১৪.
ডার্ক সাইড অফ লাভ
দূর্বা_এহসান
ড্রয়িং রুমের নিস্তব্ধতা ভেঙে সদর দরজা খোলার শব্দ হতেই সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালো রজনী। তার তীক্ষ্ণ নজর দরজার দিকে। কিন্তু যা দেখল, তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না। মৃন্ময় আর তরু,দুজনই প্রায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ভেতরে ঢুকছে। মৃন্ময়ের এক হাত তরুর কাঁধে, আর অন্য হাত দিয়ে সে নিজের তলপেটের কাছটায় অদ্ভুতভাবে চেপে ধরে আছে। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, মুখ যন্ত্রণায় নীল হয়ে গেছে।
অন্যদিকে তরুর মুখে এক চিলতে হাসি। সে যেন হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না। রজনী দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে মৃন্ময়ের অন্য হাতটা খপ করে ধরে ফেলল। তার চোখেমুখে দুশ্চিন্তা।
-“কি হয়েছে তোমার মৃন্ময়? এভাবে আসছো কেন? আর এই মেয়েটাই বা তোমার গায়ে হাত দিয়ে আছে কেন?” রজনীর কণ্ঠস্বরে বরফশীতল কাঠিন্য।
মৃন্ময় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় ধপ করে বসে পড়ল। দাঁতে দাঁত চেপে সে বলল,
-“উফ রজনী, এখন জেরা করো না তো! আগে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দাও। আমি মরে যাচ্ছি যন্ত্রণায়।”
তরু আমতা আমতা করে বলল,
-“আসলে রজনী আপু… আমি বুঝতে পারিনি। আমরা গাড়িতে…
পুরোটা বললো না তরু। তবে মুখভঙ্গি এমন করে বলল রজনী বুঝে গেলো।
-তখন হঠাৎ করে আমার হাত পিছলে যায় আর আমি ভারসাম্য সামলাতে গিয়ে মৃন্ময়ের… মানে খুব সেনসিটিভ জায়গায় জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলি। আমি সত্যিই ইচ্ছে করে করিনি।”
রজনীর চোখের মণি দুটো মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। তরুর অসম্পূর্ণ কথা আর হাসি যেন রজনীর বুকের ভেতর ঈর্ষার বিষাক্ত সাপকে জাগিয়ে তুলল। সে মৃন্ময়ের দিকে তাকাল, যার মুখ ব্যথায় নীল হয়ে আছে।
রজনী ধীরপায়ে তরুর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার দীর্ঘ ছায়া তরুর ওপর পড়তেই মেয়েটা একটু কুঁকড়ে গেল। রজনী নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
-“গাড়িতে ঠিক কী হচ্ছিল তরু? হাত পিছলে একদম ওখানেই গিয়ে লাগল?
রজনী এবার মৃন্ময়ের দিকে ফিরল। তার চোখে অদ্ভুত এক মায়া আর তীব্র অধিকারবোধ। সে মৃন্ময়ের কপালে জমে থাকা ঘাম মুছে দিলো l
রজনী গ্লাস ভর্তি ঠান্ডা পানি মৃন্ময়ের ঠোঁটের কাছে ধরল। মৃন্ময় ঢকঢক করে পানিটা খেয়ে খানিকটা ধাতস্থ হলো। কিন্তু রজনীর বিষাক্ত দৃষ্টি সরছিল না তরুর ওপর থেকে।
তরু আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। সে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে গেল।
মৃন্ময় একটু আরাম বোধ করতেই রজনী তার আরও কাছে ঘেঁষে বসল।
রুমে এসে কাপড় নিয়ে তরু সোজা ওয়াশরুমে চলে গেলো। দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করতেই হঠাৎ হেসে উঠলো।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমেই নিজের দিকে তাকালো। আলো একটু বেশি উজ্জ্বল লাগছিল। বুকের দিকে চোখ যেতেই দেখতে পেলো কামড়ের দাগগুলো। তাজা, লালচে, স্পষ্ট। মুহূর্তেই মাথার ভেতর ভেসে উঠলো মৃন্ময়ের মুখ, ওর হাসি, ওর চোখের সেই দুষ্টু ঝিলিক।
পরক্ষণেই ব্যথায় কুচকানো মুখটা ভাবতেই তরু হেসে ফেললো। হাসির চোটে শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। নিজেকে সামলাতে আয়নার সিঙ্কটা ধরে দাঁড়াতে হলো।
দাগগুলো আঙুল দিয়ে হালকা ছুঁয়ে দেখলো। হালকা ব্যথা।
শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে প্রথমে গরম পানি ছেড়ে দিলো। পানির শব্দে মাথার ভেতরের কোলাহল একটু একটু করে শান্ত হতে লাগলো। কিন্তু শান্ত হলেও মনটা বারবার সরে যাচ্ছে আগের কথায়। মৃন্ময়ের কণ্ঠ, ওর হাতের স্পর্শ, আর সেই মুহূর্তের আবেশ। চোখ বন্ধ করলেই সব পরিষ্কার মনে পড়ছে। অদ্ভুত ভাবে আজকে ও মৃন্ময় এর ছোঁয়া অনুভব করছে। গাড়ীর সেই সময়টা বারবার মনে পড়ছে।
আজকে ফ্রেশ হতে বেশ খানিক সময় নিলো। শাওয়ার বন্ধ করে তোয়ালে জড়িয়ে আয়নার সামনে এসে আবার দাঁড়ালো। চুল থেকে পানি ঝরছে, আয়নার কাঁচে হালকা ভাপ জমেছে। ভাপের ওপর আঙুল দিয়ে অজান্তেই একটা গোল দাগ আঁকল। নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখলো, সেখানে একটা আলাদা চাহনি।
শেষমেশ জামাকাপড় পরে, চুল ঠিক করে, একটা গভীর নিশ্বাস নিলো তরু।
হাসি মূখে বেরোনো তরুর হঠাৎ করেই চোখ বিছানার দিকে যেতেই আঁতকে উঠল। বিছানার ওপর মৃন্ময় বসে আছে। পরণে শুধু প্যান্ট। হাতে একটা বাটিতে ছোট্ট ছোট বরফের টুকরো, যেটা ও আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরাচ্ছে। বরফ গলছে, ফোঁটা ফোঁটা পানি চাদরের ওপর পড়ছে।
-“এতক্ষণ লাগলো কেন?
মৃন্ময় হালকা হাসি নিয়ে বললো।তরু কিছুক্ষণ কথা খুঁজে পেল না। শুধু দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রইলো। মাথার ভেতরে অনেকগুলো আশঙ্কা একসাথে দলা পাকিয়ে উঁকি দিলো।
- “আপনি… এখানে?”
- “নিজের ঘরেই তো বসে আছি,”
বলেই বরফটা একটু উঁচু করে ধরলো।
- “এইটা তোমার জন্য।”
তরু ভ্রু কুঁচকাল।
-“বরফ?”
মৃন্ময় উঠে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে কাছে এলো। ভেজা চুলগুলো নাক ডুবিয়ে দিয়ে গভীর নিশ্বাস নিল। মৃন্ময়ের উন্মুক্ত বুকে ঠেকে গেলো তরুর মুখ। মৃন্ময় পরপর কয়েকটা চুমু দিল। শিউরে উঠলো তরু। ওর শরীর রেসপন্স করলো। মৃন্ময় বুঝতে পারল। বাকা হাঁসি ফুটে উঠলো ঠোঁটের কোনায়।
মৃন্ময়ের ঠোঁটের কোণে সেই বাঁকা হাসিটা দেখে তরুর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। হাসিটা ও চেনে। খুব ভালো করেই চেনে। এই হাসির মানে কখনোই হালকা কিছু না। তরু অজান্তেই এক পা পেছনে সরালো, কিন্তু মৃন্ময়ের হাত ইতিমধ্যেই ওর হাত ধরে ফেলেছে।
- পালাচ্ছো কোথায়?
- কো…কোথাও না।
মৃন্ময় ওকে টেনে এনে বিছানার বসলো।তরুর ভয়াতুর চোখের দিকে তাকিয়ে কোমরে প্যাঁচানো টাওয়েলের গিট খুলে দিলো।চোখজোড়া বড় হয়ে গেলো মুহূর্তেই তরুর।এরকম কিছু হবে সে কি আন্দাজ করেছে?এতটা নির্লজ্জতা করবে মৃন্ময়।
লাফিয়ে উঠলো তরু বিছানা থেকে। দূরে সরে গিয়ে চোখজোড়া খিঁচে বন্ধ করে ফেললো। মৃন্ময় হাতে থাকা বরফ এগিয়ে দিলো তরুর পানে।
- লাগিয়ে দেও।
তরুর কানে শব্দজোড়া পৌঁছতেই কয়েক কদম আরো পিছিয়ে গেলো।
- আ আমি!
- তো কে?
তরুর অবস্থা এখন এমন হয়েছ যে এখান থেকে পালাতে পারলেই বেঁচে যাবে।মৃন্ময় ওর ভাবনার উপর এক বালতি পানি ঢেলে দিলো।
-“ব্যথা তুই দিয়েছিস, বরফও তুই লাগিয়ে দিবি”
মৃন্ময় তরুর হাতটা শক্ত করে ছোট মিয়ার উপর চেপে ধরে। তরুর হাতে থাকা বরফের ঠান্ডা স্পর্শ পেতেই চোখ বন্ধ করে ফেলে। ব্যথার জায়গাটা যেনো আরাম পাচ্ছে এতক্ষণে।
বলদের মত নিজের হাতের দিকে চেয়ে আছে তরু।কি রিয়েকশন দিবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। মৃন্ময় ধীরে ধীরে তরুর হাত নাড়াচ্ছে।
তরু হাত সরানোর জন্য জোরাজুরি করতে লাগলো।কিন্তু তাতে কোনো লাভ হলো না। মৃন্ময় এর শক্ত হাতের বাঁধনের কাছে ওর শক্তি কিছুই না।
হঠাৎ তরু অনুভব করলো হাতের মাঝে থাকা এতক্ষণের নরম তুলতুলে জায়গাটা শক্ত হয়ে যাচ্ছে। বরফের ঠান্ডা ছাড়িয়ে উষ্ণতা ছড়াচ্ছে। আতঙ্কে তরু চিৎকার করলো।
- নায়ায়া
চোখ বন্ধ করে রাখা মৃন্ময়ের নিশ্বাসের শব্দ ভারী হয়ে উঠেছে। ও হাসলো তরুর চিৎকার শুনে।
চলবে,,,,
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৯
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১০
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৫
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ গল্পের লিংক
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৮
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৪
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১৬
-
ডার্ক ডিজায়ার গল্পের লিংক