Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৬


পর্ব —১৬. (১৮+ এলার্ট 🔞)

ডার্কসাইডঅফ_লাভ 🖤

দূর্বা_এহসান


–তরু

মৃন্ময়ের ডাক শুনে চমকে উঠে তরু। রজনী যাওযার পর সে বাড়ির বাইরে বাগানে চলে এসেছিল। মৃন্ময়ের আওয়াজ শুনে ভরকে গেলো। মৃন্ময় দাঁড়িয়ে আছে ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ নিয়ে তার দিকে ভ্রু কুচকে তাঁকিয়ে।

মৃন্ময় এগিয়ে এলো। তরুর একদম মুখোমুখি। ভ্রু কুঁচকে তরুর চোখের দিকে তাকালো। তার মাথায় এখন হাজারটা চিন্তা ঘুরছে। তরু কি আবার পালানোর প্ল্যান করেছে?এজন্য বাইরে? চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো মৃন্ময়ের। ঘুম ভাবটা উবে গেল চোখ থেকে।

– আমি পালাচ্ছিলাম না।সত্যি বলছি।সত্যি..

ভয়ে চোখবুজে বললো তরু। মৃন্ময় এর চাহনি দেখেই যেনো বুঝে ফেলেছে কি ভাবছে। মৃন্ময় তাকালো চাঁদনী আলোয় তরুর মুখপানে ভালো করে। স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।

চাঁদের নরম আলোয় তরুর মুখখানি যেন সাদা ফুলের মতো লাগছে। এলোমেলো চুলের ফাঁকে কপালটুকু উজ্জ্বল।
তার ঠোঁটের কাঁপনে কোমলতা, গাল ছুঁয়ে চাঁদ যেন লাজুক আভা এঁকে দিয়েছে। কোনো সাজ নেই, কোনো আড়ম্বর নেই তবু তাকে দেখে মনে হচ্ছে রাত নিজেই তাকে আপন করে সাজিয়েছে।
মৃন্ময়ের বুকের ভেতর জমে থাকা কঠোরতা ধীরে ধীরে নরম হয়ে এলো। সে অনুভব করল এই সৌন্দর্য শুধু চোখে ধরা পড়ে না, মনে গিয়েও আলতো করে ছুঁয়ে যায়।

– চোখ খোলো।

গভীর, নিচু স্বরে বললো মৃন্ময়।তরু আস্তে আস্তে চোখ খুললো। চোখে ভয়।

– বাইরে কেন?

– ভালো লাগছিল না ঘরে… দমবন্ধ লাগছিল। তাই একটু বাইরে এসেছি।

মৃন্ময় কিছু বললো না। চারপাশে নিস্তব্ধতা। শুধু দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। বাগানের কাঁঠাল গাছের ছায়া পড়েছে তরুর গালে।

– আমাকে না বলে?

– আপনি তো ঘুমাচ্ছিলেন…

– তাই বলে এভাবে? রাত কত হয়েছে জানো?

তরু চুপ। মাথা নিচু। পায়ের আঙুল দিয়ে মাটি খুঁটছে। মৃন্ময়ের নজর সেদিকে গেলো।কপাল কুচকালো।এটা কোন ধরনের সভাব।

আচমকা মৃন্ময় তরুকে নিজের দিকে টান দিলো।তরু মাথা বারি খেলো তার বুকে। এক পা উঠে এলো মৃন্ময়ের পায়ের উপর।

– আহ্

ব্যথায় চোখমুখে কুচকে গেলো তরুর।এত শক্ত কারো বুক থাকে। মৃন্ময় পাত্তা দিল না সেদিকে।তরুর কোমর ধরে মুহুর্তেই তাকে শূন্যে তুললো।নিজের পায়ের উপর তরুর পা জোড়া নামিয়ে দিলো। তরুর বা হাতের আঙ্গুল গলিয়ে শক্ত করে হাতটা চেপে ধরলো।

– তোমার সাথে কি এখন আমি কিছু করেছি?

– মা-মানে?

–এইযে আহ্ করলে।

মুখ ঘুরিয়ে নিল তরু। লাগামছাড়া লোক একটা।নিজ মনেই বললো। কোথায় বাগানে এসেছিল একটু শান্তির খোঁজে। অশান্তি ও চলে এলো এখন।

– তাকাও আমার দিকে, তরু।

তরু অবাক হয়ে তাকাল। এই স্বর সে বহুদিন শোনেনি। মৃন্ময়ের গলায় এমন গভীরতা, এমন চাপা উষ্ণতা শেষ কবে ছিল, সে মনে করতে পারে না।
ধীরে ধীরে মাথা তুলল তরু। তার বুকের ভেতর কেমন অকারণ কাঁপন। চাঁদের আলোয় মৃন্ময়ের চোখ দুটো আরও গাঢ় দেখাচ্ছে। সেই চোখে রাগ নেই, কঠোরতা নেই—আছে অদ্ভুত স্থিরতা। যেন সে কিছু বলতে চায়, কিন্তু শব্দ খুঁজে পাচ্ছে না।
তরু নিজের অজান্তেই শ্বাস আটকে রাখল।

কি জানি কত সময় সেভাবে কেটে গেল। মিনিট, না ঘণ্টা ,তার হিসাব কেউ রাখেনি। কারও মুখে কোনো কথা নেই। শব্দহীন এক স্থিরতা তাদের ঘিরে আছে। শুধু চোখে চোখ রেখে চেয়ে আছে দু’জন। যেন দৃষ্টির ভেতর দিয়েই তারা সব কথা বলে নিচ্ছে।

চাঁদনী রাতে বাগানটা অন্যরকম লাগে। দিনের চেনা পথ, চেনা গাছগুলোও আজ নরম আলোয় অচেনা হয়ে উঠেছে। কাঁঠাল গাছের ছায়া মাটিতে লম্বা হয়ে পড়ে আছে। বাতাস খুব হালকা, তবু মাঝে মাঝে পাতাগুলো কেঁপে উঠছে। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার টানা ডাক এই নীরবতাকে আরও গভীর করে তুলছে।

তরুর চোখে অদ্ভুত এক টান। মৃন্ময়ের দৃষ্টি স্থির, কিন্তু তার ভেতরেও অশান্তি ঢেউ তুলছে। তারা কেউই চোখ সরাচ্ছে না। যেন যে আগে চোখ নামাবে, সে হেরে যাবে কিসের কাছে, তা দু’জনেই জানে না।

এরকম সূন্দর একটা মুহূর্তকে নষ্ট করে দিলো তরুর হঠাৎ ভ্রু কুচকানো।ওর দৃষ্টি হয়ে গেলো অদ্ভুত। মৃন্ময় নরম কন্ঠে বললো,

– কি হলো?

ব্যাস! অগ্নিমূর্তি ধারণ করলো তরু। দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

– বেয়াদবটাকে বেঁধে রাখতে পারেন না।

মৃন্ময় বুঝতে পারল না তরুর হঠাৎ বলা কথাটা। পরক্ষণেই নিজের অতি কাছের মিতার কাজকর্মে বুঝে গেলো কাহিনী কি। ঠোঁটে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করলো মৃন্ময়।

–ছোট মিয়া,তোর কি এখনই খোঁচানোর দরকার ছিল?

তরু সরে যেতে চাইলো। মুহূর্তটার ভার যেন হঠাৎই তাকে অস্বস্তি করে তুলেছিল। এত কাছে দাঁড়িয়ে থাকা, এত নিঃশ্বাসের ভেতর নিঃশ্বাস মিশে যাওয়া,সবকিছু তার অভ্যস্ততার বাইরে। সে একটু পাশ কাটাতে চাইল, হাত সরিয়ে নিতে চাইল আলতো করে।

কিন্তু মৃন্ময় আরও শক্ত করে তার কোমর জড়িয়ে ধরল। তরুর বুক ধক করে উঠল। সে মাথা তুলে তাকাতে গিয়েও থেমে গেল। মৃন্ময়ের চোখ তখনও তার দিকেই।

হঠাৎ মৃন্ময় খুব ধীরে এক পা সরাল। তারপর আরেক পা। তাদের শরীরের মাঝখানের দূরত্ব এক চুলও বাড়ল না।নিঃশব্দেই শুরু হলো স্লো ড্যান্স।

তরু প্রথমে বুঝতেই পারল না কি হচ্ছে।কিন্তু মৃন্ময় ধীরে ধীরে তাকে নিজের তালে টেনে নিতে লাগল। এক পা সামনে, এক পা পাশে। খুব ধীর, খুব মাপা ছন্দ।

চাঁদের আলোয় তাদের ছায়া মাটিতে লম্বা হয়ে নড়ছে। দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার টানা ডাক যেন অদৃশ্য সুরের মতো বাজছে। বাতাসে কাঁঠাল পাতার মৃদু শব্দ, আর তাদের নিঃশ্বাসের ওঠানামা,এই ছিল পুরো সংগীত।

-ছাড়ুন…

খুব আস্তে বলল তরু। আপত্তির চেয়ে বেশি ছিল লজ্জা।মৃন্ময় কোনো উত্তর দিল না। শুধু তার হাতের চাপটা সামান্য বদলে নিল। যেন বলছে, একবার শুধু এই মুহূর্তটাকে থাকতে দাও।

তরু অনুভব করল তার হৃদস্পন্দন নিজের কানে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে। মৃন্ময়ের বুকের সঙ্গে মাথা লেগে আছে। প্রতিটা নড়াচড়ায় সে বুঝতে পারছে মৃন্ময়ের শরীরের উষ্ণতা। অদ্ভুতভাবে নিরাপদ, অথচ কাঁপন ধরানো।

ধীরে ধীরে তার পা মৃন্ময়ের তালের সঙ্গে মিলতে শুরু করল। শুরুতে তাল কেটে যাচ্ছিল। কখনো দিক ভুল হচ্ছিল। কিন্তু মৃন্ময় থামল না। খুব ধৈর্য নিয়ে তাকে ঘুরিয়ে নিল, ঠিক করল।

–এভাবে?

ফিসফিস করে বলল তরু।মৃন্ময়ের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল।

–হুম… এভাবেই।

তারা খুব আস্তে ঘুরতে লাগল। পৃথিবী যেন ছোট হয়ে শুধু এই বাগানটুকুতে আটকে গেছে। চাঁদের আলো তরুর চুলে পড়ে রুপালি রেখা এঁকে দিচ্ছে। মৃন্ময় এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করল। এই নীরব, ধীর ছন্দে সে যেন অনেকদিনের জমে থাকা অস্থিরতা ছেড়ে দিচ্ছে।

তরু বুঝতে পারল, তার সরে যাওয়ার ইচ্ছে আর নেই। অন্তত এই মুহূর্তে নয়। তার হাতটা অজান্তেই মৃন্ময়ের কাঁধে আরও স্থির হলো।

কথা না বলেও অনেক কথা হয়ে গেল। অভিযোগ, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি সব যেন এই ধীর নাচের ভেতর একটু একটু করে নরম হয়ে এলো।

মৃন্ময় তরুকে ঘুরিয়ে দিলো।তরুর পিঠ ঠেকে গেলো ওর বুকে।পায়ের উপর থেকে নামালো না। ঘাড়ে মুখ গুজে দিল। ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছিল।তরু চোখ বন্ধ করে যেনো অনুভব করছিল।

—”জান, একটু ছুঁ’ই”

—ব্যাস এতটুকুই?

কথার তালে বলে ফেললো তরু। মৃন্ময় তাকালো ওর মুখপানে। ফিচেল হাসলো। তরুকে টেনে কোলের উপর নিয়ে এলো। আলতো চাপে পেট জরিয়ে ধরলো একহাতে। অন্য হাত জামা গলিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলো যত্নে ঢেকে রাখে মৃন্ময়ের অতি পছন্দে একজোড়া শান্তিতে।হ্যাঁ তার ভাষায় এগুলো শান্তি।

ডান থেকে বামে ছুটে চলতে লাগলো হাতটা।একটার পর একটার উপর যেনো নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। পেটে থাকা হাতটাও নিজের অবস্থান খুঁজে নিলো।আজকে আর ছোটোমিয়া নিজেকে উন্মুক্ত করতে পারলো না।তার জায়গা সম্পূর্ণ নিয়ে নিলো মৃন্ময়ের বা হাত। তরু কুঁকড়ে গেলো অদ্ভুত শিহরণে। মৃন্ময় ছোটো করে কা ম ড় বসালো তার গলায়।

তরুর চাঁদনী রাতের বাগান বিলাস রুপ নিলো অন্য কিছুতে। দুজন মানুষ চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে মত্ত হয়ে উঠেছে নিজেদের মাঝেই।

চলবে……

( আগামীকাল রাত ৯ টার মধ্যে ৩k রিয়েক্ট হলে ৯ টা তেই পর্ব ১৭ আসবে।নাহলে যতক্ষন ৩k হবে না ততক্ষন নেক্সট পর্ব আসবে না। আপনারা এখানে রেসপন্স না করে অন্য জায়গায় রেসপন্স করেন।এখানে করতে কি হয়? )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply