ডাকপ্রিয়র চিঠি
লেখিকা:_রিক্তা ইসলাম মায়া
০৮
‘ আপনি কখনো প্রেম করেছেন?
‘প্রেম বলতে?
‘ মানে কখনো কারও প্রেমে পড়েছেন??
অপরিচিতা কথায় মারিদ বেশ স্বাভাবিক নেয় উত্তর দিয়ে বলল…
‘আমি কখনো কারও প্রেমে পড়ার সময় পাইনি। ছোট বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছিলাম। সেজন্য ঐভাবে কখনো কাউকে নিয়ে ভাবার সময় পাইনি। তারপরও যদি ঘটা করে বলতে যান, তাহলে নারী সংক্রান্ত বিষয়ে আপনি আমার জীবনে প্রথম নারী।
মারিদের কথায় ফোনের ওপাশের মেয়েলি বেশ উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল..
‘তাই?
মারিদ সম্মতি দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল অপরিচিতাকে বলল…
‘হুম! হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন? আপনি কাউকে পছন্দ করেন নাকি?
মারিদের কথায় হঠাৎ কেমন উদাসীন গলায় অপরিচিতা উত্তর দিয়ে বলল…
‘আমি কখনো প্রেম করার সুযোগ পাইনি। আমি আমার গায়ের রঙের জন্য অভিশপ্ত। যদি জীবন আমাকে একটা সুযোগ দেয়, তাহলে হয়তো আপনাকে বেছে নিতাম।
‘আমাকে বেছে নিতেন মানে? আমি কি আপনার জীবনে নেই মিস?
মারিদের পাল্টা প্রশ্নে ফোনের ওপাশের মেয়েলি কণ্ঠটা কেমন ক্রমশ নিভে এল। ভারি আওয়াজে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বলল…
‘আপনি আমার সাধ্যে নেই জেনেও আপনাকে চাওয়া আমার নিয়তি। আর এতে আমি কলঙ্কিত হলেও দোষের নয়।
অপরিচিতার ভারি কথায় মারিদ কপাল কুঁচকাল। সন্দিহান গলায় মারিদ বলল…
‘ আপনি বলতে চাচ্ছেন আমি আপনার চাওয়ার মধ্যে নেই তাই তো?
মারিদের কথায় ফের উদাসীনতা শোনা গেল অপরিচিতার কণ্ঠে। কেমন ভারি গলায় মারিদকে শুধিয়ে বলল…
‘ আপনি আমার চাওয়ার মধ্যে থাকলেও ভাগ্যে নেই।
মানুষ চাইলেই কি সবকিছু পায়, ব্যবসায়িক সাহেব? কিছু চাওয়া ভয়ংকরও হয়। আপনি আমার সেই ভয়ংকর চাওয়া, যেটা পাওয়া আমার সাধ্যে নেই। বলতে পারেন, আমি জেনেশুনে আপনিময় বিষপান করছি।
অপরিচিতার অদ্ভুত কথায় মারিদ বেশ শক্ত গলায় অপরিচিতাকে শুধিয়ে বলল,
‘ আপনার অদ্ভুত কথাবার্তা আমার মাথায় ঢুকছে না, অপরিচিতা। আপনি এই ভালোবাসা দেখান তো, এই দূরে যাওয়ার গল্প শোনান। আমি এত কিছু বুঝি না, মিস। আমি শুধু একটা জিনিসই বিশ্বাস করি, যেটা আমার, সেটা শুধু আমার হয়েই থাকতে হবে যেকোনো মূল্যে। ছেড়ে যাওয়ার কোনো অপশন নাই। এবার সেটা আপনি হোন কিংবা অন্য কিছু। অপূর্ণতার গল্প আমি বুঝি না। আর না বুঝতে চাই।আপনি আমার না হলে অন্য কারও হতে পারবেন না, সেটা আমি হতে দেব না। আমি আপনাকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি তার মানে এই না যে আমি সত্যিকার অর্থে ভদ্র। আমি কিন্তু সমাজের বেশ বদনাম পুরুষ, অপরিচিতা। চাইলে আমাকে বাজিয়ে দেখতে পারেন।
মারিদের কথায় ফোনের ওপাশের মেয়েটি বেশ উচ্ছ্বসিত গলায় বলল….
‘ তাহলে আপনি আমার অবধি পৌঁছাতে পারবেন?
‘ কেন আপনার অবধি পৌঁছানো কি খুব কঠিন কিছু?
‘ হয়তো।
মারিদের কথায় ফোনের ওপাশের অপরিচিতার কন্ঠে ফের উদাসীনতা ভেসে উঠল। মারিদ অপরিচিতার অদ্ভুত কথাবার্তা ইগনোর করে বলল…
‘আপনি সামনে আসবেন কবে, অপরিচিতা?
‘আমার সামনে আসা কি খুব প্রয়োজন? থাক না এইভাবেই।
‘এইভাবে আর কতদিন? আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছি।
মারিদের কথায় অপরিচিতা মেয়েটি খানিকটা চুপ থেকে মৃদুস্বরে বলল…
‘আমি কিন্তু খুব কালো একটা মেয়ে।
‘ম্যাটার করে না।
‘ভেবেচিন্তে বলুন। কারণ আমি আমার গায়ের রঙের জন্য বেশ অভিশপ্ত। এখন হয়তো দেখেন নি বলে এতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন, হয়তো দেখা হলে ঘৃণা করবেন?
‘ যারা গায়ের রঙের জন্য পার্টনার নির্বাচন করে, তারা একটা অসুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ। একটা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনোই আপনাকে আপনার গায়ের রঙের জন্য জাজ করবে না। আমি তো মোটেও নই। আমার আপনাকে প্রয়োজন। আপনার গায়ের রঙ ম্যাটার করে না।
মারিদের কথায় হঠাৎ কেমন আবেগি শোনাল অপরিচিতার কন্ঠে…
‘আপনার মতোন করে কেউ আমাকে এতটা গুরুত্ব দেয়নি, ব্যবসায়িক সাহেব। আমি মানুষের লালসা, অবহেলা, তিরস্কার আর রক্তারক্তি হতে দেখেছি। আমাকে অবহেলায় তিরস্কার করতে দেখেছি। আমি কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নই। অতি তুচ্ছ আর অমূল্যহীন একজন।
অপরিচিতার কথা গুলো মারিদের কাছে কেমন যেন অদ্ভুত শোনাল। আচ্ছা মারিদের অপরিচিতা কি কাউকে পছন্দ করতো??
‘আপনি কি কাউকে পছন্দ করতেন, অপরিচিতা?
মারিদের কথায় খুন স্নান হাসলো অপরিচিতা। বলল…
‘আমার জীবনে কাউকে পছন্দ করাটা বিলাসিতা। তাছাড়া আমি বহুজনকে ভালোবাসায় ঠকে যেতে দেখেছি। তাদের ভালোবাসার মানুষগুলোকে বেইমানি করতে দেখেছি। বিশ্বাস ভাঙতে দেখেছি। ভালোবাসায় কেউ ভালো থাকে না ব্যবসায়িক সাহেব। সব পুরুষ মানুষই এক। প্রথমে ভালোবাসা দেখায়, তারপর অবহেলা আর তিরস্কারে ছুড়ে ফেলে নারীকে।
অপরিচিতার গভীর কথাবার্তায় মারিদের মনে হলো, অপরিচিতা হয়তো কাউকে ভালোবেসে কিংবা পছন্দ করে ঠকে গেছে। সেজন্য মারিদ বোঝানোর উদ্দেশ্যে বলল…
‘শোনেন অপরিচিতা। ভালোবাসার কোনো ধরন নেই। এটা সম্পূর্ণ মনের ব্যাপার। ধরেন, যাকে আপনার অপছন্দ, দেখা গেল সে আবার কারও না কারও কাছে খুব পছন্দের একজন। সবার পছন্দ যেমন এক না, সব মানুষও তেমন এক না। যেমন ধরেন, আপনি যাকে অবহেলায়-অযত্নে ছুড়ে ফেললেন, তাকেও কেউ যত্ন করে আগলে নেবে। কারও চোখে আপনি তুচ্ছ, তো কারও জন্য আপনি তার পূর্ণতা। ভালোবাসা কিন্তু বদলায়নি, মানুষটা বদলিয়েছে, আমাদের শুধু সঠিক মানুষটা নির্বাচন করতে হয়, অপরিচিতা।
‘স্যার? স্যার? ঘুমিয়ে পড়েছেন? উঠুন আমরা এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেছি। স্যার? স্যার?
মনস্তাত্ত্বিক ভাবনায় ডুবে থাকা মারিদের কানে পরপর হাসিবের ডাক যেতেই সে সম্বিত ফিরে পেল। চোখের ওপর থেকে হাতটা সরিয়ে সামনে তাকাতে দেখল হাসিব মারিদের পাশের গাড়ির দরজাটা খুলে দাঁড়িয়ে আছে চিন্তিত ভঙ্গিতে। সামনে ড্রাইভারও গাড়ি থামিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনের বসা মারিদের দিকে তাকিয়ে। মূলত মারিদ পেছনের সিটে গা এলিয়ে বসে অপরিচিতাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে মনস্তাত্ত্বিক ভাবনায় ডুবে গেল, সে তার টের পায়নি। হঠাৎ হাসিবের ডাকে ভাবনা থেকে বেরুলো। মারিদ চোখের ওপর থেকে হাত সরাতে গিয়ে বিরক্ত বোধ করল হাসিবের তার মুখের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখে। একটা ছেলে হয়ে মেয়ে মানুষের মতো মুখের ওপর ঝুঁকে থাকা সত্যি বিরক্তিকর। মারিদ বেশ বিরক্ত হয়ে হাসিবকে শক্ত গলায় ধমকে বলল…
‘মুখের ওপর ঝুঁকে আছিস কেন? কিস করবি? আয়।
মারিদের শক্ত গলায় হাসিব তাড়াহুড়ো করে ‘ সরি স্যার ‘ বলে সরতে গিয়ে তৎক্ষণাৎ গাড়ির দরজায় মাথা ঠুকে বসল। হাসিব মাথার পেছনে একহাতে ঘষতে ঘষতে সাইড হয়ে দাঁড়াতে মারিদ পাশের সিটে ফেলে রাখা কোটটি মুঠোয় চেপে বেরুলো। বিরক্ত চোখে আশেপাশের কোলাহলপূর্ণ পরিবেশটা দেখে মেজাজ কেমন খিঁচড়ে গেল। আজকাল অকারণে সে বেশ বিরক্ত হয়ে পড়ছে। অযথা রাগ বাড়ছে। মারিদ বরাবরই রাগী আর খিটখিটে মানুষ। তারপর আজকাল সে অকারণেই চটে যাচ্ছে। হয়তো অপরিচিতার অভাবে মারিদের মন মানসিকতা ভালো নেই, তাই। বিরক্তিতে মারিদ বাম হাতের মুঠোয় গায়ের কোটটি চেপে সামনে হাঁটলো। হাসিব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর ফাইলগুলো নিয়ে পেছন পেছন ছুটল মারিদের। এবারের হাসিবদের যাত্রা হলো লন্ডন শহরে। সেখানে মারিদের নতুন প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়েছে সবে। কাল সেই প্রজেক্টের উদ্বোধন হবে। মূলত লন্ডন শহরের মতো বেশ জনপ্রিয় শহরে মারিদ নিজেদের হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওপেন করেছে। সেই কাজেই মারিদ ব্যস্ততায় দিন পার করছে। মারিদ ব্যক্তিগত জীবনের যতই সমস্যার সম্মুখীন থাকুক, সে পেশাগত দিকে খুব সচেতন। এই যে মারিদ বিগত পনেরো দিন ধরে তার অপরিচিতার খোঁজ পাচ্ছে না। মেয়েটি কোথায় আছে? কীভাবে আছে? আদৌও মেয়েটি বেঁচে আছে কি না, সেটাও জানে না মারিদ। তবে মারিদের অপরিচিতাকে খোঁজা ক্ষান্ত হয়নি। মারিদ গোপনে যশোরে সিআইডি লাগিয়েছে অপরিচিতার খোঁজে। মারিদের ধারণা, সেই এলাকার মানুষ যদি মারিদকে মিথ্যাও বলে থাকে, তাহলে সিআইডির তদন্তে সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আফসোস! অপরিচিতা নিখোঁজের পনেরো দিন পরও সিআইডির তদন্তে সন্দেহজনক কিছু বের হয়ে আসল না। আর না সিলেটের তাতিয়ানের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কিছু পেল। মারিদ তাতিয়ানের পেছনেও সিআইডি লাগিয়েছে সেদিন সিলেট থেকে ফিরেই, কিন্তু আজও অপরিচিতার কোনো খবর পাওয়া গেল না। একটা মেয়ে হঠাৎ করেই কীভাবে দুনিয়া থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। কোথাও কোনো বিন্দুমাত্র তথ্য নেই মেয়েটির। হাসিব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এয়ারপোর্টে দেখিয়ে তারা প্লেনে উঠল। প্লেনের বিজনেস ক্লাসে সিটে বসতে মারিদ শরীরে একই ক্লান্তি ছেয়ে গেল। ক্লান্তিতে মারিদ সিটে গা এলিয়ে বসতেই পুনরায় চোখের ওপর হাত রাখল। পাশাপাশি সিটে হাসিবও বসেছে। সে বারবার মারিদের দিকে তাকাচ্ছে। মূলত মারিদ সারাদিন খায়নি। আসার সময় বেশ কয়েকবার ফোন করে মাহবুব আলম হাসিবকে বলেছিল মারিদকে প্লেনে কিছু খাওয়াতে। আজকাল মারিদ খাওয়া-দাওয়ায় বেশ অমনোযোগী হয়ে গেছে। সারাদিন কাজ আর কাজ করে বেড়ায়। হাসিবের ধারণা মারিদের এই জিদ করার কারণ হয়তো সে অপরিচিতা মেয়েটিকে ভুলে থাকতে সারাক্ষণ কাজে ডুবে থাকতে চাচ্ছে। কিন্তু মারিদ কি চিন্তা করে, সেটা একমাত্র মারিদই জানে।
বেশ সময় নিয়ে প্লেনটি আকাশে উড়ে যেতে একজন কেবিন ক্রু মহিলা আসল তাদের খাবারের অর্ডার নিতে। হাসিব জড়তায় তাকাল মারিদের দিকে। সেই তখন থেকে মারিদ চোখে ওপর হাত ঠেকিয়ে শুয়ে। হাসিব মারিদকে ডাকবে কি না সেই সংশয়ে আমতা আমতা করে ডাকল মারিদকে। বলল…
‘স্যার? স্যার শুনছেন? আপনি কি খাবেন? কী অর্ডার করব?
‘কমনসেন্স।
মারিদের কথায় মানে হাসিব বুঝতে না পেরে তৎক্ষণাৎ অবুঝ গলায় মারিদকে শুধিয়ে বলল…
‘জি স্যার কি অর্ডার করব?
‘তোর জন্য কমনসেন্স অর্ডার কর, যেটা আসার সময় গাড়িতে ফেলে এসেছিস সেটা।
মারিদের কথায় হাসিব বুঝতে পারল মারিদকে বারবার ডেকে বিরক্ত করাটা তার পছন্দ হচ্ছে না। সেজন্য হাসিব এক পলক কেবিন ক্রু সুন্দরী মহিলাটির দিকে তাকিয়ে ছোট গলায় মারিদকে ‘সরি স্যার’ বলে কেবিন ক্রুকে বিদায় করে দিল অর্ডার করবে না বলে। মন খারাপে হাসিবও মারিদের মতো করে সিটে গা এলিয়ে দিল ঘুমাতে চেয়ে। দীর্ঘ প্লেন জার্নিতে মারিদ ফের অপরিচিতাকে নিয়ে ভাবতে বসল। তাদের দীর্ঘ ছয় মাসের ফোনালাপে অপরিচিতা কখনো মারিদকে তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলেছে কি না, সেই নিয়ে ভাবল। মূলত মারিদ বুঝতে পারছে না আর কীভাবে খুঁজবে তার অপরিচিতাকে? মারিদ তার সব চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে অপরিচিতাকে খুঁজে বের করতে। মারিদের অপরিচিতাকে খোঁজার অনুসন্ধানের মধ্যে মারিদের মাথা থেকে তনিমার দেওয়া চিঠিগুলো ছুটে গেল। মারিদ শুধু অপরিচিতার ফোন নম্বরের তথ্যে অপরিচিতার খোঁজ করছে। অথচ মারিদকে দেওয়া চিঠির খোঁজে মারিদ তার অপরিচিতা অবধি পৌঁছাতে পারবে কিনা তা হয়তো কারও জানা নেই। তবে মারিদ চিঠির খোঁজ করলে হয়তো এতদিনে কেউ না কেউ মারিদের সামনে অবশ্যই আসত।
~~
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চত্বর পেরিয়ে রাস্তার মোড়ে এসে থামল তনিমা। সতর্কতায় আশেপাশে তাকিয়ে সামনে এগোল। বিদ্যুৎ পিলারের সঙ্গে ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে ছোট একটি ডাকবাক্স। পুরোনো আর জংধরা, জীর্ণশীর্ণ বাক্সটির গায়ে লেখা ডাকঘর। বাক্সটি ঠোঁট মেলে হাঁ করে রয়েছে যেন কিছু খেতে চাই সে। তনিমার কোমর অবধি ডাকঘর বক্সটির মাধ্যমে সে সোহাগকে বিগত তিন মাস যাবত চিঠি আদান-প্রদান করছে। কখনো সপ্তাহে একটা চিঠি আবার কখনো সপ্তাহে দুটো চিঠিও আদান-প্রদান হয়েছে দুজনের মধ্যে। অথচ আজ বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান হচ্ছে না। তনিমার কোনো চিঠির উত্তর সোহাগ দিচ্ছে না। অথচ সোহাগকে রোজ ক্যাম্পাসে দেখে তনিমা। কী কারণে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সোহাগ তনিমার চিঠির উত্তর দিচ্ছে না সেটা জানতে চেয়ে সরাসরি সোহাগকে প্রশ্ন করতে মন চায় তনিমার। কিন্তু সোহাগ তো চিঠিদাতা তনিমাকে চেনে না, তাই তনিমা সোহাগকে কিছু বলে না। শুধু চুপচাপ নিজের চিঠির অপেক্ষা করে। এই নিয়ে ৬ষ্ঠ বার হবে তনিমা চিঠির আশায় ডাকঘরের সামনে হাজির হয়েছে। একবুক আশা নিয়ে যখন তনিমা ডাকঘরের মুখে হাত ঢোকাল, তখন তনিমার হাতে তনিমার বিশ দিন আগে রেখে যাওয়া সেই চিঠিটাই পেল। ডাকবাক্স থেকে তনিমার চিঠি নিয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল কয়েক পলক। মুহূর্তে তনিমার চোখে টইটম্বুর জল জমল হাতে থাকা তনিমার লেখা চিঠিটা দেখে। এই চিঠিটা আজ বিগত বিশ দিন যাবত অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে ডাকবাক্সে, অথচ চিঠির উত্তর নেই। এমন কখনো হয়নি যে তনিমা চিঠি লিখেছে আর সেই চিঠির উত্তর সোহাগ দেয়নি। বিগত বিশ দিনে তনিমা বারবার চিঠির সন্ধান করেও পাচ্ছে না। হঠাৎ সোহাগের কী হলো? কেন সে তনিমার চিঠির উত্তর দিচ্ছে না? সোহাগকে দেখে তো তনিমার মনে হচ্ছে না সে অসুস্থ কিংবা কোনো ঝামেলার কারণে তনিমার চিঠির উত্তর দিতে পারছে না। বরং সোহাগ দিব্যি কলেজে ক্লাস করছে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারছে, হাসাহাসি করছে, তাহলে তনিমার চিঠির উত্তর দিচ্ছে না কেন সে? তনিমার থেকে কি সোহাগের মন উঠে গেছে, নাকি তনিমাকে সোহাগ ইগনোর করতে চাচ্ছে, সেজন্য তনিমার চিঠির উত্তর দিচ্ছে না? সত্যিই কি তাই? যদি তাই হয়, তাহলে তনিমাও আর লিখবে না এই লোককে চিঠি। যেখানে তনিমার গুরুত্ব নেই, সেখানে কেন সে আগ বাড়িয়ে ভালোবাসা দেখাবে?
সোহাগের উপর জেদ দেখিয়ে তনিমা চিঠি লেখা হঠাৎই বন্ধ করে দিল। রাগে-জিদে তনিমা সেদিন নিজের চিঠিটা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। এরপরের সাপ্তাহে মারিদ লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরেই এয়ারপোর্ট থেকে সোজা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে গিয়েছিল ডাকঘরে চিঠির খোঁজে। কিন্তু মারিদ সেখান থেকেও খালি হাতেই ফিরে এল। শূন্য ডাকঘরে কিছুই পেল না।
চলিত….
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৩
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭