১৯. (১৮+🔞)
ডার্কসাইডঅফ_লাভ
দূর্বা_এহসান
—এই ছি, ঢাকুন,ঢাকুন। বেলাজ বেডা মানুষ।
আজ একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটলো। সদ্য ঘুম ভাঙা মৃন্ময় অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো তরুর পানে। চোখ বন্ধ করে তরু দাঁড়িয়ে আছে সামনে। পরনে নীল রঙের শাড়ি।ভেজা চুলগুলো সব সামনে এনে রেখেছে।টুপটাপ করে পানি পড়ছে।
—কি হলো, বেয়াদবটাকে অমনে রাখবেন!
চোখ বন্ধ রেখেই বললো তরু। মৃন্ময়এর অবাকতা যাচ্ছেই না। কিন্তু তরুর বারবার এক কথা বলায় বিরক্ত হয়ে গেলো সে।চোখ ফেরালো তরুর থেকে।অদ্ভুত ভাবে তার বুকের বা পাশে শব্দ হচ্ছে। মৃন্ময় ঘনঘন দুটো স্বাস নিলো। নারীকে শাড়িতে বুঝি এতটা মোহনীয় লাগে!কিন্তু এই নারীকে তো তার নতুন দেখা নয়, নাতো এই নারীর শরীরের কোনো একটা অংশ বাদ আছে তার দেখার।তাহলে!নতুন নতুন অনুভূতি হচ্ছে কেন?
—শুনতে পাচ্ছেন না আমার কথা?
মৃন্ময় বুঝতে পারছে না তরু কি বলছে। কি ঢাকতে বলছে। সে প্রশ্ন করলো,
— কি?
—এখনো কি কি করছেন?আপনার ওই রাক্ষসটাকে যে খোলা মাঠে উদাম করে রেখেছেন দেখতে পারছেন না? হাওয়া খাওয়াচ্ছেন নাকি? ক্ষিদে মিটে নি ওর? বে য়া দব একটা…. ওর গ লা কে টে একদম ক্ষিদে মিটিয়ে দিবো।যত্তসব
গড়গড় করে বলল তরু।মৃন্ময় হা হয়ে গেলো।তরুকে এনেছে থেকে তার সাথে ঠিক করে কটা কথা বলেছে কিনা সন্দেহ।আর আজকে? এতো অবাকের উপর অবাক হচ্ছে মৃন্ময়।
তাকে আরো অবাক করে দিতে তরু যেনো এগিয়ে এলো। ব্ল্যাঙ্কেট টা জড়িয়ে দিলো কোমরে।সামনে দাড়িয়ে ফুলে প্রশ্ন করলো,
—কি হয়েছে ?এভাবে হা করে তাকিয়ে আছেন কেনো?কোনোদিন দেখেন নি আমাকে?
মৃন্ময় কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তরু তখনো রাগে ফুঁসছে, আবার একই সাথে তার চোখেমুখে একটা আলগা লজ্জার আভা।
তরু এক ঝটকায় গিয়ে জানালার পর্দাটা টেনে দিয়ে বলল,
—এমনে হাঁ করে থাকার কী আছে? যান, ফ্রেশ হয়ে আসেন। আপনার জন্য উদ্ভট সেই চা, হুস ওটাকে চা কে বলে! উদ্ভট সেই সবুজ পানি করে রেখেছি।
মৃন্ময় খাটের এক কোণে বসে হাত বাড়িয়ে তরুর ভেজা চুলের একটা গোছা ছুঁতে চাইল। কিন্তু তরু চট করে সরে দাঁড়াল। তার চোখে এক চিলতে হাসি খেলা করে গেল যা সে লুকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। মৃন্ময় এবার ধীর গলায় বলল,
—আজকে তোমাকে একটু অন্যরকম লাগছে তরু। নীল শাড়িতে ঠিক যেন…
কথা শেষ করার আগেই তরু দরজার দিকে পা বাড়িয়ে শাসন করার সুরে বলল,
—বেশি কাব্যিক হতে হবে না। আগে বেয়াদবটাকে সামলান, তারপর অন্য কথা।
তরু ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই মৃন্ময় বিছানায় গা এলিয়ে দিল। ঘরের ভেতর এখনো তরুর ভেজা চুলের হালকা সুবাস লেগে আছে। বুকের বাম পাশে সেই অদ্ভুত ধুকপুকানিটা তখনো থামেনি। হয়তো এটা দিবা স্বপ্ন ছিল।এত তাড়াহুড়ো করে সবটা হয়ে গেলো।মৃন্ময় কিছুই বুঝতে পারলো না।তরুর এত পরিবর্তন বেশ চোখে লাগছে।পজিটিভ কিছু ভাবার আগেই মৃন্ময় এর মস্তিষ্ক তাকে জানান দিলো তরু হয়তো আবার ছেড়ে যাবে।
ঝট করে উঠে বসলো মৃন্ময়।বিছানার চাদর শক্ত হাতে চেপে ধরলো।না! তরু তাকে ছেড়ে যেতে পারে না।এতটা বছর যে আগুনে সে পুড়েছে আর পুড়তে চায় না।
মৃন্ময় উঠে দাড়ালো।সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো।মাথা গরম হয়ে গেছে তার।আচ্ছা সে কি পজেটিভ কিছু ভাবতে পারে না? এমনও তো হতে পারে তরু সেই আগের তরু হয়ে যাচ্ছে।চঞ্চল, দুষ্ট,মিষ্টি একটা মেয়ে।যাকে ভালোবেসে পাগলপ্রায় খান বংশের একমাত্র ছেলে মৃন্ময় আবরার খান।
ওয়াশরুমে এসে কোমর থেকে তোয়ালে সরাতেই মৃন্ময়ের মুখে একটা বাকা হাসি ফুটে উঠল।ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁতে দিতে দিতে তার প্রাণ প্রিয় বন্ধুকে বলল,
— শুনলি তোকে কি বললো?
—শুনলাম।রাক্ষস বললো আমাকে। আর তুই চেয়ে চেয়ে দেখলি?কিছু বললি না?আমি তো ক্ষেপে ফুলে উঠেছিলাম,আমাকেও কিছু করতে দিলি না।
—আরেহ,রাগ করিস কেন? বেচারির উপর কম টর্চার তো করছি না।একটু শান্তি দেওয়া উচিত।
—চুপ শালা,শান্তির মাইরি বাপ।
—আহা,ছোট মিয়া।কন্ট্রোল কর রাগ..
—বা ল করমু।এইযে দেখ গুটিয়ে গেলাম। থাবরা মারলেও আর সোজা হইতাম না।
মৃন্ময় কি আর পাত্তা দিল ছোট মিয়ার হুমকিতে। সে নিজের মতো ব্রাশ করে গেলো। মিনিট খানেক পর গিয়ে দাঁড়ালো শাওয়ারের নিচে।বাকা একটা হাসি দিয়ে হ্যান্ড শাওয়ার টা হাতে তুলে নিলো।
—কি যেনো বলছিলি!সোজা হবি না?
চোখ বন্ধ করলো মৃন্ময়।এক হাতে ছোট মিয়ার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,আর কল্পনায়?ইমাজিন করতে লাগলো রাতের শাড়ীহীনা তার নারীকে। ব্যাস,তেঁতে উঠলো ছোট মিয়া। শুরু হলো তার ছটফটানি।মৃন্ময় হ্যান্ড শাওয়ার অন্ করলো।পানির বন্যা ছেড়ে দিলো ছোট মিয়ার উপর।
হাসি মুখে রান্না ঘরে ঢুকলো তরু।রেশমা মেয়েটা তাকে এভাবে দেখে অবাক হলো।এসেছে থেকে হাসতে দেখেনি ।
— হাসতাছেন ক্যান ভাবী? ভাইয়ে কি ফের বাগানের মত….
পুরো কথা শেষ করার আগেই ধমক পড়লো।তরু চোখ কটমট করে তাকালো।চুপ হয়ে গেলো রেশমা।ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করলো।
—তোর ভাইকে জীবনে প্রথমবার ধমকেছি আজ। কি যে শান্তি লাগছে।
রেশমা অবাক হলো।
—বলেন কি ভাবী?ভাইয়ে আপনারে কিছু কইলো না?
—কি কইবো তোর ভাইয়ে? বউ লাগি আমি ওর।
চুল ঝাকাতে ঝাকাতে নিচে নেমে এসেছিল মৃন্ময়।তরুর কথাটা তার কানে গেলো। সে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ল । বউ বলে মানছে তাহলে।
তরু কফি মগে ঢাললো সবুজ দেখতে চায়ের মত চা। নাক মুখ কুচকে ফেলেছে এটা দেখে।এটা খেয়ে কি হয়? জানা নেই তার।অদ্ভুত একটা স্মেল আছে এর থেকে।অথচ মৃন্ময় প্রতিদিন সকালে গরম অবস্থাতেই ঢকঢক করে গিলে ফেলে। বিড়বিড় করলো সে।
—যার মুখ থেকে বেশিরভাগ সময় করলার জুসের মত তেতো সবুজ কথা বের হয়,তার থেকে আর কিবা আশা করা যায়।এগুলোই তো প্রিয় খাবার হবে তাইনা?
ট্রেতে মগটা উঠিয়ে পিছু ফিরল ঘরে যাওযার উদ্দেশ্যে।সাথে সাথেই মৃন্ময়ের মুখোমুখি হলো। ভড়কে গেলো তরু। হাত থেকে পরতে গিয়েও পরলো না,সামলে নিলো।এভাবে ভূতের মতো কে দাঁড়িয়ে থাকে পিছে?
মৃন্ময়কে দেখে রেশমা পুরো মনোযোগ দিলো কাজে।চোখ তুলে তাকানোর সাহস হলো না।
—এখানে দাঁড়িয়েছেন কেনো?
—তোমাকে দেখতে।
সোজাসাপ্টা বললো।মৃন্ময় ভয় পাচ্ছে একটু একটু।তরুকে এতটা স্বাভাবিক ওর সহ্য হচ্ছে না।মেয়েটা নিশ্চই মনে মনে পালানোর প্ল্যান করছে।
তরু ওকে এড়িয়ে টেবিলের দিকে গেলো। হাত থেকে ট্রে নামিয়ে রেখে আবার ফিরে এলো। মৃন্ময় এর একটা হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে বসালো।সামনে মগটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
—খান।
মৃন্ময় কোনরূপ প্রশ্ন না করে চুমুক বসালো মগে।তার নারী কতগুলো বছর পর কিছু বানিয়েছে তার জন্য। প্রথম চুমুকটা গলা দিয়ে নেমে যেতেই শান্তি অনুভব হলো।তরুর ছোঁয়া।তরুর হাতে বানানো।
অর্ধেক যখন খাওয়া শেষ তখন তরু মৃন্ময়ের সামনে বসে ওকে প্রশ্ন করলো,
— এটা খেয়ে কি লাভ হয় আপনার?অদ্ভুত একটা জিনিস..
মৃন্ময় তরুর চেয়ার টেনে সামনে নিয়ে এলো। মগটা ওর ঠোঁটের দিকে বাড়িয়ে দিলো।
—খাও আগে বলছি।
মুখে ধরলো মৃন্ময়।তরু পিছিয়ে যেতে চাইলো।
—সরুন,এটা এতো গরম কেন?
—মুখে নেও..
—অনেক গরম এটা, দূরে নিয়ে যান আমার মুখের সামনে থেকে…
—মনে হয় প্রথমবার খাচ্ছো? ভং না ধরে তাড়াতাড়ি মুখে নেও..”
মৃন্ময় তরুর হাত চেপে ধরে জোর করে দিলো। বেচারি ইয়াক করে উঠলো। বমি করে দিবে দিবে ভাব..
—এর টেস্ট! জঘন্য…..
তরু ওয়াক ওয়াক করতে লাগলো।মৃন্ময় মগটা টেবিলে রেখে বলল,
—এখন যতখুশি ইয়াক,ওয়াক, থু সব করে নেও।রাতে! উম,তখন করে তাল পাবে না।
তরু চোখ বড় বড় করে তাকালো।নাদান নয় সে।ভালো করেই বুঝলো মৃন্ময় কি বললো।ছিটকে দূরে চলে গেলো।
—একদম এসব চিন্তা মাথায় আনবেন না।
—সে তো রাতে দেখা যাবে সুইটহার্ট।প্রশ্ন করছিলে না এটা কেনো খাই?
মৃন্ময় তরুকে টেনে কোলে নিয়ে এলো।কোমর জড়িয়ে গলার কাছে মুখ নিয়ে বললো,
—নিচে অনুভব করতে পারছো? তোমাকে বিছানা থেকে উঠতে না দেওয়ার মতো ক্ষমতা ওর মধ্যে আছে।সেজন্য তো আমাকে সুস্থ থাকতে হবে বে’ব। উম,নিজে থেকেই সব শক্তি লস করি,তুমি একটু সাথ দিলে খেতে হতো না। মানব শরীর তো, ফ্যান্টাসির পর ঠিকই জবাব দেয়,”আমি মানুষ”।
চলবে,,,,,
(নেক্সট পার্টে কালা পার্ট আসবে🌚 ঝটপট ৩k রিয়েক্ট করে ফেলুন,তাহলে কিন্তু তাড়াতাড়ি দিবো)
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার গল্পের লিংক
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৯
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৪
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৬
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১
-
প্রিয়া আমার গল্পের লিংক
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৬
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৫