Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৭


পর্ব —১৭ (১৮+ এলার্ট🔞)

ডার্কসাইডঅফ_লাভ

দূর্বা_এহসান


রাত গভীর। চারপাশে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে, শুধু দূরের কোনো অচেনা পোকামাকড়ের ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছে। বাগানের পুরোনো ব্রেঞ্চটায় ক্লান্ত দুটো অর্ধনগ্ন শরীর একে অপরের সাথে লেগে হেলান দিয়ে আছে। একজন মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে অন্যজনের বুকে, আরেকজন সেই মাথায় ধীরে ধীরে পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।তরু একটু নড়ে আরও গুটিয়ে গেলো মৃন্ময়ের উষ্ণ বুকে। তার চোখ আধো বন্ধ। সে বুঝতে পারছে না কেন তার ভেতরটা এত শান্ত লাগছে। আবার মনে হচ্ছে, হয়তো সে জানেও,এই আশ্রয়টাই যেনো তার বহুদিনের চাওয়া।দুজনের শরীর একে অপরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। এক চুল পরিমাণ ফাঁকা নেই তাদের মাঝে। রাতের ঠান্ডা হাওয়া মাঝে মাঝে এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মৃন্ময়ের শরীরের উষ্ণতায় তরুর কাঁপুনি থেমে যাচ্ছে।

মৃন্ময়ের ঘামভেজা খোলা বুকে তরু আলতো করে আঙুল ছুঁইয়ে দিলো। বুক থেকে কোমর পর্যন্ত ছোট ছোট ঘামের ফোঁটা জ্বলজ্বল করছে, যেনো রাতের মৃদু আলোয় ছোট্ট তারার মতো। তরু ধীরে ধীরে সেই ফোঁটাগুলো ছুঁয়ে দেখছে।মৃন্ময় চুপ চাপ চোখ বন্ধ করে ওর মাথায় হাত বুলিয়েই যাচ্ছে। হঠাৎ তরু আরেকটু সরে এসে আরও কাছাকাছি লেগে গেলো মৃন্ময়ের সাথে। তার গাল ছুঁয়ে রইলো মৃন্ময়ের উষ্ণ বুকে। কিছুক্ষণ পর সে ধীরে ধীরে মুখ উঁচু করে তাকালো মৃন্ময়ের মুখের দিকে।
শান্ত, নিশ্চুপ সেই মুখটা অদ্ভুতভাবে স্থির। চোখ বন্ধ, হালকা ক্লান্তির ছাপ, তবু যেনো তৃপ্তির একটা রেখা লুকিয়ে আছে সেখানে। তরু কিছু না বলেই বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো তার দিকে।

এই শান্ত মুখের লোকটা নাকি তাকে এভাবে জ্বালাচ্ছে। বাগান পর্যন্ত ছাড় দিলো না।একসময় এই পাগলামি সহ্য করতে না পেরে দূর দেশে পারি দিয়েছিল তরু।বন্ধ খাঁচা থেকে পালিয়ে গেছিল সে।প্রথম প্রথম টক্সিক মৃন্ময়কে ভালো লাগলেও ধীরে ধীরে অসহ্য হয়ে ওঠে সে।

তরু মৃদু নিঃশ্বাস ফেললো। চোখের সামনে থাকা শান্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎই তার মনে পড়ে গেলো বহুদিন আগের সেই সময়গুলো। একসময় এই মানুষটার পাগলামি সহ্য করতে না পেরে সে সত্যিই দূর দেশে চলে গিয়েছিল। যেনো বন্ধ খাঁচা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটা পাখি।
প্রথমদিকে মৃন্ময়ের সেই অদ্ভুত তীব্রতা তরুর ভালোই লাগতো। মনে হতো, কেউ তাকে এতটা নিজের করে চায়।এটা যেনো একধরনের ভালোবাসা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই ভালোবাসার ভেতর অন্যরকম একটা ভারী অনুভূতি জমতে থাকে। ধীরে ধীরে মৃন্ময়ের আচরণ তাকে ক্লান্ত করে তুলতে শুরু করে।

এক অপরিচিত ছেলের সাথে তরুর হালকা কথা বলা,একটু হাসাহাসি,অদ্ভুতভাবে বদলে দিয়েছিল সবকিছু।মৃন্ময়ের চোখে তখন এমন একটা রাগ দেখা দিয়েছিল, যা তরু আগে কখনো দেখেনি। মুহূর্তের মধ্যেই পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠেছিল। এরপর যা ঘটেছিল, তা আজও তরুর মনে কাঁপন ধরায়। সে শুধু মনে করতে পারে, হঠাৎই চারপাশে চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।কীভাবে তারই চোখের সামনে অচেনা সেই ছেলেটাকে মেরে আধমরা করে ফেলেছিল। কীভাবে ছেলেটার চোখের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিল।

সেই দিনের পর থেকে মৃন্ময়ের দিকে তাকাতে গেলেই তরুর মনে অদ্ভুত এক ভয় জমে উঠতো।সেই কারণেই একদিন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চলে যাবে। সবকিছু থেকে দূরে। সেই বাড়ি, সেই স্মৃতি, আর মৃন্ময়ের অদ্ভুত দখলদার ভালোবাসা,সবকিছু পেছনে ফেলে।কিন্তু আজ এতদিন পর, এই গভীর রাতে, আবারও সে বসে আছে মৃন্ময়ের বুকের কাছে।

তরু ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে আনলো। তার ভেতরে যেনো দুটো অনুভূতি লড়াই করছে,একটা ভয়, আরেকটা অদ্ভুত টান।সে বুঝতে পারছে না,এই মানুষটা কি সত্যিই তার থেকে এত দূরে, নাকি এখনও কোথাও না কোথাও তার জীবনকে জড়িয়ে রেখেছে।


ড্রয়িং রুমে ভারী নীরবতা নেমে এসেছে। বড় সোফাটায় গা এলিয়ে বসে আছে রজনী। তার মুখটা কঠিন, চোখদুটো অস্বাভাবিক ঠান্ডা। হাতে ধরা কফির মগ থেকে ধোঁয়া উঠছে ধীরে ধীরে। কিন্তু সেই উষ্ণতার ছিটেফোঁটাও যেন নেই তার আচরণে।
তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির কাজের মেয়েটা। দুহাত জড়িয়ে ধরে কাঁপছে সে। চোখেমুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। যেন বুঝতে পারছে না ঠিক কী ভুল করেছে, তবু আশঙ্কায় তার বুক ধড়ফড় করছে।
রজনী ধীরে ধীরে মগটা হাতে ঘোরাতে লাগলো। তার ঠোঁটে হালকা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো। কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে, যেন তাকে আরও অস্বস্তিতে ফেলার জন্যই এই নীরবতা।
মেয়েটা কাঁপা গলায় কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আচমকা রজনীর হাত নড়ে উঠলো। এক ঝটকায় হাতে থাকা কফির মগটা ছুঁড়ে মারলো সে মেয়েটার দিকে।
মগটা গিয়ে পড়লো মেয়েটার পায়ের কাছে। মেঝেতে পড়তেই ঠন করে শব্দ হলো, আর গরম কফি ছিটকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।
মেয়েটা ভয়ে চমকে উঠে এক পা পিছিয়ে গেল। তার চোখ আরও বড় হয়ে গেছে আতঙ্কে।
রজনী তখনও সোফায় বসে আছে আগের মতোই। ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনে, যেন এই পুরো ঘটনাটা তার কাছে খুবই সাধারণ কিছু।

— এসব কি করছো তুমি?

ভেজা চুলগুলো সামনে থেকে পিঠে ছাড়তে ছাড়তে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো তরু।রজনী তাকালো ওর কথায়।মুহূর্তেই যেনো রাগ তরতরিয়ে বেড়ে গেলো তার।

— এত রাগ কিসের ননোদিনী?

তরু এসে রজনীর পাশে বসলো।রজনী চোখ গরম করে তাকালো তার দিকে।তরু বুঝতে পারল না সকাল সকাল এত রেগে কেন। সে তাকালো কাজের মেয়েটির দিকে। ইশারায় জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে? মেয়েটি এগিয়ে এলো তরুর পানে। কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,

— কাল রাইতে বাগানে, আফনেরে আর ভাইজানরে রজনী ম্যাডাম দেখছিল।তহন থেকেই এমনে চেইতা আছে।

ঠোঁট টিপে বলল মেয়েটা।তরু চোখ বড় বড় করে তাকালো তার দিকে।মেয়েটা যেনো বুঝলো তরুর চোখের ভাষা।

— আমি কিছু দেখি নাই। শুধু একটু চুম্মাইতে দেখসি।

বলেই মেয়েটা দৌড়ে চলে গেলো রান্না ঘরের দিকে।তরু মূর্তির মত চোখ বড় বড় করে সেখানেই বসে রইলো। ছিঃ ছিঃ… ওই লোকটার জন্য এসব। কি লজ্জা কি লজ্জা। তরু তাকালো রজনীর দিকে।ওর রেগে থাকা মুখটা দেখে ফিক করে হেসে ফেললো।

— আমাকে দেখতে কি জোকারের মত লাগছে?

কর্কশ গলায় প্রশ্ন করলো রজনী।তরু কোনমতে নিজের হাসি চাপিয়ে রাখলো।

— না মোটেও না।তোমার মত সুন্দর মেয়েকে জোকারের মত লাগবে কেন?

— তাহলে হাসলে কেন?
— হাসি পেলো তাই।

— আমার দিকে তাকিয়ে হাসলে কেন তুমি?

তরু ঝুঁকে এলো রজনীর দিকে।

—লুকিয়ে রোমান্স দেখছিলে?

রজনী এক ঝটকায় দুরে সরে গেলো। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

— নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়ে

— আমি বললেই নির্লজ্জ,বেহায়া।আর তুমি যে লুকিয়ে লুকিয়ে ভাই ভাবির রোমান্স দেখছিলে,সেই বেলায়?

রজনী রাগে সাপের মত ফোস ফোস করছিল। ফ্রিজ থেকে মেয়েটা হাতে আইসক্রিম নিয়ে এসে তরুর হাতে দিলো।

— ভাইজান এনে রেখেছে আপনার জন্য।

তরু সাধলো রজনীকে। নাক সিটকালো সে। তরুর আর সাধলো না।নিজের মতোই খেতে লাগলো।মৃন্ময় রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো।দেখে মনে হচ্ছে অফিসে যাবে।তরুকে খেতে দেখে ওর মুখোমুখি এসে ঝুকলো।

  • উম, চুষে ট্রাই করো, বেস্ট ফিল পাবে।

তরু বাঁকা চোখে তাকালো। মৃন্ময়ের ঠোঁটের কোণে দুষ্ট হাসি। তরুও হাসলো। অবাক হলো মৃন্ময় ।

  • আচ্ছা তাই নাকি?
  • হ্যাঁ
  • কিন্তু আমি তো কামড় দিতে বেশি লাইক করি🐸

নিজের ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করলো মৃন্ময়। তরুর কথাটা ফিল করতে পেরেছে সে।মনে হলো শরীরের কোনো একটা পার্ট নিজ থেকে সাবধান হয়ে গেলো বিপদ বুঝে। মৃন্ময় কথা বাড়ালো না। তরুর বাকা হাসি তাকে কথা বাড়াতে দিলো না। আলতো করে তরুর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা আইস্ক্রিম টুকুতে চুমু দিয়ে নিজের মুখে নিয়ে নিলো।নিজের ঠোট নিয়েই লেক করলো।

— ইয়ামি, বাট লিটল ক্যাটের মত নয়🌚

চলে গেলো মৃন্ময়। তরু মুহূর্তেই বুঝে গেলো ওর কথার মানে। হাসল সামান্য। রজনী অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল তাদের দিকে।কথা শুনতে না পেলেও মৃন্ময় এর করা কাজ দেখে সে যেনো চাঁন্দের দেশে চলে গেছে।

চলবে,,

(নেক্সট পার্টে কালা পার্ট আসবে ছোট মিয়ার সাথে🌚আগামীকাল রাত ৯ টার মধ্যে ৩k রিয়েক্ট হলে , রাত ৯ টা তেই পর্ব ১৭ আসবে।নাহলে যতক্ষন ৩k হবে না ততক্ষন নেক্সট পর্ব আসবে না। আপনারা এখানে রেসপন্স না করে অন্য জায়গায় রেসপন্স করেন।এখানে করতে কি হয়?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply