২০. (১৮+🔞)
ডার্কসাইডঅফ_লাভ 🖤
দূর্বা_এহসান
তরুকে কোলে আরো চেপে ধরছে মৃন্ময়। তরু ছাড়া পেতে ছটফট শুরু করলো।
রেশমা কাজ করতে করতে এক পলক ড্রয়িংরুমের দিকে তাকিয়েছিল। দৃশ্যটা দেখেই তার গাল দুটো লাল হয়ে উঠল। এক ঝটকায় মাথা নিচু করে সে আবার রান্নায় মন দেওয়ার ভান করল। মনে মনে ভাবল, “ইশ! ভাবী আর ভাইজান কি আমার কথা ভুলে গেছে?”
রেশমার খুব অস্বস্তি হতে লাগল। তার ইচ্ছে করছিল হাতের সব কাজ ওভাবেই ফেলে রেখে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে। কিন্তু পালানোরও তো উপায় নেই, দুপুরের রান্নার তখনো অনেকটা বাকি।
এদিকে মৃন্ময় যেন বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ড্রয়িংরুমের খোলা পরিবেশ কিংবা বাড়িতে অন্য কেউ আছে।এসব কোনো হুঁশই তার নেই। সে আলতো করে তরুকে আরও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরে তার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতে চাইল। তরু সজোরে মুখ সরিয়ে নিল। মৃন্ময়ের বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে ফিসফিসিয়ে বলল,
—”পাগলামি ছাড়ুন, আমরা ড্রয়িংরুমে বসে আছি!”
মৃন্ময় ভ্রু কুঁচকে অদ্ভুত নির্লিপ্ততায় উত্তর দিল,
— “তো?”
—”তো মানে কী? রেশমা আছে তো, দেখছেন না?”
তরুর গলায় রাগের চেয়ে লজ্জাই বেশি ছিল।মৃন্ময় এবার কিচেনের দিকে একবার তাকাল। দেখল রেশমা মাথা নিচু করে খুব মনোযোগ দিয়ে আনাজ কাটছে, যদিও তার জড়সড় ভঙ্গি বলে দিচ্ছে সে পুরো বিষয়টি বুঝতে পারছে। মৃন্ময়ের দুষ্টুমি এবার যেন আরও বেড়ে গেল। সে একটু জোর গলায় ডাকল,
—”রেশমা!”
ডাক শুনে রেশমা যেন আকাশ থেকে পড়ল। তড়িঘড়ি করে হাতের কাজ ফেলে শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে ঝড়ের বেগে ড্রয়িংরুমে চলে এল। লজ্জায় সে তরু বা মৃন্ময়ের দিকে সোজাসুজি তাকাতে পারছিল না। মাটির দিকে তাকিয়েই হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করল,
— “হ, ভাইজান? কিছু লাগবো?”
মৃন্ময় খুব স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিল,
— “না।”
রেশমা অবাক হয়ে একবার মাথা তুলে তাকাল। দেখল তরু তখনো মৃন্ময়ের কোলে বসে কুঁকড়ে আছে। তরুর মুখটা লজ্জায় টকটকে লাল হয়ে গেছে। মৃন্ময় নির্বিকার মুখে রেশমার দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসছে। তরু এবার দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
—”মেয়েটার সামনে আমায় এভাবে অপদস্থ করার মানে কী?”
মৃন্ময় তরুর কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে ধীর স্বরে বলল,
—”নিজের বউকে কোলে নিয়েছি, এতে অপদস্থ হওয়ার কী আছে? রেশমা তো বাড়িরই মানুষ।”
তরু রাগ করতে গিয়েও পারল না। মৃন্ময়ের এই বেহায়াপনার আড়ালে যে গভীর অধিকারবোধ লুকিয়ে আছে, তা সে জানে। তবুও রেশমার সেই আড়চোখে তাকানো আর লজ্জা মেশানো হাসির কথা ভেবে তরুর অস্বস্তি কাটছিল না।
—”ভাইজান,আমি যাই?”
—”দাড়া একটু”
মৃন্ময় এমন এক করে বসলো তা দেখে তরু তো বটেই, রেশমাও রীতিমতো হকচকিয়ে গেল। মৃন্ময় যে এই পরিস্থিতিতে এমন কিছু করবে, সেটা তরুর কল্পনার বাইরে ছিল। সে তরুর আপত্তিকে পাত্তাই দিল না, বরং রেশমার সামনেই তরুর ঠোঁটে কয়েক সেকেন্ড লাগিয়ে গভীর এক চু মু দিল।
রেশমা এই দৃশ্য দেখে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে গেল। সে ঝটপট দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে অন্যদিকে তাকাল। তার মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, সে এখনই মাটির সাথে মিশে যেতে চাইছে। শাড়ির আঁচলটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে সে তোতলাতে শুরু করল।
তরুর অবস্থা তখন শোচনীয়। সে মৃন্ময়ের বাহুবন্ধন থেকে ছুটে বেরোনোর জন্য ছটফট করতে লাগলো।
কিন্তু মৃন্ময় যেন আজ সব শাসনের ঊর্ধ্বে। সে রেশমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল,/
— “যা, তুই তোর কাজ কর।”
রেশমা এক মুহূর্ত দেরি না করে প্রায় দৌড়ে কিচেনের দিকে চলে গেল। সে চলে যেতেই তরু মৃন্ময়ের বুকে একটা হালকা কিল মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দূরে গিয়ে দাঁড়াল। তার ফর্সা মুখটা লজ্জায় আপেলের মতো লাল হয়ে উঠেছে। সে রাগী গলায় বলল,
—”আপনার কি আক্কেল-জ্ঞান বলতে কিছু নেই? মেয়েটার সামনে আমায় এভাবে হাসির পাত্র বানানোর কী দরকার ছিল?”
মৃন্ময় সোফায় হেলান দিয়ে আরাম করে বসে পকেট থেকে ফোন বের করতে করতে বলল,
—”হাসির পাত্র কেন হবে? ও দেখল ওর ভাইজান ওর আপাকে কতটা ভালোবাসে। ভালোবাসা কি লোকানোর জিনিস, তরু?”
তরু কোনো উত্তর দিল না। সে জানে মৃন্ময়ের সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব। সে গটগট করে শোবার ঘরের দিকে হাঁটা দিল, আর পেছন থেকে মৃন্ময়ের গুনগুন করে গান গাওয়ার আওয়াজ কানে এল।
দুপুর নাগাদ রুম থেকে বেরোলো তরু।মৃন্ময় নেই।কাজে চলে গেছে।বেরোতেই রেশমার মুখোমুখি হলো। দুজনই একে অপরকে দেখে হাসার চেষ্টা করলো।কি বিচ্ছিরি একটা পরিস্থিতে ফেলে চলে গেছে মৃন্ময়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তরু বললো,
—”ননোদিনী কই রে?”
—”রজনী ম্যাডাম?”
—”হ্যাঁ”
—”সকালে কই জানি গেছে। আহে নাই অহনো”
—”আচ্ছা”
মৃন্ময় ছাড়া তরু এখন সময় কিভাবে কাটাবে বুঝতে পারছিল না।তাই সে হাটা ধরলো। বাড়িটা ঘুরে দেখবে।এমন নয় যে আগে দেখেনি। এবারিতেই তো ছিল।সব কিছুই চেনা।
তরু ধীরপায়ে করিডোর ধরে হাঁটতে লাগল। বড়লোকের এই বিশাল বাড়িতে নীরবতা যেন পাথরের মতো জমে আছে। প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি আসবাবপত্র তার চেনা, তবুও আজ সবকিছু একটু অন্যরকম মনে হচ্ছে।
সে ছাদে যাওয়ার সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল।ছাদে আসতেই ফুরফুরে বাতাস তরুর চুলে বিলি কেটে দিল। দুপুরের কড়া রোদ থাকলেও বাতাসের হিমেল পরশটা বেশ আরামদায়ক। ছাদের এক কোণে রজনীর লাগানো কিছু ক্যাকটাস আর গোলাপের টব। তরু আলতো করে একটা আধফোটা গোলাপ ছুঁয়ে দেখল।
হঠাৎ তার ফোনের টুংটাং শব্দে ধ্যান ভাঙল। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল মৃন্ময়ের মেসেজ,
—” একা একা বোর হচ্ছো কি? আসব নাকি কাজ ফেলে?”
তরুর ঠোঁটে আপনিই একটা হাসি ফুটে উঠল। লোকটা অফিসে গিয়েও শান্তিতে নেই। সে দ্রুত টাইপ করল,
—”একদম না! আপনি আপনার কাজ করুন।”
মেসেজটা পাঠিয়ে সে রেলিং ধরে দাঁড়াল। দূরে শহরের ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু এই ছাদের ওপরটা যেন এক টুকরো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। মৃন্ময় পাশে থাকলে হয়তো এখন তার কাঁধে হাত রাখত, অথবা কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে কোনো অর্থহীন খুনসুটি করত। মৃন্ময় মানুষটাই এমন,ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে সে বড্ড বেপরোয়া, স্থান-কাল-পাত্রের ধার ধারে না।
মিটিংয়ে বিরক্তির সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেলো মৃন্ময়। তরুকে কাছে পাওয়ার পর থেকে আর কাজে মন নেই। তারউপর আবার আজকে কিছু করে আসতে পারেনি। দেহ মন দুটোই ছটফট করছে।সাথে ছোট মিয়ার ছটফটানি ফ্রি।
চোখ বন্ধ করলো মৃন্ময়।তরুর সাথে কাটানো বিশেষমুহূর্ত গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে।থাকা যাবে না এভাবে। তাড়াতাড়ি মিটিং শেষ করে কেবিনে ফিরে এলো।
একটুও সময় অপচয় না করে ভিডিও কল দিলো। তরু হঠাৎ মৃন্ময়ের ভিডিও কল দেখে চমকে উঠলো।তড়িঘড়ি করে সে রিসিভ করলো।সাথে সাথেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো নেশা ভরা কন্ঠ।
—”তরু”
—”হু”
—” ছাদে কি করো?”
—”এমনি এসেছি”
মৃন্ময় তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো।এমনি এমনি গেছে নাকি পালাতে গেছে।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলো আপাতত।এখন অন্য বিষয় তার শরীর নারা দিচ্ছে।
—”কর্ণারে দোলনার দিকে যাও”
—”কেনো?”
—”যেতে বলেছি”
তরু গেলো।এই দিকটায় রোদ নেই।বসে পড়ল দোলনায়।
—” জামা উঠাও উপরের দিকে”
চোখ বড় বড় করে তাকালো তরু। মৃন্ময় গভীর চোখে তাকিয়ে আছে।
—”কিহ!’
—”জামা উঠাও। ফাস্ট,একটুও টাইম ওয়েস্ট করবে না”
তরু চটজলদি চোখ বন্ধ করে জামা উঠালো বাম দিকের।কালো কুচকুচে ইনার টা দৃশ্যমান হলো। মৃন্ময় ততক্ষণে গলা থেকে টাই খুলে ফেলেছে। শার্টের উপরের দুটো বাটন ও।
—”তাকাও আমার দিকে”
তাঁকালো তরু।ভিডিও কলের ওপাশে ঘামার্ত মৃন্ময় বসে। চোখমুখে উপচে পড়ছে তরুকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
—” ইনার সরাও পাখি”
কি সুন্দর আদুরে ডাক।এসব মুহূর্তে এরকম আদুরে ডাক যায়! তরু সরালো।বাম দিকের স্পর্শ কাতর জায়গাটা দৃশ্যমান হলো। সাদা ধপধপে গোলাকার এক মোহনীয় স্থানে চকলেট কালার দেখতে ছোট্ট একটু জায়গা। তা দেখে যেনো চোখ জুড়ালো মৃন্ময়ের। ছটফট করতে থাকা কমৃন্ময় য়েক মিনিটের মধ্যে শান্ত হয়ে গেলো।ততক্ষন তরুকে সেভাবেই বসে থাকতে হলো।
—” বাসা ফিরছি জান। ডান দিকের টা টেস্ট করতে। রেডি হয়ে থেকো”
কল কেটে গেলো।সাথে জোরে নিশ্বাস ছাড়লো তরু।মাত্রই তার সাথে কি হলো এটা?কোনো মানুষ এতটা পাগল হতে পারে? তরু মনে মনে বলল,
—” হ্যাঁ হতে পারে। তোরা এত প্রিটি যে দেখতে”
আশ্চর্য হলো তরু।ভীষণ রকমের। এ দেখি মৃন্ময়ের রোগ তাকে ধরেছে। বুকে হাত দিল।শেষমেশ কিনা এদের সাথে কথা বলছে। মৃন্ময়ের লাস্ট কথাটা মনে পড়তেই উঠে দাড়ালো।বাসা এসে না জানি কি হাল করবে।
ছাদের রেলিং ঘেঁষে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই তরুর নজর গেল নিচের মেইন গেটের দিকে। গেটের ভারী লোহার পাল্লার সামনে দাঁড়িয়ে ইখতিয়ার খান। তার শরীরি ভাষা আজ কেমন যেন অন্যরকম। সাধারণত তিনি বেশ গম্ভীর আর রাশভারী মানুষ, কিন্তু এখন তাকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি বেশ অস্থির।
তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটাকে তরু চিনতে পারল না। লোকটার পরনে একটা ঢিলেঢালা কালো জ্যাকেট, মাথায় মাফলার প্যাঁচানো।এই ভরদুপুরেও যেন সে নিজেকে আড়াল করতে চাইছে। লোকটা এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে বারবার, যেন ভয় পাচ্ছে কেউ তাদের দেখে ফেলছে না তো!তরু একটু ঝুঁকে দেখার চেষ্টা করল। দেখল,ইখতিয়ার খান বারবার পকেট থেকে রুমাল বের করে কপাল মুছছেন।
তাদের কথাবার্তা ছাদ থেকে কিছুই শোনা যাচ্ছে না। তবে লোকটার ভঙ্গি আর চাচার এই লুকোছাপা ভাব দেখে তরুর মনে খটকা লাগল।হঠাৎ লোকটা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই চাচা তাকে থামালেন। চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে লোকটার হাতে কিছু গুঁজে দিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে চাচা হুট করে মাথা তুলে ওপরের দিকে তাকালেন। তরু দ্রুত সরে এল রেলিংয়ের আড়াল থেকে। তার শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে উঠেছে।খানিকক্ষণ পর নিচ থেকে রেশমার চিৎকার শোনা গেল,
— “ভাবীই! দুপুরের খাবার দিছি, নিচে আহেন।”
তরু স্বাস ফেলে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল।
চলবে…..
(নেক্সট পার্ট এ কি হতে চলেছে বুঝেছেন নিশ্চই।দ্রুত ৩k রিয়েক্ট করে ফেলুন🌚)
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৪
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৯
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১২
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৬
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৭
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৪
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৫
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১০
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৬