Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১০


পর্ব — ১০ ( ১৮+এলার্ট🚫)

ডার্কসাইডঅফ_লাভ

দূর্বা_এহসান


–বেব, এটার টেষ্ট লাইক হানি। আই ওয়ান্ট মোর।”

–না

জ্বরের তীব্রতা শেষে তরু যখন চোখ খুললো। স্বপ্নেও মৃন্ময়। বুকে হাত রাখলো। নাহ্ সব ঠিকই আছে।কি সব অশ্লিল স্বপ্ন।

তরু নিজেকে আবিস্কার করলো অপরিচিত একটা রুমে। আশেপাশের কোনো কিছুই তার চেনা নয়। তার মনে হলো হয়তো ভুল দেখছে। দুই হাতে চোখ ডললো। কিন্তু আশেপাশের দৃশ্যের পরিবর্তন হলো না। এবার ও লক্ষ্য করলো রুমটার কিছুটা মিল আছে মৃন্ময়ের রুমের সাথে।অবাক হয়ে চারিদিকে দেখতে লাগলো। আন্দাজ করলো সময়টা সন্ধেবেলা।

দূর্বল পায়ে বিছানা থেকে নেমে পড়লো। চারপাশটা ভালো করে দেখে নিয়ে ঘরের বাইরে পা রাখলো সে।কেউ নেই। বিশাল বাড়ি।

দেওয়ালের গা ঘেঁষে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলো তরু। মাথা এখনো ঝিমঝিম করছে। শরীর দুর্বল, তবু কৌতূহল আর অজানা ভয়ের টানে পা থামছে না। করিডোর লম্বা। মাঝেমধ্যে বড় বড় জানালা। বাইরে সন্ধ্যার আলো ফিকে হয়ে আসছে। গাছপালার ছায়া জানালার কাঁচে অদ্ভুত আকার নিচ্ছে।

তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল তরু। হাতল ধরে এক এক করে ধাপ নামছে। পুরো বাড়িটা অদ্ভুতভাবে নিস্তব্ধ। শুধু নিচতলা থেকে চাপা শব্দ ভেসে আসছে।

নিচে নেমে ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই একজন মাঝবয়সী লোককে দেখতে পেল। পরনে সাদা পাঞ্জাবি, মুখে শান্ত ভাব। সে হয়তো কিছু গুছাচ্ছিল।তরুকে দেখে লোকটা এগিয়ে এলো।

– ম্যাডাম? আপনি উঠে পড়েছেন?

তরু একটু অবাক হলো।

– আপনি কে?

লোকটা ভদ্রভাবে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো,
–আমি রশিদ । এই বাড়ির কাজ করি। সাহেব আপনাকে উপরে বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন।

তরুর বুক হালকা হয়ে এলো। অন্তত সে একা নয়।

–এটা… এটা কার বাড়ি?

–মৃন্ময় সাহেবের। ছোটবেলা থেকেই আমি আছি এখানে।

তরু চারপাশে তাকালো। দেওয়ালে দেখতে পেলো পারিবারিক একটা। মৃন্ময় আর ওর বাবা – মাকে চিনতে পারলেও বাকিদের চিনলো না।

– এখানে আর কেউ থাকে?
– হ্যাঁ ম্যাডাম। ছোট সাহেব। মৃন্ময় বাবার চাচা।মাঝে মাঝে আত্মীয় আসে।

একটু থেমে যোগ করলো,
– আপনার জ্বর খুব ছিল। সাহেব চিন্তায় ছিলেন।

– উনি কোথায়?
–সাহেবের সাথে এয়ারপোর্ট গেছেন।ম্যাডাম কে আনতে।

তরুর ভ্রু খানিক কুচকে গেল। ম্যাডাম? কে ম্যাডাম? সে প্রশ্ন করতেই যাচ্ছিল রশিদ মিয়াকে। তখনই স্বশব্দে কলিং বেল বেজে উঠল।

–এসে গেছেন

রশিদ সেদিকে এগিয়ে দড়জা খুলে দিলো।চোখ জোড়া বড় হয়ে গেলো তরুর। মৃন্ময় দাঁড়িয়ে। কোলে ওয়েস্টার্ন ড্রেসে একটা মেয়ে।

এক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, সে ঠিকমতো দেখছে না। চোখ পিটপিট করে আবার তাকালো। না, ভুল না। মৃন্ময়ই দাঁড়িয়ে আছে। আর তার কোলে সত্যিই একটা মেয়ে। পাশ্চাত্য পোশাকে, অচেনা। তরুর গলা শুকিয়ে গেল। কথা বের হলো না।পা দুটো যেন মেঝেতে আটকে গেছে। মাথার ভেতর হাজারটা প্রশ্ন একসাথে ধাক্কা মারছে। এই মেয়েটা কে? কেন কোলে করে এনেছে? তাকে আনার পর আবার আরেকজনকে?

একটা অদ্ভুত জ্বালা বুকের মাঝখানে ছড়িয়ে পড়লো। রাগ না, কষ্ট না, ঈর্ষা না,কোনটার নামই সে ঠিক করতে পারছে না। শুধু মনে হলো, মৃন্ময়ের কোলে অন্য কেউ থাকবে কেন!

মৃন্ময় চোখের সামনে তরুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কিছুটা অবাক হলেও তাকে এড়িয়ে সোফায় বসিয়ে দিলো কোলের মেয়েটাকে।

– রশিদ চাচা,ডাক্তারকে ফোন করুন।

রশিদ দ্রুত মাথা নাড়িয়ে চলে গেল।তরু তখনও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। বুকের ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগছে। মৃন্ময় একবার তাকাল তার দিকে। দৃষ্টি দুজনের মিলতেই তরু চোখ সরিয়ে নিল।

মৃন্ময় ধীরে ধীরে মেয়েটার উদ্দেশ্যে বলল,
– ব্যথা কি বাড়ছে রজনী?

সোফায় বসা রজনী চোখ মেলে তাকাল। মুখ ফ্যাকাশে।

– না ভাইয়া।ঠিক আছি।

মৃন্ময় সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেল। সেই যত্নটা, সেই টোনটা,তরুর চোখে সব খুব স্পষ্ট লাগল। বুকের ভেতর আবার সেই অদ্ভুত জ্বালাটা উঠল।

রশিদ পানি এনে দিল। মৃন্ময় নিজ হাতে গ্লাস ধরিয়ে দিল মেয়েটার ঠোঁটে।

– ধীরে খা।

খেয়ে নিলো রজনী। তারপর হাসি মুখে তাকালো তরুর দিকে।

– তোমার বউ?

মৃন্ময়কে উদ্দ্যেশ্য করে বলল রজনী। মৃন্ময় তাকালো তরুর মুখপানে।কেমন যেনো চুপসে গেছে তরু।মুহূর্তেই মৃন্ময় বুঝে গেলো কারণ।কোনো না কোনো দিক থেকে তার প্রতি যে তরুর দুর্বলতা একটু হলেও আছে সে সেটা ভালো করেই জানে।

– হ্যাঁ, বউ।


ঘরের এদিক সেদিক পায়চারি করছে তরু। রাত অনেক হয়েছে। মৃন্ময় এখনো রুমে আসেনি। এটাই মাথায় ঘুরছে এখনো কেন আসলো না?ওই মেয়ের কাছে আবার যায়নি তো?
কিন্তু তরু কেন ভাবছে এসব নিয়ে। সে তো মৃন্ময়কে ভালোবাসে না।নাকি ভালোবাসে?
মেয়েটার সাথে মৃন্ময়কে দেখে জ্বলছে কেন তার এতো?ওরা তো চাচাতো ভাইবোন। স্বাভাবিক নজরে ওদের মেলামেশা দেখা উচিৎ।কিন্তু তরু পারছে না।

মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে তরুর। এমনি সময় মৃন্ময় তার আশে পাশেই থাকে। ছটফট ছটফট করছে।স্থির হয়ে দাড়াতেই পারছে না তরু। এখানে কেন নিয়ে এসেছে তাকে মৃন্ময়!

ধপ করে বিছনায় বসলো। প্রচন্ড রকমের রাগ উঠছে ওর। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে রজনীর ঘরে যাবে ভাবলো। ওখানে মৃন্ময় আছে ভাবলো।

বিছানা থেকে উঠে দু কদম এগোতেই ধাক্কা খেলো কিছু একটার সাথে। সঙ্গে সঙ্গেই মুখ থেকে ছুটে গেলো অসাধারণ কিছু শব্দ🌚

–ধূর বাইন***।ঘরের মাঝ খানে পিলার কই থেকে আসলো। শালা কপাল ফাটাই দিলো। ওই বেয়াদব টার মতো।

কপাল ডলতে ডলতে তাকালো।মুহূর্তেই শরীর হিম হয়ে গেলো। ভ্রু কুঁচকে মৃন্ময় তাকিয়ে আছে।

এতক্ষন গজগজ করতে থাকা তরু মুহূর্তেই ভেজা বিড়াল হয়ে গেলো।ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেলো।

– বেয়াদব কে?

–কেউ না।

– বললি শুনলাম।

– না,না বলিনি।

– কোথায় যাচ্ছিলি?

–আপনাকে খুঁজতে।

দুই হাতে মুখ চেপে ধরলো তরু।এটা কি বললো? মৃন্ময় অদ্ভুত চোখে তাকালো।তরু পিছালো।

মৃন্ময় হাত ধরে টেনে নিলো তাকে নিজের দিকে। থতুনি উচু করে চেপে ধরে তাকালো চোখের দিকে।তরু থমকালো ওর চাহনি দেখে। হাতের শক্ত বাঁধন বলছে মৃন্ময় ঘৃনা করে তাকে।আবার চোখের এই চাহনি বলছে তরুই যেনো মৃন্ময়ের সব।

–আমাকে খোঁজার কারণ কি?

কিছু বললো না তরু।চোখ বন্ধ করে ফেললো। কেনো বন্ধ করলো জানে না।তবে চাইছে মৃন্ময় থাকুক,এভাবেই।

মৃন্ময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মুখটায়। হঠাৎই,হ্যাঁ একদম হঠাৎই সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তরুকে।এতটাই শক্ত করে যেনো বুকে পিষে ফেলবে।আশ্চর্য হয়ে গেলো তরু। সে স্পষ্টই শুনতে পাচ্ছে মৃন্ময়ের বুকের ধুকপুকানি। চেনা সেই হার্টবিট।

–ছাড়ুন দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।এভাবে কেউ ধরে।

হাসফাঁস করতে শুরু করলো তরু। মৃন্ময় ছেড়ে দিলো ওকে।

–আমার ধরায় তোর দম বন্ধ হয়ে যায়?

রেগে বললো মৃন্ময়।তরু আজব দৃষ্টিতে তাকালো।আজব মানুষ। ওভাবে ধরলে দম বন্ধ হবে না? তরুর যদি মৃন্ময় এর মতো বডি হতো তাহলে হয়তো জড়িয়ে ধরে দেখিয়ে দিতো কেমন লাগে।

কিন্তু মৃন্ময় আর বুঝলো কই কেমন লেগেছে তরুর।রেগে আগুন হয়ে গেলো সে।তরুকে টেনে বিছনায় ছুঁড়ে ফেললো। তারপর নিজেও উঠে এলো। শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।আগের মত একই ভাবে।


মাঝ রাতের দিকে তরু অনুভব করলো মৃন্ময় তাকে ছেড়ে দিয়েছে। চোখ খুললো। পরক্ষণেই দেখতে পেলো মৃন্ময় তাকে ছেড়ে দিলেও বুকে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তরু সরিয়ে দিতে চাইলো।সাথে সাথেই কামড়ে ধরলো মৃন্ময়।

ঘরের আলো জ্বালানো।সব কিছুই তরুর চোখের সামনে হচ্ছে। তার গায়ে সুতো টুকুও নেই।এমনকি মৃন্ময় এর শরীরের ও একই অবস্থা।তার ঘুমের সুযোগ নিয়ে মৃন্ময় এসব করেছে?

মৃন্ময় পালাক্রমে চালিয়ে যাচ্ছে তরুর বুকে অত্যাচার। তার হাতের মুঠোর চাপে তরু চিৎকার করে উঠছে।

–কি করছেন আপনি?ছাড়ুন প্লীজ। ব্যথা পাচ্ছি আমি।

মৃন্ময় উঠে এলো বুক থেকে।তরুর ঠোঁট জোড়া কামড়ে ধরলো। তরু বুঝতে পারলো কি হবে এখন!

তরুর দুই পায়ের মাঝে মৃন্ময় সেট করলো নিজেকে।

– লিটল মৃন্ময় নিডস ইউ,তরু।

চলবে……..

( ৩k রিয়েক্ট হওয়ার সাথে সাথেই নেক্সট পার্ট আসবে। লেখা আছে পরের পর্ব।নেক্সট পার্টে কিন্তু ধামাকা কিছু হতে যাচ্ছে🌚)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply