ডাকপ্রিয়র_চিঠি
লেখিকাঃরিক্তাইসলাম মায়া
২৫
বাড়িতে সাজিদ এসেছে। সাজিদ হাসান আর শাহানার মেজো ছেলে। মাজিদ সাজিদ দুই ভাই একত্রে জাহাজের ব্যবসা করে। তাদের দুটো জাহাজ আছে। সেই জাহাজে তাঁরা সমুদ্রপথে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মালামাল স্থানান্তর করে। মাজিদ বাড়িতে এসেছে আজ পাঁচ দিন। সে একদিন থেকে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে হাসানের সাথে মারিদের হসপিটালের কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় সে যায়নি। সাজিদের সঙ্গে মাজিদের কথা হয়। সাজিদ জানে গ্রামের নতুন হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। আর তার দায়িত্বে আছে তাঁর বাবা হাসান সিকদার। সাজিদ অনেকটা স্বার্থপর মানুষ। কে কি করলো সে সেসবে মাথা ঘামায় না। কারও জন্য তার স্বার্থে আঘাত লাগলে তখন সাজিদের মাথা ঠিক থাকে না। আবার সহজে কারও সাথে ঝামেলাও জড়ায় না। গম্ভীর আর চুপচাপই দেখা যায় সাজিদকে সবসময়। সাজিদ মাত্রই থানচি গ্রামের বাজারে অটোরিকশা থেকে নামল। বাড়ির জন্য কিছু বাজার আর তারানূরের জন্য পান সুপারি কিনবে। সাজিদ বাজার করার সময় দুটো কথা শুনলো গ্রামের মানুষদের কানাঘুষা করতে। তাঁরা সরাসরি সাজিদকে উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো শুনিয়েছে সেটা সাজিদ বুঝেও চুপ করে রইল।
‘ হাসান শহর থেইক্কা ডাক্তার আনছে গেরামে হাসপাতাল বানানোর লাইগা। হেই ডাক্তারের লগে হাসান নিজের ছোডো মাইয়ার বিইয়াও দিবার চাই। হের লাইগা চেয়ারম্যানের পোলা মানিক সওদাগর হেই ডাক্তারের গাড়ী পোড়ায় দিসে।
কথা গুলো সাজিদ শুনেও ইগনোর করল। বাড়তি ঝামেলা তার পছন্দ না। না শোনার মতো করে পান সুপারি কিনে পকেটে হতে মানিব্যাগ বের করে টাকা দেওয়ার সময় হঠাৎ পিছন থেকে ডাকল কেউ…
‘ কিরে সম্বন্ধীর পোলা এইখানে আয়তো।
নূরজাহানকে মানিক প্রেমিকা নয় বউ হিসেবে মানে। সেই সুবাদে নূরজাহানের সকল আত্মীয়দের মানিক নাম ধরে ডাকে না বরং পাতানো আত্মীয়তার সম্পর্কে ডাকে। যেমন হাসানকে শ্বশুর, মাঝেমধ্যে শালা শ্বশুরের বাচ্চাও বলে, শাহানাকে ইংরেজিতে স্টেপ মাদার, মাজিদ, সাজিদকে সম্বন্ধীর পোলা, যদিও আহাদ আশনূর নূরজাহানের বড় তারপরও তাদের মানিক শালা শালী ডাকে। মানিকের যুক্তিতে তার এতো সম্বন্ধী আর জেঠাস লাগবে না। এর মধ্যে দুইটা সম্পর্ক কাটাকাটি করে শালা শালী বানিয়ে নিলো নিজের ইচ্ছানুসারে। নূরজাহানের ছোট কেউ নেই বলে মানিক শালা-শালী পাবে না এটা মানা যায় না। সেজন্য মানিক আহাদকে শালার ঘরের শালা। আর আশনূরকে শালীর ঘরের শালী ডাকে। তারানূর হলো জাউরা দাদী। মানিকের সঙ্গে চটাস চাটস কথা বলে তাই। এর বাইরে নূরজাহানের কোনো আত্মীয়দের সঙ্গে যদি মানিকের দেখা হয় তাহলে মানিক চট করে দুই চারটে নাম মনগড়া দিয়ে ফেলে তাদের। আজ সুযোগে সাজিদকে পেয়েছে। মাত্রই মারিদের সঙ্গে হাসপাতালের মাঠে দ্বন্দ্ব করে এসেছে মানিক। এরমাঝে হঠাৎ গ্রামের বাজারে সাজিদকে পেয়ে গেলে পান সুপারি কিনতে। মানিক জিপ থেকে লাফিয়ে নামল। সাজিদ বিল মিটিয়ে পান সুপারি কিনে মানিককে এড়িয়ে যেতে চাইলে মানিক ফের সাজিদের পথ আঁটকে দাঁড়িয়ে বলল…
‘কিরে সম্বন্ধীর পুত যাস ক্যান? দুলাভাই ডাকি শুনিস না শালা বেয়াদব জউরা।
সাজিদ বেশ বিরক্তির চোখে মানিককে দেখে কাঁধের ব্যাগটা টেনে বলল…
‘মানিক ভাই পথ ছাড়েন। তাড়া আছে। এখন বিরক্ত কইরেন না।
‘হোন সম্বন্ধীর পোলা, তোর বইনরে ভালোবাসি তোরে না। তোর বইনের দেমাগ সহ্য করন যায়, কিন্তু তোগো হেডাম ক্যান সহ্য করমু? তোরা কি আমার বউ লাগস? যে আদুর সোহাগ করমু কিচ্ছু কমু না। হোন সম্বন্ধীর পোলা, আমার নূরজাহান হইল এক্সপেন্সিভ ডায়মন্ড। তোরা হইলি সস্তা পিতল। তোগো পাছায় এত্তোডি ইগো ওয়া গো থাকব ক্যান? পাছায় পানি ঢালস না? খালি গন্ধ ছড়াস। আর আমারে যন্ত্রণা দেস বাল।
সাজিদ কখনো নূরজাহানের ব্যাপারে কথা বলে না। আগ্রহও দেখায় না। মানিক নূরজাহানকে বিয়ে করুক কিংবা বিরক্ত করুক এতেও সাজিদের যায় আসে না। মোট কথা সাজিদ ছোট থেকেই নূরজাহানকে সৎ বোন চিনে ব্যবহার করে এসেছে। নূরজাহানের ভালো মন্দে কোনো মাথাব্যথা নেই সাজিদের। সে জানে নূরজাহান তার বাবা হাসানের দ্বিতীয় বউয়ের মেয়ে। যার নামে গ্রামে বদনাম বেশ। তাদের সংসারেরও অশান্তি কারণ নূরজাহান, হাসানের সঙ্গে শাহানার সংসারে টানাপোড়েন সবকিছু কারণ নূরজাহান। এতে নূরজাহান বেঁচে থাকলেও সাজিদের লাভ নেই আবার মরে গেলে বেশ খানিকটা সুবিধা হতে পারে। যেমন শাহানা হাসানের সম্পর্কটা আগের মতোন ঠিক হতে পারে। নূরজাহানের জন্য আর তাদের ঘরে অশান্তি হবে না। মানিক সওদাগরও তাদের আর বিরক্ত করবে না। নূরজাহানকে ঘিরে এতো এতো বদনাম আর হবে না তাদের পরিবারকে নিয়ে। সবকিছু থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে যদি নূরজাহান কোনো কারণে মারা যায় তো। তবে সাজিদ নূরজাহানের মরা বাঁচার দোয়াও করে না। মোট কথা সাজিদ নূরজাহানকে নিয়ে কোনো দোয়াই করে না। তবে এখন সে বেশ বিরক্ত হচ্ছে নূরজাহানের জন্য মানিক তাকে আঁটকে রেখেছে বলে। মানিক আবার অকারণে হাতাহাতি না করে বসে। তাহলে দিনটায় মাটি যাবে তার। সাজিদ বেশ বিরক্তির স্বরে বলল…
‘যাকে ভালোবাসেন তার কাছে যান মানিক ভাই। অযথা আমাকে কেন ডিস্টার্ব করছেন। পথ ছাড়েন।
সাজিদের কথায় বেশ বিরক্তির গলা ঝেড়ে মানিক তিলমিলিয়ে বলল…
‘বাল এই কথাটা তোর হিটলার বাপরে কইতে পারস না। শালার শ্বশুরের লাইগা আমার নূরজাহান আমার হয় না। এই তোর বাপ মরব কবে রে? দিন তারিখ কিচ্ছু করছে? জানিস কিছু? জানলে আমারে জানাইয়া যাতো। শালা শ্বশুর আমার জীবনে একটা অশান্তি। খালি প্যারা দেয়। মাইয়া দেয় না।
মানিকের কথার মাঝে সাজিদ পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে মানিকের ছেলে-পেলে বেলাল, কিশোর, আশিক, ঝন্টু মন্টু সবাই সাজিদকে ফের আটকাতে চাইলে মানিক বাধা দেয়। সাজিদের পিছন থেকে মানিক বলে…
‘সম্বন্ধীর পোলা তোর বাপরে ক এহনো সময় আছে ভালা হইয়া যাইতে। শহর থেইক্কা ডাক্তার আইনা আমার বিরুদ্ধে গিয়া খোদাই নিজেগোর বিপদ ডাইকা আনছে। ভালাই ভালাই তোর বাপরে ক আমার নূরজাহানরে আমার হাতে তুইলা দিতে। নইলে আমি হাত বাঁকাইলে তোর বাপ গেরামে মুখ দেখাইতে পারব না।
সাজিদ তারপরও মানিককে উপেক্ষা করে চলে যাচ্ছিল। মানিক এগিয়ে এসে পিছন থেকে সাজিদের ব্যাগ টেনে আটকে বলল…
‘ঐ হাঁড়া, কই যাস? আসল কথাটা হুইন্যা যা। হুনছি তোর নাকি একটা সাদা পায়রা আছে? হেরে নাকি তুই বহুত ভালোবাসস? হুন সম্বন্ধী, কুচি পায়রা সামলায়া রাখতে হয়। নইলে দুষ্টু শেয়ালের কবলে পড়লে তো খাইয়া ফালাব। হুন তোর ভালোবাসার পায়রার বাপ আমার বাপের লগে ব্যবসা করে। আমার দুইদিনও লাগব না তোর ভালোবাসার আছিয়ারে শিকার করতে।
‘মানিক।
সাজিদ রাগে গর্জে পিছন ফিরে মানিকের শার্টের কলার চেপে গর্জন ছাড়ে। মানিক হাসে। ফের হেয়ালির ভঙ্গিতে বলে…
‘ দিল তো পাগল নূরজাহানের জন্য। আমি তোর আছিয়ারে শিকার করমু না সম্বন্ধী। তাইলে আমার নূরজাহান মাইন্ড করব। শিকার করব আমার দুই ভাই আর আমার পোলাপাইন মিল্লা। আমি বহুত ভালা মানুষ। এই লাইগা ভালা হইয়াই থাকমু। এহোন তুই ঠিক করবি তুই কি করবি? তোর বাপরে থামাইবি? নাকি প্রেমিকারে বাঁচাইবি? যা করার জলদি করিস সম্বন্ধী। হাতে সময় কম, মাথা গরম।
রক্ত চোখে মানিকের শার্টের কলার চেপেও সাজিদ ছেড়ে দেয়। আবার নূরজাহানের জন্য সাজিদের জীবনে অশান্তি এসেছে। এবার সাজিদের খুব ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি হয়েছে যেটা সাজিদ মেনে নিবে না। সাজিদ রাগে দু’হাতে ধাক্কা মেরে মানিক সরিয়ে সে বাড়ির পথে হাঁটে। মানিক পিছন থেকে খুব চমৎকার হাসে। কালো মানিকের হাসি আর গান যে একবার দেখেছে বা শুনেছে সে মুগ্ধ হতে বাধ্য হয়েছে। এই মুহূর্তে মানিক দুটো মুগ্ধকর কাজই করল। দু’হাতে মাথার পিছনে আড়াআড়ি ভাবে রেখে প্রথমে বিজয় হাসলো তারপর উচ্চ স্বরের গানে টান দিল…
~ প্রেম যে বোবা, প্রেম যে কালা,
তাই প্রেমের এতো জ্বালা,
এই জ্বালায় পরাণ কান্দে রে…
~~
সাজিদ বাড়িতে ঢুকতে তারানূরকে দেখতে পেল ফুলবানু নিয়ে বারান্দায় বসে পান চিবোচ্ছে কথা বলতে বলতে। সাজিদকে দেখে তারানূর আদুরে ডাকল…
‘ সাজিদ ভাই তুমি আইছো? কত্তদিন তোমারে দেখি না। আইয়ো ভাই আইয়ো, তোমারে একটুখানি দেইখা লই।
মানিকের ব্যাপারটা নিয়ে সাজিদ রেগে ছিল। তারানূর ডাকায় সাজিদ মনে রাগ পুষে মুখে তারানূরের দিকে পান সুপারির ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বলল…
‘আমাকে দেখে কি করবে দাদী? তোমাদের অশান্তিতে বাড়িতে আসা যায় না। দূরে থাকি ভালো থাকি। বাড়িতে আসতে গেলেই অশান্তি হয়।
সাজিদ ফুলবানুর পায়ে হাত দিয়েও সালাম করল। তারানূর, ফুলবানু দুজনই বুঝেছে সাজিদ কথাটা কেন বলল। তারানূর সাজিদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল…
‘ভাই মনে কষ্ট লইও না। চেয়ারম্যানের পোলা তোমারে কিছু কইছে? গায়ে হাত তুলছে হেই?
‘এতো কাহিনী করার কি আছে দাদী? মানিক সওদাগরের সঙ্গে আব্বার মেয়েরে বিয়া দিয়া দিলেই তো হয়। আমরাও বাঁচি রোজ রোজ অশান্তির থেকে। একটা মাইয়ার জন্য আর কত ভুক্তভোগী হবো আমরা? আমাদের স্বাভাবিক জীবন নেই? নাকি খালি বাপের শেষ বয়সের সংসার পালনের জন্য আমরা আছি।
সাজিদ বাড়িতে এসেছে, তারানূরের সঙ্গে সাজিদের কথা শুনে ভিতর ঘর থেকে আলেহা, শাহানা, আশনূর, নদী, নদীর দুই ছেলে নুহাশ তুলল সকলেই ঘর ছেড়ে বারান্দায় আসতে সাজিদের কথা গুলো শুনল। আলেহা চেয়েছিল সাজিদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করবে। এতোদিন পর সাজিদের সঙ্গে দেখা তাই। কিন্তু সাজিদের কথায় আলেহা রাগে তিল মিলিয়ে উঠে বলল…
‘আমার ভাইয়ে শেষ বয়সের সংসার কি তুই পালিস সাজিদ? তোদের খায় আমার ভাইজি? এই ঘর সংসার এখনো আমার ভাইয়ের তোদের না। নূরজাহান ওর বাপের খায় তোদের না। যেইদিন নূরজাহান তোদের খাবে সেদিন তুই ভাতের খোঁটা দিস তার আগে না।
সাজিদের আলেহার সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক আছে। ফুপিকে দেখে সাজিদ এখন ভালোবাসা দেখিয়ে কুশলাদি করতো কিন্তু আলেহার কথায় কথায় সাজিদও রেগে যায়। ক্ষেপা গলা বলে…
‘বাপে শেষ বয়সে যৌবনের ঠেলায় বিয়ে করে আমাদের জন্য আপদ জন্ম দিছে। উনার তো বউ সংসার ছেলে-মেয়ে সবই ছিল আগের থেকে তাহলে আবার কেন শেষ বয়সে রঙ্গলীলা করে বিয়ে করতে গেল? আজ উনার রঙ্গলীলার জন্য আমাদের জীবনটাকেও বিষিয়ে তুলেছে। বাড়িতে আসতে পারি না। গ্রামের মানুষ ছিঃ ছিঃ করে। আমাদের নিয়ে হাসি তামাশা করে। বন্ধু বান্ধবদের মুখ দেখাতে পারি না বাপের মেয়ের জন্য। বাপের রঙ্গলীলার জন্য আমাদের জীবনের কেন অশান্তি আসবে ফুপি?
‘সাজিদ মুখ সামলে কথা বল। তোর বাপ এমনি এমনি নূরজাহানের মাকে বিয়ে করেনি এর পিছনে কারণ ছিল। তোরা…
শাহানা এতক্ষণ চুপ ছিল। কিন্তু এখন আলেহার কথায় প্রতিবাদ করে বলল…
‘ কারণ যতবড়ই হোক তোমরা মা মেয়ে মিল্লা আমার সংসারে পর নারী আনছো আলেহা। আমার সাথে সাথে আমার পোলাগোর জীবনডাও তোমরা বিষাইয়া তুলছো। তোমরা হইলা বড় দোষী। আমার সংসারে আগুন দিয়া তোমরা যে মাইয়ার লাইগা আজ আমাগোর লগে বিবাদ করতাছো এই মাইয়ার লাইগাই তো তোমার সংসারটাও তছনছ হইছে আলেহা। তোমার স্বামী মরলো। পোলাডা দেশ ছাইড়া বিদেশ পইড়া রইছে শুধুমাত্র এই মাইয়ার লাইগা। হেরপরেও তোমাগো চোখে সব দোষ আমাগোর মা-পোলার হইব।
‘ নূরজাহান আমার জামাইকে মারেনি আর না আমার ছেলেরে বিদেশ পাঠিয়েছে। বরং সবাই নূরজাহানের সাথে জুলুম করছে। আল্লাহ এতো জুলুম সইবে না ভাবি। সইবে না। নূরজাহানের প্রতি তোমার এতো ক্ষোভ একদিন তোমাকেই ধ্বংস করে দিবে ভাবি। মা হারা মেয়েটার প্রতি একটু নরম হও তুমি। নূরজাহান তোমারে অনেক সম্মান করে। ওর সম্মানের মর্যাদাটা রাখো।
হাসান তাড়াহুড়োই বাড়ি থেকে বেরোতে গিয়ে হাতের মোবাইলটা বাড়িতে ফেলে গেছে। মারিদ হাসানের নাম্বারে কল করছে বলে নূরজাহান মারিদের কলটা রিসিভ করে কানে তুলে সালাম দিয়ে বলল…
‘আসসালামু আলাইকুম। আপনি একটু অপেক্ষা করুন, আমি ফোনটা আব্বার কাছে নিয়ে যাচ্ছি।
নূরজাহান জানে না হাসান মাজিদ দুজনই ইতিমধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে। নূরজাহান এতটুকু কথা বলে হাতে ফোন নিয়ে হাসানের সন্ধানে বেরুলো। মারিদের নামে হাসানের ফোনে নাম্বারটা সেইভ থাকায় নূরজাহান মারিদকে চিনে কথা বলল। মারিদ অপরিচিতা কন্ঠ চিনে কিন্তু ফোনে ওপাশে আশনূর নাকি নূরজাহান সেটা ঠাহর করতে মারিদ খানিকটা সময় নিয়ে ধীর গলায় ডাকল…
‘আশনূর?
বাহির থেকে আলেহা সাজিদের গলা পেয়ে নূরজাহান কৌতূহলী হয়ে সেদিকে যাচ্ছিল। হাসানের ফোনটা হাতের মুঠোয় থাকায় নূরজাহান মারিদের কন্ঠ লক্ষ্য করেনি। তবে আশনূর নামটা হালকা শুনেছে। নূরজাহান ফের ফোনটা কানে নিয়ে বসার ঘর পেরিয়ে বারান্দার দরজার দিকে যেতে যেতে মিহি গলায় বলল…
‘জি আমি…
নূরজাহান নিজের নামটা বলতে গিয়েও থেমে যায় বারান্দা থেকে ভেসে আসা আলেহা আর শাহানার তর্কাতর্কিতে নূরজাহান দৌড়ে দরজা ধরে দাঁড়াল। বাহিরের উঁকি মেরে ফুলবানু, তারানূর, শাহানা, আশনূর, নদী, সাজিদ, নুহাশ তুলল সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। আলেহা শাহানা আর সাজিদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করছে নূরজাহানের পক্ষ নিয়ে। এসব নতুন নয়। সাজিদ নূরজাহানকে পছন্দ করে না। সাজিদ বাড়িতে আসলে নূরজাহানকে আড়ালে থাকতে হয়। নয়তো সাজিদের সামনে পড়লে অপমানিত করতে ভুলে না সাজিদ। এই নিয়ে হাসানের সঙ্গে সাজিদের শাহানার বেশ মনমালিন্য হয়েছে। এসব নতুন নয়। নূরজাহানের হাতের মুঠোয় থাকা মারিদ প্রথমে কয়েকবার হ্যালো হ্যালো বলে সেও চুপ করে যায়। কিছু অস্পষ্ট স্বরে কতগুলো কথা শোনা যাচ্ছে। কথা গুলো স্পষ্ট নয়। হয়তো পারিবারিক ঝামেলা চলছে লোকগুলোর মাঝে। মারিদ কল কেটে দেয়। অন্যের পারিবারিক কলহ শুনতে নেই। মারিদ যদি আরেকটু মন দিয়ে শুনত তাহলে হয়তো ঠিক বুঝে যেত তার অপরিচিতাই নূরজাহান। হাসানের দ্বিতীয় বউ আয়েশা সিদ্দিকার সন্তান নূরজাহান। শাহানা আলেহাকে তিরস্কারের উত্তর করে বলল…
‘সতীনের মাইয়ার লাইগা সম্মান আইয়ে না আলেহা। মনটা যখন ব্যথায় কান্দে তখন ভালোবাসা আইয়ে না বরং মন থেইক্কা বদদোয়া আইয়ে সতীনের মাইয়ার লাইগা।
‘আল্লাহ না করুক ভাবি। সতীনের মেয়ে বলে বিনা কারণে যে বদদোয়া তুমি নূরজাহানকে দিচ্ছ সেই বদদোয়া ঘুরে যেন আবার আশনূরের উপর চলে না আসে। সতীনের মেয়েকে ধ্বংস করতে গিয়ে যেন তোমার নিজের মেয়েই ধ্বংস হয়ে না যায় ভাবি। আল্লাহর দরবারে কিন্তু অবিচার হয় না ভাবি। প্রকৃতি কিন্তু ন্যায় বিচার করে। যে অন্যায় তুমি মা হারা নূরজাহানের সঙ্গে করছো সেই অন্যায় যেন তোমার মেয়েরেও সহ্য করতে না হয় ভাবি। প্রকৃতি কিন্তু কাউকে ছাড় দেয় না।
আশনূর ঠায় জমে দাঁড়িয়ে। শাহানা আলেহার কথায় দমে যায়। শাহানার একটা মাত্র মেয়ে আশনূর। আশনূরের জন্য অমঙ্গল তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। মানুষ ঠিকই বলে অন্যকে বলা যায় যখন নিজের উপর সেই কথা আসে তখন সওয়া যায় না। শাহানাও সইতে পারল না। শাহানা ধমকে উঠল আলেহাকে…
‘আলেহা।
‘কেন ভাবি? আশনূরের নাম নিয়েছি বলে গায়ে সইছে না? তাহলে নূরজাহান তো কারও মেয়ে তার উপর অন্যায় করতে গায়ে সয় কিভাবে তোমার?
শাহানা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ভিতরের ঘরে চলে যেতে নূরজাহানকে দরজার কাছে পর্দার আড়ালে দাঁড়ানো পেল। শাহানা ঘৃণিত চোখে নূরজাহানকে দেখে চলে গেল। সাজিদ ও মায়ের সঙ্গে ভিতরের ঘরে চলে গেল। আশনূর নূরজাহানকে দেখে কিছু বলল না। আলেহা নূরজাহানের উপস্থিতি বুঝে বলল…
‘নূরজাহান যা তো ফুপির জন্য একটা রঙ চা করে নিয়ে আয়। মাথা ধরেছে ভীষণ।
‘জি ফুপি যাচ্ছি।
পাশ থেকে কর্কশ গলায় তারানূর বলল…
‘ঐ ছেড়ি আমার লাইগা আর ফুলমতির লাইগাও এক কাপ কইরা চা লইয়া আইস।
‘জি দাদী।
উত্তাপ অশান্ত পরিস্থিতি হুট করেই শান্ত হয়ে গেল। যেন রোজকার ঘটনা। কিছুই হয়নি। নূরজাহানকেও কাঁদতে দেখা যায়নি কারও বিষাক্ত কথায়। বরং মিহি স্বরে সম্মতি দিয়ে স্বাভাবিক নেয় রান্নাঘরের দিকে গেল চা বানাতে। হাতের ফোনটা দেখল মারিদ কল কেটে দিয়েছে তাই সেটা নিয়ে মনোযোগ বাড়ায়নি। আলেহা বারান্দার দরজায় বসল ফুলবানুর সঙ্গে। নদীর কোল থেকে তুতুলকে নিয়ে বলল…
‘তোমার শাশুড়ির কাছে যাও বউ। দেখে কিছু প্রয়োজন হয় কিনা।
‘জি আচ্ছা ফুপি।
‘
নদী চলে গেল। আশনূর আলেহার শরীর ঘেঁষে বসল। নুহাশ হাতে বল ব্যাট নিয়ে উঠানে গেছে খেলতে। আলেহা আশনূরকে বলল…
‘আমি তোর মাকে ঐসব বলেছি বলে তুই কষ্ট পেয়েছিস ফুপির কথায় আশনূর?
আশনূর আলেহার কাঁধে মাথা রেখে ভারি নিশ্বাসে বলল…
‘না ফুপি কষ্ট পাইনি।
‘তোর অমঙ্গল হোক আমি চাই না আশনূর। নূরজাহান আর তুই তোরা দুজনই আমার জন্য সমান। আমার দুটো চোখের মণি। কিন্তু তোর আম্মা সন্তানদের মধ্যে ভেদাভেদ করে। আপন পর শিক্ষা দিয়েছে সন্তানদের। সেজন্য সাজিদ আজ পর্যন্ত নূরজাহানকে বোন মানতে পারেনি। এরজন্য দায়ী তোর মা। সাজিদ তোর মার থেকে সৎ বোন বিষয়টা শিখেছে। তোর মা তোদেরও একই শিক্ষা দিয়েছে। সেজন্য তোরা কেউ নূরজাহানকে তোদের পরিবারের একজন মনে করতে পারিস না। আশনূর তুই নিজেকে নূরজাহানের জায়গায় দাঁড় করিয়ে ভেবে দেখ তোর জীবনটা কেমন হতো? তোর পাশে কে কে আছে?
আশনূরের গলা আরও ভারি শোনাল। ক্ষীণ স্বরে বলল…
‘নূরজাহানের জায়গায় দাঁড়ানোর মতোন সাহসী আমি নই ফুপি। ভাগ্য নূরজাহানকে পদে পদে পুড়িয়ে শক্ত লোহায় পরিণত করছে। হয়তো ভাগ্যের নূরজাহানের থেকে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে হাসিল করতে চায় বলে।
ভারী নিশ্বাসে আলেহার বুকও ভারি হয়ে গেল। আজ বাদে কাল আলেহা চলে গেলে নূরজাহানের হয়ে কথা বলার মতো আর কেউ নেই। হাসান বাড়িতে থাকে না। তারানূরও নূরজাহানের প্রতি অন্যায়ে কথা বলে না। আল্লাহ জানে শাহানার মনটা কবে নরম হয় নূরজাহানের প্রতি।
~~
রাত দশটার ঘরে। শীতকাল শেষ। ধরণীর বুকে ফাল্গুনের ছোঁয়া লেগেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ। পাতা ঝরা বসন্তকাল। আকাশে চাঁদ উঠেছে। প্রকৃতিতে মিষ্টি বাতাস গায়ে শিরশির করে বইছে। মানিকের জিপ গাড়িটা থানচির জেলা মন্ত্রী হারুন সওদাগরের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে। ভিতরে হারুন সওদাগর, মোল্লা সওদাগর ও মানিক সওদাগর বসে। মোল্লা সওদাগরের বাবা লতিফ সওদাগরের ছিল দুই ছেলে, কোনো মেয়ে ছিল না তার। হারুন সওদাগর বড় আর মোল্লা সওদাগর ছোট ছেলে লতিফ সওদাগরের। জেলা মন্ত্রী হওয়ার হারুন সওদাগর থানচি সদরে থাকে। গ্রামের বাড়িতে সপ্তাহে কিংবা বিশেষ কোনো প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকেন তিনি। বিকেলে হারুনের কথা মতো মোল্লা সওদাগর মানিককে জোরপূর্বক হারুনের অফিসে ধরে এনেছে। মানিক বেপরোয়া ভঙ্গিতে বসে। হারুন সওদাগরের তিন মেয়ে ছেলে নেই। আবার মোল্লা সওদাগরের তিন ছেলে মেয়ে নেই। সেজন্য হারুনের ছোট বড় সকল প্রয়োজনে মোল্লা সওদাগরের তিন ছেলে মানিক, রতন, তাপসকে পাশে পান তিনি। বিশেষ করে মানিকই হারুনের ডানহাত বামহাত হয়ে কাজ করে। এজন্য হারুনের কাছে মানিকের গুরুত্ব অনেক বেশি। অনেক দিন যাবত মানিক গ্রামের মেম্বার হাসানের মেয়েকে পছন্দ করে বিয়ে করতে চায় এতটা তিনি শুনেছেন। হাসানের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য নিজের বউ বাচ্চাকে মেরে পিটিয়ে জীবিত কবর দেওয়ার মতোন পাপ কাজও মানিক করেছে। এতেও হারুন কিছু বলেনি বরং লোক দিয়ে এই ঘটনা তিনি গ্রামের ধামাচাপা দিয়েছেন। হারুন অনেক আগেই মানিকের জন্য হাসানের মেয়েকে তুলে আনতো কিন্তু মানিক নিজে তার ভালোবাসার মানুষকে হ্যান্ডেল করবে বলে হারুনকে এসব থেকে দূরে থাকতে বলেছে। আজ মানিকের বাড়াবাড়ি দেখে বাধ্য হয়েই হারুন মোল্লা সওদাগরকে দিয়ে মানিককে আনিয়েছে। হারুন বলল…
‘একটা মাইয়ার লাইগা এতো কাহিনী করার কি আছে? মাইয়ার বাপ না মানলে মাইয়াডারে ধইরা লইয়া আয়। ফষ্টি নষ্টি কইরা মাইয়াডারে মাইরা ফেলাই দে। তাইলেই কাহিনী শেষ।
হারুন পরিবারের মানুষজন ছাড়া কারও সাথে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে না। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে। মোল্লা সওদাগর, মানিক পরিবারের লোক হওয়ায় হারুন আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলল।
হারুনের কথায় মানিক গর্জে উঠে টেবিলে থাবা বসিয়ে বলল..
‘পুরা গেরামে আগুন লাগাই দিমু যদি কেউ আমার নূরজাহানের দিকে চোখ তুইল্লা তাকায়ও। যে আমার নূরজাহানরে মারার কথা কইব হেরেও আমি মানিক জানে মাইরা ফেলমু। বাপ হোক আর চাচা কাউরে ছাড়মু না।
মানিকের গর্জনে হারুন কপাল কুঁচকাল। মানিক যে হাসানের মেয়ের জন্য পাগল সেটা বহুবার শুনেছেন তিনি সবার মুখে কখনো এসব বিষয়ে মুখোমুখি কথা হয়নি মানিকের সঙ্গে, আজই প্রথম। হারুন ফের বলল..
‘না মারলে তাইলে কি করবি? মাইয়াডারে ধইরা নিয়া বেইজ্জত কইরা জানে ছাইড়া দে। তাইলেই গেরামে মুখ দেখাইতে পারব না।
‘জান দিমু তারপরও আমার নূরজাহানের মান নষ্ট করমু না। আমার নূরজাহান আমার কাছে পবিত্র ফুল। হেরে আমি ভালোবাইসা বিয়া করমু। সারাজীবন সংসার করমু। হেরপরও কলঙ্কিত করমু না চাচা।
হারুন কপাল কুঁচকে বলল…
‘হাসান যে তোর কাছে হের মাইয়ারে বিয়া দিবার চায় না হেইডা কি করবি?
মানিক রাগে বিরক্তিতে বলল…
‘শালার বুইড়া শ্বশুরে মাইরা ফেলাইতে মন চায়। এই শালাই মইরা গেলেই নূরজাহান আমার হইব।
হারুন দ্রুত নিষেধ করে বলল…
‘ না না এহোন হাসান মেম্বারের মারার দরকার নাই। হাসপাতালে প্রজেক্টের লগে হাসান জড়িত। এহোন হাসানরে মারলে ঝামেলা হইব। এর থেইক্কা বরং তুই হাসানের মাইয়াডারে উঠাইয়া লইয়া আয়। দুজনরে বিয়া পড়াই দিমুনে।
হারুন মানিকের কথার মাঝে মোল্লা সওদাগর ক্ষোভ নিয়ে বলল…
‘ হাসানের মাইয়ারে উঠাইয়া আনলেও হাসান মানিকের লগে হের মাইয়ারে বিয়া দিবো না। হাসান আমার পোলারে সহ্য করতে পারে না।
হারুন পরিস্থিতিতে বুঝে মানিকে আশ্বস্ত করে বলল..
‘তুই খালি মাইয়াডারে উঠাইয়া লইয়া আয় মানিক। তোর লগে হাসানের মাইয়া বিয়া দেওনের কাম আমার। গেরামে এমন বদনামের কাহিনী রটামু যে হাসান মাইয়া লইয়া গেরামে ঠাঁই পাইবো না মানিকের লগে বিয়া দেওন ছাড়া।
মোল্লা সওদাগর মানিকের মুখের দিকে তাকাল চিন্তিত ভঙ্গিতে। মানিক চাচার অফিসে বসেই সিগারেট ধরাল। সিগারেটে টান দিয়ে হারুনকে বলল….
‘আপনে কাহিনী রটান চাচা। আমি নূরজাহানরে লইয়া আইতাছি।
‘আইজ কাল দুইদিন কিছু করিস না মানিক। যা করার পরশু রাইতে করিস। মোল্লা তুই কাইল গেরামের কিছু মাথা ওয়ালা লোকদের টাকা খাওয়াইবি। যাতে সালিসে আমাগোর হইয়া কথা কয় বুঝলি?
‘হ ভাইজান বুঝছি।
হারুন ফের বলল….
‘শোন মানিক মাথা গরম করবি না। তোর বড় চাচা এহোনো বাঁইচা আছে। আমি তোর লাইগা একটা মাইয়া ক্যান এমন দশটা মাইয়ারে তোর পায়ের নিচে হাজির করমু যারে তুই চাস। এহোন বাইত্তে যাহ। ঘুম দে। পরশু রাইত্তে মেলা কাম আছে যাহ।
মানিক হাতের সিগারেট নিয়ে অফিস হতে বেরিয়ে গেল। মন ছটফট করছে কিন্তু কোথাও শান্তি লাগছে অবশেষে নূরজাহান তার হবে বলে। মানিক অফিস থেকে বেরিয়ে জিপে উঠে বসল। ড্রাইভিং সিটে কিশোরকে বলল গাড়ি চালাতে। পুরো জিপ খালি। শুধু কিশোর আর মানিক পাশাপাশি জিপে বসে। কিশোর বলল…
‘ভাই কই যাইবেন? বাইত্তে নাকি অন্যখানে?
আকাশে সুন্দর চাঁদ ধরনীতে আলো চড়াচ্ছে। গায়ে শীতল বাতাস মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। মানিক সিগারেটে সুখ টান দিয়ে সিটে গা এলিয়ে বসে গলা ছেড়ে গান ধরল….
‘ও বন্ধু রে এ এ এ,
দূর আকাশে চাঁন্দের পাশে,
ঝলমল করে তাঁরা
আমার কেউ নাইরে বন্ধু,
কেবল তুমি ছাড়া..
চলিত…
Share On:
TAGS: ডাকপ্রিয়র চিঠি, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৩
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২ গল্পের লিংক
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪