পর্ব — ১৮. 🔞18+ এলার্ট❌🔞
ডার্কসাইডঅফ_লাভ (এই পর্বটির শেষে এমন কিছু আছে যা সব বয়সী পাঠকদের জন্য নয়।নিজ দায়িত্বে পড়ুন🔞)
দূর্বা_এহসান
মাঝে কেটেছে দুটো দিন।এই দুই দিনে মৃন্ময় অদ্ভুত ভাবে শান্ত ছিলো। তরুর প্রতি ছিল ঠান্ডা । তরু খুঁজে পাচ্ছিল না তার দোষ কোথায় । আজকে সকাল সকাল বেরিয়েছে মৃন্ময় । তরু সেই ফাঁকে রান্না ঘরে এসেছে। খেয়ে যায়নি মৃন্ময় ।
কাজের মেয়েটার সাথে রান্নাঘরে তরু। মেয়েটার নাম রূপালী। সোজা সাপ্টা কথা বলে। বাড়ির আনাচে কানাচের সব খোঁজ ওর কাছে। তরুর মাথা খারাপ করে ফেলেছে কথা বলতে বলতে।
রান্নাঘরের জানলা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে রূপালীর মুখে। রূপালী তখন নিপুণ হাতে বটি দিয়ে আলু কাটছে, আর তার ধারালো বটির চেয়েও ধারালো কথাগুলো তীরের মতো এসে বিঁধছে তরুর কানে। তরু স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চুলার পাশে। হাতে একটা ফ্রাইং প্যান, যেটা সে মৃন্ময়ের জন্য স্পেশাল কিছু একটা নাস্তা বানানোর উদ্দেশ্যে বের করেছিল। কিন্তু রূপালীর কথাগুলো তার হাতের আঙুলগুলোকে যেন পাথরের মতো ভারী করে দিয়েছে। নড়াচড়া করার শক্তিটুকুও সে হারিয়ে ফেলেছে।
রূপালী থামার পাত্রী নয়। সে অবলীলায় বলে চলেছে,
—জানেন ভাবী, আপনি যহন আছিলেন না তহন ভাইজান কত্ত কষ্টে ছিল। আফনেরে খুঁজতে খুঁজতে পাগল হইয়া যাবার জোগাড় হইসিলো। খাইতে বসলে থালা ধইরা বইসা থাকতো, এক লোকমা মুখে দিতো না।
তরু তাকাল। রূপালীর কথায় যতটা সরলতা আছে, তার চেয়েও বেশি আছে এক অদ্ভুত অস্বস্তি। তরু আর মৃন্ময়ের মাঝখানের দূরত্বটা কি এতোটাই প্রকাশ্য ছিল যে বাড়ির কাজের মেয়েটাও সেটা টের পেয়ে গিয়েছিল? রূপালী এই বাড়ির আনাচে-কানাচে বিচরণ করে, সে দেয়ালের দীর্ঘশ্বাসও শুনতে পায়। সে জানে মৃন্ময় সাহেব কখন একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সারারাত সিগারেট ফুঁকেছেন, আর কখন মাঝরাতে তরুর ফেলে যাওয়া শাড়িটা আলমারি থেকে বের করে ডুকরে কেঁদেছেন।
তরু নিজেকে সামলে নিয়ে খুব ধীর গলায় বলল,
—রূপালী, তুই তো অনেক কথা জানিস। এই যে ভাইজান এতো কষ্ট পেল, তুই তখন তাকে কিছু বলতি না? সান্ত্বনা দিতিনা?
রূপালী একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। হাত থেকে আলুটা নামিয়ে রেখে সে তরুর চোখের দিকে সরাসরি তাকালো।
—আমি কী কমু ভাবী? আমি তো সামান্য মানুষ। তয় দেখতাম, আপনের ছবিটার দিকে ভাইজান কেমনে চাতক পাখির মতো চাইয়া থাকতো। একদিন তো দেখলাম আপনের ওই নীল রঙের ওড়নাটা নিয়া ভাইজান বিছানায় পইড়া আছে। আমার দেইখা কলিজাটা ফাইট্যা গেছিল। মানুষটা আপনারে ছাড়া জিন্দা লাশের মতো আছিল।
তরুর মনে হলো তার পায়ের তলার মাটিটা একটু সরে যাচ্ছে। সে তো জানত মৃন্ময় খুব শক্ত মনের মানুষ, আড়ালে গিয়ে যে সে এমনভাবে ভেঙে পড়বে সেটা তরুর কল্পনার বাইরে ছিল। তাদের মান-অভিমান, আলাদা থাকা এসব কি তবে মৃন্ময়কে এতোটা চুরমার করে দিয়েছিল? তরু রান্নাঘরে এসেছিল ভালোবাসার একটা বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে, মৃন্ময়ের পছন্দের প্যানকেক বা অন্য কিছু বানাতে। কিন্তু রূপালীর দেওয়া এই তথ্যের ভার সে বইতে পারছে না।
রান্নাঘরের গরম ভাপ আর রূপালীর কথার ঝাপটা মিলেমিশে তরুর মাথাটা ভোঁ ভোঁ করছে। রূপালী আবার বলতে শুরু করল,
—অহন যে আপনে আইছেন, ভাইজান অহনও শান্তি পায় নাই ভাবী। আমি তো দেখি, মাঝরাইতে ভাইজান উইঠ্যা ছাদে যায়। আবার ফিরে আইসা দেখে আপনে আসলেই আছেন কি না। ভাইজানের মনে অহনও ডর, যদি আপনে আবার চইলা যান।
কথাটা তীরের মতো তরুর বুকে বিঁধল। সে মৃন্ময়ের জন্য নাস্তা বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন তার নিজেরই বুকটা শুকিয়ে আসছে। এক গ্লাস পানি খেয়ে সে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। রূপালী আলু কাটা শেষ করে এখন পেঁয়াজ কাটতে শুরু করেছে। তরুর ভেতরটা তখন তছনছ হয়ে যাচ্ছে।
সে ভাবছে, সে যে জেদ করে এতদিন দূরে ছিল, তার মূল্য কি মৃন্ময়কে এভাবেই দিতে হয়েছে? এই মানুষটা কি তবে তার অপেক্ষায় প্রতিটা মুহূর্ত বিষাদের সাথে লড়াই করেছে? রূপালী কাজের ফাঁকে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,
—ভাবী, ভাইজানরে আর কষ্ট দিয়েন না। বড় ভালো মানুষ। আপনেরে ছাড়া হের জগত অন্ধকার।
রান্নাঘরের পরিবেশটা বিষণ্ণতায় ভরে উঠল। রূপালী পেঁয়াজ কাটতে কাটতে চোখ মুছল, হয়তো পেঁয়াজের ঝাঁঝে, অথবা পুরনো কোনো স্মৃতির আঁচ লেগে। তরু পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে।রূপালী এবার বটিটা একপাশে সরিয়ে রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
—আপনে তো হেই যে রাগ কইরা চইলা গেলেন, একবারও পিছে ফিরা চাইলেন না। হেইদিন রাইতে ভাইজানের অবস্থা যে কী হইছিল, আমি ছাড়া আর কেউ দেখে নাই।
তরু ম্লান হেসে বলল,
—রাগ তো মানুষের হয়ই রূপালী। আমি ভেবেছিলাম কিছুদিন দূরে থাকলে হয়তো মেজাজটা শান্ত হবে। তাছাড়া ওনার বাবা-মাও তো আমার ওপর ভীষণ চটে ছিলেন। ওনাদের ওই কড়া কথাগুলো সহ্য করতে পারিনি বলেই তো বেরিয়ে গিয়েছিলাম। ভাবলাম কয়দিন পরে গিয়ে মাফ চেয়ে নেব।
রূপালীর হাতের কাজ থেমে গেল। সে স্তব্ধ হয়ে তরুর দিকে তাকাল। তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আতঙ্ক আর বিস্ময় খেলে গেল। সে ফিসফিস করে বলল,
—আপনে… আপনে এখনো জানেন না ভাবী? ওনারা তো মাফ করার জন্য আর নাই।
তরুর হাত থেকে ফ্রাইং প্যানটা ঝনঝন করে নিচে পড়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
—কী… কী বলছিস এসব? নাই মানে কী? ওনারা কি রাগ করে গ্রামে চলে গেছেন?
রূপালী আঁচল দিয়ে মুখ চেপে বলল,
—ওনারা তো দুনিয়া ছাড়্যা গেছেন ভাবী! হেইদিন আপনি গেট দিয়া বাইর হইলেন, আর তার এক ঘণ্টা পরেই খবর আইল। ভাইজানের আব্বা-আম্মা বাসায় আসতেসিল মাঝপথে বড় ট্রাকের সাথে অ্যাক্সিডেন্ট হয়…
তরুর পায়ের তলার মাটি যেন সত্যি সত্যি সরে গেল। দেয়ালটা না ধরলে সে হয়তো এখনই মেঝেতে আছড়ে পড়ত। তার চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে আসছে। কানে বাজছে সেই শেষ মুহূর্তের ঝগড়ার শব্দগুলো। সে ভাবতেও পারেনি, ওটাই ছিল শেষ দেখা।
—ভাইজান তো পাগল হইয়া গেছিল। একদিকে মা-বাবার লাশ, আরেকদিকে আপনের কোনো খোঁজ নাই। কত মানুষরে দিয়া ফোন করাইলো, কত জায়গায় খুঁজলো। আপনে তো জেদ কইরা ফোন বন্ধ রাখছিলেন। ভাইজান আজো আফনেরে মাফ করতে পারে নাই।
তরুর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। সে এতদিন রাগে মুখ ফিরিয়ে ছিল, আর ওদিকে মৃন্ময় একইসাথে বাবা-মা হারানোর শোক আর তরুকে হারানোর দহন একাই বয়ে বেরিয়েছে। সে জানত না, তার চলে যাওয়াটা একটা সাজানো সংসারকে এভাবে শ্মশান করে দেবে।
সেই দিনটা যেন এখন তরুর কাছে এক বীভৎস অগ্নিকাণ্ডের মতো মনে হচ্ছে। রূপালীর প্রতিটা কথা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সে শুধু মৃন্ময়কে নয়, তার পরিবারকেও ধ্বংস করে দিয়ে এসেছে নিজের অবুঝ জেদে।
রান্নাঘরের জানলা দিয়ে আসা বাতাসটা এখন আর স্নিগ্ধ লাগছে না, বরং একটা ঠান্ডা হাহাকার হয়ে তরুর শরীরের প্রতিটি লোমকূপ দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। মৃন্ময়ের সেই মাঝরাতে ছাদে যাওয়া, বারবার এসে তরুকে দেখে যাওয়া এসবই কি তবে হারানোর ভয় থেকে? তরু নিজেকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল। সে যে অপরাধ করেছে, তার ক্ষমা কি কোনোদিন মৃন্ময় তাকে করবে? অথবা সে কি পারবে নিজেকে ক্ষমা করতে?
পাব-এর আবছা নীল আর লাল আলোটা মৃন্ময়ের চোখে বিঁধছে। চারপাশের উচ্চৈঃস্বরে বাজতে থাকা মিউজিক, গ্লাসের টুংটাং শব্দ আর মানুষের অট্টহাসি,সবকিছুই তার কাছে এখন অসহ্য মনে হচ্ছে। টেবিলের ওপর সার দিয়ে সাজানো মদের বোতল। একের পর এক গ্লাস খালি করে চলেছে সে। নেশা তার মাথায় চড়ছে ঠিকই, কিন্তু বুকের ভেতর যে দহন, সেটা নেভাতে পারছে না। অ্যালকোহলের তীব্র ঝাঁঝালো স্বাদ গলার নলি পুড়িয়ে দিচ্ছে, তবু সে থামছে না। মৃন্ময় আজ নিজেকে ধ্বং স করে দিতে চায়।
বাবা-মায়ের মৃত্যুটাকে এতদিন সে একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা বলেই জেনে এসেছে। কিন্তু আজ হাতে আসা সেই ফরেনসিক রিপোর্টের একটা ছেঁড়া পাতা অন্য কথা বলছে।মৃন্ময়ের হাত কাঁপছে। সে আবার গ্লাসে মদ ঢালল। তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে বাবা আর মায়ের হাসিমুখ। অথচ সেই হাসিমুখ দুটোর শেষ পরিণতি ছিল থেঁ ত লে যাওয়া শরীর আর নি থর র ক্তমাখা দেহ। সেই রাতে গাড়ির ব্রেক কি আসলেও কাজ করেনি? নাকি ওটা কাজ না করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল? সন্দেহের বিষাক্ত সাপ তার মগজে দংশন করছে।
—স্বাভাবিক মৃ ত্যু ছিল না সেটা… খু ন! ওটা খু ন ছিল!
মৃন্ময় বিড়বিড় করে কথাটা বলল। তার কণ্ঠস্বর জড়িয়ে আসছে। পাব-এর ওয়েটার এসে বিনয়ের সাথে বলল,
—স্যার, আপনি কি আর নিতে পারবেন? অনেক হয়ে গেছে।
মৃন্ময় লাল চোখে তার দিকে তাকাল। তার দৃষ্টিতে এমন এক হিংস্রতা ছিল যে ছেলেটা আর কথা বাড়ানোর সাহস পেল না। মৃন্ময় আবার বোতলের ছিপি খুলল। সে জানে, এই নেশা তাকে উত্তর দেবে না। কিন্তু এই মুহূর্তের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তার অবশ হওয়া প্রয়োজন।
মৃন্ময়ের মনে পড়ছে তার বাবার জেদি স্বভাবের কথা। বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের সাথে একটা জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল তখন। বাবা বারবার বলতেন,
—অন্যায় আমি সইব না।
সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়েই কি তাদের জীবন দিতে হলো? মৃন্ময় নিজেকে ক্ষমা করতে পারছে না।কেন সে তখন কিছুই বুঝতে পারেনি?মদের তীব্রতা যত বাড়ছে, মৃন্ময়ের ভেতরের ঘৃণা ততটাই তীব্র হচ্ছে। সে ভাবছে সেই লোকগুলোর কথা, যারা আজ হয়তো সমাজের বুকে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ তাদের হাতে লেগে আছে তার বাবা-মায়ের র ক্ত। টেবিলের ওপর রাখা খালি বোতলটা সে সজোরে হাতের মুঠোয় ধরল। কাঁচের ওপর তার আঙুলের ছাপগুলো ফুটে উঠছে।
— কাউকে ছাড়ব না
সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।নেশার ঘোরে তার চারপাশটা দুলতে শুরু করেছে। পাব-এর রঙিন আলো এখন রক্তের মতো লাল মনে হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, এই শহরের প্রতিটা অলিগলি জানে সেই রাতের সত্যিটা, শুধু সে-ই অন্ধ হয়ে ছিল। নিজের ওপর ঘেন্না হচ্ছে তার। কেন সে এতদিন বিচার চায়নি? কেন সে কেবল নিয়তি বলে মেনে নিয়েছিল
মৃন্ময় টালমাটাল পায়ে উঠে দাঁড়াল। শরীর আর চলছে না, মাথা ঝিমঝিম করছে। টেবিলের ওপর কিছু টাকা ছুড়ে দিয়ে সে বেরিয়ে এল রাস্তায়। বাইরের ঠান্ডা বাতাস তার মুখে লাগতেই সে কিছুটা থমকে দাঁড়াল। অন্ধকার আকাশটার দিকে তাকিয়ে সে চিৎকার করে বলতে চাইল কিছু, কিন্তু গলা দিয়ে কেবল অস্পষ্ট গোঙানি বের হলো।
বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঠিক সেই রাতের মতো, যে রাতে সে অনাথ হয়েছিল। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন তাকে ধিক্কার দিচ্ছে। মৃন্ময় টলতে টলতে নিজের গাড়ির দিকে এগোতে চাইল, কিন্তু পারল না। রাস্তার ধারের একটা ল্যাম্পপোস্ট ধরে সে বসে পড়ল। তার চোখের জল বৃষ্টির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
রাত বাড়তে বাড়তে এখন নিঝুম। শহরের ব্যস্ত কোলাহল ফিকে হয়ে এসেছে, শুধু মাঝেমধ্যে দূর থেকে কোনো নাম না জানা পাখির ডাক কিংবা বাতাসের শনশন শব্দ শোনা যাচ্ছে। ঘরের ভেতরটা মায়াবী এক আলো-আঁধারিতে ঘেরা। সেই আবছা আলোয় বিছানার ঠিক মাঝখানে স্থির হয়ে বসে আছে তরু।
সে আজ পরেছে এক টুকটুকে লাল সিল্কের শাড়ি। শাড়ির মসৃণ জমিন বিছানার চাদর ছুঁয়ে ছড়িয়ে আছে চারদিকে। শাড়ির সাথে মিলিয়ে পরনে স্লিভলেস ব্লাউজ, যা তার উজ্জ্বল গায়ের রঙের সাথে এক চমৎকার বৈপরীত্য তৈরি করেছে। তরুর লম্বা কালো চুলগুলো পিঠের ওপর ছাড়া, যেন অন্ধকারের এক ঝরনা নেমে এসেছে কাঁধ বেয়ে। মুখে খুব হালকা মেকআপ করলেও ঠোঁটে মেখেছে গাঢ় লাল লিপস্টিক। এই নির্দিষ্ট শেডটা মৃন্ময়ের খুব পছন্দ। মৃন্ময় বলত,
“এই লাল রঙটা যখন তোমার ঠোঁটে থাকে, তোমাকে ঠিক যেন কোনো রূপকথার রানির মতো লাগে।”
আজ সারাটা দিন মৃন্ময় বাড়ি ফেরেনি। কেন ফেরেনি, কোথায় আছে,তরু তার কিছুই জানে না। ফোনটা কয়েকবার হাতে নিয়েও রেখে দিয়েছে। এক অদ্ভুত কষ্ট তাকে ঘিরে ধরেছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো কেন সে আজ এভাবে সেজেছে, তার উত্তর তরুর নিজের কাছেও নেই।
সময় যেন কাটছেই না। দেয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দটা এই নিস্তব্ধতায় বড্ড বেশি ভারী মনে হচ্ছে। তরু জানালার দিকে তাকাল। বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকার।
না, আজ তো বিশেষ কোনো দিন নয়। তবে কেন এই আয়োজন? হয়তো অবচেতনে তরু চাচ্ছে মৃন্ময়কে সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিতে। যখন তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় বসে গল্প করত, যখন মৃন্ময় অফিস থেকে ফেরার সময় নিয়ম করে একগুচ্ছ বকুল ফুল নিয়ে আসত।
বিছানার এক কোণে রাখা মৃন্ময়ের একটা টি-শার্ট পড়ে আছে। তরু হাত বাড়িয়ে সেটা টেনে নিল। তাতে এখনো মৃন্ময়ের গায়ের চেনা পারফিউমের গন্ধ লেগে আছে। সেই গন্ধে বুকটা হাহাকার করে উঠল তার।তরু আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নার প্রতিবিম্ব তাকে বলছে, সে সুন্দর। কিন্তু এই সৌন্দর্যের সমাদর করার মানুষটিই তো নিখোঁজ।
তরু ভাবতে লাগল, মৃন্ময় যদি এখন ঘরে ঢোকে, তবে সে কী করবে? রাগ দেখাবে? নাকি সব অভিমান ভুলে জাপটে ধরবে? মৃন্ময় কি তার এই লাল শাড়িটার দিকে তাকিয়ে সেই মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাবে? নাকি ক্লান্ত শরীরে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে বলবে, “এখনো ঘুমাওনি তরু? অনেক রাত হয়েছে, শুয়ে পড়ো।”
দরজায় রূপালীর ডাক শুনে চমকালো তরু। তড়িঘড়ি করে ডোর খুললো। মৃন্ময়কে নিয়ে দাড়িয়ে আছে মেয়েটা। তরু অদ্ভুতভাবে তাঁকালো সেদিকে।মেয়েটা বুঝি বুঝলো তার চাহনির মানে। সে তাড়া দিলো।
— ভাইরে লন ভাবী। ম্যালা দিন দেখিনি এমনে মাতাল হইতে। আইজ কি অবস্থা। এক লোক আইসা দিয়া গেলো।
ঝটপট তরুর গায়ে মৃণ্ময়কে ঠেলে দিয়ে রূপালী চলে গেলে। তরু হঠাৎ এভাবে সামলাতে পারলো না নিজের উপর মৃন্ময়ের ভার। দেয়ালে ঠেকে গেলো। নাক মুখ কুঁচকে ফেললো গন্ধে। মৃন্ময় সম্পুর্ণ ছেড়ে দিয়েছে নিজেকে।তরু কোনো মতে ওকে বিছনায় এনে ফেললো।হাপিয়ে গেছে বেচারি।
মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো ওর। যার জন্য সেজেছে সেই এখন অচেতন। ধাক্কা দিলো।
— এই, উঠুন।
নাহ্ কোনো সাড়া নেই।পাশেই ধপ করে বসে পড়ল তরু। নিজের প্রতিও বিরক্ত। কেন সাজলো? সে কি আবার মৃন্ময়কে কাছে টানতে চাইছে? কিন্তু মৃন্ময় তো তাকে ঘৃনা করে।
তরু তাকালো ওর দিকে।শার্ট টা খুলে দিলো। মদের কারণে ভিজে গেছে অনেকটা। বড় বড় চোখ জোড়া মুহূর্তেই চলে গেলো খোলা বুকে।ঢোক গিললো তরু।কয়েক বছরে হাজার বার দেখেছে সে এই বুক।এইযে পুরো বুক পেট জুড়ে কিছু সূক্ষ্ম আচরের দাগ।এগুলো সব তরুর করা।
আলতো করে ছুলো তরু।শরীরে হালকা শিরশিরে অনুভূতি হলো। মৃন্ময় নড়ে উঠলো।সাথে অন্য কিছুও নড়ল।সেদিকে তাকিয়ে মুখ কুঁচকে গেলো ওর।
— সামান্য ছোঁয়াতেই?
—হু
তরু অবাক চোখে তাকালো।মৃন্ময় তাকিয়ে আছে। এক ঝটকায় দূরে সরে গেলো ও। দুম করে আঁচল খানা খুলে পরে গেলো।
উঠে বসলো মৃন্ময়। নেশা ভরা চোখে আরো নেশা নিয়ে তাকালো। এ কোন পরি দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। তার পছন্দের সাজে। মৃন্ময় ভাবলো হয়তো ভ্রম।পরক্ষণেই চোখ বন্ধ করে আবার তাকালো তরু’ই এটা। তরুর নিশ্বাসের গতি বেড়ে গেছে। নিজ ইচ্ছায় সে ধরা দিয়েছে এভাবে।আচল টা টেনে তুলতে চাইলো।তৎক্ষণাৎ বাধা দিল মৃন্ময়।তরুর হাত থেকে নিজের হাতে নিলো আঁচলটা।একটু একটু করে টানতে লাগলো।দৃষ্টি তার স্থির তরুর মুখ পানে।মেয়েটা ইতো মধ্যেই চোখ জোড়া বন্ধ করে নিয়েছে।
শাড়ির অনেকটা হাতে চলে এসেছে।এক সময় পুরোটাই এলো।এখন তরু শুধুমাত্র স্লিভলেস ব্লাউজ আর পেডিকোট।উন্মুক্ত না ভি সহ পেট,আর বুকের কিছু অংশ। যাতে স্পষ্ট হয়েছে বুকের খাজ। মৃন্ময় তাকালো সেদিকে। এ যেনো কোনো শিল্পীর হাতে আঁকা নিখুঁত চিত্র কর্ম।সাদা ধপধপে শরীরে কালো ব্লাউজ। সেটা আবার এতই পাতলা যা দৃশ্যমান করেছে স্পর্শকাতর জায়গাটা। মৃন্ময় আন্দাজ করে নিলো ভিতরে ইনার নেই।
আঁচলটা জোরে টান দিতেই তরু এসে পড়ল ওর উপর। মৃন্ময় কোমর চেপে ধরলো। ঘাড়ে নাক ডুবালো।
— শাড়ী পড়েছো কেন?
— এ-এমনি
মৃন্ময়ের নাকের ছোঁয়ায় তরুর কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।
—এখন যদি কিছু করে ফেলি?
— করুন।
সহজ গলায় বললো তরু।কোন ছেলে মানুষ আছে এই কথা শোনার পর আর সময় নিবে?মনে হয়না দুনিয়াতে আছে এমন কোনো পুরুষ।
মুহূর্তেই মৃন্ময়ের হাতের ছোঁয়া কঠিন রুপ নিলো। ঘাড় শক্ত করে ধরে তরুর ঠোঁট জোড়া নিজের আয়ত্তে নিয়ে এলো। অ্যালকোহলের গন্ধে তরুর দম বন্ধ বন্ধ অবস্থা।কিন্তু তাতেও ছাড়া পেলো না।বরং আরেক হাত জায়গা করে নিলো কালো কাপড়টার ভিতর। অনায়াসেই আজকে হাতের নাগালে পেয়ে গেলো পছন্দের জিনিস জোড়া।ভিতরে উন্মুক্ত যে,ইনার নেই। মৃন্ময় এর কাছে এটা সহজ হলো।মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেললো। এখন থেকে আর সে ইনার পড়তে দিবে না। কষ্ট হয় তো খুলতে। তার চেয়ে বরং নাই পড়ুক।
বিছনায় শুইয়ে দিলো তরুকে মৃন্ময়।তরু পিটপিট চোখে তাকালো। সে তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না।তাহলে এত তাড়াহুড়া করার কি আছে।
তরুর অর্ধেক শরীর বিছানায় ছাড়লো মৃন্ময়।বাকি অর্ধেক বেডের বাইরে। সাইড থেকে একটা বালিশ তুলে নিয়ে ওর কোমরের নিচে দিলো। তরু অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।কি করতে চাচ্ছে।
মেঝে থেকে শাড়িটা তুলে নিলো মৃন্ময়।তরুর দুই হাত খাটের দুদিকে বেঁধে ফেললো।তরুর চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। মৃন্ময় সাথে এক বোতল ম দ নিয়ে এসেছিল।বোতলটা বিছানা থেকে হাতে তুলে নিলো।তরুর দুই পা দুদিকে ছড়িয়ে দিয়ে দাড়ালো মাঝে। আলতো হাতে ব্লাউজ টা তুলে গলার কাছে দিলো । খুলে ফেললো না পুরো। বটলের ছিপি খুলে ঢাললো তরুর শ রী রে। গড়িয়ে পড়ল বুক থেকে না ভিতে।তারপর আরো নিচে। মৃন্ময় সময় নষ্ট করলো না। মুখ ডুবিয়ে দিলো বুকে।
একে একে পুরো শরীরের সব টা শুষে নিলো। তরু মোন করছিল।
—উম
মৃন্ময় এতে আরো লাগাম ছাড়া হলো। পেডিকোট টা আর থাকলো না নিজের জায়গায়। উপরে উঠে গেলো। সাথে মৃন্ময়ের পরণে থাকা প্যান্ট নিচে।
মৃন্ময় গভীর দৃষ্টিতে তাঁকালো।নিজের অতি যত্নের মিতাকে ছুঁইয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— এটা তোর এতো পছন্দ, ছোট মিয়া? ছটফট করছিস যে,
উত্তর এলো তৎক্ষণাৎ।
— হু…. প্লীজ আর কষ্ট দিস না আমায়।তাড়াতাড়ি একটু শান্তি দে…
মৃন্ময়কি আর তার ছোট মিয়ার কথা শুনবে না এটা কখনো হয়? সে এগিয়ে এসে ঠিক ঠাক দাড়ালো।তরু বুঝলো,এসে গেছে সেই সময়।আজকে এতটা হার্ড হবে অন্তর?ওর কি মায়া লাগবে না? বেঁধে রেখেছে খুলে দিচ্ছে না তো।
মৃন্ময় সম্পূর্ণ নজর দিলো তরুর মুখে।দুই হাত রাখলো তরুর দুই উরুতে।
তারপর…. তারপর হঠাৎ একটা কম্পন সাথে তরুর চিৎকার। ব্যাস চলমান রইলো এটাই।কেউ কারো থেকে কম নয়। একজনের চিৎকার যত বাড়ছে,আরেকজন ততোই নিজের গতি বাড়াচ্ছে।
এইই রাতই মনে হয় তাদের মধ্যেকার সকল দূরত্ব ঘুচাবে।
চলবে…..
(পরের পর্ব গুলো আরো 🌚 হবে।( আগামীকাল রাত ৯ টার মধ্যে ৩k রিয়েক্ট হলে ৯ টা তেই পর্ব ১৯ আসবে।নাহলে যতক্ষন ৩k হবে না ততক্ষন নেক্সট পর্ব আসবে না।)
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৩
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৫
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৭
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৫
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব – ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৩
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১০
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১