী এক বিচিত্র অবশতা অনুভব করছিল।

মৃ/ত্যু হয়তো কয়েক ইঞ্চি দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু জাভিয়ানের এই সর্বগ্রাসী উপস্থিতির সামনে সেই ভয়ও যেন আজ ম্লান হয়ে গেছে। ওই মগডালের ওপর ঝুলন্ত শয্যায় সে কেবলই এক পুরুষ, যে তার ভালোবাসার নারীকে একটু একটু করে নিজের সত্তায় মিশিয়ে নিচ্ছে। তার নিঃশ্বাসের শব্দ আর তান্বীর হৃদস্পন্দন মিলেমিশে একাকার হয়ে ওই নির্জন পাহাড়ের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল।
.
.
.
ভোরের সেই প্রথম আলো যখন জাকারান্দার ডালপালা ভেদ করে হ্যামকের ওপর এসে পড়ল, তখন চারপাশটা এক অপার্থিব নিস্তব্ধতায় ঢাকা। পাহাড়ের চূড়ায় কুয়াশার পাতলা চাদর, আর তার নিচে ঝর্ণার সেই অবিরাম বয়ে চলার শব্দ এখন অনেক বেশি স্পষ্ট। গতরাতের সেই উন্মাদনা আর ঝড়ের চিহ্নগুলো হ্যামকের শ্বেতশুভ্র মখমলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

জাভিয়ান আগেই জেগেছে। সে হ্যামকের এক কোণায় আধশোয়া হয়ে একহাতে মাথা এলিয়ে দিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তান্বীর ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। জাভিয়ানের প্রশস্ত পিঠে তান্বীর নখের সেই লাল আঁচড়গুলো ভোরের আলোয় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওর চোখের সেই গতরাতের বন্যতা এখন আর নেই, তার বদলে সেখানে এক স্থির, গভীর প্রশান্তি।

সে পরম মমতায় তান্বীর কপালে লেপ্টে থাকা কয়েকটা চুল সরিয়ে দিল। তার আঙুলের আলতো স্পর্শ তান্বীর ললাটে ছুঁতেই ও ঘুমের ঘোরেই একটু কেঁপে উঠল। তান্বী যখন চোখ মেলল, তার চোখের মণিতে তখনো ভোরের সেই আলস্য আর গতরাতের ক্লান্তির রেশ।

জাভিয়ানকে এত কাছে দেখে ও এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সারারাতের সেই অমানুষিক ধকল আর জাভিয়ানের তীব্র সান্নিধ্যের পর তান্বীর শরীরটা যেন পুরোপুরি অবশ হয়ে আছে। সে একটু নড়াচড়া করার চেষ্টা করতেই ব্যথায় তার ভ্রু দুটো কুঁচকে এল।
জাভিয়ান খুব নিচু আর ভরাট গলায় বলল, “ব্যথা করছে খুব?”

তান্বী কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু বড় বড় চোখ মেলে জাভিয়ানের শান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এই সেই মানুষ, যে গতরাতে মৃ/ত্যুর ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে তাকে নিজের করে নিয়েছে, আবার এই সেই মানুষ যার চোখে এখন পাহাড়ের শান্ত সরোবরের মতো মায়া।

তান্বী অস্ফুট স্বরে বলল, “আপনি সত্যিই খুব অদ্ভুত। গতরাতে তো মনে হচ্ছিল আপনি আমাকে শেষ করে ফেলবেন।”

জাভিয়ান মৃদু হাসল। সে হ্যামকের রশি ধরে আলতো টান দিয়ে তান্বীকে নিজের বুকের আরও কাছে নিয়ে এল। তান্বীর কপাল নিজের চিবুকে ঠেকিয়ে সে খুব গভীর স্বরে বলল “তৃপ্তি শব্দটা আমার জন্য নয় জিন্নীয়া। তোমাকে যতবার কাছে পাই, আমার ভয় আরও বাড়ে। মনে হয়, এই বুঝি তুমি আমার থেকে দূরে সরে গেলে। এই অরণ্য, এই বাতাস সবাই যেন তোমাকে আমার থেকে চুরি করতে চায়। তাই ভাবছি, তোমাকে এখান থেকে আর নামাবই না। এই আকাশের কাছাকাছি কোনো এক জায়গায় তোমাকে সারাজীবনের জন্য বন্দি করে রাখব।”

তান্বী জাভিয়ানের বুকের ধুকপুকানি শুনতে পাচ্ছিল। জাভিয়ানের এই ভয়াবহ পজেসিভ কথাবার্তা এখন আর তাকে আগের মতো আতঙ্কিত করছে না, বরং এক বিচিত্র আশ্রয়ের অনুভূতি দিচ্ছে। সে বুঝতে পারল, এই পুরুষের ভালোবাসার ধরণটাই এমন—উন্মত্ত, একগুঁয়ে এবং সর্বগ্রাসী।

জাভিয়ান তান্বীর কপালে এক দীর্ঘ চুমু খেয়ে তাকে নিজের বলিষ্ঠ বাহুডোরে জাপ্টে ধরল। পাহাড়ের চূড়ায় তখন সূর্য উঠছে, আর সেই আলোয় ধুয়ে যাচ্ছে এক অসমাপ্ত গল্পের নতুন এক অধ্যায়।

তান্বী হঠাত মাথা তুলে জাভিয়ানের সুন্দর আর আর শান্ত মুখটার দিকে অদ্ভুত এক কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকাল। তার মনে অনেকক্ষণ ধরে একটা খটকা ঘুরপাক খাচ্ছিল।

তান্বী একটু আমতা আমতা করে নিচু স্বরে বলল, “জাভিয়ান, একটা কথা বলব? রাগ করবেন না তো?”

জাভিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে তান্বীর কোমরে নিজের হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে টেনে নিয়ে বলল, “বলো জিন্নীয়া। আজ তোমার সব আবদার মঞ্জুর।”

তান্বী সরাসরি জাভিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে খুব সহজ গলায় প্রশ্ন করল, “না মানে… আপনার মা আপনাকে ছোটবেলায় আসলে কী খাইয়ে বড় করেছে?”

জাভিয়ান হঠাত এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেল। সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তান্বী থামল না, সে বলতে লাগল, “মানুষের তো একটা পাওয়ারের সীমা থাকে, একটা ক্লান্তি থাকে। কিন্তু আপনার তো মনে হয় ক্লান্তি বলতে কিছু নেই! পুরোটা সময় যেভাবে… মানে একজন স্বাভাবিক মানুষ কি এতক্ষণ ধরে অবিরাম এভাবে পারে?”

তান্বীর এমন অকপট আর বাস্তবিক কৌতূহল বুঝতে পেরে জাভিয়ান হঠাত হো হো করে হেসে উঠল। সেই অকৃত্রিম হাসির শব্দে গাছের ডালে বসে থাকা দু-একটা পাখিও ডানা ঝাপটে উড়ে গেল। জাভিয়ান হাসতে হাসতেই তান্বীর কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে খুব গম্ভীর অথচ মাদকতায় ভরা গলায় বলল—”এটা কোনো ডায়েট বা স্পেশাল খাবারের ফল নয় জিন্নীয়া। এটাকে বলে ‘গড গিফটেড’ স্ট্যামিনা। আর এই বিশেষ ক্ষমতাটা সৃষ্টিকর্তা কেবল আমার জন্যই দিয়েছে, আর আমি সেটা শুধুমাত্র তোমার জন্য বরাদ্দ করে রেখেছিলাম।”

জাভিয়ান আবার শুয়ে পড়ল তান্বীর পাশে, তাকে নিজের বুকের সাথে এমনভাবে জাপ্টে ধরল যেন সে কোনো অমূল্য সম্পদ আগলে রাখছে। তান্বী জাভিয়ানের বুকের ধুকপুকানি শুনতে পাচ্ছিল।

জাভিয়ান তখন বুঝতে পারল এবার ফেরার সময় হয়েছে। সে হ্যামক থেকে নামার জন্য উঠে দাঁড়াল এবং পরম যত্নে তান্বীকে হাত ধরে তোলার চেষ্টা করল।
কিন্তু তান্বী একবার নড়াচড়া করতেই অস্ফুট স্বরে ব্যথায় ককিয়ে উঠল। ওর সারা শরীর যেন সীসার মতো ভারী হয়ে আছে। গতরাতের সেই অমানুষিক ধকল আর জাভিয়ানের তীব্র উন্মাদনার পর ওর শরীরের প্রতিটি পেশি এখন বিদ্রোহ করছে। ও উঠে দাঁড়ানো তো দূর, বিছানা ছেড়ে এক ইঞ্চি নড়তেও পারছে না। ওর পা দুটো যেন আর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, পুরো শরীরটা এক অদ্ভুত অবশতায় ভেঙে পড়ছে।

তান্বী অসহায় চোখে জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল, “জাভিয়ান… আমি বোধহয় উঠতে পারব না। আমার পা দুটো একদম অবশ হয়ে আছে। একটুও শক্তি পাচ্ছি না।”

জাভিয়ানের ঠোঁটে এক মায়াবী কিন্তু গর্বিত হাসি ফুটে উঠল। সে জানত এমনটাই হবে। সে কোনো কথা না বলে সরাসরি নিচু হয়ে তান্বীকে আলতো করে পাঁজাকোলা করে তুলে নিল। হ্যামকটি ওদের ভারে সামান্য দুলে উঠল। তান্বী আবেশে আর ক্লান্তিতে জাভিয়ানের চওড়া কাঁধে মাথা এলিয়ে দিল। জাভিয়ানের বলিষ্ঠ বাহুডোরে নিজেকে সঁপে দিয়ে ওর মনে হলো, এই মানুষটা যতটা ভয়ংকর, তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী আশ্রয়।

জাভিয়ান তান্বীকে কোলে নিয়ে খুব সাবধানে সেই প্রাচীন বটগাছের ডাল থেকে নিচে নেমে এলো। পাহাড়ি ঢালের সেই অমসৃণ পথে জাভিয়ান অত্যন্ত স্থির কদমে হাঁটছে, যেন ওর কোলে কোনো কাঁচের পুতুল আছে—যা সামান্য আঘাতেই ভেঙে যেতে পারে।

পাহাড়ি পথের ধারে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা সশস্ত্র গার্ডরা যখন দেখল তাদের দুর্ধর্ষ বসের কোলে নিথর এবং বিধ্বস্ত অবস্থায় তান্বী, তারা বিস্ময় চেপে সম্মানে মাথা নিচু করল। জাভিয়ান কারোর দিকে এক পলকও তাকাল না। তার পুরো মনোযোগ এখন তার বাহুবন্দি ওই রমণীর ওপর, যে গতরাতের ঝড়ে পরিশ্রান্ত হয়ে কাঁচের পুতুলের মতো এলিয়ে আছে।

জাভিয়ান জিপের কাছে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তান্বীকে ড্রাইভিং সিটের পাশের সামনের সিটে বসিয়ে দিল।পাহাড়ের হিমেল বাতাস তান্বীর শরীরে লাগতেই সে সামান্য কুঁকড়ে গেল। জাভিয়ান তড়িৎ গতিতে নিজের গা থেকে দামী ব্লেজারটি খুলে পরম মমতায় তান্বীর কাঁধের ওপর জড়িয়ে দিল। ব্লেজারের ওম আর জাভিয়ানের শরীরের পরিচিত ঘ্রাণে তান্বী এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তি খুঁজে পেল।

জাভিয়ান ড্রাইভিং সিটে বসে জিপটা স্টার্ট দিল। তান্বী আধো বোজা চোখে দেখল গার্ডরা তখনো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সে অতি ক্ষীণ স্বরে বলল, “সবাই দেখছিল জাভিয়ান… আপনার কি একটুও লজ্জা লাগে না এভাবে আমাকে কোলে নিতে?”

জাভিয়ান জিপের গিয়ার বদলে পাশের আয়নায় তান্বীর ক্লান্ত অথচ স্নিগ্ধ মুখের দিকে তাকাল। ওর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিজয়ী হাসি। সে গম্ভীর কিন্তু ভরাট গলায় বলল—”লজ্জা দুর্বলদের ভূষণ তান্বী। আর এই পাহাড়ের প্রতিটি ধূলিকণা জানে যে তুমি এখন একমাত্র আমার। তোমাকে আগলে রাখা বা বহন করাটা আমার অধিকার, আর সেই অধিকারে লজ্জার কোনো ঠাঁই নেই। এখন ওই ব্লেজারটা ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে চুপচাপ ঘুমাও, অনেকটা পথ বাকি।”

জিপটা যখন পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে নিচে নামতে শুরু করল, তান্বী অনুভব করল জাভিয়ানের এই প্রচণ্ড শাসন আর তীব্র ভালোবাসার মাঝে কোনো এক অদ্ভুত জাদুবল আছে। ব্লেজারের উষ্ণতায় তার সব ভয় আর জড়তা এক গভীর প্রশান্তিতে রূপ নিলো।
.
.
.
এদিকে ফারহান যখন ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়াল, তখন বাইরের আকাশটা ঘোলাটে হয়ে আছে। লুসিয়া জানালার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল, এক স্থির চিত্রপটের মতোই। ফারহানের পায়ের শব্দ পেতেই সে বিদ্যুৎবেগে ঘুরে দাঁড়াল। ওর চোখের কোনটা রক্তবর্ণ হয়ে আছে বোঝাই যাচ্ছে সারারাত এক ফোঁটা ঘুম ওর চোখে নামেনি। ফারহানকে দরজায় পাসপোর্ট আর ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লুসিয়ার ভেতরের সবটুকু বাঁধ ভেঙে গেল।

সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফারহানের বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। ওর দুই হাত ফারহানের গলার পেছনে লোহার শিকলের মতো শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল। লুসিয়ার শরীরের প্রতিটি কম্পন ফারহান অনুভব করছিল। লুসিয়া ওর শার্টের কলারটা খামচে ধরে রুদ্ধকণ্ঠে বলতে শুরু করল—”ফারহান, তুমি সত্যিই চলে যাবে? একবারও কি মনে হচ্ছে না যে এই মেক্সিকোয় আমি তোমাকে ছাড়া কীভাবে থাকব? আমাকে সাথে নিয়ে চলো, নয়তো এখানেই থেকে যাও ফারহান। আমি তোমার সব শর্ত মেনে নেব… শুধু আমাকে এভাবে ফেলে যেও না!”

ফারহান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর হাত দুটো কয়েকবার কেঁপে উঠল লুসিয়াকে জাপ্টে ধরার জন্য, কিন্তু সে নিজেকে পাথর করে রাখল। খুব নিচু আর ভরাট গলায় ফারহান শুধু বলল, “লুসিয়া, নিজেকে সামলাও।আমার সময় হয়ে গেছে ফ্ল্যাইটের।”

লুসিয়া মাথা তুলে ফারহানের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে তখন এক চরম আকুতি আর হারানোর তীব্র যন্ত্রণা। লুসিয়া এক হাতে ফারহানের গালটা আলতো করে ছুঁল। ওর তপ্ত নিশ্বাস ফারহানের ঠোঁটে আছড়ে পড়ছে। সে ফারহানের ওই পাষাণ হৃদয়ের শেষ বিন্দুটা জয় করতে চাইল। নিজের চোখ দুটো বুজে সে ফারহানের ঠোঁটের খুব কাছে মুখ নিয়ে এল চেয়েছিল শেষবারের মতো ফারহানকে একটা চুম্বনে বেঁধে ফেলতে।

লুসিয়া যখন ফারহানকে চুম্বন করতে উদ্যত হলো, ঠিক তখনই ফারহান এক হাত দিয়ে লুসিয়ার ঠোঁটের ওপর রেখে থামিয়ে দিলো। তারপর খুব দৃঢ়ভাবে ওকে নিজের থেকে সরিয়ে দিল। সে এক কদম পিছিয়ে গিয়ে লুসিয়ার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল।

লুসিয়া অপমানে আর এক বুক হাহাকার নিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। তার চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ল। সে ভাঙা গলায় প্রশ্ন করল, “কেন ফারহান? আমাকে কি তোমার একটুও ছুঁতে ইচ্ছে করে না?”

ফারহান জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। ও চায় না লুসিয়া ওর চোখের কোণের দুর্বলতাটা দেখুক। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফারহান ধরা গলায় বলল “লুসিয়া, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করছি। আজ যদি আমি একবার তোমার এই আদরে ধরা দিই, তবে আমি আর এই মেক্সিকো ছেড়ে যেতে পারব না। আর আমার ফেরাটা এখন খুব দরকার। কিছু জেদ, কিছু হিসেব এখনো বাকি লুসিয়া। ভালোবাসা মাঝে মাঝে মানুষকে বড্ড দুর্বল করে দেয়, আর এই মুহূর্তে আমি দুর্বল হতে চাইছি না।”

ফারহান পকেট থেকে তার প্রিয় বাইকের চাবিটা বের করে সামনের টেবিলে রাখল। লুসিয়ার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল, “আমার বাইকটা তোমার কাছে রেখে যাচ্ছি। এটা আগলে রেখো।”

লুসিয়া অবাক হয়ে বলল, “বাইক? কিন্তু তুমি এয়ারপোর্টে যাবে কীভাবে? চলো একসাথে বাইকে করে দুজনে এয়ারপোর্টে যাই।”

ফারহান মাথা নাড়ল। ওর চোখে এক রহস্যময় ছায়া। “না লুসিয়া। তুমি এয়ারপোর্টে যাবে না। বাইরে গাড়ি আমার জন্য অপেক্ষা করছে, আমি ওটাতেই যাব।”

লুসিয়া কিছু বলতে চাইল, কিন্তু ফারহান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। ব্যাগটা তুলে নিয়ে সে দ্রুত পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো রঙের গাড়িটিতে উঠে বসার সময় ফারহান একবারও পেছনে ফিরে তাকাল না।

পেছন থেকে লুসিয়া চিৎকার করে উঠল, “ফারহান! তুমি ফিরে আসবেতো। আমি জানি তুমি ফিরে আসবে!”

গাড়িটা স্টার্ট দিয়ে ধুলো উড়িয়ে দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। লুসিয়া একা দাঁড়িয়ে রইল সেই নিঝুম ফ্ল্যাটে যেখানে টেবিলের ওপর পড়ে আছে ফারহানের প্রিয় বাইকের চাবিটা। ফারহান কেন তাকে এয়ারপোর্টে নিল না?সেই রহস্য মেক্সিকোর বাতাসে জমাট বেঁধে রইল
.
.
.
ফারহানের গাড়িটি এয়ারপোর্টের ভিআইপি গেটে না গিয়ে সোজা চলে গেল একদম শেষ প্রান্তে, যেখানে সাধারণের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সেখানে একটি বিশাল কার্গো বিমানের সামনে কালো স্যুট পরা কয়েকজন লোক পাথরের মতো নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ফারহান গাড়ি থেকে নামতেই তাদের মধ্যে একজন যাকে মেক্সিকোর আন্ডারওয়ার্ল্ডে ওপর মহলের বিশ্বস্ত লোক বলে সবাই চেনে—ধীর পায়ে ফারহানের দিকে এগিয়ে এল।

ফারহান ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে ক্লান্ত অথচ সজাগ দৃষ্টিতে লোকটির সামনে দাঁড়াল। লোকটি নিচু স্বরে বলল, “সব গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফারহান। বস সানচেজ তোমার কাজে খুশি। শিপমেন্টগুলো অলরেডি রওনা হয়ে গেছে। ড্রাগস আর অস্ত্রের এই বিশাল লট যদি ঠিকঠাক পৌঁছায়, তবে বাংলাদেশের বাজার আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে।”

ফারহান একটা শীতল হাসি হাসল। সে নিজে ডন নয়, কিন্তু মেক্সিকোর এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র সে-ই। ফারহান খুব ঠান্ডা গলায় বলল, “বসকে বোলো, ফারহান কখনো ভুল করে না। মাঝ সমুদ্রে কোস্টগার্ডের সাথে সব রফা হয়ে গেছে। কন্টেইনারগুলো একদম নিরাপদে বন্দরে গিয়ে ভিড়বে।”

লোকটি ফারহানের দিকে একটি ছোট এনক্রিপ্টেড ফোন এগিয়ে দিয়ে বলল, “বসের শেষ মেসেজ। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করবে। আর মনে রেখো, এই চালানের খবর যেন বাতাসের আগে কেউ না পায়।”

ফারহান ফোনটা পকেটে রেখে রানওয়ের দিকে তাকাল। সে লুসিয়াকে সাথে আনেনি তার এই বীভৎস অন্ধকার পরিচয়টা এখন আড়াল করতে। লুসিয়া যদি জানত ফারহান এখন ও এসব কাজ করে এবং কী ভয়ংকর নীল নকশা সে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, তবে হয়তো আজ সে ফারহানকে এভাবে আঁকড়ে ধরত না। ফারহান চায় লুসিয়া তাকে শুধু একজন সাধারণ প্রেমিক হিসেবেই মনে রাখুক—অপরাধ জগতের কোনো ঘুঁটি হিসেবে নয়।

বিমানের সিঁড়িতে ওঠার সময় ফারহান একবার পেছনে তাকাল। দূর থেকে মেক্সিকোর ধোঁয়াটে আকাশটা দেখা যাচ্ছে। মনে মনে ভাবল, সে বাংলাদেশে যাচ্ছে শুধু নিজের মাটিতে ফিরতে নয়, বরং মেক্সিকোর এই বিষাক্ত সাম্রাজ্যের শিকড় নিজের দেশে গেঁথে দিতে।
ফারহান বিমানে উঠে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজল। কেবিনের নিস্তব্ধতায় হঠাত তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। সে পকেট থেকে ফোনটা বের করল। স্ক্রিন জ্বলে উঠতেই ভেসে উঠল লুসিয়ার সেই ছবিটা, যা সে নিজ হাতে ফোনের ওয়ালপেপার হিসেবে সেট করেছিলো।

হঠাৎ করেই ওর বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। সে জানে, এই যে সে বিদায় নিয়ে এল—এটা শুধু একটা সাময়িক বিদায় নয়। সে আর কোনোদিন এই মেক্সিকোতে ফিরবে না।

পকেট থেকে ফোনটা বের করে সে শেষবারের মতো লুসিয়ার ছবিটা দেখল।এয়ারপোর্টে তাকে না আনার পেছনে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় রহস্য; সে চায়নি তার শেষ বিদায়টা কোনো অপরাধ জগতের লেনদেনের সাক্ষী হয়ে থাকুক।

ফারহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বুজল। সিটে হেলান দিয়ে ভাবল “ক্ষমা করে দিও লুসিয়া। তোমার কাছে আমি আর ফিরব না। মেক্সিকোর এই আকাশ আর তোমার ওই মায়াবী মুখ সবই আজ থেকে আমার জন্য নিষিদ্ধ।”

সে জানে বাংলাদেশে গিয়ে তাকে নতুন করে এক মরণখেলায় নামতে হবে। সেখানে সে কেবল একজন প্রতিনিধি, একজন সোলজার—যাকে মেক্সিকোর ওপর মহলের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। বিমানটি যখন মেঘের ওপর দিয়ে ডানা মেলল, ফারহান বুঝল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি সে নিজেই লিখে এসেছে। সে ফিরছে নিজের মাটিতে, কিন্তু পেছনে ফেলে যাচ্ছে এক প্রাণবন্ত হৃদয়, যাকে সে তিলে তিলে মরতে দিয়ে এল।
.
.
.
.
অন্যদিকে রায়হান তার অন্ধকার সেফ-হাউসের কন্ট্রোল রুমে বসে আছে। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে, আর কলিজার ভেতরটা যেন কেউ নিংড়ে ধরছে। গত এক ঘণ্টা ধরে সে পাগলের মতো জাভিয়ানকে ফোন করে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকায় সিগন্যাল এমনিতেই দুর্বল, তার ওপর জাভিয়ান সম্ভবত ইচ্ছা করেই তার সব কন্টাক্ট ডিভাইস অফ করে রেখেছে।

রায়হান বিড়বিড় করে বলল, “স্যার, আপনি কোথায়? একবার শুধু ফোনটা ধরুন! পৃথিবী উল্টে যাচ্ছে আর আপনি পাহাড়ের চূড়ায় রোমান্স করছেন!”

রায়হানের সামনে রাখা ট্যাবে জেলের রেড অ্যালার্টের সিগন্যালটা লাল হয়ে জ্বলছে। একটু আগেই তার কাছে খবর এসেছে,জেলের সেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। জেলের সব কটা ডিজিটাল লকিং সিস্টেম কেউ হ্যাক করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মাত্র দশ মিনিটের এক দক্ষ অপারেশনে জেল ভেঙে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মেইলস্ট্রোমকে।

সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো গার্ডরা কেউ মারা যায়নি, তারা সবাই জীবন্ত সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে আছে। এর মানে যারা এই কাজ করেছে তারা চরম পেশাদার। রায়হান জানে, এই জেলের ভেতরে এমন কিছু তথ্য আর এমন কিছু মানুষ ছিল যা জাভিয়ানের অস্তিত্বের সাথে জড়িয়ে আছে। এখন সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

রায়হান আবার জাভিয়ানের স্যাটেলাইট ফোনে কল করল। আবারও ব্যর্থ হলো। সে বুঝতে পারছে না জাভিয়ানকে এই মহাবিপদের খবরটা সে কীভাবে দেবে। জেলের ভেতর থেকে রায়হানের এক সোর্স তাকে শেষ মেসেজ পাঠিয়েছে: “The vault is empty. He is out. Repeat, HE IS OUT.”

রায়হান জানে, এই ‘He’ বলতে কাকে বোঝানো হচ্ছে। এই মেইলস্ট্রোম বাইরে আসা মানে জাভিয়ানের জন্য সাক্ষাৎ আজরাইল নেমে আসা। রায়হান নিজের হাতে থাকা অটোমেটিক পিস্তলটা চেক করে নিলো।

চলবে………

(আমি নিয়মিত গল্প দিবো তবে সেটা আপনাদের রেসপন্সের ওপর আপনারা অবশ্যই রিয়েক্ট আর মন্তব্য করবেন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply