ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকাঃরিক্তাইসলাম মায়া
২৭
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আশনূর দিশেহারা পথ চলছে। গ্রামীণ পথঘাটে, অন্ধকার রাস্তায় কারেন্ট নেই গ্রাম জুড়ে। শাহানা নূরজাহানকে কোথায় রেখে এসেছে জানা নেই তবে নূরজাহান ভালো নেই এই চিন্তায় আশনূর নিজেও ভুলে গেছে সে একটি মেয়ে। এই বৃষ্টিময় অন্ধকার রাতটা আশনূরের জন্যও হেফাজতের নয়। আশনূর বটগাছ পেরিয়ে রহিম মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়াল। একহাতে রাম-দা অপর হাতে হাসানের ফোন। তাড়াহুড়োয় মাজিদ, হাসান কেউ ফোন নিয়ে বেরোয়নি এই রাতে। দিশেহারা আশনূর হু হু করে কেঁদে উঠল। নূরজাহানের চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে উঠল। শাহানা নূরজাহানের সৎ মা হলেও তো মা হয়। একজন মা কীভাবে পারল সন্তানকে ধ্বংসের দুয়ারে ঠেলে দিতে? আশনূরের বুক চিরে হাহাকার আর্তনাদের চিৎকারের গঞ্জন হচ্ছে চারপাশে। আশনূর বৃষ্টিভেজা সুনসান রাস্তায় হাঁটু গেঁড়ে বসে দু’হাতে মুখ চেপে ফুপিয়ে কাঁদছে। ভেতরকার বুকফাটা চিৎকারে মুখ চেপে বলল….
‘ আল্লাহ। ওহ আল্লাহ তুমি সহায় হও আমার নূরজাহানের। আমার বোনের তুমি ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই। তুমি হেফাজত করো আল্লাহ। আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও নূরজাহানরে তুমি হেফাজত করো। হেফাজত করো।
গুমরে হাহাকার চিৎকারে আশনূর দিকবিদিশা হারিয়ে হঠাৎ মনে আসল মারিদের কথা। মারিদরা চলে গেছে ছয়টার দিকে, এখন রাত আটটা। দুই ঘণ্টায় থানচি জেলা পেরিয়ে যাওয়ার কথা। আশনূর হাসান, মাজিদ কারও সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে শেষ ভরসায় মারিদকে কল করল। ভাগ্য ভালো থাকায় মারিদ তখন তনিমার সঙ্গে কথা বলে, গাড়ি ঘুরিয়ে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিল ঢাকার ফ্লাইট নেবে বলে। এর মাঝে হাসানের ফোন থেকে আশনূর কল করল। মারিদ তখন তনিমা আর অপরিচিতার কণ্ঠের মিল অমিলের ভিন্নতার খোঁজ করছিল। মারিদ হাসানের কল মনে করে ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলে হ্যালো বলার আগে আশনূর ঝরঝর করে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলতে লাগল…
‘ মারিদ সাহেব আমার বোনকে বাঁচান প্লিজ। আমার নূরজাহানের খুব বিপদ। ওরা আমার বোনকে মেরে ফেলবে প্লিজ বাঁচান আমার নূরজাহানকে। প্লিজ।
আশনূরের হাউমাউ চিৎকারে মারিদ উত্তেজিত হলো। মাত্র ফোনে কথা বলা অপরিচিতাকে ভুলে মারিদ নূরজাহানের জন্য ব্যাকুল হয়ে বলল….
‘ আপনি কি আশনূর?? নূরজাহানের কী হয়েছে আশনূর? আপনি কোথায় আছেন বলুন আমাকে, আমি এক্ষুনি আসছি।
‘ আমি রহিম চাচার চায়ের দোকানের সামনে আছি।
নূরজাহানের খোঁজে বেরিয়েছি।
‘ আপনি কি একা আশনূর? হাসান আঙ্কেল আর আপনার ভাই মাজিদ কোথায়? ওরা আসেনি?
‘ হাসপাতালের কাজের মাল চুরি হওয়ার সংবাদ শুনে আব্বা মাজিদ ভাইকে নিয়ে বেরিয়ে গেছে আপনাদের বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই। আব্বা ভুলে নিজের ফোনটা বাসায় ফেলে যাওয়ায় আমি আব্বার সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না মারিদ সাহেব। আমি দিশেহারা হয়ে শেষ ভরসায় আপনাকে ফোন দিয়েছি। প্লিজ মারিদ সাহেব আমার বোনকে বাঁচান। প্লিজ।
আশনূর ফুঁপানো শব্দ মারিদের কানে ভারি খাচ্ছে। মারিদ ব্যকুলতায় বলল…
‘ আপনি শান্ত হোন আশনূর। আমরা এক্ষুনি আসছি। নূরজাহানকে কারা নিয়ে গেছে কিছু বলতে পারবেন?
‘ আমি জানি না কারা নিয়ে গেছে।
‘ আমরা আসার পর আপনাদের বাড়িতে কি হামলা হয়েছে আশনূর? মানিক লোকটা কি নূরজাহানকে নিয়ে গেছে এমন কিছু?
‘ আমি জানি না। তবে আমি এখন চেয়ারম্যান বাড়িতেই যাচ্ছি নূরজাহানের খোঁজে।
কয়েকদিন থানচিতে থেকে মারিদ যতটুকু বুঝেছে চেয়ারম্যান পরিবারের লোকজন ক্ষমতা বলে সবকিছু করতে সক্ষম। একাকী আশনূর চেয়ারম্যান বাড়িতে গেলে বিপদে পরবে। মারিদ আশনূরকে সাবধান করে বলল…
‘ আপনি একা চেয়ারম্যান বাড়িতে যাবেন না আশনূর তাহলে বিপদ বাড়বে ছাড়া কমবে না। আপনি একটা কাজ করুন, আগে আঙ্কেলকে খুঁজতে হাসপাতালে প্রজেক্টে যান। আঙ্কেল আর আপনার ভাইকে নিয়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে যান আমরা সেখানেই আসছি।
‘ আচ্ছা।
মারিদ থানচি জেলা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট ছিল গন্তব্য কিন্তু হঠাৎই ফের মারিদের গন্তব্য ঘুরে গেল থানচিতে। মারিদ হাসিবকে দ্রুত গাড়ি ঘোরাতে বলে সে রিফাতকে কল মেলাল। আজ পত্রকন্যার সাথে দেখা করার কথা মারিদের। এই সুযোগটা মারিদ মিস করতে চাচ্ছে না। আজ দেখা না করলে যদি অপরিচিতা ফের হারিয়ে যায় সেজন্য মারিদ নিজের জায়গায় রিফাতকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল। অন্তত রিফাত মেয়েটিকে দেখে কথা বলে চিনে রাখল। মারিদ নাহয় কাল ঢাকায় ফিরে রিফাতের থেকে মেয়েটির পরিচয় জেনে নিল। এই মূহুর্তে মারিদের জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বিধা হচ্ছে মারিদ বুঝতে পারছে না আসলে তার অপরিচিতা কে? মাত্র যে ফোন করল সে? নাকি হাসান সাহেবের দুই মেয়ের থেকে কোনো এক মেয়ে? মারিদের মাত্রই আশনূরের সাথে ফোনে কথা হয়েছে, আশনূরের কণ্ঠ অপরিচিতার কণ্ঠ ছিল না। আর এটা মারিদ তৎক্ষনাৎ বুঝে গিয়েছিল যে আশনূর মারিদের অপরিচিতা নয়। আশনূর ভিন্ন কণ্ঠের একজন মানুষ।
বাকি রইল নূরজাহান আর মাত্র ফোন করে পরিচয় দেওয়া চিঠির অপরিচিতা মেয়েটা। মারিদ এতটা সিওর এই দুজন মেয়ের একজনই হবে মারিদের অপরিচিতা। মারিদের মন অকারণে অদ্ভুত ভাবে শুধু নূরজাহানকে অপরিচিতা বলে মানতে চাই কিন্তু মারিদের মস্তিষ্ক প্রমাণ চাই। কে সত্যিকারের অপরিচিতা তার প্রমাণ চাই। মন ব্যাকুলে হঠাৎ মারিদের মস্তিষ্ক টনক নড়লো আচ্ছা এমন তো নয় যে মারিদ চিঠিতে একজন আর ফোনে অন্য জনের সঙ্গে কথা বলত? মারিদ নিজের অজান্তে দুটো নারীর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল? মারিদের মন তৎক্ষণাৎ নিজেকে বিদ্রূপ করে উঠল, এটা অসম্ভব, চিঠিতে আর ফোনে দুটো মেয়ে নয় বরং একটা মেয়েই ছিল। মারিদের অপরিচিতায় মারিদকে চিঠি লিখত মনের বিরুদ্ধে এটা নিজেকে বিশ্বাস করিয়ে মারিদ রিফাতকে কল করল।
মারিদের ভীষণ অস্থির ব্যাকুল হচ্ছে নূরজাহানের জন্য। রিফাতকে পরপর বেশ কয়েকবার মারিদ লাগাতার কল করছে। এর মাঝে চতুর্থবারের কলে মারিদের কলটা রিসিভ করল রিফাত। রিফাত হ্যালো বলার পূর্বে মারিদ অস্থির ব্যাকুলতায় বলতে লাগল…
‘ আমার কথা মন দিয়ে শোন রিফাত। আমার আজ রাতে ঢাকা আসার কথা ছিল কিন্তু এখানে কিছু ইমার্জেন্সির জন্য আমাকে পুনরায় থানচিতে ফিরে যেতে হচ্ছে। তোকে আমি একটা অ্যাড্রেস মেসেজ করে পাঠাচ্ছি, ওই লোকেশনে একটা মেয়ে আসবে অপরিচিতা নামে। মেয়েটি কিছুক্ষণ আগে আমাকে কল করে বলছে সে নাকি আমার অপরিচিতা। যদিও মেয়েটি সব তথ্য একদম সত্য বলেছে যেগুলো আমি চিঠিতে লিখেছিলাম সেগুলো তবে মেয়েটির কন্ঠ আমার অপরিচিতার ছিল না। সে ভিন্ন কন্ঠের কেউ ছিল। সেজন্য মেয়েটিকে আমি পুরোপুরি
বিশ্বাস করতে না পারলেও একদমই অবিশ্বাসও করতে পারছি না। তাই তুই আমার জায়গায় গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করবি ব্যবসায়িক সাহেব পরিচয়ে। যেকোনো মূল্যে মেয়েটির থেকে অ্যাড্রেস নিয়ে রাখবি আমি কাল এসে তোর থেকে মেয়েটির ডিটেইলস নিয়ে নেব বুঝেছিস।
‘ সবই বুঝলাম ভাই? কিন্তু তুই ঢাকা না এসে আবার থানচিতে যাচ্ছিস কেন? কাহিনি কি বলতো?
‘ পরে বলব। এখন রাখছি।
মারিদ কল কাটল। মারিদের সময়ই হয়নি রিফাতের কথার উত্তর দেওয়ার। রিফাত বসে বসে ক্লাসের জন্য কিছু জরুরি নোট তৈরি করছিল এর মাঝে মারিদ কল করে এতগুলো কথা বলল। কান থেকে ফোন নামিয়ে রিফাত ফোনের স্ক্রিনের দিকে ঠোঁট উল্টে তাকাল। রিফাত ভারি আশ্চর্য হয়েছে, মারিদ যে অপরিচিতার জন্য দিনরাত এক করে পাগলের মতো এদিক ওদিক খুঁজছে আজ সেই অপরিচিতা যখন নিজে থেকে মারিদের সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছে তখন মারিদ নিজে না গিয়ে রিফাতকে পাঠাতে চাচ্ছে। টুং টুং শব্দ করে রিফাতের ফোনে দুটো মেসেজ আসল। মেসেজগুলো মারিদ পাঠিয়েছে। রিফাত মারিদের পাঠানো মেসেজগুলোর মধ্যে থাকা লোকেশন চেক করে বলল…
‘ শালার ভাই বোন দুইটাই অশান্তির গুদাম।
দু’ঘণ্টার রাস্তা মারিদ ড্রাইভারকে তাড়া দিয়ে ঘণ্টা খানিকে শেষ করল। আশনূর মারিদকে কল করেছিল সাড়ে আটটায়, মারিদের পুনরায় থানচিতে পৌঁছাতে নয়টা চল্লিশ বেজে গেল। অসময়ে পুনরায় গাড়ি থানচিতে ঘোরানোতে রাদিলের ঘুম ভাঙল। অসুস্থ শরীরে রাদিল মারিদকে প্রশ্ন ছুড়ল বেশ কিছু। বলল…
‘ আমরা আবার কেন থানচিতে যাচ্ছি মারিদ? কোনো সমস্যা হয়েছে??
অস্থির উত্তেজিত মারিদ ব্যাকুল কণ্ঠে বলল…
‘ আমার খুব অস্বস্তি লাগছে রাদিল। প্রচণ্ড বুক ব্যথা করছে।
রাদিল আঁতকে উঠে বসল। অসুস্থ শরীর নিয়েও মারিদের কপালে হাত ছুঁয়ে বলল…
‘ শরীর তাপমাত্রা ঠিক আছে, জ্বর নেই তাহলে বুক ব্যথা করছে কেন তোর?
মারিদের চোখের কার্নিশ ক্রমশই লাল হয়ে উঠছে। মারিদ লোহিত দৃষ্টিতে রাদিলের দিকে তাকিয়ে বলল…
‘ আশনূর কল করেছিল, বলেছে নূরজাহানকে নাকি কারা তুলে নিয়ে গেছে।
রাদিল আঁতকে উঠে বলল….
‘ শিট! নূরজাহানকে কারা নিয়ে গেছে? ওই কালো মানিক লোকটা?
অতিরিক্ত উত্তেজনায় মারিদ উত্তর করল না। মারিদ, রাদিল, হাসিব সবার মাঝে বয়ে গেল অস্থির উত্তেজনার ঢেউ। আশনূর মারিদকে কল করে বৃষ্টিভেজা রাতে হাসানের উদ্দেশ্যে প্রথমে হাসপাতালে কনস্ট্রাকশনে যায় সেখানে হাসান, মাজিদকে না পেয়ে ফিরতে গিয়ে দুটো পাহারাদার কালো বেঁটে লোক আশনূরের পথ আটকায়। অন্ধকার বৃষ্টিভেজা রাতে একাকী মেয়ে পেয়ে নিষিদ্ধ চাওয়া জেগে উঠে দুজনের মাঝে। হাতের টর্চ লাইটের আলোয় অপদস্থ আশনূরের ভেজা শরীরটা দেখে নেয়। আশনূর হাতের দা-টা শক্ত মুঠোয় চেপে বলল….
‘ আমার আব্বারে কোথাও দেখছেন আপনেরা?
কাশেম, তৌফিক দুজনের বয়স চল্লিশের ঊর্ধ্বে। থানচি গ্রামে বাড়ি তাদের। হাসপাতালে কনস্ট্রাকশনের মাল পাহারা দেওয়ার জন্য তাদের হাসানই রেখেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে হাসান কিংবা মাজিদ কেউ হাসপাতালে প্রজেক্টের এরিয়াতে নেই। তারা কোথায় আছে বলা যাচ্ছে না। চারপাশ থেকে যেন ষড়যন্ত্রের চক্র বুনে আছে। আর সেই চক্রে অনায়াসে ফেঁসে গেছে সিকদার পরিবারের লোক। একদল শিকারি শিকারে নেমেছে, বাঘকে তো শিকার হতেই হবে। মোটা কাশেমের লোভাতুর দৃষ্টি আশনূরের গায়ে বুলিয়ে বলল…
‘ তোমার আব্বা কেডাই? তুমি এইখানে ক্যান?
‘ আমার আব্বা নাম হাসান সিকদার। এই হাসপাতালের কাজ উনার হাতেই হচ্ছে।
তৌফিক বলল…
‘ তুমি আমাগো হাসান মেম্বারের মাইয়া?
‘ জি।
‘ তাইলে আমাগো লগে আইয়ো তুমি। তোমার আব্বা ঐযে ঐ ঘরটাই আছে ঐখানেই পাইবা। আসো।
তৌফিকের টর্চ মেরে দেখানো ছোট ঘরটার দিকে আশনূর তাকাল। অন্ধকার ঘরে কোনো আলো নেই। হাসান কিংবা মাজিদ ওই ঘরে থাকলে ঘরের অন্তত অল্প আলো কিংবা আশনূরের এতো ডাক তাঁরা শুনত। কিন্তু আশনূরের অনেক ডাকার পরও কারও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি সেখান হতে। নিস্তব্ধ নীরবতা বলে ওখানে কেউ নেই। লোক দুটো ছলেবলে আশনূরকে ওই ঘরে নিয়ে যেতে চাচ্ছে খারাপ মতলবে। আশনূর বিষয়টা বুঝে ডানহাতের মুঠোয় দা-টা শক্ত করে চেপে, রাগান্বিত মুখশ্রীতে বলল….
‘ পথ ছাড়ান। আমার আব্বাকে লাগব না। আমি পরে খোঁজে নিব।
‘ কি কও মাইয়া তুমি? এত দূরে আব্বার লাইগা ঘেমে ভিজতে ভিজতে আইছো এহোন তোমার আব্বার লগে দেখা না কইরা চইলা যাইবা ক্যান? আমাগো লগে আইয়ো তোমার আব্বার লগে দেখা কইরাই দিতাছি। তোমার শরীরডাও ভিইজা গেছে। আমার কাছে গামছা আছে তোমার শরীর মইছা দিমুনে আইয়ো।
কথাগুলো বলে কাশেম আশনূরের বুকের দিকে হাত বাড়াতে আশনূর ছিটকে দূরে সরে গেল, দা উঠিয়ে কাশেমের বাড়ন্ত হাতে আঘাত করতে তাজা তরল রক্তে হাত চেপে চিৎকার করল কাশেম। তৌফিক হতভম্ব হয়ে হৈ হৈ চিৎকার করল…
‘ ওই খাককির ছেড়ি মারলি ক্যান? বেডা লাগাইতে রাইত্তের বেলা আইবি আর আমরা তোর শরীরে হাত দিলেই দোষ? খাড়া তোর শরীরের রস আইজ বাইর করমু।
তৌফিক বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে আশনূরের দিকে তেড়ে গেল ধরতে। রক্তাক্ত হাত ঝাঁকিয়ে কাশেমও আশনূরের দিকে তেড়ে গেল। আশনূরের হাত থেকে লাইট আর ফোন কাদামাটিতে পড়ে লেপ্টে গেছে। দুজন লোকের সাথে আশনূরের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। দু’হাতে মুঠোয় দা-টা চেপে আশনূর এলোমেলো প্রহার করছে নিজেকে বাঁচাতে যার জন্য কাশেম তৌফিক সুবিধা করতে পারছে না আশনূরকে ধরতে। উৎপাতের শেয়াল যেমন মুরগির শিকার করতে পাগল হয়ে যায় ঠিক তেমনই কাশেম তৌফিক দুজনই হিংস্র পাগল হয়ে গেছে আশনূরের শিকার করতে। আজ যেন কালরাত। প্রথমে নূরজাহান তারপর আশনূর। হাসান মাজিদেরও খোঁজ নেই কোথাও। নিখোঁজের ভিড়ে হঠাৎ হেড লাইটের উজ্জ্বল আলো এসে পড়ল আশনূর তৌফিক আর কাশেমের ওপর। সাদা গাড়িটি সবে হাসপাতালের মাঠে ঢুকতে গাড়ি থেকে লাফিয়ে বের হলো মারিদ, রাদিল, হাসিব আর ড্রাইভার। হঠাৎ মারিদকে দেখে কাশেম তৌফিক ভয়ে তৎক্ষণাৎ দৌড়ে পালিয়ে যায়। হাসিব আর মারিদের ড্রাইভার কাশেম তৌফিককে ধরতে ধাওয়া করে। মারিদ রাদিল দৌড়ে আসে আশনূরের দিকে। রাদিল ব্যাকুল কণ্ঠে বলল….
‘ আপনি ঠিক আছেন আশনূর? লোকগুলো আপনার কোনো ক্ষতি করেনি তো?
‘ আমি ঠিক আছি ডাক্তার সাহেব। এসব জঙ্গি জানোয়ারের আক্রমণে আমি ভয় পাইনা।
আশনূর ঝুঁকে কাদামাটি থেকে ফোন আর টর্চ লাইটটা উঠাল। হাসানের বাটন ফোনটি কাদা পানিতে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। হাতের লাইটটাও বারবার আলো নিভু নিভু করে জ্বলছে হয়তো লাইটের ভেতরেও পানি ঢুকেছে তাই। মারিদ অস্থির গলায় বলল…
‘ নূরজাহান কোথায় আশনূর? নূরজাহানের খোঁজ পেয়েছেন আপনি?
‘ না।
‘ আঙ্কেল আর আপনার ভাইয়ের খোঁজ পেয়েছেন?
‘ না পাইনি।
‘ আমাদের পুলিশ স্টেশনে যাওয়া উচিত চলুন।
মারিদ পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার তাড়া দিতে আশনূর বাঁধা দিয়ে বলল…
‘ পুলিশ আমাদের সাহায্য করবে না মারিদ সাহেব। দৌড়াদৌড়ি করে লাভ নেই। আগে নূরজাহানকে খোঁজা জরুরি। আমি এখানে আব্বা আর মাজিদ ভাইয়ের খোঁজে এসেছিলাম কিন্তু এখানেও কেউ নেই এরমধ্যে এদুটো লোকের সঙ্গে হাতাহাতি তারপর আপনারা আসলেন।
মারিদ কিছু বলার আগেই রাদিল বলল…
‘ আজ আমরা ঠিক সময় না আসলে আপনার সাথে কি হতো জানেন? আপনি একা কেন আসতে গেলেন?
আশনূরকে উত্তর করার সুযোগ মারিদ না দিয়ে বলল…
‘ নূরজাহানকে কারা নিয়ে গেছে কিছু বলতে পারবেন আশনূর?? লোকগুলোর মুখ দেখেছেন?
‘ আমি দেখিনি।
‘ তাহলে কে দেখেছে?
‘ আম্মা দেখেছে।
‘ তাহলে নিশ্চয়ই আন্টি বলতে পারবে লোকগুলো কারা ছিল? আমার মনে হয় মানিক সওদাগরের লোকজনই হামলা করেছিল আপনাদের বাড়িতে, সময় নষ্ট না করে আমাদের দ্রুত মানিক সওদাগরের বাড়িতে যাওয়া উচিত। আশনূর আসুন আমার সাথে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাব। আপনার আম্মাকে ফোন করে বলুন আপনার দাদীকে নিয়ে চেয়ারম্যান বাড়িতে আসতে। হামলাকারীর মুখ নিশ্চয়ই আপনার আম্মা আর দাদী দেখেছে? এতে আমাদের সুবিধা হবে। দ্রুত করুন আশনূর।
আশনূরকে তাড়া দিয়ে মারিদ বৃষ্টিতে ভিজে গাড়ির দিকে হাঁটল। আশনূর মারিদ রাদিলের পিছনে হেঁটে উত্তরে বলল….
‘ আমাদের বাড়িতে কেউ হামলা করেনি মারিদ সাহেব। দাদী জানে নূরজাহান নিখোঁজ। আমি আর আম্মা বাদে বাড়িতে কেউ জানে না নূরজাহান নিখোঁজ। আব্বা আর মাজিদ ভাইও জানে না।
মারিদ থমকে দাঁড়াল। আশনূরের কথায় অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরে গেল মারিদের মাথায়। মারিদ পিছনে ঘুরে দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে রাগ কন্ট্রোল করে বলল..
‘ একটা সুস্থ মানুষ বাড়ি থেকে গায়েব হয়ে যায় অথচ আপনাদের পরিবারের কেউই জানো না? নূরজাহানকে কি হামলাকারী দল উড়ে এসে নিয়ে গেছে আপনাদের বাড়ি থেকে আশনূর? আপনারা এতো উদাসীন কেন নূরজাহানের প্রতি?
আশনূর শাহানার সত্যিটা বলতে দ্বিধা করল। আশনূরের দ্বিধা দেখে মারিদ কপাল কুঁচকে বলল…
‘ আপনি কি আমার কাছে আরও কিছু লুকাচ্ছেন আশনূর?
আশনূরকে আমতা আমতা করতে দেখে মারিদ আশনূরকে আশ্বস্ত করে বলল…
‘ আপনি আমাকে সবকিছু খোলে না বললে আমি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করব আশনূর?নূরজাহানকে কে বা কারা নিয়ে গেছে আপনি আমাকে সকল সত্যিটা বলুন প্লিজ। এমনিতেই আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। নূরজাহান বিগত পৌনে দু’ঘণ্টা যাবত নিখোঁজ। যত সময় যাবে নূরজাহানের জন্য কঠিন হবে। আশা করছি আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন।
মারিদ সময় ব্যয় না করে গাড়ীতে উঠে বসল। হাসিব রাদিল, আশনূর ও ড্রাইভারকে তাড়া দিল গাড়ি স্টার্ট করতে। নূরজাহানের চিন্তায় আশনূর এক মুহূর্তও সময় নিল না শাহানার সত্যিটা বলতে। আশনূর, মারিদ, রাদিল তিনজনে গাড়িতে পিছনের সিটে উঠে বসল। ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে চেয়ারম্যান বাড়িতে যাবে মানিকের খোঁজে। আশনূর পিছনের সিটে মারিদের পাশাপাশি বসে বলতে লাগল…
‘ নূরজাহানকে নিয়ে আম্মা রাত আটটার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, তার কিছুক্ষণ পরই আম্মা বাড়িতে একা ফিরে আসে। আম্মাকে আমি প্রশ্ন করলে আম্মা বলে নূরজাহানকে উনি কাদের হাতে তুলে দিয়ে এসেছেন।
রাদিল, মারিদ, হাসিব, ড্রাইভারসহ সকলেই আশনূরের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাল যেন শাহানা মা হয়ে মেয়েকে কেন অন্যের হাতে তুলে দিয়ে আসবে এই বিষয়টা তাদের সহজে সেটা হজম হচ্ছে না। আশনূর সকলের দৃষ্টি বুঝে কারও প্রশ্ন করার আগেই বলল…
‘ আম্মা নূরজাহানকে পছন্দ করে না তাই…
আশনূরের মুখের কথা রাদিল কেড়ে নিয়ে বলল…
‘ আপনার আম্মা নূরজাহানকে পছন্দ করে না বলে কোনো মাই পারবে না নিজের মেয়েকে শত্রুর হাতে তুলে দিতে। একজন মা কখনো এতো পাষাণ হয়না আশনূর যে নিজের মেয়ের ক্ষতি করবে।
আশনূর খুবই ক্ষীণ স্বরে বলল…
‘ নূরজাহান আম্মার নিজের মেয়ে না। সৎ মেয়ে।
আশনূরের ছোট কথাটা যেন মস্ত বড়ো বোমা ফাটাল গাড়ির মধ্যে। মারিদ চমকে তাকাল আশনূরের মুখের দিকে। যেন মাথায় বিশাল বড়ো বজ্র পড়েছে। সেই সাথে অসংখ্য প্রশ্নরা মারিদের মাথায় কিলবিল করছে। রাদিল অবাক গলায় বলল…
‘ মানে নূরজাহান আপনার আপন বোন না আশনূর? আপনার মা নূরজাহানের মা নয়? নূরজাহান কি তাহলে পালিত মেয়ে?
‘ না। নূরজাহান আব্বার দ্বিতীয় ঘরের মেয়ে। আব্বার প্রথম বউ আমার আম্মা। দ্বিতীয় বউ নূরজাহানের মা ছিল।
‘ আপনার বাবা দুই বিয়ে করেছেন?
‘ জি।
মারিদের গলা কাঁপছে আশনূরকে প্রশ্ন করতে। মাত্র আর কয়েক সেকেন্ডের দূরত্বে দাঁড়িয়ে মারিদ অপরিচিতার খোঁজ পেতে। মারিদ গলা ঝেড়ে নিল। মারিদ কম্পিত স্বরে বলল…
‘ নূরজাহানের মায়ের নাম কি আয়েশা সিদ্দিক ছিল?
‘ জি।
‘ নূরজাহানের মা মৃত?
‘ জি।
মারিদ থমকে বসল। বুক ভীষণ কাঁপছে আশনূরকে পরবর্তী প্রশ্ন করতে। বৃষ্টিভেজা শীতল পরিবেশেও মারিদ ঘামছে। রাদিল মারিদের পাশাপাশি বসে। সে মারিদের হয়ে পরবর্তী প্রশ্ন চালাল আশনূরকে। রাদিল জানে মারিদ আশনূরকে পরবর্তী কি প্রশ্ন করতে চায়। অপরিচিতার মায়ের নাম আয়েশা সিদ্দিক সেটা রাদিলও জানে। নূরজাহান মারিদের অপরিচিতা সেটা মাত্রই প্রকাশ্যে আসল। টানটান উত্তেজনায় রাদিল আশনূরকে বলে…
‘ আপনার বোন নূরজাহান কি কখনো যশোরে গিয়েছিল আশনূর?
‘ জি গিয়েছিল। আপনারা জানেন কিভাবে?
‘ সেখানে নূরজাহানের ওপর হামলা হয়েছিল?
মারিদের গাড়ি যাচ্ছে চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে। উত্তেজনায় আশনূর শুধু সত্যিটা বলে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। কোনো কিছু ভাবার সময় কিংবা মস্তিষ্ক কাজ করছে না আশনূরের। উত্তরে আশনূর বলল…
‘ জি সেদিনের হামলায় নূরজাহান গুলিবিদ্ধ হয়েছিল কিন্তু আপনারা কীভাবে জানলেন?
রাদিল একটা মিথ্যা বলে বলল…
‘ আপনার বাবা বলেছিল একদিন আমাদের। আচ্ছা তানিয়া নামের মেয়েটা আপনাদের কি হয়? নূরজাহান কি যশোরে তানিয়াদের বাসায় থাকত?
‘ জি। তানিয়ার বাবা-মা আব্বার দূরসম্পর্কের আত্মীয় হয়। নূরজাহান তানিয়াদের বাসায় দুই তিন মাসের মতন ছিল।
অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মারিদ অবশেষে অপরিচিতার সন্ধান পেল। মারিদ শূন্য মস্তিষ্কে স্তব্ধ থমকে বসে। মুখে ভাষা নেই। দু’হাতে মাথা চেপে ঝুঁকে বসে। এজন্য হয়তো নূরজাহানের বিপদের কথা শুনে মারিদের মন এতো অশান্তি আর পাগল হয়ে যাচ্ছিল নূরজাহানের চিন্তায়। হয়তো মারিদের মন মানত নূরজাহানই মারিদের অপরিচিতা হয় সেটা। এতো যুদ্ধ, এতো প্রতীক্ষার লড়াইয়ের পরও মারিদ ফের কীভাবে অপরিচিতাকে হারাতে দেবে? মারিদ অশান্ত মস্তিষ্কে দু’হাতে বারবার নিজের চুল টেনে হঠাৎ সিটে গা এলিয়ে বসল। কম্পিত হাতে গলার শার্টের বোতাম খুলতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলল বেশ কয়েকটা। আশনূর মারিদের অস্থির ছটফট অবাক চোখে দেখল। রাদিল মারিদকে শান্ত করতে পিঠে হাত ঘষে বলল…
‘ মারিদ শান্ত হ। তোর অপরিচিতার কিচ্ছু হবে না। আমরা ঠিক বাঁচিয়ে নেব অপরিচিতাকে। শান্ত হ প্লিজ।
মারিদ লালাভ চোখে রাদিলের দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ স্বরে বলল…
‘ দ্বিতীয়বার তাঁকে হারানোর মতোন সাহস আমার নেই রাদিল। আমি পাগল হয়ে যাব অপরিচিতাকে ছাড়া। প্লিজ সেইভ হার রাদিল। আই নিড হার। আই নিড হার।
অপরিচিতা কে আশনূর জানে না। অবাক চোখে আশনূর মারিদের অস্থিরতা দেখল। চেয়ারম্যান বাড়িতে গিয়েও মারিদরা কাউকে পেল না। দুজন দারোয়ান চেয়ারম্যান বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে। তারা জানাল আজ দুপুরে চেয়ারম্যান পরিবারের সকলে শহরে গিয়েছে কারও বিয়েতে ফিরবে দু’দিন পর। বিশাল বড়ো আয়োজন করে যে গোটা পরিবার নিরুদ্দেশ সেটা বুঝতে কারও দেরি নেই। আশনূর চেয়ারম্যান বাড়ির গেটে হাতের দা দিয়ে কুপিয়ে আঘাত করছে জেদে। মারিদ দিশেহারা হয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করল গাড়িতে এলোমেলো লাথি মেরে। চারপাশে উত্তেজনার আহাজারি কে কোথায় যাবে, কোথায় গেলে নূরজাহানকে পাবে, কে নিয়ে গেছে নূরজাহানকে কিচ্ছু জানে না মারিদ। এর মাঝে রক্তাক্ত অবস্থায় জিপ গাড়ি নিয়ে চেয়ারম্যান বাড়ির গেটে প্রবেশ করল মানিকের দুজন ছেলে। বেলাল আর ঝন্টু। দুজনের শরীর রক্তাক্ত। গায়ে কালো চাদর জড়িয়ে শরীর ঢেকেছে বেলাল। গেটের সামনে মারিদ, হাসিব, রাদিল, আশনূরকে দেখে বেলাল দ্রুত জিপ গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যেতে চাইল। মারিদ, হাসিব, রাদিল সবাই একত্রে হামলা করে বেলাল, ঝন্টুকে আটকাল। বেলাল ঝন্টু মানিকের লোক। এতক্ষণ মানিকের সঙ্গেই ছিল নূরজাহানকে বাঁচাতে কিন্তু চেয়ারম্যান বাড়িতে ফিরে এল রক্তাক্ত অবস্থায়। বেলাল, ঝন্টুকে দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা যুদ্ধের শেষ লড়াইয়ে বাড়িতে ফিরেছে সবে। দু’জনের ঘায়েল শরীর, আর ক্লান্ত মন। মারিদ বেলালের কলার চেপে কয়েক দফা ঘুসি বসাল নাকে মুখে। ঝন্টু রাদিল হাসিবের হাতে বন্দি। কমবেশি মার ঝন্টুও পাচ্ছে। বেলাল সাহসী, মার খেয়েও মুখ খুলছে না। ঝন্টু দুর্বল মানুষ। আহত শরীরে বারবার আঘাত নেওয়ার মতো সবল নয়। তাই রাদিল হাসিব যখন নূরজাহানের সন্ধানের খোঁজে ঝন্টুকে পেটাচ্ছিল তখন ঝন্টু হরহর করে আকুতি মিনতি করে বলতে লাগল সব….
‘ ছাইড়া দেন ডাক্তার সাব। আর মাইরেন না মইরা যামু। এমনে শরীরে জখমে জখমে শেষ। নতুন কইরা আর মার খাইবার পারুম না। ছাইড়া দেন।
রাদিল ঝন্টুর কলার চেপে দাঁড় করিয়ে রাগান্বিত মুখশ্রীতে বলল…
‘ হাসান সাহেবের মেয়ে নূরজাহানকে তোরা কই নিয়ে গেছিস? নূরজাহান এখন কোথায় আছে বল? নয়তো জানে মেরে ফেলব এখন।
বেলাল মারিদের হাতে মার খেয়েও চিৎকার করে ঝন্টুকে শাসিয়ে বলল…
‘ ঝন্টু খবরদার কিচ্ছু কইবি না, তাইলে ভাইজান কিন্তু কাউরে আস্থা রাখব না। জানে মাইরা ফেলাইব।
ঝন্টু আহত শরীরের দূর্বল গলায় বলল…
‘ এমনেই তো মইরা যাইতাছি বেলাল ভাই। মানিক ভাইজানের অবস্থাও ভালা না। মানিক ভাই বাচব কিনা হেইডাও কওন যাইতেছে না। ভাবিরে ঐ জায়গায় রাখন ভালা হইব না। আমাগোর জলদি জলদি মাইনষের সাহায্য লাগব লইলে আবার ডাকাতদলের হামলা পড়তে পারে বেলাল ভাই।
‘ যাই কিছু হোক। মানিক ভাইয়ের আদেশ অমান্য করণ যাইব না ঝন্টু। তোরে…
মারিদ বেলালের গলা চেপে গাড়িতে ঠেসে ধরে রাগে দাঁতে দাঁত পিষে বলল…
‘ নূরজাহান কোথায় বল? তা না হলে তোর মানিক ভাইয়ের আদেশ মানার জন্য জীবিত থাকবি না হারামির দল।
বেলাল মারিদের হাতে বারবার লাথি ঘুসি খেয়েও মুখ খুলছে না। অবশেষে ঝন্টু মুখ খুলে বলল….
‘ আমি কইতাছি সব। মানিক ভাই ভাবিরে লইয়া পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি এলাকায় কালিঘাটিতে আছে। নূরজাহান ভাবিরে ডাকাতদল লইয়া গেছিল। মানিক ভাই ভাবিরে বাঁচাইতে গিয়া হেই মেলা জখম হইছে। বাঁচব কিনা কওন যাইতাছে না। আমাগোরে এখন ছাইড়া দেন ডাক্তার সাব। দেরি করলে কাউরে বাঁচান যাইব না।
চলবে….
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২১
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৮